Category: আন্তর্জাতিক

  • আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি বাড়ছে

    আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি বাড়ছে

    আমেরিকায় গত মে মাস থেকে হঠাৎ করেই আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির পরিমাণ হু হু করে বেড়েছে। আমেরিকায় ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির আগাম সংখ্যা ও রিপোর্ট তৈরি করে এমন একটি প্রাইভেট ফার্ম বলছে, মে মাসে সারা দেশে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির পরিমাণ শতকরা ৮০ শতাংশ বেড়েছে।

    জানা গেছে, মে মাসে সারা দেশে ১৭ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে আমেরিকান জনগণ ব্যাপক হারে অস্ত্র কিনতে শুরু করে করে। এর ওপর সম্প্রতি

    বর্ণবাদ আন্দোলন জোরদার হওয়ায় অধিকাংশ আমেরিকান ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্র কিনছেন। এ কারণেই দেশে হঠাৎ করে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির হার বেড়েছে।

    নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টির ইউনিডেল শহরের অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়কারী একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক অ্যান্ডি ক্রানঅফ বলেন, হঠাৎ করেই দোকানের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। যা গত কয়েক বছরে তা আমাদের কারও চোখে পড়েনি। চলতি সপ্তাহে দোকান খোলার শুরুর পর ক্রেতাদের অভাবনীয় চাপ শুরু হয়েছে। বিক্রির জন্য রাখা দোকানের মজুত প্রায় শেষ।

    একই ঘটনা ঘটেছে পার্শ্ববর্তী মিনোলা শহরের জিমি স্পোর্টস শপের মালিক জে জেংয়ের মালিকাধীন দোকানে। অপরাহ্নে দোকান খুলে মধ্যরাত অবধি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখতে হয় তাঁদের। দোকানের অন্য এক মালিক জিমি গং বলেন, এখন দেশের সংখ্যালঘু এশিয়ানসহ অন্যরাও নিরাপত্তার জন্য ছোট বড় অস্ত্র কিনছেন।

    বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ নতুন ক্রেতাদের কাছে ৩০০ ডলার মূল্যের হ্যান্ডগান খুবই জনপ্রিয়।

  • মাস্ক ব্যবহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশনা

    মাস্ক ব্যবহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশনা

    করোনার বিস্তার রোধে নতুন করে মাস্কের প্রতি জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যেখানে সংক্রমনে বিস্তৃতি বেশি, সামাজিক দূরুত্ব মানা সম্ভব না। দোকান এবং গনপরিবহনে মাস্ক পরার উপদেশ দিয়েছে।

    শুক্রবার সংস্থাটি বলেছে, ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি বা যারা অসুস্থ তাদের বাড়ির বাইরে থাকাকালে মাস্ক ব্যবহার করা উচিৎ। এছাড়া অন্যদের ৩ স্তরের কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করা উচিৎ।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মাস্ক ৩ স্তরের হওয়া উচিৎ। এর প্রথম স্তরটি সিনথেটিক, দ্বিতীয় স্তরটি পলিপ্রোপিলিন এবং তৃতীয় স্তর বা চেহারার সঙ্গে লাগোয়া স্তরটি কাপড়ের হতে হবে।

    যেসব স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা মুশকিল যেমন- গণপরিবহন ও গণবিক্ষোভের সময় মাস্ক পরা উচিৎ। অবশ্য মাস্ক পরলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় ও হাত জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।

    জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, মাস্ক হচ্ছে একমাত্র মাধ্যম বা উপকরণ যেটি করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

    ডাব্লিউএইচওর করোনা প্রযুক্তিগত নেতৃত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ ডা. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, সাধারণ মানুষের জন‌্য পরামর্শটি হলো ‘ফেব্রিক মাস্ক বা কাপড়ের মাস্ক’ অর্থাৎ একটি নন-মেডিকেল মাস্ক পরতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের কাছে নতুন গবেষণা তথ্য আছে। আমাদের কাছে এখন প্রমাণ আছে, এটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা সম্ভাব্য ড্রপলেটের সংক্রামক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করতে পারে।

    সংস্থাটি সব সময় পরামর্শ দিয়ে আসছে, মেডিকেল ফেস মাস্ক অসুস্থ মানুষ এবং তাদের শুশ্রূষায় থাকা লোকেদের পরা উচিত।

