Category: আবহাওয়া

  • ৬ বিভাগে হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি

    ৬ বিভাগে হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি

    রোববার চৈত্রের ২৭ তারিখ। কাগজে-কলমে গ্রীষ্মকাল শুরু হতে আরও তিনদিন বাকি। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের পাদচারণা। এর মধ্যে চলছে আকাশে মেঘের আনাগোনা। আবার কোথাও কোথায় বৃষ্টি বা দমকা হাওয়া, সঙ্গে রয়েছে গরম।

    এ অবস্থায় দেশের ছয় বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী কয়েক দিন ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এদিকে শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দপুরে সবচেয়ে বেশি ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া দপ্তর। এছাড়া রংপুরের ১৬, রাজারহাটে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বদলগাছী ও সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে সামান্য।

    আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আব কালাম মল্লিক রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরেন।

    তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা অঞ্চলসহ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

    এসময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ। তিনি বলেন, আগামী তিনদিনে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

    রোববার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল শ্রীমঙ্গলে। শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরায়, দুটি স্থানে ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

  • বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, প্রস্তুতিতে পিছিয়ে

    বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, প্রস্তুতিতে পিছিয়ে

    মাঝেমধ্যেই ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে সারাদেশ। এসব ভূমিকম্পে তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বড় মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আছে। সাম্প্রতিককালে বড় মাত্রার ভূমিকম্প না হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ভূমিকম্পের তেমন কোনো পূর্বাভাস ব্যবস্থা নেই। সেজন্য দিন-ক্ষণ সুনির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ, সেটা হতে পারে যে কোনো সময়।

    কিন্তু ঝুঁকি থাকলেও তা মোকাবিলার প্রস্তুতিতে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ। বহু পুরোনো ভবন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করা—ভূমিকম্প ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবলেরও সংকট রয়েছে।

    ভূমিকম্প মোকাবিলায় বাংলাদেশের সামর্থ্য বোঝাতে অনেকে ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের ঘটনাকে তুলে ধরেন। সেসময় পুরো শক্তি কাজে লাগিয়ে ওই ভবনটি পুরোপুরি উদ্ধারে প্রায় এক মাস লেগে যায়।

    গত বছরের ২৯ মে দেশের ইতিহাসে প্রথম একই অঞ্চলে একদিনে চার দফা ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ওইদিন সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার, সকাল ১০টা ৫০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে ৪ দশমিক ১ মাত্রার, বেলা ১১টা ২৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে ২ দশমিক ৮ মাত্রার এবং দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের জৈন্তাপুর ও এর আশপাশে। এর পরদিন ৩০ মে ভোর ৪টা ৩৫ মিনিট ৭ সেকেন্ডে ফের দুই দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।

    কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দফায় দফায় স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস।

    ভূমিকম্প কেন হয়
    পৃথিবী প্লেট ও সাব-প্লেট দিয়ে গঠিত। এ রকম দুই প্লেটের মধ্যে যে ফাঁকা থাকে তাকে বলা হয় ফল্ট লাইন। প্লেটগুলো গতিশীল। দুটি চলন্ত প্লেটের ফল্ট লাইনে পরস্পর সংঘর্ষ হলে অথবা হঠাৎ ফল্ট লাইনে শূন্য অবস্থার সৃষ্টি হলে ভূমিকম্প হয়।

    ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং মিয়ানমারের টেকটনিক প্লেটের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভূমিকম্প সহনীয় দেশ গড়তে নানা ধরনের কার্যক্রম চলমান। সহায়তা পেতে জাপান সরকারের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতার পথে হাঁটছে সরকার। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, উন্নত যন্ত্রপাতি কেনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি মহড়ার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

    বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ও ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেন্ট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপ্রবণ অঞ্চলে রয়েছে। অতীতে বড় ধরনের ভূমিকম্প বাংলাদেশ ও আশপাশে হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। এটা কিন্তু হবে। বাংলাদেশের আশপাশে ভূমিকম্পের ইপি সেন্টার বা কেন্দ্র আছে। এই কারণে ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। তবে এটা কবে হবে, সেটা বলা যাচ্ছে না। আগামীকাল হবে, নাকি ১০০ বছর পরে হবে, নাকি ২০০ বছর পরে হবে- এটা স্টাডির ব্যাপার।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৭ মাত্রার মতো বড় ভূমিকম্প হয়েছে মানিকগঞ্জে ১৮৮৫ সালে। এটার নাম ছিল বেঙ্গল আর্থকোয়াক। আরেকটা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে ১৯১৮ সালে, এটার নাম শ্রীমঙ্গল আর্থকোয়াক। শ্রীমঙ্গল আর্থকোয়াকের উৎপত্তিস্থলের আশপাশে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৮৮৫ সালের ভূমিকম্পে টাঙ্গাইল, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তবে ওই ভূমিকম্পে ঢাকা শহরের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

    সাধারণত ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্র যদি কোনো স্থানের ১০০ কিলোমিটার দূরে হয় তাহলে ওই স্থানের ক্ষয়ক্ষতি কম হয় জানিয়ে এই ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানী বলেন, ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়াক’ ভারতবর্ষে আঘাত হানে। গবেষকরা এখন হিসাব করে বের করেছেন, এটার মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ১। ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের মেঘালয়ের শিলং শহর। ওই ভূমিকম্পে ঢাকা শহরেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

    এতে প্রমাণ হয়, বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। এটা কখন হবে, আমরা হিসাব করে বের করতে পারিনি। অনেকে বলেন, ১০০ বছর পরপর বড় ভূমিকম্প হয়, এটা ঠিক নয়। ৩০০ বছর পর, ৫০০ বছর পরও হতে পারে। তবে অবশ্যই ঝুঁকিতে আছি আমরা।’

    ড. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ তিনটি প্লেটের বাউন্ডারির কাছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড় কোনো ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি (ফল্ট) আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি। বাংলাদেশের বাইরে সীমান্ত সংলগ্ন ফল্ট আছে। ত্রিপুরা, মিজোরাম, ডাউকিতে ফল্ট রয়েছে।

    তিনি বলেন, ভূমিকম্পের বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের উত্তর এবং পূর্বাংশের শহরগুলো। রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি।

    ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিল্লুর রহমান আরও বলেন, আমাদের অবকাঠামোগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ভূমিকম্প সহনীয় ভবন করি না। এছাড়া অনেক পুরোনো ভবন রয়েছে। এসব ভবন অরক্ষিত (ভালনারেবল), বিপদ (হ্যাজার্ড) আছে- তাই ঝুঁকি তো থাকবেই। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণে আমরা নিজেদেরকেই ঝুঁকিতে ফেলেছি। রাজধানী ঢাকাও ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আছে।

    বেহাল প্রস্তুতি
    ভূমিকম্প মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি অত্যন্ত নাজুক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়। আহত হন আরও কয়েক হাজার শ্রমিক। সরকারের সব সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে পুরো ভবনটি উদ্ধারে সময় লাগে প্রায় এক মাস। এখনো সেই অবস্থা থেকে খুব একটা উন্নতি হয়নি উদ্ধার কার্যক্রমের।

    তাই ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধসে পড়লে তা উদ্ধারে তেমন কিছু করার থাকবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট তো রয়েছেই, এর ওপর ঢাকার রাস্তাগুলোর যে অবস্থা, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে অনেক এলাকায় উদ্ধার

    কার্যক্রম দূরের কথা, রাস্তার কারণে প্রবেশই করা যাবে না।

    অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় আমাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। রানা প্লাজা ধসের পর আমরা দেখেছি এটি উদ্ধার করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পুরো সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে এটি উদ্ধারে আমাদের অনেক দিন লেগে গেছে। বড় ভূমিকম্প হলে শত শত ভবন ধসে গেলে কীভাবে উদ্ধার করা হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। আমাদের ওই ধরনের যন্ত্রপাতি কিংবা প্রস্তুতি- কোনোটাই নেই।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেন্ট রেজিলিয়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. শাখাওয়াত হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য আমাদের তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই। বিল্ডিং কোড না মানা হলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি আমরা কমাতে পারবো না। পুরোনো ভবনের ঝুঁকি নির্ণয় করে সেগুলো রেট্রোফিট করতে হবে।

    ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ভূমিকম্প ঝুঁকির ক্ষেত্রে মূল বিষয় হচ্ছে আমাদের ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় কি না। ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে পুরান ঢাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তর সিটি করপোরেশনেও বহু পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। তাই ঢাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হবে।

    তিনি বলেন, ভূমিকম্পের প্রাথমিক প্রস্তুতি কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের কী পরিমাণ সরঞ্জাম আছে সেটা নয়। প্রাথমিক প্রস্তুতি হলো বিল্ডিং কোড মেনে ভবনগুলো তৈরি করা হলো কি না। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ঢাকার রাস্তাগুলো উদ্ধার কার্যক্রমে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে।

    ১৮ কোটি মানুষের জন্য ফায়ার সার্ভিসের জনবল মাত্র ১৩ হাজার। ফায়ার সার্ভিস, রেডক্রস- এদের দিয়ে এককভাবে এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করা যাবে না। জনগণকেই ভলান্টিয়ার হিসেবে তৈরি থাকতে হবে, যোগ করেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

    মোকাবিলায় যা করছে সরকার
    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে ভূমিকম্প সহনীয় দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানের সঙ্গে চার দফা মিটিং হয়েছে। আমাদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি হয়েছে। সেই অনুযায়ী তিনটি ধাপে বাংলাদেশকে ভূমিকম্প সহনীয় রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আমরা ফোকাল পারসন নিয়োগ দিয়েছি, কার্যক্রম এগোচ্ছে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথম দফায় তারা সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন। দ্বিতীয় দফায় ১০০/২০০ বছরের পুরোনো যেসব বিল্ডিং আছে, সেগুলো ধ্বংস করে জাপানের আর্থিক সহায়তায় ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সম্প্রতি যেসব ভবন তৈরি করা হয়েছে সেগুলো ভূমিকম্প সহনীয় কি না তা পরীক্ষার করে সংস্কার করা হবে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-১ অনুবিভাগ) রঞ্জিৎ কুমার সেন বলেন, ভূমিকম্প ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় ভলান্টিয়ার গ্রুপ করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণসহ কিছু অত্যাবশকীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ইর্মাজেন্সি অপারেশন সেন্টার রয়েছে। এছাড়া রয়েছে জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি)। বড় পরিসরে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (এনওইসি) করা হচ্ছে, তেজগাঁওয়ে জায়গা নেওয়া হয়েছে। চীনের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো এমওইউ হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

    রঞ্জিৎ কুমার সেন আরও বলেন, এনওইসি প্রকল্পের অধীনে ভূমিকম্প মোকাবিলায় হেলিকপ্টার, হোভারক্রাফটসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি কেনা হবে। আমরা ভূমিকম্পের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নিয়মিত মহড়া করছি। গত ৯ মার্চ একটি বড় সেমিনার করেছি। সেখানে আমাদের প্রস্তুতিতে কী ঘাটতি রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমাদের ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম (এনআরপি) রয়েছে। অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ও বন্যা নিয়ে মূলত কাজ করা হয়। ফায়ার সার্ভিস ভূমিকম্প নিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সভা, সেমিনারসহ জনগণকে সচেতন করার কাজ করছি। অন্যদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। তবে আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি হচ্ছে ভবনগুলো।

    অতিরিক্ত সচিব বলেন, জাপানের মতো বাংলাদেশেও ভূমিকম্পের আগে পূর্বাভাস দেওয়া যায় কি না সেটা স্টাডির পর্যায়ে আছে। বুয়েট, আবহাওয়া অধিদপ্তর, জাপান সরকার ও রাজউক মিলে এ বিষয়ে কাজ করছে।

    বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) মেনে চলতে পারলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে নতুন ভবনগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকবে না। এটা সবাইকে মেনে চলতে হবে, বলেন রঞ্জিৎ কুমার সেন।

    যা করতে হবে
    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মানার কোনো বিকল্প নেই। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলতে হবে। বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তুলতে হবে, উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর জনবল বাড়াতে হবে।

    তারা আরও বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে মানুষকে সচেতন করা খুবই জরুরি। পাঠ্যসূচিতে ভূমিকম্পসহ দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    নতুন ভবন ভূমিকম্প সহনীয় করে বানাতে হবে জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ভূতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জিল্লুর রহমান বলেন, বিল্ডিং কোড মেনে ভবন করতে হবে। আর পুরোনোগুলো রেট্রোফিটিং বা ভূমিকম্প সহনীয় করার জন্য সংস্কার করতে হবে। ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ভবন করলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে না। এখন থেকে আগামী ২০ বছর যদি আমরা নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করি তাহলেও ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনা যাবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেন্ট রেজিলিয়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ঝুঁকি কমানোর জন্য আমাদের নানা পদক্ষেপ নিতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ভূমিকম্প হলে যারা উদ্ধার কার্যক্রম চালাবেন তাদের প্রস্তুত রাখতে হবে। নতুন ভবনের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড মানতে হবে। কোনোস্থানে নতুনভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম চালাতে হলে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিতে হবে।

    নতুন গড়ে ওঠা শহরে ইর্মাজেন্সি রাস্তা, ফায়ার স্টেশনগুলো সঠিক জায়গায় স্থাপন করতে হবে। ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে।

    শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিষয়টি সরকারকে পুরো উপলব্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে বিশদ গবেষণারও প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সিসমিক সোর্স মডিউলিং করা। এরপর ধাপে ধাপে পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, সরকার অনেক কিছু করছে। একটা সময় মানুষ ভূমিকম্প নিয়ে সেভাবে কিছু জানতোই না। বিষয়টি আলোচনাই হতো না। গত ১০ বছরে মানুষ জানে ভূমিকম্প কী। এ বিষয়ে অনেক সচেতনতা এসেছে। এটা সরকারের পদক্ষেপের কারণেই সম্ভব হয়েছে। মানুষকে সচেতন করার কাজটি আরও এগিয়ে নিতে হবে

    ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, দুর্বল ভবনগুলো দ্রুত ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করতে হবে। নতুন ভবনগুলো অবশ্যই বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া প্রচুর সংখ্যক ভলান্টিয়ার তৈরি করতে হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভূমিকম্পসহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলার মৌলিক বিষয় যুক্ত করতে হবে। তাহলে সচেতন নাগরিক হিসেবে সে গড়ে উঠবে।

    ‘রানা প্লাজা ধসের পর পুরো উদ্ধার করতে এক মাসের মতো সময় লেগেছে। এখন ঢাকায় যদি ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধসে পড়ে তবে কী অবস্থা হবে! তাই এসব দুর্যোগ একাধিক উপায়ে মোকাবিলা করতে হবে।’

    ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক আরও বলেন, নানা ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন নতুন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন তৈরি হচ্ছে। জনবল নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে সরঞ্জাম কেনার কাজ ক্রমাগত চলছে।

  • গরম বাড়বে, সোমবারও ৬ বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

    গরম বাড়বে, সোমবারও ৬ বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

    সোমবারও দেশের ৬ বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে দিনের তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

    অপরদিকে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    রোববার (২৭ মার্চ) রাতে ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ঝড় বৃষ্টি হয়েছে। রোববার ভোর ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় সর্বোচ্চ ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়  সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু/এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

    রাজশাহী, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে জানিয়ে হামিদ মিয়া বলেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    সোমবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    সোমবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে, ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল রাজশাহীতে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস

  • ৪০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

    ৪০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

    ঢাকাসহ চার অঞ্চলে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আভাস রয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    রোববার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় এ পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।

