Category: আন্তর্জাতিক

  • লকডাউনকে ‘বিশাল ভুল’ সিদ্ধান্ত বললেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী

    লকডাউনকে ‘বিশাল ভুল’ সিদ্ধান্ত বললেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী

    করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই চলছে লকডাউন। বেশিরভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, যান চলাচল, ঘর থেকে বের হওয়ায় রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। তবে মহামারি রোধে এমন পদক্ষেপকে ‘বিশাল ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ও রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী মাইকেল লেভিট।

    সম্প্রতি আনহার্ড ডটকমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ৭৩ বছর বয়সী এ বিজ্ঞানী এ দাবি করেন।

    বিজ্ঞানী মাইকেল লেভিট বর্তমানে স্টানফোর্ডের মেডিসিনস স্ট্রাকচারাল বায়োলজি ডিপার্টমেন্টের প্রধান পদে কর্মরত। দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী তিনিই।

    প্রফেসর লেভিট বলেন, করোনায় এ পর্যন্ত বিপর্যস্ত দেশগুলোতে নেয়া ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করলে আমি দেখছি করোনার বিপক্ষে সবচেয়ে বড় বিজয়ী দেশ- জার্মানি ও সুইডেন। কিন্তু তারা খুব বেশি একটা লকডাউন দেয়নি। স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার জন্য সেখানে কিছুসংখ্যক লোক অসুস্থ হয়েছে মাত্র। দেশ দুটির অর্থনীতির গতিতেও তেমন বাধা পড়েনি।

    এ ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ইসরাইল বড় ভুল করেছে বলে দাবি করেন এ বিজ্ঞানী।

    তিনি বলেন, এই তিন দেশ থাকবে হতভাগাদের কাতারে। খুব বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আগেই তারা কড়া লকডাউন জারি করেছে। এতে সমাজের বড় ক্ষতির পাশাপাশি কোনো ধরনের হার্ড ইমিউনিটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি সেসব দেশে।

    তিনি বলেন, আমার মতে– শরীরে ইমিউনিটি ক্ষমতা বৃদ্ধি করে করোনাভাইরাসের পরবর্তী ধাক্কায় জার্মানি ও সুইডেন সুরক্ষিত থাকবে। কিন্ত দ্বিতীয় ধাপে ঝুঁকিতে পড়বে ইসরাইলের মতো বেশি লকডাউন দেয়া দেশগুলো।

    লকডাউন কম দিয়ে সব কিছুকে জীবাণুমুক্তকরণে গুরুত্ব বেশি দেয়া বলে মনে করেন এই বিজ্ঞানী।

    তিনি বলেন, যদি আবারও করোনাকে রুখতে হয় সে ক্ষেত্রে আমার অনুরোধ হবে– মাস্ক ও হাত জীবাণুমুক্তকরণে বেশি গুরুত্ব দেয়া। নগদ অর্থের বদলে মোবাইল ফোনে লেনদেন এমন ধরনের পরিশোধ ব্যবস্থা বাড়ানো যেখানে স্পর্শের দরকার হয় না।

    তিনি আরও বলেন, চীন কীভাবে করোনার মোকাবেলা করেছে তা যদি বিশ্ব ভালোভাবে খেয়াল করত, তবে সরকারগুলো ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করত না।

  • এইচআইভির মতোই থেকে যাবে করোনা : ডব্লিউএইচও

    এইচআইভির মতোই থেকে যাবে করোনা : ডব্লিউএইচও

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) কখনোই শেষ হবে না। এটা এইচআইভি ভাইরাসের মতোই থেকে যাবে। এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ১৩ মে, বুধবার সংস্থাটির হেলথ ইমারজেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ডা. মাইক রায়ান এমন মন্তব্য করেন।

    করোনা মহামারীতে যখন অর্ধেক বিশ্ব লকডাউনের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে দেশগুলো যখন তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে সৃষ্ট ঝুঁকির বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে ডা. মাইক রায়ান এই মন্তব্য করেন। এমন খবর প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও সাউথ চায়না মনিটর পোস্ট।

    এ বিষয়ে ডা. মাইক রায়ান জানান, কোভিড-১৯ হবে এইডসের মতো, যা কখনোই শেষ হওয়ার নয়। তাই এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ভাইরাসটির সংক্রমণ এভাবে ছড়াতে থাকলে তার ফল মারাত্মক হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

    তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি আলোচনার টেবিলে তোলা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ভাইরাস মানবজাতির জন্য আরেকটি এনডেমিক (কোনো আঞ্চলিক বা পেশার সঙ্গে যুক্ত রোগবিশেষ) হতে যাচ্ছে। এর প্রাদুর্ভাব হয়তো কখনোই শেষ হবে না।’

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আমি মনে করছি, আমাদের বাস্তববাদী হওয়াটা গুরত্বপূর্ণ। কেননা এই ভাইরাস কবে অদৃশ্য হবে কেউ তা অনুমান করতে পারবে বলে মনে হয় না। এছাড়া কবে এর প্রকোপ দূর হবে তারও কোনো দিনক্ষণ নেই। এই রোগ হয়তো আমাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী এক সমস্যা হিসেবে থেকে যাবে, নাও থাকতে পারে।’

    ডা. মাইক রায়ান আরো জানান, বিশ্বে করোনার সম্ভাব্য এক শতাধিক ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির (৮টি) ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। হামসহ অন্যান্য অনেক রোগেরও তো ভ্যাকসিন রয়েছে, কিন্তু সেসব রোগ কিন্তু এখনো নির্মূল হয়ে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রসঙ্গত, মহামারীরতে পর্যটন শিল্পের লাখ লাখ লোকের চাকরি বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ জন্য তারা এই গ্রীষ্মকাল থেকে পর্যায়ক্রমে পর্যটন খাত খুলে দিবে। সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছে। এছাড়াও সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেমন- গণপরিবহনে চলাচলের সময় মাস্ক পরিধান করা।

  • পৃথিবীর একমাত্র করোনামুক্ত মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা

    পৃথিবীর একমাত্র করোনামুক্ত মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা

    করোনার করাল গ্রাসে স্থবির বিশ্ব জনপদ। একের পর আক্রান্ত, মৃত্যু মানুষকে শঙ্কিত করে তুলছে অজানা আতঙ্কে। ঠিক সময় জানা গেলে এখনো একটি মহাদেশে করোনা পৌঁছাতে পারেনি।

    পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম এবং একমাত্র করোনামুক্ত মহাদেশটির নাম অ্যান্টার্কটিকা। এখন এ মহাদেশকেই পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে আখ্যা দেয়া হচ্ছে।

    গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গত কয়েক মাসে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস।

    পৃথিবীর সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকায় শুরুতে অবশ্য করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি দেখা গিয়েছিল। মেরু অঞ্চলের শেষ গ্রীষ্মে পর্যটকদের নিয়ে আসা একটি ক্রুজশিপে ওই সময় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তবে তা অ্যান্টার্কটিকার উপকূলে পৌঁছাতে পারেনি।

    এখন মেরু অঞ্চলের ছয় মাসব্যাপী দীর্ঘ শীত নামছে, ফলে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকবে এ সময়টা। সংক্রমণের ঝুঁকিও তাই নেই বললেই চলে। এখানে স্থানীয় কোনো বাসিন্দা নেই। আছে পেঙ্গুইন, তিমি, সিল আর আলবাট্রোস নামক পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ ডানার পাখির দল।

    তাদের সঙ্গেই বসবাস করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাঁচ হাজার বিজ্ঞানী ও গবেষক।

    অ্যান্টার্কটিকার সর্ব উত্তরে মার্কিন গবেষণা কেন্দ্র পালমার স্টেশন। সেখানকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা কেরি নেলসন বলেন, এখানে অবস্থান করে নিরাপদ থাকায় সবাই নিজ ভাগ্যের প্রতি কৃতজ্ঞ।

  • ভারত-পাকিস্তান যৌথভাবে বানাবে করোনার ওষুধ রেমডেসিভির

    ভারত-পাকিস্তান যৌথভাবে বানাবে করোনার ওষুধ রেমডেসিভির

    করোনা মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত একমাত্র আশার আলো দেখানো মার্কিন ওষুধ রেমডেসিভির তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ভারত-পাকিস্তান। দেশ দুটিকে এরই মধ্যে রেমডেসিভির তৈরিতে অনুমতি দিয়েছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট গিলেড সায়েন্স। এই ওষুধ তৈরিতে বিশ্বের ১২৭টি দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে গিলেড সায়েন্সেস। যার মধ্যে রয়েছে ভারতের তিন সংস্থা সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেস।

    মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট জানিয়েছে, বিশ্বের ১২৭টি দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ভারতের তিন সংস্থা ছাড়াও রয়েছে পাকিস্তানের ওষুধ নির্মাতা সংস্থা ফিরোজসন্স ল্যাবোরেটরিস ও পেনসিলভানিয়ার ফার্মা কোম্পানি মাইল্যান। আরো পাঁচটি সংস্থাকে নিজেদের চাহিদা ও সুবিধা মতো ওষুধের দাম নির্ধারণ করার অনুমতি দিয়েছে মার্কিন কম্পানিটি। তবে এই পাঁচটি সংস্থার প্রস্তুত করা ওষুধ বিশ্বের ১২৭টি দেশে পৌছে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভারতে এরই মধ্যে রেমডেসিভির ওষুধের উপকরণ বানানো শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (আইসিআইআর)-এর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি ল্যাবে রেমডেসিভির ওষুধ তৈরির মূল উপকরণগুলো বানানো শুরু হয়েছে। এবার গিলেড সায়েন্সের সঙ্গে জরুরিকালীন চুক্তির ভিত্তিতে ভারতের তিন ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেস-এ বাণিজ্যিক ভাবে রেমডেসিভির ওষুধ তৈরি শুরু হবে।

    ২০১০ সালেই রেমডেসিভির ওষুধ তৈরি করে গিলেড সায়েন্সে। ২০১৪ সালে আফ্রিকাতে হয়েছিল ইবোলা মহামারি। অনেকে দাবি করেছিলেন ইবোলার সংক্রমণ রুখতে কাজে এসেছিল এই ড্রাগ, আবার অনেক গবেষকের দাবি ছিল ইবোলার সংক্রমণ সেভাবে আটকাতে পারেনি রেমডেসিভির। কিন্তু রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ। আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে এই অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ। গবেষকরা বলছেন, ভাইরাস যতবেশি প্রতিলিপি বানিয়ে তার সংখ্যা বাড়াবে, ততটাই বেশিবার যে তার জিনের গঠনের বদল ঘটাবে। তাই প্রতিলিপি গঠন করা আটকাতে হবে।

    স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রেমডেসিভির নিয়ে গবেষণা চলছে। এই প্রজেক্টের অন্যতম গবেষক ভারতীয় বংশোদ্ভূত অরুণা সুব্রহ্মণ্যম। তিনি জানান এখনো স্ট্যানফোর্ড আক্রান্তদের ওপর রেমডেসিভিরের ট্রায়াল পরীক্ষা করা হচ্ছে। ট্রায়ালের পর আক্রান্তরা সেরে উঠলে তবেই বাকিদের উপরে এর পরীক্ষা করা শুরু হবে।

  • করোনা চিকিৎসায় স্বস্তির খবর দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    করোনা চিকিৎসায় স্বস্তির খবর দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কয়েকটা চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা এবং অসুস্থতার সময়কাল-দুটোই কমানো যাচ্ছে। তবে, এ বিষয়ে আরও প্রয়োজন রয়েছে গবেষণার।

    মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেন, খুব প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এখন আমাদের কাছে এমন কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি আছে, যা এই রোগের ভয়াবহতা এবং অসুস্থতার সময়কাল কমাতে পারে। তবে এখনও আমাদের হাতে এমন কোনো ওষুধ নেই যা এই ভাইরাসকে নিঃশেষ করে দিতে পারে বা আটকে দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছি এবং অনেক চিকিৎসা পদ্ধতিই সাড়া দিচ্ছে। তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনই এটা বলার মতো অবস্থায় নেই যে, এটাই করোনার চিকিৎসার শ্রেষ্ঠ উপায়। আমরা বেশ কিছু জায়গা থেকে ভালো খবর পাচ্ছি। তবে, আরও কিছুটা সময় দিতে হবে এটা বলতে যে, এই চিকিৎসা পদ্ধতিই করোনার জন্য সবচেয়ে ভালো।

  • করোনা এখনই আমাদের ছেড়ে যাচ্ছে না: মমতা

    করোনা এখনই আমাদের ছেড়ে যাচ্ছে না: মমতা

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘করোনা এখনই যাবে বলে মনে হচ্ছে না। সেটা ভেবেই আমাদের করোনার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। এই লক্ষ্যে আমাদের আগামী তিন মাসের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।’

    গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্স বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    মমতা বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে মাঝারি বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হবে করোনাকে বিদায় করে দেওয়া। কিন্তু করোনা যেভাবে আমাদের আঁকড়ে ধরে আছে, সেখানে আমাদের করোনার বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে হবে।’

