Category: আবহাওয়া

  • ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: প্রস্তুত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

    ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: প্রস্তুত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

    ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর বিশেষ দল। শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় ও দুর্যোগ পরবর্তী সব প্রকার সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব পদাতিক ডিভিশন। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় সেনা মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শনিবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটে আঘাত হানতে পারে। এ সময় কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে। সর্বোচ্চ গতিবেগ ১২০ কিলোমিটার বা তার বেশি থাকতে পারে।

    সন্ধ্যায় উপকূল অতিক্রম করা শুরু করলে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে এটা উপকূল অতিক্রম করবে। এরপর এটি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বরিশাল, ঢাকা, কুমিল্লা অঞ্চল দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এদিকে সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশ আঘাত হানতে শুরু করেছে।

    জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে সিডর এভাবেই প্রথমে আঘাত হানে এবং বিকাল থেকে তা প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে দুবলার চরের জেলে পল্লী গুলো তছনছ করে দেয়। সিডরের মতই বুলবুলের গতি প্রকৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

  • বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুত নৌবাহিনীর ১০ যুদ্ধজাহাজ

    বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুত নৌবাহিনীর ১০ যুদ্ধজাহাজ

    প্রবল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম, সেন্টমার্টিন ও খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১০টি যুদ্ধজাহাজ ও নৌ কন্টিনজেন্ট প্রস্তুত রয়েছে।

    শনিবার সন্ধ্যায় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা, সাতক্ষীরায় ৫টি, চট্টগ্রামে ৩টি ও সেন্টমার্টিনে ২টি যুদ্ধজাহাজসহ নৌ কন্টিনজেন্ট ও মেডিকেল টিম মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    খুলনা অঞ্চলের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণতৎপরতা পরিচালনায় বানৌজা কর্ণফুলী, তিস্তা, পদ্মা, এলসিভিপি ০১২ ও এলসিভিপি ০১৩ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪টি নৌ কন্টিনজেন্ট যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

    এছাড়া চট্টগ্রামে তিনটি জাহাজ বানৌজা শাহজালাল, শাহ পরান ও অতন্দ্র দ্রুততম সময়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গমনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে বানৌজা সমুদ্র জয় ও সমুদ্র অভিযান জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনে অবস্থান করছে।

    তাছাড়া নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

    এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য ৫টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি ৪টি নৌ কন্টিনজেন্ট যে কোন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

    ইতোমধ্যে সেন্টমার্টিন্সে নৌবাহিনীর ২টি যুদ্ধজাহাজ সমুদ্র জয় ও সমুদ্র অভিযান ২ টন চিড়া, ১ টন মুড়ি, ২ টন চাল, দেড় টন গুড়, ৫০০ কেজি ডাল, ৭০০ কেজি চিনি, ৫০০ প্যাকেট মোমবাতি, ২৫০ ডজন দিয়াশলাই নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    পাশাপাশি সেন্টমার্টিন্সের ফরওয়ার্ড বেইসের নৌ সদস্যরা জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধজাহাজ ও নৌ কন্টিনজেন্ট অনুরূপ ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।

    এর আগে শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় দিকে ২৪ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ‘প্রবল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। পূর্ববর্তী ৯ ঘণ্টায় এই প্রবল শক্তির ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এগিয়েছে ১০০ কিলোমিটার।’

    ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে ঝড়ো হাওয়ার আকারে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    ‘বুলবুল’-এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শনিবার (৯ নভেম্বর) ভোর থেকে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এছাড়া এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের নিকট দিয়ে) অতিক্রম করতে পারে।

  • বুলবুল আতঙ্কে ভোলায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

    বুলবুল আতঙ্কে ভোলায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

    মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শনিবার (০৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়া বইছে।

    এ অবস্থায় ভোলার সাত উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৮৬ হাজার গবাদি পশুকে স্থানীয় মুজিব কেল্লায় রাখা হয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ভোলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক।

    ডিসি মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভোলার ৬৬৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। ৯২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। আটটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলে ১৩ হাজারের বেশি বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী কাজ করছেন।

    তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ মজুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শনিবার দুপুরে খিচুড়ি ও ভাত খেতে দেয়া হয়েছে আশ্রিতদের।

    এদিকে ভোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শনিবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝে মধ্যে ভারী বৃষ্টি নামছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ঝোড়ো বাতাস। মেঘনা নদীর ঢেউ বেড়েছে কয়েকগুণ। স্রোতের সঙ্গে বাড়ছে পানি। নদী ও সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া নৌকা ও ট্রলার নদীর তীরে অবস্থান করছে।

  • বুলবুলের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারসহ ১৯ জেলে নিখোঁজ

    বুলবুলের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারসহ ১৯ জেলে নিখোঁজ

    ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা একটি ট্রলারসহ ১৯ জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার (০৮ নভেম্বর) বিকেলে কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করে নিরাপদে ফেরার পথে এফবি ফেরদাউস নামে ওই মাছ ধরা ট্রলারসহ ১৯ জেলে নিখোঁজ হন।

    শনিবার (০৯ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে আলীপুর মৎস্য বন্দরের ট্রলার মালিক আনোয়ার হোসেন খান বলেন, এফবি ফেরদাউস নামে নিখোঁজ ট্রলারে ১৯ জন জেলে ছিলেন। এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    আনোয়ার হোসেন খান বলেন, এফবি ফেরদাউস ট্রলারটির মালিক আমি। শনিবার বিকেল পর্যন্ত অন্যান্য ট্রলার নিরাপদে আশ্রয় নিলেও এফবি ফেরদাউস ট্রলার ও ১৯ জেলের সন্ধান পাইনি আমরা। উপকূলের বিভিন্ন স্থানে তাদের খোঁজা হয়েছে। কিন্তু কোথায় তাদের সন্ধান পাইনি। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাগর উত্তাল। ট্রলারসহ ১৯ জেলে ডুবে গেছে নাকি অন্যদিকে চলে গেছে তা আমরা বলতে পারছি না। বিভিন্ন স্থানে এখনো তাদের খোঁজ হচ্ছে।

    এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এফবি মা কুলসুম নামে মাছ ধরা ট্রলার থেকে পড়ে নিখোঁজ জেলে মো. বেলাল হোসেনের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার বিকেল ৩টার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্ব ঝাউবাগানসংলগ্ন সৈকতে তার মরদেহ ভেসে উঠে বালুতে আটকে যায়। স্থানীয়রা মহিপুর থানায় জানালে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মো. বেলাল হোসেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীরহাট গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে।

    অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা একটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ১৫ জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর) বিকেলে পাথরঘাটা উপজেলা থেকে ১১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় এমভি তরিকুল নামে ওই মাছ ধরা ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে গত দুদিনে ওই ট্রলারের ১৫ জেলেসহ ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। উপকূলের আরও কাছে এগিয়ে এসেছে এই ঘূর্ণিঝড়।

    আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, শনিবার (০৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনা উপকূল দিয়ে সমতলে আঘাত হানবে বুলবুল। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। উপকূলের আটটি জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা ও চাঁদপুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

  • জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে পটুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল, আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ লাখ মানুষ

    জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে পটুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল, আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ লাখ মানুষ

    বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শক্তিশালী হয়ে প্রবল বেগে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার ৬৮৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে দুর্গম এলাকার জানমাল রক্ষায় মোট ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৭ জন মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। বুলবুল এর প্রভাবে জেলার কোথাও দমকা হাওয়া না বইলেও পটুয়াখালীর উপকূল জুড়ে থেমে থেমে হালকা-মাঝারি বৃষ্টিপাত চলছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কুয়াকাটা সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে ২ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে চর ও নিম্নঞ্চল।

    বুলবুল’র যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১০টি কন্ট্রোল রুম ও সিভিল সার্জনের গঠিত ৭৪টি মেডিকেল টিমসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কাজ করে যাচ্ছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের সাথে কাজ করছে ৬ হাজার ৫২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক।
    গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস ৮৬ মিলি মিটার ও কলাপাড়া রাডার স্টেশন শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মোট ২৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পায়রা বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলায় বুলবুল মোকাবেলায় বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সতর্কাবস্থানে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে সকল ধরনের নৌ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পটুয়াখালীতে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৭ জন মানুষকে দুর্গম এলাকা বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে কলাপাড়ায় ৯৫ হাজার ৭২৫ জন, বাউফলে ৯২ হাজার ২৫০ জন, সদর উপজেলায় ৮৫ হাজার ২৬২ জন, গলাচিপায় ৮৪ হাজার ৩২০ জন, দশমিনায় ২৫ হাজার ২৫০ জন, রাঙ্গাবালীতে ৩৪ হাজার ১৭০ জন, মির্জাগঞ্জে ২৬ হাজার ৭২৫ জন ও দুমকি উপজেলায় ১৬ হাজার ১৬৫ জন মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়াও জেলায় মোট ৯০ হাজার ৩৯৫টি গবাদিপশু নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।

    পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় যৌথভাবে কাজ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, নৌ ও সেনাবাহিনী। জেলায় পূর্বে ৪০৩টি সাইক্লোন শেল্টার খুলে দেয়া হলেও শনিবার মোট ৬৮৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের সাথে কাজ করছে ৬ হাজার ৫২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক। সার্বিক বিষয় মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটিসহ ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুর্যোগে মোকাবেলায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩শ’ মেট্রিকটন চাল, ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, ১৬৬ বান্ডিল টিন এবং ৪০০০টি কম্বল মজুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

  • কাউন্সিলরদের সাথে আ’লীগ নেতা কর্মীদের সমন্বয় করে দূর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করার নির্দেশ বিসিসি মেয়রের

    কাউন্সিলরদের সাথে আ’লীগ নেতা কর্মীদের সমন্বয় করে দূর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করার নির্দেশ বিসিসি মেয়রের

    নি‌র্দেশনা প্রাপ্তি ও অ‌র্থের জন্য যেন কোন সহায়তা বা উদ্ধার কার্যক্রম আটকে না থা‌কে সেজন্য ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের কাউ‌ন্সিলরদের নি‌র্দেশ দি‌য়ে‌ছেন ‌মেয়র সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ।

    পাশাপা‌শি মহানগর আওয়ামীলী‌গের এই যুগ্ম সম্পাদক ওয়ার্ড আওয়ামী লী‌গের নেতা কর্মীদের ‌সি‌টি কাউ‌ন্সিলর‌দের সা‌থে সমন্বয় ক‌রে দু‌র্যোগ মোকা‌বিলা কাজ করার আহবান জানান।

    আজ শ‌নিবার (০৯ ন‌ভেম্বর)‌ বেলা ১ টায় ব‌রিশাল ন‌গেরর সদর‌রোডস্থ এ‌্যা‌নেক্স ভব‌নের চতুর্থ তলার সভাক‌ক্ষে দু‌র্যোগ মোকা‌বিলায় প্রস্তু‌তিমূলক সভায় এ কথা বলেন তি‌নি।

    ‌তি‌নি ব‌লেন, চো‌খের সাম‌নে কোন দু‌র্যোগ দেখ‌লে কা‌রো নি‌র্দেশনার অ‌পেক্ষা এবং অ‌র্থের জন্য অ‌পেক্ষা করা যা‌বে না। প‌কেট থে‌কে খরচ ক‌রে কাজ এ‌গি‌য়ে নি‌বেন, পরবর্তী‌তে এগু‌লো দি‌য়ে দেয়া হ‌বে।

    এসময় তি‌নি ব‌লেন, নদী তীরবর্তী স্থা‌নে জনসাধার‌নের আশ্র‌য়ের জন্য বিদ্যালয়গু‌লো খোলা রাখা হ‌য়ে‌ছে। যেখা‌নে বি‌কে‌লের ম‌ধ্যে ঝু‌কিপূর্ণ বা সম্ভাব্য ক্ষ‌তির শঙ্কা র‌য়ে‌ছে এমন এলাকার বা‌সিন্দা‌দের আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হ‌য়ে‌ছে।

    ত‌বে বি‌শেষ ব্যবস্থায় গর্ভবতী নারী, প্র‌তিবন্ধী ও বয়স্ক মানুষ‌দের আশ্রয় কে‌ন্দ্রে আ‌গেভা‌গেই নেয়া হ‌বে। যা‌তে দু‌র্যোগ শুরু হওয়ার সময় তারা কোন বিপা‌কে না প‌রেন।

    এক কথায় দু‌র্যোগ মোকা‌বিলায় আমরা সকল প্রস্তু‌তি হা‌তে নি‌য়ে‌ছি। বি‌শেষ ক‌রে আমা‌দের কর‌পো‌রেশ‌নের স্বাস্থ্য, প‌রিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ ও পা‌নি শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীরা ২৪ ঘন্টা দা‌য়িত্ব পালন কর‌বেন।

    সভায় সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হো‌সেন জানান, ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের মেয়‌রের নি‌র্দে‌শে গতকাল থে‌কে নগ‌রে দু‌র্যোগ মোকা‌বিলায় সতর্ক ও স‌চেতনতামূলক প্রচারনা চালা‌নো হচ্ছে।

    তি‌নি ব‌লেন, আমরা এরইম‌ধ্যে পর্যাপ্ত শুক‌নো খাবার, পা‌নি বিশুদ্ধ করন খাবার, স্যালাইন সরবরা‌হে রে‌খে‌ছি। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নি‌শ্চিত কর‌নের ল‌ক্ষে জেনা‌রেটর মোমবা‌তি ও মশা রো‌ধে ক‌য়েলের ব্যবস্থা করা হয়ে‌ছে।পাশাপা‌শি এক‌টি ক‌ন্ট্রোল রুম ও পাচ‌টি মে‌ডি‌কেল টিম গঠন করা হ‌য়ে‌ছে।

    এছাড়া বাদ আসর নগ‌রেরর বি‌ভিন্ন মস‌জি‌দে এবং ম‌ন্দির ও গীর্জায় বি‌শেষ প্রার্থানার আ‌য়োজন করার জন্য মেয়র ব‌লে‌ছেন।

  • ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল সেল

    ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল সেল

    গভীর সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ গতি বাড়িয়ে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় বরিশালে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

    ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগের জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা গণের মোবাইল নাম্বার সমূহ:

    ১মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা- জনাব শহীদুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার)- ০১৭১৬৭৫২৩৯২

    ২. গৌরনদী উপজেলা- জনাব ইসরাত জাহান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ০১৭১৫৮৮২১৬৫

    ৩. আগৈলঝাড়া উপজেলা- জনাব বিপুল চন্দ্র দাস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ০১৭০৫৪০৬৫৪৯

    ৪. বাবুগঞ্জ উপজেলা- জনাব সুজিত হাওলাদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ০১৭০৫৪০৬৫৪১

    ৫. বাকেরগঞ্জ উপজেলা- জনাব মাধবী রায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ০১৩১৫৪৫৮২৮৩

    ৬. বানারীপাড়া উপজেলা- জনাব শেখ আবদুল্লাহ সাদীদ,উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ০১৭৯৫৪৫৪৩৫৩

    ৭. বরিশাল সদর উপজেলা- মো: মোশারেফ হোসেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ০১৭০৫৪০৬৫৩১

    ৮. হিজলা উপজেলা- মো: আমীনুল ইসলাম,উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ০১৭০৫৪০৬৫৩৭

    ৯. মুলাদি উপজেলা- জনাব জাকির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ০১৭৯৯০০৮০৩

    ১০. উজিরপুর উপজেলা- মাসুমা আক্তার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ০১৭০৫৯৯৯০৩৪

    ১১. বরিশাল জেলা- জনাব মো: আবদুল লতিফ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা- ০১৭৪১১৯৬৯৩৯.

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনার উপকূল দিয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যায় এটি অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ উপকূলবর্তী কয়েকটি জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের ৬ নম্বর সতর্কতা সংকেত নামিয়ে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত’র জেলাগুলো হলো, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা। এসব এলাকার সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

  • লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে না যেতে চাইলে জোর করে নেওয়ার নির্দেশ

    লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে না যেতে চাইলে জোর করে নেওয়ার নির্দেশ

    আজ শনিবার বেলা দুইটার মধ্যে যেসব লোকজন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছায় যাননি তাঁদের জোর করে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় এক জরুরি সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সন্ধ্যায় উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা শুরু করবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ব্যাপক প্রচার চালানোর পরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অনেকের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে অনীহা দেখা যাওয়ায় এ নির্দেশ দেন বিভাগীয় কমিশনার।

    ‌আজ দুপুর ১২টায় ব‌রিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বরিশাল বিভাগীয় দুর্যোগ বিষয়ক জরুরি সভায় এই নির্দেশ দিয়ে বিভাগীয় ক‌মিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, মানু‌ষের জীবন রক্ষার জন্যই তাঁদের জোর করে নেয়ার কথা বলা হ‌চ্ছে। কারণ উপকূলীয় বেশ কিছু এলাকার মানুষ তাঁদের মালপত্র ছে‌ড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষে‌ত্রে অনীহা প্রকাশ করে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা ব‌লে‌ছি, তাঁরা জনগণের মালামাল হেফাজতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাক‌বেন। আর উপকূলীয় এলাকা বি‌শেষ ক‌রে যেসব এলাকায় বাঁধ নেই, জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা র‌য়ে‌ছে, সেখা‌নে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) সহ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো সচেতনতামূলক কাজ কর‌ছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার কাজ কর‌ছে। আমরা চাই সবাই নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাক।’

    বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ব‌রিশা‌ল বিভা‌গে দুই হাজার ১১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র র‌য়ে‌ছে। সেখানে ১৭ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নি‌তে পার‌বে। এ ছাড়া গৃহপালিত প্রাণীদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হ‌চ্ছে। দুর্যোগ পরবর্তী জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য বিভাগের ছয় জেলায় ৩১৭টি চিকিৎসক দল গঠন করা হ‌য়ে‌ছে। বিভাগের সব জেলার সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরগুলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হ‌য়ে‌ছে।

    সভায় উপ‌স্থিত ছি‌লেন বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান, বরিশাল নগর পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

  • ‘বুলবুল’র তাণ্ডবে বরিশালে ৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

    ‘বুলবুল’র তাণ্ডবে বরিশালে ৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

    ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটারের বেশি শক্তি নিয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। এটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সন্ধ্যা নাগদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি যখন উপকূল অতিক্রম করবে তখন জোয়ার থাকবে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৭ ফুট বেশি উচ্চতার ঢেউ থাকবে। জোয়ার শুরু হবে বিকেল ৫টা থেকে, পিক টাইম হবে রাত ৯টা। সুন্দরবনে এসে এটি ধাক্কা খাবে। তবে বাতাসের গতিবেগ থাকবে অনেক।

    তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যায় বাগেরহাটে আঘাত হানতে পারে। এসময় বাতাসের গতিবেগ কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার থাকতে পারে। সর্বোচ্চ গতিবেগ ১২০ কিলোমিটার বা তার বেশি থাকতে পারে। সন্ধ্যায় উপকূল অতিক্রম করা শুরু করলে, ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে এটা উপকূল অতিক্রম করে যাবে।

    ‘এরপর এটি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বরিশাল, ঢাকা, কুমিল্লা অঞ্চল দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুন্দরবন অতিক্রম করার পর ঘূর্ণিঝড়ের বেগ অনেক থাকবে। বিকেল ৪টা বা ৫টা থেকে ধরলে আগামী ২৪ ঘণ্টা পুরো বাংলাদেশে এর প্রভাব থাকবে। রংপুর বিভাগে প্রভাব একটু কম থাকলেও সারাদেশেই এর প্রভাব থাকতে পারে।’

    কে এম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল হয়ে প্রবেশ করবে। এ ঘূর্ণিঝড়ের জন্য সুন্দরবন একটা বাধা বলতে পারেন। এটা হয়তো অনেকটাই রক্ষা করবে। যেহেতু এটা প্রবল ঘূর্ণিঝড়, তারপরও ওইরকম ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় এখনও অতি প্রবল অবস্থায় রয়েছে। উপকূলের কাছাকাছি এসে হয়তো সামান্য তীব্রতা কমতে পারে। তবে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এ আবহাওয়াবিদ জানান, জোয়ার শুরু হবে বিকেল ৩টা দিকে। রাত ৯টা ৬ মিনিটে জোয়ারের বা জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা ২ দশমিক ৮৫ মিটার হতে পারে পশুর নদীতে। পশুর নদী ছাড়াও খুলনা ও বরিশালে যেসব নদীতে জোয়ার থাকবে সেখানে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    রুহুল কুদ্দুস বলেন, বাংলাদেশে প্রবেশের পর ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাসার্ধ কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার আর ব্যাস ২০০ কিলোমিটার থাকতে পারে।

    এর আগে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

    চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৯ নম্বর মহবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

    কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিমি. বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজ’র প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয় নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।’

    উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।’

  • দুর্যোগকালীন সময়ে বিসিসি’র স্বাস্থ্য, প‌রিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ ও পা‌নি শাখা ২৪ঘন্টা খোলা

    দুর্যোগকালীন সময়ে বিসিসি’র স্বাস্থ্য, প‌রিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ ও পা‌নি শাখা ২৪ঘন্টা খোলা

    নি‌র্দেশনা প্রাপ্তি ও অ‌র্থের জন্য যেন কোন সহায়তা বা উদ্ধার কার্যক্রম আটকে না থা‌কে সেজন্য ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের কাউ‌ন্সিলরদের নি‌র্দেশ দি‌য়ে‌ছেন ‌মেয়র সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ। পাশাপা‌শি মহানগর আওয়ামীলী‌গের এই যুগ্ম সম্পাদক ওয়ার্ড আওয়ামীলী‌গের নেতা কর্মীদের ‌সি‌টি কাউ‌ন্সিলর‌দের সা‌থে সমন্বয় ক‌রে দু‌র্যোগ মোকা‌বিলা কাজ করার আহবান জানান।

    শ‌নিবার (০৯ ন‌ভেম্বর)‌বেলা ১ টায় ব‌রিশাল ন‌গেরর সদর‌রোডস্থ এ‌্যা‌নেক্স ভব‌নের চতুর্থ তলার সভাক‌ক্ষে দু‌র্যোগ মোকা‌বিলায় প্রস্তু‌তিমূলক সভায় এ কথা বলেন তি‌নি। ‌তি‌নি ব‌লেন, চো‌খের সাম‌নে কোন দু‌র্যোগ দেখ‌লে কা‌রো নি‌র্দেশনার অ‌পেক্ষা এবং অ‌র্থের জন্য অ‌পেক্ষা করা যা‌বে না। প‌কেট থে‌কে খরচ ক‌রে কাজ এ‌গি‌য়ে নি‌বেন, পরবর্তী‌তে এগু‌লো দি‌য়ে দেয়া হ‌বে। এসময় তি‌নি ব‌লেন, নদী তীরবর্তী স্থা‌নে জনসাধার‌নের আশ্র‌য়ের জন্য বিদ্যালয়গু‌লো খোলা রাখা হ‌য়ে‌ছে। যেখা‌নে বি‌কে‌লের ম‌ধ্যে ঝু‌কিপূর্ণ বা সম্ভাব্য ক্ষ‌তির শঙ্কা র‌য়ে‌ছে এমন এলাকার বা‌সিন্দা‌দের আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হ‌য়ে‌ছে। ত‌বে বি‌শেষ ব্যবস্থায় গর্ভবতী নারী, প্র‌তিবন্ধী ও বয়স্ক মানুষ‌দের আশ্রয় কে‌ন্দ্রে আ‌গেভা‌গেই নেয়া হ‌বে। যা‌তে দু‌র্যোগ শুরু হওয়ার সময় তারা কোন বিপা‌কে না প‌রেন। এক কথায় দু‌র্যোগ মোকা‌বিলায় আমরা সকল প্রস্তু‌তি হা‌তে নি‌য়ে‌ছি। বি‌শেষ ক‌রে আমা‌দের কর‌পো‌রেশ‌নের স্বাস্থ্য, প‌রিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ ও পা‌নি শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীরা ২৪ ঘন্টা দা‌য়িত্ব পালন কর‌বেন।

    সভায় সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হো‌সেন জানান, ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের মেয়‌রের নি‌র্দে‌শে গতকাল থে‌কে নগ‌রে দু‌র্যোগ মোকা‌বিলায় সতর্ক ও স‌চেতনতামূলক প্রচারনা চালা‌নো হচ্ছে। তি‌নি ব‌লেন, আমরা এরইম‌ধ্যে পর্যাপ্ত শুক‌নো খাবার, পা‌নি বিশুদ্ধ করন খাবার, স্যালাইন সরবরা‌হে রে‌খে‌ছি। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নি‌শ্চিত কর‌নের ল‌ক্ষে জেনা‌রেটর মোমবা‌তি ও মশা রো‌ধে ক‌য়েলের ব্যবস্থা করা হয়ে‌ছে।পাশাপা‌শি এক‌টি ক‌ন্ট্রোল রুম ও পাচ‌টি মে‌ডি‌কেল টিম গঠন করা হ‌য়ে‌ছে।

    এছাড়া বাদ আসর নগ‌রেরর বি‌ভিন্ন মস‌জি‌দে এবং ম‌ন্দির ও গীর্জায় বি‌শেষ প্রার্থানার আ‌য়োজন করার জন্য মেয়র ব‌লে‌ছেন।