Category: আন্তর্জাতিক

  • করোনা পৃথিবীর সবার মধ্যে ছড়াবে!

    করোনা পৃথিবীর সবার মধ্যে ছড়াবে!

    করোনাভাইরাস দীর্ঘদিন এই পৃথিবীতে থাকতে পারে—এমনটিই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, কোভিড-১৯ সারা বিশ্বের আনাচকানাচে ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

    ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু মহামারিতে বিশ্বের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ আক্রান্ত হয়েছিল। সেই সময় প্রথম ধাপে নিউইয়র্ক নগর এবং শিকাগোতে ফ্লুর আক্রমণে অসুস্থতা এবং মৃত্যুর পরিমাণ বেশি ছিল। কিন্তু বোস্টন, ডেট্রয়েট, মিনিয়াপোলিস এবং ফিলাডেলফিয়ার মতো অন্যান্য শহরে প্রথম ধাপে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে সে স্প্যানিশ ফ্লুর আক্রমণ দেশব্যাপী মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

    করোনাভাইরাসের স্বভাব ঠিক ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লুর মতো মনে হচ্ছে বলে বিশেজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

    মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ গবেষণা ও নীতি কেন্দ্রের পরিচালক মাইকেল অস্টারহোম ইউএসএ টুডেকে বলেন, ‘নিউইয়র্ক নগরের মতো শহর যেখানে পাঁচজনের মধ্যে একজন আক্রান্ত হয়েছে, সেখানে প্রাথমিক প্রাদুর্ভাবে অসুস্থতা ও মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এর চেয়েও কঠিন সময় আসছে।’

    অস্টারহোম বলেন, ‘এই ভয়ংকর ভাইরাসটি যতক্ষণ না সম্ভব সবাইকে সংক্রমিত করবে, ততক্ষণ এটি পৃথিবীতে টিকে থাকবে। পৃথিবীর মোট জনগোষ্ঠীর ৬০ থেকে ৭০ ভাগকে সংক্রমিত না করা পর্যন্ত এই ভাইরাস কিছুতেই ক্ষান্ত হবে না।’

    এদিকে মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘আগামী শীত মৌসুমে আমাদের ওপর ভাইরাসটির আক্রমণ আরও বেশি কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমি অন্যদের কাছে এ বিষয়টি বলেছি, তারা এটি একপ্রকার না বোঝার ভান করছে। তারা আমার কথার অর্থ কি বোঝে না?’

    অস্টারহোম কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে বলেন, এই ভ্যাকসিন শুধু ভাইরাসকে সংক্রমণ বা বিকাশ ধীর করতে সহায়তা করবে। এমনকি যদি কোনো ভ্যাকসিন কাজ করে, তবে কোভিড-১৯-এর বিকাশের জন্য দায়ী সার্স কোভিড-২ থেকে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো অজানা।

  • করোনা চিকিৎসায় নতুন ওষুধ স্কাবোসিক্স’

    করোনা চিকিৎসায় নতুন ওষুধ স্কাবোসিক্স’

    যুক্তরাষ্ট্রে করোনা চিকিৎসায় স্কাবোসিক্স নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করে সাফল্য এসেছে। ডেল্টা ফার্মাসিটিক্যালসের এই ওষুধ ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের দেয়া হচ্ছে।

    চিকিৎসকদের দাবি, এই ওষুধে এখন পর্যন্ত কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এমনকি ৯৫ শতাংশ রোগীই এই ওষুধে সেরে উঠছেন। তবে, এই ওষুধ আক্রান্ত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যই দিতে হবে।

  • এই সপ্তাহেই বাজারে আসছে করোনা চিকিৎসার ওষুধ রেমডেসিভির

    এই সপ্তাহেই বাজারে আসছে করোনা চিকিৎসার ওষুধ রেমডেসিভির

    স্টাফ রিপোর্টার // সাইফুল ইসলাম :

    জরুরি প্রয়োজনে করোনাভাইরাস চিকিৎসার জন্য অনুমোদন পাওয়া অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ‌’রেমডেসিভির’ চলতি সপ্তাহ থেকেই বাজারে পাওয়া যাবে। ওষুধটির প্রস্তুতকারক কোম্পানি গিলিয়েড সায়েন্সেস’র বরাতে এমন খবর দিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।

     

    গিলিয়েড সায়েন্সেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেন ও’ডে এক ঘোষণায়, এই সপ্তাহেই করোনা সংক্রমিত রোগীদের কাছে ওষুধটি পৌঁছে দিতে চান বলে জানিয়েছেন।

     

    এর আগে, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন করোনা চিকিৎসায় জরুরি প্রয়োজনে রেমডেসিভির বহারের জন্য অনুমতি দেয়।

     

    ডেন ও’ডে বলেন, কোম্পানি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ১৫ লাখ ভায়াল (শিশি বোতল) রেমডেসিভির উৎপাদন করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তা মার্কিন সরকারকে সরবরাহ করা হবে।

     

    ওষুধের দাম নির্ধারণ করা মার্কিন সংস্থা দ্য ইন্সিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল ইকোনোমিক রিভিউ, রেমডেসিভিরের ১০ দিনের কোর্সের দাম ১০ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ওপর ভিত্তি করে এর দাম সাড়ে চার হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

