Category: আন্তর্জাতিক

  • নিজ দল থেকে বহিষ্কার হলেন মাহাথির মোহাম্মদ

    নিজ দল থেকে বহিষ্কার হলেন মাহাথির মোহাম্মদ

    নিজের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। গত ১৮ মে দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশন চলাকালীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনে গিয়ে বসায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

    বৃহস্পতিবার ইউনাইটেড ইনডিজিনাস পার্টি অফ মালয়েশিয়ার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাহাথিরের সদস্যপদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। মালয় ভাষায় বারসাতু নামে পরিচিত এই রাজনৈতিক দলটির সরকার বর্তমানে মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় রয়েছে; যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মহিদ্দিন ইয়াসিন। ক্ষমতাসীন সরকারকে সমর্থন না দেয়ার কারণে মাহাথিরকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    ৯৫ বছর বয়সী মাহাথির দেশটির এই রাজনৈতিক দলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং দলটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন এক সময়। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে পর্যন্ত তিনিই ছিলেন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ভাগাভাগির লড়াইয়ের পর জোট ভেঙে গেলে ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন মাহাথির।

    এই সঙ্কটের অবসান ঘটে মাহাথিরের সঙ্গে বারসাতু গড়ে তোলা মহিদ্দিন ইয়াসিন চার দলীয় একটি জোট গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর। এক সময় বিরোধীদলে থাকা নাজিব রাজাকের ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সঙ্গে জোট গঠন করে নতুন সরকার গড়েন মহিদ্দিন। ২০১৮ সালের আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন নাজিব রাজাক দুর্নীতির দায়ে বর্তমানে বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন।

    ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। কিছুদিন পর ইস্তফা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও তা নিয়ে সময়ক্ষেপণ শুরু করেন মাহাথির। যা পরবর্তীতে সরকার ভেঙে যাওয়া পর্যন্ত গড়িয়ে ক্ষমতা হারান দেশটির তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় নতুন সরকার গঠন এবং সাবেক বিরোধী মিত্রদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানান।

    মহিদ্দিনের প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে গত ১৮ মে দেশটির পার্লামেন্টের আস্থাভোটের ডাক দেন মাহাথির মোহাম্মদ। ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে এই আস্থা ভোটের ডাক দেয়া মাহাথির হতাশ হন যখন দেশটির রাজা আব্দুল্লাহ করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত করায়। পরে মাহাথির বলেন, মালয়েশিয়ায় গণতন্ত্র আর বেঁচে নেই।

  • ভেঙে গেছে সাগরের নিচের প্লেট, ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা?

    ভেঙে গেছে সাগরের নিচের প্লেট, ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা?

    ২০২০ সালটি কি সত্যিই বিষধর বিশ! চলতি বছরে আরও কত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কে জানে! এবার জানা যাচ্ছে, ভারত মহাসাগরের নিচে বিশাল টেকটনিক প্লেট ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গিয়েছে। আর তাই ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

    বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়েবসাইট লাইভ সায়েন্সে জানিয়েছে, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মকরাঞ্চলের ওই প্লেট প্রত্যেক বছর ০.০৬ মিলিমিটার করে দূরে সরে যাচ্ছে। আট বছর আগে একবার ভারত মহাসাগরের নিচে ভূমিকম্প হয়েছিল। তার পর থেকেই ওই প্লেটের এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন বিজ্ঞানীরা।

    আপাতদৃষ্টিতে দেখলে এই দুটি প্লেটের দূরে সরে যাওয়ার গতি খুবই ধীর। এই গতিতে চলতে থাকলে এক মাইল দূর যেতে দুটি প্লেটের ১০ লাখ বছর সময় লাগার কথা। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটাই ঘটছে পানির নিচে। ফলে ঠিক কী কী পরিবর্তন চলছে তা সবসময় নজরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। দুটি প্লটের আলাদা হয়ে যাওয়ার গতি কম হলেও বিজ্ঞানীরা চিন্তায় রয়েছেন। কারণ এভাবে প্লেট সরে যাওয়াই ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে। তবে অদূর ভবিষ্যতেই যে বড়সড় কোনো ভূমিকম্প হবে তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলছেন না বিজ্ঞানীরা।

