Category: আন্তর্জাতিক

  • জাদেজার দুর্দান্ত ক্যাচ এবং বেয়ারেস্টর দ্রুত গতির সেঞ্চুরি

    জাদেজার দুর্দান্ত ক্যাচ এবং বেয়ারেস্টর দ্রুত গতির সেঞ্চুরি

    দুই ওপেনারের ব্যাটে যেন টর্নেডো বয়ে যাচ্ছিল ভারতীয় বোলারদের ওপর। মাত্র ২২ ওভারেই ১৬০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন দুই ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় এবং জনি বেয়ারেস্ট। একের পর এক বোলার ব্যবহার করেও এই জুটি ভাঙতে পারছিলেন না ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

    ২৩তম ওভারের প্রথম বলে গিয়ে শেষ পর্যন্ত জুটি ভাঙতে পারলেন কুলদিপ যাদব। তবে এ ক্ষেত্রে বোলার কুলদিপের চেয়ে ফিল্ডার রবীন্দ্র জাদেজার কৃতিত্বই সবচেয়ে বেশি। দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে ক্যাচটি তালুবন্দী করে নেন জাদেজা। ৫৭ বলে ৬৬ রান করে ফিরে যান জেসন রয়। ৭টি বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি ছক্কার মার মারেন তিনি।

    রয় আউট হয়ে গেলেও অন্য প্রান্তে ঠিকই নিজের তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছেন অপর ওপেনার জনি বেয়ারেস্ট। ভারতীয় বোলারদের চারদিকে পিটিয়ে ৯০ বলেই পূরণ করে ফেলেন নিজের ক্যারিয়ারের ৮ম সেঞ্চুরি। ৮ বাউন্ডারি এবং ৪ ছক্কায় তিনি সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান।

    এ রিপোর্ট লেখার সময় ইংল্যান্ডের রান ২৭ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ১৯১। জনি বেয়ারেস্ট ১০৮ এবং জো রুট ব্যাট করছেন ১২ রান নিয়ে।

    India.jpg

    আগের দুই ম্যাচে টানা হারের কারণে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাটাই বলতে গেলে শেষ হয়ে গিয়েছিল। শেষ দুই ম্যাচে কঠিন প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে ইংলিশদের শেষটাই দেখে ফেলেছেন অনেকে। কিন্তু এজবাস্টনে আজ বিরাট কোহলিদের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের সূচনা দেখে মনে হচ্ছে বিশ্বকাপটা তাদের জন্যই।

    টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান। দলে ফেরানো হয় ইনজুরিমুক্ত ওপেনার জেসন রয়কে। জনি বেয়ারেস্টকে নিয়ে ইংল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন জেসন রয়।

    দুই ওপেনার মিলেই যেভাবে ব্যাট করে যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে রান নিশ্চিত ৩৫০ পেরিয়ে যাবে। মাত্র ১৫.৩ ওভারেই (৯৩ বল) দলীয় ১০০ রান পূরণ করেন বেয়ারেস্ট এবং জেসন রয়। দ্বিতীয় উইকেটেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে তারা।

  • আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় ২৫ সেনা নিহত

    আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় ২৫ সেনা নিহত

    আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ বাঘলানে তালেবান হামলায় কমপক্ষে ২৫ সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো আটজন।

    আজ শনিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জেলা প্রধান ফজলেলুদ্দিন মুরাদি সংবাদমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার স্থানীয় নাহরীন এলাকায় সরকার সমর্থিত বাহিনীর সদস্যদের ওপর বিদ্রোহীরা আক্রমণ চালায়। যা প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। এতে আটজনের মতো আহত হন।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

    দীর্ঘদিন ধরে নানা অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে আফগানিস্তানকে। এখনও দেশটির কোনো কোনো অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

  • বড় ভাই ধোনিকে আগলে রাখলেন কোহলি

    বড় ভাই ধোনিকে আগলে রাখলেন কোহলি

    তাদের নিয়ে অনেক কথা, অনেক গুঞ্জন। শোনা যায়, দুজনের মধ্যে নাকি সম্পর্ক ভালোনা। একজন আরেকজনকে দেখতেও পারেন না। ভিতরে ভিতরে ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে।

