Category: আন্তর্জাতিক

  • সৌদির সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান : জাভেদ জারিফ

    সৌদির সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান : জাভেদ জারিফ

    সৌদি আরব প্রস্তুত থাকলে আলোচনায় বসতে ইরানও প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ। বুধবার তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে ইরানি বার্তাসংস্থা আইআরআইবির বরাত দিয়ে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

    জারিফ বলেছেন, আলোচনার জন্য সৌদি আরব যদি প্রস্তুত থাকে, তাহলে প্রতিবেশিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমরাও সবসময় প্রস্তুত।

    তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দরজা কখনো বন্ধ করিনি এবং প্রতিবেশিদের সঙ্গে আলোচনার দরজা আমরা কখনোই বন্ধ করবো না।

    গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের চিরবৈরী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। রিয়াদের ছয়টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ইরান ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব।

    তবে এই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে গত মাসে; যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় সৌদি আরবের চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়। ট্যাঙ্কারে হামলায় ইরান জড়িত বলে সৌদি আরব দাবি করলেও এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

    সৌদি আরবের অন্যতম বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার পর ওই তেল ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানতে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

  • ইরানে আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিচ্ছেন ট্রাম্প

    ইরানে আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিচ্ছেন ট্রাম্প

    ইরানের সঙ্গে ছয় পরাশক্তির স্বাক্ষরিত পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার পর তেহরানের ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তা শিথিল করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

    মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট গতকাল মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছয় কর্মকর্তার বরাতে এ খবর জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

    ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের বিরোধিতা করেন। তবে ট্রাম্পের এমন পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নুচিন।

    অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নুচিন বলেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করলে আইন অনুযায়ী আগামী ১ আগস্টের মধ্যে রাশিয়া, চীন ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। ট্রাম্পের এমন উদ্যোগে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলোর চুক্তিটি জিইয়ে রাখার কাজটা সহজ হলো।

    ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকার সময় স্বাক্ষরিত জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের ওই পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি ‘ইরান ডিল’ নামেও পরিচিত। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ছয়টি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীন।

    ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে ইরানের সঙ্গে করা ওই চুক্তিটি বাতিল করবেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ মে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন তিনি। এরপর থেকে তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

  • মালয়েশিয়ায় পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে ১০ বাংলাদেশি নারীকে

    মালয়েশিয়ায় পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে ১০ বাংলাদেশি নারীকে

    অনলাইন ডেস্ক :

    ১০ বাংলাদেশি ও এক ভারতীয় নারীকে মালয়েশিয়ায় পাচারের পর দেহ ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে দেশটির অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা ‘গ্রাব’র এক চালকের বিচার শুরু হয়েছে। তবে ওই চালক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে অস্বীকার করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে বুধবার দেশটির এক দায়রা জজ আদালতে দাবি করেন তিনি।

    সু লিয়ান ও পলাতক অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধের দায়ে আদালতের বিচারক আজমান আহমদ পৃথক অভিযোগ গঠন করেছেন। একই সময়ে ২০ ও ৩৭ বছর বয়সী তিন বাংলাদেশি নারীকে ওই ভবনেই পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেন তারা।

    মালয় মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার বিচারক আজুরা আলওইর আদালতে অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী চালক সু লিয়ানকে হাজির করা হয়। তিনি অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে ভারতীয়সহ আরও আট নারী পাচারেও অভিযুক্ত; যাদের বয়স ১৯ থেকে ৩১ বছরের মধ্যে।

    গত ৪ জুলাই মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান তুন ট্যান সিউ সিন এলাকায় ওই নারীদের দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

    অভিযুক্ত সু লিয়ানকে ৫০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিনিময়ে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। তবে প্রত্যেক মাসের প্রথম সপ্তাহে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে গিয়ে তাকে হাজিরা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্ট উভয় আদালতে পৃথক অভিযোগের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • মদ খেয়ে পুলিশকে চুমু, যুবক গ্রেফতার

    মদ খেয়ে পুলিশকে চুমু, যুবক গ্রেফতার

    অনললাইন ডেস্ক :

