Category: আন্তর্জাতিক

  • সেই আফগান সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে পাকিস্তান

    সেই আফগান সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে পাকিস্তান

    বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচে শনিবার আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিলো পাকিস্তান। পুরো আসরজুড়ে ধুঁকতে থাকা আফগানিস্তান যেন হঠাৎই ফিরে পেয়েছিল নিজেদের। পাকিস্তানকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিলো তারা। কিন্তু ডেথ ওভারে ভালো বোলিং করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হেরে যায় আফগানরা।

    আগে ব্যাট করে ২২৭ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। জবাব দিতে নেমে বেশ বিপাকেই পড়ে গিয়েছিলো পাকিস্তান। ১৫৬ রান করতেই সাজঘরে ফিরেন ৬ পাক ব্যাটসম্যান। কিন্তু শেষপর্যন্ত অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিমের ৫৪ বলে ৪৯ রানের দৃঢ়তায় জয়ের বন্দরে পৌঁছায় সরফরাজ আহমেদের দল।

    পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ বল বাকি থাকতে তিন উইকেটে হারের দিনে আফগান সমর্থকরা ঘটিয়েছিলো অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা। পাক সমর্থকদের সঙ্গে মাঠেই বেশ কয়েকবার হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে আফগান সমর্থকরা। গ্যালারিতে পাকিস্তানি সমর্থকদের উপর চড়াও হয়ে উঠেন তারা।

    কয়েকজন বিশৃঙ্খলাকারী প্রবেশ করেছিলেন মাঠেও। যাতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে আইসিসি। যে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

    কেবল আইসিসিই নয় ঐ ঘটনায় আফগান সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে পাকিস্তান সরকারও। এক টুইট বার্তায় এমন তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তানের বিখ্যাত ডন পত্রিকার সাংবাদিক আব্দুল গাফফার।

    তিনি লিখেন, ‘পাকিস্তান-আফগানিস্তান ম্যাচের সময় আফগান সমর্থকদের খারাপ ব্যবহারের ব্যাপারে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং খেলাধুলাকে তারা রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। আইসিসিও মাঠের ঘটনা ও বাতাসে ভেসে আসা রাজনৈতিক বার্তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

  • আকাশে উড়বে বিশ্বের প্রথম ৫ সিটের ট্যাক্সি

    আকাশে উড়বে বিশ্বের প্রথম ৫ সিটের ট্যাক্সি

    যত দিন পার হচ্ছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তি আরও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিকতার এই যুগে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নানা উদ্ভাবন দিয়ে আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলছে। সেই ধারাবাহিতায় বিজায় রেখে এবার এমন ট্যাক্সি আসছে যা উড়তে সক্ষম। জার্মানির একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান এমন ট্যাক্সি প্রস্তুত করছে। এ ট্যাক্সিতে আসন সংখ্যা ৫টি। এ ধরনের ট্যাক্সি এটাই বিশ্বে প্রথম।

    জার্মান এই প্রতিষ্ঠানটির নাম লিলিয়াম এবং এই কোম্পানি মূলত এয়ার ট্যাক্সি নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত মে মাসের প্রথম দিক থেকে তারা স্বয়ংক্রিয় ভাবে উড়তে পারবে এমন ট্যাক্সি নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এটি সফলভাবে উড়তে সক্ষম হয় এবং কিছুক্ষণ আকাশে ভেসে থাকার পর নিরাপদ ভাবে অবতরণ করে।

    লিলিয়াম জানায়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে সক্ষম এই ট্যাক্সি। এতে ইলেকট্রিক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই ট্যাক্সিতে পাঁচটি আসন থাকবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ পাঁচজন এতে যাত্রী হিসেবে উঠতে পারবেন। এটা ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম।
    নিজেদের এই উদ্ভাবন সম্পর্কে লিলিয়ামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল উগেন্ড বলেন, এই এয়ার ট্যাক্সিটিতে ৩৬টি ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত এগুলোর সাহায্যেই এটি উড্ডয়ন ও অবতরণ করে। একবার চার্জে ট্যাক্সিটি ৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম। বড় পরিসরে এই ট্যাক্সি উৎপাদনের কাজ তারা ২০২০ সালের মধ্যেই শুরু করবে।

  • চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ, ভিসা ছাড়াই ইরানে যেতে পারবেন চীনারা

    চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ, ভিসা ছাড়াই ইরানে যেতে পারবেন চীনারা

    চীনা পর্যটকদের জন্য নতুন আইন পাস করলো ইরান। নতুন এই আইনে চীনা নাগরিকদের জন্য অবাধ ভ্রমণের নিশ্চয়তা দিল দেশটি। এখন থেকে ভিসা ছাড়াই ইরানে সফর করার সুবিধা পাবেন চীনের নাগরিকরা। খবর রেডিও ফারদা’র।

    এ আইন অনুযায়ী, ইরান সফরের ক্ষেত্রে চীনা পর্যটকদেরকে ভিসা সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হবে না।

    শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্টের দফতরের জনসংযোগ কার্যালয় এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সরকারকে এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। ভিসামুক্ত সুবিধা দেওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে- ইরানে চীনা ব্যবসায়ী ও পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে।

    অবশ্য অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ইরান এবং চীন এ দুটি দেশের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ কারণেই হয়তো চীনের সঙ্গে সম্পর্কের দৃঢ়তা বোঝাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে ইরান সরকার।

  • ইরানে তেল কারখানায় আগুন

    ইরানে তেল কারখানায় আগুন

    ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশের ফারামান বাণিজ্যিক এলাকায় একটি তেল প্রক্রিয়াজাত কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।

    ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৪ টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার পরপরই অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকর্মীদেরকে ফ্যাক্টরিতে মোতায়েন করা হয়।

    তেলের উপকরণ প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাটি কারমেনশাহ প্রদেশের ফারমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থিত।

    কারমেনহ এবং নিকটবর্তী শহরগুলি থেকে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং দমকল বাহিনীর কয়েকটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

    কী কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায় নি। তবে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ এবং এখন জ্বলছে।

  • দেশে পৌঁছালো বাবা-মেয়ের নিথর দেহ

    দেশে পৌঁছালো বাবা-মেয়ের নিথর দেহ

    যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পথে নদীতে ডুবে প্রাণ হারানো এল সালভাদরের নাগরিক অস্কার মার্টিনেজ রামিরেজ (২৫) ও তার ২৩ মাস বয়সী মেয়ে ভ্যালেরিয়ার মরদেহ নিজ দেশে পৌঁছেছে।

    রোববার (৩০ জুন) বাবা-মেয়ের প্রাণহীন দেহ দু’টি মেক্সিকো থেকে গুয়েতেমালা দিয়ে এল সালভাদরের লা হাচাদুরা শহরে পৌঁছায়। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন সালভাদোরান মন্ত্রী মারিও দুরান।

    একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার আশায় স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন অস্কার। আদরের কন্যাকে পিঠে নিয়ে সাঁতরে যুক্তরাষ্ট্র যেতে চেয়েছিলেন তিনি।। কিন্তু, স্বপ্নপূরণ হয়নি। খরস্রোতা রিও গ্রান্দে নদীতেই প্রাণ গেছে বাবা-মেয়ের। কোনোমতে বেঁচে গেছেন স্ত্রী তানিয়া। এমনই দুর্ভাগ্য, স্বামী-সন্তান নদীর পানিতে ভেসে যাওয়ার দৃশ্য তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না তার।

    গত ২৩ জুন টেক্সাসের কাছে ব্রাউনসভিল শহরের কাছে ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা। বাবা-মেয়ের মরদেহের করুণ দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই এ ঘটনার জন্য সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিধি-নিষেধকে দায়ী করেছেন।

    এ ঘটনায় গোটা দেশ শোকাচ্ছন্ন বলে জানিয়েছেন এল সালভাদরের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিগুয়েল মন্টেনেগ্রো। তার আশঙ্কা, মানুষ এখনো দারিদ্র্য-দুর্দশা থেকে বাঁচার আশায় দেশ ছাড়তে আগ্রহী। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এ ধারা চলতেই থাকবে।

  • হংকংয়ে সরকারি সদর দপ্তরের দখল নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা

    হংকংয়ে সরকারি সদর দপ্তরের দখল নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা

    হংকংয়ে পুলিশি প্রতিরোধ ভেঙে সরকারের সদর দপ্তরে ঢুকে পড়েছে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এর আগে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ মরিচের গুঁড়ো ছিটায় এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। সিএনএন।

    সোমবার হংকং’কে চীনের কাছে হস্তান্তরের বার্ষির্কী পালন উপলক্ষে গণতন্ত্রপন্থী বিশাল এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

    এ সময় তারা বিভিন্ন রাস্তা দখল করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

    বিক্ষোভকারীদের ছোট একটি গ্রুপ জনগণের যাতায়াতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখল করার পর সোমবার হংকংয়ে আবারো চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    এ গ্রুপের অধিকাংশই যুবক ও মুখোশ পরা ছিল।আধা-স্বায়ত্তশাসিত এ নগরীতে বিগত তিন সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এসব বিক্ষোভ থেকে হংকং’কে চীনের মূল ভূখন্ডের সঙ্গে একীভূত করার সুযোগ দেবে এমন আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে।

    নগরীর অ্যাডমিরাল্টি ও ওয়ানচাই এলাকার রাস্তা দখল করে থাকা এসব বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের মাথায় হেলমেট ও হাতে ঢাল ছিল।

    এএফপি’র এক প্রতিবেদক ঘটনাস্থল থেকে জানান, হস্তান্তর বার্ষিকী পালন উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের স্বল্প সময় আগে পুলিশ রাস্তা অবরোধ করে থাকা বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়।

    এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে গেলে এক নারী বিক্ষোভকারী আহত হয়। পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত ওই নারীর মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।

    হংকংয়ের বেইজিংপন্থী নেতাদের সহযোগিতায় এখানকার স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির ওপর চীনের নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানাতেই এসব বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং ব্রিটেনের হাত থেকে চীনা শাসনে ফিরে গেলেও একটি বিশেষ বন্দোবস্তের আওতায় নগরীটি এখনো পৃথকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত।

  • ভারতে সরকারি বৈঠকে ফাস্টফুড নিষিদ্ধ, কারণ কি?

    ভারতে সরকারি বৈঠকে ফাস্টফুড নিষিদ্ধ, কারণ কি?

    এখন থেকে ভারতে সরকারি কোনো বৈঠক বা আলোচনাচক্রে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার পরিবেশন করা যাবে না। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

    এই নির্দেশের ফলে, এখন থেকে সরকারি বৈঠকে ফাস্টফুড জাতীয় চাউমিন, কেক, বিস্কুটের মতো খাবার দেওয়া চলবে না। তার পরিবর্তে চায়ের সঙ্গে মিলবে শুধু বাদাম, আখরোট, চানা ভাজা বা খেজুর জাতীয় স্বাস্থ্যকর খাবার।

    ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্যবর্ধন এক নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুড জাতীয় খাবার শরীরের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর। এসব খাবার শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়; যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে রক্তচাপের সমস্যার কারণ হয়ে দেখা দেয়। সেই কারণেই ফাস্টফুড বাদ দিয়ে দেশীয় খাবার যুক্ত করা হয়েছে।

    এতোদিন ধরে ভারতের সরকারি বৈঠকগুলোতে চায়ের সঙ্গে বিস্কুট, কুকিজ জাতীয় খাবার দেওয়ার প্রচলন ছিলো। আবার কখনও কখনও বৈঠকে চাউমিন, এগরোল জাতীয় ফাস্টফুড খাবার খেতে চাইতেন খোদ নেতা-মন্ত্রীরাই। এখন তাদের এই রসনাবিলাসে কিছুটা বাধা পড়লো।

