Category: আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে গিয়ে বাবা-মেয়ের নির্মম মৃত্যু

    যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে গিয়ে বাবা-মেয়ের নির্মম মৃত্যু

    মনে আছে সিরিয়ার তিন বছর বয়সী শিশু শরণার্থী আয়লান কুর্দির কথা? কিংবা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে গ্রিসের কস দ্বীপে যাওয়ার পথে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া আয়লানের পাঁচ বছর বয়সী অপর সেই ভাইয়ের কথা?

    যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল আয়লান ও তার পাঁচ বছর বয়সী ভাই। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আশ্রয়ের আশায় যেতে চেয়েছিল গ্রিসে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি তারা। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর আয়লানসহ ১২ সিরিয়ান শরণার্থী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তুরস্কের বোদরাম সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসে আয়লান কুর্দির নিথর মরদেহ। নির্মম এ ঘটনায় তার আরেক ভাইয়ের (পাঁচ বছর) মৃতদেহও ভেসে উঠে সাগরের অন্য পাড়ে।

    এদের মধ্যে তিন বছরের আয়লানের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলে। সেই সময় অনেকেই বলেছিলেন, ছবিটি আয়লানের নয়, এটি বিপন্ন মানবতার মুখ থুবড়ে পড়ার প্রতীক।

    আয়লানের ছবি এখন হয়তো অনেকের কাছে ঝাপসা হয়ে গেছে। কিন্তু তিন বছর পর ফের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ছবি সামনে এল। এবার এক বাবা ও তার কন্যা শিশুর মৃত্যুর ছবি আলোড়ন তুলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই ছবি ফের যেন তুলে ধরল কীভাবে শত শত মানুষের প্রাণ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে যুদ্ধের খেলায় মত্ত দেশগুলোর শরণার্থী সমস্যা। আরও একবার মনে করিয়ে দিল সিরিয়ান শিশু আয়লান কুর্দির নির্মম পরিণতির কথা।

    child-aylan

    ছবিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিও গ্র্যান্ডে এলাকার। এই অংশে মেক্সিকোর সঙ্গে সীমানা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মেক্সিকোর একটি দৈনিক বলছে, মৃত বাবা ও মেয়ে এল সালভাদরের নাগরিক। নাম অস্কার অ্যালবার্তো মার্টিনেজ রমিরেজ ও তার মেয়ে ভ্যালেরিয়া।

    ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নিচের দিকে মুখ করে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই ব্যক্তি। তার টি-শার্টির ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে রয়েছে শিশুটি। তার একটি হাত বাবার টি-শার্টের গলার কাছ দিয়ে বেরিয়ে গলায় জড়িয়ে রয়েছে।

    দেহ দুটি খুঁজে পাওয়ার পর একটি মেক্সিকান দৈনিক সোমবার সেই খবর প্রকাশ করে। তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এই ছবি। ওই পরিবারটি মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় চেয়েছিল। তা না পেয়ে হাতাশ হয়ে পড়েছিল।

    রোববার মেয়েকে নিয়ে নদী পেরিয়ে আসে। মেয়েকে নদীর পাড়ে বসিয়ে রেখে ফের নিজের স্ত্রীকে আনতে উত্তাল নদীতে নামেন রমিরেজ। কিন্তু মেয়ে ভ্যালেরিয়া বাবাকে ছাড়তে চাইছিল না। নদীতে ঝাঁপ দেয় ভ্যালেরিয়াও। মেয়েকে ধরে ফেললেও স্রোত দু’জনকেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। গলা জড়িয়ে নির্মম পরিণতি বরণ করে তারা।

    মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে প্রত্যেক বছর শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। গত বছর সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে গিয়ে অন্তত ২৮৩ জন নিহত হয়েছেন।

  • সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটেই মিলবে ভারতের ভিসা!

    সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটেই মিলবে ভারতের ভিসা!

    ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসাসহ নানান কাজে নিয়মিতভাবে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে যান অনেকে। তাদের বেশিরভাগই ভারতের ভিসা প্রাপ্তির জটিল বিষয়ে আটকে যাওয়ার চিন্তায় পড়ে যান। যদিও এটা তেমন কঠিন কিছু নয়। আগে ভারতের ভিসা আবেদনের পর জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ের সিরিয়ালের প্রয়োজন হতো। এটি পেতে বেশ হিমশিম খেতেন অনেকেই। তবে এসব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। এখন বিষয়টি খুবই সহজ!

    সম্প্রতি বাংলাদেশি নাগরিকদের সুবিধার্থে জন্য ভিসা প্রাপ্তি সহজ করতে ঢাকার জন্য মাত্র একটি ভিসাকেন্দ্র নির্ধারণ করেছে ভারতীয় দূতাবাস। ফলে এখন ঢাকায় একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকেই ভিসা সংক্রান্ত সব কাজ করা যায়। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ১৮ হাজার ৫০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে এখন ভারতীয় ভিসাকেন্দ্র। প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার গ্রাহক এখান থেকে সেবা নিতে পারছেন।

