Category: আন্তর্জাতিক

  • চিলিবাধা পেরিয়ে তৃতীয় হতে পারবে তো মেসির আর্জেন্টিনা?

    চিলিবাধা পেরিয়ে তৃতীয় হতে পারবে তো মেসির আর্জেন্টিনা?

    সর্বশেষ দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলিবাধা পার হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। দুটি ফাইনালেই গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে তাদের কাছে হারে মেসিবাহিনী। এদিকে আগের দুইবারের এই দুই ফাইনালিস্টের এবার দেখা হচ্ছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও চিলি দু’দলই হেরে যাওয়ায় এবার তারা লড়বে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেরা দল হতে। যে লড়াই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ (শনিবার) রাত ১ টায়, ব্রাজিলের সাও পাওলোতে।

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে চিলির বিরুদ্ধে জয়ের একচেটিয়া রেকর্ড রয়েছে আর্জেন্টিনার। ৮৯ বারের মুখোমুখি দেখায় আর্জেন্টিনার জয় ৬০ ম্যাচে। অন্যদিকে, চিলির মাত্র ৮ ম্যাচে। ফলাফল হয়নি ২১ ম্যাচে। সানচেজ-ভিদালদের থেকে যোজন-যোজন ব্যবধানে মেসি-আগুয়েরোরা এগিয়ে থাকলেও চিন্তার যেন শেষ নেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের।

    আসলে আসরটা কোপার বলেই হয়তো আলবিসেলেস্তে ভক্ত-সমর্থকদের এত মাথা ব্যথা। এই টুর্নামেন্টে সবশেষ তিন দেখায় দুইবারই চিলির কাছে হেরেছে আর্জেন্টিনা। যার মধ্যে দুটি ছিল আবার ফাইনাল ম্যাচ।

    শেষ ২২ বছর ধরে কোপার শিরোপা জিততে না পারা আর্জেন্টিনা এবার সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হারে। যে কারণে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আরেকটি ব্যর্থ মিশন পার হতে যাচ্ছে মেসির। আজ তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি জিতলে হয়তো একটা সান্ত্বনা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন তিনি ও তার দল।

    এদিকে সেমিফাইনালের লাইনআপ ঠিক হওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিল হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে চিলির। ফাইনালে ওঠার প্রতিপক্ষ পেরু বলেই এমনটি মনে করা হয়েছিল। কিন্ত বেস্টথার্ডের এক দল হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা পেরুর কাছে সেমিফাইনালে ৩-০ গোলে হেরে অঘটনের জন্ম দেয় চিলি। এখন তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের। আগের দুই আসরে আর্জেন্টিনাকে হারানোর রেকর্ডও অব্যাহত রাখতে মরিয়ে চিলি।

  • চীনা বীরদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    চীনা বীরদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    তিয়েন আনমেন স্কয়ারে চীনা বিপ্লবের বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী এই পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। খবর বাসসের।

    পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর চীনের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরদের প্রতি সম্মান জানানোর অংশ হিসেবে তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী এখানে পৌঁছালে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

    পরে প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব পিপলে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) চেয়ারম্যান লি ঝাং শুর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।

    প্রসঙ্গত, চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর চীনে শেখ হাসিনার এটিই প্রথম সফর।

    চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং ওই দিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) পৌঁছাবেন।

  • ব্রিটিশ ট্যাংকার আটকের হুমকি দিল ইরান

    ব্রিটিশ ট্যাংকার আটকের হুমকি দিল ইরান

    জিব্রাল্টারে ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনের হাতে আটক ইরানের তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার অনতিবিলম্বে মুক্তি না দিলে বদলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির অভিজাত বিপ্লবী গার্ডের একজন সিনিয়র কমান্ডার শুক্রবার (৫ জুলাই) সতর্ক করে বলেন, জিব্রাল্টারে আটক ইরানের ট্যাঙ্কার অবিলম্বে মুক্ত না হলে ব্রিটিশ তেল ট্যাঙ্কারকে জব্দ করা তেহরানের ‘কর্তব্য’ হয়ে দাঁড়াবে।

    ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে সিরিয়ায় তেল সরবরাহের চেষ্টা করার সন্দেহে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনস ইরানের গ্রেস ১ তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারকে আটক করেছে। এই নাটকীয় পদক্ষেপ তেহরানের ক্রোধের সৃষ্টি করতে পারে যা ইরান ও পশ্চিমের সঙ্গে সংঘর্ষের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

    ইরানের এক্সপ্যাডিয়েন্সি কাউন্সিলের সচিব, বিপ্লবী গার্ড মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই টুইটারে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, ‘যদি ব্রিটেন ইরানি তেল ট্যাঙ্কারটি ছেড়ে না দেয়, তবে একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করাও ইরানি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে। ৪০ বছরের ইতিহাসে ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক ইরান কখনোই যুদ্ধের মতো পদক্ষেপ বা আচরণ শুরু করেনি তবে, ইরানকে খোঁচা দিলে তার বিরুদ্ধে সাড়া দিতে দ্বিধা করেনি।’

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভিকে উদ্ধৃত করে ইরনা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইরানের তেল ট্যাঙ্কারটি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। ২০১১ সাল থেকে ইরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াতে তেল সরবারহের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে, এখন পর্যন্ত ইইউ বা ব্রিটেন কখনোই সমুদ্রে ইরানি ট্যাঙ্কার জব্দ করেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইরানের বিরুদ্ধে ইইউ-এর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি নেই।

  • সাউদার্ন ক্যালফর্নিয়ায় দুই দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত

    সাউদার্ন ক্যালফর্নিয়ায় দুই দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত

    দ্বিতীয় বারের মতো দুই দশকের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প আঘাত হানলো আমেরিকার সাউদার্ন ক্যালফর্নিয়ায়। শনিবার রিক্টার স্কেলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে স্থানীয় কিছু ভবনে, গ্যাস লাইনের ক্ষয়ক্ষতি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও হলেও হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। খবর বিবিসি’র।

    বিবিসি’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল লস এঞ্জেলসের প্রায় ২৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রিজক্রেস্ট শহরের কাছে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় এক কিলোমিটার গভীরে। এর আগে, বৃহস্পতিবার একই স্থান থেকে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল একই স্থানে ভূপৃষ্ঠের ১১ কিলোমিটার নীচে ছিল।

    ভূকম্পবীদ লুসি জোনস বলেন, ‘এটি আগের ভূমিকম্পের একটি ধারা এবং এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।’

    তিনি আরও জানান, একটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পরের সপ্তাহে একই রকম কিংবা আগেরটির থেকেও বেশি শক্তির ভূমিকম্প আঘাত হানার সম্ভাবনা থাকে। এই সম্ভাবনার হার শতকরা ১০ শতাংশ হলেও থেকেই যায়।

    শনিবারে আঘাত হানা শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় গত ২০ বছরে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, পার্শ্ববর্তী শহর লস ভেগাসেও এটি অনুভূত হয়।

  • ট্রাক ভর্তি গাঁজা নিয়ে ভারতীয় পুলিশের কাণ্ড!

    ট্রাক ভর্তি গাঁজা নিয়ে ভারতীয় পুলিশের কাণ্ড!

    ভারতে আসামের পুলিশ বাহিনী এখন যেরকম হালকা চালে চটুল ভঙ্গীতে সামাচিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান বার্তা দিচ্ছে, তাতে সাড়া মিলছে প্রচুর। একই কৌশল নিয়েছে আরও অনেক রাজ্যের পুলিশ।

    শিরোনামের এই কথাগুলো পড়ে মনে হতে পারে গাঁজা ভর্তি ট্রাক ছাড়িয়ে দেয়ার জন্য হয়ত কোনও অসৎ পুলিশকর্মীর বার্তা এটা। কিন্তু না। কিছুদিন আগের এই ফেসবুক পোস্ট ভারতের আসাম পুলিশের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজেই লেখা হয়েছে।

    তবে শুধু আসাম পুলিশ নয়, কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালুরু আর কেরালা পুলিশের ফেসবুক পেজ বা টুইটার অ্যাকাউন্টগুলো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কিছুদিন ধরেই। সেখানে গুরুগম্ভীর তথ্য একটু হাল্কা চালে, মজার ঢঙে দেয়া হয়, যা সামাজিক মাধ্যমের চালু রীতি।

    আসাম পুলিশের ওই পোস্টটি দেয়ার আগের রাতে ধুবরী জেলায় একটি চেকপোস্টে ট্রাক ভর্তি প্রায় ৫০০ কেজি গাঁজা আটক করা হয়। সেই খবরটা জানাতেই কিছুটা মজা করে আসাম পুলিশ লিখেছিল, ‘কাল রাতে কি আপনার গাঁজা ভর্তি কোনও ট্রাক হারিয়েছে? ভয় নেই, আমরা ওটা খুঁজে পেয়েছি। ধুবরী পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিশ্চই আপনাকে সাহায্য করবে।’

    গাঁজা ভর্তি ট্রাকের মালিক থানায় গেলে তাকে কীরকম খাতির করা হবে, সেটা আন্দাজ করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও! একই পোস্ট আসাম পুলিশের টুইটার হ্যান্ডেলেও লেখা হয়েছিল, যেটি পড়েছিলেন ২২ লাখ মানুষ আর ‘ইন্টার‍্যাক্ট’ করেছেন দুই লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

    আসাম পুলিশ সামাজিক মাধ্যমে এরকমই নানা ধরনের পোস্ট করতে শুরু করেছে বছরখানেক ধরে। যার বার্তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও বুদ্ধিদীপ্ত ভাষা বা ছবির ব্যবহারে মানুষকে আকৃষ্ট করছে ব্যাপক ভাবে। আর এটা এখন জেনে গেছে সবাই।

    আসাম পুলিশের প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত মহানির্দেশক হার্মিত সিং বলেন, ‘আমরা সামাজিক মাধ্যমে গত বছর থেকে প্রচার শুরু করেছি। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল আসাম পুলিশকে একটা নাগরিক-বন্ধু হিসাবে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন। সেখান থেকেই সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করা শুরু হয়। সরাসরি যাতে যোগাযোগ বাড়ানো যায় নাগরিকদের সঙ্গে। তাদের চাহিদা মতো পরিষেবা দেয়া যায়।’

    সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে ক্যাম্পেইন চালানোর শুরুটা অবশ্য হয়েছিল একটা দুর্ঘটনা দিয়ে। গতবছর যখন কার্বি আংলং জেলায় ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে দুজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়, সেই সময়ে আসাম পুলিশের এক কর্মকর্তার মনে হয় পুলিশ তো সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করতে পারে।

    আসাম পুলিশের ওই কর্মকর্তা ক্রিয়েটিভ কনসালট্যান্ট হিসাবে কর্মরত সালিক খান বলেন, ‘এ ধরনের ভুয়া খবর বা গুজব রোধ করতেই এটা শুরুর পরিকল্পনা করি। আমি সিংয়ের কাছে গিয়ে জানিয়েছিলাম ব্যাপারটা। তার মনে ধরে। তারপরই শুরু হয় নানান ক্যাম্পেইন। কখনও ভুয়ো খবর, কখনও মাদকবিরোধী প্রচার বা সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত।

    অবশ্য শুধু আসাম পুলিশ নয়, সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগের জন্য অনেকটা একই পদ্ধতি নিয়েছে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের পুলিশ বিভাগও। কেরালা এখন ভারতের পুলিশ বাহিনীগুলির মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এছাড়াও রয়েছে ব্যাঙ্গালুরু, মুম্বাই, পুনে, কলকাতা কিংবা দিল্লি পুলিশও।

    কলকাতার ট্রাফিক পুলিশ যেমন বেশ কয়েকবছর ধরেই হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানো বা গাড়ি চালানোর সময়ে মোবাইলে কথা না বলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছোট ছোট ছড়া কিংবা কার্টুনের মাধ্যমে দিতে শুরু করেছে।

    আবার কেরালা পুলিশ তাদের ফেসবুক পেজে প্রচুর মিমি ব্যবহার করে। সেগুলোতে যেমন থাকে জনপ্রিয় সিনেমার সংলাপ, তেমনই দেখা যায় জনপ্রিয় অভিনেতাদের চেহারাও। রীতিমতো পরীক্ষা দিয়ে বাঁছাই করা ৫ জন পুলিশ কর্মীই কেরালা পুলিশের অতি জনপ্রিয় ফেসবুক-টুইটার চালান।

    হার্মিত সিং বলছিলেন, ‘নাগরিকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলাটাই যেহেতু আমাদের মূল উদ্দেশ্য, তাই সামাজিক মাধ্যমে মানুষ যেভাবে কথা বলে, আমরা সেই ভাষায় লিখি বা সেরকম ছবি দিই।’

    পুলিশ বিভাগের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে মজার ছলে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করার বিষয়টা নজর এড়ায় নি জনসংযোগ বিশেষজ্ঞদেরও।

    পাবলিক রিলেশনস সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার কলকাতা চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান সৌম্যজিত মহাপাত্র বলছিলেন, ‘গল্পের ছলে, কিছুটা মজা করে লেখর মাধ্যমেই ডিজিটাল মিডিয়ায় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। যখন কোনও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে গুরুগম্ভীর কথা বলা হয়, সেগুলো মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়। জনসংযোগের ক্ষেত্রে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে হলে নতুন ভাবনা আনতেই হবে, যেটা বিভিন্ন পুলিশ বিভাগ শুরু করেছে।’

    পুলিশের ফেসবুক পেজগুলোতে নিয়মিত অভিযোগও জমা পড়ে হোক সেটা ট্রাফিক সংক্রান্ত কিংবা হোক আইন শৃঙ্খলা জনিত সমস্যা। সম্প্রতি প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ঊষসী সেনগুপ্তর গাড়ি চালকের ওপরে যখন কয়েকজন যুবক চড়াও তখনও এমনটা ঘটে।

    সেই ঘটনার ছোট্ট একটি ভিডিও দিয়ে ঊষসী সেনগুপ্ত কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পাতায় লিখেছিলেন হেনস্থার কথা। অনেক টালবাহানার পরে পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করলেও ততক্ষণে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্ট ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। তারপরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।

    হার্মিত সিং বলছিলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে দিয়ে আমরাও কিন্তু মাত্র ৫৭ মিনিটের মাথায় একটা গাড়ি চুরির ঘটনার সমাধান করতে পেরেছি। গাড়িটাও উদ্ধার হয়েছে, চোরেরাও গ্রেফতার হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছিল যখন একটি কিশোরীকে আত্মহত্যা করার আগেই আমরা উদ্ধার করতে পারি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আমাদের সতর্ক করার আধঘন্টার মধ্যেই পুলিশ গিয়ে ওই মেয়েটিকে বাঁচায়।’

    আসাম পুলিশের ক্রিয়েটিভ কনসালট্যান্ট সালিক খান জানালেন, শুধু অভিযোগ নয় অনেক তথ্যও পাওয়া যায় সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে। সেগুলোর জন্য অবশ্য প্রকাশ্যে সামাজিক মাধ্যম নয়, হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন নম্বর রয়েছে প্রায় সব পুলিশ বিভাগেরই।

  • বাংলাদেশকে সুখবর দিলো এশিয়ান হকি ফেডারেশন

    বাংলাদেশকে সুখবর দিলো এশিয়ান হকি ফেডারেশন

    বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নতুন কার্যনির্বহী কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় দৌঁড়-ঝাপ করছিলেন প্রথমবারের মতো এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়নন্স ট্রফির আয়োজক হতে।

    মে মাসের মাঝামাঝিতে হকি ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রশিদ শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক একেএম মমিনুল হক সাঈদ মালয়েশিয়া গিয়ে পরবর্তী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে এসেছিলেন।

    এশিয়ান হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা তৈয়ব ইকরাম মৌখিকভাবে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

    আজ (শনিবার) এশিয়ান হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের দুই সহ-সভাপতি আবদুর রশিদ শিকদার ও সাজেদ এ এ আদেল এশিয়ান হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটিরও সদস্য। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের এ দুই কর্মকর্তা।

    ‘বাংলাদেশ হকির জন্য দারুণ খবর। আমরা পরবর্তী এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং জুনিয়র এশিয়া কাপের আয়োজক হয়েছি’-সভা শেষে মালয়েশিয়া থেকে বলছিলেন আবদুর রশিদ শিকদার। আগামী আগস্টের মধ্যে এই দুটি টুর্নামেন্ট নিয়ে এশিয়ান হকি ফেডারেশন ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হবে।

    বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক হওয়া সহজ ছিল না। কারণ, ভারত ও ওমান ছিল আরো দুই প্রতিদ্বন্দ্বি। তবে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুর রশিদ শিকদারের সঙ্গে এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সুসম্পর্কটা কাজ দিয়েছে এই আয়োজক হওয়ার লড়াইয়ে।

    আগামী বছরের গোড়ার দিকে হবে এই টুর্নামেন্ট। তিন তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। আবদুর রশিদ শিকদার বলেছেন, ‘যেহেতু আগামী বছর অলিম্পিক গেমস আছে। তাই গেমস হকির প্রস্তুতি হিসেবে এই টুর্নামেন্ট কাজে লাগাবে এশিয়ার জায়ান্টরা।

    আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশও খেলবে এশিয়ার অন্যতম বড় ও মর্যাদার টুর্নামেন্ট। দুইবার এশিয়া কাপ আয়োজনের পর এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিই হবে ঢাকায় তৃতীয় বড় মর্যাদার কোনো হকি টুর্নামেন্ট।

    জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-২১) এশিয়া কাপও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজক হওয়ায় এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফাইনাল পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনাও থাকবে। আর ফাইনালে উঠতে পারলে সুযোগ পাবে পরের জুনিয়র ওয়ার্ল্ড কাপে খেলার।

  • রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানে একমত চীন

    রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানে একমত চীন

    রোহিঙ্গা সমস্যাকে আর ফেলে না রেখে এর দ্রুত সমাধান করার বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘একমত’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। শুক্রবার বিকালে বেইজিংয়ে দুই নেতার বৈঠকে এই ঐকমত্য হয়। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    তিনি বলে, দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, এটার দ্রুত সমাধান করতে হবে। এটাকে আর ফেলে রাখা যাবে না। দুই বছর হয়ে গেছে (প্রত্যাবাসন) চুক্তি হয়েছে। ওই ব্যাপারে কোনও দ্বিমত নেই এবং সমাধান কীভাবে হবে সে ব্যাপারেও দ্বিমত নেই যে এদেরকে (রোহিঙ্গা) তাদের দেশে (মিয়ানমারে) ফিরে যেতে হবে।

    নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে প্রায় দুই বছর ধরে। তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তার বাস্তবায়ন করেনি।

    এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ভার বয়ে চলা বাংলাদেশের সরকার মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন আগেই জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ প্রাধান্য পাবে।

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষামতাধারী চীন বরাবরই আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।

    তবে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে চীনের উদ্যোগী হওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরতে পারার মতো পরিবেশ তৈরিতে চীন মিয়ানমারকে রাজি করানোর পদক্ষেপ নেবে বলে লি খ্য ছিয়াং বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেন।

    এরপর শুক্রবার দুপুরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কিত মিনিস্টার সান তাও তাদের দলের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিকালে বেইজিংয়ের দিয়ায়োতাই স্টেট গেস্ট হাইজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শেখ হাসিনা। দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে সঙ্গে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়। পরে শি চিনপিংয়ের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেন শেখ হাসিনা।

