Category: আন্তর্জাতিক

  • টিম হোটেলে উঠেই মাশরাফির সঙ্গে সাক্ষাৎ ধোনির

    টিম হোটেলে উঠেই মাশরাফির সঙ্গে সাক্ষাৎ ধোনির

    দেখতে দেখতে কেটে যাচ্ছে সময়। ২৪ জুন আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচের পর মনে হচ্ছিল আরও এক সপ্তাহ। কিন্তু এরই মধ্যে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। আর মাত্র তিন দিন, তারপরই বাংলাদেশ-ভারত মহারণ।

    ২ জুলাই বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী এজবাস্টনে মুখোমুখি হবে মাশরাফিবাহিনী আর কোহলির দল। এদিকে মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে সাক্ষাতের বেশ কদিন আগেই টাইগারদের সাথে দেখা হয়ে যাচ্ছে ভারতীয়দের। বার্মিংহামে বাংলাদেশ দল যে হোটেলে আছে, ঠিক সেই পাঁচ তারকা হায়াত রিজেন্সি হোটেলেই উঠেছে টিম ইন্ডিয়া।

    কাজেই লবিতে, লিফটে, রেস্টুরেন্ট, সুইমিংপুলে সামনের কটা দিন মাশরাফি, মুশফিক, রিয়াদদের সঙ্গে রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের নিয়মিতই দেখা হবে।

    এরই মধ্যে হয়েও গেছে। কাল ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফের্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ম্যাচের পর আজ দুপুরে টিম বাসে বার্মিংহামের হায়াত রিজেন্সিতে এসে পৌঁছেছে ভারতীয় দল।

    মাঠে প্রবল প্রতিপক্ষ হলেও খেলোয়াড়ি জীবনে প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেটারদের সাথে টাইগারদের সখ্য অনেক পুরনো। মাশরাফির সাথে যুবরাজ সিং আর ইরফান পাঠানের বন্ধুত্ব অনেক দিনের, হৃদ্ধতাও বেশ। একই ভাবে সাকিবের সঙ্গেও ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিবিড় সম্পর্ক। আইপিএলে নিয়মিত খেলার কারণে সম্পর্কটা আরও গাঢ় হয়েছে।

    এদিকে আজ স্থানীয় সময় দুপুরে একই হোটেলে অবস্থানের কারণেই দেখা হয়ে যায় দুই সুপারস্টার মাশরাফি বিন মর্তুজা আর মহেন্দ্র সিং ধোনির। বলেই দেয়া যায় বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির মত ভারতের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও সাবেক ক্যাপ্টেন ধোনিরও এটা শেষ বিশ্বকাপ।

    দুজনার সম্পর্কও অনেক দিনের। সেই ২০০৪ সালে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভারত গিয়েছিল বাংলাদেশে। সেই সিরিজেই অভিষেক ঘটে ধোনির। ২০০৪ সালের ২৩ মার্চ চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে এই বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক ঘটেছিল ভারতীয় ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তির।

    ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অভিষেকের সেই ম্যাচে এক বল খেলে ০ রানে রানআউট হয়ে গিয়েছিলেন ধোনি। আর ঠিক ৪৮ ঘন্টা পর ২৬ মার্চ ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১১ বলে ১২ রান করা ধোনিকে আউট করেছিলেন তখনকার এক্সপ্রেস বোলার মাশরাফি।

    সেই থেকেই দুজনার অনেক সখ্য। মাঝে অনেক সিরিজ, সফর, ২০০৭ থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপ আর ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে হয়তো ধোনি-মাশরাফি বহুবার এক হোটেলেই কাটিয়েছেন। হয়তো, সুুইমিংপুল, হোটেল জিম, লবি আর রেস্টুরেন্টে বসে চা-কফি খেয়েছেন। অনেক গালগল্পও করেছেন।

    আজ দুই অভিজ্ঞ যোদ্ধা হোটেলে দেখা হওয়া মাত্র একজন আরেকজনকে ভালবাসার উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ করলেন। কুশলাদি জানতে চাইলেন একজন আরেকজনের। ভারতের সাবেক ক্যাপ্টেন ধোনি আর বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফির টিম হোটেলে সাক্ষাতের সে মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করেছেন বিসিবির ফটো জার্নালিস্ট রতন গোমেজ।

  • মালয়েশিয়ানদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ আছে

    মালয়েশিয়ানদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ আছে

    মালয়েশিয়ার পেরাক প্রদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড করিডোর ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান দাতো সেরি হাজি মোহাম্মদ নিজার বিন জামালুদ্দিন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নশীল দেশ। যা আধুনিকায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) পেরাকের ডাব্লিউ আইইএল পাচঁ তারকা হোটেলের হলরোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে’ রোড শো অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম।

    প্রধান অতিথি দাতু সেরি হাজী মোহাম্মদ নিজার বিন জামালুদ্দিন বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে আরও বলেন, `বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ পিছিয়ে নেই। বিশ্বদরবারে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।‘ তিনি মালয়েশিয়ার অগ্রগতিতে, বিশেষ করে নির্মাণশিল্প ও পাম চাষে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

    মোহাম্মদ নিজার বলেন, ‘মালয়েশিয়ানদের জন্য বাংলাদেশে প্রচুর বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তারা বিশ্বের পোশাক ও পোশাকগুলোর বৃহত্তম রফতানিকারক দেশ। তাদের সিরামিক সেক্টর ৮৯টি দেশে রফতানি করছে। ব্যবসায়ের সুযোগসহ অন্যান্য সেক্টরগুলিতে নির্মাণ, ইলেকট্রনিক এবং ফার্মাসিউটিকাল ও রয়েছে।’

    হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এশিয়ার সেরা গন্তব্য হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশে ব্যবসা বাণিজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাস উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে তুলে ধরেন হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে ক্রেস্ট প্রদান করেন হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন চাইনিজ চেম্বার অব কমার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দাতো ডেসমন্ড, পেরাক মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট, দাতো হাজী মোহাম্মদ মুহিউদ্দিন হাজী আব্দুল্লাহ, পেরাক চাইনিজ চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট দাতো এজি ইয়ক জি, ইন্টার ন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কমিটির প্রধান মিস জুই ইন ইন।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স উইং প্রধান এয়ার কমডোর মো. হুমায়ূন কবির, প্রথম সচিব (বাণিজ্য) মো. রাজিবুল আহসান, শ্রম শাখার প্রথম সচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল, শ্রম শাখার ২য় সচিব ফরিদ আহমদ, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা, শিল্প মালিক, নিয়োগকর্তা ইপু পেরাকের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক-প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ আড়াই শতাধিক ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    ‘রোড শো ব্রান্ডিং বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে হাইকমিশনের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) মো. রাজিবুল আহসান জানান, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী নেতাদের নিকট তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে নিয়মিত এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

    রোড শো ব্রান্ডিং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগামীতে আরও অধিকতর সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • সিনেমায় প্রথমবার জুটি হচ্ছেন সালমান ও আলিয়া

    সিনেমায় প্রথমবার জুটি হচ্ছেন সালমান ও আলিয়া

    সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘ইনশাল্লাহ’ সিনেমায় প্রথমবার জুটি হচ্ছেন সালমান খান ও আলিয়া ভাট। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো ও মায়ামি সমুদ্র সৈকতে ছবির লোকেশন খুঁজছেন এই পরিচালক।

    সাধারণত সঞ্জয়ের ছবি মানেই বিরাট সেট, জাঁকজমকের চূড়ান্ত। কিন্তু আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, এবার তিনি সত্যিকারের লোকেশনেই শুটিং করার কথা ভেবেছেন।

    ‘ইনশাল্লাহ’ একেবারেই তরুণ দর্শকের কথা ভেবে বানাতে চলেছেন।

    কাস্টিং ঘোষণা হওয়ার পর আলিয়া ও সালমানের বয়সের ব্যবধান নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। কিন্তু প্রযোজনা সংস্থার তরফে জানা যায়, চিত্রনাট্য এমনভাবেই লেখা যেখানে বয়সের ব্যবধান যুক্তিপূর্ণ।

    ‘ইনশাল্লাহ’য় সালমানের চরিত্র এক মধ্যবয়সী ব্যবসায়ীর। তবে মনের দিক থেকে তিনি একজন সজীব তরুণ। দারুণ সুপুরুষ, স্টাইলিশ সানগ্লাস আর ডিজাইনার জ্যাকেট পরেই চরিত্রটিকে বেশি দেখা যাবে। তবে তিনি প্রেমে বা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেন না।

    আলিয়ার চরিত্রটি মধ্য বিশের এক তরুণীর, যে অভিনেত্রী হতে চায়। সঞ্জয় ঠিক করেছেন, বরাণসী, হৃষীকেশ বা হরিদ্বারের মধ্যে কোনো জায়গার মেয়ে হিসেবে আলিয়াকে দেখানো হবে। চরিত্রটি প্রেমে বিশ্বাসী।

    এদিকে সালমানের বাবা সম্পত্তির মালিকানা ছেলেকে দিতে চায় একটি শর্তের বিনিময়ে, ছেলেকে প্রেমে পড়তে হবে। এই প্রেমের অভিনয় করার জন্যই আলিয়ার চরিত্রটির প্রবেশ গল্পে। তারপরে দু’জন কীভাবে মন দেওয়া-নেওয়া করে, সেটাই গল্পের মূল বিষয়।

