Category: আবহাওয়া

  • ‘বুলবুল’র তাণ্ডব: শনিবারের জেএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    ‘বুলবুল’র তাণ্ডব: শনিবারের জেএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর জন্য দেশের ৯ জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তবে কক্সবাজার থাকবে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের আওতায়। এসব অঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আব্দুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এমতাবস্থায় শনিবারের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ পরীক্ষাটি ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ছোবল থেকে রক্ষা পেতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার খাতা, প্রশ্নসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষাবোর্ডগুলোকে। সব সরঞ্জাম নিকটস্থ ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে বা বড় ভবনে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

  • ৫ যুগের মধ্যে ২য় বার আসছে এমন ঘূর্ণিঝড়

    ৫ যুগের মধ্যে ২য় বার আসছে এমন ঘূর্ণিঝড়

    ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ধেয়ে আসছে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে এটি। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুটি নৌবন্দরে ৭ নম্বর এবং একটিতে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করে সব ধরনের নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন উপকূলবাসীকে সতর্ক করে ঝড় মোকাবলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে। ছুটি বাতিল করা হয়েছে ২২টি মন্ত্রণালয়ের সারাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের।

    এবারের ঘূর্ণিঝড়টি অন্য ঘূর্ণিঝড়ের মতো নয়। ব্যতিক্রমী চরিত্রের এমন ঘূর্ণিঝড় সর্বশেষ ১৯৬০ সালের পর দ্বিতীয়বার জন্ম নিলো।

    মূলত অন্য আরেকটি ঘূর্ণিঝড় থেকেই বুলবুলের জন্ম। গত ২৪ অক্টোবর ফিলিপাইন সাগরে জন্ম নেয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মাতমো’ পরবর্তীতে ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ চীন সাগরে এসে বড় ঝড়ের আকার ধারণ করে। এর আগে ফিলিপাইনে প্রচুর বৃষ্টি এবং বন্যা ঘটায় এটি। ঘূর্ণিঝড়ের চরিত্র অনুযায়ী ‘মাতমো’ এরপর পশ্চিম বরাবর এগোতে থাকে।

    ৩১ অক্টোবর ভিয়েতনাম উপকূলে আঘাত হানে এটি। তখন ঘণ্টায় ওই ঝড়ের গড়িবেগ ছিল ১১২ কিলোমিটার, এবং ভিয়েতনামের কুই নন শহরে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় ওইদিন। কোনো উপকূলে আঘাত হানার পর পশ্চিমূখী ঘূর্ণিঝড়গুলো দুর্বল হতে থাকে, এবং এক পর্যায়ে নিঃশেষ হয়ে যায়।

    কোনো ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং বড় ধরনের ঝড়ে পরিণত হয় সাধারণত ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপামাত্রা থাকা পানিতে। কিন্তু ভূপৃষ্ঠ যত উষ্ণই হোক না কেন তাতে কোনো ঘূর্ণিঝড় শক্তি সঞ্চয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে কম্বোডিয়ার উপকূলে আঘাত হানার পর মাতমো বলতে গেলে উধাও হয়ে যায়।

    কিন্তু দুর্বল ঝড়টি ব্যাংককের ওপর দিয়ে ১৮০০ কিলোমিটার ভূপৃষ্ঠ ঘুরে মিয়ানমারের দিকে চলে আসে। এরপর যখন আন্দামান সাগরে এটি পতিত হয় (যেখানে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস), অনেকটা দৈবক্রমে ‘মাতমো’র অবশিষ্ট ঘূর্ণি পুনরায় শক্তি সঞ্চার করতে শুরু করে।

    এরপর নিম্নচাপ আকারে পশ্চিম দিকে এগোতে এগোতে এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরের দিকে নতুন ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়; যার নাম দেয়া হয়েছে ‘বুলবুল’।

    নতুন করে শক্তি অর্জনের পর ঘণ্টায় এর বাতাসের গতিবেড় ওঠে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এতে সাগরের ঢেউয়ের উচ্চতা ২৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে ওঠে। শনিবার রাত থেকে পরদিন রাতের মধ্যে এটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে এসে আঘাত হানতে পারে।

    ভারতের আবহাওয়া বিভাগ মনে করছে, ঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে খুবই ভয়াবহ আকার নিতে পারে। আন্দামান সাগরে জন্ম নিয়ে ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে ভ্রমণ করে এসে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার উপকূলে আঘাত হানতে যাওয়া চতুর্থ ঘূর্ণিঝড় এটি। আর ১৯৬০ সালের পর এই অঞ্চলে হারিক্যানের মতো শক্তি অর্জন করা মাত্র দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় এটি।

  • ১২৫ কিলোমিটার গতিবেগে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

    ১২৫ কিলোমিটার গতিবেগে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

    ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানার আগেই বরিশালের নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষদের সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে আশ্রয় নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। বরিশাল জেলায় ২৩২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে এক লাখ ২৫ হাজার লোকের আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

    এ দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে বরিশালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে বরিশালের আকাশ। এর প্রভাবে বরিশাল নদী বন্দরে এক নম্বর বিপদ সংকেত দেয়া হয়েছে। যা পরে বাড়ানো হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল নৌ-নিরাপত্তা শাখার উপ-পরিচালক ও বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সংবাদকর্মীদের বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বরিশাল নদী বন্দরে এক নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের নৌযানকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার মো. আনিসুর রহমান সংবাদকর্মীদের জানন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে সকাল থেকেই বরিশালের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। দুপুর ১২টার পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। নদী বন্দরগুলোতে এক নম্বর বিপদ সংকেত দেয়া হয়েছে। ১২টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ২ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৩২ আশ্রয় কেন্দ্র। যেখানে এক লাখ ২৫ হাজার লোকের আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অবকাঠামো দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    সভায় তিনি ছাড়াও উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সওজ, এলজিইডিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিভাগ, এনজিও ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সকল উপজেলার ইউএনও এবং উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রস্তত থাকতে বলা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানার সময় করণীয় বিষয়গুলো জানিয়ে মাইকিং করে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। যে কোনো প্রয়োজনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে বিশেষ পতাকা টানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানলে সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

    আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে, আপাতত এর গতিমুখ সুন্দরবনের দিকে। শনিবার বিকেলের পর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব অনুভূত হতে পারে। মধ্যরাতে খুলনা অঞ্চল দিয়ে বুলবুল উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    শুক্রবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল এ ঝড়। ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

  • ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে দোয়া পড়তে বলছেন বিশ্বনবী (স.)

    ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে দোয়া পড়তে বলছেন বিশ্বনবী (স.)

    ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ো বাসাতসহ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্ত থাকতে মহানবী (স.) আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। কেননা মহান আল্লাহই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়দাতা। আল্লাহ ছাড়া মানুষকে বেশি নিরাপত্তা কেউ দিতে পারে না।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। যদি তোমরা একে তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেখতে পাও, তবে এই দোয়া করবে-

    اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ خَيْرِ مَا فَيْهَا وَ خَيْرِمَا أُمِرَتْ بِهِ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ شَرِّ مَا فَيْهَا وَ شَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরি মা ফিহা ওয়া খাইরি মা উমিরাত বিহি, ওয়া নাউজুবিকা মিন শাররি হাজিহির রিহি ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উমিরাত বিহি’ (তিরমিজি, মিশকাত)।

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট এ বাতাসের ভালো দিক, এতে যে কল্যাণ রয়েছে তা এবং যে উদ্দেশ্যে তা নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার উত্তম দিকটি প্রার্থনা করছি। এবং তোমার নিকট এর খারাপ দিক হতে, এতে যে অকল্যাণ রয়েছে তা হতে এবং এটা যে উদ্দেশ্যে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার মন্দ দিক হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

    প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, যেন তার উম্মতকে দুর্যোগ ও বিপর্যয় দিয়ে এক সঙ্গে ধ্বংস করে দেয়া না হয়।

    এসব বিপদকালীন সময়ে বিশ্বনবী বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পড়তে নির্দেশ দিতেন। তাই মুসলিম উম্মাহর উচিত ঘূর্ণিঝড়, প্রবল ঝড়ো বাতাস ও বিপদ-আপদে উল্লেখিত দোয়া পড়া এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা।

  • ঘূর্ণিঝড় ‌‌‘বুলবুল’ মোকাবিলায় প্রস্তুত বরিশাল

    ঘূর্ণিঝড় ‌‌‘বুলবুল’ মোকাবিলায় প্রস্তুত বরিশাল

    ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় বরিশালে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)। শুক্রবার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি বিষয়ে জরুরি সভার আহ্বান করা হয়েছে।

    সিপিপির বরিশালের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ জানান, এরইমধ্যে বরিশাল জোনে ৬ হাজার ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে জনসাধারণকে অবগত করার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে পতাকা টানানো হয়েছে।

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    জনসাধারণকে ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে খবরাখবর রেখে, সে ব্যাপারে নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    দেশের উপকূলীয় এলাকার ১৩টি জেলার ৪১টি উপজেলায় সিপিপির মোট স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৫১৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৩৭ হাজার ১০ জন ও নারী ১৮ হাজার ৫০৫ জন। মোট ৩৫৫টি ইউনিয়নে সিপিপির ৩ হাজার ৭০১টি ইউনিট রয়েছে।

    এদিকে, সকাল থেকে বরিশালের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর) থেকে তাপমাত্রাও কিছুটা কম রয়েছে।

  • ঘূর্ণিঝড় ‌‘বুলবুল’আঘাত হানবে শনিবার গভীর রাতে

    ঘূর্ণিঝড় ‌‘বুলবুল’আঘাত হানবে শনিবার গভীর রাতে

    ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে ধারণা করছেন তারা।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

    চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে চার নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    এই ঘূর্ণিবায়ু কোন উপকূলে আঘাত হানতে চলেছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি আবহাওয়াবিদরা।

    আবহাওয়া অধিদফতরের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১৫ কিমি দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯০ কিমি দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

    এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    ঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

    উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

  • ধেয়ে আসছে ‌‘বুলবুল’: বেশি ঝুঁকিতে ভোলা, বরগুনা ও পিরোজপুর

    ধেয়ে আসছে ‌‘বুলবুল’: বেশি ঝুঁকিতে ভোলা, বরগুনা ও পিরোজপুর

    ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে উপকূলবর্তী ৭টি জেলা অতি ঝুঁকির মধ্যে আছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।

    অতিঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা।

    ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত্রির মধ্যে এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এটির কারণে ৫ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

    এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় উপকূলবর্তী সকল জেলা, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকার জনগণকে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

    এদিকে বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়। এতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে উপকূলবর্তী খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ ১৩টি জেলায় ২ হাজার প্যাকেট করে মোট ২৬ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার এবং প্রতি জেলায় ৫ লাখ টাকা করে অগ্রিম বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

  • গলাচিপায় ‘বুলবুল’র প্রভাব শুরু

    গলাচিপায় ‘বুলবুল’র প্রভাব শুরু

    ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উপকূলীয় উপজেলা গলাচিপায়। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে হালকা দমকা বাতাসের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আর আজ শুক্রবার সকাল থেকে সারাদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও হালকা দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা পেয়ে গভীর সমুদ্র থেকে গলাচিপার তীরে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা।

    ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় গলাচিপা উপজেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেরা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে জরুরি সভায় (৮ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুহৃদ সালেহীন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন, পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন, অফিসার ইনচার্জ আখতার মোর্শেদসহ কৃষি বিভাগ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    শাহ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে উপজেলার সবকটি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ ঝূঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন চরকাজল, চরবিশ্বাস, পানপট্টি, গলাচিপা সদর ইউনিয়ন এবং চরবিশ্বাস ইউনিয়নের দ্বীপচর চরবাংলা, গলাচিপা ইউনিয়নের দ্বীপ চরকারফারমায় অতিরিক্ত নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। এসব ইউনিয়ন ছাড়াও উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সরকারি বেসরকারি উঁচু ভবনগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গবাদি পশু যাতে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া যায় সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া শুকনো খাবার ও মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্যবস্থাও প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা সদরে কন্ট্রোল রুম খুলে সবকিছুই তদারকি করা হচ্ছে।

    এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোবাইলে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের খবর পেয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। সব জেলেরা না আসলেও অধিকাংশ জেলেরা তীরে বা কাছাকাছি এসেছেন বলে জানান গলাচিপার পক্ষিয়া গ্রামের ইলিশ ট্রলারের মাঝি মিলন গাজী।

    গলাচিপা উপজেলা অফিসার শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শুক্রবার সকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত জনবসতিদের নিরাপদ আশ্রয় যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

  • বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ সকল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা

    বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ সকল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা

    ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বরিশালের অভ্যন্তরীণ সব রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা (যুগ্ম পরিচালক) আজমল হুদা মিঠু সরকার।

    তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি বরিশাল নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সব রুটের ছোট লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।

    এদিক ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বরিশাল-ঝালকাঠিসহ উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি ও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে পায়রা সমুদ্র বন্দর ও বরিশাল-পটুয়াখালী-ভোলা নদীবন্দরসহ আশপাশের এলাকার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে- এখন চার নম্বর সতর্কতা সংকেত রয়েছে। সতর্ক সংকেত আরও বাড়বে। ঘূর্ণিঝড়টি উড়িষ্যা উপকূল হয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চল বরাবর অগ্রসর হবে।

    আজ দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে ‘বুলবুল’ একই এলাকায় অবস্থান করছে।

    ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।

    প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ভোর ৬টায় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।’

  • শক্তিশালি ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আসছে, ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

    শক্তিশালি ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আসছে, ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

    ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। তাদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি কাল শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। তীব্র সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে বুলবুল।

    ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এছাড়া মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আবহাওয়া অফিস এই তথ্য জানায়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান সম্পর্কে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

    শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ অধিকাংশ এলাকায় বিরাজ করছে মেঘলা আবহাওয়া, কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ির বৃষ্টিও হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর ও জেটিতে দুপুর পর্যন্ত পণ্য খোলাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও সংকেত বাড়লে নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানিয়েছেন।

    এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তরের নির্ধারিত তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলের ঝড়ের নাম দেওয়া হয়। বুলবুল নামটি নেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে।

    ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মোটামুটি ঘণ্টায় ১২ কিলোমিটার গতিতে এগিয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ ঝড় শক্তি সঞ্চয় করতে থাকবে।

    এরপর সামান্য বাঁক নিয়ে উত্তরমুখী হয়ে এগোবে শনিবার সকাল পর্যন্ত। তারপর আরো বাঁক নিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার প্রথম প্রহরে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ আর বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝ দিয়ে সুন্দরবন অঞ্চল হয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা গতিবেগ হতে পারে ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের বুলেটিনেও মোটামুটি একই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ।