Category: আন্তর্জাতিক

  • দ্বিতীয় সেরা ধনীর তালিকায়ও নেই বিল গেটস

    দ্বিতীয় সেরা ধনীর তালিকায়ও নেই বিল গেটস

    গত সাত বছরের ভেতর এই প্রথম শীর্ষ ধনীদের তালিকায় তিন নম্বরে নেমে গেলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ব্লুমবার্গ বিলিওয়নারস ইনডেক্স এবং ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, এখন দুই নম্বরে আছেন ফ্রান্সের বার্নার্ড আনারল্ট।

    বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের মালিক আনারল্ট নিজের সম্পদমূল্যকে ১০৪.১৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছেন। গেটসের থেকে তিনি এক বিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবধানে পিছিয়ে।

    আনারল্ট ২০১৯ সালে যোগ করেছেন ৩৯ বিলিয়ন ডলার। পৃথিবীর শীর্ষ ৫০০ ধনীর ভেতর আর কেউ চলতি বছরে এত অর্থ উপার্জন করতে পারেননি।

    বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের তালিকায় অনুযায়ী, পৃথিবীর শীর্ষ ধনী আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা মার্কিন ব্যবসায়ী জেফ বোজোস। তার সম্পদমূল্য ১৬৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার।

    চার নম্বরে আছেন আরেক নামকরা মার্কিন ব্যবসায়ী ওয়ারেন বাফেট। পাঁচ নম্বরে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তিনিও মার্কিন নাগরিক।

    শীর্ষ ১০ ধনী:

    ১. জেফ বেজোস (১৬৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার),
    ২. বার্নার্ড আনারল্ট (১০৪.১৫ বিলিয়ন)
    ৩. বিল গেটস (১০৩.৭২ বিলিয়ন)
    ৪. ওয়ারেন বাফেট (৮৩.৯ বিলিয়ন)
    ৫. মার্ক জাকারবার্গ (৭৫.৬২ বিলিয়ন)
    ৬. ল্যারি এলিসন (৭০.৭ বিলিয়ন)
    ৭. অ্যামেচিও ওর্তেগা (৬৯.৫৮ বিলিয়ন)
    ৮. কার্লোস স্লিম (৬০.৯ বিলিয়ন)
    ৯. ফ্রানসোয়াস বেটেনকোর্ট (৫৫.৮ বিলিয়ন)
    ১০. মাইকেল ব্লুমবার্গ (৫৪.৬ বিলিয়ন)

  • অবিবাহিত মেয়ে মোবাইল ব্যবহার করলেই বাবার গুনতে হবে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    অবিবাহিত মেয়ে মোবাইল ব্যবহার করলেই বাবার গুনতে হবে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    বিয়ের আগে ব্যবহার করা যাবে না মোবাইল। আর করলে? ‘অভিযুক্ত’ মেয়ের বাবাকে দিতে হবে লাখ টাকা জরিমানা! এমনই এক অদ্ভুত নিয়ম জারি হয়েছে গুজরাটের বানাসকান্থার দান্তিওয়াড়া এলাকায়। গুজরাট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য।

    ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, থাকোর সম্প্রদায়ের স্থানীয় নেতারা সম্প্রতি এই নিয়মের ঘোষণা দেন।

    প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জালোল নামের একটি গ্রামে এখন থেকে কোনও অবিবাহিত মেয়ে মোবাইল ব্যবহার করলে শাস্তি হিসেবে তার বাবাকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া বিয়ের সময় ডিজে পার্টি বা অনেক টাকার বাজি পোড়ানো যাবে না।

    এসবের পাশাপাশি আরো কিছু নিয়ম জারি হয়েছে ওই এলাকায়। কোনও মেয়ে পরিবারের অমতে বিয়ে করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

    নিয়মগুলোকে গ্রামের ২৫০০’র মতো লোক তাদের ‘সংবিধান’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন।

  • ভারতের উড়োজাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে পাকিস্তান

    ভারতের উড়োজাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে পাকিস্তান

    পাকিস্তান নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে ভারতের উড়োজাহাজগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার এক নোটিশে পাকিস্তান বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ দেশটির আকাশসীমার সব রুট ভারতের উড়োজাহাজগুলোর জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। বালাকোটের ঘটনার পর পাকিস্তান ভারতের উড়োজাহাজগুলোর জন্য নিজেদের বেশির ভাগ আকাশসীমা ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল।

    ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আধা সামরিক বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। এতে ভারতের আধা সামরিক বাহিনীর ৪০ জনের বেশি সদস্য নিহত হন। জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদকে এ হামলার জন্য দায়ী করা হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ২৫ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের নিয়ন্ত্রণরেখায় বালাকোটে জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বিমান হামলা চালায় ভারতের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। এতে শত শত জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করে ভারত। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের উড়োজাহাজগুলোর জন্য ১১টি রুটের মধ্যে দুটি বাদে বাকিগুলো ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান। যে দুটি খোলা ছিল, সেগুলো শুধু দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে যেতে পারত।

    আজ এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, সকালে সব ধরনের ভারতীয় ফ্লাইট চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। এটা এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক খবর বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষিদ্ধ হওয়ায় বিকল্প আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছিল এয়ার ইন্ডিয়াকে।

    ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা ৪১ মিনিটের দিকে পাকিস্তান এক নোটিশে ভারতের সব উড়োজাহাজকে তাদের আকাশসীমা পূর্ণ ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে। ভারতের এয়ারলাইন অপারেটররা খুব শিগগির পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করে স্বাভাবিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।

    এর আগে গত ৩১ মে ভারতের বিমানবাহিনী ঘোষণা দেয়, বালাকোট হামলার পর ভারতীয় উড়োজাহাজের ওপর থেকে সাময়িকভাবে জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। তবে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সুবিধা ভোগ করতে পারছিল না বেশির ভাগ বাণিজ্যিক এয়ারলাইনস। তারা পাকিস্তান কবে আকাশসীমা পূর্ণভাবে খুলে দেবে, সে অপেক্ষায় ছিল। বালাকোটে হামলার পর এয়ার ইন্ডিয়া ইউরোপ ও মার্কিন শহরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিকল্প রুট তৈরি করে, কোনো কোনো ফ্লাইট বাতিলও করা হয়। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পেরে ভারতের রাষ্ট্রীয় এই এয়ারলাইনস ২ জুলাই পর্যন্ত ৪৯১ কোটি রুপি লোকসান করে। এ সময়ে বেসরকারি এয়ারলাইনস স্পেসজেট ৩০ কোটি ৭০ লাখ রুপি, ইনডিগো ২৫ কোটি ১০ লাখ রুপি এবং গোএয়ার ২ কোটি ১০ লাখ রুপি লোকসান করে। ভারতের সবচেয়ে লাভজনক এয়ারলাইনস ইনডিগো দিল্লি থেকে ইস্তাম্বুলে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়। মার্চ থেকে তাদের উড়োজাহাজগুলোকে আরব সাগরের ওপর দিয়ে দীর্ঘ যাত্রার রুট বেছে নিতে হয় এবং কাতারের দোহায় জ্বালানি নেওয়ার জন্য থামতে হয়।

  • এরশাদের মৃত্যুতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের শোক বইয়ে স্বাক্ষর

    এরশাদের মৃত্যুতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের শোক বইয়ে স্বাক্ষর

    সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা।

    সোমবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে রাখা শোক বইয়ে তারা স্বাক্ষর করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক আদর্শ এবং সাফল্য নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, জার্মানীর পিটার ফারেন হোলটজ, কুয়েতের আদেল হায়াত, ভারতের রিভা গাঙ্গুলী দাশ, ফিলিস্তিনের ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান, যুক্তরাজ্যের রবার্ট সি ডিকসন এবং আফগানিস্তানের প্রথম সেক্রেটারি শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন।

    তারা প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন এবং সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    নিজ নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শ লালন করে জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

  • যে কারণে উড়তে পারেনি ভারতের ‘বাহুবলী’!

    যে কারণে উড়তে পারেনি ভারতের ‘বাহুবলী’!

    প্রথমবারের মতো চাঁদের মাটিতে ‘পা’ ছোঁয়াতে গিয়েও পারলো না ভারত। চাঁদে পাড়ি জমাতে ‘চন্দ্রযান-২’ নামে একটি মহাকাশযান প্রস্তুত করেছিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)। তবে কারিগরি সমস্যার কারণে উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময়ের ৫৬ মিনিট আগে অভিযানটি স্থগিত করা হয়।

    সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও কেন আটকে গেলো ‘চন্দ্রযান-২’ এর মহাকাশ অভিযান?

    এনডিটিভি জানায়, তিন দশমিক আট টন ভারী মহাকাশযানটিকে বহন করে কক্ষপথে নিয়ে যেতে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট জিএসএলভি এমকে থ্রি ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিয়েছিল।

    ৬৪০ টন ওজনের, ১৫ তলা সমান উচ্চতার এ রকেটের নাম দেয়া হয়েছে ‘বাহুবলী’। এই রকেটটিতেই ত্রুটি ধরা পড়ে। রকেট থেকে জ্বালানি লিক করছে বলে ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। তাই শেষ সময়ে এসে মহাকাশযানটিকে আর উৎক্ষেপণ করা হয়নি।

    স্থানীয় সময় রোববার রাত ২টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ স্টেশন থেকে চন্দ্রযান-২ এর উৎক্ষেপণের কথা ছিল। যাত্রা শুরুর নির্ধারিত সময়ের ২০ ঘণ্টা আগে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫১ মিনিট থেকে এ অভিযানের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছিল।

    ভারতের মহাকাশ সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, শিগগিরই উৎক্ষেপণের নতুন একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    এ মহাকাশ অভিযান সফল হলে ভারত হবে চন্দ্রজয়ী চতুর্থ দেশ। এখন পর্যন্ত কেবল রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন), যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সংক্ষিপ্ত এ তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়েছে।

    ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত শক্তিশালী, সর্বাধুনিক ‘জিএসএলভি-মার্ক-৩’ রকেটের পিঠে চেপে রওনা হবে চন্দ্রযান-২।

    যাতে থাকবে একটি ‘অরবিটার’, যা চাঁদের বিভিন্ন কক্ষপথে থেকে প্রদক্ষিণ করবে। চন্দ্রযান-২-এ থাকবে একটি ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। থাকবে একটি রোভারও।

    যার নাম ‘প্রজ্ঞান’, যা চাঁদের পিঠে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে-চরে বেড়াবে। ভারতের আগে মাত্র তিনটি দেশ রোভার পাঠাতে পেরেছে চাঁদে- রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন), আমেরিকা ও চীন। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের ৫২ দিনের মাথায় চাঁদের পিঠে পা ছোঁয়াবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’।

    নামার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ল্যান্ডার থেকে বেরিয়ে আসবে খুবই ছোট একটি রোভার ‘প্রজ্ঞান’, যার ওজন মাত্র ২০ কিলোগ্রাম। আর চন্দ্রযান-২-এর সার্বিক ওজন ৩ হাজার ৮৫০ কিলোগ্রাম। ল্যান্ডারটি নেমে আসার সময় চন্দ্রযান-২-এর অরবিটারটি চাঁদের পিঠ (লুনার সারফেস) থেকে থাকবে মাত্র ১০০ কিলোমিটার উপরে।

    চন্দ্রযান-২ পাঠানোর উদ্দেশ্য, চাঁদের পিঠের বালিকণায় মিশে রয়েছে কোন কোন মৌল ও খনিজ পদার্থ আর তা রয়েছে কী পরিমাণে, তা জানা।

    সেই মৌল বা খনিজগুলো নিষ্কাশনের যোগ্য কি না, তা যাচাই করা। যে স্বপ্নটা প্রথম দেখেছিলেন ভারতের প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, দক্ষিণ মেরুর দিকেই চাঁদের অন্দরে এখনও বয়ে চলেছে জলের ধারা। উল্কাপাত বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তু আছড়ে পড়ায় সেখানে একটি বিশাল গর্ত (ক্রেটার) তৈরি হয়েছে।

    বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর ফলে চাঁদের অন্দরে মৌল বা খনিজ বা জলের খোঁজতল্লাশের কাজটা সহজতর হয়ে উঠতে পারে। উৎক্ষেপণের পর ১৭ দিন ধরে গতি বাড়িয়ে ৬ গুণ করা হবে, যার সাহায্যে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাবে চন্দ্রযান-২।

    চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছতে চন্দ্রযান-২কে পাড়ি দিতে হবে প্রায় ৩.৮৪ লাখ কিলোমিটার। সময় লাগবে পাঁচ দিন। কক্ষপথে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২৮ দিন কক্ষপথে ঘুরতে থাকবে কৃত্রিম উপগ্রহ। তার পর ল্যান্ডার স্যাটেলাইট থেকে আলাদা হয়ে চাঁদের মাটিতে নামার প্রক্রিয়া শুরু করবে।

    এ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে ৫২ দিনে। ইসরোর হিসাবে চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে নামার কথা ছিল ৬ সেপ্টেম্বর। চাঁদের মাটিতে নামার চার ঘণ্টা পর খুলে যাবে রোভার। এটি একটি ৬ চাকার যন্ত্রযান। চাঁদের পুরো এক দিন অর্থাৎ পৃথিবীর ১৪ দিন ধরে ৫০০ মিটার এলাকা ঘুরবে ওই যন্ত্রযান।

    ছবি তোলা, মাটির পরীক্ষা, খনিজ পদার্থের বিশ্লেষণ করবে এই যন্ত্রযান। এছাড়া চাঁদের মাটিতে জলের সন্ধানও চালাবে এই চন্দ্রযান-২। ল্যান্ডার এবং উপগ্রহটির মাধ্যমে সেসব তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে চন্দ্রযান-২। বেঙ্গালুরুর বায়ালালুতে ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কও এই তথ্য গ্রহণে সাহায্য করবে।

  • ব্রিটেনকে কোনো ছাড় না দেয়ার হুশিয়ারি ইরানের

    ব্রিটেনকে কোনো ছাড় না দেয়ার হুশিয়ারি ইরানের

    জাবাল আল তারিক বা জিব্রাল্টার উপকূলে জব্দ ইরানের তেল ট্যাংকার ছেড়ে দিতে ব্রিটেনের শর্ত দেয়ার পরও নিজ অবস্থানে অটল রয়েছে ইরান।

    ব্রিটেনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হামিদ বায়েদিনেজাদ বলেছেন, জিব্রাল্টার প্রণালীতে আটক সুপার ট্যাংকার গ্রেস-ওয়ানকে ছেড়ে না দিলে ব্রিটেনকে উপযুক্ত জবাবই দেয়া হবে। এ বিষয়ে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

    শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের সঙ্গে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টের ফোনালাপের পরপরই এ হুশিয়ারি দেন তিনি।

    টুইটারে দেয়া ওই বার্তায় হামিদ বায়েদিনেজাদ বলেন, বেআইনিভাবে ট্যাংকার আটক করে ব্রিটেন যে ভুল করেছে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত হবে না। ইরানি জাহাজ কোনো আইন বা প্রথা ভঙ্গ করে নি কিন্তু ব্রিটেন দস্যুতার মাধ্যমে তা করেছে।

    এর আগে ইরানের তেল ট্যাংকারটি সিরিয়ায় যাবে না এমন নিশ্চয়তা দিলে তা ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের সঙ্গে ফোনালাপে এ শর্তারোপ করেন তিনি।

    জারিফের সঙ্গে ফোনালাপের পরই টুইটবার্তায় ব্রিটেনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরানি তেল ট্যাংকার ও কার্গোকে মুক্তি দিতে ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ পদক্ষেপ বিনা জবাবে পার পাবে না।

    শনিবারেই এক টুইটে জেরেমি হান্ট ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, জারিফ তাকে জানিয়েছেন ইরান সমস্যাটির সমাধান চায় এবং উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নয়।

    যদিও জারিফ এও বলেছেন যে, ইরান যে কোনো পরিস্থিতিতেই তেল রপ্তানি চালিয়ে যাবে।

    এক বিবৃতিতে জারিফ বলেছেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একটি বৈধ গন্তব্যেই যাচ্ছিল তেল ট্যাংকারটি। ব্রিটেনের উচিত দ্রুত সেটি ছেড়ে দেয়া।

    গত ৪ জুলাই জাবাল আল-তারিক উপকূল থেকে জাহাজটি জব্দ করে ব্রিটিশ নৌবাহিনী। তাদের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে সিরিয়ার একটি পরিশোধনাগারে তেল নিয়ে যাচ্ছিল ওই ট্যাংকার।

    তবে এ ঘটনায় তেহরানও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। ট্যাংকার জব্দকে দস্যুবৃত্তি আখ্যায়িত করে সেটি ছেড়ে না দিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।

    ইতিমধ্যে ব্রিটেনের একটি তেল ট্যাংকারকে ধাওয়া দিয়েছে ইরানের কয়েকটি সশস্ত্র গানবোট।

    জাবাল আল-তারিকের পুলিশ তেলবাহী ওই সুপার ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন ও প্রধান কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছিল। শুক্রবার দিনের প্রথমভাগে তারা ট্যাংকারটির আরো দুইজনকে আটকের কথা জানালেও কয়েক ঘণ্টা পর ৪ জনকেই ছেড়ে দিয়েছে।

  • এস-৪০০ কেনায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ছে না তুরস্ক: এরদোগান

    এস-৪০০ কেনায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ছে না তুরস্ক: এরদোগান

    রাশিয়া থেকে এস-৪০০ এর চালান গ্রহণের কারণে ক্ষুব্ধ মার্কিন সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞায় পড়ছে না তুরস্ক।

    দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান রোববার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। খবর রয়টার্সের।

    এরদোগান বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে বরং মার্কিন প্রশাসন কোনো মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে পারে।

    দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য তুরস্ককে সতর্ক করে আসছে।

    কিন্তু তুরস্ক মার্কিন হুশিয়ারি উপেক্ষা করেই তা গ্রহণ করল। আমেরিকা এরই মধ্যে তুরস্ককে এফ-৩৫ বিমান দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে।

    এ ছাড়া ওয়াশিংটন দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

  • ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানালে পরিস্থিতি হবে বিপজ্জনক’

    ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানালে পরিস্থিতি হবে বিপজ্জনক’

    ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানালে পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট।

    তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু চুক্তিটি এখনও মরে যায়নি। এ চুক্তি বাঁচানোর জন্য এখনও হাতে সময় আছে।

    সোমবার ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক বৈঠকে হান্ট এসব কথা বলেন।

    উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠকে বসেন তারা।

    বৈঠকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেন, পরমাণু চুক্তি এখনো মরে যায়নি। কিন্তু ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে এগুলে পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক এবং তিক্ত হয়ে উঠবে।

    ইউরোপিয়ানরা যদি ২০১৫ সালে সম্পাদিত পরমাণু সমঝোতা চুক্তি পুরোপুরি মেনে না চলে তা হলে ইরানও এর সব শর্ত মেনে চলবে না বলে ইরান হুশিয়ারি দিয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে পরমাণু চুক্তিটি বাঁচানোর একটি পথ খুঁজে পাওয়ারও আশা প্রকাশ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পরমাণু কর্মসূচি হ্রাস করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে- এই শর্তে ২০১৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে ইরান ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) নামের চুক্তিতে সই করে ইরান।

    ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে ২০১৮ সালের ৮ মে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর এটির বাকি পাঁচ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এ সমঝোতায় ইরানকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়।

    কিন্তু ইরানের দাবি, এক বছরেও সে আশ্বাস বাস্তবায়ন করেনি ইউরোপিয়ান দেশগুলো।

    এ পরিস্থিতিতে উপসাগরে তেল ট্যাংকার আটকের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও ইরানের উত্তেজনা বেড়েছে। জিব্রালটার উপকূলে ব্রিটিশ রাজকীয় মেরিন বাহিনীর সহায়তায় আটক ট্যাংকার গ্রেস ওয়ান অবিলম্বে ছেড়ে দিতে বলেছে ইরান। তবে যুক্তরাজ্য ট্যাংকার ছেড়ে দেয়ার জন্য শর্ত দিয়েছে।

    দু’পক্ষের এ উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার বৈঠকে বসেছে ইউরোপীয় দেশগুলো।

  • আবারো শুরু হচ্ছে ‘সুন্দরীদের লড়াই’

    আবারো শুরু হচ্ছে ‘সুন্দরীদের লড়াই’

    আবারো শুরু হতে যাচ্ছে সুন্দরী খোঁজার লড়াই ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’। এবার আগস্ট মাসে শুরু হবে এই আসরটি। যিনি এতে নির্বাচিত হবেন তিনিই ৬৯তম ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার মূল পর্বে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিস ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশি ফ্রাঞ্চাইজি অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী।

    তিনি জানান, আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-২০১৯’ এর অডিশন। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশসেরা প্রতিযোগীকে পাঠানো হবে লন্ডনে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার মূল আসরে।

    এরই মধ্যে এই বিষয়ে মিস ওয়ার্ল্ড’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। এতে যোগ দিতে ২০ নভেম্বরের মধ্যে লন্ডনে পৌঁছাতে হবে প্রতিযোগীদের। ১৪ ডিসেম্বর লন্ডনের এক্সেল কনভেনশন সেন্টারে গ্রান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে বিজয়ীর মাথায় স্বপ্নের মুকুট পরিয়ে দেবেন গতবারের বিজয়ী ভেনেসা পঁসে দে লিওঁ।

    এদিকে, ২০১৭ সালে প্রথমবার ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া ইসলামকে চীনের সানাইয়া শহরে আয়োজিত ‘মিস ওয়ার্ল্ড’র ৬৭তম আসরে পাঠানো হয়। পরের বছর ৬৮তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

    এছাড়া গত পর্বে বাংলাদেশের আসরে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন কণ্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, মডেল ও অভিনেতা খালেদ হোসেন সুজন, মডেল শাবনাজ সাদিয়া ইমি ও ব্যারিস্টার ফারাবী। আইকন বিচারক হিসেবে ছিলেন মাইলস ব্যান্ডের শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদ ও কোরিওগ্রাফার আনিসুল ইসলাম হিরু।

    তবে এবার বিচারক হিসেবে কারা থাকবেন- তা এখনো বলতে চাননি অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী।

    প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’র ৭০তম আসর বসবে থাইল্যান্ডে।

  • বিদেশি বিনিয়োগে বড় বাধা দুর্নীতি

    বিদেশি বিনিয়োগে বড় বাধা দুর্নীতি

    বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনো বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব, ব্যবসাসংক্রান্ত আইনের অপর্যাপ্ততা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৯ সালের বিনিয়োগ পরিবেশ বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গত সপ্তাহে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিপুল তরুণ ও কর্মঠ জনশক্তি, ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বিশাল বাজারগুলোর মধ্যে কৌশলগত অবস্থান এবং সক্রিয় বেসরকারি খাতে বাংলাদেশ আরো অধিক হারে বিদেশি বিনিয়োগ পেতে পারে। সরকারের নতুন কিছু উদ্যোগে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের অঙ্গীকার থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন এখনো দেখা যায়নি বলে উল্লেখ আছে ওই প্রতিবেদনে। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামো গ্রহণে ধীরগতি এবং ধীরগতির বিচারপ্রক্রিয়া চুক্তি ও ব্যবসা বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা।

    দুর্নীতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়, শুল্ক ও কর সংগ্রহ এবং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি সাধারণ বিষয়। দুর্নীতি, বিশেষ করে ঘুষ বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ ও ঝুঁকি বাড়ায়। ঘুষের কারণে বাংলাদেশের জিডিপি ২ থেকে ৩ শতাংশ কম হয় বলে ধারণা করা হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোর সুযোগ এবং বড় পরিসরে বাজার পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এটি বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুর্নীতি বাংলাদেশে পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়ায় এবং আইনের শাসনকে অবমূল্যায়ন করে।’

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জনের তথ্যও আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে। তাতে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান মধবিত্তের কল্যাণে গত দশকজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের বেশি বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই প্রবৃদ্ধির অনেকটাই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৬.৬৬ বিলিয়ন (৩,৬৬৬ কোটি) মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একমাত্র চীনই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের পরিসংখ্যান থেকে ধারণা পাওয়া যায়, ওই অর্থবছরে বাংলাদেশ চার হাজার কোটি ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য পূরণের পথেই ছিল।

    কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, পোশাকশিল্প, চামড়াশিল্প, হালকা পণ্য উত্পাদন, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ সরকার সক্রিয়ভাবে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের দেওয়া বিভিন্ন সুবিধার কথাও উল্লেখ আছে এতে।

    ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং এর আগের অর্থবছরে ২৪৫ কোটি ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে এফডিআই প্রবাহের হার জিডিপির মাত্র ১ শতাংশ। এটি এশিয়ায় সর্বনিম্ন পর্যায়ের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার কূটনৈতিক জোনে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাসহ ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীসহ অনেক প্রবাসীর জন্য নিরাপত্তা বিধি-নিষেধ বাড়ানো হয়। মিয়ানমার থেকে নতুন করে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার তথ্যও রয়েছে প্রতিবেদনে।

    গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম ও রাজনৈতিক সহিংসতার তথ্য তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনপূর্ববর্তী সময়ে সহিংসতা, হয়রানি ও দমন-পীড়নের কারণে বিরোধী অনেক নেতাকর্মীর জন্য তাদের সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সমাবেশ ও স্বাধীনভাবে প্রচার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত ও ধর্মঘটকে আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। দেশে আওয়ামী লীগের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে এখন সংঘাত ও ধর্মঘট কমেছে। তবে দৃশ্যত একদলীয় রাষ্ট্র হওয়ার পথে হাঁটা এবং বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে কোণঠাসা করার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক সমাজের অনেক সংগঠন।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম অধিকার ও কারখানা সুরক্ষা বিষয়ক সমস্যাগুলো অর্থবহভাবে নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ অগ্নিনিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। তবে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাগুলোসহ (ইপিজেড) কর্মীদের সমবেত হওয়া ও দর-কষাকষি করার অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে। এ ছাড়া মেধাস্বত্ব সুরক্ষার দিক দিয়েও বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে আছে।