Category: আবহাওয়া

  • ‘ফণী’ এখন আসামে

    ‘ফণী’ এখন আসামে

    সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ এখন ভারতের আসামে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সেখানে বৃষ্টিপাত ও তীব্র বাতাস বইছে।

    এর আগে শনিবার সকাল ৬টায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়টি। এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার উপর দিয়ে গিয়ে বর্তমানে ভারতের আসামে অবস্থান করছে।

    তবে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ফণী গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

    আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে দুপুর ১২টায় পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অধিদফতর।

    ইতিমধ্যে এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহীতে ভারি বর্ষণ হয়েছে। সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ভারি বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে জারি করা বিপদ সংকেত নামিয়ে সতর্কতা সংকেত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। মোংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার উপকূলে বিপদ সংকেত নামিয়ে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

  • পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় ফণীতে একজনের মৃত্যু, বিধ্বস্ত ২০৯২ ঘরবাড়ি

    পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় ফণীতে একজনের মৃত্যু, বিধ্বস্ত ২০৯২ ঘরবাড়ি

    পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ফণীতে গাছ চাপা পড়ে মো. হাবিব ‍মুসল্লি (৩৩) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

    এর আগে শুক্রবার রাতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে গাছ চাপা পড়ে মো. হাবিব আহত হন। পরে তাকে দ্রুত বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    মৃত মো. হাবিব কুয়াকাটা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের খেজুরা গ্রামের বাসিন্দা হারুনের ছেলে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে পটুয়াখালীর আট উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা প্রশাসন। দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ফণীতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

    মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পটুয়াখালীর আট উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ১১ জন আহত হয়েছেন। ৬০১৮ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০৯২টি ঘরবাড়ি ও ১৭৫টি গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ কিলোমিটার বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। ৩১২৫টি গাছপালা ভেঙে গেছে। ৫০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জেলায় বর্তমানে ২০০ টন জিআর চাল ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা মজুত আছে।

    পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মির্জাগঞ্জে ০.৫০০ কিলোমিটার, দুমকিতে ০.৫০০ কিলোমিটার, গলাচিপায় ৩ কিলোমিটার, রাঙ্গাবালীতে ৩ কিলোমিটার ও কলাপাড়ায় ৩ কিলোমিটার বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মোট ১০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় শেষে ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সে অনুযায়ী ভাঙা বাঁধগুলো মেরামত করা হবে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, পটুয়াখালীর সাগর ও নদীগুলো উত্তাল। সকালে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ। বিভিন্ন ফেরিঘাটে থেমে থেমে চলাচল করছে ফেরি।

  • ঘূর্ণিঝড়ে পটুয়াখালীতে ছয় হাজার একর জমির ফসল নষ্ট

    ঘূর্ণিঝড়ে পটুয়াখালীতে ছয় হাজার একর জমির ফসল নষ্ট

    পটুয়াখালীর উপকূলে ঘূর্র্ণিঝড়ে একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। এতে নষ্ট হয়েছে ছয় হাজার ১৮ একর জমির ফসল।

    শনিবার দুপুর ১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘ঘূর্র্ণিঝড় ফনীর প্রভাবে জেলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। মরিচ, মুগডাল ও সামান্য ধানসহ ছয় হাজার ১৮ একর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ঘর-বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার ৯২টি। গবাদি পশু নিখোঁজ রয়েছে ১৭৫টি। পূর্বের ক্ষতিগ্রস্ত বেরিবাঁধ ১০ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে ১৫ কিলোমিটার। গাছপালার ক্ষতি হয়েছে তিন হাজার ১২৫টি। মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০টি।

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গাছ পরে নিহত ব্যক্তির নাম হাবিব। তিনি আহত অবস্থায় বরিশাল শেবচিমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
    এ দিকে সকাল থেকেই পটুয়াখালীর আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। বর্তমানে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করছে। আশ্রয় কেন্দ্র আসা ঝুঁকিতে থাকা মানুষ তাদের ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন। এদিকে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদেরও ত্রাণ সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

    প্রবল জোয়ারে বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে কিছু কিছু নিচু এলাকা আংশিক প্লাবিত হয়েছে।
    পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান জানান, বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে এসব বেড়িবাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

  • ঘূর্ণিঝড় ফনিতে বড় ধরনের ক্ষতি না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর শুকরিয়া

    ঘূর্ণিঝড় ফনিতে বড় ধরনের ক্ষতি না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর শুকরিয়া

    ঘূর্ণিঝড় ফনির আঘাতে বড় ধরনের ক্ষতি না হওয়ায় লন্ডনে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন।

    শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা বলা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট খুবই মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় ফনি দুর্বল হয়ে আজ সকালে বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশ করেছে।

    সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ঘূর্ণিঝড়টি স্থলপথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর-সাতক্ষীরা অঞ্চল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।

    যার ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এজন্য লন্ডনে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো ওই বার্তায় আরও হয়, এর আগে ফনির আঘাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

    শুক্রবার বাদ জুমা সারাদেশে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

    আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

    সভায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর দুর্যোগ মোকাবিলায় গৃহীত প্রস্তুতি বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

    দ্রুত সময়ের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ এসব এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো, বিশেষ করে সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতার প্রশংসা করা হয়।

    এছাড়া, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার-ভিডিপিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রমেরও সন্তোষ প্রকাশ করা হয় বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    সভায় বিশ্ব পরিমণ্ডলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রোল মডেল হিসেবে খ্যাত যে কোনো দুর্যোগকালে বাংলাদেশ সরকারের সব সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার যে কৃষ্টি তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

    সভায় মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতে জাতির যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • ঘূর্ণিঝড় ফণী : বরিশালে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

    ঘূর্ণিঝড় ফণী : বরিশালে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

    ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ায় বরিশালে এক হাজারের অধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৯ হাজার ৫৩ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শনিবার দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে , বরিশালে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ রেকর্ড করা হয়েছে ৭৬ কিলোমিটার। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বাতাস শুরু হয়। রাত আড়াইটার দিকে ৭৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৮২ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখনও বরিশালে থেমে থেমে দমকা হাওয়া বইছে।

    এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফনীর প্রভাবে নদী উত্তাল থাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো বরিশাল নদীবন্দরসহ সারা দেশে সকল ধরনের নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বরিশালের উজিরপুরের সাতলা-বাঁগধা এলাকায় বেরিবাঁধ ভেঙে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ওই সব এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।

    শুক্রবার কীর্তনখোলা নদীতে পানির স্তর ছিলো ১ দশমিক ৬২ সেন্টিমিটার। আজ শনিবার তা বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৯৭ সেন্টিমিটার। তবে পানি এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

    বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল নৌ-নিরাপত্তা শাখার উপ-পরিচালক ও বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু বলেন, পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত বরিশালসহ দেশের সকল রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এ কারণে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

    borishal02

    বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, ফণী মোকাবেলায় সব ধরনের সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ঝোড়ো হাওয়ায় জেলার ১ হাজার ১৫টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৯ হাজার ৫৩ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ৬৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে তাৎক্ষণিক তা মেরামত করা হয়। এছাড়া সাতলা-বাগধা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে শিবপুর পয়েন্টে ২০ মিটার সামান্য ক্ষতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা মেরামত করা হয়েছে। ঝড়ে কোনো গবাদি পশুর মারা যাওয়া খবর পাওয়া যায়নি।

    তিনি আরও জানান, ৩৩১টি সাইক্লোন শেল্টার ও আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০ হাজার ৫৬৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন সাইক্লোন শেল্টারে ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ঘূণিঝড় ফণীতে বরিশাল জেলায় কম ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

    বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস জানান, বরিশাল বিভাগের বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় গাছ চাপা পড়ে দুইজন এবং ভোলা সদরে একজনসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তায় দেয়া হয়েছে। কয়েকটি বেরিবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়া বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় হয়নি । ঘূর্ণিঝড় ফণী পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

  • ২০০ কিলোমিটার দূরে ‘ফণী’ বাংলাদেশের কাছেই চলে এসেছে

    ২০০ কিলোমিটার দূরে ‘ফণী’ বাংলাদেশের কাছেই চলে এসেছে

    ঘূর্ণিঝড় ফণীর মূল অংশটি বাংলাদেশের সীমানা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে ভারতে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর সর্বশেষ অবস্থা ও মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিচালক।

    সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সারাদেশের আকাশ ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়টির আকার বড় বলে এটি এখনও বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করা সত্বেও সারা বাংলাদেশের আকাশ মেঘলা হয়ে গেছে। শক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া বয়ে গেছে। তবে মূল ঝড় এবং এরসঙ্গে যে শক্তিশালী ঝোড়ো হওয়া বয়ে যাওয়ার কথা, ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধির কারণে এটিতে দেরি হচ্ছে। আমাদের ধারণা, আজ মধ্য রাতের পর থেকে সেই প্রবল ঝোড়ো হওয়াও শুরু হবে।

    তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সারাদেশে আজকে সারারাত এমনকি আগামীকালও বাংলাদেশে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।’

    ফণী ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে জানিয়ে পরিচালক বলেন, ‘এ মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়টির মূল অংশ সমুদ্রে নেই, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে ২০০ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় অংশে অবস্থান করছে। কাছেই চলে এসেছে। এটি ওড়িশায় ১৮০ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে আঘাত করেছে, এখন এটি কমে এসেছে। ধীরে ধীরে ভূমির উপর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে কলকাতার কাছ দিয়ে বাংলাদেশের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হবে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দিয়ে যখন মূল অংশ অতিক্রম করবে তখন বাতাদের গতি কোথাও ৬২, কোথাও ৮০, কোথাও ১০০ কিলোমিটার হতে পারে।

    foni-dhaka-2.jpg

    ইতোমধ্যে আঘাত হেনে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতি ছিল বাতাসের। বাংলাদেশে যখন পৌঁছাবে তখন গতি অর্ধেকের মতো হয়ে যাচ্ছে, গতি হচ্ছে ১০০ কিলোমিটারের মতো।’

    ‘আরেকটা বিষয় আছে, এটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে, ১০০ কিলোমিটার বেগের বাতাস অতীতে দেখা- প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে।’

    সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর খুলনার কাছাকাছি, এদিক দক্ষিণা বায়ু প্রবাহ হবে। সেটা একটু শক্তিশালী হবে। এর প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা আমরা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারি না। ভাঁটার সময় হলে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ৪ থেকে ৫ ফুটের কম হবে।’

    সৃষ্টি হওয়ার পর ঘূর্ণিঝড় ফণী এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে বলেও জানান তিনি।

    আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক বলেন, ‘বিপদ সংকেত আপাতত কমবে না। ৭ নম্বর বিপদ সংকেতই থাকবে খুলনা ও আশপাশের জেলাগুলোর জন্য। চট্টগ্রামের জন্য ৬ নম্বর বিপদ সংকেত ও কক্সবাজারের জন্য ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল থাকবে।’

  • ফণীর প্রভাবে কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে নিহত ৬

    ফণীর প্রভাবে কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে নিহত ৬

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, মিঠামইন ও ইটনা উপজেলায় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পাকুন্দিয়ার তিনজন, মিঠামইনের দুইজন ও ইটনার একজন রয়েছেন।

    নিহতরা হলেন- পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কুর্শাকান্দা গ্রামের আয়াজ আলীর ছেলে আসাদ মিয়া (৫৫), একই উপজেলার চরফরাদি ইউনিয়নের আলগীরচর গ্রামের আবদুল হালিমের মেয়ে নুরুন্নাহার (৩০), একই এলাকার এন্তাজ আলীর ছেলে মুজিবুর (১৭), মিঠামইন উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের বিরামচর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে মহিউদ্দিন (২৩), একই উপজেলার কেওয়াজোড় ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের এবাদ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৭) ও ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কাটুইর গ্রামের রাখেশ দাসের ছেলে রুবেল দাস (২৬)।

    পুলিশ জানায়, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে শুক্রবার দুপুরের দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এ সময় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে পাকুন্দিয়া, মিঠামইন ও ইটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়।

    পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস, মিঠামইন থানার ওসি জাকির রব্বানি ও ইটনা থানার ওসি মুর্শেদ জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • ফণী পরবর্তী উদ্ধার-সহায়তায় প্রস্তুত নৌবাহিনীর ৩২ জাহাজ

    ফণী পরবর্তী উদ্ধার-সহায়তায় প্রস্তুত নৌবাহিনীর ৩২ জাহাজ

    ঘূর্ণিঝড় ফণী পরবর্তী জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তাসহ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলা নৌ অঞ্চলে নৌবাহিনীর ৩২টি জাহাজ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় দ্রুততম সময়ে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

    পাশাপাশি খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুরসহ উপকূলীয় দুর্গত এলাকাগুলোতে মোতায়েনের জন্য নৌ কন্টিনজেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    navy

    শুক্রবার (৩ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ মেঘনা বরিশালে, বানৌজা তিস্তা ঝালকাঠিতে, এলসিটি-১০৪ বরগুনায় এবং এলসিভিপি-০১১ পটুয়াখালীতে নিয়োজিত থাকবে।

    এতে আরও জানানো হয়, জাহাজগুলো জরুরি খাদ্য সামগ্রী হিসেবে দুই হাজার পরিবারের তিন দিনের শুকনা খাবার বহন করছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য শুকনা খাবার হিসেবে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি তেল, ২ কেজি লবণ, ২ কেজি চিড়া, ২ কেজি মুড়ি, ১ কেজি গুড়, প্যাকেট বিস্কুট, মোমবাতি, পলিথিন ব্যাগ, ম্যাচ বক্স, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যালাইন ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ রয়েছে।

    navy

    এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণের কাজে নিয়োজিত থাকবে।

    অন্যদিকে নৌ কন্টিনজেন্টসমূহ অনুরূপ ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সড়ক পথে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য নিয়োজিত থাকবে।

  • ফণীর তাণ্ডবে ভবন পুড়ে ছাই

    ফণীর তাণ্ডবে ভবন পুড়ে ছাই

    ১৭৫ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ফণীর প্রাথমিক তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুর শহরের একাংশ তছনছ হয়ে পড়েছে। ২৪ পরগনায় তীব্র বাতাসের সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে একটি বাড়ি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    তুমুল ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ওপর একটি বাড়ির ওপর। এতে সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় বাড়িটিতে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় দ্বিতল এই বাড়ি। ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে ধান কেটে ঘরে তুলে রেখেছিলেন। আগুনে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। আগুনে পুড়ে যায় ঘরে মজুত করা ধান। তবে ঘটনার সময়, বাড়িতে কেউ না থাকায়, কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

    বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড় ফনি ভারতের ওড়িশা উপকূল ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে অবস্থান করছে। খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে শুক্রবার মধ্যরাত নাগাদ। খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আজ সকাল থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্রগ্রাম, নোয়াখালী, ললক্ষ্মীপুর, ফেনী,চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা,পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি,বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ -৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস প্লাবিত হতে পারে।

  • ‘ফণী’ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত বাংলাদেশে অবস্থান করবে

    ‘ফণী’ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত বাংলাদেশে অবস্থান করবে

    ঘূর্ণিঝড় ফণী শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত বাংলাদেশে অবস্থান করবে এবং শনিবার পর্যন্ত এর প্রভাব থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

    শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

    তিনি জানান, বাংলাদেশে এই ঘূর্ণিঝড়ের যেদিক দিয়ে প্রবেশ করবে সেদিকে গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। সারাদেশে সর্বনিম্ন গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার।

    ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার গতিতে ফণী এগ্রিয়ে আসছে। মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ফণী বলেও জানান পরিচালক।