আম্পানের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে না দিতেই ভারতের দিকে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ৷
এবারের ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ ভারতে পশ্চিমভাগে করোনায় বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্রের দিকে।
ইতিমধ্যে এটি সুপার সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া দফতরের বরাতে ভারতের সংবাদমাধ্যম ওয়ানইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামীকাল (বুধবার) ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ মহারাষ্ট্র উপকূলে আছড়ে পড়বে৷ এ সময় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার। সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিও ঝরবে৷ ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ১২৫ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে৷
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০০ বছরের বেশি সময় পর ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইয়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে কোনো সাইক্লোন।
শুধু সাইক্লোনই নয়, এটি আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ‘প্রবল সুপার সাইক্লোনে’ পরিণত হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর।
এমন পূর্বাভাস মাথায় রেখেই সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেছে মহারাষ্ট্র সরকার ৷
সংবাদমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আরব সাগরে অবস্থিত লাক্ষাদ্বীপের কাছে তৈরি গভীর নিম্নচাপ এখন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে বুধবার সন্ধ্যার দিকে মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, দামান ও হরিহরেশ্বর উপকূলের মধ্য দিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে৷
ঘূর্ণিঝড়টির কারণে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোঙ্কন, গোয়া, মহারাষ্ট্রের কিছু অংশ ও গুজরাটে ভারী বর্ষণ হবে৷ মুম্বাইয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকা থানে, পালঘর, রত্নগিরি, সিন্ধুদুর্গ জেলা ও কোঙ্কনের আশেপাশের এলাকায় ঝড়টি ব্যাপক তাণ্ডব চালাবে।
নিসর্গের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ভারত সরকার।
মহারাষ্ট্রে, কেরালা, কর্নাটক, গোয়া, গুজরাত, লাক্ষাদ্বীপের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে৷ ইতোমধ্যেই রাজ্যের থানে, রায়গড়, রত্নগিরি এবং সিন্ধুদুর্গ এলাকায় উচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে।
উপকূলীয় অধিবাসীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এনডিআরএফ ও ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷
বৈঠকের পর পরই মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্রের ছয়টি জেলায় ৯টি টিম পাঠিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী৷ মুম্বাইয়ে ৩ টি ও পালঘরে ২টি ও থানে, রায়গড়, রত্নগিরি ও সিন্ধুদুর্গে ১টি করে টিম পাঠানো হয়েছে। মহারাষ্ট্র ও গুজরাতে যথাক্রমে ১০ ও ১১টি টিম পাঠানো হয়েছে৷
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গুজরাটের ভালসাড় এবং নবসারি জেলার ৪৭টি গ্রামের ২০,০০০ মানুষকে সরানো হয়েছে।
সংবাদসংস্থা পিটিআইকে ভালসাড় জেলা প্রশাসক আর আর রাভাল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ৩৫টি গ্রামের ১০,০০০ মানুষকে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। নবসারি জেলায় ১২টি গ্রামের ১০,২০০ লোককে সরানো শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করেন, ভারতের পশ্চিম উপকূলে ধেয়ে আসা সাইক্লোনের পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিলাম। সবার মঙ্গল কামনা করি। আমি সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, দু সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় সুপার সাইক্লোনে সাইক্লোনের কবলে পড়তে যাচ্ছে ভারত। গত মাসে বঙ্গপোসাগরে তৈরি হওয়া ঘুর্ণিঝড় আম্পান পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যা উপকূলে তাণ্ডব চালালে প্রায় ১০০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এতে পশ্চিমবঙ্গের ১ লাখ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের ছোবলে কেমন ক্ষতিতে পড়ে মুম্বাই সে আশঙ্কায় ভুগছে ভারতবাসী।
Category: আবহাওয়া
-

১০০ বছরের বেশি সময় পর ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে ভারত
-

যুদ্ধ বিমানের মতো শব্দে তিন মিনিটের আকস্মিক টর্নেডোর আঘাতে তসনস ঝালোকাঠির সারেংগল গ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার//জুবায়ের হোসাইন: গতকাল রাত ৪:৩০ টার দিকে দক্ষিণ -দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে হানা দেয় সারেংগল সহ আসপাশের কয়েকটি গ্রামে। এ সময় মানুষ আতংকিত হয়ে পরে।

ঘটনাস্থল থেকে ক্যামেরায় জুবায়ের হোসাইন
টর্নেডোর আঘাতে সারেংগল নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং সহ মাদ্রাসার মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আনুমানিক প্রায় চল্লিশটি ঘর এ তান্ডবের শিকার হয়। বিদ্যুৎ এর লাইন তসনস হয়ে পরে পুরো এলাকা,, কবে নাগাত বিদ্যুৎ আসবে সেই হিসেবও কারো নেই। স্হানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ উজ্জল খান এর দৃঢ় কর্ম দক্ষতায় সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। আজ দুপুর একটার দিকে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন ঝালোকাঠীর জেলা প্রশাসক জনাব জোহর আলী, ইউনো সহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আরো কর্মকর্তা গন। সারেংগল ইউপি সদস্য মোঃ উজ্জ্বল খাঁন তাদেরকে এলাকা পরিদর্শনে সহযোগিতা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মাদ্রাসা, মসজিদ ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকদেরকে সহযোগিতার আস্সাস দেন।
-

সকাল থেকে বরিশালে মুষলধারে বৃষ্টি, বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
বরিশালে বুধবার (২৭ মে) সকাল ৮টা ১০ মিনিট থেকে বজ্র-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হঠাৎ মুষলধারে একটানা বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে গেছে। এদিকে বজ্রপাতে বরিশালের মুলাদী উপজেলায় আব্দুল মান্নান নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুলাদীর ছবিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর ভেদুরিয়া গ্রামে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহম্মেদ জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুলাদীর ছবিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর ভেদুরিয়া গ্রামে কৃষক আব্দুল মান্নান গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এতে কৃষক আব্দুল মান্নানের মৃত্যু হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশালে ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের কারণে বজ্র-বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
-

ঈদের দিন বরিশালে হাল্কা বৃষ্টির শঙ্কা
সুপার সাইক্লোন আম্পানের রেশ এখনো কাটেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশ এখনো মেঘলা। এ মেঘলা আকাশ আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী দুদিনের যেকোনো একদিন ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। তাই ঈদের দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, রোবি ও সোমবার আকাশ মেঘলা থাকবে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ বিভাগগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা কম। ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে শনিবার সন্ধ্যায় সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। শনিবার দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে পরের দিন রোববার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর দেশের কোথাও চাঁদ দেখা না গেলে রোববার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে ঈদ উদযাপিত হবে সোমবার।
-

