Category: আবহাওয়া

  • আবহাওয়া অফিসের বিপদ সংকেত

    আবহাওয়া অফিসের বিপদ সংকেত

    উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। ফলে সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

    অন্যদিকে ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ে ভূমিধসের আভাসও দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    এদিকে আবহাওয়াবিদ মো. আফতাব উদ্দিন জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। তাই পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

    ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে ভারী এবং ৮৯ মিলিমিটারের বেশি বর্ষণকে অতিভারী বর্ষণ বলা হয়।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া এক পূর্বভাসে আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে-বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জায়গায়; ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

  • জলবায়ু অভিযোজন সমাধান একার পক্ষে সম্ভব নয় : প্রধানমন্ত্রী

    জলবায়ু অভিযোজন সমাধান একার পক্ষে সম্ভব নয় : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোনো জাতির একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী গৃহীত বেশ কিছু উদ্যোগের আবাসস্থল, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপখাইয়ে নেয়ার লড়াইয়ে সম্মিলিতভাবে আমাদের টিকে থাকার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ঢাকা থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমিশনের একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যদিও বাংলাদেশ অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, তথাপি অনেক কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে।’

    ‘যে কারণে আমি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের নতুন কার্যালয় খুলতে দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এই নতুন অফিস বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন প্রচেষ্টা এবং ধারণার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবং সমন্বয় সাধন করতে সহায়তা করবে এবং আমরা এখন পর্যন্ত যতটা সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করেছি তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে এটি সারা বিশ্বের জন্য ওয়েব পোর্টাল হিসেবে কাজ করবে,’ যোগ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোপরি, কোনো জাতিই এটি একা করতে পারে না। এক্ষেত্রে আমাদের সমগ্র বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

    কমিশনের নেতৃত্ব প্রদান করছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার প্রযুক্তিবিদ বিল গেটস এবং বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও কমিশনে রয়েছেন।

    এ বছর জুলাই মাসে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ এর প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তথা রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকার হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে দুদিনব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বান কি মুন এবং ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এই বৈঠকে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন।

    সফরকালীন তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন, কী করে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে। তাদের সেই সফরের ফলেই গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকায় ’গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন’ এর নতুন অফিস খোলা হচ্ছে।

    গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন রিপোর্ট বিশ্বের ১০টিরও অধিক রাজধানী ও নগরী থেকে প্রকাশ করা হয়েছে, যার মূল স্লোগান হচ্ছে ‘অ্যাডাপ্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড।’

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, জলবায়ুর প্রভাব ক্রমান্বয়ে সমগ্র বিশ্বের জনগণের জন্য জরুরি বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে, কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ২০৩০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি জনগণকে দরিদ্রসীমার নীচে ঠেলে দেবে।

    রিপোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট রূপকল্পের কথা বলা হয়েছে। যার মাধ্যমে মূল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসমূহকে আরও স্থিতিস্থাপক এবং উৎপানমুখী হিসেবে রূপান্তর ঘটানো যায়। কমিশন দেখেছে অভিযোজনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক আয় করা সম্ভব। সর্বোপরি এই আয়ের পরিমাণ উন্নত স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে বেশি, লাভের এই হার ২ অনুপাত ১ থেকে ১০ অনুপাত ১ পর্যন্ত বা ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি।

    বিশ্লেষণে জানানো হয়, ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার বিশ্বব্যাপী পাঁচটি স্থানে ২০২০ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে এতে সাত ট্রিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জিত হবে। এই পাঁচটি এলাকায় যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা হচ্ছে- আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো, উন্নত শুষ্ক-ভূমির অবকাঠামো, ম্যানগ্রোভ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদকে অধিক স্থিতিস্থাপক করতে বিনিয়োগ- মূলত বিশ্বব্যাপী অভিযোজন প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে যা প্রয়োজন এগুলো তারই অংশ।

    জলবায়ুর অভিযোজন ‘ট্রিপল ইকোনমিক ডিভিডেন্ট’ও সরবরাহ করতে পারে, এটি ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনে, উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি সাধন করে এবং অন্যান্য সামাজিক এবং পরিবেশগত মুনাফাও সরবরাহ করে।

    রিপোর্টে অভিযোজনের আহ্বান জানিয়ে সমাজে বিদ্যমান অসমতা দূর করা এবং অধিক সংখ্যক জনগণকে এর আওতাভুক্ত করা, বিশেষ করে সে সমস্ত জনগণেরা যারা জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবজনিত ঝুঁকির মুখে রয়েছে তাদের সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা। বাস্তবতা হচ্ছে, যারা জলবায়ু পরবর্তনের শিকার হচ্ছে তারা মূলত এর জন্য দায়ী নয়, অভিযোজনকে একটি মানবিক এবং নৈতিক অপরিহার্য্য বিষয় করে তুলতে হবে।