    আলোচনার বিষয়ে জানাতে গিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ এখন ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এটা যে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে পরিবেশ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, এটা প্রধানমন্ত্রী চীনা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সেজন্য চায়নিজ সরকার ও প্রেসিডেন্টের গুডউইল আশা করছি আমরা। চীনের প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, চায়না আগেও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাথে কাজ করে যাচ্ছিল এবং এখনো কাজ করে যাবে। উনাদেরও উদ্দ্যেশ্য- যাতে রোহিঙ্গারা দ্রুত তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমারের যে মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের বিষয়টি দেখেন, তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করতে পারেন বলে চীন সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, হয়তো আরেকটা সম্ভাবনা দেখা দেবে। শি চিং পিংয়ের কিছু প্রশ্ন ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুন্দরভাবে সমস্যাটার বিভিন্ন অবয়ব তুলে ধরেছেন। তারা একমত হয়েছেন যে, দ্রুত এটার সমাধান করতে হবে।

    শহীদুল হক বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ এখন একত্রে কাজ করবে এবং তারাও মিয়ানমারের ওপরে তাদের গুডউইল ব্যবহার করবে। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি আছে যে, মিয়ানমারে ফিরে গেলে আবার তাদের ওপর অত্যাচার হতে পারে। সে কারণেই তারা ফিরতে আগ্রহী হচ্ছে না। এ বিষয়ে চীন যেন তাদের ‘গুডউইল’ ব্যবহার করে, সেই অনুরোধ তিনি শি চিন পিংকে করেন।

    জবাবে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরের মধ্যে আছে। ফলে ওই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার ‘সম্ভাবনা খুবই কম’ বলে তিনি মনে করেন।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনের পক্ষে যতটুকু সম্ভব সেই চেষ্টা তারা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। উনারা বলেছেন, চায়নার কাছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুজনেই বন্ধু। কেউ কম কেউ বেশি না, দুজনেই সমান বন্ধু। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চায়না দুজনের স্বার্থই দেখবে- এটা তিনি নিশ্চিত করেছেন।। শেখ হাসিনার সঙ্গে শি চিন পিংয়ের ‘সত্যিকারের বন্ধুত্ব’ অব্যাহত থাকবে বলেও বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

    শহীদুল হক বলেন, শি চিন পিং যখন নৈশভোজ শেষে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন উনি বলেছেন, পরস্পরের প্রতি আমরা সত্যিকারে বন্ধু হয়েই থাকব। এটা থেকে ওভারঅল দুই নেতৃত্বের মধ্যে যে সম্পর্ক, সেটা প্রকাশ পায়।

    বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ২০১৪ থেকে মোট তিন দফা এ দুই নেতার বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছেন।

    এবারের বৈঠকের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, একটা ডিফরেন্ট ইক্যুয়েশন এবং কেমিস্ট্রি প্রকাশ পেয়েছে। সেটা বিশেষ করে ডিনারের সময়, একটা ইনফরমাল সিটিংয়ে অত্যন্ত হৃদ্যতার সাথে আলোচনা হয়েছে। একইসাথে আমরা দেখেছি, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব ম্যাচিউরড ন্যারেটিভ এসেছে। যেমন শি চিন পিং বলেছেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। আমরা দুই প্রতিবেশীই উন্নয়নের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফেইজে আছি।

    শি চিন পিং বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশেরও চায়নার থেকে শেখার আছে। চায়নারও বাংরাদেশ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে এই উন্নয়নের। দুই নেতাই বারবার গুরুত্ব আরোপ করেছেন যে, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল জনগণের উন্নয়ন। শি চিন পিং বারবার বলেছেন, আমাদের কিছু অভিন্ন বোঝাপড়া আছে, এটা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লেভেলে। আমরা একে অন্যের প্রাধান্য, চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে পারি। পররাষ্ট্র সচিবের ভাষায়, এটাই একটি সম্পর্কের পরিপক্কতার অভিব্যক্তি। চায়না বলেছে যে, বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে চায়না সবসময় আছে এবং সবসময় থাকবে। দিনের পর দিন এটা আরো গভীর ও শক্তিশালী হবে। দুজনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সম্পর্ক যেন আরো উচ্চতায় যায় সেজন্য উনারা চেষ্টা করবেন।

    চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ ছাড়াও চারটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বাংলাদেশে চীনাদের আরও বিনিয়োগ করা উচিৎ বলে বৈঠকে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। চাইনিজ প্রেসিডেন্ট খুবই সেনসেটিভভাবে এই জিনিসটা গ্রহণ করেছেন এবং উনি বলেছেন, আমরা এ ব্যাপারে অবগত। আমরা সব ধরনের চেষ্টা করব, যাতে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসে।

    ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপন এবং তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহায়তা চান শেখ হাসিনা। জবাবে শি চিন পিং বিষয়গুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

    চীনের জন্য বাংলাদেশে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হয়েছে জানিয়ে অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চলেও চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য চীনের বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছেন।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ২০১৬ সালে শি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় যে ২৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল সেগুলোর বাস্তবায়ন তরান্বিত করা এবং ঋণের শর্তগুলো ‘একটু সহজ’ করার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। দুই নেতাই জাতিসংঘে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। বিসিআইএম করিডোরের ওপর খুব গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলেছেন, ইন্ডিয়ার সাথে যৌথভাবে কাজ করে বিসিআইএম করিডোরটা জীবন্ত করতে হবে। তাতে বাংলাদেশ, চায়না, ইন্ডিয়া ও মিয়ানমারের জন্য নতুন একটা বাজার উন্মোচিত হবে।

    বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমও এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজের পর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরাও বৈঠক করেন। সেখানেও রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম এবং চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ফাইনালে পেরুকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ব্রাজিল

    ফাইনালে পেরুকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ব্রাজিল

    গ্রুপ পর্বে ৫ গোল খাওয়া পেরু ফাইনালের প্রতিপক্ষ। মারাকানার ফাইনালেও পেরু উড়ে যাবে ভেবে ব্রাজিলের সমর্থকরা হয়তো হাওয়ায় উড়ছেন। হলুদ সমর্থকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরেকটি গোল উৎসবের। তবে সমর্থকরা যতই উড়তে থাকুন, ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা ফাইনাল নিয়ে খুবই সতর্ক। তারা কিছুতেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না পেরুকে।

    ২২ জুন সাও পাওলোতে পেরুকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়া ম্যাচের প্রথম গোলদাতা মিডফিল্ডার কাসিমিরো ফাইনালে গোলোৎসবের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে পেরুকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবেই বিবেচনা করছেন। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা মিডফিল্ডার বলেছেন,‘এটা ফাইনাল। এমন ম্যাচে আমরা গোল উৎসব করতে পারবো, সেটা আশা করি না। তবে আমরা আশাবাদী ম্যাচটি জিততে পারবো। সেটা হয়তো সহজ হবে না। কারণ, ফাইনালে আমাদের মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে পেরু।

    ‘আমরা পেরুর সঙ্গে একটি ম্যাচ খেলেছি। তখন ছিল এক অবস্থা। এখন ভিন্ন। সেটা ছিল সাও পাওলোর মাঠ, এটা মারাকানা। পেরু জিততে চাইবে। ম্যাচটিকে এক্সট্রা টাইমে নিতে চাইবে। এমন কি টাইব্রেকারে। আমরাও জিততে চাইবো। তাই ভালো একটা ম্যাচ হবে আশা করি। আমাদের চোখ থাকবে ভালো পারফরম্যান্স করা, গোল করা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া’-বলেছেন কাসিমিরো।

    দলের সেন্টারব্যাক মার্কুইনহাস এই ম্যাচ নিয়ে বলেন,‘মারাকানায় আমাদের বিরুদ্ধে পেরু আরো ভালো খেলার প্রত্যাশার কথা বলেছে। তারা সে চেষ্টা করবে। আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে ফাইনালে অনেক কিছু করার আছে। কারণ, ফাইনাল মানেই অন্যরকম এক ম্যাচ। পেরু সেমিফাইনালে চিলিকে উড়িয়ে দিয়ে অন্যরকম দলে পরিণত হয়েছে। গ্রুপ পর্বের পেরু আর ফাইনালের পেরু আলাদাই হবে।

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিল ও পেরু এ পর্যন্ত ৪৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। ব্রাজিল জিতেছে ৩২ বার, পেরু ৪ বার। ড্র হয়েছে ৯ টি ম্যাচ। এর আগের কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল পেরু।

