Category: আন্তর্জাতিক

  • মাত্র দেড় বছর সময় আছে পৃথিবীকে বাঁচানোর

    মাত্র দেড় বছর সময় আছে পৃথিবীকে বাঁচানোর

    পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য রাখতে কার্বন নিঃসরণ কমাতেই হেবে। আগে বলা হয়েছিলো ১২ বছর সময় আছে এটি করার জন্য। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, আগামী দেড় বছর পৃথিবীকে রক্ষা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। যা কিছু করার এই সময়ের মধ্যে করতে হবে।

    এই শতাব্দিতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখতে চাইলে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে। এমনই দাবি করেছে গত বছর জাতিসংঘের জলবায়ূ বিষয়ক (ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ,আইপিসিসি) বিজ্ঞানীরা। ২০১৭ সালে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় জলবায়ূ বিজ্ঞানী বলেন, অতো সময় নেই। কার্বন নির্গমন কমাতে ২০২০ সালের আগেই পদক্ষেপ নিতে হবে। পৃথিবীকে রক্ষার ২০২০ সালই শেষ সময়।

    সম্প্রতি কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসও একই কথা বলেন। যুবরাজ বলেন, আগামী ১৮ মাসেই নির্ধারিত হবে জলবায়ুর পরিবর্তন আমাদের টিকে থাকার মাত্রায় আটকে রাখতে পারবো কিনা। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, তা তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে নিরাপদ সীমার মধ্যে রাখতে পারবে না। চলতি শতাব্দির শেষ নাগাদ তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    জানা যায়, এ বিষয়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশের পরিকল্পনাগুলো ৫/১০বছর মেয়াদী। ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমাতে ব্যবস্থা নেবে। তারপর এ বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও ওই চুক্তির ‘রুলবুকই তৈরি হয়নি। এ বিষয়ে যেসব পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, তা তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে নিরাপদ সীমার মধ্যে ধরে রাখতে পারবে না। এ অবস্থায় এ শতাব্দির শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

    জলবায়ু বিজ্ঞানী ও পটসড্যাম ক্লাইমেট ইনস্টিটিউটের হ্যান্স জোয়াকিম শেলনহুবার বলেন, ‘জলবায়ু বিষয়ক অঙ্কটা নির্মমভাবেই স্পষ্ট । অবহেলায় পৃথিবীর অপূরণীয় ক্ষতি হবে, যদি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর ক্ষত সারিয়ে তোলা সম্ভব না হয়। এ বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ডাকা বিশেষ জলবায়ু সম্মেলনকে উদ্দেশ্য করে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেন, কোন দেশ যদি তাদের কার্বন নির্গমনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব করতে পারে, তবেই যেন তারা এই সম্মেলনে আসে। এ বছরের শেষে চিলির সান্তিয়াগোতে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ নামে একটি সম্মেলন হবে। সেখানেও এই প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যে যে সম্মেলন হবার কথা তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    এ কাজের জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার তা দেখাতে পারবে বলে আশা করছে যুক্তরাজ্য। এ ব্যপারে দেশটির পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গোভ বলেন, যদি এই সম্মেলন আয়োজনে সফল হয়, তাহলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি যেন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই আটকে রাখা যায়, সম্মেলনে অংশগ্রহকারী সব দেশকে সেরকম পদক্ষেপ নিতে হবে।

    ইউরোপ জুড়ে তাপমাত্রা যে বাড়ছে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যপারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ। রাজনীতিবিদরাও এখন এ বিষয়ে সচেতন হয়েছেন। যুক্তরাজ্য ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিজ্ঞা করেছে। সামনের বছর যখন যুক্তরাজ্যে জলবায়ু সম্মেলন হবে, তখন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো পাকাপাকিভাবে প্যারিস চুক্তি ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যান এবং ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বিজয়ী হন, তাহলে উল্টোটাও হতে পারে।

    তবে যাই হোক বিরাট প্রভাব পড়বে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকানোর সংগ্রামে। জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর কাজে বাগড়া দিতে বর্তমানে বেশ কয়েকটি দেশ জোট বেঁধে চেষ্টা চালাচ্ছে । যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, কুয়েত ও রাশিয়া রয়েছে। এসব দেশ জাতিসংঘে আইপিসিসির প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনাই আটকে দেয়। সম্প্রতি জার্মানিতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় সৌদি আরবও আপত্তি জানায়।

    সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের জলবায়ু উপদেষ্টা ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের অধ্যাপক মাইকেল জ্যাকবস বলেন, যুক্তরাজ্যের জলবায়ু সম্মেলনের সুযোগ যদি কাজে লাগানো না যায় তাহলে তাপমাত্রা এক দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য অর্জনের কোন সুযোগ থাকবে না।

  • প্রিয়া সাহাকে গ্রেফতার নয়, প্রয়োজনে নিরাপত্তা দেবে সরকার!

    প্রিয়া সাহাকে গ্রেফতার নয়, প্রয়োজনে নিরাপত্তা দেবে সরকার!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার নয় বরং সরকার তাকে নিরাপত্তা দেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মাল্টা সফর শেষে সকালে দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস আমাকে জিজ্ঞেস করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে বক্তব্য দেয়ার জন্য প্রিয়া সাহাকে গ্রেফতার করা হবে কি না? তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কিনা? আমি বলেছি, গ্রেফতার করব না। উনি উনার বক্তব্য দিয়েছেন। তবে বক্তব্য যেহেতু মিথ্যা এবং বানোয়াট এতে আমাদের দেশের অনেক লোকই অসন্তুষ্ট। তারা যদি কিছু করে তখন যদি উনি চান তাহলে তাকে নিরাপত্তা দেব। সরকার প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়। আমি বলেছি, সরকার উনার বিরুদ্ধে মামলা করবে কেন, সেটা আগে বুঝতে হবে।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাছাড়া আমরা বলেছি মার্কিন সরকার যেহেতু ধর্মীয় সম্প্রীতি চাচ্ছে, সে জন্য তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ তাদের আয়োজকরা দায়িত্বশীল লোকদের আনলে এ ধরনের অবান্তর বিতর্ক সৃষ্টি হয় না।’

    প্রিয়া সাহা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলায় আমি। বাংলাদেশ সরকার থেকে চার সদস্যের প্রতিনিধি যোগ দেন। তবে প্রিয়া সাহা সেখানে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেননি।’

    তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে বেসরকারিভাবে অনেকেই গেছেন। আমেরিকা তাদের নিয়ে গেছে। কতজন নিয়েছে আমরা জানি না। যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সরকারের কোনো পারমিশন লাগে না। বাংলাদেশি নাগরিক যারা আমেরিকা যেতে চান নিশ্চিন্তে যেতে পারেন। শুধু আমেরিকার ভিসা লাগে।’

    ড. মোমেন বলেন, ‘প্রিয়া সাহার এ বক্তব্য আমার নজরে আসার পরে ওয়াশিংটনে থাকতেই আমি বলেছি, এটা বানোয়াট মনগড়া।’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশের নাগরিক প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান উধাও হয়ে গেছে। তার ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, জমি কেড়ে নিয়েছে। মুসলিম উগ্রবাদীরা এটা করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্র সরকার আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন। সে সময় ট্রাম্পের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। তবে তার বক্তব্যের প্রতিবাদও জানিয়েছে বাংলাদেশ।

  • প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বরিস জনসন

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বরিস জনসন

    ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন।

    গত এক মাস ধরে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরমি হান্ট এবং বরিস জনসনের মধ্যে লড়াই শেষে সোমবার (২২ জুলাই) কনজার্ভেটিভ পার্টির ভোটাভুটি শেষ হবে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভোটের সর্বশেষ তথ্যে মতে, বরিস জনসন নিশ্চিতভাবেই জয় পেতে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে।

    দলের ১ লাখ ৬০ হাজার তৃণমূল নেতা ভোটে অংশগ্রহণ করেন। তাদের ভোটেই নির্ধারিত হচ্ছে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

    এর আগে ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তার বিদায়ে দলীয় প্রধানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে টোরি দল৷

  • ক্রিকেটে হাত দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

    ক্রিকেটে হাত দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

    তিনি পাকিস্তানের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তবে ইমরান খানের বড় পরিচয় এখন রাজনীতিবিদ হিসেবে। তার চেয়েও বড় পরিচয় তিনি এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

    তবে ক্রিকেটটা তো ইমরান খানের রক্তে। চাইলেই কি ক্রিকেটকে ভুলে যেতে পারেন? না, প্রধানমন্ত্রী হয়েও দেশের ক্রিকেটের খোঁজখবর ঠিকই রাখছেন ইমরান, দেখেছেন বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতাও।

    এবার তাই ইমরানের সাহসী ঘোষণা, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটকে বদলে দেব।’ তিনদিনের সফরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী। রোববার ওয়াশিংটনে এক জলসা অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি।

    ইমরান বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডে গিয়েছি, যেখানে আমি ক্রিকেটটা খেলতে শিখেছি। যখন আমরা সেখান থেকে ফিরি, অন্য খেলোয়াড়দের স্ট্যান্ডার্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্বকাপের পর তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেটে হাত দেব।’

    তিনি দলকে সাফল্যের শিখরে তোলার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপে আপনারা যে দলকে দেখবেন, আমার কথাটা মনে রাখুন-সে দলটি হবে পেশাদার একটা দল। আমরা এই পদ্ধতি পরিবর্তন করব এবং সেরা প্রতিভাকেই সামনে নিয়ে আসব।’

    সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে প্রথমপর্ব থেকেই বাদ পড়ে পাকিস্তান। শেষদিকে বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিতে কোনোরকমে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করে আনপ্রেডিক্টেবলরা। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টেই তাদের পারফরম্যান্স ছিল অধারাবাহিক।

  • তিন মাথার বিরল শিশুর জন্ম

    তিন মাথার বিরল শিশুর জন্ম

    অনলাইন ডেস্ক :: ভারতে তিন মাথার বিরল এক কন্যা শিশুর জন্ম হয়েছে। বিরল এই শিশুর তিন মাথা নিয়ে জন্ম চিকিৎসকদের অবাক করেছে।

    সোমবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য সান এক প্রতিবেদনে বলছে, ভারতের উত্তর প্রদেশের এতাহ জেলার প্রসূতি এক নারীর প্রচণ্ড প্রসব বেদনা ওঠার পর তাকে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন মাথার এক শিশুর জন্ম দেন তিনি।

    এ ঘটনায় ওই নারীর পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকরা কিছুটা বিস্মিত হয়ে যান। ওই শিশুর মাথার পেছনের দিকে খুলিতে আরো দুটি অপরিপক্ক বড় মাথা রয়েছে।

    চিকিৎসকরা বলছেন, সদ্যজাত এই শিশুটির শারীরিক অবস্থা জানতে তারা এখন এমআরআই স্ক্যান করাবেন। শিশুটি জন্মের পর থেকে এনসেফালোসিলিতে আক্রান্ত। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই রোগে আক্রান্তদের বাঁচার সম্ভাবনা ৫৫ শতাংশ।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই অতিরিক্ত মাথাযুক্ত শিশুর জন্মের ঘটনা খুবই বিরল। সদ্যজাত শিশুর এ ধরনের সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এনসেফালোসিলি বলা হয়।

    চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুটির মা স্বাভাবিকভাবেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। জন্মদানের সময় ওই নারী কোনো ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হননি। আর এ বিষয়টিও আমাদের অবাক করেছে। পরে শিশুসহ ওই মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

  • হজক্যাম্পের আশপাশের রেস্তোরাঁয় পচা খাবার, ২৬ লাখ জরিমানা

    হজক্যাম্পের আশপাশের রেস্তোরাঁয় পচা খাবার, ২৬ লাখ জরিমানা

    রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্প ও তার আশপাশের রেস্তোরাঁয় পচা-বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রির অপরাধে ১০টি রেস্তোরাঁকে ২৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও তিনজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড এবং একটি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আশকোনা হজক্যাম্প, হজক্যাম্প রোড ও দক্ষিণখানের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় চলে এ অভিযান। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

    অভিযানের বিষয়ে সারোয়ার আলম বলেন, এসব রেস্তোরাঁয় এই মৌসুমে সাধারণত হজযাত্রী ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা খাওয়া-দাওয়া করেন। অথচ অভিযানে গিয়ে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ, পচা-বাসি খাবার দেখতে পাই আমরা। রেস্তোরাঁগুলোর ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ পনির, দুধ, পচা মাংস ও বাসি পোলাও পাওয়া গেছে। এমন দৃশ্য দেখে তাদের জরিমানা করা হয়েছে।

    hajj11

    তিনি বলেন, অভিযানে ভাই ভাই রেস্টুরেন্টের তিনজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন মো. জামাল, সাইদুর রহমান ও সাগর।

    অভিযানে জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এসো কিছু খাই রেস্টুরেন্ট, নিউ পারভিন রেস্টুরেন্ট, ভাই ভাই রেস্টুরেন্ট, আলিফ কিচেন অ্যান্ড পার্টি সেন্টার, থ্রি স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, নিউ বাংলা খাবার হোটেল, বিসমিল্লাহ্ রেস্তোরাঁ, হলিডে এক্সপ্রেস, মক্কা রেস্তোরাঁ ও ওয়ান্ডার ইন রেস্তোরাঁ।

  • স্বামীর ফোন থেকে ম্যাসেজ কপি করায় স্ত্রীকে জরিমানা!

    স্বামীর ফোন থেকে ম্যাসেজ কপি করায় স্ত্রীকে জরিমানা!

    স্বামীর অনুমতি ছাড়াই তার মুঠোফোন থেকে ম্যাসেজ কপি করে তা অন্য কারও কাছে পাঠানোর কারণে এক নারীকে জরিমানা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত। ওই স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত।

    আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিযূক্ত ওই নারীকে ৩ হাজার আমিরাতি দিরহাম জরিমানা করেছেন রাস আল খাইমাহ আদালত। এ ছাড়া আদালতের দেয়া আদেশ মোতাবেক ওই নারীকে আইনজীবী ফি বাবদ আরও ১০০ দিরহাম গুণতে হবে।

    আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী আদালতের কাছে আর্জি জানান তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন থেকে স্ত্রী ম্যাসেজ কপি করে অন্য কারও কাছে তা চালান করেছে। আর এটাকে তিনি ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে আদালতের কাছে বিচার চান।

    আদালত ওই মামলার একটি কপি পাবিলক প্রসিকিউটরের কাছে প্রেরণ করে বলেন, স্বামীর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে যেন তারা ওই স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত করে। এ ছাড়া যাকে ওই স্ত্রী ম্যাসেজগুলো দিয়েছেন সেগুলোও পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেন।।

    রাস আল খাইমাহ পুলিশ অভিযূক্ত ওই নারীকে তলব করে। পাবলিক প্রসিকিউশন আদালতকে জানায় যে, অভিযূক্ত স্ত্রী তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। তবে তিনি তার স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তাই তিনি ম্যাসেজগুলো পরীক্ষা করে দেখেন বলেও জানান।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ওই নারীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আদালতের কাছে সুপারিশ করে। এর কারণ হিসেবে তারা দেশটির ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে। তারই প্রেক্ষিতে আদালত এমন রায় দিলেন।

  • দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে দুই মামলা

    দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে দুই মামলা

    অনলাইন ডেস্ক :

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে

    রোববার সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে প্রথমে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

    পেনাল কোডের ১২৩ (এ), ১২৪ (এ) ও ৫০০ ধারায় মামলাটি আমলে নেয়ার জন্য ব্যারিস্টার সুমন আদালতে আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান।

    অন্যদিকে একই অভিযোগে ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী সদস্য ইব্রাহীম খলিল তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমানের আদালতে দণ্ডবিধি ১২৪ (ক) ধারায় তিনি মামলাটি করেন। ইব্রাহীম খলিল পেনাল কোডের ১২৪ (এ) ধারা অনুযায়ী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬ দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

    প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি।

    বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি।

    তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।

    কারা এমন নিপীড়ন চালাচ্ছে? ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, দেশটির মৌলবাদীরা এসব করছে। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।

  • ১৫ কোটি গ্রাহকের ‘গ্যালারি’ ফেসঅ্যাপের দখলে

    ১৫ কোটি গ্রাহকের ‘গ্যালারি’ ফেসঅ্যাপের দখলে

    বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বৃদ্ধ মুখাবয়বের ছড়াছড়ি। ৩০-৪০ বছর পর নিজেকে কেমন দেখাবে, তা জানার আগ্রহে নিঃসঙ্কোচেই ‘ফেসঅ্যাপ’ ব্যবহার করেছেন কোটি কোটি গ্রাহক। অথচ, এটি ব্যবহার করতে গিয়ে নিজের গোপনীয়তা হুমকির মুখে ফেলছেন কি-না, তা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই অনেকেরই।

    অ্যাপ অ্যানির তথ্যমতে, ইতোমধ্যে ১০ কোটির বেশি মানুষ গুগল প্লে স্টোর থেকে ফেসঅ্যাপ ডাউনলোড করেছেন। এছাড়া ১২১টি দেশজুড়ে আইওএস অ্যাপ স্টোরেও শীর্ষে আছে রাশিয়ার ওয়্যারলেস ল্যাবের তৈরি এ অ্যাপটি।

    সম্প্রতি জনপ্রিয় মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফেসঅ্যাপের শর্ত অনুসারে, তারা ব্যবহারকারীর আইপি অ্যাড্রেস, ব্রাউজারের কুকিস, লগ ফাইল, অবস্থানসহ ডিভাইসের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া, অ্যাপটি ডাউনলোড করার সময় আজীবনের জন্য গ্রাহকের ছবির পূর্ণ মালিকানা লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছবি তারা যখন যেখানে খুশি ব্যবহার করতে পারবে। এমনকি, বিষয়টি ছবির মূল মালিককে জানানোরও প্রয়োজন হবে না। এর বিনিময়ে গ্রাহক কোনো ধরনের মূল্য পরিশোধেরও দাবি জানাতে পারবেন না।

    তবে, ফেসঅ্যাপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, অ্যাপটি ব্যবহার করার সময় গ্রাহকের ফোনের পুরো গ্যালারির অ্যাক্সেস (বিচারণের অনুমতি) চায় প্রতিষ্ঠানটি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব ছবি তারা নিজস্ব সার্ভারে সংরক্ষণ করে রাখছে।

    অনলাইন ডাটাবেজভিত্তিক মার্কিন প্রতিষ্ঠান র‌্যাকস্পেসের সাবেক ব্যবস্থাপক রব লা জেসি বলেন, ফেসঅ্যাপ ব্যবহার করতে গেলে একে ফোনের সব ছবিতে স্পর্শ করার অনুমতি দিতে হয়। অ্যাপটি ফোনের সিস্টেমসহ অনলাইন সার্চ বিষয়ক তথ্যও সংগ্রহ করে। তাছাড়া, অ্যাপটির ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করার ক্ষমতা আছে। অর্থাৎ, আপনি ফোন ব্যবহার না করলেও, ফেসঅ্যাপ আপনাকে ব্যবহার করবে।

    বর্তমান যুগকে বলা হয় ‘ডাটা অ্যানালাইটিক্সের যুগ’। এখন টাকা-পয়সা, সোনা-গহনার চেয়েও দামি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত তথ্য। কারও সম্পর্কে ছোটখাটো বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তার গতিবিধি, মন-মানসিকতা, অতীত-বর্তমান সবই জেনে ফেলা সম্ভব। আর, মার্কেটিংয়ের বাজারে এসব তথ্যের অনেক দাম। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ‘পার্সোনালাইজড’ বিজ্ঞাপন তৈরি করে, যা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে সহজেই প্রভাবিত করা যায়।

    ধরেন, আপনার এখন আইসক্রিম খেতে ইচ্ছা করছে। এ নিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলেন, অথবা কোনো বন্ধুর সঙ্গে মেসেঞ্জারে আলাপ করলেন। কিছুক্ষণ পরই দেখবেন, টাইমলাইনে আইসক্রিমের বিজ্ঞাপন বা ধারেকাছে কোথায় আইসক্রিম পাওয়া যাবে, তা দেখাচ্ছে।

    ভাবতে পারেন, এতে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হচ্ছে, এসবের মাধ্যমে অ্যাপগুলো শুধু আপনার মতিগতি বা ছবির তথ্যই নেবে না। সুযোগ পেলেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড বা ফেসবুক পাসওয়ার্ডের মতো তথ্য হাতিয়ে নেবে।

    মনে করুন, কোনো একটি অ্যাপ ব্যবহারের সময় সেটাকে আপনার ফোনের গ্যালারি ও এসএমএস দেখার অনুমতি দিয়েছেন। আর, সেখানেই ব্যাংক-ব্যালেন্স, পাসওয়ার্ড জাতীয় তথ্য সংরক্ষণ করা আছে। হতে পারে, একেবারেই ব্যক্তিগত কোনো ছবি বা ভিডিও আছে গ্যালারিতে। অ্যাপ ব্যবহারের সময় এসব তথ্য হয়তো ঠিকই জমা হচ্ছে তাদের সার্ভারে। এ নিয়ে কখনো যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হবেন না, তার নিশ্চয়তা কী?

    ‘ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকা’র নাম মনে আছে নিশ্চয়! ব্রিটিশ এ প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকে একটি জরিপ অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল। আর, এ তথ্য তারা ব্যবহার করেছিল ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণায়। নির্বাচনের ফলাফল কী হয়েছে তা সবারই জানা!

    তথ্য ফাঁসের ওই ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেসের কাছে জবাবদিহি করতে হয়েছে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে। তবে, নিস্তার মেলেনি, এখনো বিভিন্ন দেশে এর তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাজ্য বিশাল অংকের জরিমানা করেছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

  • কে এই প্রিয়া সাহা?

    কে এই প্রিয়া সাহা?

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ বিষয়ে প্রিয়া সাহা নামের এক নারীর নালিশে সোশ্যাল মিডিয়া সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

    বাংলাদেশ বিষয়ে এমন বক্তব্যকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তার বিচার চাইছেন নেটিজেনরা।

    তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কে এই প্রিয়া সাহা? জানা গেছে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এ প্রিয়া সাহা।

    এছাড়াও তিনি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘শারি’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বরত ।

    তার গ্রামের বাড়ী পিরোজপুর জেলার চরবানিরীর মাটিভাঙ্গা নাজিরপুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন প্রিয়া। রোকেয়া হলে থাকতেন তিনি।

    সে সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ‘মহিলা ঐক্য পরিষদ’এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য গতবছর তাকে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    বর্তমানে ‘শারি’ এনিজিও সংস্থার মাধ্যমে প্রিয়া নিজ এলাকার দলিত সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করেন।

    তার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক। কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রিয়া সাহার দুই মেয়ে বসবাস করছেন। কিছুদিন পূর্বে সেখানে যান প্রিয়া সাহা।

    উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে কথা বলেন।

    এতে বাংলাদেশি পরিচয়ে প্রিয়া সাহা উপস্থিত হয়ে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।

    এরপর তিনি বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।

    এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতার স্বরূপ এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।

    এ সময় ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ‘কারা জমি দখল করেছে, কারা বাড়ি-ঘর দখল করেছে?’

    ট্রাম্পের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘তারা মুসলিম মৌলবাদি গ্রুপ এবং তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সব সময়ই পায়।’

    মার্কিন টিভি চ্যানেল এবিসি নেটওয়ার্কের চ্যানেল এবিসি ফোর ইউটাহ ট্রাম্পের সঙ্গে প্রিয়া সাহার সেই সাক্ষাতকারের ভিডিও প্রকাশ করে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেটি। যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশিরা নানা ধরণের মন্তব্য করছেন।

    ইতিমধ্যে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রিয়া সাহার নালিশকে চক্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করে বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    প্রিয়া সাহার এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

    এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেয়া ওই নারীর অভিযোগ সত্য নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে-অপরকে শ্রদ্ধা করে।

    এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রিয়া সাহার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেলে হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-ঐক্য পরিষদের সভাপতি হিউবার্ট গোমেজের সঙ্গে কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

    তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে ফোন রেখে দেন।

    তবে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা তার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত। এ বিষয়ে তিনিই ভালো ব্যাখা দিতে পারবেন।’

    প্রিয়া সাহা কিভাবে হোয়াইট হাউজের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন এই প্রশ্নে তিনি বলেন,‘প্রিয়া সংগঠনের ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে একজন। তাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সেখানে পাঠানো হয়নি। ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি কিভাবে সাক্ষাত করেছেন তা আমি জানি না।’

    প্রিয়া সাহার বেসরকারি সংস্থা সংস্থা ‘শারি’-এর কার্যালয়ের অন্যান্য সদস্যরাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।