Category: আন্তর্জাতিক

  • কাশ্মীর নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক

    কাশ্মীর নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক

    অনলাইন ডেস্ক :

    কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের নিজস্ব বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। তবে দেশে আল্ট্রা ইসলামিস্টের সংখ্যা বেশি নয়। যারা রয়েছে তারাও ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রয়েছে। আশা করবো ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয় কিংবা কাশ্মীর নিয়ে দেশে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করবেন না। এরপরও যদি কেউ সে চেষ্টা করে তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    র‌্যাব ডিজি বলেন, কাশ্মীর দেশের সমস্যা নয়, বিষয়ও নয়, সেটি নিয়ে দেশে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে, অযাচিতভাবে ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    সম্প্রতি র‌্যাব-৭ এর সাবেক অধিনায়ক (সিও) হাসিনুর রহমানকে ডিবি পরিচয়ে পল্লবীর বাসা থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেছে পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগে গত বুধবার রাত ১টায় পল্লবী থানায় জিডি করা হয়েছে। হাসিনুর এক সময় র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক ছিলেন। তিনি বিজিবিতেও বেশকিছু দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    হাসিনুরকে খুঁজে বের করার বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে চাইলে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘অনেক মানুষকেই তো খুঁজে পাওয়া যায় না। খুঁজে না পাওয়াটা শুধু বাংলাদেশে নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপেও মানুষ নিখোঁজ হয়। একজনকে খুঁজে না পাওয়াটা কোনো বাহিনীর ব্যর্থতা নয়। আমাদের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমরা জ্ঞাত আছি। এ বিষয়ে কাজ করছি। যদি কারো কাছে কোনো তথ্য থাকে তাহলে জানালে আমরা ব্যবস্থা নিব।

  • গুগলকে টেক্কা দিতে নিজস্ব ওএস আনল হুয়াওয়ে!

    গুগলকে টেক্কা দিতে নিজস্ব ওএস আনল হুয়াওয়ে!

    স্মার্টফোনের জন্য নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম চালু করেছে চীনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমকে একহাত নিতেই হুয়াওয়ে আজ শুক্রবার নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমটি চালু করে।

    হুয়াওয়ে তার অপারেটিং সিস্টেমটির নাম দিয়েছে ‘হারমোনি’ (সম্প্রীতি)। প্রতিষ্ঠানের কনজ্যুমার বিজনেস বিভাগের প্রধান রিচার্ড ইয়ু দাবি করেন, হারমোনি অপারেটিং সিস্টেমটি (হারমোনিওএস) ‘পৃথিবীতে আরো সম্প্রীতির বার্তা বয়ে আনবে’।

    হুয়াওয়ের মালিকানাধীন স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ‘অনার’ আগামীকাল শনিবার হারমোনিওস-ভিত্তিক প্রথম স্মার্টফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আনবে। অ্যান্ড্রয়েডে চলে এমন অধিকাংশ অ্যাপই হারমোনিওসে চলবে বলে জানিয়েছে হুয়াওয়ে। পাশাপাশি এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও গাড়ির জন্য অ্যাপ বানাতে পারবেন ডেভেলপাররা। বার্তা সংস্থা এএফপি এসব তথ্য জানিয়েছে।

    চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। চীনের কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে গুগল তার লাইসেন্স বিক্রি করতে পারবে না—যুক্তরাষ্ট্রের এমন নিষেধাজ্ঞার মুখে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম আনল হুয়াওয়ে। এত দিন হুয়াওয়ে ও অনারের সব স্মার্টফোন গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলত। গুগলের অপারেটিং সিস্টেমকে নিজেদের মতো করে রূপান্তর করে স্মার্টফোনগুলো বাজারে আনত হুয়াওয়ে। এক মাসের কিছু কম সময় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাখার পর হুয়াওয়ের কাছে গুগলের লাইসেন্স বিক্রি করার ওপর নিষেধাজ্ঞাটি তুলে নেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

  • ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান

    ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান

    হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজিরা শনিবার আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এবছর প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম পবিত্র হজ পালন করছেন।

    হজের তিন ফরজের মধ্যে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এদিন আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত না হলে হজ হবে না।

    আজ সূর্যোদয়ের পর লাখ লাখ হাজি মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হন। ট্রেনে, বাসে ও হেঁটে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে হাজির হন তারা।

    এসময় লাখো কণ্ঠে ছিল একটাই রব- “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)।”

    আরাফাতের ময়দানে কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করেন। কেউ কেউ যান জাবালে রহমতের কাছে। আবার কেউ কেউ যান মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা শুনতে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা এখানে অবস্থান করবেন।

    এরপর সেখান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন। রবিবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরবেন। এ সময় হাজিরা বড় শয়তানকে পাথর মারবেন, কোরবানি দেবেন, মাথার চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন।

    পাথর নিক্ষেপ পরবর্তী কাজ হলো কোরবানি করা। হাজিরা কোরবানির টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে আগেই জমা দেওয়ায় কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থানে যেতে হবে না।

  • হজের খুতবা দেবেন শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান

    হজের খুতবা দেবেন শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান

    এবছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শাইখ। আজ শনিবার আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরাহ থেকে খুতবা দেবেন তিনি।

    প্রেস এজেন্সি এএসপি সূত্রে জানা যায়, হারামাইন আশ-শরিফাইনের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদ এক রাজকীয় ফরমান জারির মাধ্যমে চলতি বছর আরাফাতের ময়দানে খতিব হিসেবে শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শাইখকে নিয়োগ দেন।

    শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শাইখ সর্বোচ্চ উলামা বোর্ডের সদস্য এবং খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন হাদিস কমপ্লেক্সের প্রধান শাইখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    ১৯৮১ সাল থেকে আরাফার ময়দানের খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দৃষ্টিহীন ইমাম শাইখ আবদুল আজিজ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অবসরে গেছেন। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো হজের খুতবা প্রদান করেন শাইখ আবদুর রহমান আস-সুদাইস। আর ২০১৮ সালে আরাফার ময়দানে হজের খুতবা প্রদান করেন বিচারপতি শাইখ হুসাইন ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হাসান।

  • নির্যাতিত কাশ্মীরী বোনের হৃদয় বিদারক চিঠি

    নির্যাতিত কাশ্মীরী বোনের হৃদয় বিদারক চিঠি

    “আমিও হযরত হাওয়া আলাইহাস সালামের কন্যা। পৃথিবীর ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীর উপত্যকার রাজধানী শ্রীনগর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে আমার বাড়ি। আমি ছাড়া আমার স্বামী আব্দুর রশিদ ও একটি ছোট ছেলে খালেদুর রশীদ। এ তিনজন নিয়েই ছিল আমাদের ছোট সাজানো-গোছানো সংসার। আমাদের বাড়ির চতুর্দিক ছিল কাশ্মীরী আঙ্গুর ও আপেলের বাগানে ঘেরা।

    সবুজ নয়নাভিরাম নৈসর্গিক সুন্দরের প্রাচুর্য ছিল সারাটা এলাকা জুড়ে, যার জন্য কাশ্মীরকে বলা হতো পৃথিবীর ভূস্বর্গ।
    হে মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দ! আমার মত হাজারো নির্যাতিতা বোন আপনাদের দিকে চেয়ে

    আছে; আপনাদের সহযোগিতার আশা করছে। আল্লাহ পাক না করুন, এমন অবস্থা যদি আপনাদের হাজারো বোনের হয়ে যায়, তাহলে ঠিকই আপনাদের ঘুম ভাঙ্গবে, চেতনাও জাগবে।

    পবিত্র সত্তার.কসম! নিজেদের শত মতবিরোধ পেছনে ফেলে ঐক্যবদ্ধ হোন। জেগে উঠুন। সিংহ শাবকদের ভীরু শৃগালের মত কাপুরুষোচিত জীবন শোভা পায় না।
    জালেম ব্রাহ্মণ্যবাদের ভন্ডামির আড্ডায় ‘মুহম্মদ বিন কাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি’ উনার মত গর্জে উঠুন, ওদের কুঠারাঘাত হানুন ।

    এখনো সময় আছে, আপনার মুসলিম বোনদের ইজ্জত রক্ষা করুন। এ দুর্যোগেও যদি আপনার ঘুম না ভাঙ্গে, আপনার পৌরুষত্বের ধমনীতে আগুন না লাগে, ব্যাঘ্র হুংকার দিয়ে বেরিয়ে আসতে না পারেন তাহলে আপনার এ অচেতনতা, মনের দিবানিদ্রা কোনদিন ভাংবে না। বোধোদয় হবে না কোনদিন।

    হে মুসলিম বিশ্বের শেরদিল ভ্রাতৃবৃন্দ! আপনার এক নির্যাতিতা ভাগ্যাহতা বোনের নির্মম কাহিনী আপনাদের কাছে বিধৃত করছি।
    ১৯৯৩-এর ১৫ জুলাই। আমি আমার ছোট্ট নিষ্পাপ শিশু খালেদকে কোলে নিয়ে উঠানে বসেছিলাম। আমার স্বামী আব্দুর রশীদ বৈঠকখানায় তার এক বাল্য বন্ধুর সাথে আলাপ করছিলেন।

    তার বাল্য বন্ধুটি পুরো এক বছর গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের বাড়ি বেড়াতে এসে আমার স্বামী আব্দুর রশীদকে জিহাদী প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা শুনাচ্ছিল। এমন সময় আমার ছোট ভাই ঘরে প্রবেশ করে কুশল বিনিময়ের পর খালেদকে কোলে নিয়ে সোহাগ করতে লাগলো। খালেদ তার মামার কোলে খেলতে লাগলো।

    মাগরিবের নামাযান্তে আমার স্বামী আব্দুর রশীদ এবং গোলাম মুহিউদ্দীন বৈঠকখানার ঘরে অনেক রাত পর্যন্ত আলাপ করে ইশার নামায পড়ে সেখানেই খাবার খেয়েছিলেন। অধিক রাতে শুয়েও সবাই আযানের অনেক আগেই উঠে ফযরের নামাযের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আমিও অযু করে মাত্র আল্লাহ পাক উনার দরবারে সিজদা দিচ্ছি। এমন সময় পাশের বাড়ি থেকে ভেসে এল মেয়েদের কান্নার রোল।

    ভারতীয় জঙ্গী বর্বর হায়েনারা পুরো গ্রাম অবরোধ করে লুট, সম্ভ্রম হরণ, হত্যা আর অগ্নিসংযোগে অল্পক্ষণের মধ্যে ভূস্বর্গ তুল্য গ্রামটিকে নরকে পরিণত করে ফেললো। কয়েক শ’ বাড়িতে আগুন ধরিয়ে বিশজন মেয়ের শ্লীলতাহানি করে ৩০ জন মানুষকে হত্যা করার পর যখন আমাদের ঘরে প্রবেশ করলো; তখন প্রথম তাদের উন্মত্ততায় বাঁধা পড়ল।

    আমার দিকে হাত বাড়াতেই দেখতে দেখতে চারজন ভারতীয় সৈন্য গোলাম মুহিউদ্দীনের ক্লাশনিকভের নিশানায় পরিণত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমার স্বামীর হাতে ছিল পিস্তল। আর ভাই আব্দুল হামিদ ক্লাশনিকভের ম্যাগাজিন ভরে দিচ্ছিল। গোলাম মুহিউদ্দীনের প্রতিটি গুলিতে একাধিক ভারতীয় জঙ্গি বর্বর হায়েনা জাহান্নামের অতল গহ্বরে চলে যাচ্ছিল।

    আমি তখন শিশুপুত্র খালিদকে বুকে জড়িয়ে তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় অকস্মাৎ একটা গুলি আমার ভাই আব্দুল হামিদের মাথায় বিদ্ধ হলে সে পড়ে গেল। সাথে সাথে সে শহীদ হয়ে গেল। এ সময় ভারতীয় জানোয়ারগুলো এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে লাগলো। কিছুক্ষণের মধ্যে স্বামী আব্দুর রশীদও চিরদিনের মত আমাদেরকে ছেড়ে জান্নাতে চলে গেলেন ।

    গোলাম মুহিউদ্দীন খালিদকে নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে আমাকে পালিয়ে যেতে বললেন, কিন্তু আমার পা এক ইঞ্চিও নড়লো না। দশ-বারোটা হায়েনা একসাথে ঘরে ঢুকে গোলাম মুহিউদ্দীনের বুকে কয়েকশ’ বুলেট বিদ্ধ করলো। আমার চোখের সামনে বিদায় হয়ে গেলেন সবাই। বর্বর পাষ- জঙ্গী হায়েনারা আমার কোল থেকে শিশুপুত্র খালিদকে ছিনিয়ে নিয়ে বুটের আঘাতে পিষে ফেললো, আর ঘরের সমস্ত মাল সম্পদ লুটে নিল। চোখে অন্ধকার নেমে এলো ।

    ইজ্জত রক্ষার্থে প্রাণপণ চেষ্টা করলাম। কিন্তু চারটি ভারতীয় হিংস্র জানোয়ার একসাথে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।
    আমার প্রিয় ভাই! এরপর কী হতে পারে তা শুনলে আপনাদের চেতনায় অবশ্যই আঘাতলাগবে। ভিজে যাবে চোখের পাতা।

    বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দ! কাশ্মীরের হাজারো বিপন্ন অসহায় বোন আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি আপনাদের সাহস না থাকে, যদি আপনাদের মধ্যে গাজী সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জজবার অভাব হয়, মুহম্মদ বিন কাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দীপ্ততেজ জমে গিয়ে থাকে, ভীরুতায় যদি আপনারা বুযদিল হয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের হাতে ট্যাংক-অস্ত্র দিন; যেন আমরা নিজেরাই আমাদের ইজ্জত রক্ষা করতে পারি।”

    এতো মাত্র একজন মজলুম বোনের আর্তনাদ। এমন হাজারো কাশ্মীরী বোন আজ লাঞ্ছিতা, নির্যাতিতা। বর্বর পাষন্ড ভারতীয় সন্ত্রাসী হায়েনাদের মুসলিম মা বোনদের সম্ভ্রমলুট, হত্যা-নির্যাতনে সন্তানহারা মা, স্বামী হারা বিধবা বোন, আর নিপীড়িতা অসহায় রমণীর ফরিয়াদে কাশ্মীরের বাতাস ভারী হয়ে গেছে।

    তারা আজ খাদ্য চায় না, বস্ত্র চায় না, চায় অস্ত্র। নিজেদের ইজ্জত বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাদের শুধুমাত্র একটু সাহায্যের প্রয়োজন। কাশ্মীরী নির্যাতিতা হাজারো বোনের এ নিষ্করুণ আর্তনাদ আপনাদের কর্ণ কুহরে প্রবেশ করবে কী, প্রভাব ফেলবে কী আপনাদের মনে ? আমরা অসংখ্য নির্যাতিত.মুসলিম বোন চেয়ে রইলাম আপনাদরে আগমন অপেক্ষায়

  • কাশ্মীরে কিছু হলে ভয়াবহ জবাব দেয়া হবে : পাক সেনাবাহিনী

    কাশ্মীরে কিছু হলে ভয়াবহ জবাব দেয়া হবে : পাক সেনাবাহিনী

    কাশ্মীরে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করা হলে তার কড়া জবাব দেয়া হবে বলে ভারতকে সতর্ক করে দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। শুক্রবার দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক জেনারেল আসিফ গফুর ভারতকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, কাশ্মীরে যদি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়, তাহলে তার জবাব পাক সেনাবাহিনী গত ২৭ ফেব্রুয়ারির চেয়েও শক্তিশালী উপায়ে দেবে।

    ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত রেখা লঙ্ঘন করে ভারতের ভেতরে ঢুকে পাকিস্তান বিমানবাহিনী গোলাবর্ষণ করে। এছাড়া ভারতীয় যুদ্ধবিমান দুটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমানে গুলি চালিয়ে ভূপাতিত ও একজন ভারতীয় পাইলটকে আটক করে। সেই ঘটনার কথা স্বরণ করে দিয়ে পাক এই সেনা জেনারেল নতুন করে হুমকি দিলেন চিরবৈরী এই প্রতিবেশিকে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে সিআরপিএফের অন্তত ৪০ জওয়ানের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনার পর দুই দেশের বিমানবাহিনী আকাশসীমা লঙ্ঘন করে একে অপরের অবস্থানে হামলা চালায়। এতে ভারতীয় দুটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও বিমানবাহিনীর এক পাইলটকে আটক করে পাক সেনাবাহিনী।

    বৃহস্পতিবার রাতে একাধিক টুইটে পাক সেনাবাহিনীর প্রধান এই মুখপাত্র বলেন, দশকের পর দশক ধরে কাশ্মীরিদের সাহসী লড়াই হাজার হাজার সেনা দিয়ে দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত। বর্তমান উদ্যোগও সফল হবে না তাদের।

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিনরের কমান্ডার জেনারেল কানওয়াল জিৎ সিং ঢিলন বলেন, অধিকৃত কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি বিঘ্নকারীদের ওপর নজর রাখছে ভারত। উপত্যকায় পাক সেনাবাহিনী ও পাকিস্তান সব সময় শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের পায়তারা করছে বলেও এক টুইট বার্তায় অভিযোগ করেন তিনি। তার এই অভিযোগকে চিরাচরিত মিথ্যাচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন আসিফ গফুর।

    অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে অনিশ্চিত পরিস্থিতি ও ভারতীয় নৃশংসতা থেকে বিশ্বের নজর অন্যদিকে সরিয়ে নিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আসিফ গফুর।

    তিনি বলেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে গণমাধ্যম ঢুকতে পারছে না। কিন্তু আজাদ জম্মু-কাশ্মীর বিদেশি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত। পছন্দ অনুযায়ী আজাদ কাশ্মীরের যেকোনো জায়গায় ভারত এবং পাকিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপের সদস্যরা যেতে পারেন।

  • ‘ঈদে বাড়ি এসো না’, ফোনে ছেলেকে কাশ্মীরি মা

    ‘ঈদে বাড়ি এসো না’, ফোনে ছেলেকে কাশ্মীরি মা

    টানা পাঁচ দিন পর জম্মু ও কাশ্মীরে অচলাবস্থার আংশিক অবসান করা হলো। আজ শুক্রবার সকালে ফোন পরিষেবা এবং ইন্টারনেট আংশিকভাবে চালু করা হয়। জুমার নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে রাস্তাঘাটে চলাচল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।

    সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার অবসান ঘটানো এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগাম সতর্কতাস্বরূপ হাজার হাজার সুরক্ষাকর্মী কাশ্মীর উপত্যকায় কড়া নজর রাখছে।

    তবে আপাতত শ্রীনগরের ডিসি অফিস থেকে কঠোর নজরদারির মধ্যে জরুরি ফোন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই ছেলেকে ফোন করার জন্য শ্রীনগরের লাল চক এলাকায় ডিসি অফিসে জওহার নগর থেকে হেঁটে যান এক দুর্ভাগা মা। তারপর ফোনে ছেলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    ফোন শেষে নাম প্রকাশ না করে ওই মা বলেন, ‘আমার স্বামী ছেলের সাথে কথা বলতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাঁকে বলেছি যে চেক পয়েন্টে পুরুষদের যেতে দিচ্ছে না, তাই আমি যাব। এজন্য আমি শ্রীনগরের লাল চক এলাকায় ডিসি অফিসে জওহার নগর থেকে পায়ে হেঁটে গিয়েছি। ছেলে আমার ফোন পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় নিজেকে সামলে আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছি আমার ছেলেকে। বলেছি কাশ্মীরের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। এ অবস্থায় ঈদ করতে কাশ্মীরে ফেরার কোনো দরকার নেই।’

    নিজের পরিচয় না দিলেও তিনি বলেন, ‘মৌজা আক’। যার অর্থ দাঁড়ায়-কাশ্মীরের অনেক মায়ের একজন প্রতিনিধি।

    বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সীমিত পর্যায়ে টেলিফোন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে। গতকাল রাজধানী শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) দপ্তরে মাত্র দুটি ফোন ব্যবহার করে কাশ্মীরের বাইরে জরুরি ফোন করার অনুমতি দেওয়া হয়। ওই সময়ে এক কাশ্মীরি মা পবিত্র ঈদুল আজহায় ছেলেকে কাশ্মীরে ফিরে যেতে মানা করেন।

    জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়া এবং ওই অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরপরই কাশ্মীরের সঙ্গে বাইরের সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।

    ভারতসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শ্রীনগরের ডিসি অফিসের দুটি ফোন থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাশ্মীরের বাইরে বসবাসরত সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে।

    শ্রীনগরের ডিসি অফিসে জরুরি ফোন করার জন্য যারা উপস্থিত হয়েছিলেন তাদের বেশিরভাগই নারী। ঘর থেকে বের হলে পুরুষরা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশির মুখে পড়েন বলে নিরুপায় কাশ্মীরি নারীরাই বের হতে বাধ্য হয়েছেন।

  • রাশিয়াকে পাশে পেল ভারত

    রাশিয়াকে পাশে পেল ভারত

    জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলো ভারত। এবার রাশিয়ার এক বিবৃতিতে সেই অবস্থা থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলো নয়াদিল্লি। তাইতো মস্কোর ওই বিবৃতিকে ফলাও করেছে ভারিতের মিডিয়াগুলো।

    ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারটি বাতিল করার দীর্ঘ চারদিন পর এ নিয়ে মুখ খুলেছে পুতিন সরকার। ভারতকে সমর্থন করে দেয়া এক বিবৃতি মস্কো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধান মেনেই জম্মু-কাশ্মীর সম্পর্কে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এই ইস্যুতে একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানকে শান্ত থাকারও বার্তাও দিয়েছে দেশটি।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সংবিধানসম্মত ভাবেই ভারত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার পরিবর্তন করেছে ও দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করেছে। আমরা আশা করি যে এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই এলাকার পরিস্থিতির অবনতি হবে না। রাশিয়া সব সময়েই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সুষ্ঠু সম্পর্কের পক্ষে।’

    তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রাশিয়ার ওই বিবৃতিতে উঠে এসেছে লাহোর ও শিমলা চুক্তির কথাও। তাতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা করব, শিমলা ও লাহোর ঘোষণাপত্র মেনে দুই দেশ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে তাদের যাবতীয় দ্বন্দ্বের নিরসন ঘটাবে।’

    ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো মনে করছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যের মধ্যে কাশ্মীর প্রসঙ্গে রাশিয়ার এই অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ওই পাঁচ সদস্য দেশের মধ্যে মস্কোই প্রথম সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজকে ভারতের নিজস্ব ব্যাপার বলে মন্তব্য করলো। তবে এই ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চীন।

    এদিকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যে ভারতের সঙ্গে সমস্ত রকম সম্পর্ক বন্ধ করেছে ইসলামাবাদ।

    জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান। শুক্রবার বেইজিং সফরে গিয়ে চীনা সরকারের সমর্থন আদায় করে নিয়েছেন পরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। তুরস্কসহ মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো জোড়ালো বার্তা দেননি কোনো মুসলিম সরকার প্রধান। একই সঙ্গে অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘও। তারা ভারত ও পাকিস্তানকে শান্ত থাকারও আহ্বান জানিয়েছে।

  • কাশ্মীরি নারীদের ভোগ করতে মরিয়া ভারতের বিকৃতমনা পুরুষেরা

    কাশ্মীরি নারীদের ভোগ করতে মরিয়া ভারতের বিকৃতমনা পুরুষেরা

    অধিকৃত কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদাদানকারী ৩৭০ ধারাটি গত ৫ আগস্ট তুলে নিয়েছে মোদি সরকার। এর আগে অবশ্য উপত্যাকার ওপর ১৪৪ ধারা আরোপ করে সেখানকার বাসিন্দাদের মূলত ঘরে থাকতে বাধ্য করেছে ভারত। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে লাখ লাখ সেনা। বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ, অফিস আদালত, বাজারঘাটসহ সবকিছু। এ অবস্থায় কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের অবস্থা যে কতটা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু এসব খবর ছাপিয়ে ভারতের সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে ভারতীয় পুরুষদের বিবৃত মানসিকতা।

    বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ায় খুশিতে নাকি বোগল বাজাচ্ছে ভারতীয় পুরুষরা। তারা নাকি একে কাশ্মীরের সুন্দরী নারীদের এতদিন পর ভোগ করার সুযোগ হিসেবেই দেখছে। তাই বুঝি অমিত শাহের এই ঘোষণার পরপরই গুগলে ‘কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ করতে শুরু করেছেন ভারতীয় পুরুষেরা। কেবল সাধারণ পুরুষ নয়, বিভিন্ন নেতা এমনকি খোদ মন্ত্রী পর্যন্ত কাশ্মীরি নারীদের বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। আর নিজেদের এসব বিকৃত বাসনা গোপন করার কোনো চেষ্টাই তারা করেননি। বরং জন সমাবেশে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ঘোষনা করেছেন।

    হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তার শুক্রবার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘আমাদের পথের কাঁটা সরে গেছে। এখন কেবল বিহার থেকে নয়, আমরা এখন কাশ্মীর থেকেও মেয়ে আনতে পারবো।’

    হরিয়ানার বিকৃতমনা মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তার

    মজার কথা হচ্ছে, তিনি ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’র মত একটি নারীবান্ধব কর্মসূচিতে গিয়ে নারীদের বিরুদ্ধে এত বড় অপমানজনক কথা বলেছেন।

    এখানে বলে রাখা ভালো, মেয়েভ্রণ হত্যার কারণে ভারতের এই রাজ্যটিতে নারীদের সংখ্যা খুব কম। প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে সেখানে মাত্র ৮৫০ জন নারী রয়েছে। তাই হরিয়ানার পুরুষেরা পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে মত পশ্চাতপদ রাজ্যগুলো থেকে বিয়ের নামে নারী যোগাড় করে থাকে।

    এর আগে বিজেপি নেতা বিক্রম সাইনি তার দলের নেতা-কর্মীদের কাশ্মীরে গিয়ে জমি ও নারীদের ওপর দখল নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    তিনি মোদি সরকারের ওই বিতর্কিত ঘোষণার পরদিনই কাশ্মীরের মুজাফফরনগরে গিয়ে বলেন, ‘মোদিজীকে ধন্যবাদ। তিনি আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছেন। এ আনন্দে ড্রাম বাজাচ্ছে গোটা ভারত। বিজেপিতে অবিবাহিত কর্মীরা, যারা এতদিন ধরে কাশ্মীরের সুন্দরী নারীদের বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছে, তারা এখন নির্ভয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন। তোমরা সবাই কাশ্মীরে যাও এবং সেখানকার সুন্দরী নারীদের বিয়ে করো। একই সঙ্গে সেখানকার জমাজমির মালিক হও।’

    বিজেপি নেতাদের এসব বিবৃতির প্রেক্ষিতে গুগলে ‘কাশ্মীরি গার্ল’ খোঁজার যে ট্রেন্ড দেখা গেছে। বলাবাহুল্য এই ঘটনা ভারতীয় পুরুষদের ‘ধর্ষণকামী’ বিকৃত মানসিকতারই’ প্রমাণ বহন করে। এ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ ভারতের কিছু সংখ্যক নারী নেত্রী।

    #ইন্ডিয়ামিটু’র সমন্বয়ক ও সাংবাদিক ঋতুপর্ণা চ্যাটার্জি বলেন, ‘এরা ধর্ষণকামী পুরুষ! শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পুরুষের যুদ্ধক্ষেত্রে টার্গেট হয়েছে নারীদেহ। কাশ্মীরি মেয়েদের নিয়ে বিজেপি বিধায়কের সবশেষ মন্তব্য সেই বিষয়টির প্রমাণ বহন করছে।’

    বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য এবং অনলাইনে ‘কাশ্মীরি গার্ল’ লিখে খোঁজার বিষয়টিকে সরাসরি ‘নারী অবমাননা’ বলছেন নয়াদিল্লির সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও নারী অধিকার নেত্রী মিহিরা সুদ। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরের নারীরা যুদ্ধের গণিমতের মাল নন। তারাও অন্যদের মতো মানুষ, মতামতের অধিকার তাদেরও আছে।’

    বিষয়টিতে চরম ক্ষুব্ধ কিছু মানবাধিকার কর্মী বলেন, ‘স্মার্টফোন হাতে যারা এই ধরনের গুগল সার্চ করছেন, তারা আসলে হরিণের চামড়া গায়ে দেওয়া নেকড়ে।’

    তবে ভারতীয় নেতাদের এসব বিকৃত বিবৃতি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কাশ্মীরি নেতার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সম্ভবত, ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে ওই অঞ্চলটির যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এখনও তাদের কানে যায়নি।

    প্রসঙ্গত, ভূস্বর্গ হিসেবে পরিচিত এই উপত্যকার নারীদের রূপ ও গুণের খ্যাতি রয়েছে বিশ্ব জুড়ে। বলা হয়ে থাকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী এই রাজ্যের মেয়েরা। কেবল এশিয়া নয়- সাগরের মত নীল চোখ, আপেলের মত গায়ের রং আর মিষ্টি হাসি আর ঐতিহ্যবাহী পোশাকের কল্যাণে তারা সবার মন জয় করে নিয়েছে।

  • ধর্মীয় সম্প্রীতি দেখতে বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে যেতে বললেন মোদি

    ধর্মীয় সম্প্রীতি দেখতে বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে যেতে বললেন মোদি

    সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভূয়সী প্রশংসা করে বাংলাদেশকে ধর্মীয় সম্প্রীতির রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নয়াদিল্লিতে তার সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশি মানুষ কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে মিলেমিশে ধর্মীয় সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে তা প্রত্যক্ষ করতে বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফর করা উচিত।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার আয়োজিত বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সপ্তম বৈঠকে অংশ নিতে মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছেন। বৈঠকের শুরুতে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোদি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত কর্মসূচির অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন

    এ সময় তিনি টানা তিন মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যেন ভারতসহ অন্যান্য দেশের ক্ষতি করতে না পারে সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের গৃহীত নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের সহায়তা চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মোদি বলেন, ভারত সরকার রোহিঙ্গা সমস্যাটি ইতোমধ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেছে। ভারত মনে করে সমস্যাটি অবশ্যই সমাধান করতে হবে।

    মোদি বাংলাদেশে ঠাঁই নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আবারও মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

    বৈঠকে আসাদুজ্জামান উভয় দেশের সীমান্তে মাদকসহ সব চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য অপরাধ রোধে একটি নিরাপদ ও কার্যকর সীমান্ত প্রতিষ্ঠায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    বিমসটেক এ অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মোদি আশা প্রকাশ করেন। এ সময় ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের মো. শহিদুজ্জামান, আইজিপি ড. মো. জাভেদ পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।