Category: আবহাওয়া

  • বাড়তে শুরু করেছে বৃষ্টি

    বাড়তে শুরু করেছে বৃষ্টি

    আবহাওয়া ডেস্কঃ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টি বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। সেখানে বৃষ্টির এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বৃষ্টি বাড়বে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

    আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, ‘সিলেটে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামের কিছু অঞ্চলেও বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। আশা করি আগামী ১৮ ও ১৯ জুলাই থেকে দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তখন তাপপ্রবাহ দূর হতে পারে।’

    ভরা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি একেবারে কমে যাওয়ায় প্রায় সারাদেশের মানুষ গরমে কষ্ট পাচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। টাঙ্গাইল, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রাজশাহী, রংপুর এবং সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

    শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

    শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সৈয়দপুরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে, ২৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

    রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়োহাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • তাপপ্রবাহ; বৃষ্টির জন্য যে দোয়া করবেন

    তাপপ্রবাহ; বৃষ্টির জন্য যে দোয়া করবেন

    কখনো কখনো বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি কিংবা অতিবৃষ্টির আজাব নেমে আসে মানব সমাজে। কিন্তু কেন? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আল্লাহ মহান পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় প্রকাশ পায়। ফলে আল্লাহ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদের আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর-রূম: ৪১)।

    তাই তো আল্লাহর নবি হজরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল’। ‘তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।’ (সূরা নূহ: ১০-১৩)

    হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সময় মিশরে অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরার কারণে মানুষের জীবন-যাপন খুব কষ্টকর হয়ে ওঠে। গবাদি পশুগুলো মারা যাওয়ার উপক্রম হয়। জমি চাষ করা যাচ্ছিল না। কোনো উপায় না দেখে মিশরের জনগণ হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কাছে যান। আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান।

    হজরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে বলেন, ‘হে আল্লাহ! মিশরের জমিনে অনেক দিন বৃষ্টি নেই, তুমি বৃষ্টি দাও হে প্রভু! তুমি দয়া করো হে প্রভু!’

    হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় একবছর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবাহ দেওয়ার সময় এক বেদুঈন উঠে দাঁড়াল এবং আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বৃষ্টি না হওয়ার কারণে সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার-পরিজন অনাহারে মরছে। আপনি আমাদের জন্য দোয়া করুন।

    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই হাত তুলে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের মেঘ দিন।’ আমাদের ফরিয়াদ শুনুন! আমাদের ফরিয়াদ শুনুন! সে সময় আকাশে কোনো মেঘ ছিল না। হজরত আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম করে বলছি! তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাত না নামাতেই পাহাড়ের মতো মেঘের খণ্ড এসে একত্র হয়ে গেল এবং তাঁর মিম্বর থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে লাগল।

    এভাবে দিনের পর দিন ক্রমাগত পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত (বৃষ্টি) হতে থাকল। পরবর্তী জুমআর দিনে সেই বেদুঈন অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতি বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ি-ঘর ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, ফসল ডুবে যাচ্ছে। অতএব আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দোয়া করুন।

    তখন তিনি দুই হাত তুললেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি দাও, আমাদের এখানে নয়। এ সময় তিনি স্বীয় আঙুল দিয়ে মেঘের দিকে ইশারা করেছিলেন। ফলে সেখান থেকে মেঘ কেটে যাচ্ছিল।’ (বুখারি)

    মুসলমানদের শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) বৃষ্টির জন্য দোয়া পাঠ করতেন। দোয়াটি হলো, ‘আলহামদু লিল্লাহি রাবি্বল আলামিন। আর রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াউমিদ্দিন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইয়াফয়ালু মা ইউরিদ। আল্লাহুম্মা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল গানিয়্যু ওয়া নাহলুল ফুকারাউ। আনজিল আলাইনাল গাইছা ওয়াজয়া’ল মা আনজালতা লানা কুওয়্যাতান ওয়া বালাগান ইলা খাইরিন।’ অর্থাৎ ‘সব প্রশংসা পৃথিবীর প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময় এবং দয়ালু ও শেষ বিচারের মালিক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই করেন। হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র মাবুদ, তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি ধনী, আমরা গরিব। আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করো এবং আমাদের জন্য যা অবতীর্ণ করো, তা আমাদের জন্য শক্তিময় ও কল্যাণ দান করো।’ এ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত লাভের জন্য প্রার্থনা করা হয়।