    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বোনালু বা হিন্দু দেবী মহাকালীর পূজা। প্রতি বছর এই সময় ধুমধাম করে এই উৎসব পালিত হয়। উৎসবটি ঘিরে শোভাযাত্রাও হয় ভারতের বিভিন্ন শহরে। রোববার সে রকমই এক শোভাযাত্রা বেরিয়েছিল হায়দারাবাদ শহরে।

    শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিতে সেখানে উপস্থিত ছিল পুলিশ। কিন্তু শোভাযাত্রা চলাকালীন এক মদ্যপ চুম্বন করে বসেন কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    রোববার রাতে হায়দারাবাদ শহরের নরসিমহা বস্তিতে এসআই মহেন্দরের। বোনালু উৎসব উপলক্ষে ঢাক-ঢোলের তালে সেখানে নাচছিলেন কয়েকজন যুবক। মহেন্দরকে দেখে সেই দল থেকে এগিয়ে আসেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী ভানু। নাচতে নাচতে মহেন্দ্রকে জাপটে ধরে চুমু দেন তিনি।

    প্রথমে একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলেও পরক্ষণে নিজেকে সামলে নিয়ে ভানুর গালে সপাটে থাপ্পড় মারেন মহেন্দ্র। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হলে তা ভাইরাল হয়। তা দেখে টনক নড়ে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের।

    ঘটনাটি নিয়ে এক পুলিশ পরিদর্শক জানিয়েছেন, ‘রোববার হায়দরাবাদ শহরে বোনালু উৎসব উপলক্ষ্যে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। নিরাপত্তার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিদর্শক (এসআই) মহেন্দ্র। তখনই তাকে চুম্বন করে ভানু নামের এক ব্যক্তি। তিনি সে সময় মত্ত অবস্থায় ছিলেন।’

    উপরতলার নির্দেশে কর্মরত এসআই-কে নিগ্রহের দায়ে গ্রেফতার ভানুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫৩৩ নম্বর ধারায় (কর্মরত অবস্থায় থাকা সরকারি কর্মীকে আক্রমণ ও আঘাত হানার চেষ্টা) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

  • ভারতে ছেলেধরা সন্দেহে ২ কংগ্রেস নেতাকে ‘গণপিটুনি’

    ভারতে ছেলেধরা সন্দেহে ২ কংগ্রেস নেতাকে ‘গণপিটুনি’

    ভারতে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই কংগ্রেস নেতাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে মধ্যপ্রদেশের বেতুলে এ ঘটনা ঘটে।

    ভারতের গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমসের খবরে বলা হয়েছে,কয়েকদিন ধরেই মধ্যপ্রদেশে ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল।বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসী আতঙ্কে থাকায় রাতে অপরিচিত লোক দেখে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ ব্যাপারে তদন্তকারী অফিসার এএসপি রাম স্নেহী মিশ্র জানান,বৃহস্পতিবার রাতে কংগ্রেসের ওই দুই নেতা এক কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে একটি গ্রামের উপর দিয়ে ফিরছিলেন।বেতুলের ওই গ্রামে কয়েকদিন ধরেই ছেলেধরার গুজব চলছিল। তাই রাতে অপরিচিত তিন জনকে দেখে সন্দেহ বাড়ে। তারা যে কংগ্রেস নেতা তা গ্রামবাসীদের জানা ছিল না। এ কারণে পরিচয় না জেনেই ওই তিন জনকে মারধর করেন গ্রামবাসীরা।

    খবরে পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তিন জনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের কাছে কংগ্রেস নেতাদের পরিচয় জানতে পেরে, গ্রামবাসীরা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানান এএসপি।

    এদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার রাত পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র অথবা কানাডায় বসতি গড়তে চান প্রিয়া সাহা

    যুক্তরাষ্ট্র অথবা কানাডায় বসতি গড়তে চান প্রিয়া সাহা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্ভট নালিশকারী বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বরখাস্ত হওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা দেশটিতে অ্যাসাইলামের কথা ভাবছেন। সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বর্তমানে কানাডায় অবস্থানকারী বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। তাদের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয় বলে জানা গেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার ঘনিষ্ঠজনেরা টেলিফোন-আলাপের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও জানিয়েছেন, ‘প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্র অথবা কানাডায় বসতি গড়তে চান। এ ক্ষেত্রে তার কর্মজীবী স্বামীর প্রসঙ্গ উঠেছিল। প্রিয়া বলেছেন তাকে কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। সবার দৃষ্টি রয়েছে তার প্রতি।’

