Category: আন্তর্জাতিক

  • বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়লেন ৩০০ অস্ট্রেলিয়ান

    বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়লেন ৩০০ অস্ট্রেলিয়ান

    করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঢাকা ছেড়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩০০ নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের বিশেষ একটি ফ্লাইট।

    বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার ফ্লাইটটির যাত্রীদের বিদায় জানান।

    গত সপ্তাহে বিশেষ ফ্লাইটটিতে সিট পেতে নিবন্ধন করার জন্য হাইকমিশন আহ্বান জানালে ৩৩৯ জন আবেদন করেন।

    নাগরিকদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে পেরে বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বাংলাদেশ পুলিশ ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন।

    করোনার কারণে গোটা বিশ্বজুড়ে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিস্তাররোধের পদক্ষেপের কারণে বেশিরভাগ দেশের সঙ্গেই অন্য দেশের বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশেও কেবল চীন ছাড়া অন্য কোনো দেশের ফ্লাইট আসছে না এখন।

    বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অনেক রাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করে। এজন্য চার্টার্ড বা ভাড়া করা ফ্লাইটই আনতে হয়েছে কিছু দেশকে। সবশেষ এই সারিতে যোগ হলো অস্ট্রেলিয়া।

  • এখান থেকেই মরদেহ যাচ্ছে শেষ ঠিকানায়

    এখান থেকেই মরদেহ যাচ্ছে শেষ ঠিকানায়

    নিউইয়র্ক নগরীর কেন্দ্রীয় মর্গ। ছবি: প্রথম আলো
    নিউইয়র্ক নগরীর কেন্দ্রীয় মর্গ। ছবি: প্রথম আলো
    নিউইয়র্ক নগরীর ম্যানহাটনের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইস্ট রিভার নদী। আধুনিক নগর স্থাপনার গত ৪০০ বছরের আনন্দ–বেদনার সাক্ষী এই নদী। ইস্ট রিভারের পাশ ঘেঁষে ম্যানহাটনের ৩০ স্ট্রিট আর ফার্স্ট অ্যাভিনিউ। নগরীর বিখ্যাত এনওয়াই ইউ ল্যাং হাসপাতাল।

    তবে নগরীর নিত্যকোলাহলে অনেকটাই আড়ালে পড়ে থাকে আরেকটি স্থাপনা। হাসপাতালসংলগ্ন দুটি পুরোনো দালানের মাঝে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ থেকে নদীর পাশ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ভিন্ন স্থাপনা নগরীর কেন্দ্রীয় মর্গ।

    চলমান লকডাউনের নির্জন নগরীতে গত প্রায় এক মাস থেকে কেন্দ্রীয় মর্গে শুরু হয়েছে এক অন্য রকম কোলাহল। সবুজ রঙের বেষ্টনী দিয়ে কিছুটা আড়াল করা হয়েছে। এখানে হঠাৎ করেই বেড়ে যায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি। তিন সপ্তাহ ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন এনওয়াইপিডির একজন সদস্য। ভারী কণ্ঠে তিনি উচ্চারণ করলেন, বেষ্টনীর রংটা নীল হলেই বেশি ভালো হতো।

    নিউইয়র্ক নগরীর চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের অফিসও এখানে। তিন সপ্তাহ ধরে এখানে লাশবাহী অসংখ্য ফ্রিজিং ট্রাকের আসা-যাওয়া। উদ্বিগ্ন স্বজনের কোলাহল। আছে বিশ্বের প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও।

    এখানে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা যাওয়া সব মৃতদেহ এই কেন্দ্রীয় মর্গে নিয়ে আসা হয়েছে। তারপর এখান থেকেই সেসব মৃতদেহ গেছে অন্তিম ঠিকানায়। মৃত্যুর পর হাসপাতালের সাধারণ মর্গে না রেখে এ কেন্দ্রীয় মর্গে পাঠানো হয় মরদেহ। ফিউনারেলের আয়োজন করে স্বজনেরা। একটা নম্বর ধরে ফিউনারেলের বিশেষ গাড়ি ওখান থেকেই মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে শেষ ঠিকানার উদ্দেশে। যাদের কোনো স্বজন পাওয়া যায়নি, নির্দিষ্ট সময়ের পর ওই সব মৃতদেহ বেওয়ারিশ ঘোষণা করা হচ্ছে।

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্ক সিটিতেই মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজারের বেশি মানুষের।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় মর্গে কর্তব্যরত একজন কর্মী জানালেন, ভীতিকর ট্রাকগুলোর যাতায়াত কমেছে। বেষ্টনীর ভেতরে পার্ক করে রাখা ফ্রিজিং ট্রাকের সংখ্যাও কমেছে।

    এদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলেছেন, ‘রাজ্যের সবচেয়ে খারাপ সময়ের অবসান ঘটছে।’

  • আমেরিকায় করোনায় চিকিৎসকসহ আরও ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

    আমেরিকায় করোনায় চিকিৎসকসহ আরও ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আমেরিকায় ১৪ এপ্রিল একজন চিকিৎসকসহ আরও সাত বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় ১৩৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হলো। তাঁদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসক।

    ১৪ এপ্রিল মৃত্যু হওয়া বাংলাদেশিরা হলেন আমেরিকান চিকিৎসক ব্রুকলিন হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ শামীম আল মামুন, শরীফ আহমদ, এনাম উদ্দিন, বীণা মজুমদার, এম রহমান মুক্তা, রানা বেগম ও একজন নারী। তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর পরিচয় জানা যায়নি।

    লং আইল্যান্ডের নর্থ শোর হাসপাতালে চিকিৎসক শামীম আল মামুনের মৃত্যু হয়। তিনি সিলেট মেডিকেল কলেজের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়া নিউইয়র্কে ১৪ এপ্রিল এক দিনে ৩ হাজার ৭৭৮ জনের মৃত্যুর হিসাব যুক্ত হয়েছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুধু নগরীর পাঁচ বরোতেই ৭ হাজার ৯০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেছেন, প্রতিটি মৃত্যু বেদনার। হাসপাতালে ভর্তির হার কমে এলেও অসুস্থ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। নগরীর অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিকসহ বাংলাদেশি জনবসতি এলাকা করোনার আতঙ্কের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

    মেয়র ব্লাজিও আরও বলেন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কঠিনভাবে অনুসরণ করতে হবে। নগরী ১০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটে আগ্রাসী প্রচারণায় নেমেছে। বহু জাতিগোষ্ঠীর এ নগরীতে ১৫টি ভাষায় প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা ভাষায়ও একটি প্রচারপত্র ও বিস্তারিত সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রচার করা হচ্ছে।

    নিউইয়র্কে বাংলা ভাষায় নগরীর পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রচার করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীতনিউইয়র্কে বাংলা ভাষায় নগরীর পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রচার করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

    মেয়র জানিয়েছেন, আগামী মে মাসের আগেই নগরীতে সপ্তাহে ৫০ হাজার লোকের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    আমেরিকার ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সব কটিতেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক। সেখানেই আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

    ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৬। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৬ হাজার ৪৭ জনের।

  • দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার টেস্ট সবচেয়ে কম বাংলাদেশে, মৃত্যুও বেশি

    দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার টেস্ট সবচেয়ে কম বাংলাদেশে, মৃত্যুও বেশি

     

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাসের টেস্টের হার বাংলাদেশে সবচেয়ে কম। আবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও এ দেশে বেশি।

    আজ বুধবার বেলা দুইটা পর্যন্ত পাওয়া উপাত্তে এ অবস্থা দেখা গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্য মিলিয়ে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য বিষয়ের বিশ্লেষকেরা বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার জন্যই বাংলাদেশের এই হাল। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, করোনার লক্ষণ আছে, এমন যাকে পাওয়া যায়, তাকেই টেস্ট করা হচ্ছে। আর আক্রান্ত রোগীর অনুপাতে মৃত্যুসংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে।

    বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন। ওই দিন তিন ব্যক্তিতে শনাক্ত করা হয়। ১৮ মার্চ দেশে প্রথম এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে ১ হাজার ১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় (এখন ১ হাজার ২২১)। মারা গেছেন ৪৬ জন (এখন ৫০)।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ২২৮ জনের টেস্ট করা হয়েছে বাংলাদেশে, এ তথ্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। ওয়ার্ল্ডোমিটারের সাইটেও এ তথ্য উল্লেখ আছে। আক্রান্তের নিরিখে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর প্রতি ১০ লাখে এ দেশে টেস্টের সংখ্যা ৮০। প্রতি ১০ লাখে মৃত্যুর সংখ্যা ০ দশমিক ৩ শতাংশ।

    ভারতে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৩৮৭। প্রতি ১০ লাখ মানুষে টেস্টের সংখ্যা ১৭৭। আক্রান্তের নিরিখে মৃত্যু হয়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ মানুষের। প্রতি ১০ লাখে মৃত্যু হয়েছে ০ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের।

    Lifebuoy Soap
    পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৮৮। দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৭ জন। প্রতি ১০ লাখে টেস্টের সংখ্যা ৩৩২। আর আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২ শতাংশ। প্রতি ১০ লাখে মৃত্যু হয়েছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষের।

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে তুলনামূলকভাবে উন্নত বলে গণ্য করা হয়। দ্বীপরাষ্ট্রটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৩, মারা গেছে ৭ জন। এ দেশে ১০ লাখ মানুষে টেস্টের সংখ্যা ২২৩। আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে মৃত্যুর হার ৩ শতাংশের খানিকটা বেশি।

    এই ভয়াবহ ভাইরাস হিমালয়–কন্যা নেপালকে পর্যুদস্ত করতে পারেনি তেমন। দেশটিতে আক্রান্তের পরিমাণ ১৬। প্রাণহানির কোনো ঘটনা এখনো ঘটেনি। ১০ লাখ মানুষে টেস্টের সংখ্যা ২১৬।

    সাড়ে সাত লাখ মানুষের ছোট দেশ ভুটানে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ। এ দেশেও কোনো মৃত্যু নেই করোনায়। আর ১০ লাখে টেস্টের সংখ্যা ১ হাজার ৫১১।
    শত শত দ্বীপের দেশ মালদ্বীপে আক্রান্ত হয়েছে ২১ জন। মাত্র প্রায় চার লাখ মানুষের এ দেশেও কোনো মৃত্যু নেই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে টেস্টের এ সংখ্যা সর্বোচ্চ, প্রতি ১০ লাখের হিসাবে ৫ হাজার ৩৬৩।

    যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আফগানিস্তানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭১৪। মারা গেছে ২৩ জন। তবে এ দেশের টেস্টের সংখ্যা ওয়ার্ল্ডোমিটারে নেই।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম মনে করেন, টেস্ট না হওয়ার বিষয়ে টেস্ট করার ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাবে হয়েছে। আর মৃতের সংখ্যা বেশি হওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সংকট। ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলামের কথা, দুটি ক্ষেত্রেই সংকটের একটি অভিন্ন কারণ আছে। আর তা হলো, সমন্বয়হীনতা। লোকবলের সমন্বয়হীনতা ও সুযোগ–সুবিধার সমন্বয়হীনতা—দুই–ই আছে।

    সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনার বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। সেব্রিনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনা আছে, এমন সন্দেহ করা (সাসপেকটেড কেস) যত ব্যক্তি পাওয়া যায়, তাদের সবারই নমুনা এনে পরীক্ষা করি। কেস বেশি হলে টেস্ট বেশি হবে, কম হলে কম হবে। আমাদের কেসের সংজ্ঞায় যারা পড়ে, তাদেরই টেস্ট করি। আগে যেমন আমরা নির্দিষ্ট করেছিলাম যে বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের টেস্ট করা হবে। এখন এভাবে নির্দিষ্ট করে করা হচ্ছে না। কারও ভেতর লক্ষণ বা উপসর্গ থাকলেই আমরা টেস্ট করছি।’

    মৃত্যুর বিষয়ে সেব্রিনার বক্তব্য, ‘এ নিয়ে মন্তব্য করা খুব বেশি আগাম বলা হয়ে যাবে (টু আরলি টু কমেন্ট)। অন্য অনেক দেশের চেয়ে আমাদের এ সংখ্যা কম। তবে রেট কম হলেও একটি মৃত্যুও কাম্য না। যদিও প্রতিটি কেস বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর তুলনামূলক হার কমে আসছে। শুরুতে মৃত্যুর সংখ্যা আক্রান্তের সংখ্যার ১০ শতাংশ ছিল। সেখান থেকে কমে এখন প্রায় ৫ শতাশের কাছে আছে। এ বিষয় নিয়ে এখন খুব বেশি আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করা হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মৃতদেহের নমুনা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছে। আর এর কারণেও অন্য দেশগুলোর তুলনায় মৃত্যু বেশি বলে জানান মীরজাদী।

  • দুই বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে বেশি মানুষ মরবে করোনায়: চীনা চিকিৎসক

    দুই বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে বেশি মানুষ মরবে করোনায়: চীনা চিকিৎসক

    প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মিলে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ভয়ঙ্কর এই করোনাভাইরাসের এর তুলনায় অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হবে। শুরুতেই এমনটা সতর্ক করেছিলেন চীনের লেশেনশেন হাসপাতালের প্রধান ওয়াং শিংহুয়ান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    তিনি বলেন, করোনাভাইরাস খুব ভয়ঙ্কর। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মিলে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, করোনায় তার তুলনায় অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হবে। এমনকি নিউইয়র্কের মতো শহরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন ওয়াং শিংহুয়ান।

    চীনা এই ডাক্তার বলেন, এই পরিস্থিতিতে যেকোনো রাজনৈতিক শক্তির কেবল নিজস্ব প্রয়োজন বিবেচনা করাটা এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে অবহেলা করা অত্যন্ত বোকামি হবে। মাস্ক পরার ব্যাপারেও জোর দেন শিংহুয়ান।

    এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ যথেষ্ট রাখারও পরামর্শ দিয়েছিলেন শিংহুয়ান । মাস্ক পরা সম্পর্কে তিনি বলেন, যখন নিউইয়র্কের ডাক্তারদের সঙ্গে আমার কথা হয়, তারা বলেছিল ফেস মাস্ক ব্যবহার করা কিংবা না করার বিষয়টা সংস্কৃতির ব্যাপার।

    তিনি বলেন, হংকংয়ের ফনিক্স টেলিভিশন থেকে এই ব্যাপারে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি মনে করি যে, সব সংবাদমাধ্যমের এই বার্তা দেওয়া উচিত যে, ফেস মাস্ক ব্যবহার করা কোনও সংস্কৃতির ব্যাপার নয়। এটা বিজ্ঞানসম্মত। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, নিজেদের সুরক্ষার জন্য মাস্ক পরতে হবে। নিউইয়র্কে এভাবে মহামারি ছড়িয়ে যাওয়া নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

    শিংহুয়ান বলেন, উহানে এই ধরনের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে। অনেক রোগীর মধ্যেই হালকা ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তাদেরকে বাড়ি ফিরে গিয়ে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু পরে আমরা বুঝেছি, এটা বড় ধরনের ব্যর্থতা। এই ভুল এখন নিউইয়র্ক করছে।

  • করোনায় মিনিটে মারা যাচ্ছেন ৪ জন, আক্রান্ত ৫০ জন!

    করোনায় মিনিটে মারা যাচ্ছেন ৪ জন, আক্রান্ত ৫০ জন!

    নতুন একটি তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তাদের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, গতকাল একদিনে ৯ ঘণ্টায় বিশ্বে প্রতি মিনিটে মারা যাচ্ছেন ৪ জন। আর আক্রান্ত হচ্ছেন ৫০ জন।
    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় (একদিনে) প্রায় ৬ হাজার মৃত্যু দেখলো বিশ্ব।
    তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সিঙ্গাপুরে এক মাসের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনে বিধ্বস্ত স্পেনের অর্থনীতি। স্পেনে ইতোমধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ লাখ লোক।
    বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল এখনও ইউরোপ। যদিও ধীরে ধীরে সেই কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র। মৃত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে প্রথম দুটি দেশই ইউরোপের। সবার ওপরে আছে ইতালি, তারপর স্পেন। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী- ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ৬৬ হাজার ৫ জন। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৮১ হাজার ৭০ জন। বিশ্বে মোট সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ৪ হাজার ৯৫৬ জন মারা গেছে। আর বিশ্বে মোট মারা গেছে ৫৮ হাজার ১২৩ জন।
    গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৬৮১ জনের। স্পেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৫ জনের।
    যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার ৭৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৭৯৯ জনের। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে মোট ৬ হাজার ৫০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে শুক্রবার একদিনেই ১৩৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    করো রোগী সনাক্তের সংখ্যার দিক দিয়ে এখনও শীর্ষস্থানে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ১৯১ জন। এরপরই আছে ইতালি, দেশটিতে আক্রান্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ৮২৭ জন। স্পেনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭১০ জন, জার্মানিতে ৮৯ হাজার ৮৩৮ জন, চীনে ৮১ হাজার ৬২০ জন, ফ্রান্সে ৬৪ হাজার ৩৩৮ জন এবং ইরানে ৫৩ হাজার ১৮৩ জন।
    সুস্থ হওয়ার সংখ্যায় সবার ওপরে রয়েছে চীন। চীনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭৬ হাজার ৫৭১ জন। স্পেনে সুস্থ হয়েছেন ৩০ হাজার ৫১৩ জন। জার্মানিতে ২৪ হাজার ৫৭৫ জন, ইতালিতে ১৮ হাজার ৭৫৮ ও ইরানেসুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৩৫ জন।
    এদিকে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভারতে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৫৬৭ জন। পাকিস্তানে করোনায় এখন পর্যন্ত ৪০ মারা গেছে। মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৭ জন।

  • ২২২ বছর পর স্থগিত হতে যাচ্ছে হজ

    ২২২ বছর পর স্থগিত হতে যাচ্ছে হজ

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বের ১৮০ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের এই প্রকোপ শেষ হতে আরো কয়েকমাস সময় লাগতে পারে। এমতাবস্থায় আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে পবিত্র হজের আয়োজন করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
    এমনটা হলে দীর্ঘ ২২২ বছর পর মুসলিম বিশ্বের পবিত্র হজ স্থাগিত হতে যাচ্ছে। এমন খবর প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
    ১ এপ্রিল, বুধবার, সৌদি আরবের হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্ম সালেহ বিন তাহের দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, সৌদি সরকার সকল মুসলমান ও নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রস্তুত। আর এ কারণেই আমরা বিশ্বের সমস্ত মুসলিমদের কাছে আমাদের আহ্বান- সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া পাওয়া পর্যন্ত যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করার জন্য অনুরোধ করেছি।’
    কিংস কলেজ অব লন্ডনের ওয়ার স্টাডিজ’র অধ্যাপক শিরাজ মাহের বলেন, ‘হজ যে বাতিল হতে পারে, সেই সম্ভবনার জন্য মানুষকে মানসিকভাব প্রস্তুত করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এজন্য তারা ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তুলে ধরছেন। যেখানে বিপর্যয় ও যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে হজ বন্ধ করা হয়ছে। আমি মনে করি- এটা বড় কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে জনগণকে আশ্বস্ত করার প্রয়াস। আর যদি এমনটা ঘটে, তাহলে এটা নজিরবিহীন ঘটনা নয়।’
    সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৫০০ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন মারা গেছে। আর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ৭২ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগেই ইরানের কুম শহর থেকে এসেছেন। ইরানের এই শহরটিতে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটে।

  • করোনা: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সবাই পাশ

    করোনা: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সবাই পাশ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে পাশ স্ব স্ব ক্লাসে পাশ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ক্লাসে কোন শিক্ষার্থীর পাশে আটকানো হবে না বলে জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।

    বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসগুলির শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। তবে নবম থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কী ভাবে পড়াশোনা চালানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হবে। এসব ক্লাসে কেই ফেল করবে না। নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ই-মেইল,ওয়েবসাইট এমনকি টেলিভিশনের মাধ্যমেও তা করা সম্ভব্য কি না, সে বিষয়ে কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার অনুমোদন দিলেই তা কার্যকর করা হবে।

     

    এদিকে রাজ্যটিতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে মমতা সরকার। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭। মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ জন। আর গোটা ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৬৫ জন। এক দিনে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ৫০।

  • মোদির প্রস্তাবে হাসিনার সম্মতি

    মোদির প্রস্তাবে হাসিনার সম্মতি

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোকে একটি শক্ত কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর মোদির এ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ তথ্য জানান।
    তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবকে একটি ভালো প্রস্তাব হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি শক্ত কৌশল গ্রহণ করতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রধানদের সঙ্গে ভিডিও করফারেন্সে যোগদানে সম্মতি দিয়েছেন।’

    এক টুইট বার্তায় করোনাভাইরাসের বিপক্ষে লড়াই করতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দকে একটি কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব দেন মোদি।

    টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের সুস্থ রাখার উপায় বের করতে আমরা ভিডিও করফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা করতে পারি।’

    টুইটের কয়েক ঘণ্টা পরই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস ভিডিও করফারেন্স সম্পর্কে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান।

    মোমেন বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। তিনি (শেখ হাসিনা) আমাকে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের নেতারা যদি অংশ নেন, তবে তিনি ভিডিও করফারেন্সে যোগ দিতে রাজি আছেন।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতীয় হাই কমিশন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশসমূহের নেতৃবৃন্দ ভিডিও করফারেন্স বিষয়ে তাদের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এতে যোগ দিতে সম্মতি জানিয়েছেন।’

    ভিডিও কনফারেন্সটি কখন অনুষ্ঠিত হবে? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারিখ ও সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটা খুব শিগগিরই হবে।

  • নভেল করোনা ভাইরাস নিজেকে ও অন্যকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

    নভেল করোনা ভাইরাস নিজেকে ও অন্যকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

    ২০১৯-এনকোভি – যা নভেল করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত – সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এশিয়ার বিভিন্ন অংশ এবং এর বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করে আপনি এই ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তারের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারেন।

    কতটা ভয়ংকর এই ভাইরাস?

    শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো এই ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে । কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

    আমার কি মেডিক্যাল মাস্ক পরা উচিত?

    করোনা ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে মেডিক্যল মাস্ক সাহায্য করে। তবে এটার ব্যবহারই এককভাবে সংক্রমণ হ্রাস করতে যথেষ্ঠ নয়। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা না করা এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায়।

    শিশুরা কি ঝুঁকিতে?

    যে কোন বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রধানত: আগে থেকে অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে।

    তবে শহরাঞ্চলের দরিদ্র শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। এসব প্রভাবের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয় বন্ধ থাকা, যা সম্প্রতি মঙ্গোলিয়ায় দেখা গেছে।

    “এই করোনাভাইরাসটি ভয়াবহ গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের উপর এই ভাইরাসের প্রভাব বা এতে কতজন আক্রান্ত হতে পারে- সে সম্পর্কে আমরাে এখনও বেশি কিছু জানি না। কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। সময় আমাদের সাথে নেই।” ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর