Category: আন্তর্জাতিক

  • করোনা সন্দেহ; ভারতীয়কে ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    করোনা সন্দেহ; ভারতীয়কে ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    করোনাভাইরাসবাহী সন্দেহে সুভাষ সরকার (৩০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে আখাউড়া স্থলবন্দর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন হেলথ ডেস্ক কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ভারতের আগরতলা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে বাংলাদেশের আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট আসেন।

    এসময় নোম্যান্সল্যান্ডে ওই ব্যক্তিকে পরীক্ষা করেন ইমিগ্রেশনে অস্থায়ী হেলথ ডেস্কের স্বাস্থ্যকর্মীরা। তার গায়ে অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাকে মাস্ক পরিয়ে দেয়া হয়।

    সুভাষ সরকার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার মধ্য ভুবন বন এলাকার শরৎ সরকারের ছেলে। তার পাসপোর্ট নাম্বার(T- 8461995)। তার সিলেটের লাখাই উপজেলার রাধানগর গ্রামে তার ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে।

    আখাউড়া ইমিগ্রেশনে অস্থায়ী হেলথ ডেস্কের দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. ফজলুল হক সরকার যুগান্তরকে জানান, ওই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার গায়ে প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় করোনাভাইরাসবাহী সন্দেহ করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলমকে জানানো হয়। তার নির্দেশে অসুস্থ সুভাষ সরকারকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নোম্যান্সল্যান্ড থেকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

    আখাউড়া চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ আবদুল হামিদ যুগান্তরকে জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ইমিগ্রেশনে অস্থায়ী হেলথ ডেস্ক কর্মীরা সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, এখন পর্যন্ত চীনের কোনো নাগরিক এ সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করেননি। তবে ভারতীয় নাগরিক সুভাষ সরকারের অতিরিক্ত জ্বর ও অসুস্থ হওয়ার তাকে সন্দেহ করে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক রয়েছে।

    এদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল ও ৮টি উপজেলা হাসপাতালে আইসোলেশন বেড স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে মোট দুইটি করে ১৬টি ও জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচটি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

  • করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ফ্রান্সের মন্ত্রী

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ফ্রান্সের মন্ত্রী

    মরণঘাতী করোনাভাইরাস পৃথিবীর অনেক দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। এবার এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক রিসটার।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার মেডিকেল পরীক্ষায় ফরাসি মন্ত্রী ফ্রাঙ্ক রিসটারের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

    দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর আজ মন্ত্রীর শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মন্ত্রী ‘ভালো আছেন’, তিনি এখন তার প্যারিসের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

    গত সপ্তাহের কয়েক দিন ফ্রান্সের জাতীয় সংসদের নিম্ন সভায় অবস্থান করেছিলেন ফ্রাঙ্ক রিসটার। ওই সভার পাঁচজন ব্যক্তি এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)হিসাব অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী ৩ হাজার ৮০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছে। এ প্রাণঘাতী ভাইরাসে বিশ্বের ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃতদের অধিকাংশই চীনা নাগরিক। চীনের বাইরে ইতালি ও ইরানে এ ভাইরাসটি বেশি প্রাণহানি ঘটিয়েছে।

  • করোনায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

    করোনায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

    যুক্তরাজ্যে রোববার (৮ মার্চ) করোনায় আক্রান্ত আরও এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এর ফলে দেশটিতে এই ভাইরাসে মোট তিনজন প্রাণ হারালো।

    রোববার করোনায় সেখানে যিনি মারা গেছেন তিনি একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি। সংক্রমণ ধরা পড়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ম্যানচেস্টারের এক হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার ছেলে বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে বর্ণনা করেছেন কীভাবে ইটালিতে বেড়াতে গিয়ে তার বাবা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন।

    ‘প্রতি বছরের শুরুতে আমার বাবা ইটালিতে বেড়াতে যান দুই-তিন সপ্তাহের জন্য। এটা তার একটা প্রিয় বেড়ানোর জায়গা। কারণ বহু বছর তিনি ইটালিতে ছিলেন। ১৯৮৯ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে ইটালি আসেন। তখন তিনি বয়সে তরুণ।

    উত্তর ইটালির যে শহরে আমরা থাকতাম সেটা মিলান থেকে ৫০ মাইল দূরে। সেখান থেকে সুইটজারল্যান্ডের সীমান্তও বেশি দূরে নয়। বহু বছর আমরা সেখানে ছিলাম। আমার জন্ম সেখানেই। বড় হয়েছি সেখানে।

    পাঁচ-ছয় বছর আগে আমরা পাকাপাকিভাবে ব্রিটেনে চলে আসি। আমরা থাকি ম্যানচেস্টারের কাছে। কিন্তু আমার বাবা ইটালিতে বেড়াতে যেতে পছন্দ করতেন। আমরাও প্রতি বছর গ্রীস্মে পরিবারের সবাই মিলে সেখানে বেড়াতে যেতাম। তবে বাবা প্রতি বছরের শুরুতে নিয়ম করে বেড়াতে যেতেন ইটালিতে তার পুরোনো শহরে । এবছরও গিয়েছিলেন।

    ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তিনি সেখানে যান। তখনও ইটালিতে করোনাভাইরাস এত ব্যাপকভাবে ছড়ানোর কথা শোনা যায়নি। কিন্তু তিনি যে দুই সপ্তাহ ইটালিতে ছিলেন, তার মধ্যেই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়। ব্যাপকভাবে সেখানে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ফেব্রুয়ারির ২৯ তারিখ বাবা ফিরে আসলেন ইটালি থেকে। তখনও তিনি সুস্থ। কিন্তু তিন দিন পর সব যেন ওলট-পালট হয়ে গেল।

    মার্চের তিন তারিখ, মঙ্গলবার। সেই মঙ্গলবারটা ছিল আর যে কোন দিনের মতোই। আমাদের বাড়ির কাছে যে হেলথ সেন্টার, বাবা সেখানে গিয়েছিলেন ডাক্তার দেখাতে। এই অ্যাপয়েন্টমেন্টটা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল।

    বাবার বয়স ছিল ৬০ বছর। তার নানা ধরনের অসুস্থতা ছিল, যা নিয়ে তিনি বেশ ভুগছিলেন। কোলেস্টরেল, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট। তবে এসবের পরও তিনি মোটামুটি ভালোই ছিলেন। তিনি একশোভাগ সুস্থ ছিলেন, এটা বলা যাবে না, কিন্তু মোটামুটি ভালো ছিলেন।

    করোনাভাইরাস নিয়ে যেহেতু আতংক ছড়িয়ে পড়েছিল, তাই আমি কিছু মাস্ক কিনেছিলাম। আমি আমার মা-বাবাকে বললাম, বাইরে যাওয়ার সময় যেন তারা মাস্ক পরে বের হন।

    গত মঙ্গলবার বাড়ির কাছের হেলথ সেন্টারে যখন বাবা গেলেন, তখন ডাক্তার এবং নার্সরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তিনি মাস্ক পরে আছেন। তিনি বললেন, মাত্র দুদিন আগে তিনি ইটালি থেকে এসেছেন। সাথে সাথে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো। তাকে আলাদা করে ফেলা হলো। নর্থ ম্যানচেষ্টার জেনারেল হাসপাতাল থেকে একটা জরুরি দল চলে এলো। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।

    তার সঙ্গে আমাদের সেদিনই শেষ দেখা। আমরা বুঝতে পারিনি যে আর কোনদিন তার সঙ্গে আর দেখা হবে না। হাসপাতালে প্রথম কয়েকদিন তিনি বেশ ভালোই ছিলেন। কিন্তু তারপর ডাক্তাররা বলছিলেন, তার রক্তে যথেষ্ট অক্সিজেন যাচ্ছে না। তার হার্টবিট অনিয়মিত। এভাবেই চলছিল কয়েকদিন। তারপর রোববার তিনি মারা গেলেন।

    এদিকে বাড়িতে আমাদেরও রীতিমত আলাদা করে রাখা হয়েছিল। আমরা ঘর থেকে বেরুতে পারছিলাম না। কোথাও যেতে পারছিলাম না। বাবার খবরাখবর আমরা পেতাম টেলিফোনে।

    যে ওয়ার্ডে তাকে রাখা হয়েছিল, সেখানে আমরা ফোন করতাম। সেখান থেকেই আমরা খবর পেতাম। আমরা তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারতাম না।

    রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে ফোন এলো আমাদের কাছে। তারা বললো, আধ ঘন্টা আগে বাবা মারা গেছেন। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। খবরটা শুনে ধাতস্থ হতে আমার কয়েক ঘন্টা সময় লেগেছিল। আমার বাবাকে আমি আর কোনদিন দেখতে পাবো না! এরকম একটা খবর যখন আপনি পান, সেটা বুঝতেই আপনার অনেক সময় লেগে যায়। আমি ছিলাম শোকাহত। আমাদের বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেল।

    বাবার মৃত্যুর খবর পেলেও আমরা কিছুই করতে পারছি না, কোথাও যেতে পারছি না। কারণ আমাদের সবাইকে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন পাবলিক হেলথ ইংল্যাণ্ড থেকে আমাদের সবার কাছে টেক্সট আসে। তারা জানতে চায়, আমাদের সব ঠিক আছে কীনা। আমাদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোন লক্ষণ আছে কীনা। প্রতিদিন আমাদের সেই টেক্সটের জবাব দিতে হয়। এখন পর্যন্ত আমরা সবাই ভালো আছি। আমাদের কারো মধ্যে করোনাভাইরাসের কোন লক্ষণ নেই। আমরা এক সপ্তাহ এই অবস্থায় আছি। আরও এক সপ্তাহ থাকতে হবে।

    আমরা যেহেতু আইসোলেশনে আছি, তাই আমার বাবার জানাজা বা দাফন কোন কিছুই করতে পারছি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা লাশ আরও কিছুদিন মর্গে রেখে দেবে । আরও এক সপ্তাহ পর যখন আমাদের মুক্তি মিলবে, তখন আমরা বাবার জানাজা, দাফন এগুলোর আয়োজন করতে পারবো।

    আমরা এখনো জানি না, তার জানাজা-দাফন এগুলো আমরা স্বাভাবিকভাবে করতে পারবো কিনা। কারণ তিনি তো স্বাভাবিকভাবে মারা যাননি। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড যা বলে, সেই মতই আমাদের কাজ করতে হবে।

    মাত্র দু’মাস আগেও আমরা জানতাম না করোনাভাইরাস জিনিসটা কী। এখন এই ভাইরাস আমার বাবাকে কেড়ে নিল।”

  • করোনায় সুখবর, একদিনেই সেরে উঠেছেন ১৫০০ রোগী!

    করোনায় সুখবর, একদিনেই সেরে উঠেছেন ১৫০০ রোগী!

    করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। করোনায় আক্রান্ত মানেই মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংক্রমণ একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পার হলেই কেবল সেটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। করোনাভাইরাসে বিভিন্ন দেশের মানুষ যে হারে আক্রান্ত হচ্ছেন তার প্রায় সমানতালে সেরেও উঠছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল চারটা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সেরে উঠেছে ১৫০০ মানুষ।

    দ্য সেন্টার ফর সিস্টেমস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়েবসাইটের লাইভ ড্যাশবোর্ড থেকে জানা গেছে, এই সময়ে সারা পৃথিবীতে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬২ জন। অর্থাৎ, আক্রান্তের চেয়ে সেরে উঠার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

    ড্যাশবোর্ডের রিয়েল-টাইম গ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিআইএস) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইউরোপের বিভিন্ন অধিদপ্তরের ডেটা দিয়ে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস থেকে সব মিলিয়ে ৬৪ হাজার ৩৪ জন মানুষ সেরে উঠেছেন। বিপরীতে মারা গেছেন ৪ হাজার ২৬ জন। এর মধ্যে চীনেই প্রাণ গেছে ৩ হাজার ১৩৬ জনের।

    ওই ড্যাশবোর্ডে বাংলাদেশে ৩ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর দেয়া হয়েছে। কেউ এখনো ভালো হননি বলে জানা গেছে। তবে তাদের অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপিরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে।

    করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে।

    শুরুতে জ্বর হয়, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।

    সুস্থ থাকতে যতবার পারা যায় হাত ধুতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। মাস্কের অবশ্য বাধ্যবাধকতা নেই। ডাক্তাররা বলছেন, আক্রান্ত রোগী এবং তার যারা সেবা করছেন তাদেরই মূলত মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

  • আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

    আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

    আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি নানা আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপিত হচ্ছে। এবারের নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার’।
    নারীদের ওপর হওয়া বৈষম্য, নির্যাতনের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদে নারীদের জাগ্রত করাই নারী দিবস পালনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । নারী দিবসের রঙ নির্ধারিত হয়েছে বেগুনি ও সাদা। এ দুটি রঙ নির্দেশ করে সুবিচার ও মর্যাদা, যা দৃঢ়ভাবে নারীর সমতায়ন।
    ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুঁচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আন্দোলন করার অপরাধে গ্রেফতার হন বহু নারী। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই।

    নানা ঘটনার পর ১৯০৮ সালে জার্মানীতে এ দিনটি স্মরণে প্রথম নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে প্রায় ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছিলেন। এ সম্মেলনেই প্রথমবারের মত জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও রাজনীতিবিদ ক্লারা জেটকিনের ক্লারা প্রতি বছরের ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন।

    এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সাল থেকেই ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
    ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের আহবান করলে এরপর থেকে সারা বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
    নারী দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পীকার ড.শিরিন শারমিন চৌধুরী এবং সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

  • করোনা আতঙ্কে চীনে আটকে আছেন মিস্টার বিন

    করোনা আতঙ্কে চীনে আটকে আছেন মিস্টার বিন

    করোনাভাইরাসে প্রতিদিন যেমন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ। অনেক বিশ্লেষকই এটিকে ২০০২-০৩ সালে সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) মহামারির সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই মুহূর্তে যারা চীনে করোনা ভাইরাস কবলিত এলাকায় অবস্থান করছেন তাদের অন্যত্র যাওয়া নিরাপদ নয় বলে জানা গেছে।

    এই জটিলতার কারণে চীনে আটকা পড়েছেন ‘মিস্টার বিন’ খ্যাত কমেডিয়ান নিগেল ডিক্সন। রোয়ান অ্যাটকিনসনের বিখ্যাত চরিত্রকে অনুকরণ করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন কমেডিয়ান নিগেল ডিক্সন।

    করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত চীনের হুবেই শহরে এসে আর নিজের বাড়িতে ফেরা হয়নি তার। নিজের দেশের সুরক্ষায় এই ব্রিটিশ নাগরিক ফিরছেন না দেশে। বর্তমানে হুবেই শহরে সচেতনতামূলক কমেডি তৈরি করে প্রচার করছেন তিনি।

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেবল চীনে এক হাজার একশ ১০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এছাড়া আরো ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে থাকার জন্য লড়ছেন।

    ‘মিস্টার বিন’ খ্যাত অভিনেতা ব্রিটিশ নাগরিক নিগেল ডিক্সন জানান, তিনি নিজেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিতে চান না। সে কারণে উহানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    ৫৩ বছর বয়সী নিগেল ডিক্সন সবসময় রোয়ান অ্যাটকিনসনকে আইকন মানেন। ৩০ বছর বয়স থেকেই তিনি মিস্টার বিন চরিত্রে অভিনয় করে আসছেন। তিন বছর আগে চীনে কমেডি সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি। এবার করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

  • ‘৫ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত, কোটি ছাড়িয়ে যাবে’

    ‘৫ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত, কোটি ছাড়িয়ে যাবে’

    চীনে মহামারি আকার ধারণ করা প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের উদ্ভব হয় দেশটির হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে। ১ কোটি ১ লাখ জনসংখ্যার এই শহরটি বর্তমানে গোটা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন আছে। সরকারি হিসেবে এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার এবং মারা গেছে প্রায় ৯০০ জন।

    কিন্তু তাদের এই তথ্য বাস্তবের প্রতিচ্ছবি নয় বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, উহান শহরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাস্তবে কমপক্ষে পাঁচ লাখ হবে।

    প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মহামারী-সংক্রান্ত বিদ্যার গাণিতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, সেই সংখ্যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিশাল আকার ধারণ করতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে উহানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    লন্ডন স্কুলের সংক্রামক ব্যাধি মহামারী বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম কুচারস্কি বলেছেন, এই সংক্রমণ যখন মহামারী আকার ধারণ করলো, প্রতি ২০ জন মানুষের মধ্যে একজন নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোতে সংক্রমিত হওয়ার ধরণ বদলে যেতে পারে।

    গবেষকরা বলছেন, নতুন এই করোনাভাইরাসের প্রাণকেন্দ্র উহানের অনেক বাসিন্দা সংক্রমিত হলেও তারা জানেন না। ফলে আগামী দিনগুলোতে উহানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    লন্ডন স্কুলের সংক্রামক ব্যাধি মহামারি বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম কুচারস্কি বলেছেন, বর্তমান প্রবণতা ধরে নিয়ে আমরা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে উহানে কতসংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন; সে ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন তৈরিতে এখনও কাজ করছি।

    তিনি বলেন, এই সংক্রমণ যখন মহামারি আকার ধারণ করলে, প্রত্যেক ২০ জন মানুষের মধ্যে একজন নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোতে সংক্রমিত হওয়ার ধরণ বদলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের এই অধ্যাপক।

    বিশ্বের সর্ববৃহৎ কোয়ারেন্টাইন পয়েন্ট উহান এবং ৬ কোটি মানুষের হুবেই প্রদেশের অন্যান্য শহরে এই ভাইরাসের বিস্তারের লাগাম টানতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেসবের ফলাফল জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

    অধ্যাপক অ্যাডাম কুচারস্কি ও তার সহকর্মীরা গবেষণা সংক্রামক ব্যাধির গতিশীলতা নিয়ে কাজ করেন। তারা করোনাভাইরাস সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের অনুমানের ওপর ভিত্তি করে একটি মডেল দাঁড় করিয়েছেন।

    এতে বলা হয়েছে, এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর রোগীর ইনকিউবেশন সময়কাল ৫ দশমিক ২ দিন এবং সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য সময় লাগবে আরও ৬ দশমিক ১ একদিন। তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের উৎসস্থল উহানের প্রায় ১ কোটি মানুষ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

    এই গবেষকরা তাদের গবেষণা মডেলের ওপর ভিত্তি করে বলেছেন, সেই হিসেবে উহানের প্রায় ৫ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে সংক্রমিত হয়েছেন। যদিও রবিবার মধ্যরাতে উহান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, উহানে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৯০২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

    চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন আজ সকালে বলেছে, রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত চীনে নতুন করে ৩ হাজার ৬২ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪০ হাজার ১৭১ জনে। এদের মধ্যে ৬ হাজার ৫০০ জনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানি ঘটেছে এখন পর্যন্ত ৯১০ জনের।

    এর আগে চীনের টেনসেন্ট নামের বৃহত্তম একটি কম্পানির তথ্যে ফাঁস হওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা ২৪ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।

    তবে টেনসেন্ট পরে জানায় তারা ভুলবশত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কতজন মারা গেছেন তার একটি হিসাব প্রকাশ করেছে। শনিবার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এপিডেমিক সিচুয়েশন ট্যাকারে প্রথম যে তথ্য প্রকাশ করে সেখানে দেখা যায়, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৫৮৯ মানুষের প্রাণ গেছে। আর এতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩ জন।

    তবে প্রকাশের অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই লেখাটি আপডেট করা হয়। আপডেটের পরে দেখা যায় চীনা সরকারের দেয়া সংখ্যা আর তাদের সংখ্যাই কোনো পার্থক্য নেই। তাইওয়ান নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

  • আজব সিদ্ধান্ত নিল চীন, ভাইরাস আক্রান্ত বিশ হাজার মানুষকে মারতে চায়!

    আজব সিদ্ধান্ত নিল চীন, ভাইরাস আক্রান্ত বিশ হাজার মানুষকে মারতে চায়!

    সম্প্রতি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তারে নাকাল চীনের জনজীবন। এ ভাইরাসের বিস্তার ঘটছে বিশ্বের অন্য বেশ কয়েকটি দেশেও। এমন অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ২০ হাজার রোগীকে মেরে ফেলতে চীন সর্বোচ্চ আদালতের কাছে অনুমতি চাইছে বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খবর ঘুরছে। এবি-টিসি ডটকম (ab-tc.com) নামের একেবারেই অপরিচিত একটি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে অবিশ্বাস্য ওই দাবি করা হয়েছে।

    তবে অনুসন্ধানে এই সংবাদমাধ্যমটির দাবির পক্ষে তেমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। যে কারণে বলা হচ্ছে, এই সংবাদটি একেবারেই মিথ্যা এবং আজগুবি তথ্যের ওপর করা হয়েছে।

    এবি-টিসি ডটকমের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ২০ হাজার মানুষকে মেরে ফেলতে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে চীন।

    প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ভাইরাসের বিস্তার এড়াতে ২০ হাজার করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে মারতে আদালতের অনুমতি চেয়েছে চীন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিস্তারের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য চীনের সুপ্রিম পিপলস কোর্ট এই গণহত্যার অনুমতি দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী অখ্যাত নিউজপোর্টাল এবি-টিসি ডটকমের ওই প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট পোস্ট করছেন। পোস্টে বলা হচ্ছে, ২০ হাজার করোনাভাইরাস রোগীকে মেরে ফেলতে আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে চীন। চীন ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন রোগীকে মেরে ফেলেছে বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

    অনুসন্ধানে এই দাবিটি যে পুরোপুরি মিথ্যা তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমনকি এবি-টিসি ডটকম নামের যে সংবাদমাধ্যমটি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে; সেই সংবাদমাধ্যমটির বস্তুনিষ্ঠতা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তবে অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এই প্রতিবেদনটি বিশ্বাসও করেছেন। এবি-টিসি ডটকমের সেই সংবাদের স্ক্রিনশট কিংবা লিঙ্ক অনেকেই ফেসবুক, টুইটার-সহ অন্যান্য মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এই সংবাদটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমরা গুগলে কিওয়ার্ড ধরে অনুসন্ধান করেছি। এতে এই সংবাদটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।

    প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে প্রতি মুহূর্তে বিশ্বগণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে চীনের নতুন এই করোনাভাইরাস। সেখানে এ ধরনের বিশাল একটি খবর বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখ এড়িয়ে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। চীনের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সব রোগীকে গণ কোয়ারান্টাইন শিবিরে রাখা হয়েছে।

    এই প্রতিবেদন লেখার সময় (বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন) বলছে, চীনে এখন পর্যন্ত নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৯৮ জন এবং মারা গেছেন ৭২৩ জন। চীনের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭০ জন। এছাড়া চীনে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ২ হাজার ৫০ জন। দেশটির সরকারি কোনো গণমাধ্যমেই আক্রান্তদের মেরে ফেলতে কোনো উদ্যোগের কথা বলা হয়নি।

    এই সংশ্লিষ্ট সংবাদের জন্য চীনের সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অতীতে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের রেকর্ড রয়েছে এবি-টিসি ডটকম নামের ওই সংবাদমাধ্যমটির। তারকা দম্পতি কনি ফার্গুসন ও শোনা ফার্গুসনের মৃত্যুর ব্যাপারে এই সংবাদমাধ্যমটি ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

    এমনিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটের কথা বলে তারা ভুয়া টুইটও প্রকাশ করেছিল। এতে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই সংবাদমাধ্যমটির ভুয়া খবর প্রকাশের অতীত ইতিহাস রয়েছে।

    এবি-টিসি ডটকম (ab-tc.com) নামের ডোমেইনটির ব্যাপারে জানতে সার্চ করা হলে এই সংবাদমাধ্যমটির কোনো ঠিকানা, ই-মেইল, কিংবা অফিসের তথ্যও পাওয়া যায় না। যা সাধারণত কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে বিরল একটি বিষয়।

    এই সংবাদমাধ্যমটি চীনের গুয়াংডং-ভিত্তিক হলেও এর বেশিরভাগ সংবাদই যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক। সুতরাং এটা পরিষ্কার যে, এই সংবাদমাধ্যমটি চীনে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ২০ হাজার রোগীকে মেরে ফেলতে আদালতের কাছে অনুমতি চাওয়ার বিষয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে; সেটি অবিশ্বাস্য এবং সন্দেহজনক।

  • কে এই বিশেষ ব্যক্তি যাকে আগেই সোলাইমানি হত্যার বিষয়টি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র!

    কে এই বিশেষ ব্যক্তি যাকে আগেই সোলাইমানি হত্যার বিষয়টি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র!

    যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে ইরানি জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার বিষয়টি আগে থেকে জানতেন কেবল একজন ব্যক্তি। তিনি হলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট ও টাইমস অব ইসরায়েল।
    প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের তার মিত্রদের মধ্যে কেবল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সোলাইমানিকে হত্যার বিষয়টি জানিয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই অভিযানের আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

    এদিকে, মার্কিন বাহিনীর নিখুঁত এই হামলায় সোলাইমানির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দারা।

    সিরিয়ার দামেস্ক থেকে ইরাকে উড়ে আসেন সোলাইমানি। সেখানে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সরবরাহকারীরা সোলাইমানিকে বহনকারী বিমান সম্পর্কে তথ্য দেন।

    পরবর্তীতে সেই তথ্য যাচাই করে সোলাইমানির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করে ইসরায়েলের গোয়েন্দারা।

  • বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় ২৯তম শেখ হাসিনা

    বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় ২৯তম শেখ হাসিনা

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বিশ্বের প্রভাবশালী ১শ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস ম্যাগজিন। এই তালিকার শীর্ষ একশ নারীর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। তালিকার ২৯তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘকালীন সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি চতুর্থবারের মতো জয়ী হয়ে টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত নির্বাচনে তার দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংসদের ৩শ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতেই জয় লাভ করে।

    ১৯৮১ সাল থেকে টানা প্রায় ৩৮ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর থেকেই শক্ত হাতে দলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন শেখ হাসিনা। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ফোর্বসের তালিকায় প্রভাবশালী শীর্ষ ১০ নারীর তালিকায় আছেন অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ক্রিস্টিনে লেগারদে, নেন্সি পেলোসি, আরসুলা ভন দের লেয়েন, মেরি বারা, মেলিন্ডা গেটস, আবিগেইল জনসন, আনা পেট্রিসিয়া বোটিন, গিনি রোমেটি এবং মেরিলিন হিউসন। ২০১৮ সালে ফোর্বসের প্রভাবশালী ১শ নারীর তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল ২৬তম।