  • আরও অবনতি ভারতের, চরম পরিণতির দিকে এগোচ্ছে করোনা পরিস্থিতি

    আরও অবনতি ভারতের, চরম পরিণতির দিকে এগোচ্ছে করোনা পরিস্থিতি

    দেশে ফের সর্বোচ্চ হারে সংক্রমণ। শুক্রবারের হিসেবে শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হলেন ৯ হাজার ৮৮৭ জন, যার ফলে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়াল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৭ জন।

    শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৯৪ জনের। ফলে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ৬৪২ জন। মোট আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩ জন। অ্যাক্টিভ কেস রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪২ টি ও মৃত ৬ হাজার ৬৪২ জন।
    একসময় করোনার ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ইতালি। এবার সংক্রমণের বিচারে সেই ইতালিকেও পেছনে ফেলে দিল ভারত। ইতালিকেও টপকে করোনায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে এল ভারত। আগের সপ্তাহে চীনকে করোনা আক্রান্তের বিচারে পার করেছি

    ২৯ মে থেকে প্রত্যেকদিন ৮ হাজার বা তার বেশি নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সামনে আসছে। ২ জুন ২ লাখ পেরিয়ে যায় আক্রান্তের সংখ্যা। এখন প্রত্যেক ১৫ দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

    বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কার বার্তা দিয়ে বলছেন, এই তালিকায় ভারত আরও উপরে উঠে আসবে, অর্থাৎ ভারতে সংক্রমণ আরও বেশি ছড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে ইরান, জার্মানি ও ফ্রান্সকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। চলতি সপ্তাহের শেষে স্পেনকেও পিছনে ফেলে দেবে ভারত। জুনের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাজ্যকেও পেরিয়ে যাবে। সূত্র: কলকাতা২৪

  • আনারসের সাথে আতশবাজি খাইয়ে গর্ভবতী হাতি হত্যা!

    আনারসের সাথে আতশবাজি খাইয়ে গর্ভবতী হাতি হত্যা!

    করোনাভাইরাসের কারণে যখন সারা পৃথিবীতে মানুষের লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে, তখন মানুষের নির্মমতার সাক্ষী হলো ভারতের কেরালা। অমানবিকভাবে সেখানে একটি গর্ভবতী হাতিকে হত্যা করেছে গ্রামবাসী।

    কেরালার মালাপ্পুরম জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দারা আনারসের ভেতরে বাজি ও বারুদ ভরে তা গর্ভবতী ওই হাতিটিকে খাওয়ায়। মুখের মধ্যেই তা বিস্ফোরিত হলে গুরুতর আহত হয় হাতিটি। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে ঘণ্টা চারেক পর ২৭ মে, বুধবার সন্ধ্যার দিকে পানিতে দাঁড়ানো অবস্থায় মারা যায় প্রাণীটি।

    কেরালার বন দপ্তরের মোহন কৃষ্ণন নামের এক কর্মকর্তা হাতিটির ছবি ও ঘটনার বিবরণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার পর এই নৃশংসতা ঘটনাটি সকলের নজরে আসে।

    তিনি জানান, কাছাকাছি বন থেকে ওই গ্রামে হাতির অনুপ্রবেশ নতুন কিছুই না। এদিনও গ্রামে চলে এসেছিল হাতিটি। গ্রামবাসীদের মধ্যে কেউ বারুদ-ভর্তি ওই আনারস হাতিটিকে খেতে দেয়। ক্ষুধার্ত পশুটি স্বাভাবিকভাবেই আন্দাজ করতে পারেনি বিপত্তির গন্ধ। হাতিটির মুখের মধ্যেই বাজির বিস্ফোরণ ঘটে। জখম হয় জিভ ও মুখের ভিতরের অংশ ভয়াবহভাবে জখম হয়। অসহ্য যন্ত্রণায় হাতিটি গ্রামের রাস্তা দিয়ে ছুটতে ছুটতে নিকটবর্তী ভেলিয়ার নদীতে নেমে দাঁড়িয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ। কিন্তু এতকিছুর পরেও একজনকেও আহত করেনি সে। কোনোরকম ক্ষতি করেনি গ্রামের কোনো বাড়ির, গাছপালা বা বাগানের।

    মোহন কৃষ্ণন জানান, যন্ত্রণা লাঘব করার শেষ চেষ্টা করেছিল হাতিটি। সংক্রমণ ঠেকাতে নদীতে শুঁড় ও মুখ ডুবিয়ে রেখেছিল।

