Category: আন্তর্জাতিক

  • স্ত্রীর ইচ্ছাপূরণে ১৮ মিনিটের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া করলেন স্বামী

    স্ত্রীর ইচ্ছাপূরণে ১৮ মিনিটের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া করলেন স্বামী

    স্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন হেলিকপ্টারের ভাড়া কত? আসলে স্ত্রীর ইচ্ছে হয়েছিল হেলিকপ্টারে চড়ার। আর সেই ইচ্ছে পূরণ করতে, আস্ত একটা হেলিকপ্টারই ভাড়া করে ফেললেন ভারতের রাজস্থানের এক স্কুল শিক্ষক। সস্ত্রীক স্কুল শিক্ষককে হেলিকপ্টারে চড়তে দেখার জন্য দল বেঁধে ভিড় জমালেন এলাকার মানুষ।

    জয়পুর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে রাজস্থানের মালাওয়ালি গ্রাম। একদিন সেই গ্রামের বাড়ির ছাদে বসে ছিলেন রমেশচন্দ মীন ও তার স্ত্রী সোমোতি। সেই সময় মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় একটি হেলিকপ্টার। কৌতূহলের ছলেই রমেশের স্ত্রী সোমোতি জিজ্ঞাসা করেন, হেলিকপ্টারে চড়তে কত টাকা নেয়?

    প্রশ্নের সঠিক উত্তর ছিল না রমেশের কাছে। কিন্তু তার মনে কথাটা গেঁথে যায়। তিনি তখনই ঠিক করে নেন স্ত্রীর হেলিকপ্টারে চড়ার ইচ্ছা পূরণ করবেন।

    যেমন ভাবা তেমন কাজ। স্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেন শনিবার(৩১ আগস্ট, ২০১৯)। সেই দিনই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া করেন। হেলিকপ্টারে চড়ে স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন রমেশ। আর তাদের দেখতে বাড়ির সামনে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন।

    স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণ করতে নয়াদিল্লির একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন রমেশ। সেখান থেকে জানানো হয় হেলিকপ্টারের ভাড়া পড়বে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রাজি হয়ে যান স্কুল শিক্ষক রমেশচন্দ মীন।

    মাত্র ১৮ মিনিটে পৌঁছে যান বাড়িতে। হেলিকপ্টার থেকে নেমে রমেশ বলেন, অল্প সময় হলেও এটা তার জীবনের অন্যতম সেরা দিন। এটা স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

  • মোদি সরকারের চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনায় ভারত মন্দায় ডুবছে বললেন মনমোহনসিং

    মোদি সরকারের চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনায় ভারত মন্দায় ডুবছে বললেন মনমোহনসিং

    ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ডঃ মনমোহন সিং তার দেশের অর্থনীতির অবস্থা গভীর উদ্বেগজনক অভিহিত করে বলেছেন, মোদি সরকারের সার্বিক চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা’ই এধরনের মন্দার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনমোহন সিং এমন এক সময় এধরনের মন্তব্য করলেন যখন বিজেপি সরকারের তথ্য বলছে গত ৩০ জুন পর্যন্ত শেষ ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের অর্থনীতি ধীরতম গতিতে প্রসারিত হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এমন মন্তব্য করেন। ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) প্রথম প্রান্তিকে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের প্রান্তিকে ৫.৮ শতাংশ এবং ২০১৮ সালের ৩০ জুনের শেষ প্রান্তিকে ৮.০ শতাংশ ছিল।

    ১৯৯১ সালে নরসিংহ রাও সরকারের অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন যে অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা করেছিলেন, তার জন্য তিনি মনমোহন সিং সর্বজনস্বীকৃত। একটি ভিডিও বিবৃতিতে মনমোহন বলন, ভারতের এই পথ অব্যাহত রাখার সামর্থ্য নেই। তাই আমি সরকারকে অনুরোধ করছি যে, জনগণের দ্বারা তৈরি এই সঙ্কট থেকে ভারতের অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য সুবিধাবাদী রাজনীতি বাদ দিয়ে এবং সমস্ত বুদ্ধিমান ও শুভচিন্তার মানুষদের মতামত ও চিন্তাভাবনার মননের কাছে পৌঁছাতে হবে। আরও দ্রুত হারে ভারতের অর্থনীতির গতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে তা উল্লেখ করে মনমোহন বলেন, গত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার পাঁচ শতাংশ, এটাই সংকেত যে আমরা দীর্ঘায়িত মন্দার মধ্যে রয়েছি।