  • ক্ষমা চাইলো ফেসবুক কর্তৃপক্ষ

    ক্ষমা চাইলো ফেসবুক কর্তৃপক্ষ

    একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমস্যার বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুক। বুধবার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে সমস্যা হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে এক বার্তায় ক্ষমা চায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

    বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বুধবার দুপুরের পর থেকে ফেসবুকে সমস্যার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ছবি শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদেরও সম্যায় পড়তে হয়।

    ফেসবুকের এই বিভ্রান্তি সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ব্যবহারকারীদের। তবে এদিন বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহার করা গেলও তা ছিল খুবই ধীর গতির। রাত পৌনে নয়টা থেকে বাংলাদেশে সমস্যা বেশি দেখা দেয়। প্রায় ৩৯ শতাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারী লগইন করার সময় সমস্যায় পড়তে হয়।

    ফেসবুক বলছে, ফেসবুকে ছবি, ভিডিও আপলোড এবং এগুলো পাঠাতে সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এজন্য আমরা ক্ষমা চাচ্ছি। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ফেসবুক দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

  • কমে আসছে পৃথিবীর আয়ু, মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত দিলেন বিজ্ঞানীরা

    কমে আসছে পৃথিবীর আয়ু, মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত দিলেন বিজ্ঞানীরা

    বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের জীবাশ্ম দেখে অনুমান করেছেন যে, পৃথিবীর বয়স প্রায় ৩.৫ বিলিয়ান হয়েছে, এবং এর ফলেই পৃথিবী বারবার নানারকম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এমনকি গবেষণার মাধ্যমে এটাও জানা গেছে যে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে মানুষের জীবন প্রায় ২৫ মিলিয়ান বছর কমিয়ে দেবে ৷ এবং ২৫ মিলিয়ন বছরের পরে যে ৮৫ শতাংশ প্রাণ বিনষ্ট হয়েছে, তাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ প্রভাব বাস্তুতন্ত্রের উপরেও পড়ে বলে মনে করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    তৃতীয় কারণটি হলো, বর্তমানে পৃথিবীতে যে ভাবে দূষণের হার বেড়ে যাচ্ছে সেটাও একটা প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা যেতে পারে, তবে এর কোনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এই দূষণ স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক ৷ তবে হ্যাঁ, এটাও মনে করা হচ্ছে যদি কখনো পৃথিবীর গতি কখনও স্তব্ধ হয়ে যায় তবে এই রকমের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অভিমুখ বদল হতে পারে বলেও জানা গেছে, যা ভূমধ্যসাগরীয় এলাকার বিভিন্ন অভিমুখের দিকে ঘন্টায় প্রায় ১৬৭০ কিমি বেগে রওনা দেবে, এবং তার ফলে সূর্য এক বছর ধরে ২৪ ঘণ্টা, ৩৬৫ দিন ধরে এক এক জায়গা সম্পূর্ণ দিন থাকবে আর কোনও কোনও জায়গায় সবসময় রাত থাকবে ৷

    চতুর্থ কারণটি হলো বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, বিভিন্ন রকমের যে ক্ষতিকারক গামা রশ্মি পৃথিবী থেকে নির্গত হয়ে থাকে, তা সারা বিশ্বজুড়ে এমনই বিপত্তি দেখা দিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এবং যার ফলে সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থানগত পার্থক্য ফলে ক্রমশই পৃথিবীর আয়ু কমিয়ে নিয়ে আসছে, যা প্রতিনিয়ত ধ্বংসের ফলে পৃথিবীর আয়ু আগামী এক মিলিয়ন বছরে আয়ু কমে আসবে বলেও জানা গেছে৷

    প্রতি বছরই আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে সূর্যের তাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে, যার ফলে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, এমনকি এটাও মনে করা হয় যে পৃথিবীতে অনেক ছোট ছোট গ্রহ রয়েছে, এমনকি এই ছোট ছোট গ্রহ বা গ্রহানুপুঞ্জ এক সময় এই একই ভাবে পৃথিবীকে ধ্বংস করবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