    বিকালের দিকে সংবাদ পেয়ে বন দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দুটি পোষা হাতির সাহায্যে ওই বুনো হাতিটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। সাহায্যের জন্য নিজেই উঠে আসে সে। হয়তো বা সে বুঝে গিয়েছিল সময় ফুরিয়ে এসেছে তার। বিকাল ৪টার দিকে হাতিটি মারা যায় বলেও জানান এ বন কর্মকর্তা।

    মৃত ওই হাতিটির ময়নাতদন্তে জানা যায়, অন্তঃসত্ত্বা ছিল হাতিটি। ১৮ মাসের মধ্যেই সে সন্তান প্রসব করত। কিন্তু মানুষের নৃশংস আচরণে নিজের সাথে গর্ভের সন্তানকেও প্রাণ হারাতে হলো। পরে বনবিভাগের কর্মীরা লরিতে করে জঙ্গলের ভেতর নিয়ে মৃতদেহটি পুড়িয়ে দেন।

  • মহামারীতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা: যেভাবে ২৪ লাখ মানুষ নিরাপদে ছিল

    মহামারীতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা: যেভাবে ২৪ লাখ মানুষ নিরাপদে ছিল

    গত মে মাসে ভারত মহাসাগরের উপরে যখন ঘূর্ণিঝড় আম্ফান দেখা দিল, তখন সময় নষ্ট করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রেখে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলো তৈরি করেনি বাংলাদেশ। আর সে কারণেই আম্ফানের কারণে নতুন চ্যালেঞ্জ, কীভাবে ২৪ লাখ মানুষকে করোনার মহাবিপদে না ফেলেও ঝড়ের মতো ধ্বংসাত্মক পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া যায়।

    ওই সময়ের মধ্যে এত মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমনিতেই এধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ সহজে নিজের আবাসস্থল ছেড়ে যেতে চায়না। চ্যালেঞ্জটা আরো জটিল আকার ধারণ করলো যখন মানুষ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাইছিলো না। মানুষকে আশ্বস্ত করতে হয়েছিলো যে আশ্রয়কেন্দ্রে ভাইরাসের সংক্রমণ যেন না হয় সেই ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    আম্ফানের পূর্বাভাস পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ৪ হাজার ১৭১টি আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি বাংলাদেশকে প্রায় সাড়ে দশ হাজার অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করতে হয়েছে শুধু সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রেখে। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে ৭০ হাজারের বেশি ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি’ স্বেচ্ছাসেবীকে একত্রিত করা হয়েছিল। মাস্ক, পানি, সাবান এবং স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছিল আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে। এ সময় পোশাক শিল্পগুলোতে বাতিল হওয়া বৈদেশিক রফতানি আদেশের বদলে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী তৈরিতে উৎসাহিত করা হয়।

    দেশে দৈনিক সংক্রামণ যখন বাড়ছে, এমন অবস্থায় আম্ফানের মতো একটি ঘূর্ণিঝড় আমাদের তীব্র স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ফেলে। শুধু বাংলাদেশ নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল বিষয়ক সংস্থার ভাষ্যমতে, আটলান্টিক এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সমুদ্র স্রোতে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বাড়ার কারণে চলতি বছরে এই অঞ্চলে একাধিক ঘূর্ণিঝড় হবে। আর সে কারণেই দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলকে এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার পাশাপাশি মানুষকে সুরক্ষা দিতে কোভিড-১৯ এর জটিল অবস্থার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

    বাংলাদেশে দুর্যোগের প্রস্তুতি হিসেবে ৫৫ হাজার জনের একটি ফার্স্ট রেসপন্স নেটওয়ার্ক তৈরির ফলে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ভারত এবং বাংলাদেশ মিলে ১০০ জনেরও কম মানুষ মারা গেছে। যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক হলেও, দেশের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং ভালভাবে পুনরুদ্ধার করার ব্যবস্থা কয়েক বছর ধরে হাজার হাজার মানুষকে বাঁচিয়েছে।

    অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং জীবিকা নির্বাহের কাজ সচল করা অবশ্য ভিন্ন বিষয়। এর আগে অনেকবার ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অবকাঠামো পুনর্গঠিত করা হয়েছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের দুই-তৃতীয়াংশ জমি সমুদ্রতল থেকে ৫ মিটারেরও কম উঁচু অবস্থিত। বারবার এই দেশে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। সেই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি। আর মহামারীর যে অর্থনৈতিক ক্ষতি তার কারণে বর্তমানে সরকারকে একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও অবকাঠামো সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