    এই গল্পের সঙ্গে অনেকেই মিল পাচ্ছেন সালমানের পুরোনো ছবির সঙ্গে। ঊর্মিলা মাতণ্ডকরের সঙ্গে সেই ছবির নাম ‘জানম সমঝা করো’। ওই ছবিতেও সালমান ধনী যুবক, ঊর্মিলা বার-গায়িকা। প্রেমের নাটক করতে গিয়েই তারা একে-অপরকে ভালোবেসে ফেলে।

    ‘ইনশাল্লাহ’ পুরোনো ছবির অনুপ্রেরণাতেই বানানো কি না, সেই জল্পনাই চলছে। যদিও শুরুর দিকে গুঞ্জন উঠে সঞ্জয়-সালমানের হিট সিনেমা ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর সিক্যুয়েল হতে যাচ্ছে।

  • কাশ্মীরে বাস দুর্ঘটনায় ১১ শিক্ষার্থী নিহত

    কাশ্মীরে বাস দুর্ঘটনায় ১১ শিক্ষার্থী নিহত

    ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সোফিয়ান জেলায় একটি বাস খাদে পড়ে ১১ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনই মেয়ে।

    দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়লে ‘পীর কি গলির’ কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পীর কি গলি হলো জম্মু কাশ্মীরের একটি পর্যটন স্থান। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, বাসে থাকা সবাই একটি কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা পিকনিক করতে পীর কি গলিতে যাচ্ছিলেন। পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, একজনের অবস্থা গুরুতর। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শ্রীনগর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    স্থানীয় গভর্নর সত্য পাল মালিক এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের প্রতি পরিবারকে ৫ লাখ রুপি দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। সত্য পাল মালিক ছাড়াও অন্য অনেক নেতা দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেন।

  • বাণিজ্যে মার্কিন ডলার বাদ দিচ্ছে রাশিয়া-চীন

    বাণিজ্যে মার্কিন ডলার বাদ দিচ্ছে রাশিয়া-চীন

    মার্কিন ডলারকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া এবং চীন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে দেশ দু’টি নিজেদের জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করেছে দেশ দু’টি। এ বিষয়ে রুশ দৈনিক ইসভেস্তিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    এতে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেছেন রুশ অর্থমন্ত্রী অ্যান্তোন সিলুয়্যানোভ এবং চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার প্রধান ই গ্যাং। দেশ দু’টি বাণিজ্য ক্ষেত্রে ডলার ব্যবহার থেকে সরে আসার যে তৎপরতা চালাচ্ছে নতুন চুক্তি তা আরও জোরদার করবে। দুই দেশের জন্য আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের জন্য দেশ দু’টি নতুন একটি পদ্ধতি তৈরি করছে বলে দৈনিকটি জানিয়েছে।

  • ২০৩ রানে গুটিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা

    ২০৩ রানে গুটিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের উঠার লড়াইয়ে ব্যাট করতে নেমে ২০৩ রানেই গুটিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ২০৪ রান। প্রোটিয়াদের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন মরিস এবং পিটোরিয়াস।

    এর আগে ইংল্যান্ডের চেস্টার লে স্ট্রিটের রিভারসাইড গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক।

    ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৯.৩ ওভার শেষে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান সংগ্রহ করেন কুশল পেরেরা এবং অভিষেক ফার্নান্দো।

    ডোয়েন প্রেটোরিয়াস-ক্রিস মরিসে ও কাগিসো রাবাদার গতির মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ১৯৯৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

    বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকার জয়-পরাজয় নিয়ে খুব একটা চিন্তা নেই। কিন্তু এখনও সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন টিকে থাকায়, এ ম্যাচে জয়টা বড্ড প্রয়োজন শ্রীলঙ্কার। সেজন্য তাদের সামনে করণীয় একটাই ২০৩ রানের কমে আটকে রাখতে হবে প্রোটিয়াদের। ৬ ম্যাচে লঙ্কানদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট।

  • বাধ্য হয়ে বেশি দামে ভারতীয়দের থেকে টিকিট কিনছেন বাংলাদেশিরা

    বাধ্য হয়ে বেশি দামে ভারতীয়দের থেকে টিকিট কিনছেন বাংলাদেশিরা

    লন্ডন, কার্ডিফ, এডিনবরা, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, টনটন, নটিংহ্যামশায়ার, লেস্টার, চেস্টারলি, নটিংহ্যাম কিংবা সাউদাম্পটন- যুক্তরাজ্যে আপনি যেখানেই যাবেন, সেখানেই দক্ষিণ এশিয়ান মানে ভারত, বাংলাদেশ আর পাকিস্তানিরদের দেখা পাবেন।