    Lifebuoy Soap

    করোনার ছোবল এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি, বরং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। তাই পশ্চিমবঙ্গে এখনই লকডাউন প্রত্যাহার করা হচ্ছে না বলে আভাস দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বাড়ছে লকডাউনের মেয়াদ। যদিও তৃতীয় পর্যায়ের এই লকডাউন ১৭ মে শেষ হওয়ার কথা ।

    মমতা বলেন, ‘আজ দুমাস ধরে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। জীবন–জীবিকা অস্বাভাবিক। এটা স্বাভাবিক করতে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের অনন্তকাল বসে থাকলে চলবে না। করোনা এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে। মানুষকে বাঁচাতে হবে। তাই আগামী ৩ মাসের জন্য আমাদের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। তারপর মিডটার্ম এবং লং টার্ম পরিকল্পনা নিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। কারণ আমাদের গত দুমাস ধরে কোনো রোজগার নেই। ব্যবসা–বাণিজ্য বন্ধ। কেন্দ্রের কাছে টাকা চেয়েও পাইনি। এখনো পাওনা ৫২ হাজার কোটি রুপি।’

    মমতা জানান, সরকারি বাস ও ট্যাক্সি চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট কিছু রুটে চলবে বাস। ২০ জন যাত্রী উঠতে পারবে বাসে। বসতে হবে সামাজিক দূরত্ব রেখে। তবে ভাড়া হবে আগের মতোই। বাড়ানো হবে না। বেসরকারি বাসও একইভাবে চালানো যাবে। তবে তার ভাড়া নির্ধারণ করবে বেসরকাসি বাস মালিক সংগঠন। তবে এসব বাস এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারবে না।

    পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান , সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৯৮ জন। সংক্রমিত ১১০ জন। মোট সংক্রমিত ২ হাজার ১৭৩ জন।

  • বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৫ হাজার ৩০০

    বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৫ হাজার ৩০০

    তিনদিনের ব্যবধানে করোনাভাইরাসে মৃত্যু বাড়লো আবারও। ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার ৩শ’ প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ভাইরাসটি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো দু’লাখ সাড়ে ৯২ হাজারে। মোট আক্রান্ত সাড়ে ৪৩ লাখের কাছাকাছি। নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৮৫ হাজার।

    কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মারা গেছে প্রায় ১৬শ’ মানুষ। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮৩ হাজার। মোট আক্রান্ত ১৪ লাখের বেশি। দিনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি হয়েছে, মহামারির নতুন কেন্দ্রস্থল ব্রাজিলে। এদিন রেকর্ড ৮৮১ মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে; প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ হাজারে। আক্রান্ত পৌনে দু’লাখের বেশি মানুষ। যুক্তরাজ্যে নতুন করে প্রাণ গেছে ৬২৭ জনের। মোট মৃত্যু হয়েছে ৩০ হাজার ৬শ’। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সোয়া দু’লাখ। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে কমছে প্রাণহানি। এ পর্যন্ত এক লাখ ৫৬ হাজার মৃত্যু হয়েছে এই একটি অঞ্চলেই।

  • ঈদের ছুটিতে সৌদি আরবে ২৪ ঘণ্টা কারফিউ

    ঈদের ছুটিতে সৌদি আরবে ২৪ ঘণ্টা কারফিউ

    সৌদি আরবে ঈদ-উল-ফিতরের ৫ দিনের ছুটির সময় (২৩-২৭ মে) ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হবে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
    বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ছুটির আগে পর্যন্ত মক্কা ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িকপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। মক্কা পুরোপুরি কারফিউয়ের আওতায় রয়েছে।

    এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাজান প্রদেশের বেইশ গভর্নরেটে ২৪ ঘণ্টার লকডাউন আরোপ করেছিল। অধিবাসীদেরকে কেবল জরুরি সামগ্রী কেনা ও চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।

    এর আগে সৌদি আরবের বেশিরভাগ অঞ্চল ও শহরে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছিল। তবে রমজানের শুরুতে তা শিথিল করা হয়। তবে করোনাভাইরাসের বেশি প্রাদুর্ভাব থাকা এলাকাগুলোতে লকডাউন শিথিল করা হয়নি।

    সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার ৯২৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৬৪ জনের। ছয় সদস্যের গাল্ফ কোঅপারেশ কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৮২ জনের।

    তবে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, নতুন ২,৫২০ জন সুস্থ হয়েছেন। উপসাগরীয় এলাকায় এখানেই সুস্থ হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ আল আবদ আল-আলি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সামাজিক সমাবেশের ফলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