    বলা হচ্ছে, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভারতীয় ভিসাকেন্দ্র। এখানে আছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত টোকেন ভেন্ডিং মেশিন (প্রত্যাশিত প্রতীক্ষা সময় নির্দেশিত হবে), আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অপেক্ষা করার স্থান, কফি ও কোমল পানীয় ভেন্ডিং মেশিন, খাবার দোকান ও আবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৪৮টি কাউন্টার। জ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী, মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায় ভিসা আবেদনের জন্য রয়েছে আলাদা কাউন্টার। এছাড়া রয়েছে বিশেষ সহায়তা ডেস্ক ও প্রিন্টিং, ফটোকপি ইত্যাদি সুবিধা। মূল্য পরিশোধ করে এসব সেবা মিলবে।

    ভিসা প্রাপ্তির জন্য প্রথম অনলাইনে এই ঠিকানায় গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এর আগে সদ্য তোলা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ২ ইঞ্চি বাই ২ ইঞ্চি ছবি সংগ্রহ করে সেটি স্ক্যান করে নিন। কারণ অনলাইনে পূরণকৃত ফরমের সঙ্গে স্ক্যানকৃত ছবি যুক্ত করতে হবে। ছবির সাইজ হবে ১০-৩০০ কিলোবাইট। ফরম পূরণ করা হয়ে গেলে তা প্রিন্ট করে সদ্য তোলা ছবি যুক্ত করে নিন

    এবার ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের প্রবেশমুখে গিয়ে ভিসা ফি জমা দিন। প্রবেশমুখের সামনেই ভিসা ফি জমা দেওয়ার বুথ রয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্টরা আবেদনপত্র চেক করে ভিসা ফি নিয়ে ‘পেইড’ সিল দিয়ে দেবে। ভিসা ফি জমা হওয়ার পরেই আবেদনপত্রে উল্লেখ করা মোবাইল ফোনে নিশ্চয়তার মেসেজ চলে আসবে। এবার আবেদনপত্রটি নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে প্রবেশ করে চলে যান ভিসা জমাদান কেন্দ্রে। সেখানে একটি সিরিয়াল নম্বরযুক্ত টোকেন দেওয়া হবে। টোকেনে থাকা নম্বরটি ভিসাকেন্দ্রে থাকা বোর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এতে করে জানা যাবে ভিসার আবেদনপত্র জমা দিতে কোন বুথে যেতে হবে।

    নির্দিষ্ট বুথে গিয়ে ফরম জমা দিন। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা মোবাইল ফোনে জমা হওয়ার মেসেজ আসবে। ভিসা আবেদনপত্র জমা শেষেও আরেকটি টোকেন দেওয়া হবে। এটি পাসপোর্ট সংগ্রহের বেলায় লাগবে। তাই সেটি সংরক্ষণ করা জরুরি। দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট যখন ভিসাকেন্দ্রে আসবে তখনও একটি মেসেজ পাঠানো হবে মোবাইল ফোনে। নির্দিষ্ট দিনে টোকেন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিতে হয়।

    পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর চাইলে পাসপোর্টের অবস্থান জানা যাবে। এজন্য এই ঠিকানায় গিয়ে টোকেনে থাকা অ্যাপ্লিকেশন আইডি, পাসপোর্ট নম্বর ও স্ক্রিনে দেখানো অ্যাকসেস কোড লিখে জমা দিলেই ভিসা স্ট্যাটাস বা আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস সামনে আসবে।
    ভাবছেন এত বড় প্রক্রিো শেষ করতে কতক্ষণ লাগবে? ফরম নিয়ে ভিসাকেন্দ্রে জমা দেওয়াসহ পুরো কাজটি করতে লাগবে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট!

    আর পাসপোর্ট সংগ্রহ করতেও এর চেয়ে বেশি সময় লাগবে না। ভিসাকেন্দ্র রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চালু থাকে। আর প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাসপোর্ট সংগ্রহের সময়।তো আর চিন্তা কি! দ্রুততার সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চলে যান যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে। যমুনা ফিউচার পার্কের প্রবেশমুখেও নিয়মাবলীর বিস্তারিত রয়েছে। চাইলে পড়ে নিতে পারেন।

  • ভারতের ক্লাবকে হারিয়ে আবাহনীর ইতিহাস

    ভারতের ক্লাবকে হারিয়ে আবাহনীর ইতিহাস

    এএফসি কাপের নকআউট পর্বে উঠে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব আবাহনী লিমিটেড।

    বুধবার ভারতের গুয়াহাটিতে আবাহনী ১-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক মিনারভা পাঞ্জাবকে। এই জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে আকাশি-হলুদরা।

    আবাহনীর জয়সূচক গোলটি করেন আফগানিস্তানের ডিফেন্ডার মাসি সাইঘানি। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে জীবনের কর্নার থেকে বেলফোর্টের মাথা হয়ে মাসির সামনে এলে তিনি ভুল করেননি। দুর্দান্ত হেডে কাঁপিয়ে দেন ভারতীয় ক্লাবের জাল।

    গ্রুপের অন্য ম্যাচে ভারতের চেন্নাইন এফসি ৩-২ গোলে নেপালের মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাবকে হারিয়েছে।

    আবাহনী জিততে না পারলে চেন্নাইন উঠতো পরের রাউন্ডে।

  • পাকিস্তানের বোলিং তোপে বিপদে নিউজিল্যান্ড

    পাকিস্তানের বোলিং তোপে বিপদে নিউজিল্যান্ড

    এজবাস্টনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে চাপের মুখে আছে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানি বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসেছে কিউইরা।

    প্রথম ওভারে কিছুটা চমক ছিল। অফস্পিনার মোহাম্মদ হাফিজকে দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করে পাকিস্তান। তবে সেই ওভারটা বেশ দেখেশুনেই কাটিয়ে দেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল আর কলিন মুনরো।

    ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে আসেন মোহাম্মদ আমির। প্রথম বলেই উইকেট। আমিরের অফসাইডের বলটি শরীরের বাইরে থেকে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্ট্যাম্পে টেনে আনেন গাপটিল, মাত্র ৫ রান করেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন কিউই ওপেনার।

    শুরুতেই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া নিউজিল্যান্ড ধীর ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ করে। কিন্তু সপ্তম ওভারে এসে তারা হারিয়ে বসে আরেক ওপেনার মুনরোকেও। ১২ রান করে শাহীন আফ্রিদির দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি।

    নিজের পরের ওভারে আবারও আঘাত শাহীন আফ্রিদির। এবার তিনি পরাস্ত করেন কিউই ব্যাটিং স্তম্ভ রস টেলরকে (৩)। উইকেটের পেছনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন সরফরাজ আহমেদ।

    ১৩তম ওভারে আরও এক উইকেট শাহীন আফ্রিদির। এবার তার দুর্দান্ত ডেলিভারিটি কিছু বোঝার আগেই টম লাথামের (১) ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় সরফরাজের হাতে।

    এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৩ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৬ রান। কেন উইলিয়ামসন ২৩ আর জিমি নিশাম শূন্য রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে আছেন।

  • আগামী ৫ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাবে নাসা!

    আগামী ৫ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাবে নাসা!

    ২০২৪ সালে চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে সরঞ্জাম পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে নাসা। আগে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ছিল ২০২৮ সালে চাঁদে মানুষ পাঠানো। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭০-এর পর এই প্রথম আবারও চন্দ্রপৃষ্ঠে তাদের সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ২০২০ এবং ২০২১ সালে এসব যন্ত্র চাঁদে পাঠানো হবে

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি মারিন প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোবেটিক, ইনটুইটিভ মেশিনস এবং অরবিট বিয়ন্ডকে এসব যন্ত্র পাঠানোর দায়িত্ব দিয়েছে। এই প্রকল্পের নাম হয়েছে রাখা আরটেমিস।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চাঁদে আবারও মানুষ পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে ২০২৪ সালে এগিয়ে আনেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চন্দ্রযান তৈরি করবে। এর মধ্যে একটি হবে লম্বা এবং অন্য দুটি হবে কিছুটা ছোট আকৃতির।

    এসব চন্দ্রযান মোট ২৩টি ধাপে নাসার সরঞ্জাম চাঁদে পৌঁছে দিবে। এগুলোর মধ্যে নভোচারিদের চাঁদে অবতরণ, ঘুরে বেড়ানো ও সুরক্ষা বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করার যন্ত্রও থাকবে।

  • গত ১১ বছরে বরিশালে প্রবাসী বাঙালীর সংখ্যা পৌণে ৩ লাখ

    গত ১১ বছরে বরিশালে প্রবাসী বাঙালীর সংখ্যা পৌণে ৩ লাখ

    দক্ষিনাঞ্চলের উন্নয়নে বর্তমান সময়ে প্রচুর অবদান রাখছে প্রবাসীরা। প্রবাসীদের দেশে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা মানুষের জীবন যাত্রার মানকে করছে উন্নত । এদিক থেকে পিছিয়ে নেই বরিশালের মানুষ। কৃষি প্রধান বরিশালে নানা স্থরের মানুষ তাদের কর্মসংস্থানের খোঁজে গত ১১ বছরে বিদেশে গমন করেছেন অনেকেই। আর এই সকল প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা বরিশালের গ্রামীন অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখছে।

    বরিশাল জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিস এর তথ্য মতে , বরিশাল বিভাগে ২০০৮ সনের জানুয়ারী হতে ২০১৯ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট ২ লক্ষ ৭৬ হাজার ১ শত ৩৩ জন প্রবাসী রয়েছে।

    যার মধ্যে পুরুষ এর সংখ্যা ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৪০ জন এবং নারী সংখ্যা ৫২ হাজার ৭ শত ৯৩ জন।
    এর মধ্যে পুরষ ও নারী উভয়ের সমন্বয়ে বরিশাল জেলায় প্রবাসীর সংখ্যা সবচাইতে বেশি ৯০ হাজার ৭ শত ১১ জন এবং ঝালকাঠী জেলায় প্রবাসীর সংখ্যা সবচাইতে কম ২৫ হাজার ৫৯ জন। এছাড়া পটুয়াখালী জেলায় ২৭ হাজার ৮ শত ৯৭ জন, ভোলা জেলায় ৬৩ হাজার ১ শত ২৬ জন, পিরোজপুর জেলায় ৩৯ হাজার ১ শত ২২ জন,বরগুনা জেলায় ৩০ হাজার ২ শত ১৮ জন প্রবাসী রয়েছে।

    তথ্য মতে, বরিশাল জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ৭২ হাজার ৩ শত ৯৫ জন ,পটুয়াখালী জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৮শত ৯৪ জন,ভোলা জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ৪শত ৭৪ জন,পিরোজপুর জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ১ শত ৫জন,বরগুনা জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ২১ হাজার ৬ শত ১জন, ঝালকাঠী জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৮ শত ৭১ জন।