    জানা গেছে, প্রিয়া সাহা বর্তমানে নিউইয়র্কে তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। পছন্দের লোক ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেন না এবং ফোনও রিসিভ করেন না। সম্প্রতি জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একাত্তরের ঘাতক হিসেবে মৃত্যুদ প্রাপ্ত আলবদর মীর কাসেমের অর্থে পরিচালিত গণমাধ্যমের লোকজনও কথা বলেছেন। বিএনপিতে জামায়াতপন্থি কয়েকজনেরও সুযোগ হয়েছে প্রিয়া সাহার সঙ্গে কথা বলার। এরই মধ্যে প্রিয়া সাহা জাতিসংঘের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তিনি কী নিয়ে কথা বলেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ঢাকা থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একজন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন পেয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন তাকে আশ্বস্ত করেছেন, প্রিয়া সাহা ঢাকায় ফিরলে তাকে গ্রেফতার বা নির্যাতনের কোনো পদক্ষেপ সরকার নিচ্ছে না। প্রিয়া সাহা ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউসে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নানা অভিযোগ করেন। তিনি প্রেসিডেন্টকে বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নিখোঁজ (ডিজঅ্যাপিয়ার্ড) হয়েছেন। তারা যাতে দেশে থাকতে পারেন, সেজন্য ট্রাম্প যেন সহায়তা করেন। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মহলে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কঠোর ভাষায় তার সমালোচনা করে। তবে পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা শোনার আগে তড়িঘড়ি কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার সঙ্গে তার টেলি-আলাপের বিষয়ে বলেন, ‘তিনি জানতে চেয়েছিলেন আমরা তাকে (প্রিয়া সাহা) গ্রেফতার কিংবা তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করছি কিনা? আমি বলেছি, সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করবে বলে আমার মনে হয় না।’ শুরুতে প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’ বলেছিলেন ওবায়দুল কাদের। প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে তাকে আটকের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    এরপর বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে যতগুলো মামলার আবেদন হয়েছিল, আদালত তা খারিজ করে দেয়। ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী মোমেন বলেন, ‘এই কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন প্রিয়া সাহা এখন শঙ্কিত। আমি তাকে বলেছি, (দেশে ফেরার পর) তিনি সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাইতে পারেন।’ ‘বাংলাদেশে অনেক বিষয়ে অনেকেই কথা বলেন, আমরা তাদের গ্রেফতার করি না’, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাকে বলেছেন মোমেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। বরং বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। এদিকে প্রিয়া সাহার নিন্দায় হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসীরা। নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনেও প্রিয়া সাহার মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশি আমেরিকান প্রগ্রেসিভ ফোরাম তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত সভায় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন ক্যাবি সংগঠনের নেতা ডা. আজিজুল হক ও ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। ওজোন পার্কে মোতাসসিম বিল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন আ ন ম লিটন।

  • ইমরানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

    ইমরানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

    ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘কালো দিবস’ পালন উপলক্ষে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তন। এসময় দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে পাক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের জোরাল দাবি তোলে বিরোধী দলগুলো।

    শুক্রবার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ইয়াহু.কম প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দেশটিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের এক বছর পর, ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে বিরোধী দলগুলোর হাজার হাজার সমর্থক করাচী, পেশোয়ার, লাহোর, কোয়েটা এবং রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

    বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রধানত পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইআই-এফ) দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রাথমিকভাবে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তারা ইমরানের খানের পদত্যাগ দাবি করেন।

    দক্ষিণ-পশ্চিম শহর কোয়েট্টার একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়ে পিএমএল-এন নেতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তনয়া মরিয়ম নওয়াজ বলেন, ‘ইমরানের খানের উপস্থিতিতে প্রতিটা দিনই কালো দিন’। এসময় তিনি ওয়াশিংটন সফরের সময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘হুকুম’ গ্রহণের অভিযোগে খানকে অভিযুক্ত করেছেন এবং এর প্রতিবাদে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে ইসলামাবাদে একটি প্রতিবাদ মিছিল আয়োজনের প্রস্তাব করেছেন।

    অপরদিকে দেশটির আরেক প্রধান বিরোধী দল ও আততয়ীর হাতে খুন হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পুত্র, পিপিপি-এর নেতা বিলওয়াল ভুট্টোর বক্তব্য শুনতে এদিন পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচীতে হাজির হন পিপিপি-এর হাজার হাজার সমর্থক।