    বৃষ্টি যেন মানুষের জন্য কল্যাণকর হয়, এ জন্যও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। বৃষ্টির জন্য কুরআনুল কারিমে ইসতেগফারের আমল করতেও বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২)

    এ আয়াতে কারিমায় মানুষের ইসতেগফারের ফলে মহান আল্লাহ বান্দার জন্য বৃষ্টি দান করেন। আর বৃষ্টির মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃষ্টির সময় কল্যাণের দোয়া করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    কখনো কখনো বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি কিংবা অতিবৃষ্টির আজাব নেমে আসে মানব সমাজে। কিন্তু কেন? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আল্লাহ মহান পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় প্রকাশ পায়। ফলে আল্লাহ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদের আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর-রূম: ৪১)।

    তাই তো আল্লাহর নবি হজরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল’। ‘তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।’ (সূরা নূহ: ১০-১৩)

    হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সময় মিশরে অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরার কারণে মানুষের জীবন-যাপন খুব কষ্টকর হয়ে ওঠে। গবাদি পশুগুলো মারা যাওয়ার উপক্রম হয়। জমি চাষ করা যাচ্ছিল না। কোনো উপায় না দেখে মিশরের জনগণ হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কাছে যান। আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান।

    হজরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে বলেন, ‘হে আল্লাহ! মিশরের জমিনে অনেক দিন বৃষ্টি নেই, তুমি বৃষ্টি দাও হে প্রভু! তুমি দয়া করো হে প্রভু!’

    হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় একবছর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবাহ দেওয়ার সময় এক বেদুঈন উঠে দাঁড়াল এবং আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বৃষ্টি না হওয়ার কারণে সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার-পরিজন অনাহারে মরছে। আপনি আমাদের জন্য দোয়া করুন।

    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই হাত তুলে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের মেঘ দিন।’ আমাদের ফরিয়াদ শুনুন! আমাদের ফরিয়াদ শুনুন! সে সময় আকাশে কোনো মেঘ ছিল না। হজরত আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম করে বলছি! তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাত না নামাতেই পাহাড়ের মতো মেঘের খণ্ড এসে একত্র হয়ে গেল এবং তাঁর মিম্বর থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে লাগল।

    এভাবে দিনের পর দিন ক্রমাগত পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত (বৃষ্টি) হতে থাকল। পরবর্তী জুমআর দিনে সেই বেদুঈন অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতি বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ি-ঘর ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, ফসল ডুবে যাচ্ছে। অতএব আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দোয়া করুন।

    তখন তিনি দুই হাত তুললেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি দাও, আমাদের এখানে নয়। এ সময় তিনি স্বীয় আঙুল দিয়ে মেঘের দিকে ইশারা করেছিলেন। ফলে সেখান থেকে মেঘ কেটে যাচ্ছিল।’ (বুখারি)

    মুসলমানদের শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) বৃষ্টির জন্য দোয়া পাঠ করতেন। দোয়াটি হলো, ‘আলহামদু লিল্লাহি রাবি্বল আলামিন। আর রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াউমিদ্দিন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইয়াফয়ালু মা ইউরিদ। আল্লাহুম্মা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল গানিয়্যু ওয়া নাহলুল ফুকারাউ। আনজিল আলাইনাল গাইছা ওয়াজয়া’ল মা আনজালতা লানা কুওয়্যাতান ওয়া বালাগান ইলা খাইরিন।’ অর্থাৎ ‘সব প্রশংসা পৃথিবীর প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময় এবং দয়ালু ও শেষ বিচারের মালিক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই করেন। হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র মাবুদ, তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি ধনী, আমরা গরিব। আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করো এবং আমাদের জন্য যা অবতীর্ণ করো, তা আমাদের জন্য শক্তিময় ও কল্যাণ দান করো।’ এ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত লাভের জন্য প্রার্থনা করা হয়।

    বৃষ্টি যেন মানুষের জন্য কল্যাণকর হয়, এ জন্যও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। বৃষ্টির জন্য কুরআনুল কারিমে ইসতেগফারের আমল করতেও বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২)

    এ আয়াতে কারিমায় মানুষের ইসতেগফারের ফলে মহান আল্লাহ বান্দার জন্য বৃষ্টি দান করেন। আর বৃষ্টির মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃষ্টির সময় কল্যাণের দোয়া করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মঙ্গলবার থেকে কমবে গরমের তীব্রতা