    তো বিরাট কোহলি আর মহেন্দ্র সিং ধোনির মধ্যে সম্পর্ক কতটা শীতল ? সত্যিই তারা একজন আরেকজনকে অপছন্দ করেন কিনা? তা জানার আগ্রহ যাদের খুব বেশি, তাদের জন্য আছে গরম খবর। আজ বার্মিংহামের এজবাস্টনে ভারত অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনে প্রমাণ হলো সাবেক অধিনায়ক ধোনির সঙ্গে তার ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব নেই মোটেও। যদি থেকে থাকেও তবে সেটা একদম ভেতরে ভেতরে। যার বাহ্যিক প্রকাশ নেই একটুও। আর তাই দলে ধোনির অবদান তথা এখনকার মন্থর ব্যাটিং ও স্ট্রাইকরেট নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ধোনির পাশে দাঁড়ালেন বিরাট কোহলি।

    লম্বা চওরা প্রায় ১৫-১৬ মিনিটের প্রেস মিটে অনেক কথা ও প্রশ্নর ভিড়ে এক ভারতীয় সাংবাদিক মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিং বিশেষ করে তার সাম্প্রতিক স্ট্রাইকরেট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নানারকম উপমা আর উদাহরন টেনে প্রশ্নটা সাজানো হলো, ‘আচ্ছা বিরাট অনেক ক্রিকেটার বিশেষ করে সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই মহেন্দ্র সিং ধোনির সাম্প্রতিক শ্লথ গতির ব্যাটিং, বিশেষ করে কম স্ট্রাইকরেট নিয়ে কথা বলছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধোনির স্ট্রাইকরেট ছিল খুব কম এবং তারা সবাই ধোনির স্ট্রাইকরেটে বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। আপনি কি মনে করেন ?

    বিরাট কোহলি এর জবাবে অনেক লম্বা চওরা কথা বললেন। যার পরতে পরতে ছিল সহমর্মিতা। একজন সাবেক অধিনায়ক ও সিনিয়র পার্টনারের পাশে কীভাবে দাড়াতে হয়, প্রেস মিটে তার সম্পর্কে নেকিবাচক প্রশ্ন করা হলে কীভাবে তার পক্ষ নিয়ে কথা বলতে হয়- তা দেখিয়ে দিলেন বিরাট। বললেন , আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমি আগেও মানে শেষ ম্যাচের পর কথা বলেছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা, যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তিনি সিনিয়র, অভিজ্ঞ, পরিনত। তিনি অনেক ভালো বোঝেন। জানেন কখন কি করতে হবে।

    koli1

    ধোনির ক্রিকেট বোধ ও অনুভবের প্রশংসা করে কোহলি আরও যোগ করেন, ধোনি এমন কোনো ক্রিকেটার নন যে, তাকে বলে দিতে হবে কখন, কোথায় কী করতে হবে। তিনি ওসব অনেক ভালো বোঝেন। জানেন কখন কী করণীয়।

    তারপর ধোনির সোনালী অতিতের প্রসঙ্গ টেনে এনে কোহলি বলে ওঠেন, ‘ধোনি অতীতে বারবার বহু সংকটে বিপদে আর প্রয়োজনে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন। এই বছরেও যদি তার পারফরম্যান্স দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে তিনি কী দারুন খেলেছেন! আমার মনে হয় না এক-দুটি বিচ্ছিন্ন ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে তাকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে। কারণ হঠাৎ এক-দুটি খেলায় যেকারো পারফরম্যান্স খারাপ যেতে পারে।’

    ধোনির স্ট্রাইকরেট অধিনায়ক হিসেবে কোহলির জন্য মোটেই চিন্তার বিষয় না। সবার সামনে বললেন তিনি তা নিয়ে ভাবছেনও না, ‘আমরা ওদিকে তেমন তাকাচ্ছিই না। তিনি জানে আসলে তাকে কী করতে হবে। শুনুন আপনি যে ম্যাচের কথা বলেছেন, সেই ম্যাচ শেষে তিনি নেটে গিয়ে বাড়তি ব্যাটিং প্র্যাকটিস করেছেন। বাড়তি ঘামও ঝড়িয়েছেন। আর তার পরের খেলায় আমাদের জয়সূচক পুঁজি গড়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এবং আমরা জিতেছিও। দুই পয়েন্টও পেয়েছি। শেষ কথা হলো আমরা নিজেদের নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট এবং মনে হয় আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি।

  • টাইগার-দিশার সম্পর্ক ব্রেকআপ!

