Category: আন্তর্জাতিক

  • রাষ্ট্রীয় সুবিধা ছাড়াই নিজ খরচে আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রপতির হজ পালন

    রাষ্ট্রীয় সুবিধা ছাড়াই নিজ খরচে আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রপতির হজ পালন

    আলেসান ওয়াতারা। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট। তিনি এবার হজে গেছেন। হজ পালনকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা ছাড়াই সাধারণ হাজিদের সঙ্গে নিজ খরচে হজ সম্পন্ন করেছেন। এমনকি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাও তিনি গ্রহণ করেননি।

    হজের মূল কাজ আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়া। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়াসহ হজের রোকনগুলো আদায়ে তিনি সৌদি আরব সরকারের কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেননি। সাধারণ হাজিদের সঙ্গে রাস্তায় ও ময়দানে শুয়ে-বসেই হজ সম্পাদন করেছেন।

    ছবিতে দেখা যায়, উন্মুক্ত মরু প্রান্তরে খোলা আকাশের নিচে তার দেশের সাধারণ সঙ্গী ও তার জনগণের সঙ্গে শুয়ে আছেন।

    হজ পালনে আইভরি কোস্ট সরকার তাকে হজের খরচ দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজও তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে হজের যাবতীয় ট্রিট তথা সুযোগ-সুবিধা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি তাও গ্রহণ করতে রাজি হননি।

    হজ মুসলিমের জন্য আর্থিক, আত্মিক ও শারীরিক ইবাদত। এ ইবাদত পালনে তিনি কারো দয়া-অনুকম্পা কিংবা বিশেষ সুবিধা না নিয়ে একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজ খরচে হজ করেছেন। নিজের আয়ে নিজের খরচে সাধারণ মানুষের মতো হজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি এমনটি করেছেন।

    আহকামুল হাকিমিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে রাজা-বাদশা কিংবা সাধারণ মানুষের এভাবেই উপস্থিত হওয়াই ঈমানের দাবি। সে দাবি পূরণেই তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নিয়ে হজ সম্পন্ন করেছেন।

    আল্লাহ তাআলা তার হজকে কবুল করুন। তার সঙ্গীদেরসহ সব মানুষের হজ কবুল করুন। তার হজ পালন থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পাকিস্তানকে ৪১০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    পাকিস্তানকে ৪১০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    পাকিস্তানকে প্রায় ৪০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে আগের করা চুক্তির ৪৫০ কোটি ডলারের বদলে পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৪১০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা পাবে। খবর এনডিটিভির।

    ২০১০ সালে দুই দেশের মধ্যে ‘পাকিস্তান এনহ্যানসড পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ এর আওতায় এই অর্থ সহায়তা পেয়ে থাকে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওয়াশিংটন সফরের তিন সপ্তাহ আগেই এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র।

    সন্ত্রাস দমনে আশানুরূপ সাফল্য দেখাতে না পাওয়ায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পৃথক চুক্তির আরও ১০০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল পেন্টাগন।

    ২০১০ সালে দুই দেশের মধ্যে ‘পাকিস্তান এনহ্যানসড পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (পেপা)–এর আওতায় এই অর্থ সহায়তা পেয়ে থাকে পাকিস্তান। তবে হুট করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

    পাকিস্তানভিত্তিক পত্রিকা এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওয়াশিংটন সফরের তিন সপ্তাহ আগেই পাকিস্তানকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • অনলাইনে বিক্রি হলো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ৪০ তলা বাড়ি!

    অনলাইনে বিক্রি হলো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ৪০ তলা বাড়ি!

    ডিজিটাল যুগে এসে ঘরে বসেই কেনা-বেচা করছেন অনেকে। মার্ট, শপিংমলে যাওয়ার শ্রমটা যেন এখন অসহ্য। ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে টিভি দেখতে দেখতে স্মার্টফোনেই নিজের পছন্দের জামা, জুতো, প্রসাধনী কিনে ফেলেন অনেকে।

    কিন্তু তাই বলে আস্ত এক ইমারত অনলাইলে কেনা চারটিখানি কথা নয়। তাও আবার ৪০ তলা ভবন! মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) এমনটাই ঘটল চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে।

    সেখানে ৪০ তলা একটি ভবন অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার নিলামের মাধ্যমে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি দামে ভবনটি কিনে নেন। খবর এএফপির

    অনলাইনে কেনা-বেচার প্রখ্যাত ওয়েবসাইট আলিবাবায় নিলামে তোলা হয় ভবনটি। আর নিলামের তোলার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয় এটি।

    বেশ কিছু চীনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ভবনটির মালিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ফেরারি আসামির। ২০১৪ সালে দুর্নীতির দায়ে চীনা ধনকুবের গুয়ো ওয়েঙ্গুইকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল দেশটির আদালত। রায় শোনার পর পরই দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান ওয়েঙ্গুই।

    এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন বিক্রিত ৪০ তলা এই ভবনটির নাম পাঙ্গু প্লাজা। এটি ২০০৮ সালের অলিম্পিক ভেন্যু বার্ডস নেস্টের পাশেই অবস্থিত। ইউচেং ঝিয়ে নামের একটি কোম্পানি ৭৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে ভবনটি কিনে নেয়।

    প্রসঙ্গত, পাঙ্গু প্লাজা চলচ্চিত্রপ্রেমীর কাছে বেশ পরিচিত। ২০১৪ সালের বিখ্যাত হলিউড সিনেমা ‘ট্রান্সফর্মারস: এইজ অব এক্সটিংশন’-এর বেশ কয়েকটি দৃশ্যে এই ভবনটি দেখানো হয়েছিল।

  • ‘কাশ্মীরে বাড়ি বাড়ি ঢুকে অত্যাচার করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী’

    ‘কাশ্মীরে বাড়ি বাড়ি ঢুকে অত্যাচার করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী’

    দিল্লির জওহরলাল নেহরু  বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের(জেএনইউএসইউ) প্রাক্তন সহ-সভাপতি ও জম্মু-কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্টের(জেকেপিএম) নেত্রী  শেহলা রশিদ অভিযোগ করেছেন, কাশ্মীরের একাধিক এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী রাতে সাধারণ মানুষের বাড়িতে ঢুকে সব কিছু তছনছ করছে, খাবারদাবার নষ্ট করছে, নির্বিচারে ছেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেছেন, শোপিয়ানে চার জনকে তুলে নিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনী শুধু অত্যাচারই করেনি, মাইক লাগিয়ে তাদের আর্তনাদ এলাকাবাসীকে শুনিয়ে ত্রাসের সঞ্চার করেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অবশ্য এই সব অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

    রোববার একাধিক টুইট বার্তায় এসব কথা লিখেন শেহলা রশিদ। তার এই বক্তব্যের কারণে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অলোক শ্রীবাস্তব দেশদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করে অবিলম্বে শেহলাকে গ্রেপ্তার করার আর্জি জানিয়েছেন।

    মঙ্গলবার শেহলা রশিদ বলেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি যেসব অভিযোগ এনেছেন তার প্রমাণ দিতে তিনি প্রস্তুত।

    ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নিরপেক্ষ একটি তদন্ত হোক; সত্য বেরিয়ে আসবে। আমি তাদের কাছে জবানবন্দি দেব এবং সমস্ত প্রমাণ তুলে দেব।’

    আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জেএনইউ-এ থাকাকালীন সাবেক ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারদের নামে যখন দেশদ্রোহের মামলা হয়েছিল, শেহলা তাদের সমর্থনে সরব হন। এ বার তার নামেও সেই একই আইনে মামলা হলো। কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা বেশির ভাগই এখন বন্দি বা গৃহবন্দি। শেহলার দলের নেতা শাহ ফয়সালকেও সম্প্রতি গৃহবন্দি করা হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, শেহলাকেও হয়তো ধরা হতে পারে।

    শেহলা অন্য এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘আমার গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে দয়া করে কাশ্মীর সমস্যা থেকে চোখ ঘোরাবেন না। যদি আমি গ্রেপ্তার হই, আমার এই টুইটগুলো পৃথিবীর সামনে শেয়ার করবেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কাশ্মীরের এখন যা অবস্থা, সেখানে শুধু গ্রেপ্তার হলে ভাগ্য ভালো বলতে হবে।’

    সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যা যা তিনি লিখেছেন, সে সব মানুষের সঙ্গে কথা বলেই লিখেছেন বলে দাবি করেছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসে ডেঙ্গুতে মারা গেলেন ডা. রেহানা বেগম

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসে ডেঙ্গুতে মারা গেলেন ডা. রেহানা বেগম

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ডা. রেহানা বেগম। তিনি ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

    তার স্বামী ডা. নজরুল ইসলামও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। এর আগে তারা দুজনই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

    ডা. রেহানার জানাজা নামাজ বাদ আসর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের কাছে বায়তুল তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।

  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে আহমেদাবাদে

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে আহমেদাবাদে

    আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়াম সাজছে নতুন রূপে। ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে স্টেডিয়ামটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বানানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে গুজরাটের ক্রিকেট সংস্থা। আর কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে মোতেরা, জানিয়েছেন গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী নিতিন প্যাটেল।

    ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের বেশ কিছু স্মরণীয় অধ্যায় রচিত হয়েছিল এই মোতেরাতে। এখানেই ‘লিটল মাস্টার’ সুনীল গাভাস্কার ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক গড়েছিলেন। এ মাঠেই নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি স্যার রিচার্ড হ্যাডলির ৪৩১ টেস্ট উইকেটের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছিলেন বিশ্বকাপজয়ী ভারত অধিনায়ক কপিল দেব। শচীন টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সাক্ষীও এই স্টেডিয়াম। আহমেদাবাদের এই স্টেডিয়াম এবার নিজেই ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে হটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট মাঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে আহমেদাবাদের মোতেরা। গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী নিতিন প্যাটেল জানিয়েছেন, আর কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই স্টেডিয়াম উদ্বোধন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    প্যাটেল জানিয়েছেন, উদ্বোধন হতে আর বেশি দেরি নেই। অমিত শাহ (ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি) অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিগগিরই আহমেদাবাদে আসবেন নতুন রূপে গড়ে ওঠা মোতেরা স্টেডিয়াম উদ্বোধন করতে। দেশ ও দেশের মানুষকে স্টেডিয়ামটি উৎসর্গ করবেন তিনি। ২০২৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। সে উদ্দেশ্যেই মূলত এত তোড়জোড়। মোদি নিজে কয়েক বছর আগে গুজরাট ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি ছিলেন, তখন তিনিই মোতেরাকে সংস্কার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম বানানোর প্রস্তাব দেন।

    কিছুদিন আগে গুজরাট ক্রিকেট সংস্থার সহসভাপতি পরিমল নাথওয়ানি নতুন করে তৈরি হওয়া মোতেরার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করে। সঙ্গে ক্যাপশন হিসেবে লেখেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হতে চলেছে মোতেরায়। মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামের চেয়েও যা বড় হবে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে গেলে নতুন মোতেরা হয়ে উঠবে ভারতের গর্ব।’

    ১৯৮২ সালে আহমেদাবাদে তৈরি হয়েছিল স্টেডিয়ামটি। তখন স্টেডিয়ামটার ধারণ ক্ষমতা ছিল ৪৯ হাজারের মতো। ১৯৮৩ সালে ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর কপিল দেবের ভারতের মধ্যে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলা হয় এখানে। সে ম্যাচে উইন্ডিজের কাছে হারতে হয়েছিল ভারতকে। তবে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন কপিল দেব। এক ইনিংসে নয়টি উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামের তকমা এখন মেলবোর্ন স্টেডিয়ামের গায়ে, ১ লাখ ২৪ জনের মতো মানুষ খেলা দেখতে পারে সেখানে। দুই-তিন মাস পর মোতেরার উদ্বোধন হলে এর ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি।

    জানা গেছে, মোতেরার সংস্কারকাজে এ পর্যন্ত ৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ৬৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই স্টেডিয়ামে করপোরেট বক্স থাকবে ৭৫টা। পার্কিং লটে প্রায় ১০ হাজার দুই চাকার যানবাহনের পাশাপাশি চার চাকার গাড়িও রাখা যাবে তিন হাজার। ৫৫ কক্ষবিশিষ্ট ক্লাব হাউসে খেলাধুলা, শরীরচর্চা করার সুব্যবস্থা থাকবে। থাকবে রেস্তোরাঁ ও বিশাল সুইমিং পুল। স্টেডিয়ামের প্রত্যেকটা স্ট্যান্ডে একটা করে ফুড কোর্ট থাকবে। স্টেডিয়ামের ৯০ শতাংশ কাজই শেষ, বাকিটুকু দুই-তিন মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

    প্রতিটি চার, ছক্কা বা উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১ লাখ ১০ হাজার দর্শকের গর্জন শোনা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র!

  • প্রবাসীরা জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন : সিইসি

    প্রবাসীরা জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন : সিইসি

    বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি নাগরিক বিশ্বের ১৬০টি দেশে চাকরি সূত্রে অবস্থান করছেন। প্রবাসীদের অনেকের নেই কোনো ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা ভোটাধিকার। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গোল্ডেন বয় হিসেবে পরিচিত এই প্রবাসীদের নিজ দেশেই পরবাসী হয়ে থাকতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’

    গতকাল মঙ্গলবার জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল কার্যালয় আয়োজিত সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) প্রদানবিষয়ক এক সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা এসব কথা বলেন।

    প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে সিইসি বলেন, ‘প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র খুব জরুরি। বাংলাদেশে প্রত্যেক ক্ষেত্রে এখন এনআইডি কার্ড ছাড়া কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। সে লক্ষ্যে প্রবাসীদের এনআইডি কার্ড দিতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। সে জন্য প্রবাসীদের অনলাইনের মাধ্যমে ফরম পূরণ করে কনস্যুলেট অফিস বা দূতাবাসে জমা দিতে হবে। এরপর দূতাবাস বাংলাদেশে তাদের স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী জেলাভিত্তিক প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে পাঠাবে ইসির কাছে। ইসি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে তা যাচাই-বাছাই করবে। প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।’

    কে এম নুরুল হুদা আরো বলেন, প্রবাসী ও কমিউনিটি নেতাদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে রোহিঙ্গা বা অন্য কোনো গোষ্ঠী যেন এই সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, কয়েকটি দেশের দূতাবাসে পাসপোর্ট করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু একই কায়দায় জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া কঠিন। পাসপোর্ট ডাটাবেস আর নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেস এক নয়; তাই পাসপোর্ট ডাটাবেস দিয়ে এনআইডি কার্ড দেওয়া খুব কঠিন বলে মনে করেন তিনি।

    খুব শিগগির প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে, সে লক্ষ্যে দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে বিশেষ ডেস্ক স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি।

    জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সহধর্মিণী, রিয়াদ দূতাবাসের কর্মকর্তা, জেদ্দা কনস্যুলেট কার্যালয়ের কর্মকর্তা, প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

  • ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বক্তব্যে অনড় প্রিয়া সাহা

    ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বক্তব্যে অনড় প্রিয়া সাহা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন তাতে অনড় থাকবেন বলে জানিয়েছেন আলোচিত-সমালোচিত প্রিয়া সাহা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন না বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এই সাংগঠনিক সম্পাদক। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এক সাংবাদিককে ভিডিও কনফারেন্সে দেওয়া সাক্ষাৎকারে

    এসব কথা জানান তিনি। ৩৫ মিনিট ২ সেকেন্ডের এই সাক্ষাৎকার ইউটিউবেও আপলোড করা হয়েছে।

    সাক্ষাৎকারে প্রিয়া সাহা দাবি করেছেন, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের নিখোঁজ হওয়ার যে তথ্য গত বুধবার (১৭ জুলাই) তিনি ট্রাম্পকে দিয়েছেন, তা সরকারি পরিসংখ্যান থেকেই নেওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আবুল বারকাত ওই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ২০১১ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা সে সময় গণমাধ্যমেও আসে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বইয়ের (২০০১ সালের) ধর্মীয় সংখ্যালঘু যে চ্যাপ্টার রয়েছে এবং সরকারি সেনসাস রিপোর্ট থেকে এ সংখ্যা পাওয়া যায়। দেশভাগের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ছিল ২৯.৭ ভাগ, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৭ ভাগে। দেশের মানুষ এখন ১৮০ মিলিয়নের মতো। এ প্রসঙ্গে নিজ জেলা পিরোজপুরের উদাহরণ টেনে প্রিয়া সাহা বলেন, ২০০৪ সালে তাদের গ্রামে ৪০টি সংখ্যালঘু পরিবার ছিল, এখন আছে ১৩টি।

    প্রিয়া সাহা বলছেন, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে সেজন্যই তিনি হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতা চেয়েছেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। নিজের পরিবার ভীষণ সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, শুক্রবার তার বাসার সামনের তালা ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের ছবি পত্রিকায় ছেপে দেওয়া হয়েছে।

    এক প্রশ্নে সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গে নিজের দেওয়া বক্তব্যকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বলেও দাবি করেন প্রিয়া সাহা। বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর যখন ৯৪ দিন ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলেছিল, তখন আজকের প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়িয়েছেন সংখ্যালঘুদের রক্ষায়। নানা জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তার কথা অনুসরণে কথা বলেছি এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে, যেকোনো জায়গায় যে বলা যায়, তা আমি তার কাছে শিখেছি। প্রিয়া সাহা বলেন, বর্তমান সরকার মৌলবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারও মৌলবাদের বিরুদ্ধে। তিনি চান দুই দেশের সরকার যৌথভাবে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়–ক। এ কারণেই তিনি ট্রাম্পের কাছে সেসব কথা বলেছেন।

    সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ মানুষ অসাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে প্রিয়া সাহা বলেন, কিছু দুষ্ট লোক আছে। তারাই মৌলবাদ উসকে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে তিনি আজীবন লড়াই করবেন। কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাবেন না জানিয়ে প্রিয়া সাহা বলেন, আমি আশা করছি এ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সব ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। সব ধরনের পরিসংখ্যান দেখলে আমার বক্তব্য পরিষ্কার হবে।

    ‘দলিত’ সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘শারি’র পরিচালক প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত ১৭ জুলাই তিনিও হোয়াইট হাউজে যান। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। প্লিজ আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনো সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আছে। তার এমন বক্তব্য নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

    ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রিয়া সাহার বক্তব্য ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বক্তব্যকে মিথ্যা ও কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশে ফিরলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তবে গতকাল রবিবার ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ওই অভিযোগ নিয়ে প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা শোনার আগে তড়িঘড়ি কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

  • ‘কাশ্মীরে বন্দিদের ভিরে কারাগারে ঠাঁই নেই’

    ‘কাশ্মীরে বন্দিদের ভিরে কারাগারে ঠাঁই নেই’

    ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর বিক্ষোভের আশঙ্কায় হাজার-হাজার মানুষকে বন্দি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ম্যাজিস্ট্রেট এএফপিকে বলেছেন, ‘ভারতের জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) দোহাই দিয়ে অন্তত চার হাজার মানুষকে বন্দি করেছে বিজেপি সরকার। জননিরাপত্তা আইন ভারতের একটি বিতর্কিত আইন, যার মাধ্যমে কোনো অভিযোগ ছাড়াই যে কাউকে গ্রেপ্তার করে দুই বছরের জন্য বন্দি করে রাখতে পারবে কর্তৃপক্ষ।’

    ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, ‘অসংখ্য মানুষকে বন্দি করার জন্য কাশ্মীরের কারাগারগুলোতে যথেষ্ট জায়গা নেই। আর এ জন্য কাশ্মীরের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় বন্দি রাখা হয়েছে অনেক মানুষকে।’

    এর আগে কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ বিলোপের কয়েকদিনের মধ্যেই শতাধিক স্থানীয় রাজনীতিবিদ, কর্মী ও শিক্ষাবিদকে আটক করা হয়েছিল বলে জানানো হয়। তবে এর পর থেকে মোট কতজনকে বন্দি করে রাখা হয়েছে তা জানাতে বারবার অস্বীকার করছে কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, তিন দশক ধরে ভারতীয় বিধি-নিষেধের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করা একটি অঞ্চলে অশান্তি এড়ানোর জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘আটক হওয়ার পর অন্তত ছয় হাজার মানুষকে শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে।’

    ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রথমে তাঁদের শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে সামরিক উড়োজাহাজে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়।’

    এদিকে গত শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন কেন্দ্রসহ বারামুল্লা ও গুরেজের কনভেনশন কেন্দ্রকে অস্থায়ী বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বন্দিশালায় অন্তত ৫৬০ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আটক রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করার ঘোষণা দেওয়ার আগে ৪ আগস্ট রোববার গভীর রাতে কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দি করা হয়। এরপর ৫ আগস্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে আরো জানায়, অতীতে যেসব রাজনৈতিক কর্মী পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত ছিল, তাঁদেরও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি উপত্যকার পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য আরো অনেক রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুনির খান জানান, জননিরাপত্তা আইনের আওতায় কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে কয়েক বছর কারাগারে আটকে রাখতে উপত্যকায় এই আইন ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

    এক সংবাদ সম্মেলনে মুনির খান বলেন, ‘জননিরাপত্তা আইনের আওতায় কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা তা চাই না কারো প্রাণহানি হোক।’

  • ‘দক্ষিণ এশিয়ার হিটলার’ মোদি ‌‌

    ‘দক্ষিণ এশিয়ার হিটলার’ মোদি ‌‌

    কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানে মধ্যে যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে সেটি সীমান্ত পেরিয়ে ইন্টারনেটে দুনিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের বিরুদ্ধে বদনাম করতে বা কোনো কিছু নিয়ে সমালোচনা করতে ব্যবহৃত হচ্ছে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন। ভারত-পাকিস্তানের নেটিজরদের মধ্যে এই মুহূর্তে চলছে তেমনই এক যুদ্ধ!

    সম্প্রতি কাশ্মীরে ১৪৪ ধারা জারি ও ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইতিমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার হিটলার বা কসাই হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এছাড়া গুগলে বিশ্বের কুখ্যাত ১০ সন্ত্রাসী (টপ টেন ক্রিমিনাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড) লিখে সার্চ দিলেই ভেসে আসছে মোদির ছবি।

    বসে নেই ভারতীয়রাও। সার্চ ইঞ্জিন গুগলে গত বছর গুগলে ‘ভিখারি’লিখে সার্চ দিলে ভেসে আসছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছবি। এখন আবারো গুগলে ইংরেজিতে ভিখারি লিখে সার্চ করলে আসছে ইমরান খানের ছবি। এ নিয়ে ভারতীয় মিডিয়াও উৎসাহের সাথে প্রতিবেদন করছে ইমরানের ‘ভিখারি’ হওয়ার গল্প নিয়ে। পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে নেই পাকিস্তানীরাও। অবশ্যই বিষয়টির সঙ্গে পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতির একটি সম্পর্ক রয়েছে।

    ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে গুগলে একই ধরনের ব্যঙ্গ-রসে মেতেছিল পাকিস্তানিরা। ওই সময় টপ টেন ক্রিমিনাল লিখে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখান যে অন্য কয়েকজন অপরাধী ব্যক্তির সাথে মোদির ছবিও দেখায় গুগল।

    অবশ্য মোদির জন্য এসব কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগে ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার কারণে তার উপাধি জুটেছিলো ‘গুজরাটের কসাই।’ বলাবাহুল্য ওই দাঙ্গায় প্রচুর মুসলিম নিহত হয়েছিলো। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো অসংখ্য ঘরবাড়ি। আর এই দাঙ্গার সঙ্গে মোদির পরোক্ষ যোগসাজস ছিলো বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কেবল তাই নয়, গুগলে এক সময় সবচেয়ে বোকা প্রধানমন্ত্রী (দ্য মোস্ট স্টুপিড প্রাইম মিনিস্টার) লিখে সার্চ দিলেও মোদির নাম আসতো বলে জানা গেছে।