    মঙ্গলবার থেকে কমবে গরমের তীব্রতা

    রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে।বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে দুই মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতেও কমেনি গরম। বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল শুক্রবার বৃষ্টি একটু বেশি হয়েছে। তবে গরম কমাতে এ বৃষ্টি যথেষ্ট নয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী রবি বা সোমবারের পর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। বৃষ্টি বাড়লে গরম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

    অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে কমবে গরমের তীব্রতা।

    বৃষ্টিপাতের বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

    শুক্রবার দেশের ২৩ অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বগুড়ায়, ১৮ মিলিমিটার। আর ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৫ মিলিমিটার।

    হালকা বৃষ্টির কারণে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার অঞ্চল কিছুটা কমেছে বলে জানালেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির।

    তিনি বলেন, ঢাকায় ও চট্টগ্রাম বিভাগে কিছু বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঢাকা জেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে তাপপ্রবাহ আপাতত চলে গেছে। এতে লোকজনের মধ্যে গরম লাগার অনুভূতিও কিছুটা কমেছে। তবে রাজশাহী, রংপুর ও সিলেটের যে এলাকাগুলোয় তাপপ্রবাহ ছিল, সেখানে এখনো তা আছে।

    ঢাকায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে। সর্বনিম্ন ২৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল নওগাঁর বদলগাছীতে।

    শুক্রবার রাজশাহীতে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। তাতে তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে— টাঙ্গাইল, সিলেট, চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

  • বৃষ্টি কবে হবে জানাল আবহাওয়া অফিস

    বৃষ্টি কবে হবে জানাল আবহাওয়া অফিস

    দেশের ১৯টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে। এতে গরমে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে মানুষ। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি নামলেই গরমের তীব্রতা কমতে শুরু করবে।

    আবহাওয়া অধিদফতর থেকে এমনই তথ্য জানানো হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল মান্নান জানান, টাঙ্গাইল, সিলেট, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর বিভাগের আট জেলা ও রাজশাহী বিভাগের আট জেলাসহ মোট ১৯টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে, যা রোববার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা কমে আসবে।

    গরমের কারণ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদরা জানান, দেশের ওপর দিয়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং বাতাসে আর্দ্রতা আছে। এছাড়া বৃষ্টির পরিমাণও কমে গেছে।

    ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানায়, চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

  • ৩ বিভাগ ৭ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি

    ৩ বিভাগ ৭ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি

    দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর (বর্ষার) নিষ্ক্রিয়তায় আষাঢ়ের শেষে দেশে বৃষ্টির প্রবণতা একেবারেই কমে গেছে। এতে ঢাকাসহ দেশের সাত জেলা ও তিন বিভাগে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।

    বৃহস্পতিবার বৃষ্টির ঋতু বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের ৩০ তারিখ। বুধবার বিকেল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ ছিল প্রায় বৃষ্টিহীন।

    দেশের ৪৩টি বৃষ্টি পরিমাপ করার স্থানের মধ্যে মাত্র সাতটিতে বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ৪৩টি অঞ্চলের মধ্যে ২০টিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে, অর্থাৎ মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল রাজশাহীতে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়াবিদ মো. লতিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত ও উত্তর উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগরে দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এসময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    ঢাকা, টাঙ্গাইল, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

    আগামী পাঁচদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে তিনি জানান, এসময়ের প্রথমার্ধে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • ঈদের দিন সারা দেশে বৃষ্টির আভাস

    ঈদের দিন সারা দেশে বৃষ্টির আভাস

    আগামী ১০ জুলাই (রোববার) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এরই মধ্যে সবাই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। শহর-গ্রাম সর্বত্র বসেছে কোরবানির পশুর হাট। কিন্তু বর্ষার এই সময়ে ঈদের দিনের আবহাওয়া কেমন থাকবে? কী বলছে আবহাওয়া অফিস?