     

    এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল পরীক্ষায় দেখা গেছে রেমডেসিভির কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ১০৬৩ জন রোগীর উপর একটি পরীক্ষা চালানো হয়। যাদের রেমডেসিভির অথবা বিকল্প ওষুধ দেয়া হয়েছিল। যারা বিকল্প ওষুধ পেয়েছিলেন তাদের সুস্থ হতে যেখানে ১৫ দিন লেগেছিলো, সেখানে ১১ দিনেই সুস্থ হয়ে উঠেন রেমডেসিভির গ্রহণ করা রোগীরা।

     

     

  • তিন কঙ্কালে ৫০০ বছর আগের মহামারির চিহ্ন

    তিন কঙ্কালে ৫০০ বছর আগের মহামারির চিহ্ন

    মেক্সিকো সিটিতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময়ে হারিয়ে যাওয়া এক কবরখানার খোঁজ পান গবেষকেরা। সেখানকার তিনটি কঙ্কাল বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানাচ্ছেন, কঙ্কালগুলো হয়তো কোনো মহামারিতে মারা পড়া মানুষের। আরও ভালো করে বললে, মহামারি ও দাসব্যবসার শিকার হওয়া তিন আফ্রিকানের। এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি গবেষণা পত্রিকা সায়েন্সম্যাগে প্রকাশিত হয়েছে।

     

    কবরখানার দেখা মিলেছিল সেই ১৯৮০–এর দশকে। মূলত মেক্সিকো সিটিতে নতুন সাবওয়ে লাইনের খনন চলার সময় কিছু কঙ্কালের দেখা মেলে। তখন বিষয়টি প্রত্নতাত্ত্বিকদের আওতায় চলে যায়। আর তখনই আরও বড় পরিসরে খনন শুরু হয়। ধীরে ধীরে জানা যায় যে, এই কবরখানার স্থানটিতে তারও আগে ছিল এক হাসপাতাল, যা স্থানীয় আদিবাসীদের জন্য আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল।

    সে যা–ই হোক সেখানকার মাটির তলা থেকে বের করে আনা কঙ্কালগুলোর মধ্যে তিনটি কঙ্কাল গবেষকেরা আলাদাভাবে পরীক্ষা করেন। ওই তিন কঙ্কালের দাঁতগুলো ছিল পর্তুগাল থেকে দাস হিসেবে আনা আফ্রিকান ও পশ্চিম আফ্রিকানদের মতো। এখন রাসায়নিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই আফ্রিকান মানুষেরা ছিলেন আমেরিকায় পা ফেলা প্রথম প্রজন্মের আফ্রিকান। তাঁরাই সম্ভবত ছিলেন আন্তঃমহাদেশীয় দাস ব্যবসার প্রথম দিককার ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে তাঁরা সম্ভবত কোনো মহামারিতেই মারা পড়েছিলেন।

    ১ মে গবেষণা পত্রিকা সায়েন্সম্যাগের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে দাস ও মুক্ত উভয় হিসেবেই মেক্সিকোতে ছিল লাখো আফ্রিকানের বাস। আজকের মেক্সিকানদের মধ্যে সেই ইতিহাসের স্বাক্ষর রয়ে গেছে। প্রতিটি মেক্সিকানের শরীরেই আফ্রিকান বংশানুক্রমিক কিছু চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে।

    সায়েন্স অব হিউম্যান হিস্টোরি সম্পর্কিত ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউটের আর্কিওজেনেটিকসের শিক্ষার্থী রদ্রিগো বারকুয়েরা সায়েন্সম্যাগকে বলেন, ‘বাকি নিদর্শনগুলো বিশ্লেষণ করলে এমন আরও অনেক তথ্য মিলতে পারে, যার কথা ইতিহাসে নেই হয়তো।’

    ওই তিন কঙ্কালের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এগুলোর দাঁত থেকে ডিএনএ পৃথক করে তার আইসোটোপ পরীক্ষা করেন গবেষকেরা। এতে দেখা যায়, তিনটিই পুরুষ কঙ্কাল এবং তাদের উৎস পশ্চিম আফ্রিকা। এমনকি তিন কঙ্কালের দাঁতের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে যে খাদ্যাভ্যাস ও জলোহাওয়ার পরিচয় পাওয়া গেছে, তাও পশ্চিম আফ্রিকার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে।

    এ সম্পর্কিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি ‘কারেন্ট বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি নিয়ে অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক অ্যান স্টোন বলেন, ‘বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে যখন একই ফল পাওয়া যায়, তখন তা সত্যিই খুব খুশির ব্যাপার।’

    তিনটি কঙ্কালই বর্তমানে মেক্সিকো সিটির ন্যাশনাল স্কুল অব অ্যানথ্রপোলজি অ্যান্ড হিস্টোরির সংরক্ষণাগারে রয়েছে। প্রতিটি কঙ্কালেই সহিংসতা ও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। যে তিন ব্যক্তির কঙ্কাল এগুলো, তারা তাঁদের মধ্য ২০ থেকে মধ্য ৩০–এর মধ্য মারা গেছে। এর মধ্যে একটি কঙ্কাল জানাচ্ছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একাধিক গুলি খেয়েও বেঁচে গিয়েছিল। প্রতিটি কঙ্কালেই ক্ষুধা ও রক্তশূন্যতার লক্ষণ সুস্পষ্ট। একই সঙ্গে রয়েছে কঠোর শারীরিক শ্রম ও নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবার চিহ্ন। আর এই চিহ্নগুলোই বলছে যে, ওই ব্যক্তিরা মুক্ত মানুষ ছিলেন না।

    তিন কঙ্কালের মধ্যে দুটিতে থাকা চিহ্ন বলছে, তারা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত ছিল। এর মধ্যে একজনের শরীরে ছিল হেপাটাইটিটস বি এবং অন্যজনের শরীরে অন্য একটি ব্যাকটেরিয়া, যা সিফিলিস পরিবারভুক্ত। আর এ দুটি অণুজীবই আফ্রিকান ঘরানার। গবেষকেরা বলছেন, হতে পারে আফ্রিকাতে থাকার সময়ই বা দাস হিসেবে জাহাজে করে আনার সময় অন্যদের থেকে তারা সংক্রমিত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা কীভাবে মারা গিয়েছিল, সে সম্পর্কে গবেষকেরা নিশ্চিত নন।

    ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু কঙ্কালগুলো এমন একটি জায়গা থেকে পাওয়া গেছে, যেখানে আগে হাসপাতাল ছিল। ওই হাসপাতাল আবার ছিল আদিবাসীদের জন্য পৃথক করা। আর ওই তিন কঙ্কাল আবার পাওয়া গেছে গণকবর থেকে। তাই গবেষকেরা ধারণা করছেন, তারা কোনো মহামারিতে হয়তো মারা গিয়েছিল। হতে পারে সেই মহামারিহাম বা গুটিবসন্তের কারণে সৃষ্ট। তবে ঠিক কারণটি খুঁজে পাওয়ার মতো কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর অস্তিত্ব গবেষকেরা এখনো পাননি।

  • বিল গেটসের অর্থায়নে তৈরি ভ্যাকসিন আসতে পারে ১২ মাসেই

    বিল গেটসের অর্থায়নে তৈরি ভ্যাকসিন আসতে পারে ১২ মাসেই

    নতুন করোনাভাইরাস মোকাবিলা, কোভিড–১৯ চিকিৎসায় এবং এর একটি কার্যকর ও নিরাপদ ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণায় অর্থায়ন করছেন বিল গেটস। মাইক্রোসফটের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা ও তাঁর স্ত্রীর দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এরই মধ্যে এ–সম্পর্কিত গবেষণায় সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে। সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির সাতটি প্রকল্প চলছে তাঁর অর্থায়নে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এক বছরের মধ্যেই একটি সুসংবাদ বিশ্ববাসী পেতে পারে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন তিনি।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে প্রচারিত ফরিদ জাকারিয়ার জিপিএসে দেওয়া বক্তব্যে বিল গেটস বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা এক বছরের মধ্যে ছোট পরিসরে উৎপাদনে যেতে পারব। অবশ্য এই সময়সীমা আবার বেড়ে দুই বছরও হয়ে যেতে পারে।’

    সারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির চেষ্টা করছেন। মুশকিল হচ্ছে, এটা মহামারিকাল। আর টিকা তৈরিতে লম্বা সময় লাগে। মানুষকে রক্ষায় তৈরি করা টিকাই যেন আবার তার মৃত্যুর কারণ না হয়, তা নিশ্চিতের জন্যই অনেকগুলো পর্যায়ে সম্ভাব্য টিকার পরীক্ষা করে আসতে হয়। বর্তমানে বেশ কয়েকটি টিকা এমন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সব কটি ধাপ পেরিয়ে যে টিকা একই সঙ্গে কার্যকর ও নিরাপদ বলে প্রমাণিত হবে, তা–ই শেষ পর্যন্ত মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে। এ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার কোনো সুযোগ নেই। এতে উল্টো বিপত্তি হতে পারে।

    Lifebuoy Soap
    এই নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে বিল গেটস আবারও মনে করিয়ে দেন, ১৮ মাসের আগে একটি কার্যকর ও নিরাপদ টিকা পাওয়া কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ড. ফাউসির মতো আমিও এ ব্যাপারে আগের অবস্থানেই রয়েছি যে ১৮ মাস আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

    সিএনএনের ওই অনুষ্ঠানে বিল গেটস অনেক বিষয়ে কথা বলেন। এগুলোর মধ্যে ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনীতি আবার চালুর বিষয়ে তোড়জোড়, করোনাভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষা নিয়ে করা ট্রাম্পের মন্তব্যসহ নানা বিষয়। বিল গেটস বলেন, ‘অর্থনীতি আবার চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি অংশগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। তারপর তা ধীরে ধীরে খুলে দিতে হবে। আগামী শীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে চলবে, তা নির্ধারণ করতে পারলে ভালো হয়। এমনকি সৃজনশীল পন্থায় কলেজগুলোও খুলে দেওয়া যেতে পারে। আগস্টের মধ্যেই আমরা কী করতে হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাব। তবে এ ক্ষেত্রে বেশি তাড়াহুড়া করলে তা আমাদের উল্টো পিছিয়ে দিতে পারে।’

    শুধু এ ক্ষেত্রেই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়েই এখন পর্যন্ত দ্বিমত পোষণ করেছেন বিল গেটস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পুরোপুরি বিপরীত মত তাঁর। ট্রাম্প যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে কোভিড–১৯ মোকাবিলায় ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে এর তহবিলে অনুদান দেওয়া বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে বিল গেটস সংস্থাটির ভূমিকার বিষয়ে কিছুদিন আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুস্পষ্টভাবে দুর্দান্ত কাজ করছে। এই সময়ে তাদের বিভিন্ন দিক থেকে বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত।’ শেষের বাক্যটি যে ট্রাম্পের উদ্দেশে, তা বুঝতে আর কষ্ট করতে হয় না।

  • ভারত-বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে পঙ্গপাল

    ভারত-বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে পঙ্গপাল

    করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই আরেকটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলোতে তাণ্ডব চালিয়ে এখন দক্ষিণ এশিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে পঙ্গপাল।

     

    সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের দ্য হিন্দু জানিয়েছে, দেশটির সরকার ‘দুটি সম্মুখ সমরের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটি হচ্ছে- করোনাভাইরাস এবং আরেকটি হচ্ছে পঙ্গপালের সম্ভাব্য হামলার কারণে তৈরি হওয়া খাদ্য সঙ্কট।

     

    ওই সূত্র জানিয়েছে, আমরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। হর্ন অব আফ্রিকা থেকে একদল পঙ্গপাল গতিপথে মরু অঞ্চলের আরেকদলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হানা দিচ্ছে। এদের একটি ঝাঁক ইয়েমেন, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ইরান, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান হয়ে ভারতে হানা দিচ্ছে। এগুলো ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমির কৃষিজমিতে আক্রমণ করছে। অন্য দলটি ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে সরাসরি ভারত উপদ্বীপের কৃষিজমিতে নেমে পড়তে পারে। এরপরই যাবে বাংলাদেশের দিকে। এর ফলে মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যু হতে পারে।

     

    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, এই পঙ্গপালের ধ্বংসাত্মক শক্তি রয়েছে। তারা বলছে, এক ঝাঁক পঙ্গপাল এক বর্গ কিলোমিটার থেকে কয়েকশ’ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকতে পারে। সংস্থাটি বলছে, এক বর্গ কিলোমিটারের একটি ঝাকেঁ প্রায় চার কোটি পঙ্গপাল থাকে, একজন ব্যক্তি যদি একদিনে ২.৩ কেজি খাবার খায়, সে হিসেবে ওই ঝাঁক দিনে ৩৫ হাজার মানুষের খাবার সাবাড় করে দিতে পারে।

     

    এফএও বলছে, পূর্ব আফ্রিকা, ইয়েমেন ও দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানে এই বসন্তে প্রজনন করেছে পঙ্গপাল, যা আফ্রো-এশিয়া অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাকে ব্যাপক হুমকির মুখে ফেলবে।

     

    ইরানের বন্দরনগরী জাস্ক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে পঙ্গপালের দুটি গতিবিধি ধরা পড়েছে। পাকিস্তানে বেলুচিস্তানে এবং ভারতীয় উপত্যকার পাঞ্জাবে পঙ্গপালের প্রজনন ক্ষেত্র পাওয়া গেছে। ভারতের সীমান্তেও সীমিতাকারে প্রজনন ঘটিয়েছে পঙ্গপাল।

     

    ভারতীয় ওই সূত্রটি জানিয়েছে, আমরা আশা করছি যে নিজেদের দেশে এই সঙ্কট মোকাবিলায় সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান, যা ভারত ও অন্যান্য দেশে পঙ্গপালের হানা সীমিত করবে।

  • পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন ভাঙার দায়ে গ্রেপ্তার ৩৪ হাজার

    পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন ভাঙার দায়ে গ্রেপ্তার ৩৪ হাজার

    আন্তর্জাতিকভারত

    পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন ভাঙার দায়ে গ্রেপ্তার ৩৪ হাজার

    প্রতিনিধি, কলকাতা

    ২৫ এপ্রিল ২০২০, ১০:৩৮

    আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২০, ১১:০৯

     

     

    পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন অমান্য করে এভাবে মানুষ চলাচল করছে। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

    পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন অমান্য করে এভাবে মানুষ চলাচল করছে। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

    ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরও ১ হাজার ৭৫২ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫১ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জন। শুক্রবার লকডাউন ভাঙার দায়ে কলকাতায় ২৫৪ জনকে গেপ্তার করা হয়। লকডাউন ভাঙার দায়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

     

    ভারতজুড়ে তৃতীয় পর্যায়ে চলমান লকডাউনের মেয়াদ ৩ মে থেকে বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানা যায়নি।

     

     

    শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনাভাইরাসে আরও আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৫২ জন। আর মারা গেছে ৩৭ জন। সব মিলিয়ে ভারতে করোনায় সংক্রিমত হলো ২৩ হাজার ৪৫২ জন। মৃতের সংখ্যা ৭২৩। এখনো সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যায় শীর্ষে মহারাষ্ট্র। এই রাজ্যে মারা গেছে ২৮৩ জন। দ্বিতীয় স্থানে গুজরাট, মৃতের সংখ্যা ১১২। তৃতীয় স্থানে মধ্যপ্রদেশ, মৃতের সংখ্যা ৮৩।

    পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার মধ্যে ৯টি জেলায় আক্রমণের কোনো খবর না মেলায় রাজ্যের চারটি হটস্পট জেলাসহ অন্যান্য জেলায় এখনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

     

    Lifebuoy Soap

    শুক্রবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে জানান, শেষ হওয়া গত ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে আরও ৫১ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে। খবর এসেছে কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে এই সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। এতে এই রাজ্যে সংক্রমিত মানুষের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮৮। এর মধ্যে অবশ্য ১০৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

     

    মুখ্যসচিব জানান, রাজ্যে মৃত মানুষের সংখ্যা আরও ৩ বেড়ে তা এখন ১৮। করোনাসহ অন্যান্য উপসর্গে মারা গেছে ৩৯ জন।

     

    মুখ্য সচিব জানান, পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৯৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই রাজ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮ হাজার ৯৩৩ জনের। তিনি আরও জানান, এখন সরকারি কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ৫ হাজার ১৯০ জন। হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ২৬ হাজার ৭২৪ জন।

     

    মুখ্য সচিবের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত এই রাজ্যে লকডাউন অমান্য করায় ৩৩ হাজার ৯৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাড়ি আটক করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৫৬টি। গতকাল লকডাউন ভাঙার দায়ে কলকাতায় ২৫৪ জনকে গেপ্তার করা হয়।

     

    ভারতজুড়ে চলমান তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউনের মেয়াদ শেষ হবে ৩ মে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতজুড়ে করোনা শুরু হওয়ায় এই ভাইরাস প্রতিরোধে গত ২৪ মার্চ প্রথমে ৩ সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেন। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউনের মেয়াদ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৩ মে পর্যন্ত করেন। এবার সেই লকডাউনের মেয়াদ ফের বেড়ে ১৬ মে পর্যন্ত হতে পারে। সর্বভারতীয় একটি টিভি চ্যানেল শুক্রবার রাতে মেয়াদ বাড়ানোর এই আভাস দিয়েছে।

     

    করোনা নিয়ে রাজ্য সরকারের ১০ দফা নির্দেশিকা করোনার মৃত্যু ও সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা নিয়ে প্রকৃত তথ্য লুকানো, করোনা চিকিৎসা যথার্থ না হওয়া, করোনার নমুনা পরীক্ষা যথাযথ না হওয়া এবং রিপোর্ট বিলম্বে আসা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। বিজেপি এবং আরও কয়েকটি দল এই আপত্তি তোলে। এই আপত্তির কথা জানতে পেরে কেন্দ্রীয় সরকার গত সোমবার এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দুটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠায় পশ্চিমবঙ্গে। এর একটি দল কলকাতায় আর অন্য দলটি যায় শিলিগুড়িতে। কলকাতায় এই দলের নেতৃত্ব দেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অপূর্ব চন্দ্র। যদিও এ দুটি প্রতিনিধিদলকে প্রথম পর্যায়ে এই রাজ্যে কাজ করার অনুমতি দেননি। পরে অবশ্য রাজ্য সরকার দুটি প্রতিনিধিদলকে রাজ্যের করোনায় আক্রান্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও কাজ করার অনুমতি দেয়।

     

    প্রতিনিধিদল বৃহস্পতি ও শুক্রবার কলকাতা, হাওড়া, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতাল, কোয়ারেন্টিন সেন্টার পরিদর্শন করে গতকাল বিকেলে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে তুলে ধরে করোনা চিকিৎসার নানা অব্যবস্থাপনার কথা। মুখ্যসচিবকে চিঠি দেন প্রতিনিধিদলের নেতা অপূর্ব চন্দ্র। প্রতিনিধিদল কলকাতার বাঙ্গুর হাসপাতাল, হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের কোয়ারেন্টিন সেন্টার, কলকাতার রাজারহাটের কোয়ারেন্টিন সেন্টার এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদল প্রশ্ন তোলে, বাঙ্গুর হাসপাতালে ৩৫৪টি করোনা চিকিৎসার বেড থাকলেও সেখানে রয়েছে ১২টি ভেন্টিলেটর। তাদের আরও অভিযোগ, এই রাজ্যে সঠিকভাবে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে না। পরীক্ষা হলেও ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে পরীক্ষার রিপোর্ট।

     

    এই চিঠি পাওয়ার পর মুখ্যসচিব পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালের সুপার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে ১০ দফার এক নির্দেশিকা জারি করেন।

     

    এই নির্দেশিকায় উল্লেখযোগ্য রয়েছে, ১২ ঘণ্টার মধ্যে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে হবে, কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সরকারি কোনো হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানো যাবে না, রেফার করা হলে রোগীকে অন্য হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে সব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে বাধ্যতামূলক পিপিই পরাতে হবে, স্বাস্থ্য ভবনের কর্মকর্তাদের নিয়মিত বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেখানে বসেন বা যেসব জায়গা ব্যবহার করেন, তা জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে, সেনিটাইজ করতে হবে ইত্যাদি।

  • বিশ্বের প্রায় ২ লাখ মানুষের প্রাণ কাড়ল করোনা

    বিশ্বের প্রায় ২ লাখ মানুষের প্রাণ কাড়ল করোনা

    চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ার ১১৬ দিনে প্রাণঘাতি করোনায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২ লাখ মানুষের। এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে ভাইরাসটি। যেখানে প্রতিনিয়ত চেহারা পরিবর্তন করছে, আঘাত হানছে নতুন কোন দেশ কিংবা অঞ্চলে।

     

    এতে করে প্রতিদিনিই দীর্ঘ হচ্ছে স্বজন হারাদের মিছিল। উৎপত্তিস্থল চীন রক্ষা পেলেও ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় ছেয়ে গেছে করোনাক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। যার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রথম সারির কয়েকটি দেশ।

     

    আজ শনিবার বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার আঘাতে আরও সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এতে করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯১ জনে পৌঁছেছে। আর গত একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ ভাইরাসটির কবলে পড়েছেন। বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ লাখ ২৮ হাজার ৬১৭ জন। আর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন প্রায় ৮ লাখ মানুষ।

     

    করোনার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৩ হাজার মানুষ মারা গেছে। সংক্রমণের শিকার হয়েছে ৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।

     

    তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংখ্যার দিক থেকে অন্য সব দেশকে ছাড়িয়ে গেলেও, যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুহার এখনো অনেক ইউরোপীয় দেশের তুলনায় কম। এতে এমন অনেক মৃতের সংখ্যা যুক্ত করা হয়েছে, যা এ ভাইরাসের কারণেই কিনা তা নিশ্চিত নয়। ভাইরাসে মৃত্যু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে- এমন ঘটনাগুলোকেও গণনায় নেয়ায় মৃতের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।

     

    সংক্রমণের তুলনায় সুস্থ হওয়ার হার অনেক কম। করোনা মহামারি বন্ধে ৪৮৪ বিলিয়ন ডলারের ত্রাণ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। এ নিয়ে করোনার মোকাবিলায় চতুর্থবারের মতো এমন বিল পাশ করলো দেশটি। খবর বিবিসি’র।

     

    করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিলে হাবুডুবু খাচ্ছে ইউরোপীয়রাও। স্পেনে সাড়ে ২২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে আক্রান্ত ২ লাখ প্রায় ২০ হাজার। স্প্যানিশদের থেকে আক্রান্তে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরই প্রতিবেশী ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সংক্রমিতের সংখ্যা ১ লাখ ৯৩ হাজারের কাছাকাছি।

     

    ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্সেও থেমে নেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল। ১ লাখ প্রায় ৬০ হাজার আক্রান্তের বিপরীতে মারা গেছেন প্রায় ২২ হাজার ২৪৫ জন মানুষ। যুক্তরাজ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ১৯ হাজার ৫০৬ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ সাড়ে ৪৩ হাজার জন।

     

    আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৪৭ জনে। ভারতের পরই চিরশত্রু পাকিস্তান। যেখানে প্রায় ১২ হাজার মানুষ আক্রান্তের বিপরীতে মারা গেছেন ২৫৩ জন।

     

    আর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৯ জন। মারা গেছেন ১৩১ জন।

  • মহিলা বিজ্ঞানীর শরীরেই প্রথম শুরু হল করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষা,গোটা বিশ্ব তাকিয়ে অক্সফোর্ডের দিকে

    মহিলা বিজ্ঞানীর শরীরেই প্রথম শুরু হল করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষা,গোটা বিশ্ব তাকিয়ে অক্সফোর্ডের দিকে

    রেজুয়ানুর রহমান সফেন:

    আপাতত আশা দেখাচ্ছে লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়৷ কারণ সেখানে শুরু হল মানবদেহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা৷ বিজ্ঞানীদের আশা সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফল মিলবে৷

     

    মহিলা বিজ্ঞানীর শরীরেই প্রথম শুরু হল করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষা,গোটা বিশ্ব তাকিয়ে অক্সফোর্ডের দিকে

     

    করনোর ভ্যাকসিন কবে আসবে? ভ্যাকসিনেই একমাত্র মুক্তি এই মারণ রোগ থেকে৷ এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে৷ কিন্তু বিজ্ঞানীরা কবে সেই লড়াইয়ের সরঞ্জাম তৈরি করতে পারবে, সেটাই এই লাখ টাকার প্রশ্ন৷ আপাতত আশা দেখাচ্ছে লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়৷ কারণ সেখানে শুরু হল মানবদেহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা৷ বিজ্ঞানীদের আশা সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফল মিলবে৷

     

    আপাতত দু’জনের শরীরে শুরু হয়েছে পরীক্ষা৷ ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছিল দু’জনকে৷ তবে প্রথম যার শরীরে ইঞ্জেকশন পুশ করা হয়েছে তিনি একজন মহিলা৷ নাম এলিসা গ্র্যানাতো৷ তিনি নিজেও একজন বিজ্ঞানী৷ নিজের ইচ্ছাতেই তিনি এগিয়ে এসেছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে৷ এলিসা জানিয়েছেন যে তিনি আশাবাদী এই ভ্যাকসিন খুব শীঘ্রই তৈরি করা হবে৷

     

    দু’রকম ভাবে চলবে পরীক্ষা৷ ভ্যাকসিন পরীক্ষার অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়েছে৷ একদলের ওপর চলবে করোনার পরীক্ষা, অন্য দলটি বেছে নেওয়া হয়েছে ম্যানিনজাইটিস ভ্যাকসিনের জন্য৷ যাদের শরীরের ওপর গবেষণা চালানো হবে, তাদের রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণে৷

  • তথ্য ও বার্তাবিভ্রাটে করোনা মহামারি

    তথ্য ও বার্তাবিভ্রাটে করোনা মহামারি

    অলংকরণ : আরাফাত
    অলংকরণ : আরাফাত
    মহামারির সময় রোগ, আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় জন্য মানুষকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া খুব জরুরি। মহামারি শুধু যে জনস্বাস্থ্য আর অর্থনৈতিক সংকট বয়ে আনে, তা নয়; বরং গুরুতর তথ্যবিভ্রাট এবং যোগাযোগ-সংকটও তৈরি করে। বাংলাদেশে করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি নানা সংস্থা প্রিন্ট এবং ভিজ্যুয়াল নানা মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছে। বিভিন্নভাবে তথ্য পরিবেশন করছে। কিন্তু সেসব তথ্যের পরিবেশনা সমাজের নানা স্তরে কার্যকরভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, সে বিষয়টি বোঝার জন্য আমরা একটি সংক্ষিপ্ত নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা করি। সঠিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কখনো কখনো তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের পরিবেশনা। করোনা বিষয়ে গণমাধ্যম এবং নানাবিধ উৎস থেকে যেসব তথ্য মানুষ অবগত হচ্ছে, সেগুলো তাদের কাছে কীভাবে অর্থময় হচ্ছে? কীভাবে বুঝছে তারা, এবং মানছে, অথবা মানছে না? তথ্য পরিবেশন যারা করছে, তারা কি এই বিপুল জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যগুলো মেনে তা করছে? এগুলোই ছিল আমাদের জিজ্ঞাস্য।

    নৃবিজ্ঞান গুণগত গবেষণা করে, সংখ্যা বা শতকরা হার নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই; বরং বিশেষভাবে নির্বাচিত অল্পসংখ্যক মানুষের নিবিড় সাক্ষাৎকার এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে এই শাস্ত্রে জ্ঞানের উৎপাদন হয়। বিদ্যমান লকডাউন পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের পক্ষে সরাসরি সাক্ষাৎকার কিংবা পর্যবেক্ষণে যাওয়া নিতান্ত অসম্ভব ছিল। ফলে অন্যান্য স্বীকৃত বিকল্প পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। এই গবেষণায় আমরা টেলিফোন সাক্ষাৎকার, মানুষের অনলাইন আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং ছায়া পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করেছি। গ্রাম, জেলা শহর, ঢাকার নিম্নবর্গ এবং মধ্যবিত্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার ৮২ জন স্ত্রী ও পুরুষের নিবিড় সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। গবেষণাটি পরিচালিত হয় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সহযোগিতায়।

    চলমান পরিস্থিতিতে আমরা দেখতে পাই ‍ ‘বাড়িতে থাকা’, ‘সামাজিক দূরত্ব’, ‘কোয়ারেন্টিন’, ‘লকডাউন’ শব্দগুলো নিয়ে মানুষের ব্যাপক বিভ্রান্তি আছে। ধরা যাক ইংরেজি ‘স্টে অ্যাট হোম’ কথাটির আদলে নানা মাধ্যমে সবাইকে বলা হচ্ছে ‘আপনারা বাড়িতে থাকুন’। কিন্তু আমরা গবেষণায় পাচ্ছি ‘বাড়িতে থাকা’ কথাটির অর্থ একেক স্তরের মানুষের কাছে একেক রকম। যেমন গ্রামে বাড়ির একক শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং কয়েক পরিবারের ঘর নিয়ে হয়ে থাকে একেকটি বাড়ি। ধরা যাক, কোনো গ্রামে সরকার বাড়ি মানে কেবল একটি বাড়ি নয়, কয়েকটি বাড়ির সমন্বয়। গ্রামের মানুষেরা অধিকাংশ জানিয়েছেন লকডাউন বলতে তাঁরা তাঁদের গতিবিধি মূলত পাড়াতে সীমাবদ্ধ রাখাকেই বুঝেছেন বা বুঝতে চেয়েছেন। কারণ, তাঁদের কাছে সীমানার একক পাড়া, তেমনি জেলা শহুরের কাছে সীমানার একক মহল্লা।

    আবার বস্তি বা শহরের নিম্নবর্গীয় অঞ্চলের ক্ষেত্রে ‘বাড়ির’ ধারণাটি আরও জটিল। কারণ, একক করিডর, যে করিডরে আট-দশটি পরিবারের ঘর থাকে, অভিন্ন রান্নাঘর এবং গোসলখানাসমেত। শুধু ঢাকার মধ্যবিত্ত অঞ্চলের মানুষ বাড়িতে থাকা বলতে তাদের ফ্ল্যাটগুলোতে থাকা বুঝিয়েছেন। সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি, ‘বাড়িতে থাকা’ কথাটিকে ভিন্ন ভিন্ন স্থানের ভিন্ন ভিন্ন আর্থসামাজিক স্তরের মানুষ ভিন্নভাবে বুঝছেন। ভিন্নভাবে বোঝা ভিন্ন ভিন্ন আচরণ তৈরি করবে, এটাই স্বাভাবিক।

    আবার দেখা যাচ্ছে, ‘সামাজিক দূরত্ব’ কথাটিরও কোনো কার্যকর অর্থ মানুষ করছে না। বস্তি এলাকার মানুষের কাছে ‘সামাজিক দূরত্ব’ প্রত্যয়টি রীতিমতো অবাস্তব। বস্তিবাসীরা জানিয়েছেন, যেখানে তাঁরা একটি ঘরে আট-দশজন মানুষ থাকেন, আট–দশটি পরিবার মিলে একটি রান্নাঘর ব্যবহার করেন, একটি টয়লেট ব্যবহার করেন, সেখানে কী করে ‘সামাজিক দূরত্ব’ রক্ষা করা সম্ভব, তাঁদের কাছে তা বোধগম্য নয়। গ্রাম বা জেলা শহরের অনেকে জানিয়েছেন, পরিচিত মানুষের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা রীতিমতো অসৌজন্যমূলক; ফলে সেটি তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই করতে চান না বা করেন না। ঢাকার মধ্যবিত্তরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাকে একটা ‘দম বন্ধ করা অভিজ্ঞতা’ হিসেবে দেখেছেন।

    ‘কোয়ারেন্টিন’ ব্যাপারটিও অধিকাংশ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়। সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি, মহামারি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক যে পরিভাষাগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো স্থানীয় প্রেক্ষাপটে অন্য রকম অর্থ তৈরি করছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ‘সামাজিক দূরত্ব’বিষয়ক নির্দেশনাকে অনেক মানুষ নেহাতই একটি সরকারি ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং এর সঙ্গে করোনা-আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি আছে কি না, সেটি তাঁরা বুঝতে বা মানতে পারছেন না। আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মানুষ নানা রকম ছলছুতা চালাকি করে এসব নির্দেশনা এড়িয়ে যাচ্ছেন। কারণ, বার্তাগুলো তাদের বাস্তবতায় পালনীয় মনে হচ্ছে না। ঝুঁকির মাত্রাটা তারা বুঝতে পারছে না।

    ‘হাত ধোয়া’র নিয়মকানুন নিয়েও অধিকাংশ মানুষের মধ্যে সংশয় ও দ্বিধা আছে। মহামারির কারণে বিশেষ সতর্কতা হিসেবে হাত ধোয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে মানুষ এবং আগের তুলনায় হাত ধোয়ার সময় সাবান ব্যবহারের পরিমাণও বাড়িয়েছে। গ্রামাঞ্চলে দেখা গেছে, টিউবওয়েলের সঙ্গে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সাবান ঝুলিয়ে রাখা আছে। কিন্তু হাত ধোয়ার বিশেষ পদ্ধতির ব্যাপারে কেউ ওয়াকিবহাল নয়। অনেকে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার নির্দেশনাকে ও সময়কালকে নানাভাবে ভুল ব্যাখ্যা করেছে। কেউ বলেছে, সরকার থেকে ২০ মিনিট হাত ধুতে বলা হয়েছে, কেউ বলেছে দিনে ২০ বার হাত ধুতে বলা হয়েছে।

    শত্রু আণুবীক্ষণিক। কিন্তু মানুষ দৃশ্যমান শত্রুদেরই মোকাবিলা করতে করতে ক্লান্ত। ফলে খালি চোখে দেখা যায় না এমন একটি জীবাণুকে বিভিন্ন মাধ্যমে যেভাবে গ্রাফিক্যালি পরিবেশন করা হয়েছে, তা–ও নানা রকম অর্থ তৈরি করছে। গ্রামের মানুষের ভেতর আণুবীক্ষণিক জীবাণুর ধারণা না থাকাটা আশ্চর্যের কিছু নয়। একটি ইউটিউব পোস্টে আমরা দেখতে পেয়েছি, করোনা কী জানতে চাইলে গ্রামের একজন বয়স্ক মানুষ বলছেন, তিনি টিভিতে দেখেছেন যে চাকতির মতো একটি জিনিস ঘুরতে ঘুরতে মানুষের দিকে ছুটে আসে এবং মানুষকে আঘাত করে হত্যা করে। টিভিতে প্রতিনিয়ত করোনাভাইরাসের মাইক্রোস্কোপিক ইমেজের যে বৃহদাকার গ্রাফিক দেখানো হয়, সেটিকে