আম্পানে ভেসে গেছে ১৯ হাজার পুকুর-ঘেরের মাছ
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে প্রাথমিক হিসাবে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১৯ হাজার ২৪টি মাছের খামার, ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে এসব পুকুর ও ঘেরের মাছসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ৫৩ দশমিক ১৪ লাখ টাকা। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয় এই হিসাব করেছে।
তবে সরকারি হিসাবের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি আরও চার-পাঁচ গুণ বেশি বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের মৎস্যখামারিরা। তাঁরা বলেছেন, সরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র আসেনি। যদিও মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটা প্রাথমিক তালিকা। পূর্ণাঙ্গ তালিকা করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, আম্পানে বিভাগের মৎস্য সম্পদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা সর্বশেষ সিডরের পর আর হয়নি। ঝড়ে ২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির চাষ করা মাছ, চিংড়ি ও পোনা। শুধু বরিশাল জেলার ৫৭টি ইউনিয়নের ৮৮৩টি পুকুর ও ৩৬৯টি ঘেরের মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ভোলার ৪৮টি ইউনিয়নের ২ হাজার ২৩০টি পুকুর ও ৪৪৯টি ঘের থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। এর আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। বরগুনায় ২০টি ইউনিয়নের ১২০টি পুকুর ১০টি মাছের ঘের মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। পিরোজপুরে ৬ হাজার ৪৩০ পুকুর ও ৩২৫টি ঘেরের ক্ষতি ৩ কোটি ৭৬ লাখ, ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৯০০ পুকুর এবং ১০০ ঘেরের ৩ কোটি ৭ লাখ এবং পটুয়াখালীতে ৫ হাজার ৭৫৪টি পুকুর এবং ৬২৩টি ঘেরের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
তবে মাছ ব্যবসায়ী ও খামারিদের সঙ্গে আলাপ করলে তাঁরা এ তালিকার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের ক্ষতির পরিমাণের মিল না থাকার দাবি করেন। বরগুনার তালতলী উপজেলার ঘেরমালিকেরা জানান, তালতলী উপজেলার কেবল নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নেই সাত শর ওপরে ছোট–বড় ঘের রয়েছে। এ ছাড়া খোট্টারচর, ছোট বগি, পচাকোড়ালিয়া, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও এক হাজার ঘের রয়েছে। এসব ঘেরের অধিকাংশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে। জলোচ্ছ্বাসে অধিকাংশ ঘেরের মাছই ভেসে গেছে।
তালতলীর নিশানবাড়িয়ার ঘেরমালিক জাকির হোসেন গতকাল শুক্রবার সকালে বলেন, তাঁর ১০ একর আয়তনের ঘেরের মাছ ভেসে গিয়ে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব হারিয়ে তাঁর এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
বরগুনা ও পটুয়াখালীর দুই মৎস্যচাষি দাবি করেন, এই দুই জেলাতেই মাছ ভেসে গিয়ে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজিজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সহায়তা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে শুক্রবার পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

ঝালকাঠিতে পানি বন্দি অর্ধশত গ্রামের মানুষ, ফসলের ক্ষতি
করোনা দুর্যোগের মধ্যেই ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষ। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার চার উপজেলায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ৫০ গ্রামের বাসিন্দারা। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের। টানা বৃষ্টি ও প্রচন্ড বাতাসে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানের অভ্যন্তরিণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তার ছিড়ে জেলার সবকটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। ঝড়ে শহরের পুরনো স্টেডিয়াম ও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের অস্থায়ী বাজার বিধ্বস্ত হয়েছে।
এছাড়া জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসলের ক্ষেত ও বসতঘর তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে চার-পাঁচ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নলছিটির সরই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত আলতাফ হাওলাদার বলেন, রাতে আমরা পরিবারের লোকজন শবে কদরের নামাজ পড়ছিলাম, এরই মধ্যে প্রচন্ড বাতাসে ঘর মটমট করে ভাঙার শব্দ শুনতে পাই। মুহূর্তের মধ্যে স্ত্রী ও দুই মেয়কে নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরটি ভেঙে যায়। আমি গরিব মানুষ খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারনে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে সকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করতে পরেনি প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। তবে মাঠ পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
-

সে যে একজন সাদিক, নগরবাসির চিন্তায় নির্ঘুম রাত
তানজিম হোসাইন রাকিব: প্রাণ কেড়ে নিতে সময়ের অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাস আতঙ্ক থেকেও অধিকতর চিন্তা-ভাবনা দেখা দিয়েছিলো ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। ধেয়ে আসছে, এই খবরে বরিশালের চারিদিকে চরম আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় একরাত পার হলো গতকাল বুধবার ২০মে ঘনঘোর আঁধারে এক পরিবেশ। বরিশালের শুধু প্রশাসন নয়, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ক্ষয়ক্ষতি রোধে দিনের শুরু থেকে সর্বাত্মক চেষ্টায় ও কর্মপ্রয়াসে ফুটে উঠেছে কতটা মানুষের জন্য নিবেদিত। বিশেষ করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কাটিয়েছেন নির্ঘুম এক রাত।
সবাই যখন ঘুমে বিভোর তখন জেগে থাকা একজন ক্ষমতাসীন দলের নেতা প্রকৃতির ভয়ঙ্কর গতিবিধির সর্বশেষ তথ্য জানতে তার চোখ ছিলো অতন্দ্র প্রহরীদের ন্যায়।
বরিশাল নগর আ.লীগের সাধারণ সস্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও মাঠে নামিয়ে দিয়েছিলেন , স্ব্চ্ছোসেবকের ভ’মিকায়। ইতিপূর্বে এধরনের দুর্যোগে এই নেতা নিজেই স্পীডবোটযোগে নৌপথে নেমে হ্যান্ডমাইকে মানুষকে সতর্কতায় ভ’মিকা রাখতে দেখা গেলেও এবার করোনায় নিরাপত্তাজনিত কারনে ঘর থেকেই বরিশালে প্রস্তুতির সার্বিক চিত্র মনিটরিং করছিলেন। একপর্যায়ে রাতে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন, এমনটি জানালেন তার ঘনিষ্টজনরা।
এই নেতাও সকাল থেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন ঝড়ের গতিবেগ বরিশালকে ছোঁয়া দেয় কিনা এমন আশঙ্কা মাথায় রেখে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন নয়া এই দূর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের সহায়তা বা নির্দেশনা মানতে। তিনিও প্রস্তুত ছিলেন, আম্ফান যদি বরিশালকে আহত করে ক্ষয়ক্ষতির ধ্বংসস্ত’পে রূপ দেয় তাহলে পরবর্তী করণীয়সমূহ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণে।
জানা যায়, সন্ধ্যার পরই শুরু হয় অম্ফানের তান্ডব। সুন্দরবনে আঘাত হানার পর ঝাপটা আসতে থাকে দক্ষিণাঞ্চলে। প্রথমে যেভাবে বাতাসের গতিবেগ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল তাতে আশঙ্কা তৈরী হয়েছিলো বরিশাল জেলায় আম্ফান প্রকৃতির বৈরীতায় বিবর্ণ করে তুলতে যাচ্ছে। ভাগ্যসহায়, ধীরে ধীরে বাতাসের গতিবেগ কমে আসলেও গুমট ভাব মানুষের ভিতরকার আতঙ্ক আরও ভর করে।
ধারনা করা হচ্ছে, প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের সম্মিলিত পূর্বপ্রস্তুতিতে এঅঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অতোটা বেশী নয়। তবে মর্মদায়ক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে কলাপাড়া থেকে। সেখানে সতর্কীকরণ প্রচারণা চালাতে গিয়ে নদীতে নৌকা ডুবে শাহ আলম মীর (৫৫) নামের এক স্বেচ্ছাসেবক নিখোঁজ রয়েছেন। হিজলায় গভীর রাতে মেঘনায় দুই ট্রলারের সংঘর্ষে নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ট্রলার মাঝি রাসেল হাওলাদারের মৃতদেহ উদ্ধার করতে স্থানীয়রা সক্ষম হয়েছেন। ভোলার চরফ্যাসনের কচ্চপিয়ায় ঝড়ে গাছের নিচ চাপা পড়ে সিদ্দিক ফকির নামের ৭০ বছরের একজন মারা গেছেন।
এই ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় আম্ফানের যে গতিবেগের কথা প্রচার পেয়েছিলো এবং সন্ধ্যার পর তার আলামত শুরু হওয়ায় ভীতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি অস্বাভাবিক ছিলোনা। কিন্তু বরিশাল জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ক্ষমতাসীন মহল প্রকৃতির এই বৈরীতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ব ইতিহাস পর্যালোচনায় ভয়ঙ্করতা থেকে। উদ্বিগ্ন মানুষ রাতের গভীরতায় ক্লান্তিতে যখন ঘুমে আচ্ছন্ন তখন মেট্রোপুলিশ কমিশনার সাহাবুদ্দিন খান ও মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ চিন্তামগ্নে নির্ঘুম রাতটিতে ছিলেন সরব । পাশাপাশি জেলা প্রশাসক মোঃ অজিউর রহমান ও পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি রাতভর খোঁজখবর নিতে থাকেন, দিতে থাকেন সকল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা।
এদিক থেকে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ভুমিকা তাদের থেকেও ছাড়িয়ে যায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্ভাব্য আঘাত কি করে সামাল দেয়া যায়, সে নিয়ে দিনভর ব্যাস্ততা, রাতে উভয়ের চিন্তা আরও প্রবলতর হয়ে ওঠে। অন্তত বিভাগীয় এই শহরে আম্ফানের প্রবেশ করলেও মোকাবিলায় দৃঢ়তার সাথে জনতার পাশে থাকতে মাঠে থাকা দলীয় কর্মীদের সাথে সার্বক্ষীণক যোগাযোগ রাখেন সেহরীর পূর্বমূহূর্ত পর্যন্ত। রাতভর ব্যস্ত সময় পার করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে। যদিও সম্ভাব্য ইতিহাসের বড় ঝড়ের ছোবল আশঙ্কায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলেন কিন্তু মানসিকভাবে ছিলেন দৃঢ়চেতা। করোনার দুর্যোগের মাঝে আবার নতুন ঝামেলার উপসর্গ আম্ফান মোকাবিলায় তার কর্মপ্রয়াসে ফুটে উঠেছে তারা কতটা মানুষের জন্য নিবেদিত।
-

ঘূর্ণিঝড় আম্পান: বরিশাল বিভাগে মৃত্যু বেড়ে ৭
স্টাফ রিপোর্টার//বিথি আক্তার:তান্ডব চালিয়ে বিদায় হয়েছে সুপার সাইক্লোন আম্পান। আম্পানের তান্ডবে বরিশাল বিভাগে অন্তত ৭ জন মারা গেছেন। আর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিপুল। স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পিরোজপুরে নিজের ঘরের পাকা দেয়াল চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম মজিবুর রহমান (৫৫)। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মঠবাড়িয়া উপজেলার মঠবাড়িয়া কলেজের পেছনে এ ঘটনা ঘটে বলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানিয়েছেন। বরিশালের মৃহৃন্দীগঞ্জে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উদ্দিন জানান, মেহেন্দিগঞ্জ থানার দরির চর খাজুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মো: ইমন (১৬) নামের কিশোর বিকেলে নদীতে গোসল করতে নামে। এসময় ঝড়ো বাতাসের কবলে পরে সে ডুবে যায়।রাত ১০ ঘটার দিকে তার লাশ নদীতে ভেসে উঠে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে সাইক্লোন সেল্টারে লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে প্রচারণা কাজ চালাতে গিয়ে সকালে নৌকা ডুবে পানিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের সিপিপির টিম লিডার মো. শাহ আলম মারা যান। অন্যদিকে গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের খরিদা গ্রামে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে মো রাশেদ (৫) সন্ধ্যার কিছু আগে আশ্রয় কেন্দ্রে যাবার সময় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে নিহত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী। অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া গ্রামের সিদ্দিক ফকির (৭০) বাড়ির পাশে গাছের নিচে চাপা পড়েন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এর আগে সকালে চট্টগ্রামে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা মোহাম্মদ রাফিকুল ইসলাম (৩৫) ফিরছিলেন। লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘট থেকে ট্রলারে করে ভোলার ইলিশা ঘাটে আসার পথে মেঘনায় ট্রলার উল্টে নিহত হন তিনি। লকডাউন অমান্য করার কারণে পরিবারের লোকজন তার মৃত্যুর ঘটনা শুরুতে গোপন রাখেন। বোরহানউদ্দিন থাকার ওসি এনামুল হক জানান, নিহতের লাশ বিকালে তার বাড়ি হাসান নগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে আনার পর পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে। তাছাড়া বরগুনা সদর উপজেলার পরীরখান বাজার এলাকার জোয়ারের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে মো. শহীদ (৬০) নামে এক ব্যক্তির। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
-