    এসময় বিভিন্ন ব্যানারে পিটিআই এর বিরুদ্ধে পাকিস্তানে ‘মূল্য বৃদ্ধি’, ‘মূল্যস্ফীতি’, ‘বেকারত্ব বৃদ্ধি’, ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ আনার’ উল্লেখ করে বিভিন্ন স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। লাহোর ও পেশোয়ারসহ অন্যান্য শহরে অনুরূপ প্রতিবাদ ছিল।

    এদিকে ইমরানের ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের এই প্রতিবাদকে প্রত্যাখান করেছে এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলোকে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহারের জন্য দোষারোপ করেছে। বিরোধী দলের নেতাদের দেশ থেকে অবৈধভাবে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সরানোর দায়ে অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে পাকিস্তান, এমন অভিযোগ আনেন ক্ষমতাসীন দল।

    অপর দিকে, মরিয়ম নওয়াজ উপস্থিত হাজার হাজার জনতার কাছে জানতে চান, ‘যদি এই জাল সরকার, যারা ক্ষমতায় আসার জন্য ভোট চুরি করে, এটিকে চূড়ান্ত ধাক্কাটা দিতে, যদি … তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ইসলামাবাদে যেতে হয়, বেলুচিস্তান কি তাহলে আমাদের সাথে যোগ দেবে?’

    ইমরানের খানের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে এনে গত বছর থেকেই নওয়াজ ও তার দল এক ধারাবাহিক জনবিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবারকে (২৫ জুলাই) জাল ভোটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বর্ষপূর্তী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

    তবে, পাকিস্তানের একমাত্র ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশটিতে পিটিআই-এর নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন অভিযান পরিচালনা করেন, যাতে দেশটির বিরোধী দলের অনেক নেতাই আটক হন।

    এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, তার ভাই শেহাবাজ, আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসি এবং অন্যান্য নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পাকিস্তানের অন্যান্য বিরোধী দলীয় নেতাও অভিযানে আটক হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে জেলে রয়েছেন।

    দেশটির বিরোধী দলগুলো ইমরানের খানকে দুর্নীতি দমন অভিযানের নামে রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু বানানোয় অভিযুক্ত করেছে। যদিও পিটিআই বলছে, তারা পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে পরিষ্কার করছে।

    II গণমাধ্যমের উপর ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে ‘ব্ল্যাক আউট’

    পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদ টেলিভিশন চ্যানেলে বেশ কিছু বিরোধীদলের প্রতিবাদ সরাসরি সম্প্রসারিত হলেও পিএমএল-এন নেতা মরিয়মের বিক্ষোভের বিষয়টি কোথাও দেখানো হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে ফেডারেল মন্ত্রীসভার আদেশে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদেরকে কভার করার ওপর নিষেদ্ধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

    পাকিস্তানে ‘বর্বর সেন্সরশিপ’ গ্রহণের বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা সেন্সর করা বা বিরোধী দলের ঘটনাগুলো কভারেজের বিষয়ে।

    দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন, পিএমএল-এন এবং একটি ধর্মীয় ডানপন্থী দল জেইআই-এ-এর কয়েকশত সমর্থক প্রতিবাদ জানাতে শহরের প্রেস ক্লাবের বাইরে জড়ো হয়েছিল।

  • কাশ্মীরে ধোনির টহল

    কাশ্মীরে ধোনির টহল

    লাইন অব কন্ট্রোলে (এলওসি) দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছে পাকিস্তান কিংবা ভারতের সৈনিক, এমন ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হলে অবাক হবেন না! কারণ মহেন্দ্র সিং ধোনি এখন থেকে দুই মাসের জন্য টহল দেবেন পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে। বিশ্বকাপ খেলে দেশে ফেরার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে না গিয়ে ভারতের সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালন করতে দুই সপ্তাহের জন্য সৈনিক জীবন বেছে নিয়েছেন ধোনি। ভারতীয় একটি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ১০৬ টেরিটরিয়াল আর্মি ব্যাটালিয়নের (প্যারা) অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অনারারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল ধোনি। এই ইউনিটটি কাশ্মীরের ভিক্টর ফোর্সের অংশ। এ সময় টহল, নিরাপত্তা রক্ষা ও সীমান্ত চৌকিতে দায়িত্ব পালন করবেন ধোনি। থাকবেন সৈনিকদের সঙ্গে। ধোনি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছত্রীসেনাও। পাঁচটি প্যারাসুট জাম্প পূর্ণ করার মাধ্যমে তিনি প্যারাট্রুপার হিসেবেও নিজেকে উপযুক্ত করে তুলেছেন।