    তবে সন্দেহাতীতভাবে এখানে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী ভারতীয়। বার্মিংহাম আর ম্যানচেস্টারে যে সংখ্যাটা আরও বেশি। ট্যাক্সিতে চড়লেই কানে আসে সাম্প্রতিক হিন্দি ছায়াছবির গান।

    কোনো সিগনালে বাস, প্রাইভেটকার কিংবা ট্যাক্সিতে অপেক্ষায় আছেন? সেখানেও শুনবেন পাশের গাড়িতে একজন মনের আনন্দে কেউ হিন্দি গান বাজাচ্ছেন।

    বার্মিংহামের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শামিম চৌধুরী জানালেন, শুধু সংখ্যায় না, এ শহরে ভারতীয় প্রবাসী আর ভারতীয় বংশোদ্ভুতরা অনেক ভালো জীবন-যাপন করছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা, অফিস-আদালত সব জায়গায় ভারতীয়দের আধিক্য ও প্রাধান্য।

    সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজগুলোয় প্রচুর ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রী। শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীর বড় একটা অংশও এখানে ভারতীয়। এছাড়া কম্পিউটার টেকনোলোজি এবং কর্পোরেট হাউসগুলোতেও ভারতীয়দের আধিক্য। আপনি অফিস-আদালত যেখানেই যাবেন না কেন, দেখবেন বড় বড় পদে অধিস্থ ভারতীয়রা।

    সংখ্যায় পাকিস্তানিরাও কিন্তু কম নয়। তাদের সংখ্যাটা ভারতীয়দের প্রায় কাছাকাছি। তবে শিক্ষা-দীক্ষায় ভারতীয়দের তুলনায় পিছিয়ে থাকার কারণে অফিস কিংবা কর্পোরেট হাউসগুলোতে তাদের উপস্থিতি কম। শিক্ষক, চিকিৎসক আর প্রকৌশলীর চেয়ে দোকানপাটের মালিক, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আর ট্যাক্সিচালকই বেশি।

    বয়সে তরুণ হলেও মাত্র ৯-১০ বছরে ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ সুনাম কুড়ানো বাংলাদেশি শামিম চৌধুরীর কথায় পরিষ্কার হলো, এই শহরে প্রবাসী বাঙালি বংশোদ্ভুতরা সংখ্যায় তৃতীয়। এদিকে ভারতীয়দের অধিনস্ত এই বার্মিংহামের এজবাস্টনেই আগামী ২ জুলাই ভারতের বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ।

    রাউন্ড রবিন লিগে এটি বাংলাদেশের ৮ নম্বর খেলা হলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি মাশরাফি বাহিনীর কাছে অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনাল, অস্তিত্বের লড়াই। সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে এ ম্যাচ জেতা ছাড়া যে কোনো পথ নেই।

    কাজেই এ ম্যাচকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অন্যরকম বাতাবরণ। বাংলাদেশের আপামর ক্রিকেট প্রেমীর চোখই এখন বার্মিংহামে। সবাই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন, কবে আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সেই ২রা জুলাই। বসে নেই বার্মিংহামের বাংলাদেশিরাও। সংখ্যায় কিছু কম হলেও উৎসাহ-উদ্দীপনা, আবেগ-উচ্ছ্বাস একটুও কম নেই তাদের মধ্যে। তারাও সর্বাত্মক প্রস্ততি নিয়ে রাখছেন।

    স্থানীয় বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জানা গেল, প্রিয় জাতীয় দলের খেলা দেখতে এবং মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিকদের মাঠে গিয়ে সমর্থন জানাতে ও উৎসাহিত করতে মুখিয়ে আছেন ব্রিটেনের বাংলাদেশি সমাজ। লন্ডন, কার্ডিফ, ব্রিস্টল, টনটন, নটিংহ্যাম আর সাউদাম্পটনের মাঠে ছিল উপচে পড়া বাঙালিদের ভিড়। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। সবচেয়ে আনন্দের সংবাদ হলো, ২ জুলাই বাংলাদেশ ও ভারত ম্যাচে নাকি অন্য সব শহরের চেয়ে বেশি টাইগার সমর্থকদের সমাগম হতে চলেছে বার্মিংহামে।

    এমনকি আগামী পরশু এই শহরের এজবাস্টনে ভারত আর ইংল্যান্ডের বিগ ও হাইভোল্টেজ ম্যাচের চেয়েও বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে বেশি সাড়া পড়েছে। কারণ হাজার-হাজার বাংলাদেশি এজবাস্টনে প্রিয় জাতীয় দলের খেলা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। তাই লন্ডন, ম্যানচেস্টার, ব্রিস্টল, কার্ডিফ, টনটনসহ বিভিন্ন শহর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঝাঁকে-ঝাঁকে বার্মিংহাম আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটা অংশ পড়েছেন বেশ বিপাকে। বেশ ক’জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাদের অনেক বেশি মূল্য দিয়ে টিকেট কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী শামিম চৌধুরীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী এখন মানে- শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন শহর থেকে আগত এবং বার্মিংহামে যেসব বাঙালি খেলা দেখতে চাচ্ছেন তাদের গড়ে ৫০ থেকে ১০০ পাউন্ড বেশি মূল্যে টিকিট কিনতে হচ্ছে এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খবর হলো, সেই চড়া মুল্যের টিকিট কিনতে হচ্ছে ভারতীয়দের কাছ থেকে। কারণ ভারতীয়দের হাতেই ইতোমধ্যে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের টিকিটের একটা বড় অংশ চলে গেছে।

    তবে ঘটনাটি ভারতীয়দের সৃষ্টিকৃত অবৈধ কারসাজি হিসেবে ধরে নেবেন না! স্থানীয়দের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আইসিসির ওয়েবসাইটে টিকিট বিক্রি শুরুর মুহূর্ত থেকে ভারতীয়রা টিকিট বুক করতে শুরু করেছে। যে যার মত অনলাইন বুকিং দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে ফেলেছে।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানিদের মূল অংশটা আইসিসির অনলাইনে ভারতীয়দের মত চট জলদি টিকিট বুকিং না দিয়ে দেরিতে টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করেছে। তারা ভেবেছে আস্তে-ধীরে বুকিং দেয়া যাবে। সময় তো আছেই। আর হাতে টাকা থাকলে টিকিট পাবই।

    কিন্তু তার আগেই যে, ৬০ থেকে ৭০ ভাগ টিকিট ভারতীয়দের হাতে চলে যাবে এটা তারা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। ভাবতেও পারেননি। শামিম চৌধুরী জানালেন, এই দেরিতে অনলাইন টিকিট বুকিং করতে গিয়ে দারুণ বিপদে পড়েছেন পাকিস্তানিরা। ভারতের বিপক্ষে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে পাক-ভারত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাই মাঠে পাকিস্তানি সমর্থক ছিল খুব কম।

    ভারতীয়রা আগেই সব টিকিট কিনে রাখায় পাকিস্তানিরা পরে এসে টিকিট কিনতে পারেনি। স্থানীয় বাংলাদেশিরা জানালেন আরও একটি মজার তথ্য, তা হলো ভারত পাকিস্তান ম্যাচ যে শহরে হয়েছে সেই ম্যানচেস্টারে ভারতীয় আর পাকিস্তানিরা সংখ্যায় প্রায় সমান সমান।

    কিন্তু মাঠে দু’দলের দর্শক-সমর্থকের অনুপাত ছিল ৭৫ : ২৫। কারণ একটাই, পাকিস্তানি দর্শকরা ম্যাচের আগে, শেষ মুহূর্তে অনেক বেশি দাম দিয়েও টিকিট পায়নি। অনেকে তো হাতে বাড়তি অর্থ নিয়ে খেলার দিন সাত সকালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসেছিলেন। কিন্তু টিকিট না পেয়ে মাঠের ভিতরে ঢোকার অনুমতি মেলেনি। তাই ওল্ড ট্রাফের্ডের বাইরে পাকিস্তানি ভক্ত-সমর্থকদের সংখ্যা ছিল বেশি।

    এই যদি হয় অবস্থা; তবে বাংলাদেশের ভক্ত ও সমর্থকদের হালচাল কী? তাদের অবস্থা কি পাকিস্তানিদের মতো হবে? জানা গেল, বাংলাদেশিরা পাকিস্তানিদের মত অত দুলকি চালে চলেননি। তারা অনেকে আগে ভাগে টিকিট কিনে ফেলেছেন।

    তবে যারা শেষ মুহূর্তে দলের খেলা দেখার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তারা পড়েছেন খানিক সমস্যায়। এছাড়া অনেকের আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব; অন্য শহর থেকে যারা বাংলাদেশের ম্যাচ দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি কেউ-কেউ।

    তাই অনলাইনে টিকিট কেটে রাখা ভারতীয়রা এখন বাংলাদেশিদের কাছে অনেক চড়া মূল্যে টিকিট বিক্রি করছেন। জানা গেছে, এই দেরিতে টিকিট সংগ্রহের কারণে অনেক বাংলাদেশিই বেশি মূল্যে ভারতীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন স্ট্যান্ডের টিকিট গড়ে ৫০ থেকে ১০০ পাউন্ড বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