    এদিকে বরিশাল জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৩ শত ১৬ জন ,পটুয়াখালী জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ৯ হাজার ৩ জন,ভোলা জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ৫ হাজার ৬ শত ৫২ জন,পিরোজপুর জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ৬ হাজার ১৭ জন,বরগুনা জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ৮ হাজার ৬ শত ১৭জন, ঝালকাঠী জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ৫ হাজার ১ শত ৮৮ জন।

    তথ্য অনুযায়ী আরো জানা যায়,বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বরিশাল বিভাগ থেকে এ বছরের জানুয়ারী মাসে বিদেশ গমন করেন,২ হাজার ১ শত ৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষে সংখ্যা ১ হাজার ৪ শত ৩৩ জন এবং নারী সংখ্যা ৭ শত ৪২ জন।

    এর মধ্যে পুরষ মহিলা উভয়ের সমন্বয়ে এ বছরের জানুয়ারী মাসে বরিশাল জেলায় বিদেশ গমন কারীর সংখ্যা সবচাইতে বেশি ৬ শত ৮৭ জন এবং ঝালকাঠী জেলায় বিদেশ গমন কারীর সংখ্যা সবচাইতে কম ২ শত ৩ জন।

    এছাড়া পটুয়াখালী জেলায় ২ শত ৫২ জন, ভোলা জেলায় ৪ শত ১০ জন,পিরোজপুর জেলায় ৩ শত ২১ জন,বরগুনা জেলায় ২ শত ৯৫ জন প্রবাসী বিদেশ গমন করেছেন ।

    জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিস এর সহকারী পরিচালক এ কে এম সাহাবুদ্দিন আহমেদ আজকের বার্তাকে জানান, বরিশালে আবেদনের পরীপেক্ষীতে বছরে গড়ে প্রায় ৫ হাজার এর বেশী লোক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ গমন করেন ।

    তথ্য সূত্র অনুসারে প্রবাসীদের মধ্যে বরিশালের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে(সৌদি আরব) বেশি অবস্থান করছে।

    এছাড়া মালয়েশীয়া, ওমান, কুয়েত, কাতার সিঙ্গাপুর, বাহারাইন এবং জর্ডানে বরিশালের প্রবাসী মানুষের অবস্থান ভালো। তবে ইটালি এবং ইংল্যান্ড এ বরিশালের প্রবাসী মানুষের অবস্থান কম বলে জানান এই কর্মকর্তা।

  • ইংল্যান্ডকে ২৮৫ রানের চ্যালেঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার

    ইংল্যান্ডকে ২৮৫ রানের চ্যালেঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার

    বিশ্বকাপে আজকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডকে ২৮৫ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডকে করতে হবে ২৮৬ রান।

    মঙ্গলবার লর্ডসে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছেন অজি অধিনায়ক অ্যারোন ফিঞ্চ।

    এর আগে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে ১২৩ রানের জুটি গড়েন ফিঞ্চ। মঈন আলীর বলে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৬১ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৫৩ রান করেন ওয়ার্নার।

    দ্বিতীয় উইকেটে অ্যারন ফিঞ্চের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়েন উসমান খাজা। এক উইকেটে ১৭৩ রান করা অস্ট্রেলিয়া এরপর ৫৫ রানের ব্যবধানে হারায় ৪ উইকেট। ২৯ বলে ২৩ রান করে বেন স্টোকসের বলে বোল্ড হয়ে বিদায় ঘটে খাজার।

    এদিকে ফিঞ্চ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি করার পর জোফরা আর্চারের শিকার হন। ১১৬ বলে ১০০ রান করে সাজঘরে ফেরেন ফিঞ্চ। ১১৫ বলে সেঞ্চুরি করেন অজি অধিনায়ক। ১১টি বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি ছক্কার মার মারেন তিনি।

    ব্যাটিং তাণ্ডব শুরুর আগেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে সাজঘরে ফেরান মার্ক উড। ৮ রানে রান আউট মার্কু স্টইনিস।

    দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে হাল ধরতে পারেননি সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ৩৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৮ রান করতেই ক্রিস ওকসের বলে ক্যাচ তুলে দেন স্মিথ। তার বিদায়ের পর ইনিংসের শেষ দিকে একাই লড়াই করে যান অ্যালেক্স কেরি। তার ২৭ বলের অপরাজিত ৩৮ রানে ভর করে ৭ উইকেটে ২৮৫ রান তুলতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া।

  • পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ করার চক্রান্ত মমতা সরকারের, অভিযোগ বিজেপি সাংসদের

    পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ করার চক্রান্ত মমতা সরকারের, অভিযোগ বিজেপি সাংসদের

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়ে রাজ্যটিকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ তৈরির করার চক্রান্ত করা হচ্ছে এবং আর এই চক্রান্ত করছে মমতা ব্যনার্জির রাজ্য সরকার।

    মঙ্গলবার ভারতের লোকসভায় ‘মোশন অফ থ্যাঙ্কস’ পর্বে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রথমবারের এই সংসদ সদস্য।

    দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘দেশের সর্বত্র এক আইন হয়। কিন্তু আপনারা পশ্চিমবঙ্গে যেতে গেলে সেখানে বাংলা শিখে আসতে হবে। এখন মাননীয় সাংসদ হেমা মালিনী যদি গঙ্গাসাগরে পূণ্য স্নানে যেতে চান, তবে তাকে বাংলা শিখতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হেলিকপ্টার পশ্চিমবঙ্গে যেতে চাইলে তাদেরকে নামার অনুমতি দেওয়া হয় না।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন যে উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ওঁকে ধন্যবাদ। কোন বাংলা ভাষী প্রধানমন্ত্রী হলে আমরাও বাংলায় কথা বলতো পারবো। কিন্তু ৪২ আসনে জিতে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। এজন্য উনি ঠিক করেছেন যে বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গকে মিশিয়ে একটা দেশ তৈরি হলে সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন এবং তিনি নিশ্চিতভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। এজন্য সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে ওদের কাছে জনপ্রিয় নেতা না থাকায় প্রচারণার জন্য বাংলাদেশ থেকে অভিনেতা নিয়ে এসেছেন। ওনারা কেউ বহিরাগত নয়। ওই দেশ (বাংলাদেশ) থেকে অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা-যেই আসুক না কেন তারা বহিরাগত নয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ এ রাজ্যে আসলেই তারা বহিরাগত। আপনারা বাংলায় যেতে পারবেন না, সেখানে আপনাদের অনুমতি নেই। এজন্য আমরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান বলি। এটা কোন ধার্মিক স্লোগান নয়। কিন্তু তৃণমূলের তরফে পাল্টা বলা হচ্ছে ‘জয় বাংলা’। ওটা তো বাংলাদেশের স্লোগান। ওই বাংলাদেশ থেকে নিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গকে এখন ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানানোর একটা চক্রান্ত চলছে। আমরা এর চরম বিরোধিতা করছি।

    তার আরও অভিযোগ, ‘স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে যে বাংলা সবসময় আগে থেকেছে, সেই বাংলাকেই এখন পিছনের সারিতে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রচেষ্টা চলছে। বাংলাকে পৃথক করার একটা চক্রান্ত চলছে।’

    দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেশজুড়ে ৫৪২ আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ আসনে কোথাও সহিংসতা, গণ্ডগোল হয়নি। কেবল রাজ্যের ৪২টি আসনেই মারপিট, খুন সংগঠিত হয়েছে, রাস্তা অবরোধ হয়েছে। ওই রাজ্যে ভোটার রয়েছে, কিন্তু ভোটাধিকার নেই। সরকার আছে, কিন্তু গণতন্ত্র নেই।’ এ সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’এর সদস্যরা ‘শেম শেম’ বলে টেবিল চাপড়াতে থাকেন।

    অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল এর নামে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিজেপি নাগরিকত্ব ও ধর্মকে মিশিয়ে ফেলছে। এনআরসি এবং নাগরিকত্ব বিলের মধ্যে দিয়ে কেবলমাত্র একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে।

    কয়েকদিন আগে ঝাড়খন্ডের সেরাইকেলা এলাকায় মুসলিম যুবক তাবরেজ আনসারিকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি নিয়েও সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মহুয়া।

  • যেভাবে নিহত হন ইন্দিরা গান্ধী

    যেভাবে নিহত হন ইন্দিরা গান্ধী

    ভারতের দুইবারের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী প্রথমে ১৯৬৬-র জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭-এর মার্চ পর্যন্ত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের ১৪ জানুয়ারি আবার প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন।

    ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তারই দুই দেহরক্ষীর গুলিতে প্রাণ হারান।

    কেমন ছিল সেই দিনটি, কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল- বিভিন্ন বই পড়ে তারই একটি বিবরণ তুলে ধরেছেন বিবিসির হিন্দি বিভাগের রেহান ফজল।

    ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বর শহরের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর বেশ কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তবে বেশিরভাগ স্মৃতিই আনন্দের নয়। এই শহরেই তার বাবা জওহরলাল নেহরু প্রথমবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তারপরেই ১৯৬৪ সালের মে মাসে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ১৯৬৭ সালের নির্বাচনী প্রচারে এই শহরেই ইন্দিরা গান্ধীর দিকে একটা পাথর ছোঁড়া হয়েছিল, যাতে তার নাক ফেটে গিয়েছিল। সেই ভুবনেশ্বর শহরেই ১৯৮৪ সালের ৩০ অক্টোবর জীবনের শেষ ভাষণটা দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। প্রতিটা ভাষণের মতোই ওই ভাষণও লিখে দিয়েছিলেন মিসেস গান্ধীর মিডিয়া উপদেষ্টা এইচ ওয়াই শারদা প্রসাদ। কিন্তু ভাষণ দিতে দিতে হঠাৎই লেখা ভাষণ থেকে সরে গিয়ে নিজের মতো বলতে শুরু করেন ইন্দিরা। তার বলার ধরনও পাল্টে গিয়েছিল সেদিন।

    তিনি বলেছিলেন, আমি আজ এখানে রয়েছি। কাল নাও থাকতে পারি। এটা নিয়ে ভাবি না যে আমি থাকলাম কী না। অনেকদিন বেঁচেছি। আর আমার গর্ব আছে যে আমি পুরো জীবনটাই দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে পেরেছি বলে। আর শেষ নিশ্বাসটা নেওয়া পর্যন্ত আমি সেটাই করে যাব। আর যেদিন মরে যাব, আমার রক্তের প্রতিটা ফোঁটা ভারতকে আরও মজবুত করার কাজে লাগবে।

    কখনও কখনও বোধহয় শব্দের মাধ্যমেই নিয়তি ভবিষ্যতের একটা ইশারা দিয়ে দেয়। ভাষণের শেষে যখন মিসেস গান্ধী রাজ্যপালের আবাস রাজভবনে ফিরেছেন, তখন রাজ্যপাল বিশ্বম্ভরনাথ পান্ডে তাকে বলেছিলেন, একটা রক্তাক্ত মৃত্যুর কথা বলে আপনি আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছেন।

    আমি যা বলেছি, তা নিজের মনের কথা। এটা আমি বিশ্বাস করি, জবাব দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

    সেই রাতেই দিল্লি ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। খুব ক্লান্ত ছিলেন। সারা রাত প্রায় ঘুমাননি। পাশের ঘরে সোনিয়া গান্ধী ঘুমাচ্ছিলেন। ভোর প্রায় চারটে নাগাদ শরীরটা খারাপ লাগছিল সোনিয়ার। বাথরুমের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে ওষুধও রাখা থাকত।

    সোনিয়া গান্ধী নিজের বই ‘রাজীব’-এ লিখেছেন, “উনিও আমার পেছন পেছন বাথরুমে চলে এসেছিলেন। ওষুধটা খুঁজে দিয়ে বলেছিলেন, শরীর বেশী খারাপ লাগলে যেন একটা আওয়াজ দিই। উনি জেগেই আছেন।”

    সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। কালো পাড় দেওয়া একটা গেরুয়া রঙের শাড়ি পড়েছিলেন মিসেস গান্ধী সেদিন। দিনের প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্টটা ছিল পিটার উস্তিনভের সঙ্গে। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ওপরে একটা তথ্যচিত্র বানাচ্ছিলেন সেই সময়ে। আগের দিন ওড়িশা সফরের সময়েও তিনি শুটিং করেছিলেন।

    দুপুরে মিসেস গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেমস ক্যালিঘান আর মিজোরামের এক নেতার সঙ্গে। সন্ধায় ব্রিটেনের রাজকুমারী অ্যানের সম্মানে একটা ডিনার দেওয়ার কথা ছিল মিসেস গান্ধীর। তৈরি হয়েই ব্রেকফাস্ট টেবিলে এসেছিলেন তিনি। দুটি পাউরুটি টোস্ট, কিছুটা সিরিয়াল, মুসাম্বির জুস আর ডিম ছিল সেদিনের ব্রেকফাস্টে। সকালের খাবারের পরে মেকআপ ম্যান তার মুখে সামান্য পাউডার আর ব্লাশার লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তখনই হাজির হন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার কে পি মাথুর।

    রোজ ওই সময়েই মিসেস গান্ধীকে পরীক্ষা করতে যেতেন তিনি। ভেতরে ডেকে নিয়েছিলেন ডাক্তার মাথুরকে। হাসতে হাসতে বলেছিলেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগান কী রকম অতিরিক্ত মেকআপ করেন, যখন ৮০ বছর বয়সেও তার মাথার বেশির ভাগ চুল কালোই রয়েছে।

    ঘড়িতে যখন ন’টা বেজে দশ মিনিট, ইন্দিরা গান্ধী বাইরে বের হলেন। বেশ রোদ ঝলমলে দিনটা। তবুও রোদ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আড়াল করতে সেপাই নারায়ণ সিং একটা কালো ছাতা নিয়ে পাশে পাশে হাঁটছিলেন। কয়েক পা পেছনেই ছিলেন ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান আর তারও পেছনে ছিলেন ব্যক্তিগত পরিচারক নাথু রাম। সকলের পেছনে আসছিলেন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অফিসার, সাব ইন্সপেক্টর রামেশ্বর দয়াল।

    ঠিক সেই সময়েই সামনে দিয়ে এক কর্মচারী হাতে একটা চায়ের সেট নিয়ে পেরিয়ে গিয়েছিলেন। ওই চায়ের সেটে তথ্যচিত্র নির্মাতা পিটার উস্তিনভকে চা দেওয়া হয়েছিল। ওই কর্মচারীকে ডেকে ইন্দিরা বলেছিলেন মি. উস্তিনভের জন্য যেন অন্য আরেকটা চায়ের সেট বার করা হয়। বাসভবনের লাগোয়া দপ্তর ছিল আকবর রোডে। দুটি ভবনের মধ্যে যাতায়াতের একটা রাস্তা ছিল। সেই গেটের সামনে পৌঁছে ইন্দিরা গান্ধী তার সচিব আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। মি. ধাওয়ান তাকে বলছিলেন যে, ইন্দিরার নির্দেশমতো ইয়েমেন সফররত রাষ্ট্রপতি গিয়ানী জৈল সিংকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তিনি সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই দিল্লি চলে আসেন। পালাম বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করে সময়মতো যাতে রাজকুমারী অ্যানের নৈশভোজ সভায় পৌঁছাতে পারেন ইন্দিরা, সেই জন্যই ওই নির্দেশ।

    হঠাৎই পাশে দাঁড়ানো নিরাপত্তাকর্মী বিয়ন্ত সিং রিভলবার বের করে ইন্দিরা গান্ধীর দিকে গুলি চালায়। প্রথম গুলিটা পেটে লেগেছিল। ইন্দিরা গান্ধী ডান হাতটা ওপরে তুলেছিলেন গুলি থেকে বাঁচতে। তখন একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে বিয়ন্ত সিং আরও দুবার গুলি চালায়। সে-দুটো গুলি তার বুকে আর কোমরে লাগে। ওই জায়গার ঠিক পাঁচ ফুট দূরে নিজের টমসন অটোমেটিক কার্বাইন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সতবন্ত সিং।

    ইন্দিরা গান্ধীকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে সতবন্ত বোধহয় কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিল। স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে ছিল। তখনই বিয়ন্ত চিৎকার করে সতবন্তকে বলে ‘গুলি চালাও।’ সতবন্ত সঙ্গে সঙ্গে নিজের কার্বাইন থেকে চেম্বারে থাকা ২৫টা গুলিই ইন্দিরা গান্ধীর শরীরে গেঁথে দিয়েছিল।

    বিয়ন্ত সিং প্রথম গুলিটা চালানোর পরে প্রায় ২৫ সেকেন্ড কেটে গিয়েছিল ততক্ষণে। নিরাপত্তা কর্মীরা ওই সময়টায় কোনও প্রতিক্রিয়া দেখান নি, এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন সবাই। তারপরে সতবন্ত সিং গুলি চালাতে শুরু করতেই একদম পিছনে থাকা নিরাপত্তা অফিসার রামেশ্বর দয়াল দৌড়ে এগিয়ে আসেন।

    সতবন্ত তখন একনাগাড়ে গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন। মি. দয়ালের উরু আর পায়েও গুলি লাগে। সেখানেই পড়ে যান তিনি। ইন্দিরা গান্ধীর আশপাশে থাকা অন্য কর্মচারীরা ততক্ষণে একে অন্যকে চিৎকার করে নির্দেশ দিচ্ছেন।

    ওদিকে এক নম্বর আকবর রোডের ভবন থেকে পুলিশ অফিসার দিনেশ কুমার ভাট এগিয়ে আসছিলেন শোরগোল শুনে। বিয়ন্ত সিং আর সতবন্ত সিং তখনই নিজেদের অস্ত্র মাটিতে ফেলে দিয়েছে। বিয়ন্ত বলেছিল, আমাদের যা করার ছিল, সেটা করেছি। এবার তোমাদের যা করার করো।

    ইন্দিরার আরেক কর্মচারী নারায়ণ সিং সামনে লাফিয়ে পড়ে বিয়ন্ত সিংকে মাটিতে ফেলে দেন। পাশের গার্ডরুম থেকে বেরিয়ে আসা ভারত- তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বা আই টি বি পির কয়েকজন সদস্য দৌড়ে এগিয়ে এসে সতবন্ত সিংকেও ঘিরে ফেলে।

    সবসময়ে একটা অ্যাম্বুলেন্স রাখা থাকত ওখানে। ঘটনাচক্রে সেদিনই অ্যাম্বুলেন্সের চালক কাজে আসেন নি।ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাখনলাল ফোতেদার চিৎকার করে গাড়ি বার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মাটিতে পড়ে থাকা ইন্দিরাকে ধরাধরি করে সাদা অ্যাম্বাসেডর গাড়ির পিছনের আসনে রাখেন আর কে ধাওয়ান আর নিরাপত্তা কর্মী দিনেশ ভাট। সামনের আসনে, ড্রাইভারের পাশে চেপে বসে পড়েন মি. ধাওয়ান আর মি. ফোতেদার।

    গাড়ি যেই চলতে শুরু করেছে, সোনিয়া গান্ধী খালি পায়ে, ড্রেসিং গাউন পরে ‘মাম্মি, মাম্মি’ বলে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে আসেন। ইন্দিরা গান্ধীকে ওই অবস্থায় দেখে সোনিয়া গান্ধীও গাড়ির পিছনের আসনে চেপে পড়েন। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ইন্দিরা গান্ধীর শরীর। সোনিয়া তার মাথাটা নিজের কোলে তুলে নেন। খুব জোরে গাড়িটা ‘এইমস’ বা অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়েন্সের দিকে এগোতে থাকে। চার কিলোমিটার রাস্তা কয়েক মিনিটের মধ্যেই পেরিয়ে যায়।

    সোনিয়া গান্ধীর ড্রেসিং গাউনটা ততক্ষণে ইন্দিরা গান্ধীর রক্তে পুরো ভিজে গেছে।

    ওই গাড়িটা ‘এইমস’এ ঢুকেছিল ন’টা ৩২ মিনিটে। ইন্দিরা গান্ধীর রক্তের গ্রুপ ছিল ও নেগেটিভ। ওই গ্রুপের যথেষ্ট রক্ত মজুত ছিল হাসপাতালে। কিন্তু সফদরজং রোডের বাসভবন থেকে কেউ ফোন করে হাসপাতালে খবরও দেয় নি যে ইন্দিরা গান্ধীকে গুরুতর আহত অবস্থায় এইমস-এ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জরুরী বিভাগের দরজা খুলে গাড়ি থেকে ইন্দিরা গান্ধীকে নামাতে মিনিট তিনেক সময় লেগেছিল। কিন্তু সেখানে তখন কোনও স্ট্রেচার নেই। কোনওরকমে একটা স্ট্রেচার যোগাড় করা গিয়েছিল।

    গাড়ি থেকে তাকে নামানোর সময়ে ওই অবস্থা দেখে সেখানে উপস্থিত ডাক্তাররা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সাথে তার ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান। ফোন করে সিনিয়র কার্ডিয়োলজিস্টদের খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডাক্তার গুলেরিয়া, ডাক্তার এম এম কাপুর আর ডাক্তার এস বালারাম ওখানে পৌঁছে যান।

    ইসিজি করা হয়েছিল, কিন্তু তার নাড়ীর স্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল না। চোখ স্থির হয়ে গিয়েছিল। বোঝাই যাচ্ছিল যে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। একজন চিকিৎসক মুখের ভেতর দিয়ে একটা নল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যাতে ফুসফুস পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে। মস্তিষ্কটা চালু রাখা সবথেকে প্রয়োজন ছিল তখন। ৮০ বোতল রক্ত দেওয়া হয়েছিল ইন্দিরা গান্ধীকে। শরীরে যে পরিমাণ রক্ত থাকে, এটা ছিল তার প্রায় ৫ গুণ।

    ডাক্তার গুলেরিয়া বলছেন, “আমি তো দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম যে উনি আর নেই। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি করতে হয়েছিল। তারপরে আমি ওখানে হাজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী শঙ্করানন্দকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এখন কী করণীয়? ঘোষণা করে দেব আমরা যে উনি মৃত? তিনি না বলেছিলেন। তখন আমরা মিসেস গান্ধীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাই।”

    চিকিৎসকরা ‘হার্ট এন্ড লাং মেশিন’ লাগিয়েছিলেন ইন্দিরার শরীরে। ধীরে ধীরে তার শরীরে রক্তের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি থেকে কমে ৩১ ডিগ্রি হয়ে গেল। তিনি যে আর নেই, সেটা সকলেই বুঝতে পারছিল, কিন্তু তবুও ‘এইমস’এর আটতলার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। চিকিৎসকেরা দেখেছিলেন যে যকৃতের ডানদিকের অংশটা গুলিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। বৃহদান্ত্রের বাইরের অংশটা ফুটো হয়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে ক্ষুদ্রান্ত্রেরও। ফুসফুসের একদিকে গুলি লেগেছিল আর পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল গুলির আঘাতে। তবে হৃৎপিণ্ডতে কোনও ক্ষতি হয় নি।

    দেহরক্ষীদের গুলিতে ছিন্নভিন্ন হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর, দুপুর দুটো ২৩ মিনিটে ইন্দিরা গান্ধীকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি প্রচারমাধ্যমে সেই ঘোষণা করা হয়েছিল সন্ধ্যা ছ’টার সময়ে।

    ইন্দিরা গান্ধীর জীবনীকার ইন্দর মালহোত্রা বলছেন, গোয়েন্দা এজেন্সিগুলো আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে মিসেস গান্ধীর ওপরে এরকম একটা হামলা হতে পারে। তারা সুপারিশ পাঠিয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রীর আবাস থেকে সব শিখ নিরাপত্তা-কর্মীদের যেন সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সেই ফাইল যখন ইন্দিরা গান্ধীর টেবিলে পৌঁছায়, তখন ভীষণ রেগে গিয়ে তিনি নোট লিখেছিলেন, “আরন্ট উই সেকুলার?” অর্থাৎ, “আমরা না ধর্মনিরপেক্ষ দেশ?”

    এরপরে ঠিক করা হয়েছিল যে একসঙ্গে দু’জন শিখ নিরাপত্তা-কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি ডিউটি দেওয়া হবে না। ৩১ অক্টোবর সতবন্ত সিং বলেছিল যে তার পেট খারাপ। তাই তাকে শৌচালয়ের কাছাকাছি যেন ডিউটি দেওয়া হয়।

    এইভাবেই বিয়ন্ত আর সতবন্ত সিংকে একই জায়গায় ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। যার পরিণতিতে স্বর্ণ মন্দিরে সেনা অপারেশন – ‘অপারেশন ব্লুস্টার’এর বদলা নিয়েছিল তারা প্রধানমন্ত্রীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়ে।

  • আবারো সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে ওয়ার্নার

    আবারো সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে ওয়ার্নার

    বিশ্বকাপের আগের এক বছর ওয়ার্নারের কেটেছে নিষেধাজ্ঞায়। বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আর কখনও ফিরবেন কিনা তা নিয়েই ছিলো সংশয়। অসি ওপেনার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কোনো ম্যাচ না খেলেই ফিরেছিলেন তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে।

    ফিরেই নতুন করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন এই অসি ওপেনার। বিশ্বকাপে আজ (মঙ্গলবার) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ৬ ম্যাচ থেকে তিনি করেছিলেন ৪৪৭ রান। তার চেয়ে ২৯ রান বেশি করে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান।

    আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংস উদ্বোধনে এসে ফিফটি তুলে নিয়ে এখনও অপরাজিত আছেন ওয়ার্নার। এই ফিফটি করার পথে ২৯ রান করার পরই তিনি ছাড়িয়ে যান সাকিবকে। শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নার আউট হন ৫৩ রানে। এবং ৭ ইনিংস থেকে সর্বমোট ৫০০ রান সংগ্রহ করেছেন অসি ওপেনার।

    চলতি বিশ্বকাপে ৬ ইনিংসে ব্যাট করে ৪৭৬ রান করে বর্তমানে বিশ্বকাপে রান সংগ্রাহকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সাকিব। তার চেয়ে ২৪ রান এগিয়ে ওয়ার্নার। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ওয়ার্নারের স্বদেশি ও অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারোন ফিঞ্চ।