    উত্তর ভারত মহাসাগরে হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে আম্ফানের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ সবচাইতে বেশি যা প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে ৪১৫ কিলোমিটার রাস্তা, ২০০ টি সেতু, কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, বিশাল আবাদি জমি এবং মৎস্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঝড়ের তীব্রতার কারণে ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এটি মহাবিপর্যয় ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু পুর্ব পরিকল্পনা দেশকে এমন বিপর্যয়ের মুখে আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবগুলির সঙ্গে তাৎক্ষণিক মোকাবেলা করাই যথেষ্ট নয়। সমাজকে ঝড়ের পরবর্তী অবস্থার জন্য আরও ভালভাবে প্রস্তুত করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ২০১৪ সালে জলবায়ু আর্থিক কাঠামো কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশকে আরও ভালোভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়। জলবায়ু সমস্যা মোকাবেলায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে সমন্বয় করা হয়েছে একাধিক বিভাগকে। কৃষি, বাসস্থান ও জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে, প্রতি বছরের বাজেটে বরাদ্দ এবং স্তরে স্তরে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে যেখানে সমন্বয় করা হয়েছে সরকারের ২০ মন্ত্রণালয়কে।

    এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে ৮ দশকের এক জলবায়ু মোকাবেলার পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাংলাদেশ যার নাম ডেল্টা প্লান। ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সঙ্গে লড়াই করতে উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ তৈরির মতো শক্তিশালী অবকাঠামো নির্মাণে জোর দেওয়া হয়। আম্ফানের পরে স্কুল, হাসপাতাল ও ঘরগুলির অবকাঠামো আরও দৃঢ় ও শক্তিশালীভাবে তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে যেনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশ্রয় কেন্দ্রের অভাব না হয় উপকূলীয় অঞ্চলে।

    বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ এর কারণে সরকারের অর্থায়নে একটি বিশাল ঘাটতি যুক্ত করেছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি জলবায়ু সমস্যা মোকাবেলা বিষয়গুলোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক কাঠামো ও পরিকল্পনা দেশগুলিকে এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাড়তি সহায়কের ভূমিকা পালন করবে। এ কারণেই ডেল্টা প্ল্যানে জমি ও পানি সেচের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প এবং জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যকর ও আরও সচ্ছল করার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন: সৌর হোম কিটগুলি প্রতিটি ধ্বংসাত্মক ঝড়ের পরে রোগ প্রতিরোধের জন্য দূষিত জল ফিল্টার করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

    বাংলাদেশই একমাত্র দেশ নয়, যারা চলতি বছরে স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আর সে কারণেই সকলকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা একে অপরের সাফল্য থেকে শিক্ষা নিয়ে হাতে হাত ধরে এগিয়ে যেতে পারি। এক সঙ্গে চলার মাধ্যমেই আমরা আরো শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল অবস্থায় পৌছাতে পারবো।

    ক্লাইমেট ভারনারেবল ফোরামের চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং গ্লোবাল সেন্টার অন ডাপটেশনের সিইও প্যাট্রিক ভারকুইজেনের যৌথ লেখাটি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত হয়। যার অনুবাদ এখানে প্রকাশ করা হলো।

  • ভারতে করোনা চিকিৎসায় শর্ত দিয়ে ‘রেমডেসিভির’ ব্যবহারের অনুমতি

    ভারতে করোনা চিকিৎসায় শর্ত দিয়ে ‘রেমডেসিভির’ ব্যবহারের অনুমতি

    শর্ত দিয়ে অবশেষে করোনার চিকিৎসায় রেমডেসিভির ওষুধ প্রয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিডিএসসিও)। ‘জরুরি প্রয়োজনে’ করোনাভাইরাস উপসর্গ রয়েছে এমন ব্যক্তি এবং করোনায় পজিটিভ শনাক্ত ব্যক্তির শরীরে এই ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভি’র।
    সোমবার ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রধান ডা. ভি জি সোমানি বলেন, ‘১ জুন থেকে জরুরি ব্যবহারের শর্তে রোগীদের ৫ ডোজ করে রেমডেসিভির দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

    ওষুধটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৃহৎ বায়োফার্মা কোম্পানি গিলিয়াড সায়েন্স তৈরি করেছে। করোনা রোগীদের শরীরে ওষুধটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর গিলিয়াড সায়েন্স দাবি করে, করোনা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে দ্রুত কাজ করে এটি।
    মুম্বাইয়ের সংস্থা ক্লিনেরা সার্ভিসেস তাদের থেকেই ওষুধটি আমদানি করবে। ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল ওরগানাইজেশন (সিডিএসসিও) জানিয়েছে, ইনজেকশন নির্ভর এই ওষুধ সর্বাধিক ১০ দিন প্রয়োগযোগ্য।

    তবে ৫ দিনের বদলে ১০ দিন প্রয়োগে করোনা রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

  • তালাকের অর্থ পেয়েই বিশ্বের সবচেয়ে ধনীর তালিকায় চীনা তরুণী

    তালাকের অর্থ পেয়েই বিশ্বের সবচেয়ে ধনীর তালিকায় চীনা তরুণী

    এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিবাহবিচ্ছেদের ফলে বিশ্বের নারী ধনকুবেরদের তালিকায় যুক্ত হলেন চীনা তরুণী উয়ান লিপিং। তিনি এখন এশিয়ার ধনীতম নারী।

    উয়ানের শিল্পপতি সাবেক স্বামী দু ওয়েইমেইন শেনঝেন কাংতাই বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস কোম্পানির চেয়ারম্যান। তিনি সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদের শর্ত হিসেবে তার প্রতিষেধক প্রস্তুতকারী সংস্থার ১৬১.৩ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার দিয়েছেন তাকে। খবর ডেইলি মেইলের। সোমবার শেয়ারবাজার বন্ধ হওয়ার সময় এই স্টকের আর্থিক অঙ্কের পরিমাণ ছিল ৩২০ কোটি ডলারেরও বেশি। চীনা বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক উয়ান বর্তমানে চীনের শেনঝেন প্রদেশে থাকেন। ২০১১ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি কাংতাই বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস কোম্পানির পরিচালক ছিলেন।

    বর্তমানে উয়ান অন্য একটি সংস্থার ভাইস জেনারেল ম্যানেজার পদে কর্মরত। ৪৯ বছর বয়সী এশিয়ার এই ধনীতম নারী বেজিংয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করেছে। কাংতাই বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের শেয়ার গত কয়েক মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। গত ফেব্রুয়ারিতে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা করোনাভাইরাসে প্রতিষেধক আবিষ্কার করার পরিকল্পনা করেছে। এর পরেই বাজারে তাদের শেয়ারের চাহিদা হু হু করে বেড়ে যায়।কিন্তু সংস্থার কর্ণধারের বিচ্ছেদ ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে ধাক্কা খায় এই সংস্থা। প্রভাব পড়েছে দুয়ের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে। ৬৫০ কোটি ডলার থেকে তা নেমে এসেছে ৩১০ কোটি ডলারে। ৫৬ বছর বয়সী দুয়ের জন্ম চীনের জিয়াংঝি প্রদেশের এক কৃষক পরিবারে। কলেজে রসায়ন নিয়ে পড়ার পর ১৯৮৭ সালে তিনি একটি ক্লিনিকে চাকরি করতে শুরু করেন।

    ১৯৯৫ সালে তিনি একটি বায়োটেক সংস্থার সেলস ম্যানেজার হন। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ২০০৯ সালে নিজের প্রথম সংস্থা ‘মিনহাই’ শুরু করেন তিনি। ফোর্বস পত্রিকার সাম্প্রতিক তালিকা অনুযায়ী, বিচ্ছেদের আগে তিনি বিশ্বের ৩২০ নম্বর ধনকুবের ছিলেন। চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ব্যয়বহুল বিচ্ছেদের নজির বিরল নয়। ২০১২ সালে চীনের ধনীতম নারী ছিলেন উ য়াজুন। তিনি বিবাহবিচ্ছেদের সময় তার সাবেক স্বামী কাই কুইকে ২৩০ কোটি ডলার দিয়েছিলেন। তার অনলাইন গেমিং সংস্থার মালিক ধনকুবের ঝোউ ইয়াহুই-কে তার সাবেক স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে দিতে হয়েছিল ১১০ কোটি ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পপতি শে তাই ওনের স্ত্রী বিচ্ছেদের সময় তার স্বামীর সংস্থার ৪২.৩ শতাংশ শেয়ার পেয়েছিলেন। তার আর্থিক মূল্য ছিল ১২০ কোটি ডলার।

    তবে এখনও অবধি বিশ্বে বিবাহবিচ্ছেদের ইতিহাসে ব্যায়বহুল হচ্ছে জেফ ও ম্যাকেঞ্জি বেজোসের বিচ্ছেদ। আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বিচ্ছেদের শর্তস্বরূপ সাবেক স্ত্রীকে অনলাইন রিটেলারের ৪ শতাংশ দিয়েছিলেন। ফলে ম্যাকেঞ্জির সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮ কোটি ডলারে। বর্তমানে তিনি বিশ্বের চতুর্থ ধনীতম নারী।

  • বিশ্বে ২৪ ঘন্টায় আরও সাড়ে ৪ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা

    বিশ্বে ২৪ ঘন্টায় আরও সাড়ে ৪ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা

    ২৪ ঘন্টায় বিশ্বে আরও সাড়ে ৪ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজারে।
    একদিনের হিসাবে, রেকর্ড এক লাখ ১৬ হাজার মানুষের শরীরে মিলেছে সংক্রামক ভাইরাসটির উপস্থিতি। সবমিলিয়ে আক্রান্ত প্রায় ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার।। যুক্তরাষ্ট্রে দু’দিন পর বেড়েছে প্রাণহানি। ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ১১শ’র বেশি। চলমান বিক্ষোভে দেশটিতে ভয়াবহ আকারে সংক্রমণ ছড়াবে- এমন আশঙ্কা চিকিৎসকদের। দেশটিতে মোট আক্রান্ত প্রায় ১৯ লাখ।
    ব্রাজিলেও বেড়েছে মৃত্যু, ১২শ’র বেশি মানুষ মারা গেছে একদিনে। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৩১ হাজারের বেশি। গেলো ১৩ দিনের মধ্যে আবারও শতাধিক মৃত্যু হয়েছে ফ্রান্স।
    এদিকে, ইউরোপের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে জার্মানি। ইরানে একদিনে আরও ৩ হাজার কোভিড নাইনটিন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

  • লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ‘মূল হোতা’ ড্রোন হামলায় নিহত

    লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ‘মূল হোতা’ ড্রোন হামলায় নিহত

    লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যায় ‘মূল হোতা’ বলে অভিযুক্ত মিলিশিয়া নেতা খালেদ আল-মিশাই দেশটির বিমান বাহিনীর ড্রোন হামলা নিহত হয়েছেন।
    মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানী ত্রিপোলির ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে গারিয়ান শহরের কাছে ওই হামলায় তার মৃত্যু হয়। লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।
    সংবাদমাধ্যম বলছে, খালেদ আল-মিশাই ছিলেন লিবিয়ার একাংশের নিয়ন্ত্রক বিদ্রোহী জেনারেল খলিফা হাফতারের অনুসারী। রাজধানী ত্রিপোলিসহ অনেক এলাকা জাতিসংঘ-স্বীকৃত জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের (জিএনএ) নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বেনগাজীসহ অনেক তেলসমৃদ্ধ এলাকা খলিফা হাফতারের বাহিনীর দখলে রয়েছে।
    গত ২৮ মে ত্রিপোলি থেকে দূরে মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করে এক মানবপাচারকারীর সহযোগী ও স্বজনরা। এতে আহত হন আরও ১১ জন বাংলাদেশি।
    বাংলাদেশিসহ ওই অভিবাসীদের মিজদা শহরের একটি জায়গায় মুক্তিপণের জন্য জিম্মি রেখেছিল মানবপাচারকারী চক্র। এ নিয়ে এক পর্যায়ে ওই চক্রের সঙ্গে মারামারি হয় অভিবাসী শ্রমিকদের। এতে এক মানবপাচারকারী নিহত হয়। তারই প্রতিশোধ হিসেবে সেই মানবপাচারকারীর লোকজন এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ ও নেতৃত্বের জন্য খলিফা হাফতারের লোকজনকে অভিযুক্ত করে আসছে লিবিয়ার জিএনএ সরকার।
    ঘটনাটির পরই লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে জানায়, তারা এর তদন্ত শুরু করেছে। পরে লিবিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়, হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ লিবিয়া। এতে নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানানো হয়।

  • ‘এটাকে এখন আর বিক্ষোভ বলা যায় না’

    ‘এটাকে এখন আর বিক্ষোভ বলা যায় না’

    যুক্তরাষ্ট্রের নিই ইয়র্ক শহরে সোমবার বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে যেয়ে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন সময় টিভির সাংবাদিক হাসানুজ্জামান সাকী। তিনি সেদিন রাতে মৃত্যুর মুখ থেকেই ফিরে এসেছেন। সে দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন নিজের ফেসবুকের টাইমলাইনে যার শিরোনাম দিয়েছেন ‘এতটুকুই বলবো, প্রাণে বেঁচে গেছি/ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা সবার প্রতি’। বাংলাদেশ জার্নালের পাঠাকদের জন্য তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

    ‘যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মতো সোমবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিউইয়র্কেও কারফিউ জারি করা হয়। ১৯৪৩ সালের পর প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে কারফিউয়ের ঘোষণা আসে। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে বিরল এই পরিস্থিতি সরেজমিন কাভার করতে ম্যানহাটানে যাই। রাত তখন ১০টা ৪০ মিনিট। আর ২০ মিনিট পরই শুরু হবে কারফিউ। কিন্তু কোথায় কী! হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ম্যানহাটানের অলিগলি দখল করে আছে।’

    ‘আমার সঙ্গে স্থানীয় আইটিভির সাংবাদিক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন। আমরা কারফিউ বলতে কী বুঝি? বুঝি যে কারফিউতে কেউ রাস্তায় বের হতে পারবে না। এমন ধারণা নিয়েই টাইম স্কয়ারে রওয়ানা হই আমরা দুজন। ধারণা ছিল, কারফিউয়ের মধ্যে সিটি থাকবে সুনশান। কিন্তু ম্যানহাটানে ঢুকতেই আমাদের ভুল ভাঙে। বিক্ষোভকারীরা কারফিউ মানছে না। তারা বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আছে। আশপাশের বিভিন্ন দোকানপাটে লুটতরাজ চলছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে পুলিশের সাথে চলছে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।’

    ‘আমরা গাড়ি এক পাশে রেখে ছবি তুলছিলাম। লাইভের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আগেভাগে কিছু দৃশ্য রেকর্ড করেও রাখছিলাম। এমন সময় আমাকে পিছন ও সামনে থেকে হামলা করে কয়েকজন। তারা আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি রাস্তায় পড়ে যাই। তারা তারপরও আমাকে মারতে থাকে। আমি দৌড়ে রাস্তার অন্যপাশে চলে গিয়ে আমার হাতে থাকা টিভি চ্যানেলের মাইক্রোফোনটি লুকিয়ে ফেলি। এমন সময় তারা আমার বন্ধু-সহকর্মী শহীদুল্লাহর কাছ থেকে ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। শহীদুল্লাহ তা দিতে না চাইলে ওরা তার ওপরও হামলা করে। আমরা দুজনই দৌড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করি। এসময় ওরা আমাদের গাড়ি ভাংচুরেরও চেষ্টা চালায়। আমি দূর থেকে কাঁচ ভাঙার শব্দও শুনতে পাই। আমি ভয় পেয়ে যাই আমাদের গাড়িটা না ভেঙে ফেলে!! কিন্তু পরে গাড়ির কাছে গিয়ে দেখি বোতল ভেঙে গেছে কিন্তু গাড়ির কাঁচ ভাঙেনি।’

    ‘বিক্ষোভকারীরা সে জায়গা ছেড়ে চলে গেলে আমরা গাড়ি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করি। কিন্তু কোনোভাবেই যেন আমরা এগুতে পারছিলাম না। রাস্তা অবরোধ করে আছে বিক্ষোভকারীরা। রাস্তার দু’পাশে দোকানপাটে সমানতালে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আমাদের গাড়ি মেসি’জ (বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টোর) এর সামনে এলে সেখানে কিছু পুলিশ দেখতে পাই। লুটেরারা মেসি’জ-এর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। পুলিশ মেসি’জ রক্ষা করতে প্রাণপন চেষ্টা করছে। কিন্তু লুটেরাদের তুলনায় পুলিশ ছিল নগন্য। কৃষ্ণাঙ্গরা এতটাই বেপোরোয়া ছিল যে পুলিশ যেন তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছিল।’

    ‘বিক্ষোভ কম দেখিনি। আপনাদের অনেকের হয়তো মনে আছে, ২০০৭ সালে ৩০ মার্চ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পুরানা পল্টনে রাজনৈতিক সহিংসতা ছিল নজিরবিহীন। বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল সেদিন। দেশের প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক চ্যানেল সিএসবি নিউজের ইনপুট হেড ছিলেন তুষার আবদুল্লাহ। তিনি আমাকে ও ক্যামেরাম্যান মঞ্জুরুল হক মঞ্জুরকে ফিল্ডে পাঠিয়েছিলেন। আমরা ভয়াবহ সেই সহিংসতা কাভার করেছি। মঞ্জুর ভাই ছবি তুলেছেন, আর আমি যথাসাধ্য তাকে আগলে রেখে নিক্ষিপ্ত ইট-পাথর থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। মাঝখানে কেটে গেছে কতগুলো বছর। এখন মঞ্জুর ভাইও সময়-এ, আমিও। তবে দুজন দু’দেশে।’

    ‘২০০৬ সালে বৈশাখী টিভিতে থাকার সময় বিএনপি ও চারদলীয় জোটের আমলে পুলিশের হাতে মার খেয়ে রাস্তায় লুটিয়েছি। আমার দোষ ছিল সহকর্মী ক্যামেরাপরসন দীপু ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম আমি। তারা দীপু ভাইকে রেখে আমাকে পেটাতে শুরু করে। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলাম তিনদিন। তৎকালীন সরকারের পেটোয়া বাহিনীর হাতে মার খাওয়া আহত সাংবাদিককে সমবেদনা জানাতে হাসপাতালে এসেছিলেন তিনজন মন্ত্রী!! তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত খোঁজ-খবর নিয়েছিলেন।’

    ‘বিডিয়ার বিদ্রোহের কথা তো আমরা সবাই জানি। দেশের ইতিহাসের আরেক নজিরবিহীন ঘটনা। এটিএন বাংলায় থাকার সময় ঘটনার দিন থেকে টানা আড়াই মাস পিলখানা যেন ছিল আমার ঘর-বাড়ি। মনে পড়ে, উনিশ দিনের নবজাতক কন্যাকে রেখে ঘটনাস্থলে রাশ করেছিলাম। পিলখানার চার নম্বর গেইটে গিয়ে যখন পৌঁছাই তখন সেখানে আরও অসংখ্য উৎসুক জনতা। পিলখানার ভেতর থেকে গুলি করা হয়েছিল। আরও অনেকের সাথে আমিও প্রাণ বাঁচাতে দিগবিদিক ছুটেছি। লেকের পাড়ে পায়ে চলা পথে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন অভিনয়শিল্পী সাবিনা বারী লাকী। আজ তিনি ও আমি, আমরা দুজনই উত্তর আমেরিকায় থাকি। তিনি কানাডায়, আমি আমেরিকায়। কিন্তু সেই দিনগুলো এখনও চোখে ভাসে। পরে জেনেছিলাম, চুয়াত্তর জন আর্মি অফিসার, সৈনিক ও সীমান্তরক্ষীর সাথে সেদিন একজন রিকশাচালকও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন লেকের পাড়ে। আমরা কী সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম?’

    ‘পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সপ্তাহব্যাপী বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। এটাকে এখন আর বিক্ষোভ বলা যাবে না। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে দাঙ্গা-সহিংসতায়। সর্বত্র চলছে লুটপাট।’

    ‘বাংলাদেশে যেকোনো বিক্ষোভে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলা, প্রেসের গাড়ি ভাঙচুর স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আমেরিকাতেও যে বিক্ষোভকারীদের রোষানলে পড়বে মিডিয়া, তা কী কেউ কোনোদিন ভেবেছে? যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই দাঙ্গায় ২শ’রও বেশি সাংবাদিক ও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হামলার শিকার হয়েছে। পুরো পৃথিবীটাকে এখন গ্লোবাল ভিলেজ ডাকা হয়। এই গ্লোবাল ভিলেজের পলিটিক্স সর্বত্রই এক। আর ভিলেজের বাসিন্দাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও অভিন্ন।’

    ‘আমরা হামলার শিকার হওয়ার পর সময় সংবাদ, একাত্তর টিভিসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও নিউজ পেপারে সংবাদ প্রচারিত হওয়ায় খবরটি দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য জন আমার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমাকে না পেয়ে আমার স্ত্রীকে ফোন করেছেন। ইনবক্স করেছেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক সহকর্মীরা অনেকে ফোন করে আমার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তারা ঘটনায় দু:খপ্রকাশ করেছেন, অনেকেই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা আমাদের পাশে থেকে শক্তি-সাহস যুগিয়েছেন। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’