    ভিআইপি গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড আর ভিভিআইপি হসপিটালিটি বক্স বাদ দিলে বাংলাদেশের শেরে বাংলায় হাতে গোনা দুই তিনটি স্ট্যান্ড; শহীদ জুয়েল, শহীদ মোস্তাক এনক্লোজার আর ক্লাব হাউস। আর পূর্ব দিকে বিশাল সাধারণ গ্যালারি।

    তবে যুক্তরাজ্যের প্রায় ভেন্যুতে অনেক বেশি স্ট্যান্ড। এজবাস্টনে সেকশন ব্রোঞ্জ, সেকশন সিলভার, সেকশন গোল্ডেন, সেকশন প্লাটিনামসহ প্রাইয়োরি ফ্যামিলি স্ট্যান্ড এবং এরিক হলিজ সেকশনের টিকি বিক্রি হচ্ছে অনেক চড়া মূল্যে।

    এমনিতে সেকশন ব্রোঞ্জকে ধরা যায় বাংলাদেশের সাধারণ গ্যালারি। যার প্রকৃত প্রবেশ মূল্য ৬০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ৯০০ টাকা)। সিলভার সেকশনের টিকিটের মুল্য ৭৫ পাউন্ড (৮ হাজার ৬০০ টাকা প্রায়), গোল্ড সেকশনের অফিসিয়াল রেট ১৫০ পাউন্ড (১৭ হাজার ১৭৫ টাকা) এবং প্লাটিনাম সেকশনের প্রকৃত প্রবেশ মূল্য ২০০ পাউন্ড (প্রায় ২৩ হাজার টাকা)।

    এখন এই টিকিটগুলো গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ পাউন্ড বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে অনেক প্রবাসী বাঙালিকে। কিন্তু তাতেও উৎসাহ-উদ্দীপনা এতটুকু কমেনি। দেশ মাতৃকার টানে প্রিয় জাতীয় দলকে উৎসাহ জোগাতে অত দাম দিয়েও এর মধ্যে অনেকে টিকিট কেটে ফেলেছেন। আজ-কাল ও পরশুর মধ্যে আরও অনেকে কিনবেন বলে জানা গেছে।

  • মৌমাছির আক্রমণে ভূপাতিত মাঠের সবাই

    মৌমাছির আক্রমণে ভূপাতিত মাঠের সবাই

    দক্ষিণ আফ্রিকার-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ঘটে গেল অনাকাঙ্খিত এক ঘটনা। ইনিংসের ৪৮তম ওভারের খেলা চলছিল তখন। মৌমাছির হঠাৎ আক্রমণের কারণে মাঠের মধ্যেই লুটে পড়েন দুই দলের ক্রিকেটার ও আম্পায়াররা। আর সেজন্য কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায় খেলাটি।

    ক্রিকেট ম্যাচে মাঝেমধ্যেই মৌমাছির আক্রমণ দেখা যায়। আজকের মতো এর আগে বিভিন্ন ম্যাচেই দেখা গেছে এই ঘটনা। তবে এই নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কার লড়াইয়ে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এই ঘটনাটি ঘটল।

    ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহনের্সবার্গ মাঠে শেষবার এই দুইদলের ম্যাচে মৌমাছি আক্রমণ করেছিল। সেবারো শ্রীলঙ্কা ব্যাটিং করার সময় ঘটনাটি ঘটেছিল। আরেকটি মিল হলো মৌমাছি আক্রমণের সময় ওই ম্যাচে বোলার হিসেবে বল করেছিলেন প্রোটিয়া পেসার ক্রিস মরিস এবং আজকের ম্যাচেও বোলার হিসেবে ছিলেন সেই মরিস।

    মৌমাছির আক্রমণে খেলায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও যথাসময়েই শেষ হয়েছে খেলা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপক্ষে মাত্র ২০৪ রানের লক্ষ্য গড়তে পেরেছে লঙ্কানরা।

    এই ম্যাচে হারলে সেমিফাইনালের পথটা কঠিন হয়ে যাবে করুনারত্নের দলের জন্য। অপরদিকে সাত ম্যাচের পাঁচটিতে হেরে আগেই আসর থেকে বিদায় নিয়েছে প্রোটিয়ারা। তাই এই ম্যাচটি তাদের জন্য নিয়মরক্ষার ম্যাচ ছাড়া আর কিছুই না।

  • ব্রাজিলে লাল-সবুজ পতাকা ছুঁয়ে অনুশীলন শুরু চার কিশোরের

    ব্রাজিলে লাল-সবুজ পতাকা ছুঁয়ে অনুশীলন শুরু চার কিশোরের

    ব্রাজিলের রাজধানী শহর ব্রাসিলিয়া থেকে বাসে মিনিট চল্লিশের পথ দেশটির ফেডারেল ডিস্ট্রিক গামা। সে জেলার সোসিয়েদাদে স্পোরটিভা দা গামা (Sociedade Esportiva do Gama) ক্লাবের একাডেমিতেই এক মাস অনুশীলন করবেন বাংলাদেশের চার কিশোর ফুটবলার ওমর ফারুক মিঠু, জগেন লাকরা, লতিফুর রহমান নাহিদ ও নাজমুল আকন্দ।

    বুধবার সেখানে পৌঁছে বৃহস্পতিবার এক বেলা অনুশীলনও করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে ব্রাজিল যাওয়া এই চার কিশোর ফুটবলার।

    ব্রাজিলে লাল-সবুজ পতাকা ছুঁয়ে অনুশীলন শুরু চার কিশোরের

    কিশোরদের সঙ্গে আছেন কোচ আবদুর রাজ্জাক এবং কর্মকর্তা সাবেক ফুটবলার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য খন্দকার রকিব আহমেদ। আরেক সাবেক ফুটবলার ও বাফুফের সদস্য শেখ মোহাম্মদ আসলামেরও যাওয়ার কথা ছিল চার ফুটবলারের সঙ্গে। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি যাননি।

    বৃস্পতিবার গামা ক্লাবের একাডেমি মাঠে অনুশীলন শুরুর আগে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা জাতীয় পতাকা ছুঁয়ে মাঠে নামেন। তারা লাল-সবুজ পতাকা উঁচিয়ে ধরেন ফুটবলের দেশটির অন্যতম ক্লাবের মাঠে। তবে প্রথম দিন অনুশীলন বলতে যা বুঝায় তা ছিল না।

    ব্রাজিল থেকে দলের কোচ আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন,‘প্রথম দিন আসলে ছেলের ফিটনেস দেখেছেন স্থানীয় কোচরা এবং কিছু ব্রিফিং করেছেন। আজ (শুক্রবার) বিকেলে থেকে তারা অনুশীলনে নামবেন।

    দীর্ঘ ভ্রমণের পর ক্লান্ত ছিলেন চার কিশোর। তার ওপর ওখানে গিয়ে নতুন পরিবেশ ও খাওয়া সমস্যা। তবে এসব কাটিয়ে উঠতে বেশি সময় নেননি তারা। কারণ, সব সমস্যা তাদের চলে গেছে পেলে-নেইমারদের দেশে যেতে পেরেই। এক সময় এই সফরটা তাদের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল বয়স কম হওয়ায়।

    ফুটবলার ওমর ফারুক মিঠু বেশ উৎফুল্লু। হোটেলের রেস্টুরেন্টের পরিবেশ তো নিজের ফেসবুকে লাইভ করছিলেন মিঠু। পরে হোটেল থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন ব্রাজিলের প্রথম দুই দিনের অভিজ্ঞতা।

    ‘আমরা প্রথম দিন বেশি অনুশীলন করিনি। আলোচনা হয়েছে, ফটো সেশন হয়েছে আর আমাদের চারজনের ফিটনেস দেখেছেন আলাদা আলাদা করে। আধঘন্টা করে ফিটনসে দেখার পর ওদের দলের সঙ্গে কিছু সময় অনুশীলন করিয়েছেন’-বলছিলেন মিঠু।

    ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়ে দারুণ খুশি মিঠু, ‘তাদের একাডেমিতে যারা আছে তারা খুবই স্কিলফুল। অন্য রকম তাদের খেলার স্টাইল। আমরা চেষ্টা করবো ওদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে।

    আবহাওয়া ও খাবারে নিশ্চয় সমস্যা হচ্ছে? ‘আসলে, এখানে বাতাস ঠান্ডা। আবার রোদও ভালো লাগে। ছাঁয়ায় গেলে একটু শীত, রোদে গেলে দারুণ লাগে। মিষ্টি রোদ। আর খাওয়া দাওয়ার সমস্যা একটু হয়েছিল আসার পরপর। তবে হোটেলে নানা ধরনের খাবার আছে। অনেক রকম ফল, আলুর চিপস, জুস, শাকসবজি। আমরা সেগুলোই খাই। আবার হোটেলের রেস্টুরেন্টে গরুর মাংসও পাওয়া যায়। আমরা পছন্দমতো খেতে পারছি বলে তেমন সমস্যা হচ্ছে না’-বলছিলেন মিঠু।

    যে ক্লাবটির একাডেমিতে অনুশীলন করছেন তারা সেই ক্লাব সম্পর্কে বেশি ধারণা নিতে পারেনি তারা। মিঠু এতটুকুই বলেছেন, ‘শুনেছি ব্রাসিলিয়ার সবচেয়ে বড় ক্লাব এটি। ওদের চারটি মাঠ আছে। আমরা যখন অনুশীলন করি তখন ওই ক্লাবের জার্সি গায়ে পড়ি। আবার শেষে দিয়ে আসি।’

    ক্লাবটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, এটি ৪৩ বছরের পুরোনো একটি ক্লাব। ক্লাবটি অংশ নেয় ব্রাসিলিয়া মেট্রোপলিটন চ্যাম্পিয়শিপ লিগে। এ ক্লাবের প্রধান কোচ ভিলসেন তাদেই।

    অনুশীলনের বাইরে আর কি কি প্রোগ্রাম থাকবে? ‘সেটা আমরা কিছু জানি না। স্যার (কোচ রাজ্জাক) বলতে পারবেন’- বললেন মিঠু। কোচ আবদুর রাজ্জাকের কথা, ‘আমাদের বিখ্যাত জায়গায় নিয়ে যাবে। তবে কোথায় নেবে এখনো জানায়নি। কেবল তো আসলাম। একদিন মাত্র অনুশীলন হলো।’

    সুযোগ-সুবিধার বেশ প্রশংসা কোচের মুখে, ‘এখানকার সুযোগ-সুবিধা অনেক সুন্দর। হোটেল চার ফুটবলারের জন্য দুটি এবং আমাদের অফিসিয়ালদের একটি রুম দিয়েছে। হোটেল থেকে ১৫-২০ মিনিটের পথ অনুশীলন মাঠ। আমাদের ব্যবহারের জন্য সার্বক্ষণিক একটি মিনি-মাইক্রোও দিয়েছে। সবই ভালো। রবিবার একটি ম্যাচ হবে একাডেমিতে। এটা সাপ্তাহিক ম্যাচ। সে ম্যাচে আমাদের ছেলেদের খেলার সুযোগ দিতে পারে। কারণ, আমাদের ছেলেদের ফিটনেস ও স্কিল থেকে ক্লাবের কোচরা খুশি হয়েছেন।

  • সেমিতে যেতে ভারতের দিকে তাকিয়ে পাকিস্তান

    সেমিতে যেতে ভারতের দিকে তাকিয়ে পাকিস্তান

    ভারত আর পাকিস্তানের সম্পর্কটা দাঁ-কুমড়োর। সেটা যেকোনো ক্ষেত্রেই হোক না কেন। দুই দেশের মধ্যে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সেটা ছড়িয়ে পড়ে ক্রিকেট মাঠেও। এই দুই দলের খেলা হলেই তাই দর্শকদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উন্মাদনা। দুই দেশের সমর্থকরা তো বটেই বিভিন্ন সময়ে কথার লড়াইয়ে নেমে পড়েন সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররাও।

    ভারত কিংবা পাকিস্তান যেকোনো দলের সমর্থকদেরই অন্য দলকে সমর্থন যোগাতে দেখা প্রায় অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তবে এবারের বিশ্বকাপ পাকিস্তানের সমর্থকদের এমন এক পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়েছে যাতে ভারতকে সমর্থন দেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর উপায় নেই।

    এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সাত ম্যাচ থেকে ৩ জয় ও ৩ পরাজয় নিয়ে ৭ পয়েন্ট পাকিস্তানের। সেমিফাইনালে যেতে পাকিস্তানের অন্যতম বড় বাধা স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ঝুলিতে রয়েছে ৭ ম্যাচ থেকে পেয়েছে ৮ পয়েন্ট।

    পাকিস্তানকে সেমিফাইনাল খেলতে হলে আগামী দুই ম্যাচে ইংল্যান্ডের হার কামনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সে দুই ম্যাচের একটি আবার তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দী ভারতের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেও তাই ভারতের জয়ই কামনা করতে হবে পাকিস্তানি সমর্থকদের।

    শুধুমাত্র সমর্থকরাই নন, ভারতের জয় কামনা করছেন পাকিস্তানেরই সাবেক পেসার শোয়েব আক্তারও। ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে আপলোড দেয়া এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি পাকিস্তানি হয়েও বলছি, ভারতের জেতা উচিৎ। হয়তো ভাবছেন, এ আমি কী বলছি? আমি এমন বলছি কারণ ভারতকে ভালো খেলতে হবে, তাদেরকে জিততে হবে। একজন পাকিস্তানি হয়েও, আমি স্বজ্ঞানে বলছি পাকিস্তানের ভালোর জন্যই ভারতের জেতা উচিৎ।’

    ভারতের জয় চাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। শোয়েব আরও বলেন, ‘কারণ পরিষ্কার! পাকিস্তান যদি দুই ম্যাচ জিতে যায় এবং ইংল্যান্ড যদি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হেরে যায় তাহলে সেমিতে চলে যাবে পাকিস্তান। তাই আমি স্বজ্ঞানেই বলছি ভারতের জেতা উচিৎ। ভারতকে বলছি, তোমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দাও, খুব বাজেভাবে হারিয়ে দাও। যাতে করে আমরা সেমিফাইনালে যেতে পারি।’