Category: আন্তর্জাতিক

  • অ্যামাজনের সহস্রাধিক স্থানে নতুন করে আগুন

    অ্যামাজনের সহস্রাধিক স্থানে নতুন করে আগুন

    ১৫ আগস্ট থেকে জ্বলছে ‘দুনিয়ার ফুসফুস’ খ্যাত ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। এরমধ্যেই গত বৃহস্পতি থেকে শুক্রবারের মধ্যে নতুন করে অ্যামাজনের এক হাজার ২০০টি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্স জানিয়েছে, ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৪ হাজার দফায় অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে এ বনভূমি। তবে আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে এবারের আগুন সবচেয়ে ভয়াবহ। এ আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী ও বাণিজ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো-র নীতিকে দায়ী করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বন পুড়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নীতির জন্য নিজ দেশের পরিবেশবাদীদের কাছেও তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। সর্বশেষ আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তার ঘটনায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুমকি দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাজিলিয়ান অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে অন্য দেশগুলো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চাপের মুখে শনিবার অ্যামাজনে সেনা মোতায়েন করে বলসোনারো সরকার। এরমধ্যেই সেখানে নতুন করে সহস্রাধিক স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর এলো।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে সহস্রাধিক স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের শরণাপন্ন হয়েছে ছয়টি রাজ্য। বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ রকমের আগুনের কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে। এসব রাজ্যের কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনীর সহায়তা চাইছে।

    শনিবার পরিবেশমন্ত্রী রিকার্ডো সেলেস জানান, সেনা সহায়তা চাওয়া রাজ্যগুলো হচ্ছে পারা, রন্ডোনিয়া, রোরাইমা, টোকানটিন্স, একর এবং ম্যাটো গ্রোসো।

    আগুন নিয়ন্ত্রণে ৪৪ হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফার্নান্দো আজেভেদো। যেসব রাজ্য থেকে সহায়তা চাওয়া হয়েছে সেসব রাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে দুইটি সি-১৩০ হারকিউলিস এয়ারক্রাফট ব্যবহার করবে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এসব এয়ারক্রাফট ১২ হাজার লিটার পানি ছিটাতে সক্ষম।

    ফার্নান্দো আজেভেদো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তার কথা বললেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে কোনও সহায়তা দিচ্ছে না। এক ফোনকলে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোকে ওই সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আর কোনও কথা হয়নি।

    যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে নীরব থাকলেও অ্যামাজন জঙ্গলকে বাঁচাতে বিমান থেকে পানি ঢালার উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। আগুন নিয়ন্ত্রণে সুপারট্যাংকার বোয়িং বিমান ৭৪৭-৪০০ ভাড়া করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। শুক্রবার থেকেই আকাশপথে ওই সুপারট্যাংকার নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে যে কোনও পদক্ষেপকে সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দুনিয়ার ২০ শতাংশ অক্সিজেনের জোগান দেওয়া অ্যামাজনের ভয়াবহ এ আগুন আদতে কোনও দুর্ঘটনা নয়। সেখানে যে আগুন জ্বলছে তার বেশিরভাগই লাগাচ্ছে কাঠুরে ও পশুপালকেরা। গবাদি পশুর চারণভূমি পরিষ্কার করতে এসব আগুন লাগানো হচ্ছে। আর এতে উৎসাহ জোগাচ্ছেন ট্রাম্পপন্থী হিসেবে দেশটির উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। তিনি ব্রাজিলের ট্রাম্প হিসেবেও পরিচিত।

    আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অ্যামাজনে আগুন লাগানোর ঘটনায় ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় দেশটি থেকে গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধের বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ফিনল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ব্রাজিলের গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করার কথা দ্রুত ভাবার আহ্বান জানান। অন্যদিকে ব্রাজিলের এই শিল্প সম্প্রসারণে গত জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি যাতে কার্যকর না হয় সে বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার ঘোষণা দেয় ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ড। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিক থেকে আসা উপর্যুপরি অর্থনৈতিক চাপের মুখে দৃশ্যত অ্যামাজনের সুরক্ষায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

    চাপের মুখে সেনা মোতায়েন করা হলেও টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, পুরো দুনিয়াতেই বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে। ফলে এটিকে ব্রাজিলের ওপর সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো যেতে পারে না।

    বিস্তৃত জঙ্গলের প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এলাকা, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

    অ্যামাজন ধ্বংসের মাধ্যমে ব্রাজিল সরকার আত্মঘাতী পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। দেশটির একজন শীর্ষ বিজ্ঞানী সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্স স্টাডিজের সিনিয়র গবেষক কার্লোস নোবরে মনে করছেন, এই পথ থেকে ব্রাজিল সরকারকে সরানোর একমাত্র উপায় আন্তর্জাতিক চাপ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো সরকারের আমলে বন ধ্বংসের গতি তীব্র হয়েছে। পরিবেশ সংস্থাকে দুর্বল করে এবং খনিওয়ালা, কৃষক ও কাঠুরেদের সমর্থন দিয়ে বলসোনারোর সরকার বনাঞ্চল ধ্বংসে উৎসাহ দিচ্ছে। পরিস্থিতি খুব খারাপ। এর পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে। এসব আগুনের অনেকাংশেরই কারণ সাংস্কৃতিক চাপ, যা মন্ত্রীরা দিচ্ছে। তারা অরণ্য বিনাশে জোর দিচ্ছে কারণ তা অর্থনীতির জন্য ভালো। এতে যারা অবৈধভাবে বন ধ্বংস করে তারা শক্তিশালী হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।

  • জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়: রাহুল গান্ধী

    জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়: রাহুল গান্ধী

    জম্মু-কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। বিরোধী প্রতিনিধিদলকে শ্রীনগরে ঢুকতে না দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করলেন ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার সাবেক কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতাদের শ্রীনগর থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। দিল্লিতে ফিরেই জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কংগ্রেস এই নেতা।

    তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সুতরাং তাঁর আমন্ত্রণ আমি গ্রহণ করি। রাজ্যপাল বলেছিলেন, সেখানকার সমস্ত কিছু স্বাভাবিক এবং রাজ্য সফরের জন্য আমাকে বিমান পাঠাবেন। তাঁকে বলেছিলাম, আমার জন্য আপনাকে বিমান পাঠাতে হবে না। তবে আমি আপনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করছি এবং জম্মু-কাশ্মীর যাবো।’

    রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ‘সেখানকার বাসিন্দাদের অবস্থা দেখে প্রয়োজনে সহযোগিতা করার উদ্দেশে আমরা সেখানে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত বিমানবন্দরের বাইরে আমাদের যেতে দেওয়া হল না। এ থেকেই পরিস্কার ।’

    গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশের মর্যাদা তুলে নেয় ভারত সরকার। এরপর থেকে কাশ্মীরে থমথমে পরিস্থতি বিরাজ করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে।

  • পানি দিয়ে ভারতকে ডোবাচ্ছে পাকিস্তান!

    পানি দিয়ে ভারতকে ডোবাচ্ছে পাকিস্তান!

    চলতি মাসের শুরুর দিকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত। এরপর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। সেই সঙ্গে দেশ দুটির সম্পর্ক তলানিতে নেমেছে। এমতাবস্থায় ভারতের বিরুদ্ধে বাঁধ খুলে দিয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির অভিযোগ তোলে পাকিস্তান।

    দেশটির অভিযোগ চলতি সপ্তাহে ভারত হঠাৎ করে উজানে বাঁধ খুলে দেয়ায় সুতলেজ নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতিও দেখা গিয়েছে। এছাড়া পানি ছেড়ে দিয়ে নয়াদিল্লি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছে বলে দাবি করছে পাকিস্তান। এটাকে ‘পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ’ বলেও অভিহিত করে দেশটি।

    এদিকে ভারতের বাঁধ খুলে দেওয়ার প্রতিবাদে পাল্টা জবাব হিসেবে এবার নিজেদের বাঁধের স্লুইস গেট খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার কাসুর এলাকায় সুলতেজ নদীর ওপর বাঁধগুলো খুলে দেন পাক কর্মকর্তারা।