  • সহসাই দেশে ফিরছেন না প্রিয়া সাহা

    সহসাই দেশে ফিরছেন না প্রিয়া সাহা

    অনলাইন ডেস্ক :

    বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নালিশের পর দেশ-বিদেশে আলোচনার ঝড় ওঠানো প্রিয়া সাহা সহসাই দেশে ফিরছেন না। নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি এখনই দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    নিউইয়র্কে তার এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় ফিরলে তাকে গ্রেফতার বা হয়রানির বদলে সরকার নিরাপত্তা দেবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। ফলে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় আশ্রয়ের জন্য আবেদন করবেন।

    নিউইয়র্কে ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়ের বাসায় বসবাস করছেন প্রিয়া সাহা। আপাতত গণমাধ্যমকর্মী কিংবা অপরিচিত কারও সঙ্গেই দেখা করছেন না। এমনকি মোবাইল ফোনেও কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। জাতিসংঘের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে প্রিয়া সাহা যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

    হোয়াইট হাউসে ১৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে তার এক বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারসহ দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি।

    প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’

    ট্রাম্পের সঙ্গে সেদিন প্রিয়া সাহার কথোপকথনের যে ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে তাতে অবশ্য প্রিয়া সাহাকে ৩৭ মিলিয়ন লোক; হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ‘ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ হওয়ার কথা বলতে দেখা গেছে। প্রিয়া সাহার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

  • ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দ নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী অপর্ণা সেন

    ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দ নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী অপর্ণা সেন

    অনলাইন ডেস্ক :

    ‘দেশজুড়ে কোথাও গোমাংস খাওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও জয় শ্রী রাম না বললে পেটানো হচ্ছে। এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। এগুলো কী ধরনের ঘটনা? কেন একজন ভিন্ন ধর্মের মানুষকে জোর করে জয় শ্রী রাম বলানো হবে? আমি একজন হিন্দু, আমাকে যদি কেউ জোর করে আল্লাহু আকবার বলতে বাধ্য করে, তাহলে আমার কেমন লাগত?’

    কথাগুলো বলেছেন পরিচালক ও অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। গোটা ভারতজুড়ে সংখ্যালঘু, দলিতদের নির্যাতন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন অভিনেত্রী অপর্ণা সেন, মনি রত্নম, অঞ্জন দত্তসহ ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। চিঠি দেয়ার পর সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘জয় শ্রী রাম, আল্লাহু আকবর, জয় বাংলা, জয় মা কালী কিংবা জয় মহাদেব-সবকিছুই বলার অধিকার আছে মানুষের। তবে ভালোবেসে বলানো উচিৎ, জোর করে নয়।’

    চিঠি প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘দেশে দলিত ও সংখ্যালঘুরা অত্যাচারিত হচ্ছে। এ ঘটনার যথাযথ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে ওই চিঠিতে। বিশ্বস্ত সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।’

    ওই ৪৯ জন চিঠিতে বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে বলা হয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ধর্মীয় কারণে ২৫৪ জনকে অপরাধী, ৯১ জনকে হত্যা, ৫৭৯ জন আহত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদে যখন নরেন্দ্র মোদি ছিলেন তখন এমনই অপরাধের মাত্রা ছিল ৯০ শতাংশ।

    এই চিঠিতে যেমন তারকাদের নাম রয়েছে, তেমনই রয়েছে সমাজকর্মী, কার্ডিওলজিস্ট, লেখক, ঐতিহাসিক, সাধারণ নাগরিকরা। চিত্র পরিচালক কেতন মেহতা, অঞ্জন দত্ত, অনুপম রায়, আদুর গোপালকৃষ্ণণ, রূপম ইসলাম, ঋদ্বি সেন, ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ, সংগীতশিল্পী শুভা মুদগলের নাম রয়েছে এই চিঠিতে।