Category: আবহাওয়া

  • বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ ৫টি ঘূর্ণিঝড়

    বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ ৫টি ঘূর্ণিঝড়

    সুপার ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

    রোববার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

    ঘূর্ণিঝড়টি রোববার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

    বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অফিস জানায়, এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে আগামীকাল বুধবার বিকেলে বা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬০ সাল থেকে ২০০৭ সালে সিডরের পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়গুলোকে ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বা প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
    ২০০৭ সালে প্রথম স্পষ্ট নামকরণ করা হয়। ২২৩ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা এবং ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসে নিয়ে আসা সেই ঘূর্ণিঝড় ছিল সিডর যাকে সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম উইথ কোর অব হারিকেন উইন্ডস (সিডর) নাম দেয়া হয়।

    সবচেয়ে ভয়াবহ ৫টি ঘূর্ণিঝড়
    বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচনা করা হয় ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়কে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক শাহ আলম বলেন, সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ছিল ১৯৭০ এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়। এরপরে তিনি সাইক্লোন সিডরের কথা উল্লেখ করেন।

    ১৯৭০ এর ঘূর্ণিঝড়: ১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর সবোর্চ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে চট্টগ্রামে আঘাত হানা এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।

    যে হিসেব পাওয়া যায় তাতে ১৯৭০ এর সালের প্রবলতম ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়। সেসময় ১০-৩৩ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল এবং অসংখ্য গবাদি পশু এবং ঘরবাড়ি ডুবে যায়।

    সাবেক পরিচালক শাহ আলম বলেন, অনেকে মনে করেন মৃতের সংখ্যা আসলে ৫ লাখেরও বেশি ছিল।

    তিনি বলেন, “৭০ এর সাইক্লোন থেকেই মূলত মোটামুটিভাবে মনিটর করা শুরু হয়। সেই ঘূর্ণিঝড়টা সরাসরি বরিশালের মাঝখান দিয়ে উঠে আসে। ভোলাসহ অনেক এলাকা পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।”

    ১৯৮৫ সালের ঘূর্ণিঝড়: উরিরচরের ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত এই সাইক্লোনটি যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৫৪ কিলোমিটার। আলম বলেন, “এটা অল্প জায়গায় হয়েছে ফলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি ছিল না”।

    ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়: নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এই ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ১২-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২২৫ কিলোমিটার।

    ১৯৯১ সালের ২৯-৩০ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেয়া হয় ‘শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে যাতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায় বলে জানা যায়। যদিও বেসরকারি সংগঠনের দাবি অনেক মাছধরার ট্রলার সাগরে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন আরও অনেকে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক কোটি মানুষ।

    আবহাওয়া বিভাগের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, “এই সাইক্লোনে অনেক পানি হয়েছিল। অনেক মানুষ মারাও গিয়েছে। যদিও পূর্বাভাস ভালো ছিল, ২৭ ঘণ্টা আগে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ৬ ঘণ্টা ধরে স্থলভাগে আসে এবং তাণ্ডব চালায় এই সাইক্লোনটি।”

    তিনি বলেন, “সাধারণত ২/৩ ঘণ্টার বেশি সাইক্লোন থাকে না। কিন্তু এটি ছয়-ঘণ্টার বেশি সময় বাতাস বইতে থাকে”।

    শাহ আলম জানান, ২২৪ কিলোমিটার বেগে আসা এই ঘূর্ণিঝড়ে তেলের ট্যাংকার পর্যন্ত ওপরে উঠে গিয়েছিল।

    ঘূর্ণিঝড় সিডর: ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার।

    জোয়ারের সময় হয়নি বলে প্লাবন কম হয়েছে, ফলে তুলনামূলক মানুষ কম মারা গেছে, কিন্তু অবকাঠামোগত অনেক ক্ষতি হয়েছে, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সিডরে রেডক্রসে হিসেবে ১০ হাজার মারা গেছে বলা হলেও সরকারিভাবে ৬ ছয় হাজার বলা হয়েছিল।

    ঘূর্ণিঝড় আইলা: ২০০৯ সালের ২৫শে মে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় আইলা, যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

    আলম বলেন, “বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ‘৭০ এবং ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে”।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞের চোখে
    বাংলাদেশে উপকূলীয় এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে দুর্যোগ ফোরাম। এই সংগঠনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নাইম ওয়ারা বলেন, মানুষ বাতাসকে ভয় পায়না, ভয় পায় পানিকে। আর জোয়ারের সময় ঘূর্ণিঝড় হলে তা বিশাল রূপ নেয়। ৭০ এবং ৯১ সময় সেটাই হয়েছিল।

    তবে তিনি মনে করেন, ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটি সবসময় পূর্ণাঙ্গভাবে উঠে আসেনা। । “কারণ তখন তথ্য সংরক্ষণের ততটা ব্যবস্থা ছিলনা। তাছাড়া কর্তৃপক্ষ ডেডবডি কাউন্ট করে, সরকার ডেডবডি না পেলে মৃত হিসেবে লিপিবদ্ধ করে না। সাগরে যারা হারিয়ে গেছে তাদের হিসাব তো করা হয় না।”

    ”সিডরে ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল বলেছিল রেডক্রস। কিন্তু সরকার বলেছিল ৬ হাজার। সুতরাং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সবসময় ঠিকভাবে উঠে আসেনা”।

    তিনি বলেন “আইলাতে কম মানুষ মারা গিয়েছিল, দিনের বেলায় হওয়াতে অনেকে সরে যেতে পেরেছিল। কিন্তু আইলার ক্ষতি এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। শুধু মানুষ না পশু-প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল”।

    উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়

    বাকেরগঞ্জের প্রবল ঘূর্ণিঝড়- ১৮৭৬ সালের ১লা নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়টি অনেকের কাছে বাকেরগঞ্জের প্রবল ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত। তাতে প্রাণ হারিয়েছিল ২ লাখ মানুষ, যখন ১০ থেকে ৪৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়।
    ১৯৬০ সালের ৩১ অক্টোবরের প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লাখ ১৪৯ জন নিহত হয়। ৬.১ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস ছিল।
    ১৯৬০ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়
    ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামে ১ অক্টোবর ২০-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়
    ২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস এর পূর্বাভাস দেওয়া হলেও পরে তা বার্মার উপকূলে আঘাত হানে। মিয়ানমারে এর প্রভাবে বহু ক্ষতি হয়।
    ২০১৩ সালের ১৬ মে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের ঘূর্ণিঝড় ‘মাহাসেন’
    ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে ৫-৭ ফুট উচ্চতার ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’
    ২০১৬ সালের ২১ মে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলে ৪-৫ ফুট উচ্চতার ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’
    ২০১৭ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’।

  • ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশ

    ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশ

    স্টাফ রিপোর্টার// সাইফুল ইসলাম : ঘূর্ণিঝড় আস্ফান এর কারণে আশ্রয় কেন্দ্রে হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানদের চাবি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান সহ খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড বরিশাল। ১৯ মে ২০২০ তারিখের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি আদেশ বলে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানগণকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় “আমফান ‘ আগামী ২০ মে, ২০২০ তারিখ বুধবার বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সে লক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়ের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সার্বক্ষণিক খোলা রাখার অনুরোধ সহ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সার্বক্ষণিক চাবি সহ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ প্রদান করেছে শিক্ষাবোর্ড। ঘূর্ণিঝড়ের সময় জরুরি প্রয়োজনে বোর্ডের কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করার জন্যও অনুরোধ করেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস।

  • যে ১৪ জেলায় প্রথম আঘাত হানবে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’

    যে ১৪ জেলায় প্রথম আঘাত হানবে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’

    দক্ষিণ বঙ্গোসাগরে সৃষ্টি হওয়ার পর সুপার সাইক্লোনের শক্তি নিয়ে উপকূলে দিকে এগিয়ে আসছে ‘আম্পান’। আর উপকূল অতিক্রম করে সমতলে ওঠে আসার সময় ১৪ জেলায় তাণ্ডব চালাতে পারে।

    ১৯ মে মঙ্গলবার আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত আম্পানের ২৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুপার সাইক্লোন আম্পান উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি মঙ্গলবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, মােংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৭৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

    উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯ মে শেষরাত হতে ২০ মে বিকেল অথবা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৯০ কিমির মধ্যে বর্তমানে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়াে হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিমি পর্যন্ত বাড়ছে। সুপার ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

    এ অবস্থায় মােংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরােজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভােলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নােয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

    ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরােজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভােলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নােয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলােচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।

    ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরােজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভােলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নােয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝড়াে হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

    বঙ্গোপসাগরের কোনো ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের ওপরে ওঠে গেলে, তাকে সুপার সাইক্লোন বলা হয়। আর প্রাক বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া এ শতাব্দির প্রথম সুপার সাইক্লোনের জায়গা দখল করে নিলো আম্পান।

  • করোনা দুর্যোগে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ‘আম্পান’

    করোনা দুর্যোগে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ‘আম্পান’

    দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চরম পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠার লড়াইয়ের মধ্যেই ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। এতে উপকূলে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

    আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, সমুদ্রে ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে ইতিমধ্যেই ‘আম্পান’ ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। তার অভিমুখ এখন ওড়িশা এবং বাংলার উপকূলের দিকে। সোমবারই অতি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে ‘আম্পান’। সেই সঙ্গে বাঁক নিয়ে আছড়ে পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপে।

    দেশে এমন সময়ে একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যখন দেশবাসীকে করোনাভাইরাস মহামারি সামাল দিতে জেরবার হতে হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পুরো সক্ষমতাই বলতে গেলে লড়ছে মহামারি সামলাতে।

    আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ বলছেন, এই সময়ে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিতে হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

    আবদুল ওয়াজেদ বিবিসিকে বলেন, ‘নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা একটু কষ্টকর হবে। নারীদের জন্য এটা আরও কষ্টকর হবে। কারণ গাদাগাদি হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। আর কোন সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় পাওয়া যাবে সেটিও একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।’

    মানুষ এবং গবাদিপশুর মৃত্যুহার কমাতে গেলে সাইক্লোন শেল্টারের কোনো বিকল্প নেই। তাই পর্যাপ্ত সেন্টার খুঁজে পাওয়াটাও একটা চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন তিনি।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ যখন আঘাত হানবে তা অতি প্রবল হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। পূর্বের অভিজ্ঞতা বলে, এ ধরনের ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট হয়। ঘরবাড়ি, গাছ-পালার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে।

    তবে দেশের কোন কোন জেলার উপর দিয়ে এই ঘূর্ণিঝড়টি বয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন সামছুদ্দিন আহমেদ।

    এদিকে ঘূর্ণিঝড় আমপানের কারণে প্রস্তুতি হিসেবে এরইমধ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপকূলীয় জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ স্কাউটস এবং সিপিসি এর মধ্যে এর আগেই বৈঠক হয়েছে বলে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে প্রথম যে বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেয়া হয় সেটি হচ্ছে সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা।

    তবে এবার যেহেতু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে কোভিড-১৯ এর কারণে, সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হবে।

    এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কে কোন আশ্রয়কেন্দ্রে যাবে তারও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে, প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ব্যবহার করা হবে এবং বাড়ির কাছে থাকা স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

    এরইমধ্যে যেহেতু চার নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে তাই, মাঠ পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রচারের কাজ করছে যাতে মানুষ সচেতন হয়।

    দেশে এই মুহূর্তে ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন যারা দুর্যোগের সময়ে কাজ করেন।

    পরবর্তী সময়ে বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হলে সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হবে। সেখানে খাদ্য, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পানীয় জলের ব্যবস্থা এগুলো নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানান সিনিয়র সচিব।

  • ঘূর্ণিঝড় আম্ফান: ভয়ে সুন্দরবন

    ঘূর্ণিঝড় আম্ফান: ভয়ে সুন্দরবন

    ফণী আর বুলবুলের ক্ষত উস্কে দিয়ে একই পথে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এখনো উপকূলের আকাশ পরিষ্কার দেখালেও ফুঁসছে সমুদ্র। মাছধরার নৌকাগুলো তীরে ফিরেছে। ঝড়ের গতিপথ এবং ভয়াবহতার খবর মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তবে এখনো অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয় ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা।