    এ অবস্থায় সোমবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।

    অন্যদিকে রাজশাহী, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা প্রশমিত হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঢাকায় দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। আগামী মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) পর্যন্ত বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আর বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হবে।

    রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যথাক্রমে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে ১১ মিলিমিটার।

  • ৭ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, কমতে পারে তাপমাত্রা

    ৭ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, কমতে পারে তাপমাত্রা

    দেশের সাত জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছে সংস্থাটি।

    অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হওয়ার পর তা মিয়ানমারের স্থলভাগে নিঃশেষ হয়ে গেছে।

    মিয়ানমার উপকূল এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি স্থলভাগে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে প্রথমে সুষ্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরবর্তীতে মিয়ানমার ভূখণ্ডে লঘুচাপে পরিণত হয়ে গুরুত্বহীন হয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

    ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়ে নাজমুল হক বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    আগামী তিনদিনে দেশের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ আবহাওয়াবিদ।

    বৃহস্পতিবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল তেঁতুলিয়ায়। বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙ্গামাটিতে, ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • সাগরে গভীর নিম্নচাপ, সন্ধ্যা নাগাদ পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে

    সাগরে গভীর নিম্নচাপ, সন্ধ্যা নাগাদ পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে

    আরও শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপ অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের ঠিক আগের পর্যায়ে এসেছে। এটি এখনো বাংলাদেশ থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে রয়েছে। গভীর নিম্নচাপটি বিকেল নাগাদ ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’-তে পরিণত হতে পারে।

    এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে ‘আসানি’র প্রভাব বাংলাদেশে তেমন পড়ার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এটি সমুদ্রে থাকতেই অনেকটা দুর্বল হয়ে যাবে, এরপর মিয়ানমারের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    সোমবার (২১ মার্চ) সকালে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে এক হাজার ১৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল।

    তিনি আরও বলেন, ‘এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে বিকেল নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

    গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর মাঝারি ধরনের উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    আবুল কালাম মল্লিক আরও জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

  • দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে

    দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে

    গত কিছুদিনের মতো আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    রোববার (১৩ মার্চ) বসন্তের প্রথম মাস ফাল্গুনের ২৮ তারিখ। এরই মধ্যে গরম পড়তে শুরু করেছে। তবে তাপমাত্রা এখনও অসহনীয় হয়ে ওঠেনি।

    রোববার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিলো তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো, ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো সিলেটে, ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

    রোববার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে জানিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’

    আগামী তিন দিনের মধ্যে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ মিয়া।

  • তিনদিনের মধ্যে বাড়তে পারে তাপমাত্রা

    তিনদিনের মধ্যে বাড়তে পারে তাপমাত্রা

    দিন ও রাতের তাপমাত্রা গত কয়েকদিন অনেকটাই অপরিবর্তিত রয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আবারও বৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    শনিবার (১২ মার্চ) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল ছিল তেঁতুলিয়ায়। শুক্রবার (১১ মার্চ) সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল সিলেটে। একদিন আগে যা ছিল ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এসময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    তবে আগামী তিনদিনের মধ্যে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন এ আবহাওয়াবিদ।

    আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এসময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    তবে আগামী তিনদিনের মধ্যে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন এ আবহাওয়াবিদ।

  • লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে সাগরে, হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি

    লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে সাগরে, হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি

    সাগরে একটি স্বাভাবিক লঘুচাপ রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
    ফলে আগামী দু’তিন দিনে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে।

    আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে, তবে খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোরের দিকে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে নদী-অববাহিকায় হালকা কুয়াশা পড়বে।

    সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ঢাকায় পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকবে আট থেকে ১২ কিলোমিটার

    মঙ্গলবার নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে।

    ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, লঘুচাপের প্রভাবে চলতি সপ্তাহের শেষাংশে পশ্চিমবঙ্গসহ আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত বাড়বে। এক্ষেত্রে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    এদিকে শীতের আবহ কমে গিয়ে বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। কেবল দিনে নয়, রাতের তাপমাত্রাও বাড়ছে।

    রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়, ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সীতাকুণ্ড ও ফেনীতে, ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • বরিশালে ফুটেছে ঋতুরাজ বসন্তের শিমুল ফুল

    বরিশালে ফুটেছে ঋতুরাজ বসন্তের শিমুল ফুল

    দখিনা হাওয়ায় কুসুম বনের বুকের কাঁপনে, চঞ্চল মৌমাছিদের ডানায়, পল্লব মর্মরে, বিবর্ণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠার সময়ে আর বনতলে কোকিলের কুহুতান জানান দিচ্ছে- ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।

    বসন্তের আগমন টের পাওয়া যাচ্ছে গাছের দিকে তাকালেই। নতুন পাতা আর ফুলে ছেঁয়ে যাওয়ার দিন শুরু হলো বলে।এ এক অপার্থিব সৌন্দর্য! শীতে শীর্ণ গাছগুলো অনেক ঝরিয়েছে পাতা। ফাগুনের ঝিরিঝিরি দখিনা বাতাসে অল্প অল্প উড়ছে ঝরা পাতাগুলো

    বনে বনে ধ্বনিত হচ্ছে পাতা ঝরার গান। একটু ওমের পরশ পেতেই গাছের ডালে ডালে উঁকি দিচ্ছে নতুন পাতা, নতুন কুঁড়ি।বসন্তের আগমনে নবপত্রপল্লবে শোভিত হয়ে উঠছে বনরাজি, ফুলের বাগান। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বনরাজির এই বসন্ত রূপকে বলেছেন, ‘এলো বনান্তে পাগল বসন্ত/ বনে বনে মনে মনে রং সে ছড়ায় রে, চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।

    এখন যেন শুধুই অপেক্ষা বসন্তের আগমনের।মাঘের শেষে বিকেলের সূর্যটা হেলে পড়েছে পশ্চিমে। ম্রিয়মাণ আলুথালু সূর্যের আলো এসে পড়েছে বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান,শিশু পার্কের বেশ কিছু গাছে ফোটা ফুলগুলোর গায়ে।

    রৌদ্রবতী সে ফুলের নাম রুদ্রপলাশ। এ ফুলের রং হয় সাধারণত লাল, পলাশের মতোই। কিন্তু এই দুর্লভ বাসন্তী রঙের রুদ্রপলাশগুলো দেখে শিহরিত হলাম।

    বসন্তের ফুল পলাশ। এ দেশের অনেক জায়গায় ফোটে এই ফুল। শিমুল-পলাশকে বলা হয় বসন্তের প্রতীক। এই শিমুল ও পলাশের লাল ছাড়া হলুদ ফুলেরও দেখা মেলে এ দেশে।

    বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের গার্ডেনে রয়েছে হলুদ পলাশের গাছ। সেখানে গেলে দেখা মেলে পাখি ফুল বা লাল ব্রাউনিয়ার।

    আহা কী লাল থোকায় ঠাসা ফুলের মঞ্জরি! সবুজ পত্রপল্লবের ঘন পাতার মধ্যে যেন বাংলাদেশের পতাকা। সে উদ্যানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

    তবে ফুলের অভূতপূর্ব স্ফুরণ চোখে পড়ে বরিশাল বা দখিনের উপকূলীয় অঞ্চলের ডোবাগুলোয় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে পানিয়া মাদারের গাছ ও রক্ত লাল বর্ণের ফুল। এছাড়াও রয়েছে প্রতিটি গাছে আমের মুকুল।

    যেদিকে দু-চোখ পরে লাল-হলুদের সমরহে মুখর চারিপাশ।ফোটা ফুলের মধুনিতে ভোমরের পাশাপাশি আসে অতিথি পাখিরদল। আবার একটু গ্রাম অঞ্চলের দিকে গেলে দেখা মিলবে কলই শাক ও কাচা ধান গাছে সৃষ্ট সবুজের এক সৌন্দর্যের লীলাভুমি।