    টাইগার-দিশার সম্পর্ক ব্রেকআপ!

    আরব সাগরের তীরে ফের ইতি পড়ল আরেক সম্পর্কের। বহুদিনের প্রেমজুটি এবার জানিয়ে দিল ‘প্রেমের দ্য এন্ড’। এখন শুধুই থাকবে বন্ধুত্ব। সত্যি কি দিশা পটানি ও টাইগার শ্রফের ব্রেকআপ হলো! ভারতের একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বহু বছর ধরে প্রেম করার পর এবার নিজেদের সম্পর্ককে অলবিদা জানালেন দিশা পটানি ও টাইগার শ্রফ। খবর অনুযায়ী, প্রেম থেকে বেরিয়ে আপাতত শুধুমাত্র বন্ধু হিসেবে থাকতে চান তারা।

    বলিউডের খবর অনুযায়ী, বহুদিন ধরেই টাইগার ও দিশার সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততা ছিল। নানা কারণে ভুল বোঝাবুঝিও ছিল। আর সেই কারণেই এখন সম্পর্ক থেকে ইতি চাইছেন এই দুই অভিনেতা। তবে এই ব্রেকআপ নিয়ে নানা গুঞ্জন কানে এলেও আপাতত দিশা ও টাইগার কিছুই বলতে চাননি এই ব্রেকআপ নিয়ে।

  • অবশেষে দেশপ্রেম জেগে উঠল মেসির!

    অবশেষে দেশপ্রেম জেগে উঠল মেসির!

    বার্সেলোনার হয়ে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি যতটা না আলোচিত, তার চেয়ে বেশি সমালোচিত আর্জেন্টিনার হয়ে। কারণ অবশ্যই পারফরম্যান্স নয়; বেশির ভাগ আর্জেন্টাইনদেরই দাবি দেশের হয়ে নিবেদিতপ্রাণ নয় মেসি। তাই তো দেশের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েও আর্জেন্টিনায় এক কার্লোস তেভেজের সমান জনপ্রিয়তাও নেই মেসির।

    বছর জুড়ে ক্লাবের হয়ে খেলায় জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ খুব কমই পান ফুটবলাররা। তবে যতটুকু পান, এর মধ্যেই সবাই চেষ্টা করেন দেশের হয়ে নিজেকে উজাড় করে দিতে। মেসি কখনো যে তা করেননি তাও কিন্তু নয়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনাকে শেষ তিন মেজর টুর্নামেন্টের ফাইনালে তোলার কারিগর এই মেসিই। তবুও দেশের প্রতি টান কম এই অপবাদ মেসির গায়ে যেন লেগে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে।

    তবে এবার কোপা আমেরিকার শুরু থেকেই যেন ভিন্ন এক মেসিকে আবিষ্কার করা গেছে। পারফরম্যান্স গড়পড়তা হলেও, অধিনায়ক হিসেবে দলকে এক সুতোয় বাঁধতে পেরেছেন তিনি। যার প্রমাণ মিলেছে কলম্বিয়ার কাছে হেরে কোপা শুরু করলেও বাকি ম্যাচগুলোতে দলের একাত্মতা। খারাপ সময়ে দলের বাকিদের একজন আদর্শ নেতা হিসেবে আগলে রাখছেন তিনি।

    এদিকে গতকাল ভেনেজুয়েলা ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে নিজের ঠোঁটও মিলিয়েছেন মেসি। অবাক করার মতো বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার হয়ে ১৩৪টি ম্যাচ খেলে ফেললেও কখনো মেসিকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে দেখা যায়নি। এ কাজ করতে তার যেন বড্ড অনীহা!

    কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে একটি শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর মেসি সময়ের সঙ্গে যেন পুরো বদলে গেছেন। হন্যে হয়ে আছেন নিজের ও দেশের জন্য বড় কিছু অর্জন করার। তাই হয়তো, জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সঞ্জীবনী শক্তি সঞ্চার করতে মরিয়া তিনি। সেই সঙ্গে দেশকে যে তিনি কম ভালোবাসেন না তা প্রমাণ করতেও বদ্ধপরিকর।

  • টাইগারদের সেমিতে খেলার ওপরই নির্ভর করছে কোচ রোডসের ভাগ্য!

    টাইগারদের সেমিতে খেলার ওপরই নির্ভর করছে কোচ রোডসের ভাগ্য!

    বিশ্বকাপ যত পরিণতির দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে তিনটি প্রশ্ন তত প্রবল হচ্ছে।

    ১. টিম বাংলাদেশ কি সেমিফাইনাল খেলতে পারবে? দুই প্রবল প্রতিপক্ষ ভারত-পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয়া কি আদৌ সম্ভব হবে? ওই দুই ম্যাচ জিতলেও কি সেমিতে খেলা নিশ্চিত হবে?

    ২. আচ্ছা! অধিনায়ক মাশরাফি কি বিশ্বকাপেই অবসরের ঘোষণা দেবেন? আগামী ৫ জুলাই লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েই ক্রিকেটকে ‘গুডবাই’ জানাবেন বাংলাদেশ অধিনায়ক? না কি দেশে ফিরে শেরেবাংলায় হাজারো ভক্ত-সমর্থকের সামনেই দেবেন বিদায়ের ঘোষণা?

    ৩. কোচ স্টিভ রোডসের ভাগ্যে কি ঘটবে? যুক্তরাজ্যে বিশ্বকাপ শেষে এ ইংলিশ কোচেরও ইতি ঘটবে?

    প্রথম প্রশ্নর উত্তর পেতে অপেক্ষায় থাকতে হবে অন্তত ২ জুলাই ভারতের সাথে ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। পুরোপুরি না হলেও সেদিনই হয়তো ধারণা মিলবে। বোঝা যাবে টাইগাররা আদৌ সেমিতে খেলতে পারবে কি না? মোটকথা, মাশরাফি, সাকিব, তামিম ও মুশফিকদের শেষ চারে জায়গা পাওয়া কিছু ‘যদি’ ‘কিন্তু’র ওপর নির্ভর করছে। এ কারণে তার উত্তর পেতে সময়ের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। সময়ই বলে দেবে আসলে কি হবে?

    দ্বিতীয় প্রশ্ন মানে, মাশরাফির অবসরের ঘোষণা সম্ভবত এখন আসছে না। বোর্ড বিষয়টা পুরোপুুরি মাশরাফির ওপর ছেড়ে দিয়েছে। এ কারণে সিদ্ধান্ত মাশরাফির। তিনি যখন ইচ্ছা তখন অবসর নেবেন। তবে বিশ্বকাপই হয়তো তার ক্যারিয়ারের শেষ আসর বা ম্যাচ নয়। মাশরাফির কথা শুনে মনে হচ্ছে, তিনি আরও কিছুদিন খেলতে চান। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। তবে অবসরের ঘোষণাটি সম্ভবত দেশের মাটিতে গ্যালারি ভরা ভক্ত-সুহৃদ, শুভানুধ্যায়ীর সামনেই দিতে চান নড়াইল এক্সপ্রেস।

    বাকি থাকলো কোচ স্টিভ রোডস প্রসঙ্গ। গুঞ্জন শুরু হয়েছে, বিশ্বকাপের পর তাকেও আর দেখা যাবে না হয়তো টাইগারদের ডাগআউটে। এ ইংলিশেরও এটাই নাকি শেষ অ্যাসাইনমেন্ট। মানে ৫ জুলাই লর্ডসে পাকিস্তানের সাথে ম্যাচ হতে পারে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে স্টিভ রোডসের শেষ ম্যাচ!

    কেউ কেউ হয়তো হিসাব মিলিয়ে ফেলেছেন। ভাবছেন স্টিভ রোডস উপাখ্যান তাহলে শেষের পথে! হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর প্রথমে খালেদ মাহমুদ সুজন, পরে রিচার্ড হ্যালসল আর কোর্টনি ওয়ালশকে ভারপ্রাপ্ত কোচ বা টেকনিক্যাল উপদেষ্টা করে দল চালানোর চেষ্টা হয়েছে। সে অর্থে সাফল্যের দেখে মেলেনি তখন। তাই একজন ভালো মানের বিদেশি কোচের প্রয়োজন ছিল। তার ওপর ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ। বিসিবিও একজন ইংলিশকেই জাতীয় দল পরিচালনা-পরিচর্যা আর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিতে ছিল আগ্রহী। সে হিসাব কষেই আসলে ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডসকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া।

    তিনি কতটা যোগ্য, দক্ষ? তার ক্যারিশমা কেমন? কি পারেন, কি জানেন-বোঝেন? ক্রিকেটারদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কতটা? প্রতিপক্ষ, পরিবেশ-প্রেক্ষাপট আর কন্ডিশন সম্পর্কে পূর্ব ধারণা নিয়ে গেমপ্ল্যান আঁটার কাজটি কত ভালো পারেন?- সেসব বিষয়ই ছিল দেখার। একদম ভেতরের খবর, এর কোনোটাতেই তিনি খুব ভালো নম্বর পাচ্ছেন না। ক্রিকেটার, কোচ, ক্রিকেট অপারেশন্স এবং বোর্ড পরিচালকদের মূল অংশ এক কথায় স্টিভ রোডসের ওপর সন্তুষ্ট নন। কোচ হিসেবে তার কাছে যা প্রত্যাশা ছিল, তিনি তা মেটাতে পারেননি।

    একজন ইংলিশ হয়েও ইংলিশ আবহাওয়া ও উইকেট সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই কোচের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উইকেটের চরিত্র-গতি প্রকৃতি না বুঝে ব্যাটসম্যানদের ভুল বার্তা দিয়ে দলের বিপদ ডেকে এনেছেন। ওভালের ওই ম্যাচের উইকেট ছিল ২৭০-২৮০ রানের। যেহেতু ওই মাঠে আগের ম্যাচে বাংলাদেশ ৩৩০ রান করেছিল, তাই স্টিভ রোডস ভেবেছিলেন পরের ম্যাচেও পিচও বুঝি তেমন!

    Rhodes-1.jpg

    তাই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ধরে না খেলে চালিয়ে খেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা ‘বুমেরাং’ই হয়েছিল। হাত খুলে মারতে গিয়ে ওয়েল সেট রিয়াদ আর মিঠুন চলে আসার পর বাংলাদেশ ইনিংস আটকে যায় ২৪৪ রানে। খেলা শেষে বোঝা গেছে, ওই চালিয়ে খেলাই ছিল বড় ভুল। একটু দেখে ও ধরে খেললে নির্ঘাত আরও ২৫-৩০ রান করা যেত। খেলা শেষে অধিনায়ক মাশরাফিও ৩০ রানের আক্ষেপই করেছিলেন। বলেছিলেন এটা ২৭০ রানের পিচ। ওই রান করতে পারলে হয়তো আমরাই জিততাম।

    এখনো ওই হারটা পোড়ায় পুরো দল ও দেশকে। বাংলাদেশ যদি সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়, তাহলে ভিন্ন কথা। যদি শেষ চারে জায়গা না হয়, তাহলে নিউজিল্যান্ডের সাথে হারটি অনেক বড় হয়ে দেখা দেবে। ইতোমধ্যে তা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের সাথে জিততে পারলে বাংলাদেশের পয়েন্ট থাকতো ৯। তখন ভারত-পাকিস্তান দুই দলের সাথে জয় এত অত্যাবশ্যক হতো না। একটি জিতলেও হয়তো সেমিতে খেলার ভালো সম্ভাবনা থাকতো।

    শুধু ওই ম্যাচে ভুল বার্তা দিয়ে দলের সম্ভাবনা নষ্ট করার জন্যই নয়, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে স্টিভ রোডসের ওপর সে অর্থে কেউই সন্তুষ্ট নন। বিভিন্ন পরিচালক ও দলের সাথে সম্পৃক্তদের কথা বলে আর খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোচ স্টিভ রোডসের পারফরম্যান্সে সে অর্থে কেউই সন্তুষ্ট নন। এক কথায় তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

    তাই বলে তিনি যে আর বাংলাদেশের কোচ থাকছেনই না বা থাকবেন না- এমন নিশ্চয়তাও কিন্তু নেই। শেষ খবর, আসলে পেন্ডুলামের মতো দুলছে কোচ স্টিভ রোডসের ভাগ্য। সেটা নির্ভর করছে বাংলাদেশ শেষ দুই ম্যাচে কি করে তার ওপর?

    কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বরাবর কার্যকর ও বড়সড় ভূমিকা রাখা বিসিবির প্রভাবশালী পরিচালক জালাল ইউনুস, জাতীয় দল পরিচালনা, পরিচর্যা আর তত্ত্বাবধানের সমুদয় দায়-দায়িত্ব যে স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর, সেই ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান আকরাম খান এবং আরেক ডাকসাইটে পরিচালক ও বিশ্বকাপ টিমের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোচের বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। মানে রোডস বিশ্বকাপের পরপরই বাংলাদেশের কোচ থাকবেন না কিংবা তাকে আর রাখা হবে না- এমন কোনো সিদ্ধান্ত পাকা হয়নি।

    আরও একটি বিশেষ কারণে বোর্ড বিশ্বকাপ চলাকালীন কোচ ইস্যুতে কোনোরকম বক্তব্য দিতে নারাজ। কারণ, এই ইংল্যান্ডের মাটিতেই ২০ বছর আগে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা বাংলাদেশের কোচের পদ থেকে শেষ ম্যাচের আগে অপসারিত হয়েছিলেন তখনকার কোচ গর্ডন গ্রিনিজ। ওই ক্যারিবীয় গ্রেটকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগের রাতে অব্যাহতি পত্র দেয়া হয়েছিল। চোখের পানিতে বিদায় নিয়েছিলেন গর্ডন গ্রিনিজ।

    এবার বোর্ড সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না। জালাল ইউনুস, আকরাম খান আর খালেদ মাহমুদ সুজনের সোজাসাপটা কথা, বিশ্বকাপ চলাকালীন কোনো সিদ্ধান্তই নেয়া হবে না। হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাতে দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। হয়তো পড়বেও। আমরা কোচ ইস্যু নিয়ে এখন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া তো বহু দূরে, তা নিয়ে সেভাবে আলাপ আলোচনাও করছি না। করতে চাইও না। দেশে ফিরে অবস্থা বুঝে সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণ করে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    ভেতরের খবর, আসলে বোর্ড অপেক্ষায় টাইগাররা কোথায় গিয়ে থামে, সেটা দেখার? তাদের শেষটা কেমন হয়? সেমিফাইনালে উঠতে পারলে স্টিভ রোডসকে অব্যাহতি দেয়ার প্রশ্নই আসে না। এই ইংলিশ কোচ টিকে যাবেন। হয়তো আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও কোচের দায়িত্বে থাকবেন।

    তখন তার সাথে করা ২০২০ সালের চুক্তিই বহাল থাকবে। সেমিফাইনালে নাও উঠতে পারলেও যদি ভারত-পাকিস্তানের কোন এক দলকে হারাতে পারে, তাহলেও হয়তো এ যাত্রা বেঁচে যেতে পারেন রোডস। তখন সবাই বলবে, সেমিফাইনাল খেলতে না পারলে কি হবে- তিনটি বড় শক্তিকে তো হারিয়েছে বায়লাদেশ, যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। এমন ভালো ফলাফলের পর কোচকে সরিয়ে দেয়া কেন?