  • জলবায়ু বিষয়ে জাপান-বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে

    জলবায়ু বিষয়ে জাপান-বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে

    কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা, টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠে পানি সম্পদ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন, দ্য বেঙ্গল ডেল্টা ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রলিক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্স ইনস্টিটিউটের মতো স্টেট অব দ্য আর্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে জাপান ও বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

    রোববার সকালে জাপানের পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মিনোরো কিউচি সচিবালয়ে বাংলাদেশের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে উভয় প্রতিমন্ত্রী ওই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।

    পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও তার প্রভাব মোকাবিলায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছি। যেহেতু বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এবং পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী এবং তাদের উপ ও শাখা নদীর সম্মিলিত সবচেয়ে বড় ‘ডেল্টয়িক প্লেইন’-এর নিম্ন অববাহিকায় বাংলাদেশ অবস্থিত, তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও বাংলাদেশে মারাত্মক।

    জাহিদ ফারুক বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে এ ধরনের বেশ কিছু দুর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবিলাও করেছে। আমাদের সরকার দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ জনগোষ্ঠী সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

    জাপানকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের ‘পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার’ অভিহিত করে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এ সময় বাংলাদেশের পানিসম্পদ উন্নয়নের সংশ্লিষ্ট সব সেক্টরে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

    জবাবে জাপানি প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য ফলপ্রসূ যেকোনো উদ্যোগে অতীতের মতো তাঁর দেশ পাশে থাকবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

    এ সময় জাপানি প্রতিমন্ত্রী মিনোরো কিউচি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন ও প্রশমনে দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রশস্ত করতে পারলে জাপান আনন্দিত হবে বলেও উল্লেখ করেন।

    টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিশ্চিতকরণে জাপান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও এ সময় জাপানি প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

    জাপানি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল এই আলোচনায় অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে জাপানি প্রতিমন্ত্রীর সচিব হিরোআকি মুরাই, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ব্যুরোর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্রাটেজি ডিভিশনের পরিচালক ফুমিও ইতো, ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অফিসের সেকশন চিফ হিশাতো হায়াসাকা, ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অফিসের গবেষক মাহোয়ো ইয়ামামোতো, বাংলাদেশে জাপানের কাউন্সেলর ইয়াশুহারো শিনতো এবং বাংলাদেশে জাপানের দ্বিতীয় সচিব মাশাতোশি হিগোচি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল ইসলাম এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব নূর আলম উক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

  • ভারতীয় মিডিয়ায়ও কোহলিদের হার নিয়ে ‘হায় হায়’ রব

    ভারতীয় মিডিয়ায়ও কোহলিদের হার নিয়ে ‘হায় হায়’ রব

    হার্দিক পান্ডিয়া ফেরার সময় ৪৪.৫ ওভারে ভারতের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ২৬৭। এরপর বাকি ৩১ বলে ভারতের ইনিংসে থাকলো সাতটি ডট বল, ২০টা সিঙ্গেলস, তিনটি বাউন্ডারি এবং একটি ছক্কা! মহেন্দ্র সিং ধোনি এমন এক সময়ে এসে ছক্কাটি মারলেন, যখন হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

    শেষ পর্যন্ত ৩১ রানে হার। ভারের এমন স্লো ব্যাটিংয়ের কোনো ব্যাখ্যাই খুঁজে পাচ্ছেন না সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি মনে করেন, ৩০০ রানের মধ্যে ভারত যদি অলআউট হয়ে যেতো তাহলে এত প্রশ্ন তৈরি হতো না কিংবা এত আফসোসও লাগতো না।

    কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোববার ভারতের হারের ধরণ এবং তাদের জিততে না চাওয়ার মানসিকতা নিয়েই এখন ‘হায় হায়’ রব উঠে গেছে খোদ ভারতীয় মিডিয়ায়ও। কলকাতার আনন্দবাজার গ্রুপের অন্যতম পত্রিকা এই সময়ে ব্যানার শিরোনাম, ‘হারের মধ্যে বহু প্রশ্ন।’ সেখানেই তারা লিখে দিয়েছে, ‘একটা করে সিঙ্গেলস নিচ্ছিলেন তিনি (ধোনি) আর গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল, হায় হায়!’

    এই সময় লিখেছে, হার্দিক ফেরার পরে কি কারণে ৪৫ নম্বর ওভার থেকেই হঠাৎই সিঙ্গেলস নেওয়ার রাস্তায় চলে গেলেন ধোনি আর কেদার, তার ব্যাখ্যা ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও গোটা দেশের মতো খুঁজছে এজবাস্টনের গ্যালার। হার-জিতের ব্যবধান মাত্র ৩১ রানের বলেই প্রশ্নটা কোটি টাকার। এই প্রথম একটা ৩০০ প্লাস স্কোর তাড়া করতে হল আর সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ল টিম ইন্ডিয়া!

    হার্দিক ফেরার পরে পাঁচ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৭১ রান। ক্রিজে ধোনি, সঙ্গে আইপিএলে তার চেন্নাই সুপার কিংসে খেলা সতীর্থ কেদার যাদব। আইপিএলের যুগে পাঁচ ওভারে ৭১ খুব হয়। সেখানে রান তাড়া করে ফিনিশ দূরের কথা, বিগ শটই বেরুলো না ধোনির ব্যাট থেকে। কেদার যাদবও একইভাবে খেললেন। বিগ শট বেরুলো না। একটা ম্যাচে হারতেই পারে যে কোনো দল; কিন্তু শেষ দিকে বিগ শট মারা অনীহায় বিরক্ত গ্যালারি আওয়াজ তুলল, ‘হায় হায় ধোনি!’ ক্রমাগত সিঙ্গেলস নিয়ে ম্যাচকে মেরে ফেলার অর্থ কি? সেই প্রশ্নে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়াও।

    তাহলে কি হার্দিক পান্ডিয়া ফিরতেই ধোনি-কেদার ধরে নিয়েছিলেন, আর জেতার চেষ্টা করারই দরকার নেই? এজবাস্টনের ছোট মাঠে ইংল্যান্ড ইনিংসে আছে ১৩টা ছক্কা, সেখানে ভারতের ৫০ ওভারে মাত্র একটা! সেটাও ম্যাচ একেবারে মরে যাওয়ার পরে শেষ ওভারে মেরেছেন ধোনি। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, জেতার চেষ্টাটা থাকবে না কেন? হার্দিক (৩৩ বলে ৪৫) যতক্ষণ ছিলেন, ম্যাচে ভালো ভাবেই ছিল ভারত। কিন্তু তার পরেই ধোনি-কেদার জুটির ব্যাখ্যাহীন স্লো ব্যাটিং।’

    India-team

    এই সময়ের সেই রিপোর্টের শেষ দিকে কিন্তু ভারতকে সতর্ক করে দেয়া বাণী, ‘কী দাঁড়াল? কাল (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ম্যাচ না জিতলে সেমিফাইনালের রাস্তা ফের দুর্গম দেখাবে ভারতের!’

    কলকাতার আরেক বিখ্যাত পত্রিকা আনন্দবাজার শিরোনামই করেছে, ‘বিস্ময় ব্যাটিংয়ে ধিক্কার জুটলো ভারতের।’ সুমিত ঘোষ নামে আনন্দবাজারের রিপোর্টার শুরুতেই লিখলেন, ‘এক-এক সময় এমনই উদ্ভট দেখাচ্ছিল ধোনি এবং কেদারের ব্যাটিং যে, নিজের গায়েই চিমটি কেটে দেখতে ইচ্ছে করছিল, সত্যিই লাইভ ম্যাচ হচ্ছে তো? নাকি কোনও ম্যাচের শুটিং?’

    সুমিত ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, ‘ধরা যাক বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ৩০ বলে ৬০ করতে হবে। কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। ক্রিজে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। যাকে ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ‘ফিনিশার’ বলা হয়। সঙ্গী কেদার যাদব। ভারত জিতবে? রবিবাসরীয় এজবাস্টনে যা দেখা গেল, এই অন্তিম প্রশ্নেরও আগে একটা প্রশ্ন এসে গিয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি- ধোনি এবং কেদার জেতার চেষ্টা করবেন তো?’

    পরক্ষণেই তিনি লিখলেন, ‘প্রত্যেক ওভারে যখন দরকার ১২ বা ১৩ রান করে, তখন তারা খুচরো রান নিয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় হিট হবে কি, চেষ্টাই তো নেই। শেষের আধ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারের মতো হওয়ার কথা ছিল। হয়ে দাঁড়াল ফ্লপ ছবি। হয়তো বলা হবে, নেট রানরেট ঠিক রাখতে সাবধানি ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ধোনিরা। কিন্তু পাঁচ উইকেট হাতে নিয়েও এমন ব্যাটিংয়ের যা ব্যাখ্যাই দেওয়া হোক, ক্রিকেট ভক্তদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন।’

    আনন্দবাজারে কলাম লেখা সম্বরণ বন্দোপাধ্যয় প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঠিক কী পরিকল্পনা ছিল, স্পষ্ট হলো না।’ ভারতের এমন ব্যাটিং দেখে বিস্ময়ে বিস্মিত হয়ে গেছেন কিংবদন্তী ইংলিশ ফুটবলার গ্যারি লিনেকার, সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনুস এবং শোয়ব আখতাররাও।

  • বাংলাদেশের বিপক্ষেই সুযোগ পাচ্ছেন জাদেজা

    বাংলাদেশের বিপক্ষেই সুযোগ পাচ্ছেন জাদেজা

    গতকাল (রোববার) ইংল্যান্ড-ভারত ম্যাচের ফলাফল কঠিন করে দিয়েছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার রাস্তা। এখন বাকি থাকা দুই ম্যাচে জয় ছাড়া কোন বিকল্প নেই টাইগারদের হাতে। তার ওপর চেয়ে থাকতে হবে অনেক সমীকরণের উপর।

    বার্মিংহামে গত ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ৩১ রানে হারের পর কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে ভারত। কেননা আসরে অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতাটা অব্যাহত রাখতে পারেনি তারা।

    সেই একই মাঠে আবার আগামীকাল (মঙ্গলবার) বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিরাট কোহলির দল। আর সেই ম্যাচে দলের একাদশে পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন ভারতের ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে খুব একটা ভালো পারফরমেন্স করতে পারেননি ভারতের দুই লেগ স্পিনার ইয়ুজবেন্দ্র চাহাল ও কুলদ্বিপ যাদব। দুজনে মিলে ২০ ওভার করে মোট ১৬০ রান দিয়ে উইকেট তুলতে পেরেছেন মাত্র একটি।

    তাই তাদের এই খারাপ পারফরমেন্সে কপাল খুলতে যাচ্ছে বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার। বাংলাদেশ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার বলেন, ‘আগামী ম্যাচে বিভিন্ন কম্বিনেশন নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছি আমরা। উইকেট এবং মাঠের সাইজের ব্যাপারটা নজরে থাকবে, যে কারণে এই ম্যাচে রবীন্দ্র জাদেজাকে সুযোগ দিতে পারি আমরা।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের জন্য মাঠের সাইজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। যে কারণে ম্যাচের মধ্যে অনেকগুলো ভুল করে ফেলেছেন তারা। এবার সেই ভুল গুলোকে শুধরে বাংলাদেশের বিপক্ষে নামতে চান সঞ্জয় বাঙ্গার।

    তিনি বলেন, ‘উইকেট ও মাঠের সাইজ সম্পর্কে আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে ভুলগুলো করেছি তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করব। সেগুলো চিহ্নিত করে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরো ভালো খেলার চেষ্টা করব।