Category: আন্তর্জাতিক

  • হজের উদ্দেশে সৌদি পৌঁছেছেন ৪০ হাজার বাংলাদেশি, ৩ জনের মৃত্যু

    হজের উদ্দেশে সৌদি পৌঁছেছেন ৪০ হাজার বাংলাদেশি, ৩ জনের মৃত্যু

    অনলাইন ডেস্ক : চলতি বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ১০৯টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌছেছেন ৩৯ হাজার ৯৫৩ জন হজযাত্রী।

    এদিকে হজ করতে এসে মক্কায় আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর ৩ বাংলাদেশি মারা গেলেন। সবশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আবুল হাশেম (৬১), তাঁর পাসপোর্ট নম্বর BQ0104414 এবং বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সালজার রহমান (৬১)। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর BX0265796। তারা মক্কায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হজ অফিস মক্কা।

    চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৯৮টি এজেন্সির মাধ্যমে ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশির হজ্ব পালনের কথা রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর ১০ আগস্ট হজ্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ফেসবুককে ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

    ফেসবুককে ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার দায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট ফেসবুককে ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো টেক জায়ান্টকে এটাই সর্বোচ্চ জরিমানা।

    বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) এই বিষয়টির তদন্ত করছে। ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে রাজনৈতিক কাজে ব্যাবহারের জন্য জন্য ৮৭ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে।

    সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এফটিসির সদস্যদের মধ্যে ৩-২ ভোটের মাধ্যমে ফেসবুকের বিরুদ্ধে এই বিশাল এবং রেকর্ড পরিমাণ জরিমানার বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হয়।

    ফেসবুক এবং এফটিসি উভয়ই বিবিসিকে বলেছে, তারা ওই প্রতিবেদন নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করবে না। ব্রিটিশ পলিটিকাল কনসালটেন্সি ফার্ম ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ফেসবুক গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য থাকার বিষয়ে গত বছরের মার্চে ফেসবুকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এফটিসি।

    ২০১১ সালের একটি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হওয়ার কারণেই তদন্তের কাজ শুরু করে ফেডারেল ট্রেড কমিশন(এফটিসি)। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নেয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানাতে হবে, যদি তারা সম্মতি দেয় তাহলেই কেবল তাদের তথ্য শেয়ার করা যাবে। আর সেটা না করা হলে তা হবে বেআইনি।

    ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি গত শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছে, ফেসবুককে ৫০০ কোটি ডলার জরিমানার বিষয়টি এফটিসির ৩-২ ভোটে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তারা বলছে, যে তিনজন জরিমানা করার পক্ষে ছিল তারা ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকানের এবং বিপক্ষে যারা ছিল তারা বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটের।

    সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন অন্যান গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই জরিমানা চূড়ান্ত হবে বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিভিল বিভাগের মাধ্যমে। আর তা হতে কতদিন সময় লাগবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না এখনই।

  • আরব বিশ্বে পুরুষরাই বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার?

    আরব বিশ্বে পুরুষরাই বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার?

    আরব বিশ্বের ওপর পরিচালিত এক জরিপে ইরাকের বিষয়ে একটি অপ্রত্যাশিত ফলাফল বেরিয়ে এসেছে – সেখানে নারীদের তুলনায় পুরুষরাই বেশি মৌখিক যৌন হয়রানি এবং শারীরিক যৌন আক্রমণের শিকার হন বলে জানা গেছে। বিবিসির জরিপে উঠে আসা এই তথ্য নিয়ে বেশ শোরগোল পড়ে গেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। এমন ঘটনা কি আসলেও সত্যি হতে পারে? আসুন জেনে নেওয়া যাক নির্যাতনের শিকার একজনের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

    ১৩ বছর বয়সী সামি (আসল নাম নয়) তার স্কুলের টয়লেটে ছিলেন, সে সময় ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী তিনটি ছেলে তাকে দেয়ালের একপাশে ঠেসে ধরে। তারা সামির শরীরের একটি অংশে নোংরাভাবে স্পর্শ করতে থাকে। শুরুতে সামি ভয়ে জমে গিয়েছিলেন, এতো বড় ধাক্কায় তার শরীর যেন কাজ করছিল না। কিছুক্ষণ পর তিনি তার কণ্ঠ খুঁজে পান। সেই কিশোর বলেন, ‘আমি চিৎকার শুরু করি। পরে প্রধান শিক্ষককে ডাকা হয়।’

    এ ঘটনায় চারিদিকে তোলপাড় লেগে যায়। আর এতে অন্য শিশুরাও আরও সতর্ক হয়ে পড়ে। ওই তিনটি ছেলেকে পরে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তাদের বাবা-মাকে বলা হয়নি যে কেন তাদের ছেলেদের বের করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সামির ওপর তারা কি ধরণের হামলা চালিয়েছিল। পরে সামিকে যখন প্রধান শিক্ষকের অফিসে ডাকা হয়, তখন তার কাছে সেটা আরেক দফা হামলার মতোই মনে হচ্ছিল।

    কারণ সেখানে তাকে বলা হয়েছিল যে, স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাটিকে সম্মতিসূচক যৌন ক্রিয়া হিসেবেই মনে করবে। সামি ভাগ্যবান যে তাকে হামলাকারীদের মতো বের করে দেয়া হয়নি। সামিকে স্কুলে থাকার জন্য ‘আরেকটি সুযোগ’ দেওয়া হয়েছে। সামি বলেন, ‘প্রত্যেকেরই মনে হয়েছিল আমি তাদের সাথে যোগসাজশে নাটক করছি!’ ওই হামলার পর থেকে সামি এতোটাই ভীত আর হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি এই বিষয়ে নিজের পরিবারকে কিছু বলবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন।

    বরং তিনি নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে নেন। এভাবে টানা কয়েক মাস তিনি বলতে গেলে কারও সঙ্গেই কোনো যোগাযোগ করেননি।সেবারই প্রথম সামি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এর দুই বছর পর দ্বিতীয়বার তার সঙ্গে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। তখন ২০০৭ সাল। মাত্র এক বছর আগেই সামির বাবার মৃত্যু হয়েছিল। বাড়ির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন প্রস্থানের কারণে পুরো পরিবারের ওপর দিয়ে যেন ঝড় বয়ে যায়।

    বাগদাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ইরাকের সুদৃশ্য ব্যাবিলন প্রদেশের একটি ছোট শহরে বেড়ে ওঠেন সামি। তার শৈশব বেশ হাসিখুশি আনন্দেই কেটেছে। তিনি সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে স্কুলের জন্য বের হতেন এবং দুপুরের দিকে বাসায় ফিরে আসতেন। এরপর সামি আরও কিছুক্ষণ পড়াশোনা করে তার ভাইবোনদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। সন্ধ্যাবেলায় পরিবারের সবাই তার দাদা দাদীর সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য দেখা করতেন।

    কখনও কখনও তিনি তার বাবাকে মিষ্টির দোকানের কাজে সাহায্য করতেন – আর কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি পেতেন ডোনাট বা এমন কিছু। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর সামির বাইরে গিয়ে কাজ করা জরুরি হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাজারের একটি দোকান তিনি একটি চাকরি পেয়ে যান। সেখানেই তার সাথে পুনরায় নিপীড়নের ঘটনা ঘটে।

    দোকানীর মালিক সামির প্রতি যে পরিমাণ মনোযোগ দেখাতেন সেটা সামির জন্য অস্বস্তিকর হয়ে পড়েছিল। সামি বলেন, ‘তিনি (দোকানি) আমাকে অতিরিক্ত আদর যত্নে ভাসিয়ে দিতেন। তারপর, একদিন, যখন তারা একা ছিল, তখন দোকান মালিক সামিকে কোণঠাসা করে জাপটে ধরে চুম্বন করতে চাইলেন, আদর করতে চাইলেন। তখন আমি হাতের কাছে থাকা গ্লাস জারটি তুলে ওই ব্যক্তির মাথায় আঘাত করে দৌড়ে পালাই।’

    দোকানীর মালিক স্থানীয় মানুষকে সামির ব্যাপারে পরে কী বলেছিলেন সেটা সামি জানেন না। তবে তার অন্য চাকরি পেতে এক বছর সময় লেগে যায়। বাগদাদে আসার পর সামির জীবনে পরিবর্তন আসে। সামির বয়স যখন ১৬, একদিন সামির মা এবং ভাইবোনেরা বাসার বাইরে ছিলেন। সে সময় তার চাইতে বয়সে বড় এক চাচাত ভাই দেখা করতে আসেন। তিনি সামির পাশে বসে তার ফোন বের করেন এবং সামির সামনেই পর্নোগ্রাফিক অশ্লীল ছবি দেখতে থাকেন।

    তারপর হঠাৎ তিনি সামিকে জাপটে ধরে আঘাত করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন। সামির জন্য সেই সহিংস আক্রমণ খুব বেদনাদায়ক ছিল। এখনও সেই ঘটনা চিন্তা করলে তাকে দুঃস্বপ্ন তাড়া করে বেড়ায়। সামি আর বেশিদিন তার শৈশবের বাড়িতে থাকতে পারেননি।তিনি বলেন, ‘আমি আমার পরিবারকে বাড়ি বদলানোর জন্য এবং এই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে মানিয়ে ফেলি। আমরা আমাদের আত্মীয় ও প্রতিবেশী বন্ধুদের সাথে বন্ধন ছিন্ন করে দেই’।

    এরপর সামির পুরো পরিবার বাগদাদে চলে যান এবং সেখানে তারা সবাই কাজ পান। ওই হামলার আতঙ্ক বার বার সামিকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছিল। এ কারণে সামি রোমান্টিক সম্পর্ক থেকে নিজেকে সবসময় দূরে সরিয়ে রাখতেন। তারপর, ধীরে ধীরে, তিনি শহরের নতুন বন্ধুদের সাথে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর সিদ্ধান্ত নেন যে; তিনি তার এই বিরূপ অভিজ্ঞতার বোঝা আর একা বহন করবেন না।

    মূলত, তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ছোট একটি দলের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতেন। এ ঘটনা নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত ছিল। সামি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই অভিজ্ঞতা শুধু তার একার নয়। তার দলের অন্যান্য বন্ধুরাও জানান যে কখনও তারাও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

    বিবিসি নিউজ আরবের ১০টি দেশ এবং ফিলিস্তিন অঞ্চলের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে। সেখানে দেখা গেছে আরবের দুই দেশ – তিউনিসিয়া ও ইরাকে – নারীর চেয়ে বেশি পুরুষরাই বেশি মৌখিক ও শারীরিক যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন।

    তিউনিসিয়ায় নারী ও পুরুষের এই ব্যবধান মাত্র ১%। সেখানকার ৩৯% পুরুষ মৌখিক যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং নারীদের মধ্যে ৩৩% কে এমন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরাকের ২০% পুরুষ জানিয়েছেন যে তারা শারীরিক যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। যেখানে নারী শিকার হয়েছেন ১৭%। ইরাকি পুরুষরা গৃহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইরাকে নারীর অধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ বলা চলে – ইরাকি পেনাল কোড ৪১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে স্বামী যদি তার স্ত্রীকে প্রহার করেন তাহলে সেটা বেআইনি হবে না।

    তবে গবেষণা নেটওয়ার্ক আরব ব্যারোমিটার, যারা কিনা এই জরিপ পরিচালনা করেছেন, সেখানকার গবেষণা সহযোগী ডা. ক্যাথরিন টমাস, সতর্ক করে বলেছেন যে যৌন হয়রানির শিকার নারীরা হয়তো চুপ থাকাকেই শ্রেয় মনে করেন। মিস টমাস বলেন, ‘হয়রানির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলা বা অভিযোগ দাখিল করা তাদের কাছে বিব্রতকর ও অপ্রীতিকর মনে হয়। অভিযোগ দায়ের করলে তাদের ওপরেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও করেন তারা। পুরুষের তুলনায় নারীদের এমন হয়রানির আশঙ্কা আরও বেশি বলে ভাবা হয়।’

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইরাক বিষয়ে জ্যেষ্ঠ গবেষক বেলকিস উইলে মিস টমাসের বক্তব্যে একমত পোষণ করেন, ‘নারীরা গৃহ নির্যাতন বা যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার পরও এই বিষয়গুলো সামনে আনতে চাননা। অনেকে এই শব্দগুলোর সঙ্গেই পরিচিত নন। ইরাকের সমাজ পুরুষদের এই বিষয়ে কথা বলার অনুমোদন না দেয়ায় অপরাধগুলো কখনোই অভিযোগ আকারে সামনে আসেনা।’

    ইরাকি হাসপাতালে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে, বলে তিনি জানান। আইন অনুসারে হাসপাতালগুলোতে সব সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিতি থাকেন এবং কোন নারী যদি জানান যে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাহলে ডাক্তার বিষয়টি ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানাতে বাধ্য থাকবেন। তিনি বলেন, ‘প্রায়শই নির্যাতিতা নারীরা মিথ্যা বলেন এবং অপরাধীদের রক্ষা করেন, বিশেষ করে যদি তারা তাদের পরিচিত হয়, কারণ তারা একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করতে ভয় পান। যেখানে তাদেরও শাস্তি ভোগ করার ঝুঁকি থাকে।’

    সামি বলেন, ‘পুরুষকে ধর্ষণ আইন বিরোধী হলেও এ ব্যাপারে ভিক্টিম, পুলিশ এবং সমাজের সহানুভূতি সেভাবে পায়না। যদি কোন পুরুষ পুলিশের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করতে যান, তবে পুলিশ এটা নিয়ে উল্টো হাসাহাসি করতে পারে।’

    তের বছর বয়সে স্কুলের সেই অভিজ্ঞতা থেকে সামি জানতে পারেন যে, হামলার শিকার হওয়ার পরও তাকে দোষ নিতে হয়েছিল। সামির ভাষায়, ‘আমি আমার ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ আমাকে কেবল একজন ভিক্টিম হিসেবেই দেখবে না। হয়তো আমাকে জেলেও পাঠিয়ে দিতে পারে। আইন আমার পাশে আছে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নেই।’

    এ ব্যাপারে ইরাকি পুলিশের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, ‘আমাদের দরজা সব নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত আছে। ভিক্টিমরা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দায়ের করার পর নির্যাতনকারীদের আটক করা হয়েছে।’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ২০০৩ সালে মানবাধিকার বিষয়ে নতুন একটি কৌশল হাতে নেয়া হয়েছে এবং এই ধরনের মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

    সামির বয়স এখন ২১। তার জীবন এখন আগের চাইতে ভাল। তিনি বাগদাদে থাকতেই পছন্দ করেন। তিনি এখন একটি বড় আন্তর্জাতিক সংস্থায় ক্যারিয়ার গুছিয়েছেন। তার অতীত সম্পর্কে জানেন এমন সহায়ক বন্ধুদের একটি দলও তার আছে। তিনি আশা করেন যে বিবিসিকে তার গল্প বলার মাধ্যমে, তিনি অন্যান্য পুরুষদের তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলতে উৎসাহিত করতে পারবেন।

    কিন্তু অতীতে এখনও সামিকে তাড়া করে বেড়ায়। তিনি এখনও ভাবতে পারেন না যে তিনি কারো সাথে সম্পর্কে জড়াতে পারেন। হয়তো একদিন তিনি একজন সঙ্গী পাবেন, তিনি বলেন – যখন ‌বদলেছি, তখন ইরাকের সমাজও বদলে গেছে। নিজের ৩৫ বছর বয়সে তিনি এ বিষয়ে হয়তো আবার চিন্তা করবেন।

    বিবিসির জরিপ
    মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা মিলিয়ে আরবের ১০টি দেশ – আলজেরিয়া, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, মরক্কো, সুদান, তিউনিসিয়া, এবং ইয়েমেন – এবং ফিলিস্তিন অঞ্চলে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। মানুষের সংখ্যা, জরিপ এলাকার ব্যাপ্তি এবং প্রশ্নের গভীরতার হিসাবে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জরিপ। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা নেটওয়ার্ক আরব ব্যারোমিটার জরিপটি পরিচালনা করে।

  • আত্মঘাতী ড্রোন বানাচ্ছে ভারত, লক্ষ্য পাকিস্তান

    আত্মঘাতী ড্রোন বানাচ্ছে ভারত, লক্ষ্য পাকিস্তান

    পাকিস্তানের বালাকোটে হামলার মডেল অনুসরণ করে দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ বানাচ্ছে ভারত। আগামী দশ বছরের মধ্যে এগুলো ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে। ড্রোনগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়ে পৌঁছে যাবে কাঙ্ক্ষিত স্থানে। সেখানে গিয়েই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করবে।

    ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় এই ড্রোনের নাম আলফা-এস। ড্রোনগুলো শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় প্রবেশ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে হিন্দুস্তান অ্যারোনেটিকস লিমিটেড এবং নিউস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিস।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ড্রোনগুলো উন্নত কৃত্রিম গোয়েন্দা অ্যালগরিদম ব্যবহার করতে পারে। বালাকোটে লক্ষ্য করে চালানো ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলার মতো এটিও হামলা করবে। তবে এতে কোনো চালক বা পাইলটের প্রয়োজন পড়বে না।

    এনডিটিভি বলছে, হিন্দুস্তান অ্যারোনেটিকস লিমিটেড এবং নিউস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিসের ইঞ্জিনিয়ার এবং সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞদের একটি দল, অত্যাধুনিক বিমান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গত দুই বছর ধরে প্রথমবার দেশীয় প্রযুক্তিতে এই সোয়ার্ম ড্রোন তৈরি করেছে। ড্রোনগুলির নাম রাখা হয়েছে এয়ার-লঞ্চ ফ্লেক্সিবেল অ্যাসেট (সোয়ার্ম) বা আলফা-এস।

    প্রকল্পটির এক ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, আকাশযুদ্ধে ভারতের ভবিষ্যৎ অস্ত্র হতে চলেছে আলফা-এস। এতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিভিন্ন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিপজ্জনক অভিযানে এসব ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ফলে আর পাইলটদের ঝুঁকির মুখে পাঠাতে হবে না।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রকৌশলী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আমরা এই অত্যাধুনিক ড্রোনগুলো তৈরি করেছি। আমরা চেষ্টা করছি বিপজ্জনক সামরিক অভিযানে যাতে পাইলট ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ভাবে এই ড্রোনগুলি শত্রুপক্ষের উপর হামলা চালাতে পারে তা নিশ্চিত করা। যার ফলে সামরিক অভিযানের সময় প্রাণহানির আশঙ্কা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।’

    আলফা-এস ড্রোনগুলোর ভাঁজ করতে সক্ষম দুটি পাখা আছে। পাখা দুটি এক থেকে দুই মিটার দীর্ঘ। এই ড্রোনগুলো ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমানের পাখার নিচে থাকা গর্তের ভেতরে সজ্জিত থাকবে। পাইলটরা প্রথমে একটি নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত উড়ে যাবেন যেখান থেকে তারা শত্রুপক্ষের বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ওই ড্রোনগুলো ছাড়তে পারবেন।

    বিমান থেকে ড্রোনগুলোকে অভিযানে পাঠানোর পর ড্রোনগুলো তাদের পাখায় ভর করে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। ড্রোনগুলোর পাখার মধ্যে যে ব্যাটারিগুলো দেয়া হয়েছে তা কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থায়ীভাবে কাজ করতে সক্ষম। যার সাহায্যে ড্রোনগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সহজেই আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ এই প্রযুক্তির ড্রোন তৈরিতে কাজ করছে। ভারতও সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে। তবে এই বিশেষ প্রযুক্তির ড্রোনগুলো তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে নির্মাতা দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না।

  • ৩০ বছর পর ২০০ টাকা শোধ করতে কেনিয়ার এমপি ভারতে !

    ৩০ বছর পর ২০০ টাকা শোধ করতে কেনিয়ার এমপি ভারতে !

    ৩০ বছর আগে ভারতে পড়তে এসে এক দোকানে ২০০ টাকা বাকি পড়েছিল। কেনিয়ার রিচার্ড টোংগি সেটি শোধ না করে দেশে চলে যান। এক সময় সাংসদ হওয়া টোংগি সেই ২০০ টাকার কথা ভুলে যাননি। শোধ করতে চলে এসেছেন ভারতে!

    এতক্ষণ যা পড়লেন তা মোটেও বলিউড সিনেমার কোনো কাহিনি নয়। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের বাস্তব ঘটনা।

    ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ১৯৮৫ সালে কেনিয়া থেকে ঔরঙ্গাবাদে পড়াশোনা করতে এসেছিলেন টোংগি। ম্যানেজমেন্ট কলেজের ছাত্র ছিলেন। চার বছর পড়াশোনা করার পর ১৯৮৯ সালে কেনিয়ায় ফিরে যান।

    এই চার বছরে স্থানীয় মুদিখানা দোকানের মালিক কাশীনাথ গাউলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। যাওয়ার কিছুদিন আগে ২০০ টাকা বাকি পড়ে। সেটি দিতে ভুলে যান।

    এরপর চলে গেছে ৩০ বছর। জীবনযুদ্ধে অনেক লড়াই করে হয়েছেন সাংসদ। একদিন হঠাৎ তার মনে পড়ে কাশীনাথের সেই টাকার কথা। সিদ্ধান্ত নেন ভারতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করবেন।

    টোংগি পরিবারসহ ভারতে পৌঁছান দিন চারেক আগে। মহারাষ্ট্র সরকার তাকে সংবর্ধনা দেয়। স্থানীয় পত্রিকার প্রথম পাতায় তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, টোংগিকে দেখে কাশীনাথ প্রথমে চিনতে পারেননি। পরে পরিচয় জানার পর কেঁদে ফেলেন।

    উপকারী বন্ধুকে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি টোংগিও। স্মৃতিমন্থন করে বলেন, ‘ঔরঙ্গাবাদে যখন পড়াশোনা করতাম তখন খুব গরিব ছিলাম। কাশীর মতো মানুষেরা আমাকে খুব সাহায্য করেছিলেন। কেনিয়া ফিরে যাওয়ার পরেও সেই কথা ভুলতে পারিনি। কিছুদিন আগে আমার মনে হয়, ভারতে ফিরে গিয়ে পুরোনো ধার শোধ করতে হবে।’

    ‘এখানে আসার পর ওনারা আমাকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে খাওয়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি বলি যে ওনাদের বাড়িতেই খাব। কাশী ও তার পরিবারকে কেনিয়া যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

  • ধোনির আউট মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু

    ধোনির আউট মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু

    ক্রিকেট ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। এই খেলা নিয়ে কতটা উন্মাদনা রয়েছে, তার প্রমাণ মিলল বুধবার।

    এ দিন ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টারে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরে যায় ভারত। ২৪০ রান তাড়া করতে নেমে ২১ রানে খেলায় নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যান বিরাট কোহলিরা। ম্যাচের একেবারে শেষে খেলার দায়ভার ছিল মহেন্দ্র সিংহ ধোনির উপর। কিন্তু তারপরই তিনি আউট হয়ে যান। তার রান আউটের পরই চাপ সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন হুগলির সাইকেল ব্যবসায়ী শ্রীকান্ত মাইতি।

    ৩৩ বছরের শ্রীকান্তের সাইকেলের দোকান হুগলির সেকেন্দরপুরে। তিনি বুধবার নিজের মোবাইলে ভারতের খেলা দেখছিলেন দোকানে বসেই। খেলার একেবারে শেষে ধোনি রান আউট হয়ে যান। তিনি আউট হতেই কার্যত ম্যাচটা হেরে যায় ভারত।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধোনি আউট হতেই শ্রীকান্তর মুখ বিবর্ণ হয়ে যায় এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তিনি জ্ঞান হারান।

    দ্রুত তাকে খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। শ্রীকান্তর একটি ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।

    এদিকে উড়িষ্যার কালাহান্ডি জেলার বাসিন্দা ২৫ বছরের যুবক সম্বরু ভই বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের হার সহ্য করতে না পেরে বিষ খান।

    জানা গেছে, সিংভাদি গ্রামের বাসিন্দা সম্বরু বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখছিলেন। তার বাবা-মা পুলিশকে জানিয়েছেন, ভারতের জয়ের ব্যাপারে নিঃসন্দেহ ছিলেন তিনি। এই নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে তর্কও হয় তার।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোহলি বাহিনী বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতেই বিষণ্ণ হয়ে পড়েন তিনি।

    মনখারাপ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দূরে এক খেতের মাঝখানে গিয়ে বিষ খান। তাকে দ্রুত ধরমগড় সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যায় তার পরিবারের সদস্যরা।

    পরে তাকে ভবানীপাটনার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

  • আবারও প্রাচ্যের ভেনিস বরিশালে আসবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    আবারও প্রাচ্যের ভেনিস বরিশালে আসবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবাট মিলার তিনদিনের জন্য বরিশালে এসেছিলেন। কীর্তনখোলা তীর এই জনপদের সৌন্দর্য অবলোকনে। হলেন মুগ্ধ, আরও আকৃষ্ট হয়ে বলেশ্বরের তীর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়াসহ ঝালকাঠির পেয়ারা বাগান ঘুরে ঘুরে দেখলেন। তিনদিনের তাঁর এই সফরের কোন সরকারি রাগঢাক ছিল না। বলা যায় অনেকটাই একান্ত পরিবেশে বরিশালের দর্শনার্থী স্থানগুলো একে এতে দেখলেন। আর সৌন্দর্য উপভোগ করে নিজেকে মিলাতে পারছে না তিনি আসলে কতটা মুগ্ধ। আর্ল রবার্ট মিলারের ভাষায়- রুপসী বাংলা রুপ কত যে সুন্দর তা না দেখলে বোঝার উপায় নেই। সেই সাথে স্মরণ করিয়ে দিলেন বরিশাল যে বাংলার ভেনিস সেই কবি জীবনানন্দ দাশের উক্তি অমুলন নয়। তিনদিন তিনি ঘুরেছেন গ্রামের পর গ্রাম আবার রাতে ফিরে এসেছেন নগরীর অভিজাত হোটেল গ্রান্ডপার্কে।

    তিনি স্বীকার করেছেন ভোর হলেই আগে থেকে নির্ধারন করা স্থানগুলো দেখতে বেড়িয়েছেন। সৌন্দর্যপিপাসু এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত কী ভাবে যে বাংলার ভেনিসে তিনদিন কেটে গেল তা তিনি আঁচ করতে পারেননি। কিন্তু সৌন্দর্য উপভোগে ষোলআনাই ছিলেন সচেতন। সরকারি প্রটকলের মাঝে অনেকটা সাদামাটা রবার্ট মিলার একাকী এসেছিলেন। ব্যতিক্রম তো এখানেই তিনি সরকারি বা রাজনৈকি অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। তবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাসের সাথে প্রথম দিন এসে এক বিকেল কাটিয়েছিলেন হাস্যজ্জল। আবার ভাগ্যচক্রে ভান্ডারিয়ায় অবস্থানকালে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যানের সাথে কিছু সময় সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

    রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এই দুই পর্ব ব্যতিত তিনি নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন কখনও নদীর তীরে আবার কখনও দর্শনার্থী স্থানে চারিধার। আজ ছিল তার বিদায়লগ্ন। তাই আজকের অর্ধবেলায় কাটে বরিশাল শহরে। খুব সকালে ঝালকাঠির ভিমরুলি পেয়ারা বাগানের সৌন্দর্য অবলোকন করে ভিন্ন এক মেজাজে দ্রুত ফিরে আসেন বরিশাল। এসেই তিনি বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ সংলগ্ন সনাতন ধর্মালম্বীদের উপাসনায় শ্রী শ্রী শংকর মঠ পরিদর্শন করেন। এসময় কিছুটা পুলিশ প্রশাসন দেখে অনুমান করা গেছে বরিশালে কোন ভিআইপি অবস্থান করছেন।

    এরপর যথারীতি সাদামাটা রবার্ট মিলার ছুটে যান বরিশাল শহরের বগুড়া রোডের অক্সফোর্ড মিশন চার্চে। সেখানকার ধর্মীয় নেতারা তাকে স্বাগত জানান। কিন্তু কোন বড় ধরনের আনুষ্ঠানিকতা থেকে বিরত থাকেন। সম্ভবত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আগেই ভাগেই সেখানকার নেতাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন। অবশ্য ভুল করেন নি বাংলাদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগািরক লুসি হন্টের সাথে সাক্ষাত করতে। বেশকিছু সময় দু’জনে কুশল বিনিময় করেন। তার সাথে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান- রাবর্ট তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সৌন্দর্য দেখে আপনে কতখানি মুগ্ধ। জবাবে লুসি হন্ট অট্ট হাসি দিয়ে বললেন বাংলার রুপ না দেখলে অতৃপ্ত থেকে যায়। তিনি বাংলার রুপে মুগ্ধ বলেইতো দীর্ঘকাল একানে কাটিয়ে দিলেন। পরে প্রার্থনায় অংশ নেন মার্নিক রাষ্ট্রদূত।

    পরিশেষে বরিশালের মিডিয়াকর্মীদের সাথে কিছু সময় নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। সেখানে একটি কথাই তিনি বার বার উচ্চরণ করেন বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সময় পেলেই রুপসী বাংলার রুপ দেখতে বিভিন্ন জনপদে ছুটে চলছেন। ইতিপূর্বে তিনি বাংলাদেশের আরও ৮টি জেলা ঘুরে দেখেছেন। কিন্তু নদীবেষ্টিত বরিশাল অঞ্চলের সাথে কোন জনপদের তুলনা করা ভার বলে তিনি মন্তব্য করেন। বরিশালের আর্থসামাজিক পরিবেশ ও প্রকৃতি তাকে আকর্ষিত মোহিত করেছে। সুযোগ পেলে আবার তিনি বরিশালে আসবেন বলে প্রতিশ্রুতিও রাখলেন। তিনি দিনোত্তর এই অঞ্চলের আরও উন্নয়ন দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    পরন্ত দুপুরে তিনি বিমানযোগে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওয়ান হন। এসেছিলেন নৌপথে গত সোমবার গ্রিনলাইন ওয়াটারবাসে। যাওয়ার বেলায় গেলেন বিমানে চেপে। এখানেও তার দেখার কিছু ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। সাদামাটা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের চলন বলনও এই অঞ্চলের মানুষের মনে দীর্ঘদিন দাগ কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

  • ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে তিনি ধরলেন বাসের স্টিয়ারিং

    ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে তিনি ধরলেন বাসের স্টিয়ারিং

    অনলাইন ডেস্ক :

    গৎ বাঁধা জীবন নয় তার। কারণ সব সময় চেয়েছিলেন জীবনটা হোক চমকে ভরা। জীবনের প্রতিটি মোড়ে থাকুক রোমাঞ্চ। এই ভাবনা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও প্রতীক্ষা দাস পেশা হিসাবে বেছে নিলেন বাস চালানো।

    ভারতের মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী এই তরুণী দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত মুম্বাইয়ের প্রথম বাসচালক হিসাবে উল্টো স্রোতে হেঁটে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন।

    মুম্বাইয়ে বেড়ে উঠেছেন প্রতীক্ষা। ছোটবেলা থেকেই অন্যরকম স্বভাবের ছিলেন। তথাকথিত সমাজের চোখে মোটেও লক্ষ্মী নন তিনি, বরং দুষ্টুমিতে ভরপুর। পড়াশোনায় বরাবরের মতো ভালো মেয়েটির বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির প্রতি প্রেম জাগে। বাবা-মা চেয়েছিলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেই পায়ের মাটি শক্ত করুক। সেই অনুযায়ী, মালাডেক ঠাকুর কলেজে ভর্তি করে দেয়া হয় প্রতীক্ষাকে। সেখান থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করেন তিনি।

    কিন্তু চাকরি করে রোমাঞ্চহীন গৎ বাঁধা জীবন যে একেবারে পছন্দ নয় প্রতীক্ষার। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে চড়াই-উতরাই ছাড়া ভালো লাগে না তার। তাই ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কথা ভুলেও ভাবেননি মুম্বাইয়ের এই তরুণী। এর বদলে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তিনি বেছে নেন বাসের স্টিয়ারিং। ব্যস্ততায় মোড়া-ভিড়ে ঠাসা বাণিজ্যনগরীর বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীদের পৌঁছে দেয়ার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন সাহসিনী এই কন্যা। মুম্বাইয়ে প্রথম নারী বাসচালক প্রতীক্ষা দাস

    কিন্তু কেন এমন অন্যরকম পেশা বেছে নিলেন প্রতীক্ষা? তিনি বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই গাড়ির প্রতি ভালোবাসা ছিল। বাইক, স্কুটি সবই চালিয়েছেন

    ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর আরটিও অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেজন্য প্রয়োজন ছিল ভারী গাড়ি চালানোর লাইসেন্স। স্বপ্নপূরণের জন্য বড় ভারী গাড়ি চালানো শেখেন প্রতীক্ষা। তারপর থেকেই বাস চালানোর ইচ্ছাই যেন তাড়া করে বেড়াচ্ছিল তাকে।

    মনের সেই তাড়না আঁকড়েই জীবনের আঁকাবাঁকা পথে হাঁটতে শুরু করেছেন প্রতীক্ষা। গৎ বাঁধা সমাজের ছবিকে বদলাতে তার এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।

  • চোখের পানিতে শেষ হলো ‘ফিনিশারে’র বিশ্বকাপ

    চোখের পানিতে শেষ হলো ‘ফিনিশারে’র বিশ্বকাপ

    ইন্ডিয়ান্স এক্সপ্রেসের শিরোনামটা ঠিক এ রকম, ‘এমএস ধোনি : আন-ফিনিশার।’ মাত্র একদিনের ব্যবধানে গ্রেট ফিনিশার থেকে ধোনি হয়ে গেলেন ‘আন-ফিনিশার’! নিউজিল্যান্ডের কাছে সেমিফাইনালে হারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, ধোনির চোখে পানি। পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ারে যাকে কখনও কোনো কিছুতেই আবেগ-অনুভুতি প্রকাশ করতে দেখা যায়নি, তিনিই কি না বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষটা করলেন চোখের পানিতে! বিদায়টা কত করুণ হয়!!

    মহেন্দ্র সিং ধোনি। এই নামটা যেন ক্রিকেটের এক অবাক বিস্ময়। অধিনায়ক কিংবা ব্যাটসম্যান- সর্বদাই তিনি থাকেন একেবারে নির্লিপ্ত। ভাবলেশহীনভাবেই ম্যাচ জিতিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে আসেন। দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন, অনেক অর্জন তার ঝুলিতে; কিন্তু কোনোকিছুই যেন কোনোদিন তাকে ছুঁয়ে যায়নি। কোনো ভাবাবেগের আশ-পাশেও ছিলেন না। কেউ কেউ বলতেন, দ্য কুল। অনেকেই বলতেন, ধোনি যেন রোবট। যার মধ্যে আবেগ-অনুভুতির কোনো হরমোনই হয়তো ছিল না।

    পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য পালন করেছেন গ্রেট ফিনিশারের ভূমিকা। কখনও কখনও ব্যাট হাতে হয়ে উঠেন দলের ত্রাতা। শেষ মুহূর্তে যখন চারদিক উত্তেজনায় ঠাসা, তখন তিনি এমনভাবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে ম্যাচ শেষ করে আসতেন, যেন মাথায় বরফের ব্যাগ বেধে সেটাকে কঠিন মুহূর্তে ঠাণ্ডা রেখেছিলেন। তাকে মনে রাখার মতো অসংখ্য কীর্তি উপহার দিয়েছেন ধোনি। অধিনায়ক হিসেবে (আন্তর্জাতিক কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট, সব জায়গাতেই) সম্ভাব্য প্রায় সব শিরোপাই জিতেছেন।

    Dhoni-1

    ধোনির ক্যারিয়ারের শুরু ২০০৪ সালে। বাংলাদেশের বিপক্ষে। চট্রগ্রামে নিজের প্রথম রানটি করার আগেই তাপস বৈশ্যের থ্রোতে ফিরে যেতে হয়েছিল রান আউটে কাটা পড়ে। সুতরাং, ক্যারিয়ারের শুরুটা হলো ডাক মেরে। কিন্তু সব সময়ই ‘মর্নিং সোজ দ্য ডে’ কিন্তু সত্যি হয় না। ধোনির ক্ষেত্রেও তাই হয়নি।

    এরপর তিনি জন্ম দিয়ে গেছেন একের পর এক রূপকথা। ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে এক অতিমানবীয় ইনিংস খেলে হয়েছিলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার। সেই ইনিংসের ওপর ভর করেই এবং তার নেতৃত্বে ২৮ বছর পর ভারতকে দ্বিতীয়বারেরমত জেতান বিশ্বকাপ শিরোপা।

    সময় যত গড়ায়, ততই সব কিছু পুরনো হতে থাকে। ধার কমে যায়। অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে তো এটা আরও বেশি সত্যি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগের সেই ধার থাকার কথা নয়। সুতরাং, আগের সেই ধোনি এখন আর নেই। ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে দাঁড়িয়ে। বিশ্বকাপ চলাকালেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, বিশ্বকাপের পরই হয়তো ব্যাট-প্যাড-গ্লাভস তুলে রাখার ঘোষণা দেবেন তিনি। তবে নিশ্চিত, এটাই তার বিদায়ী বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চে আর কখনও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যাবে না বিশ্বকাপ জয়ী ভারত অধিনায়ককে।

    ক্যারিয়ারের শুরুর মতোই হলো তার বিশ্বকাপের শেষটাও। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন মুহূর্তে পুরো ভারতবর্ষ তাকিয়ে ছিল তার ব্যাটের দিকে। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলেই লকি ফার্গুসনকে যেভাবে ছক্কা মেরেছিলেন, তাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের মতো উঠে দাঁড়িয়েছিল পুরো ভারতও। সলতের মাথায় নিভু নিভু হয়ে জ্বলতে থাকা আগুনটা যেন হঠাৎই ছলকে উঠেছিল।

    কিন্তু বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচটায় আর গ্রেট ফিনিশারের ভুমিকা নিতে পারেননি। ইনিংসের শেষের ৯ বল আগে মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রোতে রান আউটে কাটা পড়েন তিনি। যেমনটা ঘটেছিলো ১৫ বছর আগে। সেবার তাপস বৈশ্য আর এবার গাপটিল। ধোনির আউট হওয়ার আগ পর্যন্তও ভারতীয়দের বিশ্বাস ছিলো নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে যাবে তারা।

    Dhoni-2

    কিন্তু ধোনির আউটের পর শেষ পর্যন্ত ১৮ রানে হেরে যায় ভারত। ব্যর্থ হয় ফাইনালে উঠতে। দলকে ফাইনালে তুলতে না পারার ব্যর্থতায় সারাজীবন আবেগ লুকিয়ে রাখা ধোনিও তাই আটকে রাখতে পারেননি নিজের চোখকে। মাঠ থেকে বের হওয়ার সময়ই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে জল।

    আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে এসে মোট ৫০ বার অপরাজিত ছিলেন ধোনি। যাতে তিনি করেছেন ২১৮৪ রান। ২ সেঞ্চুরির সঙ্গে পেয়েছেন ১৬ ফিফটির দেখা। গড়? ৯১.০৩! এই ৫০ বার অপরাজিত থেকে রান তাড়া করতে নেমে ৪৭ বারই সফল হয়েছেন, ২ বার হেরেছেন আর ১বার ম্যাচ হয়েছে টাই।

    ক্যারিয়ারে পুরো সময়টা জুড়ে যে ফিনিশিংয়ে অবিশ্বাস্য ছিলেন ধোনি, তাকে বিশ্বকাপের শেষটা করতে হলো ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা দিয়ে। আন-ফিনিশার ট্যাগটা তাই পুরোপুরিভাবেই লেগে থাকবে তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে? গোধূলি বেলায় যখন তাকে দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অপরাজিত থাকার, তখনই হলেন ব্যর্থ। তাও রান- আউটে। অথচ রান নেওয়ার ক্ষমতার জন্য সারাজীবনই শুনেছেন প্রশংসার স্তুতি। তাই বলাই যায়, কান্নায় শেষ হলো ‘ফিনিশারের’ বিশ্বকাপ।

  • বরিশালে এসে মুগ্ধ হলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার

    বরিশালে এসে মুগ্ধ হলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার

    আট বিভাগ ঘুরে বাংলাদেশে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই শান্তিপূর্ণ। এদেশে আসার পর আটটি বিভাগ ঘুরে দেখেছি। এখানে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বিরাজ করছে।’

    তিনদিনের বরিশাল সফরের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নগরীর ঐতিহাসিক অক্সফোর্ড মিশন পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

    রবার্ট মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন এক দেশ, যেখানে কেউ ভ্রমণ করলেই বুঝতে পারবে, শিগগিরই দেশটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের যাত্রা দেশটিকে বিশ্ব দরবারে অনন্য পর্যায়ে নিয়ে যাবে।’

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘এই দেশের যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র ৪৭ বছর আগে। শিগগিরই দেশটি স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করবে। আমেরিকার একজন প্রতিনিধি হিসেবে এদেশে দায়িত্ব পালন বেশ উপভোগ করছি।’

    আজ বেলা ২টার দিকে নগরীর ঐতিহাসিক অক্সফোর্ড মিশন পরিদর্শনে যান রবার্ট মিলার। এসময় তিনি চার্চে প্রার্থনায় অংশ নেন এবং ফাদারসহ অন্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ ছাড়া, সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি নাগরিক লুসি হল্টের সঙ্গেও সাক্ষাত করেন। পরে অক্সফোর্ড মিশন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

    বরিশালের সৌন্দর্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত: গত ৯ জুলাই তিনদিনের সফরে বরিশালে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। আজ বৃহস্পতিবার বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শী শংকর মঠ ও অক্সফোর্ড মিশন পরিদর্শনের মধ্যদিয়ে তার এ সফর শেষ হয়। এ সফরের ব্যাপারে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, ‘বরিশালের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ এদিন বিকাল ৪টায় তিনি বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।