Category: আবহাওয়া

  • ধেয়ে আসছে ‘ফণী’: হ্যান্ড মাইক নিয়ে প্রচারণায় বিসিসি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    ধেয়ে আসছে ‘ফণী’: হ্যান্ড মাইক নিয়ে প্রচারণায় বিসিসি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচাল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

    সংকেত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বরিশালসহ উপকূলীয় জেলাসমূহে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন।

    বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উদ্যোগে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

    এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) কর্তৃপক্ষও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বিসিসির মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে নিজ থেকেই সতর্কতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (০২ মে) দুপুর ১টার দিকে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সি-বোটে করে কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালান।

    বরিশাল রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ইউনিট লেভেল থেকে জানাযায়, বরিশালে তাদের প্রায় ৪শ’ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবক) রয়েছেন। এদের প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি উদ্ধারকারী সরঞ্জামগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

  • বরিশালে ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও ২৩২ আশ্রয়কেন্দ্র

    বরিশালে ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও ২৩২ আশ্রয়কেন্দ্র

    বরিশাল নদীবন্দর ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৫ হাজার সিপিপির (সাইক্লোন প্রিপারেশন প্রোগ্রাম) স্বেচ্ছাসেবক এবং ২৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্থানীয় রুটের ছোট লঞ্চের চলাচল। এছাড়া চলছে সচেতনতামূলক মাইকিং।

    বৃহস্পতিবার (২ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক। সভায় জানানো হয়, বরিশাল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি অফিস আদালত খোলা রাখা হয়েছে। উপকূলীয় উপজেলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সব প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য মজুদ ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখার জন্য বলা হয়েছে।

    সভায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দফতরের জেলা পর্যায়ের কর্মকমর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৩২ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে ১ লাখ ২৫ হাজার লোকের আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

    ১০ উপজেলার ৮৫টি ইউনিয়নে ১টি করে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। ২৮১টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বরিশাল সদর হাসপাতাল ও শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের ৪০০ স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সতর্কীকরণ মাইকিং

    ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘূর্ণিঝড় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য পাওয়ার সুবিধার্থে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বরিশাল কন্ট্রোল রুম যোগাযোগ নম্বর ০১৭০৫-৪০৬৫০১, ০৪৩১-৬৩৮৬৬, জেলা পুলিশ সুপার বরিশাল এর কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৭৬৯-৬৯৩২০০, ০৪৩১-৬৩৭৮০, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বরিশাল এর কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৭৪১-১৯৬৯৩৯, ০৪৩১-৬৩৮৬৩, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বরিশাল এর কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৭১২-০২৬৩০৬, ০৪৩১-৬৫০৫৭, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স এর কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৮৭৮-০০১১১১, ০৪৩১-৬৫২২২, সিভিল সার্জন বরিশাল এর কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৭১২-২৮৫৪১০, ০৪৩১-৬৪৯০৯, জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা-০১৭৪১-১৯৬৯৩৯।

    এদিকে ঘূর্ণিঝড় দ্রুত উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় বরিশাল নদী বন্দর থেকে স্থানীয় রুটের সব নৌযান চলাচল পরবর্তি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

    ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপপরিচালক আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া যে সব উপজেলায় আমাদের অফিস নেই সেখানে সরকারি লোকজনের মাধ্যমে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।’

    বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানিয়েছেন, ‘ফণী মোকাবেলায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাইক্লোন শেল্টারগুলো। যেখানে অল্প সময় এবং বেশি সময় ধরে লোকজন থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ উপজেলার ইউএনওদের তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে র‍্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও।’

    জেলা প্রশাসক আরও জানান, ‘যেহেতু আবহাওয়া বার্তায় জলোচ্ছাস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, পাশাপাশি এমন দুর্যোগের পর বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়, তাই পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও চাপকল নিরাপদে ঢেকে রাখার জন্য গ্রাম পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী ‘ফনি, ৮ লাখ লোক সরিয়ে নিচ্ছে ভারত

    ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী ‘ফনি, ৮ লাখ লোক সরিয়ে নিচ্ছে ভারত

    ভারতের পূর্ব উপকূল থেকে আট লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাস, নৌকা ও ট্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রলয়ংকরী শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ফনির তাণ্ডব থেকে প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতি যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে দেশটির সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আঘাত হানতে পারে অতিপ্রবল এই ঝড়টি।

    ভারতের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উড়িষ্যার নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার জন্য ৮৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সব মিলিয়ে আট লাখ মানুষকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।

    ইতিমধ্যে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।। উড়িষ্যা, অন্ধ্র প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    উড়িষ্যার বিশেষ ত্রাণ কর্মকর্তা ভিষুপাড়া সেঠি বলেন, এ সময়ে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে যতটা সম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। এছাড়া পর্যটকদের উপকূলীয় শহর উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গা ছাড়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপকূলীয় এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

    ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর জন্য জাহাজ ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করছি আমরা।

    মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের। জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড় ফনি সোয়া তিনশ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসায় ভারতের পারাদ্বীপ ও বিশাখাপত্তম বন্দরের কর্মকাণ্ড বুধবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শতাধিক ট্রেনের সূচি।

    দেশটির জাতীয় নির্বাচনের এই মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় ফনি হাজির হওয়া নিয়ে উড়িষ্যা রাজ্যের ১১টি উপকূলীয় জেলা থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ভারতের আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে, ফনির প্রভাবে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। উড়িষ্যার উপকূলীয় অঞ্চলে কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ মিলিমিটার ছাড়াতে পারে।

    বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফনি সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

    এটি বৃহস্পাতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৬৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯২৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

    এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার বিকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং পরবর্তীতে উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে হয়ে শুক্রবার মে সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

    আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফনি এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে।

    ‘ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।’

    তিনি বলেন, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    ‘উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ সাত নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ছয় নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতেহ ছয় নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

    কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

    ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০-১১০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

  • ফণীর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিমি

    ফণীর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিমি

    ঘূর্ণিঝড় ফণী শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সারা রাত বাংলাদেশ অতিক্রম করবে। বাংলাদেশ অতিক্রম করার সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ।

    বৃহস্পতিবার (২ মে) সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ধরে নিয়ে ওই দিন সকাল ১০টা থেকে উপকূলীয় জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হবে। সকালে শুরু করে সন্ধ্যার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনার কার্যক্রম শেষ করা হবে।

    সভায় ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ১৯ উপকূলীয় জেলায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে তারা মানুষদের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসবে।

    উপকূলীয় ১৯ জেলায় তিন হাজার ৮৬৮টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। বেশিরভাগ আশ্রয় কেন্দ্রই প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগে সবাইকে এ বিষয়ে জানাতে হবে, এজন্য বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। কারণ ঘূর্ণিঝড় আঘাতের আগে তথ্য পেলে মানুষ নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিতে পারবে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান ছাড়াও কয়েকজন সচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত ‘অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল’ সময়

    শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত ‘অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল’ সময়

    ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ বাংলাদেশ অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পরিচালক এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত ‘অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল’ সময় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক বলেন, ‘আমরা দেখেছি ঘূর্ণিঝড়টি ৩ মে (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে খুলনা অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন লেভেলের বাতাসের সংস্পর্শে আসতে শুরু করবে। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ খুলনা অঞ্চল ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় এসে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে। এ সময়টা আমাদের জন্য “অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল সময়”।

    তিনি বলেন, ‘এই সময়ে যারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করেন তারা দমকা বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসের সম্মুখীন হবেন। এই সময় সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।

    ঘূর্ণিঝড়টি এখনও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে অগ্রসর হতে হতে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটারের মধ্যে এসেছে। এটি ভারতের উপকূল স্পর্শ করে অগ্রসর হচ্ছে। অগ্রসর হয়ে খুলনা উপকূল দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল স্পর্শ করবে বলেও জানান তিনি।

    শামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটি সাগরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই অবস্থান করছে। কারণ বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়। আমাদের যে বিশ্লেষণ সেই অনুযায়ী দেখতে পাচ্ছি, এটি যখন বাংলাদেশে থাকবে তখন হয়তো ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস থাকবে না। দুর্বল হয়ে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। সেটিও আমাদের জন্য একটি আশঙ্কার বিষয়। এজন্য সব ধরনের যোগাযোগ ও প্রস্তুতি রাখাটা আমি সঠিক মনে করি।

    তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা থাকতে হবে। আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে বেলা ১১ থেকে ১২টার মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার লোক একই সঙ্গে হিট করেছে, এজন্য এটি হ্যাং হয়ে গেছে। এর ক্যাপাসিটি থাকা উচিত ছিল ৫ থেকে ৭ লাখ, কিন্তু সেটি নেই।

    ‘আবহাওয়া অধিদফতরের বিদ্যুৎ এক সেকেন্ডও বন্ধ থাকতে পারবে না। এরপর আমার ইন্টারনেটের ওঠানামা হতে পারবে না। তা নাহলে আমি অ্যানালাইসিস করতে ব্যর্থ হব। ডাটা ডাউনলোড করতে পারব না।

    তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য পেলে মানুষ নিজেকে নিরাপদ রাখার একটি ব্যবস্থা নিজে করতে পারবেন।

    সবকিছু মিলিয়ে মহাবিপদ সংকেত দেয়ার সময় এখনও এসেছে কিনা-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক বলেন, ‘মহাবিপদ সংকেত দেয়ার এখনও উপযুক্ত সময় হয়নি। এটা আমরা কালকের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি।

    তিনি বলেন, ‘কতগুলো ধাপ আছে, আমরা হুঁশিয়ারি দেই, লিড টাইমটা দেয়া হয় ২৪ ঘণ্টা আগে। আমরা বিপদ সংকেত দেই ১৮ ঘণ্টা আগে। প্রস্তুতির সুবিধার্থে বিপদ সংকেতটা আমরা আগে দিয়েছি। মহাবিপদের যে ল্যান্ডফল, এর ১০ ঘণ্টা আগে আমরা দিতে পারব। সেই সময়টা এখনও আসেনি। আমরা আজকের রাত ও কালকের সকালটা পর্যবেক্ষণের জন্য রেখেছি। আমরা দেখব দিক পরিবর্তন হয়েছে কিনা এবং এর ইন্টেনসিটি (শক্তি) আগের মতো আছে কিনা। এই দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে আমাদের মহাবিপদ সংকেতে যেতে হবে। আর যদি না হয়, তাহলে বর্তমান ধারায় যেভাবে চলছে তাতে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতেই আমাদের কাজটা হয়ে যাবে।

  • ৪৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’

    ৪৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’

    অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ভয়ঙ্কর রূপে এই শক্তির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাণ্ডব লীলা দেখাতে পারে এই ঝড়। ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু বলছে, ১৯৭৬ সালের পর এতো শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি এই অঞ্চল।

    শুক্রবার ভারতের ওড়িশা উপকূলে ঘণ্টায় প্রায় ২০৫ কিলোমিটার গতিতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‘ফণী’র। শক্তি সঞ্চয় করে ধীর গতিতে বঙ্গোপসাগরে ঘোরপাক খাওয়া এই ঝড়ের তাণ্ডবে একেবারে ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে ভারতের তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ।

    ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে আগামী ৪ মে (শনিবার) বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ তাণ্ডব চালাতে পারে দেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলায়। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এসব জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলেছে।

    ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু বলছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী বর্তমানে তামিলনাড়ুর বিশাখাপত্তমের পূর্ব উপকূল থেকে ৬০০ কিলোমিটার ও পুরি থেকে ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। গত ৪৩ বছরে অর্থাৎ ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে যতগুলো ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে তার কোনোটি কখনই এতো শক্তিশালী আকার ধারণ করেনি।

    প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ সাধারণত ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং এই ঝড় যে কোনো সময় সৃষ্টি হতে পারে। তবে সাধারণত বর্ষা মৌসুমের শেষে অথবা মে মাসের দিকে এমন ঝড় দেখা দিলেও বেশিরভাগই নভেম্বরে হয়।

    ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের মহাপরিচালক কে জি রমেশ বলেন, এ ধরনের ঝড় বৈশ্বিক উষ্ণতা পরিবর্তনের ফল। বঙ্গোপসাগরের বায়ুমন্ডলের পরিবর্তনের কারণে এই ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে…। বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে এখন আমাদের এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি এবং পূর্ব সতর্কতা নিতে হবে। তবে এই ঝড়ের কারণে আগাম বর্ষা শুরুর সম্ভাবনা নেই।

    ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতরের ঘূর্ণিঝড়-পরিসংখ্যান শাখা বলছে, ১৯৬৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে মোট ৪৬টি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছিল অক্টোবর-নভেম্বর মাসে। এছাড়া সাতটি মে মাসে এবং ১৯৬৬ ও ১৯৭৬ সালে মাত্র দুটি ঝড় সৃষ্টি হয় এপ্রিল মাসে।

    বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ধ্বংসাত্মক শক্তি সঞ্চয় করে বুধবার দুপুরের দিকে সাগরের সামান্য উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। শুক্রবার ভারতের ওড়িশা উপকূলে ঘণ্টায় প্রায় ২০৫ কিলোমিটার গতিতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‘ফণী’র। প্রত্যেক বছর বিশ্বে মাত্র ২০ থেকে ৩০টি ঘূর্ণিঝড় এ ধরনের প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে আছড়ে পড়ে।

    ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী প্রবল শক্তি ওড়িশা উপকূলে পৌঁছাতে পারে ৩ মে। এ সময় ঝড়ো বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০-১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বয়ে যেতে পারে।

    ফণী দীর্ঘ সময় ধরে তাণ্ডব চালাতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। ২৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এত দীর্ঘ সময় ধরে গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় কোনো ঝড়ের শক্তি সঞ্চয় খুব বেশি দেখা যায় না। সাধারণত এক সপ্তাহ শক্তি সঞ্চয়ের পর ঝড়ো-বাতাসের সঙ্গে দুর্বল হয়ে যায়।

    আগামী ৩ মে মধ্যে প্রবল বেগে ভারতের ওড়িশা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানবে ফণী। ইতোমধ্যে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ভারতের এসব রাজ্যে আশ্রয় কেন্দ্র চালুর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতেও আঘাত হানতে পারে এই ঝড়। এ জন্য পূর্ব সতর্কতা হিসেবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ ও হাতিয়া রুটে নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফণী মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় ২ হাজার ৭৩৯ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামের সব সরকারি কর্মকর্তাকে স্থান ত্যাগ না করার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো ছুটি বাতিলের কোনো নির্দেশনা আসেনি।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, প্রবল শক্তি সঞ্চয়কারী এই ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

    তবে আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ঝোড়া হাওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ‘ফণী’ সুপার সাইক্লোনের একধাপ আগের স্তরের ঝড়ে পরিণত হয়েছে।

  • ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ

    ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ

    ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে তা আগামী ৪ মে (শনিবার) বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। তাই এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

    বুধবার (১ মে) সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুতি সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, রংপুর হয়ে দিনাজপুরের দিকে যেতে পারে। সেই সঙ্গে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে আঘাত হানতে পারে। আগামী ৪ মে সকাল নাগাদ এ ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ঘূর্ণিঝড়টি যে ডিরেকশনে আছে সেই ডিরেকশনে যদি এগোতে থাকে তাহলে এটা প্রথমে ভারতের ওড়িশায় আঘাত করবে, এরপর পশ্চিমবঙ্গে আঘাত করবে। এরপর দুর্বল হয়ে বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চল হয়ে সাতক্ষীরা অঞ্চলে আঘাত করবে। আর যদি দিক পরিবর্তন করে বাংলাদেশের দিকে আসে তাহলে খুলনা, মংলা, সাতক্ষীরা, চট্রগ্র্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।’

    ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এনডিআরসি (জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান কেন্দ্র) প্রতিনিয়ত সংবাদ দিয়ে যাচ্ছে। সিপিপির (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) হেডকোয়ার্টার এবং উপকূলীয় ১৯টি জেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘এসব জেলার উপজেলা পর্যায়েও কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। রেডক্রিসেন্টের কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। উপকূলীয় আর্মি স্টেশনগুলোতেও ঢাকা থেকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তারা প্রস্তুতি রেখেছেন। সিপিপির ৫৬ হাজার ভলান্টিয়ারকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। তারা প্রস্তুত আছে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা ইতোমধ্যে মাইকিং করে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছেন। মানুষের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এসব জেলার প্রশাসকদের কাছে ২০০ টন চাল পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে ৫ লাখ করে টাকাও দেয়া আছে। একইসঙ্গে ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্যালাইনের জন্য সুপেয় পানির ট্রাক পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’

    foni

    এনামুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজ লন্ডনে যাওয়ার আগে মুখ্য সচিবকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা আশা করি মানুষের হতাহতের ঘটনা আমরা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পারব। তবে ফসলের ক্ষতিটা রক্ষা করা যাবে না। প্রাণিসম্পদকেও যেন আশ্রয় কেন্দ্রে আনা যায় সেজন্য আমরা স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশ দিয়েছি।’

    ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি এবং অন্যান্য ছুটি বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাদেরকে সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে সবাইকে সহযোগিতার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমি মনে করি, আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি।

    বৈঠকে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র গতিপথ পরিবর্তন হয়ে সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানলে তা হবে ভয়াবহ। এটি বর্তমানে গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

    তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এর গতিপথ যেভাবে রয়েছে তাতে প্রথমে এটি ভারতের ওড়িশায় আঘাত করবে, এরপর পশ্চিম বাংলায় আঘাত করবে। কিন্তু এর গতিপথ যদি পরিবর্তন হয়ে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হাতে তাহলে এটি খুলনা, মংলা, সাতক্ষীরা, চট্রগ্র্রাম হয়ে ভয়াবহ আকারে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।’

    বৈঠকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস, আবহাওয়া অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    অপরদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের এক অফিস আদেশে বলা হযেছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সব শাখা অব্যাহতভাবে ১ মে থেকে খোলা থাকবে।

    একই সঙ্গে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয় ও জরুরি সাড়াদানের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ১ মে থেকে অব্যাহতভাবে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’

    ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’

    ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’।

    যদিও এর আগে শনি অথবা রবিবার আঘাত হানার কথা বলা হয়েছিল, তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় তা শুক্রবার রাতে কিংবা শনিবার সকালে উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীকাল আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

    এই আবহাওয়াবিদ জানান, ফনি এখনও ভারতের উড়িষ্যার উপকূলে দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এর গতি পরিবর্তন হতে পারে। গতি পরিবর্তন হলে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • মৌলভীবাজারে ১০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

    মৌলভীবাজারে ১০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার পতনউষার, শমশেরনগর, মুন্সিবাজার ও পৌরসভা এলাকায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

    রোববার দুপুরে এ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে। গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, কমলগঞ্জ-কুলাউড়া সড়কে শমশেরনগর এয়ারপোর্ট রোডে ব্যাপক গাছপালা ভেঙে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া লাউয়াছড়া পাহাড়ে রেল লাইনের ওপর গাছ পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ও সিলেটগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া স্টেশনে আটকা পড়েছে। বিদ্যুৎ লাইন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার করণে বিদ্যুৎহীন রয়েছে পুরো কমলগঞ্জ।

    molovibazar-cyclone

    স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে পতনউষার ইউনিয়নের পতনউষার, শ্রীরামপুর, চন্দ্রপুর, ধোপাটিলা, রসুলপুর, বৃন্দাবনপুর, দক্ষিণপল্কীসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে। পতনউষারের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের ১১ কেভি লাইন ছিঁড়ে পড়েছে। পতনউষার গ্রামের আলাল মিয়া, দক্ষিণপল্কী গ্রামের আগুরী বিবিরসহ প্রায় ২০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

    অপরদিকে, একই সময় শমশেরনগর, মুন্সিবাজার ও কমলগঞ্জ পৌরসভায় ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। কমলগঞ্জ আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের আধাপাকা একাডেমিক ভবনের টিন ছাউনিসহ পৌরসভার ৫, ১, ২ নং ওয়ার্ডের ঘরের অনেক বাড়ির টিন উড়ে গেছে। কয়েক শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

    পতনউষার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নারায়ণ মল্লিক সাগর বলেন, আমার ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

    molovibazar-cyclone

    বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রীমঙ্গল জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে রেললাইনে গাছপালা ভেঙে পড়েছে। তাই ট্রেন আটকা পড়েছে।

    কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোবারক হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় শতাধিক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে একদিন সময় লাগবে।

    কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমর্কতা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভেঙে পড়া ঘরবাড়ির তালিকা দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

  • সাগরে নিম্নচাপ, রবিবার আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়

    সাগরে নিম্নচাপ, রবিবার আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়

    দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি রবিবার ভোরের দিকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ফণি।

    নিম্নচাপের কারণে ইতিমধ্যে সাগর উত্তাল হতে শুরু করেছে। এ কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ (বিএমডি)।

    এদিকে নিম্নচাপের প্রভাব পড়েছে গোটা প্রকৃতিতে। কয়েক দিনের দাপটের পর ব্যারোমিটারের পারদ নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। শুক্রবার দেশে তাপমাত্রা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে।

    এদিন ঢাকায় বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এর অনুভূতি ছিল ৪০ ডিগ্রির মতো।

    এদিকে বিএমডি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২১৭০, কক্সবাজার থেকে ২০৮৫, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২১৮৫ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রে ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটে সাগর উত্তাল রয়েছে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।