    গবেষক অরলি কৌদুরিয়ার-কার্ভুর যেমন জানিয়েছেন, অন্য গ্রহের বাউন্ডারির তুলনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে। সবটাই ঘটছে পানির নিচে। পানির এত গভীরে সব পরিবর্তন ঘটছে। তাই সব সময় সব পরিবর্তন আমাদের নজরেও পড়ছে না। তবে দুটি প্লেট ভেঙে দুই টুকরো হয়েছে। আর সেগুলো ক্রমশ পরস্পরের থেকে সরছে। গতি অবশ্য অনেকটাই কম।

    বিশ্ব উষ্ণায়ন থেকে শুরু করে দূষণ, একের পর এক কারণে এমনিতেই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দুই প্লটের সরে যাওয়ার ফলে ২০ হাজার বছর পর পৃথিবীতে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।

  • সামনে আরও বড় বিপদ : চীনা বিজ্ঞানী

    সামনে আরও বড় বিপদ : চীনা বিজ্ঞানী

    চীনের ‘ব্যাট উইম্যান’ খ্যাত ভাইরোলজিস্ট শি ঝেংলি সতর্ক করেছেন, যে মারাত্মক করোনাভাইরাস আমরা দেখছি, তা করোনাভাইরাস ‘হিমশৈলের চূড়া মাত্র’। এ ধরনের সংক্রামক মহামারি ঠেকাতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা ছাড়া মানুষকে আরও বড় বিপদের সামনে পড়তে হবে।

    নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদুড় থেকে ভাইরাল সংক্রমণের বিশেষজ্ঞ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী শি ঝেংলি সোমবার (২৫ মে) সিজিটিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কার বলেন, আমরা যদি পরবর্তী সংক্রামক-রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচাতে চাই, তবে আমাদের অবশ্যই প্রাকৃতিকভাবে বন্য প্রাণী থেকে আসা এই অজানা ভাইরাসগুলো সম্পর্কে জানতে হবে এবং আগাম সতর্কতা দিতে হবে।

    শি সতর্ক করেছেন, আমরা যদি ভাইরাস নিয়ে গবেষণা না করি, তবে আরেকটা মহামারি আসতে পারে।
    বণ্যপ্রাণী নিয়ে তার গবেষণার কারণে গণমাধ্যমে তাকে ‘ব্যাট উইম্যান’ বলে অভিহিত করা হয়।

    গত বছর চীনের উহান থেকে ছড়ানো করোনায় সংক্রমিত হয়ে ৩ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন।

    চীনের যে ‘উহান ল্যাবে’ শি উপপরিচালক হিসেবে কাজ করেন, সেখান থেকে মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে—এমন সন্দেহ করেন কেউ কেউ। চীনের বিরুদ্ধেও বিষয়টির বিপদ সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে না জানানোর ও তাদের নাগরিকদের ওপর ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা বলার অভিযোগ উঠেছে।

    শি তার ল্যাব থেকে ভাইরাস ছড়ানোর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তারা যে ধরনের ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেন, তা আলাদা।

  • সৌদিতে ঈদ রোববার

    সৌদিতে ঈদ রোববার

    সৌদি আরবে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আর তাই সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে আগামী ২৪ মে রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত।

    করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বের মতো মুসলিম দেশগুলোতেও সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে। সে কারণে অনেক দেশেই স্বাভাবিকভাবে রমজানের তারাবিহ নামাজ পড়া যায়নি।

    এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কিছু দেশ এবার ঈদের জামাত হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। কিছু দেশ একেবারেই সীমিত উপস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে।

  • করোনায় আক্রান্ত ৪৮ লাখ ৯১ হাজার

    করোনায় আক্রান্ত ৪৮ লাখ ৯১ হাজার

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীতে পৃথিবী যেন আজ মৃত্যুপুরী। প্রতিদিনই এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ১৯ মে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৮ লাখ ৯১ হাজার।

    ওয়ার্ল্ডোমিটার’র তথ্য মতে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত করোনায় ৩ লাখ ২০ হাজার ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ৩২৬ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ লাখ ৭ হাজার ৪১৩ জন।

    করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষ অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ৯৮১ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৫০ হাজার ২৯৪ জন।

    এদিকে মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পড়েই যুক্তরাজ্যের অবস্থান। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪০৬ জনে। আর ইতালিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৭ জনে। আর সংক্রমিত হয়েছেন ২ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৬ জন।

    ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনে মৃতের সংখ্যা ২৭ হাজার ৭০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৮৮ জন। এছাড়াও ফ্রান্সে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৮ হাজার ২৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৭ জন।

    ব্রাজিলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬৮ জনে পৌঁছেছে। আর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৫৩ জনে।

    রাশিয়াতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৬৭৮ জন। আর এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৭২২ জনের। জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৮৯ জন। আর মৃতের সংখ্যা আট হাজার ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

    তুরস্কে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৩ জন। আর প্রাণহারিয়েছেন চার হাজার ১৭১ জন। ইরানে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯২ জন। আর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৫৭ জন।

    এদিকে ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ১৫৬ জন।

    বাংলাদেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ৮৭০ জনে পৌঁছেছে। আর মৃতের সংখ্যা ৩৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

  • ভ্যাকসিন আসুক বা না আসুক সব ফের চালু: ট্রাম্প

    ভ্যাকসিন আসুক বা না আসুক সব ফের চালু: ট্রাম্প

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আসুক বা না আসুক, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পুনরায় চালু করার অঙ্গীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের মধ্যেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পাওয়ার লক্ষ্যের ঘোষণা দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

    ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পেতে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সব কিছু চালু হওয়ার জন্য ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় থাকবেন না তিনি।

    সংবাদ সংস্থা বিবিসির তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এ ভ্যাকসিন প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন র‍্যাপ স্পিড’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রকল্পের তৎপরতার সঙ্গে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির প্রকল্পের তুলনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    তবে ভ্যাকসিন না পাওয়া গেলেও যে মার্কিন জনগণকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে, তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সবকিছু ভ্যাকসিনের ওপরই নির্ভর করছে—এমনটা জনগণ ভাবুক, তা আমি চাই না। ভ্যাকসিন পাওয়া যাক বা না যাক, আমরা ফিরছি। এবং সে পথেই আছি আমরা।’

    ট্রাম্প আরো বলেন, এমন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে ভ্যাকসিন নেই, কিন্তু ভাইরাস বা ফ্লুর প্রাদুর্ভাব হয়েছে, তখন আপনাকে এর মধ্য দিয়েই লড়াই করতে হবে। তিনি বলেন, অন্য মহামারি সময়ও ভ্যাকসিন ছিল না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবই শেষ হয়েছে।

    এদিকে এক বছরের মধ্যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি হওয়া নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

  • করোনার শুরুতেই ‘নমুনা নষ্টের’ কথা স্বীকার করল চীন

    করোনার শুরুতেই ‘নমুনা নষ্টের’ কথা স্বীকার করল চীন

    করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতে চীন নমুনা নষ্ট করেছিল বলে স্বীকার করেছে। সাউথ চীনা মর্নিং পোস্ট শনিবার (১৬ মে) এ খবর দিয়েছে।

    খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কয়েক মাস ধরে এ অভিযোগ করা হলেও চীন মুখ খোলেনি। অবশেষে তারা ‘অননুমোদিত পরীক্ষাগারের’ নমুনা নষ্টের নির্দেশ দেয়ার কথা স্বীকার করেছে।

    কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেও অভিযোগ করেছিলেন, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে করোনাভাইরাসের নমুনা চেয়েছিল। কিন্তু চীন দেয়নি।

    চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের কর্মকর্তা লিউ ডেঙ্গফেং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ধাপের বিপদ এড়াতে জৈবিক সুরক্ষার কথা চিন্তা করে অননুমোদিত ল্যাবের নমুনা নষ্ট করা হয়।

    তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে বলছে তাতে কনফিউশন তৈরি হচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারা এটা করছে। উহানে নতুন এ ভাইরাসটির খোঁজ পাওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ের পেশাদার প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করা হয়।

  • করোনার ভ্যাকসিন কিনতে চীনের সঙ্গে কানাডার চুক্তি

    করোনার ভ্যাকসিন কিনতে চীনের সঙ্গে কানাডার চুক্তি

    চাইনিজ কোম্পানি ক্যানসিনো বায়োলজিক্সেরের ভ্যাকসিন এডি৫-এনকোভ এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার করবে কানাডা। চিকিৎসা সেবায় ওষুধ বাছাইয়ে অত্যন্ত রক্ষণশীল কানাডা এ ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা এবং উৎপাদন দ্রুত করতে চায়না কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তিও করেছে ইতোমধ্যে।

    এই চুক্তির আওতায় করোনাভাইরাসের এ ভ্যাকসিনটি কানাডায় মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে। এর আগে বেশ কিছুদিন ধরেই চীনে এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের শরীরে ব্যবহারে এই ভ্যাকসিনের ক্ষতিকর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এটিই হচ্ছে  প্রথম কোনো ভ্যাকসিন যেটির দ্বিতীয় দফায় মানবদেহে প্রয়োগের মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল টেস্ট হচ্ছে ।

    এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল টেস্ট এ আছে। এডি৫-এনকোভ তাদের একটি।

    গত মার্চের মধ্যভাগে চীন সরকার মানবদেহে ব্যবহারের মাধ্যমে এডি৫-এনকোভের ক্লিনিক্যাল টেস্টের অনুমতি দেয়। কানাডা এখন তাদের গবেষণাজ্ঞান কাজে লাগিয়ে এই ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    কানাডিয়ান নাগরিকদের দেহে প্রযোগের মাধ্যমে সুফল পাওয়া গেলে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষে চুক্তি হয়েছে। করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কানাডা যতটা দ্রত সম্ভব নাগরিকদের জন্য একটি ভ্যাকসিন পেতে চাইছে।

  • করোনা মোকাবিলা নিয়ে মোদি–গেটস কথা

    করোনা মোকাবিলা নিয়ে মোদি–গেটস কথা

    করোনার মোকাবিলায় যেকোনো বৈশ্বিক উদ্যোগে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিল গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস দুজনেই এই বিষয়ে একমত। গত বৃহস্পতিবার দুজনে ভিডিও কনফারেন্স মারফত করোনা মোকাবিলা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।

    এই মহামারি মোকাবিলায় যাবতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বৈশ্বিক সমন্বয়ে ভারতের ভূমিকা কী হতে পারে, তা আলোচিত হয়। আলোচনার পর বিল গেটস জানান, মহামারি মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মহামারি রোখার ক্ষেত্রে তিনি ভারতের সদিচ্ছারও প্রশংসা করেন।

    বিল গেটসের সঙ্গে আলোচনার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মেলিন্ডাও। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট মারফত জানান, অনেকক্ষণ কথা হলো। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে যেমন কথা হয়েছে, তেমনই গেটস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ নিয়েও অনেক কথা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাবতীয় গবেষণা, প্রযুক্তির ভূমিকা, ওষুধ ও প্রতিষেধক তৈরি নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে। গোটা বিশ্বের সঙ্গে ভারত একজোট হয়ে এই লড়াই লড়ছে। ভারতের প্রশংসা করে বিল বলেন, এই লড়াইয়ে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতে তৃতীয় দফার লকডাউন শেষ হচ্ছে ১৭ মে। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজ্যে রাজ্যে ক্ষেত্রবিশেষে চতুর্থ দফার লকডাউন চলবে। তবে কোন কোন জায়গায় নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি বহাল থাকবে, তা রাজ্যগুলোর ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলোর বিভিন্ন প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পৌঁছেছে। রাজ্যে রাজ্যে ট্রেন, বিমানসহ সীমিত আকারে গণপরিবহনব্যবস্থা চালু হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞাও শিথিল হবে বহুলাংশে।

    সরকারের দুশ্চিন্তা মোটামুটিভাবে চারটি রাজ্যকে নিয়ে। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তামুলনাড়ু ও দিল্লি। মৌসুমি শ্রমিক চলাচলের দরুণ বিহার, ঝাড়খন্ড, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গও সংক্রমণ নিয়ে বেশ খানিকটা চিন্তিত। কিন্তু তা সত্ত্বেও সব রাজ্যই মোটামুটিভাবে এক মত, অর্থনীতির স্বার্থে স্বাভাবিকতা ফিরে আসা জরুরি। তবে সে জন্য সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদি করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যে ২০ লাখ কোটি রুপির প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। কোন খাতে কত খরচ, তা জানাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শুক্রবার তৃতীয় সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে ১ লাখ কোটি রুপি খরচ করা হবে।

    হেঁটে ঘরে ফিরতে চাওয়া মৌসুমি শ্রমিকদের স্বার্থে আনা এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার জানান, শ্রমিকেরা যখন যে রাজ্য দিয়ে হাঁটবেন, তাঁদের খাদ্য–পানীয়র বন্দোবস্ত সেই রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে। এটা আদালত নিশ্চিত করতে পারে না। আদালতের কাজও নয়। কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টকে জানান, মৌসুমি শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে কেন্দ্র বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বহু শ্রমিক হেঁটে ঘরে ফিরতে চাইছেন। তাঁদের আটকাতে বল প্রয়োগ করলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে।

  • নিখুঁত টেস্ট কিটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা যুক্তরাজ‌্যের

    নিখুঁত টেস্ট কিটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা যুক্তরাজ‌্যের

    সুইজারল‌্যান্ডের স্বাস্থ‌্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রোচে হোল্ডিং এজির তৈরি অ‌্যান্টিবডি টেস্ট কিট ব‌্যবহার নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাজ‌্য। এ টেস্ট কিট একেবারে নিখুঁত ফল জানাতে পারে বলে পরীক্ষাগারে প্রমাণ পেয়েছে তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তাই একে পরিস্থিতি পরিবর্তন করার জাদুর কাঠি হিসেবে দেখছে দেশটি। করোনাভাইরাস মহামারিতে বেহাল দশায় পড়া বিশ্বের মধ‌্যে পঞ্চম বৃহত্তম যুক্তরাজ‌্যের অর্থনীতি এতে পুনরুদ্ধার পাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

    যুক্তরাজ‌্যের সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, উইল্টশায়ারের পোর্টন ডাউনে পাবলিক হেলথ ইংল‌্যান্ড পরীক্ষাগারে ফলাফলে এ কিটকে শতভাগ কার্যকর হিসেবে দেখানো হয়েছে। নিজ দেশের পরীক্ষাগারে ভালো ফল পাওয়ায় এর ব‌্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে, এটি অনুরূপ রোগের চেয়ে সঠিক রোগের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে পারে।

    যুক্তরাজ‌্যের জুনিয়র স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী অ‌্যাডওয়ার্ড আরগার বলেন, ‘এর সম্ভাবনাকে গেম চেঞ্জার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কিট কেনার জন‌্য রোচের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ এসব কিট ব‌্যবহার করে পরীক্ষা শুরু হবে, তার দিনক্ষণ বলতে পারছি না।’

    রোচের অ‌্যান্টিবডি পরীক্ষাটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছ থেকে গত ২৮ এপ্রিল ‘সিই মার্ক’ মূল‌্যায়ন পেয়েছে। এ ছাড়া ২ মে মার্কিন ফুড অ‌্যান্ড ড্রাগ অ‌্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) কাছ থেকে জরুরি ব‌্যবহারের অনুমোদনও পেয়েছে।

    প্রোটন ডাউন ল‌্যাবরেটরির ফলাফলের আগেই যুক্তরাজ‌্য কোভিড-১৯ অ‌্যান্টিবডি পরীক্ষায় একে যথেষ্ট নিখুঁত হিসেবে ছাড়পত্র দেয়। যুক্তরাজ‌্যের করোনাভাইরাস পরীক্ষা কর্মসূচির জাতীয় সমন্বয়ক জন নিউটন বলেন, ‘এটা খুব ইতিবাচক খবর। কারণ, এ ধরনের নিখুঁত ও নির্দিষ্ট অ‌্যান্টিবডি পরীক্ষা অত‌্যন্ত নির্ভরযোগ‌্য।’

    রোচের পক্ষ থেকেও গতকাল বুধবার দ্রুত যুক্তরাজ‌্যে অ‌্যান্টিবডি টেস্ট কিট পরীক্ষার বিষয়ে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    রোচের তথ‌্যানুযায়ী, এ টেস্ট কিটে দক্ষ স্বাস্থ‌্য কর্মকর্তার মাধ‌্যমে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। বাজারে যত টেস্ট কিট আছে, তার মধ‌্যে এটাই সবচেয়ে নিখুঁত ৯৯.৮ শতাংশ সঠিক ফল দেখাতে পারে। এ স্তরের নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোভিড-১৯–এর অ‌্যান্টিবডির মতো অনেকগুলো ভাইরাসের একই রকম অ্যান্টিবডি রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ সর্দি, অন্যান্য সার্স স্ট্রেন থাকতে পারে। যদি এ স্তরের নিখুঁত ফল না পাওয়া যায়, তবে অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারে।

    দ‌্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ‌্য সরকার লাখো টেস্ট কিট কেনার জন‌্য আলোচনা করছে। একই ধরনের অ‌্যান্টিবডি টেস্ট কিট তৈরি করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ‌্যাবোট ল‌্যাবরেটরিজ ও ইতালির ডিয়াসরিন।

    অ‌্যান্টিবডি পরীক্ষায় রোগ শনাক্তের পরিবর্তে কে কে আক্রান্ত হয়েছিল এবং কার শরীরে অ‌্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তা দেখাতে পারে। তবে শরীরে অ‌্যান্টিবডির উপস্থিতি স্থায়ী রোগ প্রতিরোধক্ষম করে তোলে কিনা তা এখনো পরিষ্কার নয়।