  • যাত্রীর গায়ে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা থাকলে ফ্লাইট বাতিল

    যাত্রীর গায়ে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা থাকলে ফ্লাইট বাতিল

    করোনার কারণে আকাশপথে উড়োজাহাজের ফ্লাইট চলাচল অনেক দিন ধরে বন্ধ। তবে করোনাকে প্রতিরোধ করে ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে বিভিন্ন দেশ। ফ্লাইট চালু হলেও কঠোর বিধিবিধান মানতে হবে যাত্রী, বিমান সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে। তবে ফ্লাইটে ওঠার আগে কোনো যাত্রীর গায়ের তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা এর বেশি থাকলে তাঁর যাত্রা বাতিল।

    গত রোববার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সার্কুলারে এ কথা জানানো হয়েছে। সার্কুলারে ভবিষ্যতে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করে নিরাপদে বিমান চলাচল করতে যাত্রী, বিমানবন্দর, বিমান সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের ৩৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিমান ভাড়া বাড়তে পারে। আবার ভাড়া বাড়লে যাত্রীও হারাতে হতে পারে।

    ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাসসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়িয়ে ভবিষ্যতে বিমান চলাচলের জন্য এই গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। এ কথা জানিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিমানযাত্রীদের এই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একইভাবে বিমান সংস্থা, বিমানবন্দরসহ সবাইকে এটি মানতে হবে।
    বিমানবন্দরে টার্মিনালে একাধিক ফ্লাইটের যাত্রীরা একসঙ্গে থাকতে পরবেন না। প্রতিটি ফ্লাইটে ওঠার আগে যাত্রীদের বোর্ডিং পাস নেওয়ার পর নির্ধারিত এলাকার মধ্যে থাকতে হবে। সবাইকে মাস্ক ও গ্লাভস পরতে হবে। বিমানবন্দরে আসার আগে এগুলো পরে আসতে হবে। টার্মিনালে ঢোকার পর যাত্রীরা যে বিমানে করে যাবেন, তাঁরাই নতুন গ্লাভস, মাস্ক দেবেন। নতুন মাস্ক ও গ্লাভস পরে ফ্লাইটে ওঠার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হবে।

    বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক যাত্রীকে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে। এই ফরমে যাত্রীর নাম, বয়স, লিঙ্গ, জন্মতারিখ, বর্তমান ঠিকানা, এয়ারলাইনসের নাম, ফ্লাইট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, শরীরের তাপমাত্রা, মোবাইল ও ই-মেইল নম্বর পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ফরমে তিনটি প্রশ্নে ‘‌হ্যাঁ’ অথবা ‌না টিক দিয়ে উত্তর দিতে হবে। এক নম্বর প্রশ্নে থাকতে, ‌’আপনার (যাত্রী) কি জ্বর বা কফ হচ্ছে?’ দ্বিতীয় প্রশ্নে থাকবে, আপনার কি জ্বর এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? এবং তৃতীয় প্রশ্নে থাকবে, গত ১৪ দিনে কোভিড-১৯ বা এই রোগের কোনো উপসর্গ থাকার কারণে আপনাকে কোনো বিমানবন্দরে বোর্ডিং থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে কি না।

    এ তিনটি প্রশ্নের যেকোনো একটির উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে যেকোনো যাত্রীকে আর ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী ওই যাত্রীকে পরবর্তী চিকিৎসা নিতে হবে। তবে এ তিনটি প্রশ্নের উত্তর ‘না’ হলেও যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা মাপা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে তাকে আর ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হবে না।
    বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, চেক-ইনের সময় কাউন্টার ও আশপাশের সহযোগীদের সার্বক্ষণিক মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, ডিস্পোজেবল ক্যাপ পরতে হবে। প্রতিটি কাউন্টারের পাশে হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে যাত্রীকে চেক-ইনের লাইনে দাঁড়াতে হবে। প্রতি ফ্লাইটের আগে ডিসইনফেকট্যান্ট ছিটিয়ে ফ্লাইট জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এরপর যাত্রীকে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিতে হবে।
    বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেড় ঘণ্টার নিচে কোনো ফ্লাইটে পানি ছাড়া খাবার দেওয়া যাবে না। তবে ডায়াবেটিসের রোগীদের সীমিত আকারে পানি ও জুস দেওয়া হবে। এই নির্দেশনা কার্যকর হলে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে যাত্রীদের হালকা খাবার পরিবেশন বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে বড় উড়োজাহাজের ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং ছোট উড়োজাহাজের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ যাত্রী প্রতিটি ফ্লাইট থাকবে। এর বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না।
    সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা মানসম্মত মাস্ক, ক্যাপ প্রতিটি ফ্লাইটের ক্রুদের পরা বাধ্যতামূলক। কেবিন ক্রুদের এন-৯৫ মাস্ক, চশমা, রাবারের হ্যান্ড গ্লাভস ও ফেসিয়াল মাস্ক পরতে হবে। হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক প্রতি চার ঘণ্টায় বদলাতে হবে। তাদের ককপিটে প্রবেশ যত সম্ভব কমিয়ে ইন্টারকমে যোগাযোগ করতে হবে। ফ্লাইটে দুজন কেবিন ক্রু একসঙ্গে খাবার পরিবেশন করতে পারবেন না। কেবিন ক্রুরা যাত্রাবিরতিতে কোনো হোটেলে অবস্থান করলে সেখানকার রুমেই খাবার খেতে হবে। প্রয়োজনে ওই হোটেলের ভেতরের রেস্টুরেন্টে খাবার খাবেন। হোটেলের বাইরে যেতে পারবেন না। ফ্লাইটের দুই সারিতে আসন খালি রাখতে হবে। ফ্লাইটে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রোগী পাওয়া গেলে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ওই সব আসনে কেবিন ক্ররা বসাবেন। সবশেষে ক্রু ও পাইলটদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে।
    বেবিচকের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি বিমানবন্দরে ও প্রতিটি উড়োজাহাজ ছাড়ার আগে স্যানিটাইজার ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করে রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সার্টিফিকেট অব ডিসইনফেকশন’ ফ্লাইট ছাড়ার আগে নিতে হবে। বেবিচকের প্রতিনিধিরা এই প্রক্রিয়াটি দেখে সার্টিফাই করলেই ফ্লাইটটি ছাড়বে। তাছাড়া রানওয়েতে উড়োজাহাজগুলো নির্দিষ্ট দুরত্ব মেনে অবস্থান করবে।

    বেবিচকের এই নির্দেশনা মেনে চলতে হলে বিমান ভাড়া বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য লোকবল প্রয়োজন হবে। বিমানবন্দরে বাড়তি সময়ও প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু যাত্রীসংখ্যা কমিয়ে ফ্লাইট চালাতে হবে। এতে খরচ বাড়বে, কিন্তু আয় কমবে। ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম  বলেন, প্রতিটি ফ্লাইটে যাত্রী কম থাকবে, কিন্তু জীবাণুমুক্তসহ অন্যান্য কার্যক্রমের পেছনে ব্যয় বাড়বে। তাই বিমানভাড়া বাড়তে পারে।

    তবে ভাড়া বাড়ানো হলেও সমাধান সহজে মিলবে না বলে মনে করেন অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম। তিনি  বলেন, শ্রমিকেরা বিদেশ থেকে ফিরে আসছেন। অথচ আমাদের বিমানযাত্রীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ হচ্ছেন শ্রমিক। করোনার কারণে অনেক শ্রমিকও ছুটিতে আপাতত দেশে ফিরবেন না। এ ছাড়া মানুষের মধ্যে বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়ে গেছে। ভিসা দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। এখন ফ্লাইট চালু হলেও ব্যবসায়ী বা অতিজরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিমানে চড়বেন না। তাই ভাড়া বাড়ালেই সমাধান মিলবে কি না, সেটি ভাবনার বিষয়।

  • বিমানের টিকিটে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণ করা যাবে

    বিমানের টিকিটে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণ করা যাবে

    কোভিড-১৯ রোগের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অব্যবহৃত টিকিটে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণ করা যাবে। তবে কেউ যদি ভ্রমণ না করতে চান, তাহলে টিকিট মূল্য ফেরত নিতে পারবেন।

    আজ বুধবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন এ কথা জানান।
    মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, যাত্রীরা ২০২১ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত কোনো প্রকার চার্জ ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবেন অথবা এ সময়ের মধ্যে মূল্য ফেরত নিতে পারবেন।

    করোনাভাইরাসের কারণে জানুয়ারি থেকে যাত্রী কমতে থাকে বিমানের। ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লাইট সংখ্যাও কমে যায়। এর পর মার্চ মাসে বিভিন্ন আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বিমান। ২৯ মার্চ লন্ডন ও ম্যানচেস্টারের ফ্লাইট পরিচালনার পর আর ডানা মেলেনি বিমান। গত এপ্রিল থেকে বেশ কিছু চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটি।