Category: আন্তর্জাতিক

  • সৌদিতে ৩৫ ওমরাহযাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    সৌদিতে ৩৫ ওমরাহযাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    সৌদি আরবে ওমরাহযাত্রী বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে একটি গাড়ির ধাক্কায় আগুন লেগে ৩৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যূ হয়েছে।

    বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নিহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছে কি না তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

    আরব নিউজ জানিয়েছে, মদিনা থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে আল-আখাল গ্রামের হিজরা রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে ওই খবরে বলা হয়, এশিয়ান ও আরব দেশের নাগরিকদের বহনকারী বাসটিতে ৩৯ জন যাত্রী ছিলেন। বেসরকারি পরিবহনের বাসটি একটি ভারী যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।

    এতে সঙ্গে সঙ্গে বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ৩৫ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ আল-হামনা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে রেড ক্রিসেন্টসহ অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থা।

  • বরিশালের মনীষা চক্রবর্ত্তী জার্মানির কনফারেন্সে প্রধান আলোচক

    বরিশালের মনীষা চক্রবর্ত্তী জার্মানির কনফারেন্সে প্রধান আলোচক

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, জার্মানির আয়োজনে ‘প্রতিবন্ধী শিশুদের সুরক্ষা এবং করণীয়’ বিষয়ে সেমিনারে যোগ দিতে গতকাল ভোর সাড়ে ৬ টায় ঢাকা থেকে জার্মানির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী।

    আজ জার্মানির হামবুর্গে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীকে আলোচক হিসেবে নির্বাচিত করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাসদ বরিশাল জেলার নেতৃবৃন্দ।

    ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, এই সাফল্য কেবল তার নিজের বা শুধু দলের নয়; এই সাফল্য পুরো বরিশালবাসীর। বরিশালবাসীর সমর্থন, সহযোগিতা আর দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই সেমিনারে ভালো কিছু করার মধ্য দিয়ে তিনি দেশ এবং বরিশালের সম্মানকেই বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। ভালো কিছু করার জন্য সকলের শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা প্রত্যাশা করেছেন ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী।

  • ৩ দিনের সফরে বরিশালে ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী

    ৩ দিনের সফরে বরিশালে ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী

    রাতুল হোসেন রায়হান:

    তিন দিনের সফরে বরিশালে এসেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস। শুক্রবার বিকাল ৫টায় তিনি বরিশালে আসেন। সঙ্গে সফর সঙ্গী হিসেবে আছেন, স্বামী প্রশান্ত কুমার দাস ও ভারতের সহকারী হাই কমিশনার রাজেশ কুমার রায়না।

    সফরের প্রথম দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন চারণ কবি মুকুন্দ দাস প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় তাকে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর অক্সফোর্ড মিশন চার্চ, কবি জীবনানন্দ দাশের বাড়ি এবং কড়াপুরের মিয়া বাড়ি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে ভারতীয় হাই কমিশনারের। বিকেলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সন্ধ্যায় অশ্বিনী কুমার টাউন হলে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে। রাত ৮টায় গ্র্যান্ডপার্ক হোটেলের বলরুমে সিটি মেয়রের সৌজন্যে সংবর্ধনা ও নৈশভোজে যোগ দেবেন রিভা গাঙ্গুলী দাস।

    তৃতীয় দিন রবিবার সকাল ৯টায় ঝালকাঠীর ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার এবং দুপরে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দর পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে ভারতীয় হাই কমিশনারের। ওই দিনই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করবেন।

    এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনারের অবস্থান এবং চলাচলের পথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

  • আজ আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস

    আজ আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস

    অনলাইন ডেস্ক:

    আজ শুক্রবার ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ।

    দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘কন্যা শিশুর অগ্রযাত্রা, দেশের জন্য নতুন মাত্রা।’ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বানী দিয়েছেন। বিশ্বে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথম এই দিবসটি পালন করা হয়।

    এর পর থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করে থাকে।

    মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা, চিকিৎস সুবিধা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, বাল্যবিয়ে ইত্যাদি রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য এ দিসবটির সূচনা হয়

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর কুশল বিনিময়

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর কুশল বিনিময়

    অনলাইন ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির সভাপতি সোনিয়া গান্ধী কুশল বিনিময় করেছেন। রোববার সোনিয়া গান্ধী বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হোটেল তাজে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তাদের মধ্যে এ কুশল বিনিময় হয়।

    বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, এ সময় দুই নেত্রী তাদের পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করেন। বৈঠককালে শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

    সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতিতে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে অভিনন্দন জানান। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের জন্য সোনিয়া গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানান।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ইন্ডিয়ান ইকোনোমিক সামিটে যোগ দিতে ৩ অক্টোবর ভারতে ড়ম করেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। আজ শেখ হাসিনা ঢাকার উদ্দেশে নয়াদিল্লি ত্যাগ করবেন।

  • লন্ডনে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের তালিকায় টিউলিপ

    লন্ডনে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের তালিকায় টিউলিপ

    অনলাইন ডেস্ক:

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনে এ বছরের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। শনিবার প্রাপ্ত এক বার্তায় একথা বলা হয়েছে।

    লন্ডনভিত্তিক পত্রিকা ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড ২০১৯ সালের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় ওয়েস্টমিনস্টার ক্যাটাগরিতে টিউলিপ সিদ্দিক স্থান পেয়েছেন। প্রতি বছর লন্ডনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের নিয়ে ‘প্রোগ্রেস ১০০০’ নামে তালিকা প্রকাশ করে ‘ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড’।

    শেখ রেহানার মেয়ে ও বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপের সঙ্গে এই ক্যাটাগরিতে আরও রয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ডাচি অব ল্যানকাস্টারের চ্যান্সেলর মাইকেল গভ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক ও শিক্ষামন্ত্রী গেভিন উইলিয়ামসনের মতো লন্ডনের রাজনীতিবিদরা।

    প্রতি বছর এই তালিকা প্রকাশ করে ‘ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড’। রাজনীতি ছাড়াও ব্যবসা, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, নকশা, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা এই তালিকায় উঠে আসেন।

    টিউলিপকে নিয়ে ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ডে লেখা হয়েছে, ‘যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেয়ার জন্য সন্তান জন্মদানের অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিয়ে বিশ্বব্যাপী সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।’

    তখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সাধারণত কোন এমপির সন্তান জন্ম দেয়ার সময় আসলে বা সদ্যোজাত সন্তানের কারণে বা অসুস্থতার কারণে কেউ ভোটে অংশ নিতে না পারলে বিরোধী পক্ষেরও একজন সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থাকতেন, যাকে ‘পেয়ার’ বলা হতো। কারও অনুপস্থিতি যেন ভোটের ফলে প্রভাব ফেলতে না পারে, তাই ওই প্রথা। কিন্তু ২০১৮ সালের জুলাইয়ে কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান ব্রান্ডন লুইস ওই প্রথা লঙ্ঘন করে ভোট দিয়েছিলেন। যদিও লুইস পরে এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘দুর্ঘটনাবশত’ ভোট দিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।

    অতীতের এই ঘটনার কারণে ওই ব্যবস্থায় তার আর আস্থা নেই জানিয়ে সশরীরে পার্লামেন্টে গিয়ে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন টিউলিপ। তার এই সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে সন্তানপ্রত্যাশী ও নবজাতকদের মা-বাবার জন্য ঐতিহাসিক ‘প্রক্সি ভোটিং’ পদ্ধতি চালু করতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ‘ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড’।

    টিউলিপ ২০১৫ সালের মে মাসে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে প্রথমবারের মতো ব্রিটেনের হাউস অব কমনস্-এ নির্বাচিত হন। পার্লামেন্টে প্রথম ভাষণে তিনি বিশ্বের নজর কাড়তে সক্ষম হন।

    টিউলিপ নিজেকে ‘একজন আশ্রয়প্রার্থীর কন্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি তার মা শেখ রেহানার দুর্দশার বিবরণ দেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যসহ বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় খোঁজেন তার ছোট মেয়ে শেখ রেহানা।

  • ৫০ কেজি স্বর্ণের প্রতিমা

    ৫০ কেজি স্বর্ণের প্রতিমা

    অনলাইন ডেস্ক ::

    গোটা ভারতে এখন উৎসবের জোয়ার। তাদের এই উৎসবের উপলক্ষ্য হলো দুর্গাপূজা। প্রতি বছর উৎসবের আমেজ বাড়ার সঙ্গে আয়োজন হচ্ছে যথাসম্ভব বৃহৎ আকারে। দেশটির বাংলাভাষী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গও এই উৎসব আয়োজনের অন্যতম সঙ্গী। কলকাতায় এবার বড় আকর্ষণ ৫০ কেজি স্বর্ণের তৈরি প্রতিমা।

    ইন্ডিয়া ট্যুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কলকাতা যেন এবার বর-বধূর মতো নানা রঙে সেজেছে। সেই আলোর ঝলকানিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ মেতেছে উৎসবের আমেজে। কলকাতার আড়াই হাজার মন্ডপের মধ্যে সন্তোষ মিত্র স্কয়ারের পূজামণ্ডপের ৫০ কেজি স্বর্ণের প্রতিমা তাই অনন্য।

    কলকাতা শহরের অন্যতম পরিচিত এলাকা শিয়ালদহের কাছে সন্তোষ মিত্র স্কয়ারের সর্বজনীন পূজা মন্ডপের শুধু দুর্গাপ্রতিমা নয় সঙ্গে অসুর এবং সিংহও সাজানো হয়েছে স্বর্ণের পাত দিয়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে ব্যবহৃত হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ কেজি স্বর্ণ।

    তবে কলকাতার প্রত্যেকটি পূজামন্ডপের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট। শরতের বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাইতো ওই পূজামন্ডপে হাজারো মানুষের উপচে পড়া ভীড় জমাচ্ছে। সবার একটাই আশা ‘অভিজাত’ এই দুর্গা প্রতিমাকে একবার স্বচক্ষে দেখা। অসংখ্য মানুষের এমন ভীড় মন্ডপটির জৌলুস বাড়িয়েছে বহুগুণ।

    সন্তোষ মিত্র স্কয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির প্রেসিডেন্ট প্রদীপ ঘোষ টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘এই পূজামন্ডপ ৮৪ বছরের পুরনো। আমরা এবার একেবারে ব্যতিক্রম কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছি। তারই প্রেক্ষিতে প্রতিমা তৈরি করেছি খাঁটি স্বর্ণ দিয়ে। প্রায় ৫০ কেজি স্বর্ণ প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে।’

    গোটা পূজামন্ডপ এমনভাবে সাজানো হয়েছে দেখে মনে হচ্ছে এ যেন আরেক শীষমহল। আর প্যান্ডেল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০ হাজার খন্ড কাচ। কলকাতার এই পূজামন্ডপে যাওয়া মানুষজন সম্মোহিত হচ্ছেন। তারা দুর্গাপূজার মধ্যেও দিওয়ালির মতো অনুভূতি উপভোগ করছেন।

    মন্ডপে নিয়মিত যাওয়া আসার শ্রেয়া ব্যানার্জির। তিনি এবারের এই ব্যতিক্রম দুর্গাপ্রতিমা দেখে অভিভূত। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই অসাধারণ। যেভাবো সবকিছু সাজানো হয়েছে তা অসামান্য। আমরা এবারের এমন আয়োজন দেখে সত্যি খুবই মুগ্ধ।’

    তবে এই মন্ডপের আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ এখনো রয়েই গেছে। তা হলো পূজা শেষ হলেও এবারের এই প্রতিমা পানিতে ‘বিসর্জন’ দেয়া হবে না। এটা সেখানে রয়ে যাবে, যাতে করে মানুষজন বছরজুড়ে তাদের দুর্গাপ্রতিমার এমন ব্যতিক্রম রুপ দেখে মুগ্ধ হতে পারেন।

  • মোদি বললেন ‘জয় বাংলা’

    মোদি বললেন ‘জয় বাংলা’

    নরেন্দ্র মোদি হিন্দিতে তাঁর বক্তৃতার শেষাংশে বলেন, ‘জয় হিন্দ। জয় বাংলা। জয় ভারত-বাংলা বন্ধুত্ব। ধন্যবাদ।’

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আরো জোরালো সম্পর্ক গড়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ক বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত। গতকাল শনিবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউসে দুই দেশের বৈঠক শেষে বক্তব্যে দুই নেতা এসব কথা বলেন।

    গতকাল এর আগে তাঁদের উপস্থিতিতেই বাংলাদেশ ও ভারত সাতটি দলিল সই করেছে। সেগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি, চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) ও একটি কর্মসূচি। স্বাক্ষরিত দলিলগুলো হলো চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ভারতের ব্যবহারের বিষয়ে এসওপি, ত্রিপুরার সাবরুম শহরের খাবার পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য ফেনী নদী থেকে ভারতের ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি তুলে নেওয়া বিষয়ে এমওইউ, বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতীয় ঋণ বাস্তবায়নে চুক্তি, হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এমওইউ, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি (নবায়ন), যুব বিষয়ে সহযোগিতার জন্য এমওইউ এবং ‘কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ (উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা) সরবরাহের বিষয়ে এমওইউ।

    এর আগে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের ব্যবসাখাতে দুটি এমওইউ সই হয়। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরের তৃতীয় দিন শেষে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি, এমওইউ বা দলিলের সংখ্যা ৯-এ উন্নীত হলো।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে গতকাল নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউস থেকে দুই দেশের তিনটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। প্রকল্পগুলো হলো বাংলাদেশ থেকে ভারতে ‘বাল্ক এলপিজি’ (বড় পরিসরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানি, ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশনে বিবেকানন্দ ভবন (ছাত্রাবাস) উদ্বোধন এবং খুলনায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশে (আইডিইবি) বাংলাদেশ-ভারত প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইপিএসডিআই) উদ্বোধন।

    এদিকে যৌথ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে ওই প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের জনগণের কাজে লাগবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত এক দশকে আমাদের উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত খাতে সহযোগিতা প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন ও অপ্রচলিত খাত যেমন ব্লুু ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) এবং মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি এবং সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে। তিনি বলেন, ‘এসব বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে আমাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণ ও সরকারের অপরিসীম অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এই অবদান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে চিরদিন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বক্তৃতার শেষাংশে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দীর্ঘজীবী হোক।’

    এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যই নয়, সারা বিশ্বের কাছে সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত। এবারের আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে।

  • বিমানে জন্ম, আজীবন আকাশ ভ্রমণ ফ্রি!

    বিমানে জন্ম, আজীবন আকাশ ভ্রমণ ফ্রি!

    ভারতের বেসরকারি এয়ারলাইন্স জেট এয়ারওয়েজে এক শিশু জন্ম নিয়েছে। সৌদি আরব থেকে ভারত যাওয়ার পথে শিশুটির জন্ম হয়। ওই বিমান কর্তৃপক্ষ শিশুটির আজীবন বিনামূল্যে আকাশ ভ্রমণের সুবিধা করে দিয়েছে। তবে শিশুটি পৃথিবীতে আসার ব্যাপারটি সহজ ছিল না।

    বিমান কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বিমানটি তখন ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে। হঠাৎ করে গর্ভবতী এক নারীর নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব ব্যথা শুরু হয়। বিমানে কোনো ডাক্তার না থাকায় একজন ক্রু ও এক যাত্রী নারীটিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন।

    অবশ্য তারা দুইজনই ছিলেন প্রশিক্ষিত নার্স।তাদের সাহায্যে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে মধ্য আকাশে জন্ম হয় শিশুটির। জেট এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি মুম্বাই পৌঁছানোর পর মা ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    বিমান কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছে। সফলভাবে একটি ছেলের শিশুকে পৃথিবীতে আনতে প্রসবকাজে সহায়তার জন্য বিমানের ওই যাত্রী ও কেবিন ক্রুকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে জেট এয়ারওয়েজ।
    এর আগে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ৪২ হাজার ফুট উঁচুতে এক শিশুর জন্ম হয়েছিল। প্রসঙ্গত, বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীদের গর্ভধারণের ৩৬ সপ্তাহ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের বিমানে চড়তে কোনো বাধা নেই।তবে এক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের ডাক্তারের স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি দেখাতে হয় যে তাদের গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে।

  • আড়ালে তিস্তা, উল্টো ভারত পেল ফেনী নদীর পানি

    আড়ালে তিস্তা, উল্টো ভারত পেল ফেনী নদীর পানি

    অনলাইন ডেস্ক ::

    নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আশাব্যঞ্জক কোনো আলোচনা হয়নি। দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তার পানি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ২০১১ সালের একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামোর কথা শেখ হাসিনা স্মরণ করিয়ে দিলেও অতীতের অজুহাত দেখিয়ে দায় সেরেছেন নরেন্দ্র মোদি। বরং উল্টো এখন ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে পানীয় হিসেবে সরবরাহে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ।

    শনিবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

    ২০১৭ সালের পর এই প্রথম নয়াদিল্লি সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটিই প্রথম ভারত সফর।

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাধার মুখে অতীতে বেশ কয়েকবার তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত পরিণতি পায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের সফরেও তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে কোনো সমঝোতা কিংবা চুক্তি সই হয়নি।

    তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ২০১১ সালে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দুই দেশের সরকার একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামোয় একমত হয়েছিল। এই চুক্তির বাস্তবায়ন জানার জন্য বাংলাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

    জবাবে নরেন্দ্র মোদি বলেন, তিস্তা চুক্তি যাতে দ্রুত সময়েল মধ্যে সম্পাদন করা যায়; সেলক্ষ্যে বিজেপি সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে দড় কষাকষি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কেউই। বরং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তিস্তার বিকল্প হিসেবে অন্য নদীর পানি নিয়ে আলোচনা কিংবা সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও সেসব প্রস্তাবও আলোর মুখ দেখেনি।

    দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে তিস্তা ছাড়াও আরো ছয়টি অভিন্ন নদী মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমারের পানি ভাগাভাগির ব্যাপারে শিগগিরই একটি খসড়া কাঠামো প্রস্তুত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এই খসড়া কাঠামো প্রস্তুত করতে যৌথ নদী কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের অনুমতি ছাড়াই কয়েক বছর ধরেই ফেনী নদী থেকে ভারত পানি উত্তোলন করছে। আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সীমান্তের জিরো লাইনে পাম্প বসিয়ে নদীটি থেকে পানি উত্তোলন করছে নয়াদিল্লি। পানি উত্তোলন না করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি।

    তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে সেই ফেনী নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামো তৈরি করতে যৌথ কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এখন এই ফেনী নদী থেকেই ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি নিয়ে ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম শহরের জনগণের জন্য সরবরাহে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ।

    তিস্তা চুক্তির বিষয়টি আড়ালে থাকলেও দুই দেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, সাতটি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দ্বিপাক্ষিক একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তিস্তার পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে এই কাঠামো অনুস্মরণ করা হতে পারে।

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদী রয়েছে ৫৪টি। এর মধ্যে পানিবণ্টন চুক্তি আছে শুধু গঙ্গা নিয়ে। সেই গঙ্গা চুক্তিতে ন্যায্যতা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিচুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দেয়ার কথা ভারতের; অথচ কোনো কোনো বছর মাত্র দেড় হাজার কিউসেক পানি পেয়েছে বাংলাদেশ। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে পাঁচ দশক ধরে। সর্বশেষ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তিতে রাজি হলেও তিস্তার পথে এখন বাধা পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে এসেছে। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানে এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও এখনো প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ভারতের শক্তিশালী সমর্থনের ব্যাপারে অনেকে আশাপ্রকাশ করলেও আপাতত তাতেও হতাশ হতে হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির দেয়া যৌথ বিবৃতিতে এবার রোহিঙ্গা শব্দটিও উচ্চারণ করা হয়নি। বিবৃতিতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ‘মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ প্রশস্ত করতে আরো প্রচেষ্টা দরকার বলে উভয় দেশ ঐক্যমতে পৌঁছেছে। তবে ভারত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কাজে সহায়তা করার লক্ষ্যে রাখাইনে ইতোমধ্যে আড়াইশ ঘর তৈরি করেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    সম্প্রতি ভারতের আসাম প্রদেশে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি) করায় সেখানকার ১৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন; যাদের অনেকেই বাংলাদেশি বলে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন। এমনকি এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোরও হুমকি এসেছে প্রায়ই।

    দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের ফাঁকে একটি বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সেই বৈঠকে এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু শনিবার নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর যে যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়েছে তাতে এনআরসি শব্দটিরও উল্লেখ নেই।