    এদিকে একটানা পঞ্চম ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে হু হু করে! ২০১৩ সালের মার্চ কোয়ার্টারের পরে সবচেয়ে ধীর গতিতে নেমে দাঁড়িয়েছিল ৪.৩ শতাংশে। বিস্কুট থেকে গাড়ি বিক্রয়ে মন্দা এবং লাখ লাখ কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে জর্জরিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। এর পাশাপাশি বিনিয়োগের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং বৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার গত কয়েকদিনে চারটি খাতে এফডিআই বা বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের মান সহজ করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উপর উচ্চতর ট্যাক্স ফিরিয়ে আনাসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে বাজেটে ঘোষণার অংশ হিসাবে। গত শুক্রবার ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক একীভূত করে ব্যাঙ্কিং খাতে সংস্কারের ঘোষণা করেন।

  • মহারাষ্ট্রে ফ্যাক্টরিতে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ২০

    মহারাষ্ট্রে ফ্যাক্টরিতে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ২০

    ভারতের মহারাষ্ট্রে একটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জন হয়েছে।

    আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। মহারাষ্ট্রের শিরপুরের ওয়াগাধি গ্রামে অবস্থিত ওই কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে বিস্ফোরণের পর সেখানে আরও ৭০ জন চাপা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর এনডিটিভির।

    শ্রীপুরের মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন নামের ওই কেমিক্যাল কম্পাউন্ডের ভেতরেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

  • এক মাস পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা কাশ্মীরের দুই মুখ্যমন্ত্রীর

    এক মাস পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা কাশ্মীরের দুই মুখ্যমন্ত্রীর

    অনলাইন ডেস্ক : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহ এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান মেহবুবা মুফতিকে প্রায় এক মাস আগে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে তারা কোনো স্বজনের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি। প্রায় এক মাস পরে অবশেষে তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়েছে।

    গত ৫ আগস্ট তাদের গ্রেফতার করা হয়। ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে নেয়ার মাধ্যমে কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়া হয়। একই সঙ্গে কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তের আগে ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবেই সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

    ওমর আবদুল্লাহর পরিবার চলতি সপ্তাহে দু’বার শ্রীনগরের হরি নিবাসে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ক পদক্ষেপের পরপরই আবদুল্লাহকে এখানে নিয়ে আসা হয়। তার বোন সাফিয়া এবং তার সন্তানদেরও শনিবার ২০ মিনিটের জন্য আবদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    বৃহস্পতিবার মেহবুবা মুফতির মা ও বোনকেও তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পিডিপি সভাপতি মুফতি চেসমাশাহীতে পর্যটন বিভাগের একটি আবাসে রয়েছেন। ওই ভবন এখন সাব-জেল হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

    ওমর আবদুল্লাহর বাবা এবং তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহকেও গৃহবন্দি করা হয়েছে। তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের কোনো অনুমতিও দেওয়া হয়নি। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত কয়েক সপ্তাহে তিনবার তাকে দেখতে গিয়েছেন। তবে বারবার তার ছেলের সাথে দেখা করতে চাওয়ার অনুরোধ করলেও তা অস্বীকার করা হয়।

    ওমর আবদুল্লাহ বা মেহবুবা মুফতিকে কোনো চ্যানেলে সংবাদ দেখা বা সংবাদপত্র পড়ারও অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে কর্মকর্তারা প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রীকে সিনেমা দেখার জন্য একটি ভিডিও প্লেয়ার পাঠিয়েছেন। ৪৯ বছর বয়সী ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহ বই পড়েন এবং নিয়মিত হরি নিবাসের চত্বরে হাঁটাহাটি করেন।

    যদিও কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা ধীরে ধীরে জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করছে তবে রাজনৈতিক নেতাদের শিগগিরই মুক্তি পাওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। গভর্নর সত্য পাল মালিক সম্প্রতি কৌতুক করে বলেছেন যে, বন্দি ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতির পক্ষে বন্দি থাকাই উপকারী কারণ যখন তারা বেরোবেন আরও বেশি ভোট পেতে পারবেন।

  • আসামের নাগরিকত্ব তালিকা নিয়ে যা বললেন ইমরান খান

    আসামের নাগরিকত্ব তালিকা নিয়ে যা বললেন ইমরান খান

    চূড়ান্ত নাগরিকত্ব তালিকা- এনআরসি প্রকাশ করেছে ভারতের আসাম রাজ্য। এতে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পেলেন ৩ কোটি ১১ লাখ বাসিন্দা। রাষ্ট্রহীন হলেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ বাঙ্গালি। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা নাগাদ অনলাইনে প্রকাশ করা হয় তালিকাটি।

    এই তালিকা প্রকাশের পর টুইট করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ওই টুইটে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি নিউজ শেয়ার করে তিনি বলেন, ভারত এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে খবর আসছে মোদী সরকার কীভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে জাতিগতভাবে নির্মূল করতে চাইছে। ফের আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন ইমরান। গোটা বিশ্বের কাছে অশনি সংকেতের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। মুসলিমদের লক্ষ্য করেই কাশ্মিরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার।

  • দিল্লীতেও নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশের দাবি বিজেপি নেতার

    দিল্লীতেও নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশের দাবি বিজেপি নেতার

    আসামের পর এবার রাজধানী দিল্লীতেও নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশের দাবি জানালেন দিল্লি বিজেপির প্রধান মনোজ তিওয়ারি। শনিবার সকাল ১০টায় আসামের নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশের পর মনোজ তিওয়ারি বলেন, রাজধানীতেও এনআরসির প্রয়োজন। দিনদিন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা রাজধানীর জন্য ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এখানেও আমরা এনআরসি চালু করব।

    এর আগে সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, রাজধানীতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন ২০ লাখ মানুষ। উদ্বাস্তুর সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর তফাত রয়েছে। সীমান্ত পার হয়ে এসে এরা নথি বানিয়ে নিচ্ছে। ভারতের মতো জনবহুল দেশে এমনিতেই মানুষের কর্মসংস্থান করতে সরকারের নাভিশ্বাস উঠেছে। তার ওপরে এরা চেপে বসেছে। এরা শুধু দেশের বোঝাই নয়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এরা বিপদজনক হয়ে উঠছে।

  • আসামে বাদ পড়া অধিকাংশই হিন্দু বাঙালি!

    আসামে বাদ পড়া অধিকাংশই হিন্দু বাঙালি!

    ভারতীয় আসাম রাজ্য নাগরিক নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। দেড় বছর আগে খসড়া প্রকাশের পর শনিবার সকাল ১০টায় এই চূড়ান্ত তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    তিন কোটি ৩০ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে তিন কোটি ১১ লাখ লোককে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাজেই ১৯ লাখ লোক রাষ্ট্রহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এ আশঙ্কায় যুক্ত হয়েছেন সেখানের হিন্দু বাঙালিরা। তালিকা থেকে বাঙালিরাই বেশি বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাঙালি হিন্দু নেতারা।

    শুক্রবার গুয়াহাটি থেকে প্রকাশিত স্থানীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম যুগশঙ্খ জানিয়েছে, আসামের হিন্দু বাঙালিদের নথি-সংকট রয়েছে। তাদের অনেকের কাছে নাগরিকত্ব লাভের দালিলিক প্রমাণ নেই।

    আর সারা আসাম বাঙালি ঐক্যমঞ্চ, বাঙালি যুব-ছাত্র ফেডারেশ, বেঙ্গলি ইউনাইটেড ফোরাম সেসব নথির ভিত্তিতেই চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ করবে। সে হিসেবে হিন্দু বাঙালিরাই বাদ পড়ার আশঙ্কা বেশি।

    এ বিষয়ে রাজ্যের বাঙালি নেতাদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে শরণার্থীর প্রমাণপত্র, নাগরিক সনদ, রিলিফ ইনজিবিলিটি সার্টিফিকেটের মতো নথি আমলে নেয়া হয়নি। ফলে তালিকা থেকে হিন্দু বাঙালিরাই বেশি বাদ পড়বেন।

    বাঙালি নেতাদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সারা আসাম বাঙালি যুব-ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক নেতা চিত্ত পাল বলেন, নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই হিন্দু বাঙালিদের কাছে।

    চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়াদের ১৭-১৮ লাখ হিন্দু বাঙালি রয়েছেন বলে অনুমান করছেন তিনি।

    আসাম সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধনে(এনআরসি) তিন কোটি ১১ লাখ লোক আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে ১৯ লাখকে বাদ দেয়া হয়েছে।

    আসাম সরকার জানায়, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’দের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যেই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

    তালিকায় নাম না-থাকাদের এখনই বের করে দেয়া হবে না বলে কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করলেও এর মাধ্যমে আসামের সংখ্যালঘু বাঙালি বিশেষত মুসলমানদের ‘উইচ হান্টিং’-এর শিকার হতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়া আবেদনকারীরা তালিকায় নাম ওঠাতে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন বলে আগেই জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া শৈলেশ। তিনি বলেন, আপত্তি করার জন্য জনগণকে পর্যাপ্ত এবং যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হবে।

