Category: আবহাওয়া

  • ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে

    ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে

    ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে দেশের ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। এছাড়া বন্যা আক্রান্ত হতে পারে এমন জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    শুক্রবার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে দুই কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সাড়ে ১৭ হাজার টন চাল এবং ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার। এসব জেলায় দু’এক দিনের মধ্যে পৌঁছে যাবে ৫০০ তাবু, তৈরি করা হয়েছে মেডিকেল টিম।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় বন্যা মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে মাঠ পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    এনামুর রহমান বলেন, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার এবং নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থির অবনতি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারি বর্ষণ হতে পারে, এজন্য বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।’

    তিনি বলেন, ভারতের ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা নদীতে পানি বাড়বে এবং বিহারে গঙ্গার পানি বাড়ায় পদ্মার অববাহিকায় বন্যা দেখা দিতে পারে।

    ‘৬২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, তারমধ্যে ২৬টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ৫৫১টি সেন্টারকে ঝুঁকিমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। জামালপুরে ভাঙনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে এবং লালমনিহাটে তিস্তা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এগুলো মোকাবেলায় কাজ শুরু হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিকেল টিম গঠন করেছে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রস্তুত রেখেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরেও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেই নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে সব ধরনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

    ‘সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে টিম গঠন করা হয়েছে যাতে পানিবাহিত রোগ বিস্তার রোধ করা যায়। খাদ্যগুদামে কর্মরতদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’

    ত্রাণ সচিব শাহ কামাল বলেন, প্রতিটি জেলায় দুই হাজার প্যাকেট করে মোট ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে। একটি প্যাকেটে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, তেল, আটা, মসুরের ডাল, শিশু খাবারসহ একটি পরিবারের সাত দিনের খাবার রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত দুই কোটি ৯৩ লাখ নগদ টাকা এবং দুই দফায় সাড়ে ১৭ হাজার টন চাল বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। কোনো জেলা প্রশাসক চাহিদা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে চাল দেয়া হবে।

    সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আশ্রয়স্থল হারাল ৬ হাজার রোহিঙ্গা, পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা

    আশ্রয়স্থল হারাল ৬ হাজার রোহিঙ্গা, পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা

    কক্সবাজারে টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাজার হাজার শরণার্থীর আশ্রয়স্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

    ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাতের কারণে গত বছরের তুলনায় বেশি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম’র ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফিসার তারেক মাহমুদের পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে এসব জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে টানা বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের জরুরি সাহায্য প্রদান করেছে আইওএম। প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়হীন হয়েছে। তাদের বিভিন্ন সহায়তা দেয়া হয়েছে।

    আইওএম বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান ম্যানুয়েল পেরেইরা বলেন, টানা বর্ষণ ও ঝোড়ো বাতাসে ক্যাম্পে অবর্ণনীয় দুর্দশা বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জরুরি সাহায্য প্রদান ও তাদের পুনরায় আশ্রয় দেয়ার জন্য দিন-রাত কাজ করছে আমাদের সবগুলো টিম। আমরা দুর্যোগের তাৎক্ষণিক ক্ষতি কাটানোর জন্য কাজ করছি। কিন্তু আমাদের অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, আইওএম গত দুইদিনে প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গাকে জরুরি সাহায্য প্রদান করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৭০ মানুষকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি এই অঞ্চলের মানুষকে বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    আইওএম’র হিসাব মতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় আইওএমের ক্যাম্পে থাকা টিমগুলো ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রায় ৫ হাজার ৭৯টি প্লাস্টিক ট্রিপল বিতরণ করেছে। কুতুপালং মেগাক্যাম্প এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আইওএম এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলো চলমান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনমতো তাৎক্ষণিক সাহায্য করছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। ফলে ক্যাম্প ও আশেপাশের এলাকায় রাস্তাঘাট, সেতু এবং নালা-নর্দমার অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

    আইএসসিজি বলছে, মৌসুমী দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এ বছর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০১৮ সালের রেকর্ড ছাড়াতে পারে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৮ সালের মৌসুমে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫ হাজার। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ শরণার্থী গৃহহীন হয়েছে অথচ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ২০০। এ বছর জুলাইয়ের প্রথম ১০ দিনে প্রায় ২২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৮ সালে গোটা জুলাই মাসে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ১৯ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

  • আমতলীতে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

    আমতলীতে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

    বরগুনার আমতলীতে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার রাস্তাঘাট, হাট-বাজার বৃষ্টির বদ্ধ পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে।

    টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কের পিচঢালাই উঠে খোয়া বেড়িয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

    উপজেলার হলদিয়া, চাওড়া, আঠারগাছিয়া, আরপাঙ্গাশিয়া, আমতলী সদর, কুকুয়া, গুলিশাখালী ইউপির নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে রয়েছে এবং আমতলী পৌর এলাকার তিন নং ওয়ার্ডের হানিফ মিয়ার বাসা নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি উঠায় তারা দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে।

    ঐ এলাকার মজিবুর রহমান নামের এক কৃষি ব্যাংকের মাঠ পরিদর্শক সরকারী ১ নং খাস খতিয়ানের জমি দখল করে পাকা স্থাপনা করায় পানি নিষ্কাসনের পথ বন্দ হয়ে গেছে ফলে জলাবদ্ধতার প্রধান কারন বলে ভূক্তভোগীরা জানান।

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডেও বিভিন্ন বাসাবাড়ী ও পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আমতলী প্রেসক্লাব ভবনের মধ্যে পানি উঠে তলিয়ে যায়।

    অপর দিকে বৃষ্টির কারণে শ্রমজীবীরা বেকার বসে থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে বাজারে শাক-সবজিসহ কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • বিপদসীমার ওপরে তিস্তার পানি, হুমকির মুখে বাঁধ

    বিপদসীমার ওপরে তিস্তার পানি, হুমকির মুখে বাঁধ

    গর্জে উঠছে তিস্তা নদী। উথালপাতাল ঢেউ আর শোঁ শোঁ শব্দ নদীর পাড় কাঁপিয়ে তুলছে তিস্তা।

    বৃহস্পতিবার জেলার ডিমলা উপজেলায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমর ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    এতে জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চর ও চর বেষ্টিত গ্রামে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

    নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ওপারে গোজলডোবা তিস্তা ব্যারাজের জলকপাট খুলে দেয়ায় ভারত তাদের অংশে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। এতে করে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

    এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিতে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী বানপাড়ায় স্রোতের আঘাতে ডান তীর গ্রামরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় ওই এলাকার দুই হাজার পরিবার ও ডিমলা উপজেলার চরখরিবাড়ি এলাকার স্বেচ্ছাশ্রম বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। এতে ওই চরে বসবাস করা দুই হাজার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

    ডিমলা উপজেলার তিস্তাপাড়ের আছির মাঝি ও হারুন মাঝি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বুধবার রাত ১১টা থেকে নদীর পানি হু হু করে বাড়তে থাকে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরের পর নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে আশেপাশের গ্রামগুলোতে ঢুকে পড়েছে।

    ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এ সময় বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে চলে যায়। এরপর বিকেল ৩টায় পানি বেড়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার, বিকেল ৬টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।
    পাউবো সূত্রে জানায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে প্লাবিত হয় তিস্তা ব্যারাজের উজান ও ভাটির চর ও নদীতীরবর্তী গ্রাম গুলো।

    ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, তিস্তার বন্যায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছচাঁপানী, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারীসহ ১০ ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি চর ও গ্রাম তিস্তার বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই সকল এলাকায় বসবাসকারীদের নিরপদে উঁচু স্থানে সরে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

    এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী বানপাড়ায় ডান তীর গ্রামরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা মনির উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী ও দিদার রহমান বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে খুবেই ভয়ের মধ্যে আছি। এই বাঁধ ভেঙে শুধু এই বানপাড়া নয়, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের ২০ হাজারেরও বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তা নদীতে পরিণত হবে। আমরা নিজেরাই বাঁশ ও কাঠ ফেলে বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করছি।

    ছাবেদ আলী ও জহুরুল হক অভিযোগ করে বলেন, বাঁধ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হকের কাছে ভাঙন রোধের জন্য বলা হলে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। কিন্তু মুখে বললেও তারা কাজ করেন না। ফলে আমরা নিজেরাই বাঁশ ও কাঠ ফেলে বাঁধের ভাঙন রোধের চেষ্টা করছি।

    এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী জোনের এসডি হাফিজুল হক জানান, বানপাড়া বাঁধের ৬০ মিটার পর্যন্ত ভাঙন পাওয়া গেছে। আমরা ১২০ মিটার পর্যন্ত এই ভাঙন রোধের চেষ্টা করছি। তবে এ বাঁধটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এর কাজ শুরু হবে।

    অপরদিকে ডিমলা উপজেলার চরখড়িবাড়ি এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধটি তিস্তার পানির তোড়ে ভাঙনের মুখে পড়ায় ওই এলাকার দুই হাজার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

    বাঁধটি রক্ষার্থে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক। তিনি ওই বাঁধের ভাঙন রোধে লোকজন নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান।

    ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা সর্তক অবস্থায় রয়েছি। বৃহস্পতিবার তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

  • সুনামগঞ্জে বন্যা, ১৬৮ স্কুল বন্ধ

    সুনামগঞ্জে বন্যা, ১৬৮ স্কুল বন্ধ

    টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জেলার ১৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে এমন তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

    এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২২টি, দোয়ারাবাজার উপজেলার ১৮টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ২৭টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৩টি, ছাতক উপজেলার ১০টি, জামালগঞ্জ উপজেলার ৩০টি, তাহিরপুর উপজেলার ১৯টি ও ধর্মপাশা উপজেলার ৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

    এদিকে যেসব এলাকার বিদ্যালয়গুলো উঁচু স্থানে রয়েছে সেগুলোতে অতিবৃষ্টিতে প্লাবিত হওয়া মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এজন্য বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক ও দফতরিকে সার্বক্ষণিক বিদ্যালয়ে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার ১৬৮টি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় আমরা সেগুলো বন্ধ রেখেছি। তাছাড়া আমরা যেসব বিদ্যালয় উঁচু বা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে সেগুলোর প্রধান শিক্ষক ও দফতরিকে সার্বক্ষণিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি একজন মানুষও আশ্রয়ের জন্য আসেন তাহলে তাকে বিদ্যালয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

    উল্লেখ্য, টানা চারদিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের নদী ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুনামগঞ্জের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। তাছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৬৮ মিলি মিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা সুরমা নদীর বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে।

  • পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার, ডিসি বললেন খবর পাইনি

    পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার, ডিসি বললেন খবর পাইনি

    অনলাইন ডেস্ক :

    ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

    বুধবার বিকেল ৩টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। তিস্তা ব্যারেজ দোয়ানী পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। ব্যারাজ রক্ষার্থে ৪৪টি জলকপাট খুলে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তিস্তা, সানিয়াজান ও ধরলার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চল এলাকার প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুইদিন ধরে ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বেড়ে যায়। এতে চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তিন হাজার পরিবার। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

    এদিকে, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সানিয়াজান, সিঙ্গীমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ও আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

    ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি, ডিসি বললেন খবর পাইনি

    হাতীবান্ধা উপজেলা গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তা এখনো পাইনি।

    গড্ডিমারী ইউনিয়নের ছয়আনী গ্রামের মোকছেদ আলী বলেন, গড্ডিমারীর ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের পরিবারগুলো নদীর পানি বৃদ্ধিতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দোয়ানী ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজান থেকে তেমন পানি আসছে না। তবে বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর এলাকার লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

    লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর বলেন, বৃষ্টির কারণে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছা ইউনিয়নে কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে হাতীবান্ধা উপজেলায় পানিবন্দি হওয়া খবর পাইনি।

  • জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের দেশ সবচেয়ে বড় হুমকিতে : প্রধানমন্ত্রী

    জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের দেশ সবচেয়ে বড় হুমকিতে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের দেশ সবচেয়ে বড় হুমকিতে রয়েছে। যে হারে তাপমাত্রা বাড়ছে তাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে। এতে আমরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে। শুধু বাংলাদেশ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের ছোট ছোট দেশও হুমকির মধ্যে আছে। এদেরকে রক্ষা করতে হবে।

    বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, বন্যা লেগেই আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ সমস্যাগুলো আরও বাড়ছে। আমরা এসব সমস্যা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ড করেছি। এ ফান্ডে প্রায় ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আমরা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা মাথায় রাখছি। ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি সৌর প্যানেল দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বছরে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করছি। এছাড়া ডেল্টা প্লান ২১০০ গ্রহণ করেছি। ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যেন টিকে থাকতে পারে সে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ থেকে বাচার জন্য সাইক্লোন সেল্টার বানিয়েছি। এসব স্থানে মানুষ নিজে এবং গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিতে পারে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর সমুদ্র ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষ এবং গবাদিপশুকে বাঁচানোর জন্য মুজিব কেল্লা স্থাপন করা হয়। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দেড় লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। এবার ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হোনে। আমাদের সরকারের সতর্কতার কারণে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পরও ১০ জন মারা যায়।

    শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২০ ভাগ বনায়ন তৈরি করতে চাই। এ জন্য বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে গ্রীণ বেল্ট গড়ে তোলার জন্য। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বন্যা, খরা, লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান আবিষ্কার করেছি।

    দুর্গত এলাকার মানুষ দুর্যোগের সময় যেন খাদ্যদ্রব্য মজুত রাখতে পারে, সে জন্য সাইলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনি বিভিন্নভাবে মানুষকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • পটুয়াখালীতে জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকিতে মৎস্য সম্পদ

    পটুয়াখালীতে জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকিতে মৎস্য সম্পদ

    জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জীবনযাত্রার পাশাপাশি পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে সব উন্নয়ন প্রকল্পে সমন্বয় প্রয়োজন।

    পটুয়াখালী জেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে সোমবার (০৮ জুলাই) সকালে শহরের কোডেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘জলবায়ু পরিবর্তনে মৎস্য সম্পদে প্রভাব’ বিষয়ক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা

    সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. অলিউর রহমান।

    কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক কামরুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে যারা সরকারি সব উন্নয়নের (বিশেষ করে বিএডিসি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি অধিদফতর, এলজিইডি) সঙ্গে যুক্ত তাদের সব উন্নয়ন প্রকল্পে মৎস্য বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন।

    এছাড়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহের সভাপতিত্বে কর্মশালায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ডিন ড. লোকমান আকন, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম শহিদুল ইসলাম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বৃষ্টি থাকতে পারে আরও ৩ দিন

    বৃষ্টি থাকতে পারে আরও ৩ দিন

    বর্ষার খরা কাটিয়ে অঝোরে ঝরছে বৃষ্টি। গত দু’দিনে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হয়েছে আরও বেশকিছু স্থানে।

    সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অঝোরে বৃষ্টি ঝরেছে রাজধানীতে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী তিন দিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

    rain-1.jpg

    এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘এ অবস্থা মোটামুটি ৯, ১০, ১১ জুলাই পর্যন্ত থাকবে। বৃষ্টি ধীরে ধীরে কিছুটা কমে আসবে।

    সোমবার সকালে আবহওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিন দিন আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

  • ব‌রিশা‌লে স্বরূপে আষাঢ়

    ব‌রিশা‌লে স্বরূপে আষাঢ়

    ব‌রিশা‌লে সকাল থে‌কে শুরু হয়েছে ইলশেগুঁড়ি বৃ‌ষ্টি‌। কোথাও কোথাও আবার থেমে থেমে নামছে বৃষ্টি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃ‌ষ্টির মধ্যে কর্মমুখী সাধারণ মানুষ ব্যস্ত হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছেন।

    রোববার  সকাল ৯টা থে‌কেই নগ‌রের দোকানপাটসহ কার্যালয়-আদালত, স্কুল-ক‌লেজও খু‌লে‌ছে। বৃষ্টির কারণে দোকানগুলোতে ক্রেতা‌দের তেমন ভিড় না থাক‌লেও শিক্ষা-প্র‌তিষ্ঠানগু‌লো‌তে শিক্ষার্থী‌দের উপ‌স্থি‌তি ‌ছি‌লো চো‌খে পড়ার ম‌তো। বৃ‌ষ্টিতে সড়‌কের কোথাও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হ‌লেও ভা‌টিখানাসহ নগ‌রের ভাঙা সড়কের খানাখ‌ন্দে পা‌নি জ‌মেছে। খানাখন্দে জমে থাকা পানি মাড়িয়ে যেতে হচ্ছে চলাচলরতদের। এতে তারা পড়েছেন দুর্ভোগে।

    নদ-নদীর পা‌নি স্বাভা‌বি‌কের চেয়ে কিছুটা বাড়‌লেও কোথাও প্লা‌বিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়‌নি। এছাড়া ব‌রিশাল নদীবন্দর থে‌কে সঠিক সময়ে নৌ-সড়ক রুটের যানবাহনগু‌লো যাত্রী‌দের নি‌য়ে গন্ত‌ব্যের উ‌দ্দে‌শে ছেড়ে গেছে।

    ব‌রিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের সি‌নিয়র পর্যবেক্ষক আ‌নিসুর রহমান বাং ব‌লেন, ব‌রিশালে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব স‌ক্রিয় র‌য়ে‌ছে। আর এ সময়টায় মৌসুমী বায়ুর প্রভা‌বেই নামছে বৃ‌ষ্টি। যা আ‌রও কয়েকদিন ধরে চলবে। তারপর ক‌মে গি‌য়ে আবা‌রও শুরু হ‌বে। এ সময়টা‌তে সমুদ্র বন্দ‌রে ৩ নম্বর ও নদীবন্দরগু‌লো‌তে ১ নম্বর সতর্কতা সং‌কেত রয়েছে।

    ‌তি‌নি আরও ব‌লেন, শনিবার (৬ জুলাই) থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ব‌রিশা‌লে ৫০ দশ‌মিক ৮ মি‌লিমিটার বৃ‌ষ্টিপাত হ‌য়ে‌ছে। বৃ‌ষ্টির কার‌ণে গত ক‌য়েকদিন থে‌কে তাপমাত্রা তেজিভাবও কিছুটা ক‌মে‌ছে।

    এ‌দি‌কে জেলা মৎস কার্যালয়ের কর্মকর্তা (হিলসা) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এ ধর‌নের বৃ‌ষ্টি‌পাতকে মূলত ‘ই‌লশেগুঁ‌ড়ি’ বৃ‌ষ্টি বলা হয়। বৃ‌ষ্টি ও আবহাওয়াটা পু‌রোপু‌রি ই‌লি‌শ মাছের জন্য উপ‌যোগী। এ সময়ে জে‌লে‌দের জা‌লে প্রচুর ই‌লিশ ধরার কথা, মেঘনাসহ কিছু কিছু নদী‌তে ই‌লিশ ধরা পড়‌ছে। ত‌বে বৃ‌ষ্টি আ‌রও ক‌য়েক‌দিন থাক‌লে নদ-নদী‌ থেকে প্রচুর ই‌লিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা র‌য়ে‌ছে। এর প্রভাব বাজা‌রেও দেখা যা‌বে।

    তবে এখন পর্যন্ত ব‌রিশা‌লের বাজা‌রগুলোতে ইলি‌শের আমদা‌নি বা‌ড়ে‌নি ব‌লেও জানান নগ‌রের পোর্ট‌রোপস্থ বেসরকা‌রি মৎস অবতরণ কে‌ন্দ্রের ব্যবসায়ীরা।