    রিপোর্টের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান বান কি মুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সীমানা রেখা নেই, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা, যা কেবল বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, ‘এটি এখন ক্রমান্বয়ে পরিষ্কার হচ্ছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যেই আমাদের পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে এবং আমাদের এর সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। অভিবাসন এবং অভিযোজন দুটি একই সঙ্গে চলতে পারে। যেহেতু, এই দুটি বিষয়ই প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ভিত নির্মাণে সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

    তিনি যোগ করেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য এবং একটি জলবায়ু স্থিতিস্থাপক বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য অভিযোজন প্রযোজ্য।

    গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের সিইও প্যাট্রিক ভারকুইজেন বলেন, ইতোমধ্যেই জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। এর ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে আমাদের জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য সম্ভব সবকিছুই করতে হবে। যাতে করে আমাদের বিশ্বকে আমরা ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শক্তিশালী এবং সুসজ্জিত করে তুলতে পারি।

    তিনি বলেন, অভিযোজন একাধারে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত মুনাফা- এই ‘ট্রিপল ডিভিডেন্ট’ সৃষ্টি করে।

    রিপোর্টে তিনটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। যেগুলো হচ্ছে- বোধগম্যতা, পরিকল্পনা এবং অর্থায়ন। যাতে জলবায়ুর প্রভাব, ঝুঁকি এবং সমাধান- সকল প্রকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ে কার্যকরী হয়।

    রিপোর্টে আন্তঃসম্পর্ক যুক্ত সাতটি ক্ষেত্র যেমন- খাদ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ, পানি, শহরাঞ্চল, অবকাঠামো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি এবং অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রে এই বড় ধরনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন কীভাবে প্রযুক্ত হবে তাও খুঁজে বের করা হয়।

    কমিশন ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে এই সম্পর্কে বেশ কিছু ঘোষণা প্রদান করবে এবং অন্যান্য কার্যবিধিও তুলে ধরবে। যেগুলো এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় রূপান্তরগুলোর ক্ষেত্রে জাম্পস্টার্ট প্রযোজ্য। কিছু ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপসমূহের বিদ্যমান উদ্যোগগুলোতে রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা জড়িত, অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা পরিবর্তনের জন্য নতুন জোট গঠনের দাবি করতে পারে।

    ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠেয় এবং নেদারল্যান্ডসের সরকার আয়োজিত অপর এক অনুষ্ঠানে কমিশন এক বছরের জন্য একটি ‘ইয়ার অব অ্যাকশন’ ঘোষণা করবে। এ ক্ষেত্রে অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২০ সালের অক্টোবরে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠেয় ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন সম্মেলনে প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

  • সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত,বরিশালে ঝড় বৃষ্টির আভাস

    সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত,বরিশালে ঝড় বৃষ্টির আভাস

    উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হওয়ায় দেশের সবকটি সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সৃষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে উড়িষ্যা উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    এসময় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    এদিকে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

  • সুসংবাদ জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

    সুসংবাদ জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

    আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে সারাদেশে বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় এই লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

    শনিবার সকাল ৯টায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানায় আবহাওয়া অফিস। অন্যদিকে শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ মেঘলা রয়েছে। গত রাতে বৃষ্টিপাতও হয়েছে।

    সকালের পূর্বাভাসে বলা হয়, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    শনিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে রংপুরে, ৬৭ মিলিমিটার। এ সময়ে ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭ মিলিমিটার। ঢাকায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার ঢাকায় সূর্য ডুববে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে এবং রোববার সূর্য উঠবে ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে।

  • ঈদের দিনে বৃষ্টি নিয়ে যে পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া অধিদফতর

    ঈদের দিনে বৃষ্টি নিয়ে যে পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া অধিদফতর

    অনলাইন ডেস্ক :

    ঈদুল আজহার দিন থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে। এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। শনিবার আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ঈদের দিন থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে ৩/৪ দিন।

    এদিকে আজ সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    আবহাওয়ার চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমী স্থল নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে রাজস্থান এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপে অবস্থান করছে।

    এটি আরো পশ্চিমদিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং এটি মৌসুমী বায়ুর অক্ষের সাথে মিশে গিয়েছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

    এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল হয়ে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে।

  • ঈদুল আজহায় সপ্তাহজুড়ে পুরো দেশ থাকবে বৃষ্টির কবলে!

    ঈদুল আজহায় সপ্তাহজুড়ে পুরো দেশ থাকবে বৃষ্টির কবলে!

    অনলাইন ডেস্ক :

    ১২ আগস্ট উদযাপিত হবে মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এ সময় সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টিপাতের কবলে পড়তে পারে গোটা দেশ। আবহাওয়া অফিদফতরের এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    গত জুলাই মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত ছিল। চলতি আগস্ট মাসেও স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টিপাত বেশি থাকবে। এক্ষেত্রে চলতি মাসে দেশের কোথাও কোথাও ভারী, কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হবে। তবে আগামী সপ্তাহ অর্থাৎ ঈদের সপ্তাহজুড়ে পুরো দেশ বৃষ্টির কবলে থাকবে।

    আবহাওয়া অফিদফতর পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী ৭ আগস্ট (বুধবার) পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রংপুর বিভাগের অনেক স্থানে হালকা (৪ থেকে ১০ মিলিমিটার প্রতিদিন) থেকে মাঝারি ধরনের (১১ থেকে ১২ মিলিমিটার প্রতিদিন) বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী (২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার প্রতিদিন) থেকে অতি ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার প্রতিদিন) বর্ষণ হতে পারে।

    আবহাওয়াবিদ কাওসারা পারভীন এক পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত পর্যায়ক্রমে বাড়বে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে। অর্থাৎ ৮ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এই ১০ দিন পর্যায়ক্রমে বৃষ্টিপাত বাড়বে।

    পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের সপ্তাহজুড়েই দেশ থাকবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের কবলে। এক্ষেত্রে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টিপাত হবে। এ সময় রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি অথবা ব্রজসহ বৃষ্টিপাতের আভাস রয়েছে। অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা ব্রজসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

  • সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    অনলাইন ডেস্ক :

    উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

    আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

    এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

    উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

    সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝড়োহাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

    এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর নৌ হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • সমুদ্র উত্তাল, পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    সমুদ্র উত্তাল, পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    অনলাইন ডেস্ক :

    সমুদ্র উত্তাল হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

    আবহাওয়া অফিসের এক বিশেষ সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর কারণে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

    এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এদিকে, শুক্রবার ভোর রাত থেকে রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। থেমে থেমে আকাশের গর্জন। কখনও ঝিরিঝিরি আবার কখনও বৃষ্টির গতি কিছুটা বেড়ে যায়, সাথে বইছে কনকনে শীতল হাওয়া।

  • সোমবার থেকে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা

    সোমবার থেকে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা

    আগামী সোমবার (২২ জুলাই) থেকে সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    এদিকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর,সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী,ময়মনসিংহ,ঢাকা,খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    সেইসাথে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃতএর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল অবস্থায় বিরাজ করছে।

  • ০২৯৫৭০০২৮ নম্বরে ফোন করে জানা যাবে বন্যার তথ্য

    ০২৯৫৭০০২৮ নম্বরে ফোন করে জানা যাবে বন্যার তথ্য

    দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার ৪২৫ নম্বর রুমে খোলা হয়েছে এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের  ফোন নম্বর ০২৯৫৭০০২৮।

    আজ শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের জানান, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারা দেশে বন্যা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে। বন্যা-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের জন্য সবাইকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বর্ণিত নম্বরে ফোন করার অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র’ এর টোল ফ্রি ১০৯০ নম্বরে ফোন করার পর ৫ প্রেস করে জানা যাবে বন্যার পূর্বাভাস-সংক্রান্ত তথ্য।

    একইভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রস্তুত রেখেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

    এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে ১০ জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। দুর্গত জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে সাড়ে ১৭ হাজার মেট্রিকটন চাল এবং ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং দুই কোটি ৯৩ লাখ নগদ টাকা।

    দুই-এক দিনের মধ্যে এসব জেলায় ৫০০টি করে তাঁবু এবং মেডিক্যাল টিমের পৌঁছে যাবে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান।

    সচিবালয়ে শুক্রবার আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির এক সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ত্রাণ সচিব শাহ কামাল বলেন, যেসব জেলা দুর্গত হতে পারে সেগুলোর পাশাপাশি অন্য জেলাগুলোতেও সমান প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় দুই হাজার প্যাকেট করে মোট ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে। একটি প্যাকেটে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, তেল, আটা, মসুরের ডাল, শিশু খাবারসহ একটি পরিবারের সাত দিনের খাবার রয়েছে।

    এখন পর্যন্ত দুই কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং দুই দফায় সাড়ে ১৭ হাজার মেট্রিকটন চাল বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে জানিয়ে শাহ কামাল বলেন, কোনো জেলা প্রশাসক চাহিদা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে চাল দেওয়া হবে।

    সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি দপ্তর বন্যা মোকাবেলায় যেসব প্রস্তুতি নিয়েছে সেগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এনামুর। তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে সব ধরনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে টিম গঠন করা হয়েছে যাতে পানিবাহিত রোগ বিস্তার রোধ করা যায়। খাদ্যগুদামের কর্মরতদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি এই বন্যায় আমরা মানুষের জীবন রক্ষা করতে তো পারবই, গবাদিপশু এবং খাদ্যশষ্যেরও নিরাপত্তা দিতে পারব। তিনি বলেন, রবিবার থেকে ডিসি সম্মেলনে অংশ নিতে সব ডিসি ঢাকায় থাকবেন। ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে যারা দায়িত্বে থাকবেন তাদের কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিবারের মত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সফল হব।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জায়গার অভাব হলে ব্যবহারের জন্য দুর্গত এলাকাগুলোতে ৫০০টি করে তাঁবু পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রত্যেক তাঁবুতে ২০ জন করে থাকতে পারবে।