    এমন একটা রব উঠবে চারদিকে। বোর্ডের নীতিনির্ধারকরা সেই সময় ও প্রেক্ষাপট দেখে- এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান। বাংলাদেশের কোচ হিসেবে স্টিভ রোডসের থাকা না থাকা আসলে নির্ভর করছে মাশরাফি বাহিনীর শেষ দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স ও ফলের ওপর।

  • ব্ল্যাকহোলের প্রভাবে মহাকাশে ছড়াচ্ছে সোনা ও প্লাটিনামের বিশাল বিশাল পিন্ড

    ব্ল্যাকহোলের প্রভাবে মহাকাশে ছড়াচ্ছে সোনা ও প্লাটিনামের বিশাল বিশাল পিন্ড

    পৃথিবীতে সোনা এবং প্লাটিনাম এই দুই ধাতুকে অত্যন্ত মুল্যবান ধরা হয়। মূলত দুস্প্রাপ্যতার জন্যই এগুলোর মূল্য এতো বেশি। তবে মহাকাশে এই ধাতুগুলো অত্যন্ত মূল্যহীন। ব্ল্যাকহোলের প্রভাবে মহাকাশে প্রতিবছর ছড়িয়ে পড়ছে কোটি কোটি টন সোনা ও প্লাটিনাম। তৈরী হচ্ছে বিশালাকার পিন্ড। প্রতিবছর অন্তত এমন একটি পিণ্ড তৈরী হয়, যার ভার সূর্যের প্রায় ২০ গুন। সায়েন্সনিউজ, স্পেস ডট কম।

    এই ধাতুগুলো আসছে কোথা থেকে, ছড়াচ্ছে কোনো আর পিণ্ডই বা কেনো তৈরী হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরে এই কারণগুলো অনুসন্ধান করছেন। অবশেষে কোথায় এই পিণ্ডগুলো তৈরি হচ্ছে তা জানা গেলো। কী ভাবে তা তৈরি হচ্ছে, তা-ও জানা গেল, এই প্রথম। গবেষণাগারে কম্পিউটার সিম্যুলেশনের মাধ্যমে। সাড়াজাগানো গবেষণাপত্রটি বেরিয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার’-এ। গবেষকদলে রয়েছেন দুই খ্যাতনামা জ্যোতির্বিজ্ঞানী কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ও কলম্বিয়া অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ল্যাবরেটরির অধ্যাপক ব্রায়ান মেৎঝার ও ড্যানিয়েল এম সিগেল। রয়েছেন আরও এক জন বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেনিফার বার্নস।

    উত্তোলন শুরুর পর থেকে ২০১৯ সালের প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত গোটা বিশ্বে ১ লক্ষ ৯০ হাজার ৪০ টন ওজনের সোনা খনি থেকে তোলা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল বলছে, এই পরিমাণ সোনা আরো তুলতে হলে ভ‚পপৃষ্ঠের এতটা নীচে নামতে হবে যে ২০৫০ সালের পর খনি থেকে সোনা তুলে আনার কাজটা পৃথিবীতে হয়ে পড়বে খুবই ব্যয়সাপেক্ষ। আর ২০৭৫ সালের পর অবস্থাটা এমন হবে যে খনি থেকে সোনা উত্তোলনের চালু প্রযুক্তি আর কাজেই লাগবে না আমাদের গ্রহে। ওই প্রযুক্তি দিয়ে আর সোনা তোলা যাবে না।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য বলছে, ২০১১ সাল পর্যন্ত ১৯২ টন ওজনের প্ল্য্যাটিনাম উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে। এখন যে হারে তোলা হচ্ছে, তাতে আর একশো বছরেই পৃথিবীর সব প্ল্য্যাাটিনামের ভান্ডার শেষ হয়ে যাবে। পৃথিবীর সোনা ও প্ল্যাটিনামের সঞ্চয় বলতে তো এইটুকুই। আর মহাকাশে প্রতিবছরই সোনা ও প্ল্যাটিনামের এতো বড় পিণ্ড তৈরি হচ্ছে যার ওজন সূর্যের ২০ গুণ!

  • ভিডিও ধারণ করে আড়াই বছর ধরে ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভোলার রায়হান

    ভিডিও ধারণ করে আড়াই বছর ধরে ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভোলার রায়হান

    আশুলিয়ায় আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে এক কলেজছাত্রীকে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তানভীর রায়হান (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আশুলিয়ার জামগাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেফতার তানভীর রায়হান ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার জিন্নাঘর এলাকার বশির আহমেদের ছেলে। এর আগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছর আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে রায়হানের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় আড়াই বছর আগে তাদের মধ্য শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরবর্তীতে রায়হান জানায় শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করেছে সে। তার কথামত না চললে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছেড়ে দেবে। এই ভয় দেখিয়ে গত আড়াই বছর যাবৎ তাকে ধর্ষণ করে আসছে রায়হান। বিয়ের কথা বললে নানা টালবাহানা করতে থাকে। গতকাল শুক্রবার (২৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই কলেজছাত্রীকে ফের ধর্ষণ করে রায়হান।

    আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাহারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রায়হানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

  • পুরুষের তুলনায় নারীরা দ্রুত মাদকাসক্ত রোগে আক্রান্ত হয়

    পুরুষের তুলনায় নারীরা দ্রুত মাদকাসক্ত রোগে আক্রান্ত হয়

    মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘নারী মাদক নির্ভরশীলদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কাউন্সেলর ফাইরোজ জীহান।

    মূল প্রবন্ধে ফাইরোজ জীহান বলেন, জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়- মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ লাখ মাদক নির্ভরশীল যেখানে ৮৪ ভাগ পুরুষ এবং ১৬ ভাগ নারী। কিন্তু এখন নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া মাদকাসক্তির প্রথম ধাপ বলা হয় তামাক ব্যবহার যার ব্যবহার বাংলাদেশে অনেক বেশি।

    তিনি আরও বলেন, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা নারীদের তুলনায় আগে মাদক গ্রহণ শুরু করে। কিন্তু নারীরা যখন মাদক গ্রহণ শুরু করে তখন তারা পুরুষের তুলনায় অধিক দ্রুত মাদকাসক্ত রোগে আক্রান্ত হয়।

    ফাইরোজ জীহান বলেন, আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্ত ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের একটি জরিপে পাওয়া গেছে- বর্তমানে ৩৩১ জন নারী রোগীর মাঝে শতকরা ১৪ জন নারী দীর্ঘদিনের মাদক নির্ভরশীলতার কারণে মানসিক রোগে আক্রান্ত এবং শতকরা ৮৭ জন নারী মানসিক রোগের কারণে মাদক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মোহিত কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (ঢাকা মেট্রো উত্তর) মুহাম্মদ খোরশেদ আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবীন মোর্শেদ এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগীন।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য সেক্টরের টেকনিক্যাল অফিসার তাসনুভা হুমায়রা। সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি বেরসকারি সংস্থার প্রতিনিধিগন অংশগ্রহণ করেন।

  • গরমে পুড়ছে ইউরোপ, তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে ফ্রান্স

    গরমে পুড়ছে ইউরোপ, তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে ফ্রান্স

    তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ইউরোপের জনজীবন। জার্মানি, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। চলতি জুনে তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

    আবদাওয়াবিদরা বলছেন, শুক্রবার তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে ফ্রান্স। এর আগে ২০০৩ সালেও ভয়াবহ দাবদাহের অভিজ্ঞতা হয়েছে ফ্রান্সের। তখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য তীব্র গরমকেই দায়ী করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারের তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এদিকে, তীব্র গরমের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের চার রাজ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া দফতর। বর্তমানে ইউরোপের প্রায় সব দেশেই কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লাল সতর্কতার পরে এটাই সর্বোচ্চ সতর্কতা। একই সঙ্গে কিভাবে এই তীব্র গরমেও ঠাণ্ডা থাকা যাবে সে বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    এদিকে, কাতালোনিয়াতে গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। স্পেনের দমকল কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    প্রচণ্ড গরমের কারণে বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের কর্মকর্তারা। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। তবে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সবচেয়ে গরম পড়বে বলে আগেই সতর্ক করা হয়েছে।

    প্যারিস, লিওনসহ বেশ কিছু শহরের রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তীব্র দাবদাহের মধ্যে বায়ুদূষণের প্রভাব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে তীব্র গরম বাতাস ইউরোপের দিকে আসছে। সে কারণেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

    ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় গার্ড, ভাউক্লুস, হেরাল্ট এবং বুচেস-দু-রোনে এলাকায় শুক্রবারের তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক গরমের কারণে বিভিন্ন স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে এবং অনেক স্কুলই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।