    এতে করে দুইদিনের মধ্যে ভারতের পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার অন্তত ১৭ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতে একই এলাকার আরও কয়েকটি গ্রাম আগেই ডুবে গিয়েছিল।

    পাকিস্তানের পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোজাম্মিল হুসেইন রয়টার্সকে বলেন, ‘ভারত এখন পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ শুরু করেছে।’

    তারা পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের অর্থনীতিকেও চেপে ধরতে চাইছে ভারত। হুসেইন আরো বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগেই পাকিস্তানে পানি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন।’ তিনি এ সংক্রান্ত চুক্তিগুলোকে অমান্য করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন হুসেইন।

    পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের কৃষি কাজের ৮০ শতাংশই নির্ভর করে ভারতের পানির ওপর। তবে ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে এটি নিয়মিত কাজের অংশ।’

    আর পানি ছাড়ার ব্যাপারটি দুই দেশের চুক্তি মোতাবেকই হচ্ছে। নয়াদিল্লির এ অবস্থানের দু’দিন পরই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাঞ্জাবের কাসুর জেলায় সুতলেজ নদীর উজানে নিজেদের বাঁধ খুলে পানি ছেড়ে দেয় পাকিস্তান।

    ভারতের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, গেট খুলে দেয়ায় আমাদের অংশ অন্তত ১৭টি গ্রাম ডুবে গেছে। ওই কর্মকর্তা জানান, কাসুর থেকে ট্যানারির বর্জ্য মিশ্রিত পানি আসছে। সেই পানি নদীতে এসে মিসছে।

    কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই ইসলামাবাদের সঙ্গে ১৯৮৯ সালে স্বাক্ষরিত ‘হাইড্রোলজিক্যাল ডাটা’ আদান-প্রদান করার চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিল ভারত। বুধবার একথা জানিয়েছেন ‘ইন্দাস ওয়াটার’-এর ভারতের কমিশনার পিকে সাক্সেনা।

    চুক্তি অনুযায়ী, নদীতে পানি বৃদ্ধির যাবতীয় তথ্য পাকিস্তানকে জানিয়ে দিত ভারত। এর ফলে আসন্ন বন্য পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারত পাকিস্তান।

    বন্যায় কৃষি বা জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা ভারতের থেকে পাওয়া ‘হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা’র ভিত্তিতে অনেকটাই সামাল দেয়া সম্ভব হত। এখন থেকে সেটা আর সম্ভব হবে না।

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশে থাকবে চীন

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশে থাকবে চীন

    মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিং অং হ্লেইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত চেন হাই। তিনি সেনপ্রধানকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশে থাকবে বেইজিং। রোহিঙ্গাদের গণহত্যাসহ আরও অনেক অভিযোগে চাপের মুখে রয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

    মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে স্থানীয় দৈনিক ইরাবতীর এক অনলাইন প্রতিবেদনে এ বৈঠকের খবর জানানো হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপে মিয়ানমার কিছু মানুষকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হলেও গত শুক্রবার বাংলাদেশ থেকে দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের কার্যালয় থেকে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতি অনুযায়ী চেন হাই এবং মিং অং হ্লেইংয়ের মধ্যে বৈঠকে আলোচিত বিষয় নিয়ে বলা হচ্ছে, চীনা প্রতিনিধি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। বিষয় তিনটি হলো- প্রথমত, রোহিঙ্গা এবং মানবাধিকার ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করবে না বেইজিং। দ্বিতীয়ত, সম্প্রতি দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ সান এবং মানডালায় অঞ্চলের শহর পিও ও লুইনে যে সহিংস হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তারা। তৃতীয়ত, মিয়ানমারে শান্তি প্রক্রিয়া এবং শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্ভাব্য পথ খুঁজতে সহায়তা করবে চীন।

    গত শুক্রবার বাংলাদেশে আশ্রয়প্রাপ্ত নিবন্ধিত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল কিন্তু রোহিঙ্গাদের অসম্মতিতে তা সম্ভব হয়নি। এর আগেও গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মতো পরিস্থিতি রাখাইনে নেই দাবি করে এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংস্থা হিউমান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাদের বক্তব্য, মিয়ানমার যখন তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের সহিত ফিরিয়ে নেয়ার পরিবেশ তৈরি করবে তখনই তাদের পাঠানো হবে।

  • সুন্দরবন বা আমাজন কেউই করপোরেটের থাবা থেকে মুক্ত নয়

    সুন্দরবন বা আমাজন কেউই করপোরেটের থাবা থেকে মুক্ত নয়

    আমাজন পুড়ছে তিন সপ্তাহ ধরে, নেভানোর কোনো উদ্যোগ নেই। এমনভাবেই সেটা পুড়েছে যে হাজার কিলোমিটার দূরে সাওপাওলোও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হচ্ছে। তিন সপ্তাহ ধরে পুড়ছে আর আমরা এতো পরে জানছি, কারণ গণমাধ্যমগুলোতে এটা তেমন প্রচারে আসেনি দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও। এই মিডিয়া ব্ল্যাকআউটের পেছনে হয়তো আছে কর্পোরেট স্বার্থ। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হলো আমাজনকে কর্পোরেটের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া।আমাজনকে বলা হয়ে থাকে বিশ্বের ফুসফুস। বিশ্বের সর্ববৃহৎ রেইন ফরেস্টের কার্বন শুষে নেয়া আর অক্সিজেন দেয়ার ক্ষমতার ফলেই তাকে সেটা বলা হয়। পৃথিবীর ভূমির ২ শতাংশজুড়ে থাকা রেইন ফরেস্টগুলো প্রাণী ও উদ্ভিদের ৫০ শতাংশের আবাসস্থল। এগুলো পৃথিবীর তাপমাত্রা ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আমাজনকে তাই কর্পোরেটের জন্য উন্মুক্ত করার বিরুদ্ধে বিরোধিতা ছিলো ব্রাজিলেও। এখন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্রের গল্প ফাঁদছেন। আমাদের সুন্দরবনও এ রকম রেইন ফরেস্ট, তার অনেকখানি ইতোমধ্যেই ধ্বংস হয়েছে। তার আশপাশে বিভিন্ন দূষণকারী ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সব বিরোধিতা উপেক্ষা করে সেখানে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হচ্ছে।

    সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল বানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সুন্দরবন বা আমাজন কেউই আজ কর্পোরেটের থাবা থেকে মুক্ত নয়। আর প্রকৃতির উপর এই দখলদারিত্ব তার ধ্বংসযজ্ঞ গোটা দুনিয়াটাকেই এক ভয়ংকর বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।যখন এই বিপদের ভয়াবহতা মানুষ বুঝতে পারবে তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে। সেটা ঠেকানোর সময় আর অবশিষ্ট থাকবে কিনা সন্দেহ। কারণ এসবের ভয়াবহতা চেপে রেখে এগুলোকে উন্নয়ন বলে গেলানো গোষ্ঠীই এখন দেশে দেশে ক্ষমতায়। যেভাবে আমাজনের আগুনের ভয়াবহতা চেপে রাখা হয়েছে তেমনিভাবে চেপে যাওয়া হচ্ছে আরও অনেক কিছু। আমাজনের আগুন আসলে আমাদের ভবিষ্যৎ পুড়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুক থেকে

  • ভারতীয় স্কুলে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত

    ভারতীয় স্কুলে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত

    ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্ট কলকাতার রামপুরহাট গার্লস হাই স্কুলে ভারতীয় জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস’কে সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    এসময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষিমন্ত্রী বিধায়ক আশীষ ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন।

    বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একদিকে যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি ভারতের একটি স্কুলে অন্যদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া বা পতাকা তুলে ধরা নিয়ে বিতর্কও পিছু ছাড়েনি।

    ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ১৫ আগস্ট যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে ভারতজুড়ে পালিত হয় ৭৩তম স্বাধীনতা দিবস। যার ব্যতিক্রম ছিল না পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটের এই স্কুলটিও।

    এদিন সকালে স্কুলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষিমন্ত্রী এবং রামপুরহাটের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আশীষ ব্যানার্জি। এরপর শুরু হয় কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্কুলের ছাত্রীরাই কেউ নৃত্য পরিবেশন করে, কেউ আবৃত্তি, কেউ আবার পরিবেশন করে দেশাত্ববোধক গান।

    অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করে ওই স্কুলের ছাত্রীরা। এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতটি একদিকে যেমন সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়, তেমনি স্কুলের ছাত্রীদের সমবেত নৃত্যানুষ্ঠান সবার নজর কাড়ে।

    যদিও ভারতের স্বাধীনতার দিনে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া বা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দেখানো হলো কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেকেই। কেউ কেউ আবার এ ঘটনাকে আরেকটি দেশ বিভাজনের ইঙ্গিত বলেও মন্তব্য করেছে।

  • পৃথিবীর ফুসফুসকে বাঁচাতে আকাশ থেকে পানি ঢালছে বলিভিয়া

    পৃথিবীর ফুসফুসকে বাঁচাতে আকাশ থেকে পানি ঢালছে বলিভিয়া

    ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গলকে বাঁচাতে বিমান থেকে পানি ঢালার উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। তিন সপ্তাহ ধরে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ খ্যাত জঙ্গলটিতে জ্বলতে থাকা আগুনে ইতোমধ্যেই পুড়ে গেছে সাত হাজার ৭৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। আগুন নিয়ন্ত্রণে তাই সুপারট্যাংকার বোয়িং বিমান ৭৪৭-৪০০ ভাড়া করার ঘোষণা দিয়েছে বলিভিয়া। আগুন নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার থেকেই আকাশপথে ওই সুপারট্যাংকার নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে।

    বলিভিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট আলভারো গার্সিয়া জানিয়েছেন, দেড় লাখ লিটার পানি বা অগ্নি নির্বাপক নিয়ে উড্ডয়নে সক্ষম এই সুপারট্যাংকার বোয়িং বিমান। এই বিমান থেকে পুড়তে থাকা অ্যামাজনে পানি ঢালা হবে। তার আগে বিমানবাহিনীর বিমান গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আসবে। এরপরই পানি নিয়ে উড়াল দেবে সুপার ট্যাংকার বোয়িং বিমান।

    সুপার ট্যাংকারটির সঙ্গে রয়েছে তিনটি অতিরিক্ত হেলিকপ্টার। রয়েছেন ৫০০ অগ্নিনির্বাপন কর্মী। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে অ্যামাজন জঙ্গলে নেমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করবেন তারা।

    প্রতিবেশী প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিলের প্রতিও সীমান্তে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বলিভিয়া।

    পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎপত্তি অ্যামাজনে। গবেষকদের মতে এই বন প্রতিবছর ২০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। সে কারণে একে ডাকা হয়ে থাকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হারকে ধীর করতে অ্যামাজনের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বিশ্বের দীর্ঘতম এ জঙ্গলটির আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তনের প্রায় অর্ধেক।

    ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্পেস রিসার্স ২০১৩ সাল থেকে অ্যামাজন জঙ্গলে আগুন লাগা নিয়ে গবেষণা করছে। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে রেকর্ড হারে পুড়ছে অ্যামাজন জঙ্গল। এরইমধ্যে ব্রাজিলের রোন্ডানিয়া, অ্যামাজোনাস, পারা, মাতো গ্রোসো অঞ্চলের কিছু অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যামাজনে আগুন লাগা কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, কিন্তু এবারের মতো আগুন আগে কখনও ছড়ায়নি জঙ্গলে।

    পরিবেশবাদীরা বলছেন, অ্যামাজনকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি নীতির কারণেই আগুন লাগানোর মহোৎসব শুরু হয়েছে। অঞ্চলটিকে ঘিরে করা কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কথিত উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য কৃষির বিস্তৃতি, বৈধ ও অবৈধ খনি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের জন্য ঘটছে অরণ্য বিনাশ। গড়ে উঠছে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত প্রকল্প। গত কয়েক দিনের আগুন কথিত উন্নয়নের জন্য অরণ্য বিনাশের গতিকেই জোরদার করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সূত্র: গ্লোবাল রিসার্চ, স্পুটনিক।

  • কাশ্মীরে ভারতীয় পুলিশের আত্মহত্যা

    কাশ্মীরে ভারতীয় পুলিশের আত্মহত্যা

    কাশ্মীরের অনন্তনাগ শহরে নিজের অস্ত্রে গুলিবিদ্ধ হয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) এক কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন।

    শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সদর এলাকায় নিজ বাসা থেকে এম অরবিন্দ (৩৩) নামে ওই পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের বরাত দিয়ে শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ কথা জানায়।

    পুলিশ জানায়, ৪০ ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ড্যান্ট অরবিন্দ তার ব্যক্তিগত অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি সিআরপিএফ-এ যোগদান করেন। চলতি মাসের ১৪ তারিখ ছুটি শেষে তিনি অনন্তনাগে তার ইউনিটে যোগ দেন। পরে ২০ তারিখের দিকে তার স্ত্রী অনন্তনাগে ফেরেন।

    প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ মনে করছে, দাম্পত্য কলহের কারণে অরবিন্দ আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

    পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যাপার জড়িত নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই রটাচ্ছে, জীবনযাত্রার মান খারাপ হওয়ায় অরবিন্দ আত্মহত্যা করেছেন।

  • পৃথিবীর চেয়েও বেশি বাসযোগ্য গ্রহ রয়েছে মহাবিশ্বে

    পৃথিবীর চেয়েও বেশি বাসযোগ্য গ্রহ রয়েছে মহাবিশ্বে

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে অনেক গ্রহের (এক্সোপ্লানেট) সন্ধান পেয়েছেন। সেসব গ্রহের মধ্যে কোনোটিতে প্রাণ কিংবা আরেকটু এগিয়ে বললে মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে কি না, বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন তারও। এরই মধ্যে নতুন একটি গবেষণাপত্র জানাচ্ছে, পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য গ্রহ আরও রয়েছে মহাবিশ্বে। এমনকি সেসব গ্রহের কোনো কোনোটি পৃথিবীর চেয়েও বেশি বাসযোগ্য।

    সম্প্রতি এই গবেষণাপত্র স্পেনের বার্সেলোনায় গোল্ডস্মিথ ভূ-রসায়ন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়েছে। গবেষণা দলের প্রধান স্টেফানি ওলসন বলেন, ‘আমরা গবেষণার মাধ্যমে একটা চমকপ্রদ উপসংহারে এসেছি। আর তা হলো, পৃথিবীর বাইরে কোনো কোনো গ্রহের পরিবেশ জীবের টিকে থাকার জন্য দারুণ অনুকূলে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেসব গ্রহে মহাসাগরের মতো ঘূর্ণন প্যাটার্ন দেখা গেছে। সেসব ঘূর্ণন প্যাটার্নের কোনো কোনোটি প্রাণের বিকাশের জন্য পৃথিবীর চেয়েও বেশি অনুকূল বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে। এটি আরও দেখাচ্ছে, ওই সব গ্রহের মহাসাগরে জীবের টিকে থাকার উপাদানের প্রাচুর্য আমাদের পৃথিবীর চেয়েও বেশি।’

    বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের সমন্বয় করে এখন বোঝার চেষ্টা করছেন, দূরবর্তী সেসব গ্রহের কোনোটিতে এলিয়েন রয়েছে কি না। নাসার সফটওয়্যার ব্যবহার করে একটি ভার্চ্যুয়াল মডেল তৈরি করে গ্রহগুলোর ঘূর্ণন গতির সাহায্যে তার বায়ুমণ্ডল ও জলবায়ু বাসযোগ্য কি না, তা বুঝতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

    ওলসন বলেন, ‘পৃথিবীর মহাসাগরগুলোতে জীবন নির্ভর করে সাগরের পানির ওপরে উঠে আসার প্রবাহ বা আপওয়েলিংয়ের ওপর। এর মাধ্যমে মহাসাগরের গভীর অন্ধকার অংশ থেকে পুষ্টি উপাদান ওপরে সূর্যালোক পৌঁছাতে সক্ষম এমন অংশে উঠে আসে। এই অংশেই সালোকসংশ্লেষী জীবেরা থাকে। মহাসাগরের এই আপওয়েলিং পরিবেশই আমরা এক্সোপ্লানেটে খুঁজে দেখছি। প্রাণের বিকাশ সেখানে বেশি, যেখানে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব বেশি, ঘূর্ণন গতি কম ও আপওয়েলিং হার বেশি।’

    এদিকে পৃথক একটি গবেষণা জানিয়েছে, পৃথিবীর বাইরে অন্য ছায়াপথ থেকে পৃথিবীতে বেতার সংকেত আসছে। বাইরের মহাবিশ্ব থেকে পৃথিবীতে অসংখ্য সংকেত পাঠানো হচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির আবার পুনরাবৃত্তি (রিপিটিং) হচ্ছে। গবেষকেরা এ রকম আটটি ‘রিপিটিং শক্তিপ্রবাহ’ শনাক্ত করেছেন, যা প্রবাহিত হচ্ছে অন্য মহাবিশ্ব থেকে। কানাডীয় হাইড্রোজেন ইনটেনসিটি ম্যাপিং এক্সপেরিমেন্ট টেলিস্কোপে নতুন এই তথ্য ধরা পড়েছে। এ-সংক্রান্ত গবেষণাটি আর্কিভ গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে গত সপ্তাহে।

    এই বেতার সংকেতগুলোকে ফাস্ট রেডিও বার্স্টস (এফআরবি) বলা হচ্ছে। এসব রেডিও সংকেতের উৎস জানা গেলে সেটা এলিয়েনের পৃথিবী সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হবে। যেসব এফআরবি পুনরাবৃত্তি হয়েছে, সেসব খুবই মূল্যবান সংকেত। কারণ, এর মাধ্যমেই গবেষকেরা এর উৎস শনাক্ত করতে পারবেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এসব এফআরবির তীক্ষ্ণতার প্রাবল্য দেখে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এগুলো কোনো বিশাল উৎস থেকেই আসছে। হতে পারে এটা কৃষ্ণগহ্বরে পতিত কোনো নক্ষত্র থেকে আসছে। হতে পারে এলিয়েনদের পাঠানো কোনো বার্তাও।

  • দেশে ফিরতে রোহিঙ্গাদের বিশেষ মোনাজাত

    দেশে ফিরতে রোহিঙ্গাদের বিশেষ মোনাজাত

    নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যেতে আল্লাহ যেন সুযোগ করে দেন, শুক্রবার জুমার নামাজের বিশেষ মোনাজাতে রোহিঙ্গা ইমামরা সেই দোয়াই করেছেন।

    রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের মুখে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসার দ্বিতীয়বর্ষ পা রাখতে যাচ্ছে দেশটির এই সংখ্যালঘু মুসলমানরা।-খবর এএফপি

    ২০১৭ সালের আগস্টের পর সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। আগে থেকেই অবস্থান করা দুই লাখ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তারা যোগ দেন।

    মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব না দেয়ায় দুই বছর পরেও প্রতিবেশী দেশের বিশাল শরণার্থী শিবিরেই থাকতে যাচ্ছেন তারা।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির কুতুপালংয়ে খাদিজাতুল কুবরা মসজিদের ইমাম মোনাজাতে মিয়ানমার সরকারের হৃদয়টা তাদের জন্য নরম করে দিতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

    ইমাম আবদুল হাকিম বলেন, হে আল্লাহ, আমাদের শান্তির সঙ্গে দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিন।

    রাখাইনে ব্যাপক ধরপাকড়রের সময় হাতের কাছে যা পেয়েছে, তা নিয়েই রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাড়িঘরে ছেড়ে চলে আসেন।

    শরণার্থী সাইফুল আলম বলেন, আমাদের ওপর যা ঘটেছে, সেজন্য আমরা আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছি। আমরা দেশে ফিরতে চাই। কিন্তু যখন আমাদের দাবি পূরণ হবে, কেবল তখনই যাবো। সেই সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমরা আজ আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি।

    রোহিঙ্গা ঢল নামার দ্বিতীয়বর্ষ উপলক্ষ্যে রোববারে আশ্রয়শিবিরে বিক্ষোভে অংশ নিতেও মসজিদের মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের কাছে ফের আমাদের শান্তিপূর্ণ দাবি জানাবো।

    বৃহস্পতিবার মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সহিংসতা ও নিপীড়নের অবসান ঘটায়নি মিয়ানমার। কাজেই সেখানে ফিরে যেতে শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।