    গতি কতটা শক্তিশালী হবে, তা এখনো পর্যন্ত বোঝা না গেলেও চোখ রাঙিয়ে ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে আসছে উপকূলের দিকে। বাংলাদেশ অথবা ভারত, আঘাত যেখানেই লাগুক না কেন, এবারও সুন্দরবনেই লাগতে পারে ঝাপটা। এবারও ভয়ে সুন্দরবন। আতঙ্ক রয়েছে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার মানুষের মনে। নাজুক বেড়িবাঁধ তাদের সেই ভয় আরও বাড়িয়ে তুলছে।

    ঘূর্ণিঝড় কোথায়, কতটা শক্তি নিয়ে আঘাত করবে, এখনো তা বলার সময় আসেনি, বলেছ দেশি-বিদেশি আবহাওয়া দফতরের সূত্রগুলো। তবে এখন পর্যন্ত গতি প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে মঙ্গল অথবা বুধবার এটি উপকূলের আছড়ে পড়তে পারে। মাত্র এক দশক আগে প্রবল শক্তি নিয়ে উপকূলে আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড় আইলার সর্বোচ্চ গতি ছিল ১১২ কিলোমিটার। আম্ফানের গতি ১৭০-১৮০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সামনের সময়ে গতি কতটা পরিবর্তন হবে, তা বলা যাচ্ছে না। দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রতলের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অনুকূল, তাই গতি ক্রমে বাড়ছে। সেখানকার তাপমাত্রা এখন ৩০-৩১ সেলসিয়াস। কিন্তু নিকটবর্তী উপকূলে সমুদ্রতলের তাপমাত্রা অনেক কম। ফলে কাছে এসে এর গতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। স্থলভাগের শুকনো হাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের গতি আরও কমিয়ে দিবে। এমনটাই আশাবাদ আবহাওয়াবিদদের।

    ঘূর্ণিঝড় ফণী আর বুলবুল আঘাত করেছিল সুন্দরবনে। এগারো বছর আগে ২০০৯ সালে আইলাও আঘাত করেছিল সুন্দরবনে। এবারের গতিও বলছে, ঝুঁকিতে রয়েছে সুন্দরবন। ঠিক এক বছর আগে ২০১৯ সালের ৩মে’র ঘূর্ণিঝড় ফণী এবং ছ’মাস আগে ৯ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সুন্দরবনের মারাত্মক ক্ষতি করতে না পারলেও ক্ষতির পরিমাণ একেবারে কম ছিল না। তবে আইলায় ক্ষতির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। সুন্দরবনের আশপাশের জনজীবন ওলটপালট করে দিয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় আইলা। সেই ক্ষত ওই এলাকার মানুষ এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে। দশ বছরেও সে অঞ্চলের মানুষ ক্ষতি কাটিয়ে তো উঠতে পারেনি; বরং ঝুঁকি আরও বেড়েছে। আইলা-শক্তির ঘূর্ণিঝড় সামাল দেওয়ার শক্তি নেই সুন্দরবনের আশপাশের বহু এলাকার।

    ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সতর্কতায় উপকূল জুড়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেছে। কিন্তু মাঠের অবস্থা কী? জানতে চেয়েছিলাম সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডলের কাছে। তিনি জানালেন, ঘূর্ণিঝড় আসার খবরেই আমরা নড়েচড়ে বসি। আসার আগে তড়িঘড়ি করে সব কাজ করার করার চেষ্টা করি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় চলে গেলে আর কিছু মনে থাকে না। উপর মহল আমাদের কাছে জরুরি আদেশ পাঠিয়েই খালাস। বাজেট বরাদ্দ আসবে কিনা খবর থাকে না। অথচ কাজগুলো আমাদের করে যেতে হয়। গত বছর ঘূর্ণিঝড় ফণীর পরে যেসব আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল; যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল; তার খুব একটা বাস্তবায়ন দেখছি না। যা হয়েছে বলা যায় জোড়াতালি।

    সুন্দরবন লাগোয়া সাকবাড়িয়া নদীর তীরের নাজুক বাঁধ, কয়রা/ ছবি: র ই মন্টু
    ঘূর্ণিঝড় আসার খবর এলেই নজর পড়ে উপকূলের প্রস্তুতির দিকে। পূর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলের অনেক স্থানেই নড়বড়ে অবস্থা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে। পশ্চিম উপকূলের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটার অনেক স্থানের নাজুক অবস্থা রয়েছে। শ্যামনগরের ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে গাবুরা, পদ্মপুকুর ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ঝুঁকিতে রয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা নদী তীরবর্তী কলবাড়ি নামক স্থান ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া দাতিনাখালী আতিয়ার মোড়লের বাড়ির সামনে, দুর্গাভাটি নেছার মালির বাড়ি সামনে, হাকিম গাজীর বাড়ির সামনে, নীলকান্ত মেম্বারের বাড়ির পাশে, সব নিয়ে ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

    দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চারিদিকে ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানালেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম। তিনি বলেন, চার নম্বর সতর্কতা সংকেত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো আকাশে ঝকঝকে, কোথাও এক টুকরো মেঘ নেই। এখন তো মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলতে পারছি না। তবে উপরের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। মি. আলম জানান, ঘূর্ণিঝড়ের আভাস এলে এই ইউনিয়নের ৪৫ হাজার মানুষ আতংকে থাকে। ঘূর্ণিঝড়ের পরে আশ্বাস পেলেও তা পূরণ হয় না। ঘূর্ণিঝড় ফণী পর দু’ দু’বার মন্ত্রী এলেন, সচিব এলেন, পরিকল্পনা করলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। এগারো বছর আগের ঘূর্ণিঝড় আইলা গোটা গাবুরা ভাসিয়েছিল লবণ পানিতে। এখনো বিপন্নতা কাটেনি।

    ওদিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের চাপে বছরে বেশ কয়েকবার ভেঙে যায় বাঁধ। ভাসে গ্রামের পর গ্রাম। অনেক মানুষ এলাকা থেকে অন্যত্র চলে গেছে। বাঁধ সংস্কার কিংবা নতুন বাঁধ নির্মাণে কোন উদ্যোগ নেই। ২০০৯ সালের আইলা সে এলাকার বাঁধও নড়বড়ে করে দিয়েছিল। ফণীর পরে আশ্বাস পাওয়া গিয়েছিল বাঁধ হবে। কিন্তু হয়নি। ফলে এবারের বর্ষা মৌসুমেও ঝুঁকিতেই রয়ে গেল আশাশুনির ওই এলাকা।

    কপোতাক্ষ নদীর পাড়ে খুলনার কয়রা উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থান ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানকার বাসিন্দা আকতারুল আলম সৌরভ জানালেন, উপজেলার দশালিয়া, উত্তর মদিনাবাদ, গোবরা, ঘাটাখালী, হরিণখোলা, কাঠকাটা, বেতবুনিয়া, ঘড়িলাল, গোলাখালী, আংটিহারা, চরামুখা এলাকার বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। বেশ কয়েকদিন আগে পূর্ণিমার জোয়ারে বেড়িবাঁধ ধ্বসে লোকালয় ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করে। বর্ষাকালে এই এলাকার মানুষ চরম ঝুঁকিতে থাকে। বাঁধ মেরামতের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশ্বাস পাওয়া গেলেও কোন কাজ হয়নি। এভাবে পড়ে আছে বছরের পর বছর।

    কয়রা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবন লাগোয়া দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন। এখানকার বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। বর্ষায় ঝুঁকি বাড়ে। ঘূর্ণিঝড়ের সিগন্যাল না হলে জোয়ারের পানিতেই পানি উঠে যায় বাঁধ ছুঁই ছুঁই। গেল বছর মে মাসের প্রথমে ঘূর্ণিঝড় ফণী আর নভেম্বরে বুলবুলের আঘাতে এলাকার মানুষজন চরম আতংকে ছিল। বুলবুলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। মাছের ঘেরে ঢুকে পড়েছিল নোনা পানি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কবি শামসুর রহমান বলছিলেন, ইউনিয়নের সাড়ে ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার অত্যন্ত নাজুক। এরমধ্যে আবার সাত কিলোমিটার মোটর বাইক চলাচলের অনুপযোগী। বেড়িবাঁধ এভাবে নাজুক অবস্থায় রেখে দুর্যোগের ঝুঁকি কীভাবে সম্ভব? প্রশ্ন রাখেন তিনি। মি: রহমান বলেন, সরকারি সাহায্য যা আসে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। কাকে রেখে কাকে দেই। এ এলাকায় নাজুক বেড়িবাঁধই এ এলাকার প্রধান সমস্যা। শক্ত করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উঁচু বেড়িবাঁধ হলেও ঝুঁকি কমেনি খুলনার দাকোপ, কিংবা বাগেরহাটের শরণখোলায়। দাকোপের সুন্দরবন লাগোয়া সুতারখালী ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকা বরাবরই ঝুঁকিতে থাকে। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর উঠে দাঁড়াতে পারেনি কালাবগি গ্রামটি। এলাকাটি অনেক আগেই ঝুলন্ত গ্রামে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত বেড়িবাঁধের বাইরে রয়েছে এলাকাটি। শরণখোলায় ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত করেছিল ২০০৭ সালে। যেখানে আঘাত করেছিল সেই গাবতলা, বগীর অবস্থা এখনো নাজুক। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নতুন বেড়িবাঁধ নির্মিত হলেও তা বার বার ধ্বসে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যায়।

    কেন একই পথে বার বার ঘূর্ণিঝড়ের ছোবল? প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। তবে এক এক দশকে এক এক ধরণের ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। এক সময় দেখেছি, ঘূর্ণিঝড়গুলো মায়ানমারের ওপর দিয়ে যায়। আবার দেখলাম বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালীর ওপর দিয়ে যায়। কয়েক বছর ধরে দেখছি, উড়িষ্যা-বাংলাদেশ অভিমুখে আসছে। তিনি বলেন, আম্ফান কতটা শক্তি নিয়ে উপক‚লে আঘাত করবে; সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। ফণী বা বুলবুলের গতিতে আসলে সুন্দরবন তো কিছুটা ঝুঁকিতে থাকবে। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে অনেক সমস্যা আছে। সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে।

    করোনা আতংকের মাঝে বাড়তি এক আতঙ্ক নিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা করোনা জয়ের কৌশল; কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের একত্রিত হওয়ার। আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের একত্রিত হতে হবে। প্রস্তুতি ও ত্রাণ কার্যক্রমেও মানুষের একত্রিত হওয়ার কোন বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে আম্ফান কতটা ভোগান্তিতে ফেলে, সেটাই দেখার বিষয়।

  • পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা না বাংলাদেশ, কোথায় আঘাত হানবে ‘আস্ফাল’

    পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা না বাংলাদেশ, কোথায় আঘাত হানবে ‘আস্ফাল’

    ভারতের আটটি রাজ্যে জারি করা হয়েছে ঘূর্ণিঝড় আমফানের সতর্কতা। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, মেঘালয়সহ আটটি রাজ্যে আমফানের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ১৬ মে, শনিবার ভোরে একটি নিম্নচাপ দেখা গেছে। যা পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে।

    আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ এইট্টিন’এর খবরে বলা হয়, এই নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর কোথায় আছড়ে পড়বে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি আবহাওয়া দপ্তর। উত্তর ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকা অথবা বাংলাদেশেই তা আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

    ইতোমধ্যেই ওড়িশার উপকূলবর্তী ১২টি জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলাশাসকদেরও দুর্গত মানুষকে রাখার জন্য বিকল্প থাকার জায়গা তৈরি করে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    ওড়িশার দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক পি কে জানা জানিয়েছেন, আমফান নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বরিশালে প্রস্তুতি সভা

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বরিশালে প্রস্তুতি সভা

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বরিশালে প্রথম প্রস্তুতি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ শনিবার দুপুর ১২টায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।

    সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয়া হয়। বরিশালে আড়াইশ’ সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়। পাশাপাশি সব স্কুল-কলেজগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশনা দেয়া হয়।

    করোনার সতর্কতা স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সাইক্লোন শেল্টারগুলোকেও নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

    অন্যান্যের মধ্যে রেডক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ২২ মে পূর্নশক্তি নিয়ে বরিশালে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান !

    ২২ মে পূর্নশক্তি নিয়ে বরিশালে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান !

    বরিশালের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। আগামী ২০ থেকে ২২ মে’র মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের খুব কাছ অতিক্রম করে এটি বাংলাদেশের বরিশাল উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

    ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তাতে বলা হয়েছে: গত এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণয়মান অবস্থায় রয়েছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। ক্রমশ সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসছে। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। আমফান এবছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড়।

    আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে আগামী ২০ থেকে ২২ মে’র ভিতরে যেকোন সময় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলে তাণ্ডব চালাতে পারে আমফান। আরেক পূর্বাভাসের বলা হয়েছে: ঘূর্ণিঝড় ফণি যেখানে ভূভাগে প্রবেশ করেছিল ঠিক সেখানেই আঘাত হানতে চলেছে আমফান। যার ফলে ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২০ মে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে যাবে ঝড়টি।

  • মে মাসজুড়ে কালবৈশাখী-শিলাবৃষ্টি ও বন্যা 

    মে মাসজুড়ে কালবৈশাখী-শিলাবৃষ্টি ও বন্যা 

     

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজুয়ানুর রহমান সফেন :

    মে মাসজুড়ে কালবৈশাখী-দাবদাহ-শিলাবৃষ্টি-বন্যা

    গোটা বিশ্ব করোনার অদৃশ্য থাবায় বিপর্যস্ত। গতির বিশ্বে ভয়ঙ্কর স্থবিরতা। যেখানে মানুষ একটু অবসরের জন্যে কত কিছুই না করে, সেখানে দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি। বাংলাদেশেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। গত কয়েক শতাব্দীর মধ্যেই এটাই সবচেয়ে বড় মহামারি।

     

     

    আর এরই মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে দেশে চলতি মে মাসে ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, তীব্র দাবদাহ ও বন্যার সম্ভাবনার কথা।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের চলতি মাসের জন্য সোমবার (০৪ মে) দেয়া পূর্বাভাসে এসব কথা বলা হয়েছে।

     

     

    এতে বলা হয়, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে কমপক্ষে দুটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে একটি অন্তত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

    এ মাসে দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২-৩টি মাঝারি অথবা তীব্র ঝড় (কালবৈশাখী) এবং দেশের অন্যত্র ৩-৪টি হালকা থেকে মাঝারি কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

     

    মে মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি) এবং অন্যত্র ১-২টি মৃদু (৩৬-৩৮ ডিগ্রি) অথবা মাঝারি (৩৮-৪০ ডিগ্রি) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

    এ মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কতিপয় স্থানে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

    এপ্রিলে দেশে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজধানীতে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে। দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে।

    এদিকে আন্দামান সাগরের সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’র ব্যাপারে কোনো পূর্বাভাস দেয়া হয়নি। লঘুচাপটি সৃষ্টির স্থানটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে। এর প্রভাব এখনো বঙ্গোপসাগরে আসেনি। প্রভাব না থাকলে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে কোনো পূর্বাভাস ও বিশ্লেষণ দেয়া হয় না।

    ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে সোমবার দেয়া এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হতে আরও সপ্তাহখানেক লেগে যাবে। এরই মধ্যে আন্দামান সাগরের কাছে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। সেটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড় হয়ে ১২ থেকে ১৪ মে’র মধ্যে মিয়ানমারে আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশেও এর প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

    বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ব্যাপারে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। লঘুচাপটি সৃষ্টির স্থানটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে। এর প্রভাব এখনো বঙ্গোপসাগরে আসেনি। প্রভাব না থাকলে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে কোনো পূর্বাভাস ও বিশ্লেষণ দেয়া হয় না। তাই আন্দামান সাগরের ওই লঘুচাপ নিয়ে তারা কোনো বিশ্লেষণ দেয়নি।

    এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান গণমাধ্যমকে জানান, আন্দামান সাগরের লঘুচাপটি এখনো অপরিণত অবস্থায় আছে। সেটি আদৌ আরও শক্তি অর্জন করে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, এ নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে। তা হলেও বাংলাদেশের ওপর আদৌ এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এটিও নিশ্চিত নয়। তাই আমরা এ ব্যাপারে কোনো পূর্বাভাস দিচ্ছি না।

  • বরিশালে ৬০ থেকে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

    বরিশালে ৬০ থেকে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

    সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। একইসঙ্গে ঝড়ো হাওয়ার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

     

    সোমবার (২০ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্যসহ বৃষ্টিপাত অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত মানতে হবে।

     

    এছাড়া দেশের অন্যত্র পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্যবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত অনুসরণ করতে হবে।

     

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিনদিন বৃষ্টিপাত অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া রাঙামাটি, রাজশাহী ও যশোর অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে।