Category: আবহাওয়া

  • বুলবুল’র তাণ্ডব: বরিশালে ৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

    বুলবুল’র তাণ্ডব: বরিশালে ৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

    বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

    চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল এই জলোচ্ছ্বাসের আওতায় রয়েছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার ১৮ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

    অন্যদিকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

    চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৬ নম্বর নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

    কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গেপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

    এটি আজ (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

    এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা নাগদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের নিকট দিয়ে) অতিক্রম করতে পারে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শনিবার ভোর থেকে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

  • বঙ্গোপসাগরে উঁকি দিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

    বঙ্গোপসাগরে উঁকি দিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

    বঙ্গোপসাগরে উঁকি দিচ্ছে আরও এক ঘূর্ণিঝড়। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আন্দামান সাগরে ঘণীভূত এই নিম্নচাপ ‌’বুলবুল’ নামে বয়ে যাবে বাংলা-উড়িষ্যা উপকূলের দিকে। আরব সাগরে এখনই দুটি ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডব লীলা চালাচ্ছে। এই তিন ঘূর্ণিঝড় প্রায় একসঙ্গে আবির্ভাবে ২০১৮ সালের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছে ২০১৯। এখনো দু-মাস বাকি। ফলে ভেঙে যেতে পারে গত বছরের রেকর্ডও।

    মোট ছয়টি ঘূর্ণিঝড় হয়েছে এবার। এ বছর আরব সাগর বা বঙ্গোপসাগরে মোট ছয়টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে। সপ্তম ঘূর্ণিঝড়টি এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে অপেক্ষা করছে এবং শিগগিরই এটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে ‌’বুলবুল’ নামে ধেয়ে আসবে বঙ্গোপসাগর দিয়ে। তাহলেই ড়ত বছরের সমান ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাবে ২০১৯ সালেও। এর আগে আরবসাগরে এসেছে বায়ু আর হিক্কা। আর বঙ্গোপসাগরে এসেছে পেথাই, ফণী।

    গত বছর মোট সাতটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল। এই বছর নভেম্বর মাসের মধ্যেই আমরা ওই সংখ্যায় পৌঁছে যাব। প্রায় দু’মাস বাকি এখনো এই বছরের। আর এই দুই মাসে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এই সংখ্যাটি আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়।

    জলবায়ু পরিবর্তনে ঘূর্ণিঝড় রূপ বদল করেছে। তবে আরব সাগরে এমন কোনো ঘূর্ণিঝড় হয়নি যা সুপার সাইক্লোন হিসাবে স্থলভূমিতে তাণ্ডব লীলা চালাতে পারে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে এমন ইতিহাস রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ঝড়গুলো অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। কিন্তু আরব সাগরে ঝড়গুলো তীব্রতা বজায় রাখতে পারে না। যদি তা হয়, সেটা হবে বিরল দৃশ্য। আরব সাগরে বেশিরভাগ ঝড়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে এখন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়গুলি অন্য রূপ নিতে পারে বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদরা।

  • আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে

    আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে

    আবওহাওয়া ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গা এবং ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের দু’ এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।

    গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় পরবর্তি ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।

    আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উড়িষ্যা উপকূল, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

    গত চব্বিশ ঘন্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ময়মনসিংহ ৮২ মিলিমিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কুতুপদিয়ায় ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রী এবং সর্বোনিম্ন তেঁতুলিয়া ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

    ঢাকায় আজ বাতাসের গতিবেগ ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার। যা গতকাল থেকে কমেছে। ঢাকায় আজ রোববার সর্যোদয় হয়েছে ৬টা ২ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে ৫টা ২৩ মিনিটে।

  • আজ সারাদিনই ঝরবে ভারী বৃষ্টি

    আজ সারাদিনই ঝরবে ভারী বৃষ্টি

    আবওহাওয়া ডেস্ক:

    সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ উপকূলের দিকে অবস্থান করছে। যার প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে সারাদেশেই। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী শনিবারও (২৬ অক্টোবর) সারাদিনই ঝরবে ভারী বৃষ্টি।

    আবহাওয়া অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, উপকূলীয় অন্ধ্র প্রদেশ-উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের কারণে সারা দেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। লঘুচাপটির বির্ধতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এসময় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে। তবে অন্যত্র বাড়তে পারে সামান্য।

    আগামী ৪৮ ঘণ্টা তথা রোববার সন্ধ্যা নাগাদ বৃষ্টিপাতের এ প্রবণতা ক্রমান্বয়ে কমবে বলে জানানো হয়েছে। আর বুধবার নাগাদ আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

    গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে গতকাল সকাল পর্যন্ত দেশে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টাঙ্গাইলে আর সর্বনিম্ন তামপাত্রাও (১৮ দশমিক ৮) ওই টাঙ্গাইলেই।

    সুত্র : বিডি প্রতিদিন

  • ধেয়ে আসছে শক্তিশালি ঘূর্ণিঝড় ‘কিয়ার’

    ধেয়ে আসছে শক্তিশালি ঘূর্ণিঝড় ‘কিয়ার’

     আবহাওয়া ডেস্ক:

    ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় কিয়ার। আরব সাগরের (সিন্ধু সাগর) গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির মৌসুম অফিস।

    এ নিম্নচাপের প্রভাবে দেশটির কোঙ্কন অঞ্চল, গোয়া, কর্নাটকের উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওড়িষ্যা, আসাম, মেঘালয়েও ভারী বৃষ্টি হবে।

    দেশটির কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর বলছে, গভীর নিম্নচাপটি ২৬ ঘণ্টার মধ্যে সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম বা ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তবে, আশার কথা হলো- ভারতীয় উপকূলে কিয়ারের আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

    শুক্রবার আবহাওয়া বার্তায় দেশটির মৌসুম অফিস জানায়, রাত সাড়ে ১১টায় মধ্যে পূর্ব-মধ্য আরব সাগরে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়। ওই গভীর নিম্নচাপটি মহারাষ্ট্রের রত্নগিরির দক্ষিণ থেকে ২০০ কিলোমিটার এবং ৩১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে মুম্বইয়ে অবস্থান করবে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে ওমান উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • একদিন পিছিয়ে আজ হেমন্তের শুরু

    একদিন পিছিয়ে আজ হেমন্তের শুরু

    আজ ১ কার্তিক (নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী), শুরু হলো ষড়ঋতুর চতুর্থ ঋতু। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এ দুই মাসে এই ঋতু। আগের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ২ কার্তিক। ফলে এবার একদিন পর শুরু হলো হেমন্তের।

    কারণ, বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কার করেছে সরকার। ফলে এ বছর আশ্বিন মাস আসে ৩১ দিন নিয়ে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- ভাষা দিবস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের বাংলা ও ইংরেজি তারিখের মিল রাখতে বাংলা বর্ষপঞ্জির কার্তিক মাস এবার কাগজে-কলমে শুরু হলো আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে।

    এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির পরিচালক (গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগ) মোবারক হোসেন বলছিলেন, পুরনো নিয়মে বৈশাখ থেকে ভাদ্র- এই পাঁচ মাস গণনা করা হতো ৩১ দিনে। আশ্বিন থেকে চৈত্র- সাত মাস হতো ৩০ দিনে। তবে ইংরেজি লিপইয়ারে ফাল্গুনে মাস ৩১ দিনে হতো। এখন নতুন নিয়মে বৈশাখ থেকে আশ্বিন- প্রথম ছয় মাস ৩১ দিনে হবে। কার্তিক, অগ্রাহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও চৈত্র- এই ৫ মাস ৩০ দিনে হিসাব করা হবে। ফাল্গুন মাস হিসাব করা হবে ২৯ দিনে। ইংরেজি লিপইয়ারের বছর এক দিন বেড়ে ফাল্গুন হবে ৩০ দিনে।

    এ সংস্কারের কারণ কী?

    মোবারক হোসেন বলেন, এটা করা হলো বিভিন্ন রকম দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। নতুন ক্যালেন্ডারে আগামী ১০০ বছর মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস বাংলাবর্ষের যে তারিখে ঘটেছে, ইংরেজি ক্যালেন্ডারের সঙ্গে তার হেরফের হবে না।

    বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের দিনটি ছিল বাংলা বর্ষপঞ্জির ৮ ফাল্গুন। কিন্তু এখন ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পালনের দিনটি বাংলা বর্ষপঞ্জির ৯ ফাল্গুন হয়। তাই ২০২০ সাল থেকে শহীদ দিবস ও আন্তর্জতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি হবে বাংলা সনের ৮ ফাল্গুন।

    এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত ভুল। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরই আগের আদেশটি প্রত্যাহার করি। বাংলা একাডেমির সুপারিশ অনুযায়ী, এটি সংশোধন করে ফের জারি করা হয়েছে।

    ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছিল ১ পৌষ। কিন্তু এখন ১৬ ডিসেম্বরের দিন হয় ২ পৌষ। সংস্কারের কারণে এখন থেকে ১৬ ডিসেম্বর হচ্ছে ১ পৌষে।

    পরিবর্তিত বর্ষপঞ্জিতে বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস ৩১ দিনে, কার্তিক থেকে মাঘ এবং চৈত্র মাস ৩০ দিনে গণনা করা হবে।

    গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সঙ্গে বাংলা বর্ষপঞ্জির তারিখগুলোর সমন্বয় করার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানকে সভাপতি করে একটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এসব সংস্কার আনা হয়।

  • প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে বরিশাল জুড়ে ঘুরলো ‘জলবায়ু দৈত্য’

    প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে বরিশাল জুড়ে ঘুরলো ‘জলবায়ু দৈত্য’

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে বরিশাল নগর জুড়ে ঘুরে বেড়ালো এক জলবায়ু দৈত্য! আর সেই পুরোদস্তুর দৈত্য তৈরি হয়েছে নগরীর বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোঁরার ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে। সুইডিস কিশোরী ও জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের আহবানে বিশ^ব্যাপি চলমান বৈশি^ক জলবায়ু কার্যক্রম সপ্তাহের অংশ হিসেবে এই জলবায়ু দৈত্য তৈরি করে জণগনের মধ্যে প্লাস্টিক বোতলের ক্ষতিকারক দিক তুলে ধরতে এ উদ্যোগ নিয়েছে ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস।

    বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় একটি পিকআপ ভ্যানে করে জলবায়ু দৈত্যটি পরিভ্রমনে বের হয়ে বরিশাল নগর ভবন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, অশ্বিনী কুমার হলসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    এসময় তরুণ জলবায়ুকর্মীরা জলবায়ু ন্যয্যতার দাবিতে এবং প্লাস্টিক বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। অভিনব ‘জলবায়ু দৈত্য’ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ মডেল ইয়ুথ পার্লামেন্ট, একশনএইড বাংলাদেশ ও প্লান ইন্টারন্যাশনাল। ব্যাতিক্রমী এ উদ্যোগে নগরবাসীর মধ্যে এক ধরনের কৌতুহল সৃষ্টি হলে তরুণ উদ্যোক্তারা প্লাস্টিক দুষণ বিশেষ করে মাইক্রো প্লাস্টিকের বিধ্বংসী প্রভাব সমবেত জণগণের মধ্যে তুলে ধরেন।

    ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সংগঠক সোহানুর রহমান জানান, প্লাস্টিক দূষণের কারনেও জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে সংকটে রুপ নিচ্ছে। ফলে প্রতিবেশগত চক্রে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি এর অণুও খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গে মানবদেহে গিয়ে মরণব্যাধি সৃষ্টি করছে। প্লাস্টিকের বোতলের ব্যবহার হ্রাস করার পাশাপাশি জরুরি পুনর্চক্রায়ন (রিসাইক্লিং) নিশ্চিত করা জরুরী। অন্যথায় ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়া প্লাাস্টিক বোতলের দৈত্য আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সবাই সক্রিয় ও সচেতন হলে প্লাস্টিক বোতলের দৈত্যকে পরাস্ত করা কঠিন হতে পারে না। এক্ষেত্রে তরুণ সমাজকে আরো এগিয়ে আশার পাশপাশি খাদ্যাভাস ও জীবন প্রণালীও পরির্বন করতে হবে বলে জানান তিনি।

    কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বাংলাদেশ মডেল ইয়ুথ পার্লামেন্টের চেয়ারপার্সন আমিনুল ইসলাম ফিরোজ মোস্তফা বলেন, পৃথিবীর জলবায়ু সুরক্ষা এবং আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার না কমিয়ে কোন উপায় নেই। বিলম্বে হলেও সচেতনতা ও সক্রিয়তার সময় এসেছে। প্লাস্টিকের বিকল্প জিনিষের ব্যবহার বাড়াতে আমাদের ব্যাক্তিগত উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপুর্ন।

    এছাড়া প্লাস্টিককে একবার ব্যবহার করেই ফেলা দেয়া রোধে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

  • বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় হিক্কার প্রভাব পড়বে কী?

    বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় হিক্কার প্রভাব পড়বে কী?

    আরব সাগরে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় হিক্কা। আগামী ছয় ঘণ্টায় ওমানে আঘাত হানার পরদিন ঘূর্ণিঝড় হিক্কা আছড়ে পড়তে পারে ভারতের গুজরাট উপকূলে। গুজরাট, তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে ভারতের আবহাওয়া দফতরের এক বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে।

    ভারতের আবহাওয়া দফতর বলছে, গুজরাটের উপকূলবর্তী এলাকায় ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। তবে ওমানে আঘাত হানার পর শক্তি হারিয়ে ঘূর্ণিঝড় হিক্কা গুজরাট উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। প্রতিবেশি ভারতে আঘাত হানলে বাংলাদেশের সীমান্ত উপকূলবর্তী কিছু এলাকায় হিক্কার প্রভাবে ঝড়ো-হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আরব সাগরের উপকূলবর্তী রাজ্যগুলোতে মাইকিং করে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সমুদ্র মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের তীরে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়ার ওপর দু’দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

    বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ওমানের উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ঘূর্ণিঝড় হিক্কার। দেশটিতে ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ওমানের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ওমান বলছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় হিক্কার কারণে ওমানে ইতোমধ্যে তীব্র বাতাস ও ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড়ের কবলে আটকে পড়া সাত সদস্যের একটি পরিবারকে উদ্ধার করেছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

    ওমানের জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হিক্কার প্রভাবে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ে আটকা পড়া সাত সদস্যের একটি পরিবারকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন তারা নিরাপদে আছেন। প্রবল শক্তিশালী ঝড় হিক্কার কারণে এখন পর্যন্ত দেশে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহত হয়নি।

    বর্তমানে পাকিস্তানের করাচি থেকে ৮২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম এবং ওমানের মাসিরাহ শহর থেকে ২২০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে ‘হিক্কা’। আগামী ছয় ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি হারাতে পারে বলে ওমানের আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

    এদিকে, ভারতের আবহাওয়া দফতর বলছে, গুজরাটে ঘূর্ণিঝড় হিক্কার প্রভাবে ৬০ থেকে ১০০ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই উত্তর পাঞ্জাব থেকে মধ্যরাজস্থান হয়ে মধ্য গুজরাট পর্যন্ত পূবালি মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে।

  • বৃষ্টি হতে পারে সপ্তাহজুড়ে

    বৃষ্টি হতে পারে সপ্তাহজুড়ে

    অনলাইন ডেস্ক :

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উড়িষ্যা পার হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    যে কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পূর্বাভাস আরও বলছে, বৃষ্টিপাত হলেও সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

    আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকুওয়েদার বলছে, কেবল এই সপ্তাহ নয়, আগামী সপ্তাহের পুরোটা জুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এমনকি করাচিতেও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে।

    প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিক্কার প্রভাবে আরব সাগরের আশে পাশের এলাকায় গত সপ্তাহেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরেও এই ঝড়ের সমান প্রভাব দেখা যাচ্ছে। যদিও ঝড়টি ওমানের দিকে চলে যাওয়ায় ভারতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভবনা নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

    অ্যাকুওয়েদারের আবহাওয়াবিদ জেসন নিকোলস বলেন, শুষ্ক বায়ুই ঘূর্ণিঝড় হিক্কাকে দুর্বল করে ফেলতে যথেষ্ট।

  • সমুদ্রের ঢেউয়ের বিপুল শক্তির রহস্য

    সমুদ্রের ঢেউয়ের বিপুল শক্তির রহস্য

    অনলাইন ডেস্ক:

    সমুদ্রের ঢেউ অধিকাংশ মানুষেরই মন ভালো করে দেয়। অনেকে সেই পানিতে গা ভাসাতে ভালোবাসেন। কেউ বা করেন সার্ফিং। কিন্তু পদার্থবিদ্যার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঢেউয়ের সংজ্ঞা ও এর কাজের খবর কজন রাখেন?

    পর্তুগালের আটলান্টিক উপকূলে সার্ফাররা ছোট-বড় সব রকম ঢেউ উপভোগ করতে পারেন। আন্দ্রেয়াস হেগার পেশায় পদার্থবিদ্যার শিক্ষক। সার্ফিং নিয়ে তাঁর বিশাল উৎসাহ। পদার্থবিদ হিসেবে তিনি আদর্শ পরিস্থিতি কাজে লাগান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঢেউ আসলে কী? আন্দ্রেয়াস মনে করিয়ে দিলেন যে ঢেউ আসলে এমন এক শক্তি, যা স্থানান্তরিত হয়। তিনি একটি তোয়ালে ঝাঁকিয়ে দেখিয়ে দিলেন যে ঢেউ তোয়ালেজুড়ে ছড়িয়ে গেল। এ ক্ষেত্রে ঝাঁকানোর ফলে সৃষ্টি হওয়া শক্তি স্থানান্তরিত হলো।

    কিন্তু তোয়ালের মধ্যে ঢেউয়ের সঙ্গে পানির ঢেউয়ের মিল কোথায়? মিল অবশ্যই আছে। তোয়ালে হোক অথবা পানি, ঢেউ কিন্তু ভর নয়। শুধুই শক্তি, যা স্থানান্তর করা হয়। সৈকতে ঢেউয়ের সেই চরিত্র বোঝা যায় না। এ ক্ষেত্রে পানি আসলে শুধু পরিবহনের মাধ্যম।

    সার্ফাররা যখন তাঁদের বোর্ডের ওপর অপেক্ষা করেন, এটা অনেকটা সে রকম। পানির অণুও সেভাবে খুব কম নড়াচড়া করে। ঢেউ অবশ্য আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে। সমুদ্রে ঢেউ সৃষ্টিকারী এ শক্তি কোথা থেকে আসে? জোয়ার-ভাটা অবশ্যই এর অন্যতম কারণ। চাঁদের প্রভাবে সমুদ্রের পানি সব সময় চলমান অবস্থায় থাকে। চাঁদের অভিকর্ষের ফলে জোয়ার ও ভাটা হয়। তখন ঢেউয়েরও সৃষ্টি হয়। তবে মূলত বাতাসের সাহায্যেই ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। বাতাসের শক্তি ও তার স্থায়িত্ব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বাতাসই পানির অণুগুলোকে গতিশীল করে তোলে। ঠিক হেয়ার ড্রাইয়ার যেভাবে কৃত্রিম বাতাস সৃষ্টি করে ঢেউয়ের জন্ম দিতে পারে।

    মহাসাগরের মধ্যে সৃষ্টি হওয়ার পর ঢেউ প্রায়ই সারা দিন ধরে কয়েক শ কিলোমিটার যাত্রা করে উপকূলের দিকে ধেয়ে যায়। দীর্ঘ ও চ্যাপ্টা পানির ঢেউ ছোট ও উঁচু ঢেউয়ের তুলনায় আরো দ্রুত এগিয়ে যায়। কারণ সেগুলো নিজস্ব শক্তিতেই রাশ টানতে পারে। ঢেউয়ের মধ্যে পানির অণু চক্রাকার হয়ে ঘুরতে থাকে। এ চক্রাকার ঘূর্ণন পানির আরো গভীরেও চলতে থাকে। পানি যত গভীর হয়, অণুগুলোর কক্ষপথ ততই ছোট হতে থাকে। ঘূর্ণমান পানির কণাগুলো যখন সমুদ্রের তলদেশে মাটির ওপর আছড়ে পড়ে, তখন তাদের গতি থমকে যায়। এর প্রভাবও টের পাওয়া যায়। তখন শ্যালো ওয়াটার ওয়েভ সৃষ্টি হয়। সার্ফিংয়ের উপযুক্ত ঢেউও আসলে শ্যালো ওয়াটার ওয়েভ।

    নিচের পানির অণু সমুদ্রের তলদেশে থমকে গেলেই সেই অবস্থা সৃষ্টি হয়। ওই সময় ওপরের কণাগুলো বিনা বাধায় ঘুরতে থাকে। এর ফলে লাগামহীন পানির অণুগুলো আরো বেশি ওপরের দিকে ধেয়ে যায়। সার্ফিংয়ের উপযুক্ত ঢেউ তখন সমুদ্রতীরে এসে ভেঙে পড়ে। সার্ফারদের জন্য সেটা হলো আদর্শ অবস্থা।

    তবে আদর্শ ঢেউ কিন্তু সময় মেনে চলে না। সে কারণে আন্দ্রেয়াস হেগার সন্ধ্যাবেলায়ও পানির ওপর কেরামতি দেখাতে থাকেন।