Category: আবহাওয়া

  • সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বরিশালে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা

    সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বরিশালে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা

    লঘুচাপের প্রভাবে বরিশালসহ দেশের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলছে আবহাওয়া অধিদফতর।

    আবহাওয়াবিদরা আরও মনে করছেন, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

    যে কারণে শনিবারও (২২ জুন) চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    এদিকে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, যশোর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, পাবনা, মাদারীপুর, ঢাকা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর। তারা জানাচ্ছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা ঝড়ো হাওয়ার গতি হতে পারে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে নামতে পারে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি।

    শনিবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব অঞ্চলে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। লঘুচাপটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

  • চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    চট্টগ্রাম, কক্সবাাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরী হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সঞ্চালণশীল মেঘমালা তৈরী হচ্ছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

  • এমন মেঘ অনেকেই দেখেনি (ভিডিও)

    এমন মেঘ অনেকেই দেখেনি (ভিডিও)

    মেঘ দেখে রোমাঞ্চিত হওয়ার স্বভাব আমাদের পুরনো। তাইতো মেঘ নিয়ে দেশে বিদেশে অনেক গান আর কবিতা লেখা হয়। কিন্তু হঠাৎ আপনার মাথার উপরে থাকা মেঘ যদি ভূতুরে হয়ে যায় তাহলে খানিকটা চমকানোর কথা। অস্ট্রেলিয়ার আকাশে গত ১০ জুন মেঘগুলোকে যেভাবে দেখা গেছে তা হয়তো অনেকেই দেখেনি।

    অ্যাসপিরেটাস নামের এই মেঘ আকাশে ঘনীভূত হলে আপনার চোখে পড়বে একাধিক ঢেউ এর সমষ্টি। মনে হবে একাধিক ঢেউ যেন খেলে বেড়াচ্ছে গোটা আকাশ জুড়ে। তখন আপনার মনে হবে আকাশটা বুঝি অনেক কাছে নেমে এসেছে। হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।

    মেলবোর্নের পাশের এলাকা মার্টলফোর্ডে এমন চিত্র ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। পড়ন্ত বিকেলে গাড়িতে করে ওখান দিয়ে যাচ্ছিলেন পল ম্যাকুলি নামের এক ব্যক্তি। আচমকা আকাশে নজর পড়তেই হকচকিয়ে যান তিনি। তার ভাষায়, আকাশটাকে বড় একটা পুকুর বা সমুদ্রের একটা অংশের মত লাগছিল। যেখানে তৈরি হচ্ছে একাধিক ঢেউ। তারা আছড়ে পড়ছে একে অন্যের ঘাড়ে। কিন্তু খুব দ্রুত স্থান পরিবর্তন করছে।

    তিনি তৎক্ষনাৎ ওমন মেঘের ছবি তোলেন। ম্যাকুলি বলছিলেন, ‘এ এক অনন্য নজির। নিজের চোখে কেউ না দেখলে এটা বিশ্বাসই করবে না।’ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন মেঘের নাম অ্যাসপেরিটাস ক্লাউড। আন্তর্জাতিক ক্লাউড অ্যাটলাস জানিয়েছে, লাতিন শব্দ থেকে এই মেঘের নামকরণ করা হয়েছে।

    মূলত ঢেউয়ের মতো গঠন এসব মেঘের। খুব দ্রুত স্থান পরিবর্তন করাই হলো এর মূল বৈশিষ্ট্য। এই ধরনের মেঘ গত দশকে খুব বেশি দেখা না গেলেও ২০১৭ সালের আগে এসব মেঘকে মেঘসমষ্টি হিসেবে ধরাই হত না।

    এ ধরনের মেঘপুঞ্জ এখন প্রায়ই দেখা যায়। তাই বিজ্ঞানীরা নতুন করে এটি নিয়ে চিন্তা করেছেন। ক্লাউড অ্যাপ্রিসিয়েশন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী গ্যাভিন প্রেটোর প্রথম এই মেঘ নিয়ে লেখা শুরু করেন। তিনি এর নাম দেন অ্যাসপেরিটাস ক্লাউড।

  • জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

    জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

    শক্তিশালী ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে জাপানে। ভূমিকম্পের পর দেশটিতে জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করেছে সরকার। দেশটির উত্তর উপকূলে মঙ্গলবার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    এর আগে পাওয়া প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সমুদ্র উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গতির ঢেউ আছড়ে পড়ছে। এমনটা দেখা যাওয়ার পর দেশটির ইয়ামগাতা, নিগাতা, ইশিকাওয়া নামক অঞ্চলগুলোতে জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    তবে ভূমিকম্পের কারণে প্রাণহানি কিংবা ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি। দেশটির হোনসু দ্বীপ থেকে ৫৩ মাইলে দূরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তবে দেশটির আবহাওয়া-সংক্রান্ত সংস্থা ওসব অঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপেগুলোতেও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল জাপান সাগরের সাত মাইল গভীরে। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনএইচকে মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা যেন সুনামি দেখার জন্য ওইসব এলাকায় সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি না যায়।

  • তাপপ্রবাহ কমবে বুধবার থেকে

    তাপপ্রবাহ কমবে বুধবার থেকে

    দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হতে থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ বুধবার থেকে কমতে পারে।

    আবহাওয়াবিদ মো. রুহুল কুদ্দুস সোমবার বাসসকে এ কথা জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও নওগাঁ অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার থেকেই তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে।

    আবহাওয়ার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

    আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর অবস্থান করছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ অতিক্রম করে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে।

    এদিকে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

  • তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে

    তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে

    সারাদেশে দিন ও রাতে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে। রবিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

    এতে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসাথে কোথাও কোখাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    এছাড়া, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছে এবং তা উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ অতিক্রম করে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে।

  • বিহারে তীব্র দাবদাহে ৪০ জনের মৃত্যু

    বিহারে তীব্র দাবদাহে ৪০ জনের মৃত্যু

    ভারতের বিহারে তীব্র দাবদাহে ৪০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শনিবারই বিহারের আওরঙ্গবাদ, গয়া ও নাওয়াডা জেলায় অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র আওরঙ্গবাদেই ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    চলতি মাসে বিহারের মুজাফফরপুর জেলায় ইনসেফালিটিস সিন্ড্রমের প্রাদুর্ভাবে ৭৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যেই তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    আওরঙ্গবাদের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. সুরেন্দ্র প্রসাদ সিং জানিয়েছেন, তীব্র দাবদাহে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বহু মানুষ। এএনআইকে ড. সুরেন্দ্র প্রসাদ সিং বলেন, যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বেশিরভাগই তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন।

    তীব্র দাবদাহে গয়ায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধন গয়া এতজনের মৃত্যুর ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

    তিনি বলেন, এটা সত্যিই খুব দুর্ভাগ্যজনক যে তীব্র গরমে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই গরমে লোকজনকে বাড়ির মধ্যেই থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে গরম কমলে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে। তিনি বলেন, তীব্র গরম আমাদের মস্তিষ্কে নানা ধরনের প্রভাব ফেলে এবং বিভিন্ন ধরনের রোগের সূত্রপাত ঘটায়।

    চলতি বছর ভারতকে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে হচ্ছে। আগের সব বছরের তুলনায় অনেক বেশি গরম পড়েছে এবার। দেশটির চার শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। দিল্লি, রাজস্থানের চুরু ও বানদা এবং উত্তর প্রদেশের আল্লাহাবাদে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়েও বেশি গরম পড়েছে।

  • ‘বিপদজনক’ হারে বাড়ছে নদ-নদীর পানি

    ‘বিপদজনক’ হারে বাড়ছে নদ-নদীর পানি

    বিপদজনক’ হারে বাড়ছে দেশের নদ-নদীর পানি। বৃষ্টিপাত বেশি হলে নদীর পানি আরো বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, পদ্মা, সুরমা-কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদ-নদীসমূহের পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    ২৪ ঘণ্টার এক পরিসংখ্যানে পাউবো জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়াতে ৩৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। চিলমারিতে বেড়েছে ৩৬ সেন্টিমিটার। যমুনার পানি ফুলছড়িতে ২৬, বাহাদুরাবাদে ২৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আর তিস্তার পানি ডালিয়াতে বেড়েছে ২০ সেন্টিমিটার।

    এছাড়া মিরপুরে তুরাগের পানি ২৬ সেন্টিমিটার, সুরমার পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে, কানাইঘাটে ১৩ সেন্টিমিটার, মৌলভীবাজারে ৩৮০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদীসীমার খুব কাছাকাছি উঠে গেছে। অন্যদিকে মেঘনা, গোমতী, পদ্মা, ফেণী, সাঙ্গু নদীর পানিও বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়ছে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূইঁয়া জানিয়েছেন, ভারতের সিকিম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়ছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে বাংলাদেশের নদ-নদীর পানি।
    তিনি আরো জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতীয় অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, পদ্মা, সুরমা-কুশিয়ারা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি নদী-নদীসমূহের পানি আরও বাড়তে পারে। আর গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

  • জ্যৈষ্ঠের মধুমাস পেরিয়ে এলো বরষা

    জ্যৈষ্ঠের মধুমাস পেরিয়ে এলো বরষা

    প্রকৃতি রুষ্ট রূপ বর্তমান থাকলেও ধরায় এসেছে ঋতুরানি বর্ষা। তীব্র গরমে ক্ষণিকের আকাশবারি প্রকৃতিতে এনেছে সবুজের আবহ। ফুটেছে বর্ষারানি কদম। ফলে ফলে ভরে উঠেছে গাছ। চারিদিকে চলছে বৃষ্টির আগমনী গান আয় বৃষ্টি ঝেপে ধান দেব মেপে।

    বাংলার বর্ষার প্রকৃতিকে ভালোবেসেছে কবিরাও। তাদের লেখনীতেো ফুটে ওঠে বর্ষার রূপ। রিমঝিম রিমঝিম ঘন দেয়া বরষে/ কাজরি নাচিয়া চল, পুর-নারী হরষে/ কদম তমাল ডালে দোলনা দোলে/ কুহু পাপিয়া ময়ুর বোলে/ মনের বনের মুকুল খোলে/ নট-শ্যাম সুন্দর মেঘ পরশে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষায় প্রকৃতি ও প্রাণীকুলে পরিবর্তনে মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন এমনটি।

    আর কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষার রূপ-ঐশ্বর্যে মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন- ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছো দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান, মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে, এই-যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান।’

    রবি ঠাকুরের এ গানে বৃষ্টি আর কদম যেন দু’জন দু’জনের চিরদিনের মিতা। একজন আরেকজনের শুভেচ্ছাদূত।

    করমচা:
    বাদল দিনে প্রথম কদম ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক পঞ্জিকার হিসেবে আজ শনিবার (১৫ জুন) পহেলা আষাঢ়। মানে বর্ষা ঋতুর প্রথম দিন। আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল অর্থাৎ বর্ষা ঋতু। এ ঋতুর প্রধান বৈশিষ্ট্য বৃষ্টি ঝরা আকাশ, কর্দমাক্ত মাঠ, নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা পানিতে পরিপূর্ণ হওয়া ইত্যাদি।

    জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড গরম— আম, জাম, কাঁঠাল পাকার সময়। জ্যৈষ্ঠের দমফাটা গরম যেমন অস্বস্তিকর তার বিপরীতে আছে বাহারি ফলের সমাহারে মনভোলানো প্রকৃতি। এসময়টায় বাজারে প্রায় সব ধরনের ফল পাওয়া যায়। কবির ভাষায় ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’। জ্যৈষ্ঠের মধুমাস পেরিয়ে গাছে গাছে কদম ফুল ফোটে। জানিয়ে দেয় আষাঢ় আসছে। রুদ্র গ্রীষ্মের দাবদাহন শেষে প্রকৃতির রানি চিরসুন্দর শ্যামলী বর্ষার আগমনে ঘটে। কিন্তু এবছর বৃষ্টির তেমন কোনো দেখা নেই। গরম পড়ছে অবিরাম। সবাই যেন মন প্রাণ উজাড় করে সৃষ্টিকর্তার কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছে।

    ‘বর্ষার দূত’ কদম ফুল এরই মধ্যে ফুটতে শুরু করেছে। বর্ষার রূপ-ঐশ্বর্যে মুগ্ধ অনেক কবিই বাংলা সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছেন। বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্বতন্ত্র।

    জামরুলপ্রকৃতিতে ফুল ও ফলের সমাহার নিয়ে বর্ষা আসে। বাহারি ফুলের সুবাসে মুখরিত হয় প্রকৃতি। ফুলে ফুলে শোভিত হয় চারপাশ।

    বর্ষা মানেই কর্দমাক্ত রাস্তা আর গাঁয়ের দস্যি ছেলেদের কদম ফুলকে ঘিরে হৈ হুল্লোড়। বর্ষাকে স্বাগত জানাতে এরই মধ্যে কদম ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছে প্রকৃতি। ঋতুচক্রের আবর্তনে অনেক আগেই কদম ফুল জানান দিয়েছে আষাঢ়ের আগমন বার্তা। তৃষ্ণায় কাতর বৃক্ষরাজি বর্ষার অঝোর ধারায় ফিরে পাবে প্রাণের স্পন্দন।

    বর্ষা মানেই যেনো বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল। বৃষ্টির সঙ্গে কদমের ভালোবাসা খুবই নিবিড়। শুধু তাই নয়, প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশজুড়েও রয়েছে কদমের পংক্তিমালা। তবে, নাগরিক উঠোনে সেই কদমের ঘ্রাণ, এখন অনেকটাই যেনো অতীত। নেই আর আগের মতো বিত্ত-বৈভব।

    কদম ছাড়াও বর্ষায় ফোটা ফুলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বকুল, কলমি ফুল, স্পাইডার লিলি, দোলনচাঁপা, সুখদর্শন, ঘাসফুল, শাপলা, সন্ধ্যামালতি, কামিনী, গুল নার্গিস, দোপাটি, অলকানন্দ।

    আয় বৃষ্টি ঝেপে, ধান দেবো মেপে। লেবুর পাতায় করমচা, ঝড়-বৃষ্টি ঝরে যা।’ ছোট বেলায় এই ছড়া আমরা অনেকেই কেটেছি। কিন্তু এখনো অনেকেই হয়তো সেই করমচা ফলটাই দেখিনি। যদিও বর্তমান সময়ে ওষুধি এই ফলটি দেশের অনেক এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।

    বর্ষার ফল করমচা। বৃষ্টিভেজা করমচা ফল, পাতা ও গাছ দেখতে সত্যিই খুব সুন্দর। এখন দেশের বাজারগুলোতে বর্ষার এই ফলটি বিক্রি হচ্ছে।

    বর্ষাকালের ফলগুলো পুষ্টিগুণে ভরা থাকে। পেয়ারা, লটকন, আমড়া, জাম্বুরা, জামরুল, ডেউয়া, কামরাঙা, কাউ, গাব ইত্যাদি বর্ষার ফল।

    নানামুখী সৌন্দর্য ও তাৎপর্যের পাশাপাশি বর্ষায় কিছুটা বিপদের ঝুঁকিও রয়েছে। ভারি বর্ষণ বা পাহাড়ি ঢলে ভেসে যেতে পারে গ্রামের পর গ্রাম। তৈরি হতে পারে নদী ভাঙন। ভেসে যেতে পারে বেড়িবাঁধ, মাছের ঘের। সে কারণে বন্যাপ্রবণ সমতল এলাকার মানুষ আতঙ্কে পার করে বর্ষাকাল। শুধু তাই নয়, অথৈ জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে পাবে কৃষকের আবাদি ফসলের জমিটি। আবার অতিবৃষ্টির কারণে শহুরে নাগরিকের রয়েছে জলাবদ্ধতার শিকার হওয়ার ঝামেলা। কিছু বিপদের কথা বাদ দিলে সব মিলিয়েই ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষা নিয়ে আসে স্বস্তি ও শান্তির অনুভূতি। ফুলে ফলে কিংবা বৃক্ষজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অপরূপ প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য।

  • বরিশালের আকাশে মেঘ, বেড়েছে আষাঢ়ের আবেগ!

    বরিশালের আকাশে মেঘ, বেড়েছে আষাঢ়ের আবেগ!

    বিদায় নিয়েছে জ্যৈষ্ঠ। কাঠফাটা রোদকে সঙ্গে করে এক বছরের জন্য কোথায় যেন উধাও হয়েছে সে। আর ভরা উন্মাদনা নিয়ে আষাঢ় সেজেছে নবরূপে। প্রথম দিনেই জানান দিয়েছে স্বরূপ। হাতে ছাতা নিতে কেউ যেন না ভোলে সেই বার্তায় দিয়েছে বোধ হয়।

    আজ শনিবার সকালে হঠাৎ বরিশালের বুকে অন্ধকার নামে। কর্মব্যস্ততা নিয়ে যখন শহুরে মানুষেরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে হঠাৎ দেখা মেলে বৃষ্টির। কোথাও হালকা, আবার কোথাও একটু ভারি বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেয় চলতি পথের পথিকদের।

    তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আষাঢ়ের প্রভাবে নয়, মৌসুমি বায়ুর কারণে বৃষ্টি নেমেছে।

    আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মজুমদার বলেন, দেশের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে এখনও লঘুচাপ। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা আছে। এসবের কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর বর্ষার মৌসুম। এখন বৃষ্টি হবে। কমবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। তবে ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
    আজ সারাদিনে থেমে থেমে বর্ষা হবার সম্ভাবনা আছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ অতিক্রম করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও এবং খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেটের কোথাও আবার ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সময় যেহেতু বর্ষাকাল, এজন্য প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা। বাসা কিংবা কর্মক্ষেত্র যেখানেই যান না কেন সঙ্গে ছাতা ও প্রয়োজনীয় পোশাক নিয়ে চলাচল করতে হবে। খাদ্যাভ্যাসেও আসবে পরিবর্তন। সময় অনুযায়ী শিশুদের যত্ন বাড়াতে হবে। বৃষ্টির পানি থেকে মাথা ও চুল সুরক্ষা করতে হবে।