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ছানাউল হক মন্ডল জানিয়েছেন ঈদের দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে সেটি খুব বেশি হবে না। অল্প পরিমাণ বৃষ্টি হবে বেশির ভাগ জায়গায়। কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে ভারী বা মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

    বৃষ্টিহীন সময়ে দেশের তিনটি অঞ্চলের তাপামাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে বলে জানান তিনি।

    ছানাউল হক বলেন, ‘এখন যেহেতু বর্ষা মৌসুম, সেহেতু সারা দেশেই কম-বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম থাকবে। দু-একটা জায়গায় হয়তো হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।’

    কোন কোন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিলেট, রংপুর ও চট্টগাম বিভাগের দু-এক জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। আর অন্যান্য জায়গায় বৃষ্টিপাত কম হবে, আবার কোনো কোনো জায়গায় বৃষ্টিপাত হবে না।’

    ঈদের দিন সারা দেশের তাপমাত্রা কেমন থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে ছানাউল হক বলেন, ‘তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে। বর্তমানের তাপমাত্রা যেরকম আছে, সেরকমই থাকবে। হয়তো দু-একটা জায়গায় সামান্য বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে হয়তো তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে।’

    কোন অঞ্চলের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকবে এমন প্রশ্নে এ আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে তাপমাত্রা একটু বেশি থাকবে।’

    তিনি জানান, কালবৈশাখীর মতো ঝড় বা দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা নেই ঈদের সময়। ঈদ পর্যন্ত সাগর মোটামুটি স্বাভাবিক থাকবে।

  • দেশের যেসব জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে আজ

    দেশের যেসব জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে আজ

    মৌসুমী বায়ুর অক্ষ বিহার,পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘন্টা সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়, অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    এছাড়া সারাদেশে দিনের সামান্য হ্রাস পেতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

  • অশনি’র বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা নেই: প্রতিমন্ত্রী

    অশনি’র বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা নেই: প্রতিমন্ত্রী

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা এখন পর্যন্ত নেই বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

    রোববার (৮ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

    আন্দামান সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। যে দিকে যাচ্ছে এটি যদি সেদিকে ধাবিত হয় তাহলে ভারতের বিশাখাপত্নম, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হেনে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।

    তিনি বলেন, আবহাওয়াবিদ এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া অফিস ধারণা করছে, ঘূর্ণিঝড়টি ১২ মে সকালে বিশাখাপত্নম, ভুবনেশ্বর, পশ্চিমবঙ্গ স্পর্শ করে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

    অশনি’র প্রভাবে বাংলাদেশে ঝড়-বৃষ্টি হবে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    এনামুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় যে কোনো সময় যে কোনো দিকে মোড় নিতে পারে। এখন এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি যদি মোড় নিয়ে উত্তর দিকে ধাবিত হয়, তাহলে আমাদের দেশের সাতক্ষীরা, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে আঘাত হানতে পারে।

  • ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে তাপমাত্রা

    ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে তাপমাত্রা

    বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফের অস্বস্তিকর গরম অনুভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশেই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এসময় সবচেয়ে বেশি ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সীতাকুণ্ডে। ঢাকায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্য ৬ বিভাগের তুলনায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা কম ছিল।

    বুধবার সকাল থেকেই ঢাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রা অনেকটাই কমে গিয়ে নগরজীবনে ফিরে স্বস্তি। বৃহস্পতিবার বৃষ্টির দেখা না মিললেও ঢাকার আকাশে মেঘের আনাগোনা রয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুর ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বিজলি চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

    সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে বলেও জানান আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম।

  • ৩ দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা-তিস্তার পানি বাড়তে পারে

    ৩ দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা-তিস্তার পানি বাড়তে পারে

    ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ৩ দিনের (৭২ ঘণ্টায়) মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর পানি বাড়তে পারে।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেশের উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী পরিস্থিতি এবং বন্যা সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

    পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়ায় সই করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় ও তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম এবং অরুণাচলে গত ১ থেকে ৯ এপ্রিল মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তীসময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশে বৃষ্টিপাত কমে আসায় উক্ত অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

    বাংলাদেশ ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। তবে পরবর্তীতে ৭২ থেকে ১২০ ঘন্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কমে পরবর্তীতে ভারি বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে ১২০ ঘন্টায় বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

    তিস্তা আববাহিকা

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা অববাহিকায় ও তৎসংলগ্ন ভারতের দার্জিলিং, সিকিম ও হিমালয় পাদদেশীয় অংশে গত ১ থেকে ৯ এপ্রিল মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তীসময়ে তিস্তা নদীর অববাহিকার বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশে বৃষ্টিপাত কমে আসায় এ অববাহিকার প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

    বাংলাদেশ ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের তথ্য মতে, তিস্তা অববাহিকার উজানে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। তবে পরবর্তী ৭২ ঘন্টায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তিস্তা নদীর পানি সমতল আগামী ৪৮ ঘন্টায় কমে পরবর্তী ৭২ ঘন্টায় বৃদ্ধি পেতে পারে ও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে পাউবো।