  • মোদিকে ‘কমান্ডার ইন থিফ’ বলায় রাহুল গান্ধিকে আদালতে তলব

    মোদিকে ‘কমান্ডার ইন থিফ’ বলায় রাহুল গান্ধিকে আদালতে তলব

    প্রধানমন্ত্রীকে ‘কমান্ডার ইন থিফ’ বলায় রাহুল গান্ধিকে তলব করেছে মুম্বাই আদালত। আগামি ৩ অক্টোবর তাকে শুনানির জন্য হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    রাফয়েল চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর বিজেপি সরকারকে লাগাতার দোষারোপ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। এক টুইটবার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। নরেন্দ্র মোদীকে ‘কমান্ডার ইন থিফ’ বলে অভিহিত করেন

  • বিজেপি ‘মাইনকার চিপায়’

    বিজেপি ‘মাইনকার চিপায়’

    ভারতের আসাম রাজ্যে আজ শনিবার জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তথা এনআরসি প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার বাংলা সংস্করণে পার্থ প্রতীম মৈত্রের আসাম এনআরসি: উৎকণ্ঠার অবসান নাকি উৎকণ্ঠার সূত্রপাত? শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এখানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো।

    আজ ৩১ অগাস্ট, দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার অবসান। অথবা আজ ৩১ অগাস্ট, দীর্ঘদিনের জন্য উৎকণ্ঠার শুরু। আজই প্রকাশিত হয়েছে এনআরসি বিষয়ক শেষ বা আপাতত শেষ সংযোজন এবং বিয়োজন তালিকা। গত ৩০ জুলাই, ২০১৮-য় যে পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায় একচল্লিশ লক্ষ মানুষের নাম তালিকাচ্যুত ছিল। এরপরেও হঠাৎ অনাগরিক হয়ে যাওয়া চল্লিশ লক্ষ মানুষের ক্রোধ এবং ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়নি। যে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় সরকার বাধ্য হয়েছিল তালিকা প্রকাশের অব্যবহিত আগে ঘোষণা করতে যে, এই তালিকায় নাম না থাকা মানেই ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে যাওয়া নয়। এরপরও অনেক সুযোগ থাকবে তালিকায় নাম তোলার। নাম ওঠেনি অথবা উঠলেও কেটে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় মৃতবৎ জীবিত রয়েছেন আসামের মানুষ, বিশেষত নিম্নবর্গের মানুষ, যারা এই কর্মযজ্ঞের যূপকাষ্ঠের বলি।

    অতএব মানুষ আতঙ্কিত হলেও, চূড়ান্ত বিক্ষুব্ধ হলেও, নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন, তার কারণ ক্লেইমস অ্যান্ড অবজেক্টিভস বলে একটি পর্যায় অবশিষ্ট ছিল, যেখানে তারা পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানাতে পারেন। পাশাপাশি, যাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের নামের বিরুদ্ধেও অবজেকশন জানানোর জন্য হাজির থেকেছে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী, যারা এই তথাকথিত বিদেশীর সংখ্যাকে পঞ্চাশ লক্ষের ওপরে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। ফলে যে উৎকন্ঠা নিয়ে এতদিন অপেক্ষা করেছেন আসামের মানুষ, সেই উৎকন্ঠার এবার অবসান হওয়ার কথা।

    কিন্তু ভারতবর্ষের রাজনীতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কোন ইস্যুরই চূড়ান্ত সমাধান হয়ে যায় না। কিছুদিন পরপর ঘুরে ফিরে সেই ইস্যুটিকে খুঁচিয়ে তোলা হয়। নাগরিক চিহ্নিতকরণের চূড়ান্ত পর্যায়েও প্রকৃত ভারতীয় এবং প্রকৃত বিদেশির মধ্যে একটি বড় অন্তর রয়েছে, তার নাম বিচার ব্যবস্থা। যে বিচার ব্যবস্থার সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এনআরসির কার্য সম্পন্ন হচ্ছে। আপাতত আজকের তালিকায় যাদের নাম অপ্রমাণিত ভারতীয় বা অনাগরিক হিসাবে চিহ্নিত হবে, তারা এক শ’ কুড়ি দিনের মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।

    ট্রাইব্যুনালের কথায় পরে আসছি। কিন্তু শাসক দল বিজেপি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মুখপাত্ররা হঠাৎ অতি উৎসাহী হয়ে যাতে প্রকৃত ভারতীয়ের নাম বাদ না পড়ে, তার জন্য উৎকন্ঠিত। সংবাদ সম্মেলন করে তারা এও জানাচ্ছেন যে প্রতীক হাজেলার অদক্ষতার এবং অপরিণামদর্শিতার জন্য ত্রুটিমুক্ত তালিকা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বিজেপির বক্তব্য, এই তালিকা থেকে এমন অসংখ্য মানুষ বাদ গেছেন যারা প্রকৃত ভারতীয়, এবং অসংখ্য নাম রয়েছে যেগুলি প্রকৃত বিদেশি। ফলে এই মুহূর্তে ত্রুটিমুক্ত নাগরিকপঞ্জি আশা না করাই ভালো।

