Category: আবহাওয়া

  • ঝড়ের নাম ‘ফেনী না ফণী’ এই তর্কে দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত ৯

    ঝড়ের নাম ‘ফেনী না ফণী’ এই তর্কে দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত ৯

    ঝড়ের আতঙ্কে যখন মানুষ ভীত তখন অহেতুক বিষয় নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে একদল যুবক। তখন ভারতের মধ্য প্রদেশের রামপুরা শহরে এক চায়ের দোকানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের নাম সঠিক কি? ফেনী? না ফণী? এই তর্ক করতে করতে দুই ভাগ হয়ে যায় চায়ের দোকানের লোকজন। তারপর তর্ক বাড়তে থাকে, এক পর্যায়ে বেধে যায় সংঘর্ষ। আর এতেই আহত হয়েছে নয়জন যুবক।

    এদিকে এই যুবকেরা যখন অহেতুক ব্যাপার নিয়ে সংঘর্ষ করছে, তখন ভারতে আঘাত হেনেছে ফণী। ঘূর্ণিঝরের নাম নিয়ে সংঘর্ষের খবরটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

    ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ভারতের ওডিশা রাজ্যে তিন ব্যক্তির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

    ওডিশা রাজ্যের বিশেষ ত্রান কমিশনার বিষ্ণুপদ শেঠি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত দুই ব্যক্তির নিহত হওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারি।’

    ওডিশার এই ত্রাণ কর্মকর্তা জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী চলাকালে এক বয়স্ক ব্যক্তি একটি আশ্রয়শিবিরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আরেক ব্যক্তি সতর্কতা উপেক্ষা করে ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে বাইরে যান। তাঁর ওপর গাছ পড়লে তিনি নিহত হন।

    ঘূর্ণিঝড়ে রাজ্যে অনেক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। রাজ্যের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টিতে কোনো কোনো এলাকা ডুবে গেছে।

    সকালে ওডিশা রাজ্যের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ফণীর প্রভাবে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টি হয়।

  • ঘূর্ণিঝড় ফণী নিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

    ঘূর্ণিঝড় ফণী নিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

    ঘূর্ণিঝড় ফণীর বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উপকূলীয় এলাকা থেকে মানুষজনকে নিকটবর্তী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং স্কুল-কলেজে নিয়ে আসা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী সরকারের সকল সংস্থা এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোকে সুসমন্বিতভাবে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলারও সকল প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে।

    এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ডসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল প্রস্তুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য আঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

    এদিকে গতকাল (২ মে ২০১৯) প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান উপকূলবর্তী ১৯টি জেলার প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং- এর মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আজ ও আগামীকাল খোলা রাখা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

  • ২০০ কি.মি. গতিতে উড়িষ্যা লণ্ডভণ্ড করল ‘ফণী’ (ভিডিও)

    ২০০ কি.মি. গতিতে উড়িষ্যা লণ্ডভণ্ড করল ‘ফণী’ (ভিডিও)

    প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে আজ শুক্রবার ভোরে আঘাত হেনেছে ভারতের উড়িষ্যার উপকূলে আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতের পর প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইছে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার।

    ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় উড়িষ্যার রাজ্য সরকার আগেই উপকূলবর্তী ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। এই মুহূর্তে ‘ফণী’ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

    ফণির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উড়িষ্যা। কয়েক ঘণ্টা পুরো এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে গেছে এই ঝড়। ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ভেঙে পড়েছে মোবাইল কম্পানি বিএসএনএলের টাওয়ার। উড়ে গেছে বাড়ির ছাদ। পানিতে ডুবে গেছে বহু জায়গা। অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে রাস্তায়। ভেঙে পড়েছে ঘর-বাড়ি।

  • ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে উড়ে গেল স্কুলবাস (ভিডিও)

    ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে উড়ে গেল স্কুলবাস (ভিডিও)

    দাঁড় করানো গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে রাস্তার পাশে নিয়ে গিয়ে উল্টে ফেলে দিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। কোথাও ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে আবার ঘুড়ির মতো উড়ে যাচ্ছে ফাইবারের কাঠামো। এমনই সব ভয়ঙ্কর ছবি ধরা পড়েছে ভারতের ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্তে। এ যেন হলিউডের ছবি ‘দ্য স্টর্ম’-এর বাস্তব রূপ।

    ফণীর তাণ্ডব ক্যামেরাবন্দি করতে হাতের স্মার্টফোনই হয়ে উঠেছে অস্ত্র। পেশাদার সাংবাদিক বা চিত্র সাংবাদিকদের থেকেও যেন ভয়ানক ছবি তুলে ধরেছেন আম জনতা। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই সাইক্লোন ফণীর চেয়েও দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সেই সব ভিডিও।

    স্কুলবাস উড়ে যাওয়ার ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

  • ধীরে ধীরে শক্তি কমছে ঘূর্ণিঝড় ফণীর

    ধীরে ধীরে শক্তি কমছে ঘূর্ণিঝড় ফণীর

    ভারতের উরিষ্যায় আঘাত হানার পর তীব্র প্রবল ঘূর্ণিঝড় (এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) ফণীর শক্তি কিছুটা কমেছে। এটি এখন অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে (সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

    একই সঙ্গে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর, চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজারে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রেখেছে সংস্থাটি।

    শুক্রবার বিকেলে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-৩৮) বলা হয়েছে, ভারতের ওড়িষ্যা উপকূল ও কাছাকাছি উপকূলীয় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও কিছুটা দুর্বল হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

    মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। এছাড়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং এর কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। এসব জেলার উপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ প্রভাব থেকে জানমালের হেফাজতে বরিশালে মসজিদে মসজিদে দোয়া

    ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ প্রভাব থেকে জানমালের হেফাজতে বরিশালে মসজিদে মসজিদে দোয়া

    অনলাইন ডেস্ক:

    ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাব থেকে দেশ ও দেশের মানুষের জানমালের হেফাজতের লক্ষ্যে বরিশালে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৩ মে) বাদ জুমা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে এ দোয়া ও মোনাজাত করেন মুসল্লিরা।

    এদিকে, জুমা নামাজ শেষে দুপুরে ২ টার দিকে বরিশালের আকাশের মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পরিবেশ কিছুটা অন্ধাকার হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুর ৩টা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস।

    প্রশাসন দুপুর ৩টা থেকে সব ধরনের নৌযানসহ খেয়া পরাপারের ট্রলারও বন্ধ ঘোষণা করেছে। আর বিকেল ৫টার মধ্যে উপকূলের লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। পাশাপাশি ‘ফণী’র আঘাত মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে মাইকিং করেছে স্বেচ্ছাসেবকরা।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশ কার্যকর থাকবে। একতলা লঞ্চগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বরিশাল নদীবন্দরে অবস্থান করা পথ শিশুদের অপরাজেয় বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তাদের শেল্টার হোমে নিয়ে গেছেন।

    বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা সরকার জানান, তারা কন্ট্রোলরুম খোলার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

    নদীবন্দর পরিদর্শনে এসে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সভা করেছেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।

    ‘ফণী’ মোকাবিলায় ত্রাণ, মেডিকেল টিম আর আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ।

  • ‘ফণী‘ আতঙ্কের মধ্যে প্রবল ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি

    ‘ফণী‘ আতঙ্কের মধ্যে প্রবল ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণীর আশঙ্কায় সঙ্কিত হয়ে পড়েছে ভারত-বাংলাদেশে দুই দেশের মানুষ। ফণীর আঘাত থেকে বাঁচতে ইতোমধ্যেই জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।

    মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। দুই দেশের সরকার আগাম সতর্কতা হিসেবে নিয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। আর এর মধ্যেই জারি হলো প্রবল ভূমিকম্প সতর্কতা।

    আবহাওয়া দফতরের মতো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয় ডিট্রিয়ানাম নামের একটি সংস্থা। গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তারা দাবি করছে, আগামী শুক্রবার প্রবল ভূমিকম্প হতে পারে।

    ডিট্রিয়ানাম জানিয়েছে, বুধ, শুক্র ও নেপচুন গ্রহ এখন একই সরল রেখায় অবস্থান করছে। তাছাড়া আরও আছে পৃথিবী, চাঁদ ও নেপচুন। আর এর ফলে শুক্রবার বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে হতে পারে প্রবল ভূমিকম্প।

    রিখটার স্কেলে কম্পনের প্রবল এই ভূমিকম্পের মাত্রা হতে পারে ৮। ঠিক একই অবস্থানে গত শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৬ সালে ভূমিকম্প হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকায়।

    ১৯০৬ সালের ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি হয়েছিল। ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল সুমাত্রার উপকূলেও দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল। রিখটার স্কেলে যার কম্পনের মাত্রা ছিল ৮।

  • ফণীর পর ধ্বংসাত্মক আক্রমণ করতে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বায়ু

    ফণীর পর ধ্বংসাত্মক আক্রমণ করতে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বায়ু

    চক্রাকারে আসতেই থাকে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের দল। প্রবল গতিতে সেই ঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় জনজীবনকে।

    সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে যায় উপকূল এলাকার সবকিছু। তেমনই ভয়াবহ আকার নিয়ে ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে ঢুকছে ফণী।

    এর ভয়াবহতা আন্দাজ করে সতর্ক ভারত ও বাংলাদেশ সরকার। বিষধর সাপের ফণার মতো সে ছোবল মারবে।
    আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফণীর তাণ্ডব একসময় ঝিমিয়ে পড়বে। তারপর আবার এক নতুন সামুদ্রিক ঝড় তৈরি হবে। সেই ঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে বায়ু।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক ঝড় বায়ু এরপর হামলা করতে মুখিয়ে রয়েছে। বায়ুর নামকরণ করেছে ভারত।

  • অন্ধ্রপ্রদেশে ফণীর আঘাত, উপড়ে পড়েছে গাছপালা বৈদ্যুতিক পোল

    অন্ধ্রপ্রদেশে ফণীর আঘাত, উপড়ে পড়েছে গাছপালা বৈদ্যুতিক পোল

    প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে অগ্রসর হতে থাকা ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। ভারতীয় দৈনিকি ইন্ডিয়া ট্যুডে এক প্রতিবেদনে বলছে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তীব্র বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

    দেশটির অপর সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ বলছে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে তীব্র হাওয়া এবং বৃষ্টির জেরে অন্ধ্রপ্রদেশের রাস্তার ধারে বৈদ্যুতিক পোল ও গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন ।

    ঝড় ও বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানের সন্ধানে বাড়ি-ঘর ছাড়ছেন তারা। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকদ্বীপের উপকূলীয় থানা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় কাঁচা বাড়ির বাসিন্দাদের ইতোমধ্যে আশ্রয় শিবিরে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

    ইন্ডিয়া ট্যুডে বলছে, উপকূলীয় রাজ্য ওড়িশায় অত্যন্ত ভারী ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বৃষ্টিপাত এলাকায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৭০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার বেগে বইছে।

    এদিকে, ফণীর সম্ভাব্য তাণ্ডব মোকাবেলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জরুরি বৈঠকে বসেছেন। ভারতের মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠকে ফণীর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় নেয়া প্রস্তুতির ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদিকে অবগত করেন।

    ঝুঁকিপ্রবণ রাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করতে মোদি তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি ওড়িশার পুরী উপকূল থেকে মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। বিকেলের দিকে পুরী শহরের দক্ষিণ উপকূলে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ওড়িশা সরকার ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৯৪ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। এই রাজ্য থেকে মোট ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭৫ জনকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ৮৫২টি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

    এদিকে, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতোমধ্যে আজকের মধ্যে সব পর্যটককে হোটেল ছেড়ে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ওড়িশা সরকার। বাঙালি পর্যটকদের জন্য পুরী-কলকাতা বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। ১০৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

    পুরী, কেন্দ্রাপড়া, বালেশ্বর, ময়ূরভঞ্জ, গজপতি, কটক, জাজপুরের আট লাখেরও বেশি মানুষকে ওড়িশা উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ৮৭৯-য়েরও বেশি সাইক্লোন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষদের এই সাইক্লোন সেন্টারেই আপাতত রাখা হয়েছে।

    নৌবাহিনী, উপকূলরক্ষা বাহিনী এবং বির্পযয় মোকাবিলা বাহিনীর ৭৮টি দল ইতিমধ্যে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসের ঘূর্ণিঝড় ফণী শুক্রবার ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে সন্ধ্যার দিকে খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে পৌঁছাতে পারে। তবে ঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে দেখা দিতে পারে শুক্রবার সকাল থেকেই।

    ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’, বরিশালে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি

    ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’, বরিশালে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি

    সুপার সাইক্লোন ‘ফণী’র প্রভাবে জানমালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে উপকূলীয় এলাকা বরিশালে। এর আগে সিডর-আইলাসহ বিভিন্ন সময় দুর্যোগে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের খবরেই আতকে ওঠে এ অঞ্চলের মানুষ। এখন করণীয় নিয়ে দুশ্চিন্তা তাদের।

    এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবের জানমালের ক্ষতির আশংকায় সকালে বরিশাল নদী বন্দর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র ট্রাফিক পরিদর্শক মো. কবির হোসেন।

    আকস্মিক নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন বরিশালের নৌপথের যাত্রীরা। গন্তব্যে যেতে না পাড়ায় বরিশাল নদী বন্দরে আটকা পড়েছে কয়েকশ’ যাত্রী।

    ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) বরিশালের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রশিদ জানান ঘূর্ণিঝড় ‘ফনী’ আঘাত হানলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং মানুষকে নিরাপদে আশ্রয় যেতে মাইকিং করছে বরিশাল ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর ২৫ হাজার ৫জন কর্মী। ইতিমধ্যে তারা উপকূলীয় এলাকায় পতাকা টাঙিয়ে জনগনকে সতর্ক করেছে। কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    বরিশাল ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আব্দুল হামিদ জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। কনটিনজেন্ট পরিকল্পনা করে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিটি ইউনিটের ছুটি বাতিলসহ সবাইকে স্ট্যান্ডবাই ডিউটি দেওয়া হয়েছে। যেসব জায়গায় ক্ষয়ক্ষতি বেশী হতে পারে সেসব সম্ভাব্যতা যাচাই করে তাদের কর্মীদের প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি যাবতীয় উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ফনী’র প্রভাব মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার সকালে জরুরী সভা করে বরিশাল জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থপনা কমিটি। জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সতর্ক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    সভা শেষে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত পাওয়ায় জনগননের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জেলার ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও সকল স্কুল কলেজ মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভবনেও বিপদগ্রস্থ জনগনকে আশ্রয় দিতে বলা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতার জন্য রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সহ সকল বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৮২টি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন সহ ২৮১টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল এবং শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুকনা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট ও স্যালাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকারের সকল সংস্থাকে সাথে নিয়ে ‘ফনী’র বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

    বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার প্রনব কুমার রায় জানান, নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরে সৃস্ট লঘুচাপ এখন অতিপ্রবাল ঘূর্ণিঝড়ে পরিনত হয়েচে।  সকাল ৯টায় ‘ফনী’ পায়রা সমূদ্র বন্দর থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিন-পশ্চিমে অবস্থান করছিলো। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ ‘ফনী’ ভারতের উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এরপর ভারী বৃস্টি এবং ঝড়ো হাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে যেতে যেতে ‘ফনী’ দুর্বল হয়ে যাবে বলে ধারনা করছে আবহাওয়া বিভাগ।

    তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ফনী’ ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৬০ কিলোমিটার। যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যেতে পারে। ‘ফনী’র প্রভাবে পায়রা এবং মংলা সমূদ্র বন্দরে জারী করা হয়েছে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত। অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরে ১ নম্বর সংকেত জারি করা হলেও সকল ধরনের নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    এছাড়া ‘ফনী’র প্রভাবে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট উচু জলোচ্ছাস হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।