করোনা ও ঘূর্ণিঝড় একসঙ্গে মোকাবেলা হবে নতুন অভিজ্ঞতা
করোনাভাইরাস মহামারীর এ দুঃসময়ে আরেকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সুপার সাইক্লোন “আম্পান” বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় আকারে উপকূলে আঘাত হানবে এমন আশংকায় সবাই আতংকিত।
এ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তীব্র ঝড়ো বাতাস, ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশংকা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সতর্কতার উল্লেখ করা হচ্ছে।এ বিষয়ে বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের সিনিয়র গবেষক ড. মোহন কুমার দাশ সাংবাদিকদের বলেন, অতি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার মাধ্যমে দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ঘূর্ণিঝড়ের মতো সমন্বিত দুর্যোগ মোকাবিলা করা হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে বিশ্বে রোল মডেল উল্লেখ করে বুয়েটের এ সিনিয়র গবেষক বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর এই দুর্যোগে সামাজিক দূরত্ব রক্ষার প্রয়োজনে আশ্রয় কেন্দ্র বাড়ানো, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর আগাম যথাযথ সরবরাহ, পারস্পরিক মানবিকতাবোধ, সচেতনতা এ কঠিন সময়ে সংক্রমণ রোধে ও দুর্যোগ মোকাবেলায় খুবই অপরিহার্য।
জনজীবনের সুরক্ষার কৌশল প্রণয়নে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক গবেষণা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঘূর্ণিঝড় সিডর (নভেম্বর ২০০৭), আইলা (মে ২০০৯), ভিয়ারু (২০১৩), রোয়ানু (২০১৬), মোরা (২০১৭), বুলবুল (২০১৯) থেকে বাঁচার ও সুরক্ষার উপায় উদ্ভাবনের একমাত্র পন্থা আধুনিক গবেষণা।
ড. মোহন কুমার দাশ সাংবাদিকদের বলেন, আম্পান ঘূর্ণিঝড়টি এখন ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্নমে অবস্থিত ডপলার আবহাওয়া রাডারের কার্যকর সীমার আওতাধীনে চলে আসায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নততর আবহাওয়া গবেষণায় রাডার ডাটার গুরুত্ব অপরিসীম। এ ধরণের ডাটা সংরক্ষণ, গবেষণার জন্য সহজ প্রাপ্যতা করা দরকার।
সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে সাগর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা, জীবনচক্র প্রভৃতি রাডার ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা আগামীতে সমন্বিত দুর্যোগ মোকাবেলার কৌশল প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সমর্থ হবে।
তিনি জানান, এ ধরণের জনকল্যাণকারী অত্যাধুনিক গবেষণা দুর্লভ ডাটা সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছিল সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র (এসএমআরসি)।
বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, বজ্রঝড়, টর্নেডো, তাপ প্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ, খরা, ভারী বৃষ্টি, অকাল বন্যা, বন্যা, নদী ভাঙ্গন, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প, সুনামি প্রভৃতি) ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমাদেরকে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার প্রতি আলোকপাত করে।
তারপর ও দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র আবহাওয়া ও জলবায়ু বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র (শেরে বাংলা নগর, ঢাকা) বন্ধ করে এর গবেষক বিজ্ঞানীদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এটা আমাদের দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
-

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে বরিশালে বৃষ্টি
তানজিম হোসাইন রাকিব: সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’ সর্বোচ্চ ২৪৫ কিলোমিটার গতির ঝড়ো বাতাস নিয়ে উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। সঙ্গী হবে অতি ভারী বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাস। এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সকাল থেকেই বরিশালের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। সকাল থেকে কোথাও হচ্ছে বৃষ্টি।
দুপুরের দিকে বৃষ্টিপাত বাড়লেও বাতাসের গতিবেগ স্বাভাবিক ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার রাত পেরিয়ে বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আঘাত হানতে পারে। এজন্য পায়রা সমুদ্রবন্দরে জন্য ৭ নম্বর বিপদ সংকেত থাকলেও বরিশাল নদীবন্দরের জন্য তা ২ নম্বর বলবৎ আছে। তাই বিআইডব্লিউর পক্ষ থেকে সব নৌযানকে নিরাপদ স্থানে রাখার নির্দেশ রয়েছে এবং পন্টুনে থাকা কর্মীদের সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানালেন নৌ-সংরক্ষণ ও ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এসএম আজগর আলী।