    বিজেপির আরো বক্তব্য যে ৪০ লক্ষ তালিকাচ্যুত মানুষের মধ্যে ৩৬ লক্ষ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। বাকি যে চার লক্ষ আবেদন করেননি, তারা হয় ক্লেইমসের বিষয়টি বুঝতে পারেননি, অথবা তারা প্রকৃত বিদেশি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নতুন করে আবেদন জানাননি। মনে হতে পারে, কে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন জানাননি আর কে বোঝার অক্ষমতার জন্য, তা কী করে বোঝা যাবে? বিজেপির কাছে এ সমস্যা জলবৎ তরলং। যারা হিন্দু, তারা প্রকৃত ভারতীয় আর মুসলিম, মানে বাঙালি মুসলিমরা হলেন বিদেশি।

    আসলে উগ্র হিন্দুত্বের লাভ দেখতে গিয়ে বিজেপি পড়ে গেছে ‘মাইনকার চিপায়’। এনআরসিবিষয়ক যে অঙ্কটি কষতে ভুল করেছিল বিজেপি তা হলো, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিভাজনের সমস্যা শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, ভাষারও। ফলে এক ভাষাভাষীর লোকের সঙ্গে অন্য ভাষাভাষী লোকের বৈরিতা এনআরসির ডাটা ভেরিফিকেশনের সময় বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। যেহেতু ধরেই নেওয়া হয়েছে যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে মূলত বিদেশিরা আসামে প্রবেশ করেছেন এবং তারা মূলত বাঙালি, ফলে বাঙালি পরিচিতি দেখলেই এক ধরনের সন্দেহপ্রবণতা এনআরসি সেবা কেন্দ্রগুলির সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিরূপ মনোভাব হিসেবে কাজ করেছে।

    ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রেও তাই। এবং এই যে আজ খিলঞ্জিয়া স্বার্থরক্ষার প্রেক্ষাপটে আসাম চুক্তির ধারা বিশেষের প্রসঙ্গ উঠছে, সেটিও মূলত এই কারণেই। আসামের মূল দ্বন্দ্ব ছিল ভাষাগত বৈরিতা। যখন থেকে আরএসএস আসামে ক্রিয়াশীল হয়েছে, তখন থেকে খুব ধীরে ধীরে এটি ধর্মীয় বিভাজনের দিকে পাশ ফিরে শুয়েছে। কিন্তু ভাষাগত বৈরিতার জায়গাটি থেকেই গেছে। এনআরসি ঝাড়াই-বাছাই এর সময় মূলত মুসলিম জনসংখ্যাই বাদ পড়বে সবচেয়ে বেশি, বিজেপির এই অনুমান সম্ভবত বুমেরাং হতে চলেছে। অধিকাংশ না হোক, একটা বড় সংখ্যক হিন্দু নাম তালিকাচ্যুত হতে চলেছে, এটা তাদেরও আশঙ্কা।

    এই হিসেবের গরমিল তারা এনআরসি প্রক্রিয়ার মাঝামাঝি সময় থেকে বুঝতে পারে। ফলে বিকল্প হিসেবে তারা ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ আনার প্রলোভন দেখায়, যেটি আবার অসমিয়া জাতিসত্তার কাছে প্রতারণা বলে মনে হয় এবং তারা এর সার্বিক বিরোধিতায় নেমে পড়ে। তবু ২০১৪ সালকে ভিত্তি বর্ষ ধরে বৃহত্তর হিন্দু ধর্মসম্প্রদায় যারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে এই দেশে প্রবেশ করেছেন, তাদের এই দেশেই নাগরিকত্ব বিধানের ব্যবস্থা করা হবে বলে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেয়। যদিও লোকসভায় পাশ করার পর, রাজ্যসভায় সে বিল আর তোলাই হলো না। ‘সিটিজেনশিপ আমেন্ডমেন্ট বিল, ২০১৬’, যেটি লোকসভায় পাশ করা হয়েছিল, সেখানে কিন্তু নাগরিকত্ব বিধানের কোনো সহজ পন্থার কথা বলা ছিল না। বিলে শরণার্থী হিন্দুদের ধরে বিতাড়িত করে দেয়া হবে না, এইটুকু নিশ্চয়তা দেয়া ছিল।

    আর আজ যারা এনআরসি প্রক্রিয়ায় বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাদের ট্রাইব্যুনালের কাছে অ্যাপিল করতে হবে, অথবা সরকার ট্রাইব্যুনালে কেসগুলো রেফার করবে। প্রতিটি কেসের সব ডকুমেন্টের অরিজিনাল পেশ করতে হবে ট্রাইব্যুনালে। চিহ্নিত বিদেশিকে নোটিস ধরাতে হবে। ৪০-৫০ লাখ চিহ্নিত বিদেশী, তাদের অধিকার থাকবে প্রয়োজনে নতুন ডকুমেন্ট পেশ করে নিজের দাবিকে মজবুত করার, এমনকি উকিল পর্যন্ত নিয়োগ করার।

    দাবি উঠেছে যে এনআরসি কর্তৃপক্ষকে ‘কজ অব রিজেকশন’ জানিয়ে দিতে হবে, অর্থাৎ কেন তার নাম বাতিল করা হয়েছে তা জানাতে হবে, যার ভিত্তিতে তিনি অ্যাপিল করবেন ট্রাইব্যুনালে। ফলে ৪০-৫০ লক্ষ মানুষের কেস বিচার করতে অনন্ত সময় লেগে যাবে। উপরন্তু ট্রাইব্যুনাল তো রায় দেয় না, মত দেয়। তাই ট্রাইব্যুনালের রায় পছন্দ না হলে যাঁদের সঙ্গতি আছে, তাঁরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করতে পারেন। সেখানেও সন্তুষ্ট না হলে সুপ্রিম কোর্ট, অর্থাৎ যে কোর্ট থেকে বল গড়াতে শুরু করেছিল।

    চূড়ান্ত এইসব দেশহীন নাগরিকত্বহীন না-মানুষদের নিয়ে কী করা হবে, তা আমাদের দেশ শাসকদের অজানা। শোনা যাচ্ছে, গোয়ালপাড়া জেলায় সরকার বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করেছে ক্যাম্প তৈরি করে তালিকাচ্যুত আবেদনকারীদের সুরক্ষিত রাখার জন্য। যাঁরা বিজেপির সদিচ্ছায় এবং সিটিজেনশিপ আমেন্ডমেন্ট বিল-এর কার্যকারিতায় অতিরিক্ত আস্থাবান, তাদের শুধু এটুকু বলার যে, এই বিল নিয়ে অনেক আলোচনা পর্যালোচনার পর ঠিক হয়েছে যে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবৈধভাবে প্রবেশ করা অমুসলিম মানুষটিকে প্রথমে ঘোষণা করতে হবে যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। দ্বিতীয়ত, তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে এদেশে চলে এসেছেন এবং আবেদন করতে হবে নাগরিকত্বের জন্য। ছয় বছর তাঁর ভারতবাসের প্রমাণ দিতে হবে।

    সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে এদের কোথায় থাকতে দেয়া হবে তা নিয়ে। কারণ এদের আসামে রাখার মানে এনআরসি-কে নস্যাৎ করার সমতুল্য। এতদিন ধরে অসমিয়া জনগণকে এনআরসির হাওয়া দিয়ে আজ হঠাৎ যদি বলা হয় এনআরসি পর্বতের মূষিক প্রসবমাত্র, তাহলে তাদের পক্ষে সেটা মেনে নিতে আগ্রহী হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    কিন্তু তার চেয়েও বেশি যে সমস্যাটি অনেককে ভাবিয়ে তুলছে, তা হলো আসামের অধিকাংশ মানুষই ভারতীয়ত্বের প্রমাণপত্র দাখিল করেছেন। দাবি করেছেন যে তারা ভারতীয় নাগরিক। ট্রাইব্যুনাল যদি এনআরসি এবং প্রশাসনের প্রেফারেন্স অনুযায়ী তাঁদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন তাদের নতুন করে দাবি করতে হবে তাঁরা আসলে ভারতীয় নন। একবার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রচেষ্টা এবং তারপরে সেই একই ব্যক্তির বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রচেষ্টা, এই দুইয়ের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত হবে কিনা তা আইনজ্ঞরা বলতে পারবেন। কিন্তু এইটুকু বলাই যায় যে যাঁরা ভারতীয় হিসেবে এনআরসি-তে আবেদন দাখিল করেছেন, তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে চেষ্টা করলে আইনের চোখে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবেন।

    একদিকে আসাম-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখলে রাখার হাতছানি, সে উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল তাকে তুলে রাখতে হয়। অন্য দিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করিয়ে সারা ভারতবর্ষে মুসলিম নির্বাসনকারী হিন্দু মসিহা হয়ে দখল মজবুত করা। এই দুই বিপরীতমুখী লাভের হাতছানিতে বিজেপি কোন পথ বেছে নেয় সেটাই দেখার। শাসক সব সময়ে শরণার্থী এবং অনুপ্রবেশকারী নামে দুটি আলাদা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব সৃষ্টি করে, স্থায়ী বাসিন্দাদের তাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলে। আসামের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এনআরসি প্রক্রিয়ায় শরণার্থী, অনুপ্রবেশকারী এবং খিলঞ্জীয়া নামে তিনটি ভাষিক ও ধর্মীয় বিভাজন করে একের বিরুদ্ধে অন্যকে লড়তে উৎসাহিত করে আসছে।

    ভারতের অন্য রাজ্যগুলোও এতে প্রলুব্ধ হচ্ছে। ফলে দেশব্যপী এক দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের সূচনাকাল উপস্থিত। অমিত শাহেরা হুংকার দিচ্ছেন, আসামের পর এবার সারা ভারতে এনআরসি চালু হবে। সব অনুপ্রবেশকারীদের ভারত থেকে খেদানো হবে। সুকৌশলে ২০২১-এর সেন্সাসের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে পপুলেশন রেজিস্টার তৈরি করার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ।

    উল্টোদিকে, কেউ কেউ ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করেছেন, এই নতুন গেজেট নোটিফিকেশনের সঙ্গে এনআরসি-র কোনও সম্পর্ক নেই। এটা তো এনপিআর, ন্যাশন্যাল পপুলেশন রেজিস্টার। ২০২১- এর সেন্সাসের জন্য পপুলেশন ডাটা সংগ্রহ করা। এনআরসি প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায় যাদের মনে আছে তারা জানেন যে একই প্রক্রিয়ায় ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ভোটার লিস্টের ভিত্তিতে লিগ্যাসি ডাটাবেস তৈরি করা হয়েছিল, যার ওপর দাঁড়িয়ে আসামে এনআরসি প্রক্রিয়া চলেছে। এনপিআর তারই সর্বভারতীয় সংস্করণ।

    “In pursuance of sub-rule(4) of rule 3 of the Citizenship (Registration of Citizens and Issue of National Identity Cards) Rules, 2003, the Central government hereby decides to prepare and update the Population Register…… ”

    এটাই তো লেখা আছে এই গেজেট নোটিফিকেশনে? উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং পদ্ধতি বিচারে এনআরসির সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়? মনে রাখতে হবে, এই পপুলেশন রেজিস্টার এনুমারেশন থেকে আসামকে বাদ রাখা হয়েছে। কেননা এনপিআর এবং এনআরসির মধ্যে কোনো তফাত নেই।

    আজ ৩১ অগাস্ট, ভাগ্যবান আসামবাসী, যারা অবশেষে নাগরিকত্বের ছাড়পত্র পেলেন, তাদের দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার অবসান। অথবা আজ ৩১ অগাস্ট, ভাগ্যহীন আসামবাসী, যাদের নাম তালিকাচ্যুত হলো, তাদের দীর্ঘদিনের জন্য উৎকণ্ঠার শুরু। আরও বহুদূর যেতে হবে তাদের। যাদের সঙ্গতি নেই তারা ট্রাইব্যুনালেই নিঃস্ব হয়ে, হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টের দিবাস্বপ্ন দেখবেন, আর ঈশ্বরকে অভিশাপ দেবেন। তাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে সরকারি ডিটেনশান ক্যাম্প।

  • ভিক্ষুক থেকে যেভাবে ৫০ কোটি টাকার মালিক

    ভিক্ষুক থেকে যেভাবে ৫০ কোটি টাকার মালিক

    এক সময়ে ভিক্ষা করে পেট চালাতেন। কিন্তু সেই মানুষটাকে দেখলে আজ আর আপনি সে কথা বিশ্বাসই করতে চাইবেন না। কারণ তিনি আজ প্রায় ৫০ কোটি টাকার মালিক। তার পোশাক আশাকেও ছড়িয়ে আছে টাকার জেল্লা।

    তার নাম রেনুকা আরাধ্য। ভারতের বেঙ্গালুরু শহরের আনেকাল তালুকের ছোট্ট গ্রাম গোপাসান্দ্রাতেই তার জন্ম। বাবা পুরোহিত ছিলেন। কিন্তু রোজ কাজ পেতেন না। পাঁচজনের সংসারে খাবার জোটাতে তাই বাবার সঙ্গে ভিক্ষা করতেন রেনুকা-ও। অথজ আজ পরিবহন ব্যবসা থেকে বছরে আয় ৩৮ কোটি টাকা!হায়দরাবাদ, চেন্নাইয়ের ট্যাক্সি পরিষেবার কথা বললে সবার প্রথমে তার সংস্থার কথাই সবাই বলে উঠবেন।

    ভিক্ষুক থেকে সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার পথটা মোটেও সহজ ছিল না। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রেনুকা। বড় ভাই আর বোনকে পড়াশোনার জন্য বেঙ্গালুরু পাঠিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু রেনুকা থাকতেন বাবা-মার সঙ্গেই। গোপাসান্দ্রারই একটি স্কুলে পড়তেন তিনি। তবে বাবার কাজে হাত লাগানোর জন্য বেশির ভাগ দিনই স্কুলে যেতে পারতেন না। দরিদ্রদের বিনা পয়সায় চাল, রাগি, জোয়ার বিলি করা হত যেখানে, খবর পেলেই বাবার সঙ্গে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতেন তিনিও। ভিক্ষা বা চেয়ে চিন্তে আনা সেসব দ্রব্য বাজারে বিক্রি করে বাড়ির লোকদের জন্য খাবার কিনে আনতেন রেনুকা।

    ১২ বছর বয়সে তাকে তার বাবা একটি বাড়িতে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করার জন্য পাঠিয়ে দেন। সেখানে গবাদি পশুর দেখাশোনা থেকে শুরু করে বাড়ির যাবতীয় কাজ করতে হত রেনুকাকে। তবে পড়াশোনার প্রতি তার ঝোঁক ছিল। কাজের ফাঁকে টুকটাক পড়াশোনা চালিয়ে যেতেন তিনি। নিজের আয়ের টাকায় চিকপেটের একটি স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু এর তিন বছর পরই বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে গ্রামে ফিরে আসেন।

    তারপর আর পড়াশোনার সুযোগ পাননি। মা অর বড় বোনের সমস্ত দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। কেননা তখন তার বিবাহিত ভাইটি যে মা-বোনের দায়িত্ব নিয়ে অস্বীকার করেছিলেন।

    সংসার চালাতে মাত্র ১৫ বছর বয়সে এক কারখানায় কাজ শুরু করেন রেনুকা। তারপর একটা প্লাস্টিক কারখানায় যোগ দেন। কিন্তু সেই উপার্জনও যথেষ্ট ছিল না পরিবারের জন্য। তাই একই সঙ্গে রাতে দারোয়ানের কাজও করেছেন। এরপর একটা ছাপাখানায় ঝাড়ুদারের কাজ পান রেনুকা। ছাপাখানার মালিক তার সততায় খুশি হয়ে তাকে কম্পিউটারের বেসিক কাজ শিখিয়ে ছাপাখানায় কাজ দিয়ে দেন। টানা এক বছর তিনি সেখানেই ছিলেন। তারপর তিনি একটি সংস্থার সেলসম্যান হন।

    রেনুকা যখন ২০ বছরের তরুণ তখন তার পুষ্পা নামে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয়। ভালোবেসে তাকেই বিয়ে করেন। এরপর কখনও কাপড়ের দোকান, কখনও মালির কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। গাছ বেয়ে উঠে নারকেল পেরেও সংসার চালিয়েছেন। সেই সময় তার মাসে আয় ছিল মাত্র ৬০০ টাকা।

    তখন সতীশ রেড্ডি নামে এক গাড়ি চালকের সঙ্গে পরিচয়ই হয় তার। আর এই ঘটনা তার ভাগ্য বদলে দেয়। সতীশের কাছ থেকে গাড়ি চালানো শেখেন আরাধ্য। চার বছর লাশবাহী গাড়ির চালক হিসাবে কাজ করেন তিনি। তারপর ঠিক করেন, ঋণ নিয়ে নিজের ট্রাভেল এজেন্সি খোলার।

    ২০০৬ সালে দেড় লক্ষ টাকা ঋণের বিনিময়ে জীবনের প্রথম গাড়িটা কিনে ফেললেন আরাধ্য। প্রথমে নিজেই গাড়ি চালাতেন। ব্যবসায় লাভ থেকে ক্রমে আরও ছয়টা গাড়ি কেনেন। ১২ ঘণ্টা করে দুই শিফটের জন্য ১২ জন চালকও রাখেন। ক্রমে তার ব্যবসা এতটাই বড় হয়ে যায় যে, এখন তিনি ৮শ গাড়ির মালিক। দিনরাত হায়দরাবাদ এবং চেন্নাইয়ের যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে তার সংস্থার গাড়ি। এখন বছরে আয় ৩৮ কোটি টাকা। তবে এতেই সন্তুষ্ট নন রেনুকা। এখন তার টার্গেট বছরে ১০০ কোটি আয় করা।

    রেনুকার ট্যাক্সি কোম্পানির নাম ‘প্রবাসী ক্যাব’। ভিখারি থেকে কোটিপতি হওয়ার পরও নিজের আদর্শ থেকে এক পা পিছু হটেননি রেনুকা। তার আদর্শ হলো: ‘বড় স্বপ্ন দেখুন, ঝুঁকি নিন। আর সৎপথে থাকুক।’সততাই রেনুকার জীবনের মূলমন্ত্র, যার ওপর ভর করে এত দূর উঠে এসেছেন রেনুকা।