Category: ক্যাম্পাস

  • প্রথমবারের মতো ববির আকাশে উড়লো শিক্ষার্থীদের তৈরি ড্রোন

    প্রথমবারের মতো ববির আকাশে উড়লো শিক্ষার্থীদের তৈরি ড্রোন

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. সোহেল মাহামুদ, আহম্মদ সাবির, জুবায়ের আবদুল্লাহ জয়, আবু সাঈদ মো. আফ্রিদি ও মীর সামিউর রহিম সাদের সফল প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে নিজেদের তৈরি ড্রোন উড়লো।

    সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণের সফল উড্ডয়নের উদ্বোধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক।

    এসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত ছিলেন সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট রাহাত হোসাইন ফয়সাল, সিএসই বিভাগের প্রভাষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হকসহ সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

    উপাচার্য শিক্ষার্থীদের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। ড্রোনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

    উদ্বোধনের পর ড্রোনটি উড়িয়ে দেখান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আবদুল্লাহ জয়।

    এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা করতালির মাধ্যমে নির্মাতাদের উৎসাহ দেন। এর মাধ্যমে ‘অটোমেটেড ক্রপস কোয়ালিটি মনিটরিং ইউজিং ড্রোন সার্ভেলেন্স অ্যান্ড ইমেজ প্রসেসিং’ প্রজেক্টের প্রথম পর্বের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন হলো।

  • বরিশালে সরকারি বিএম কলেজে আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    বরিশালে সরকারি বিএম কলেজে আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএম কলেজের আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর শফিকুর রহমান শিকদার। এসময় উপস্থিত ছিলে উপাধাক্ষ্য স্বপন কুমার পাল, বরিশাল ২ আসনের সাবেক সাংসদ ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক তালুকদার মোঃ ইউনুস।

    ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই বিশাল ব্যাবধানে জয় পেয়েছে সরকারি বিএম কলেজের ঐতিহ্যবাহী বিভাগ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। উদ্বোধনী ম্যাচে সকাল ১১টায় সরকারি বিএম কলেজের একাদশ শ্রেনির বিজ্ঞান শাখার সাথে খেলতে নামে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। ম্যাচের প্রথমার্ধে ১০ ওভার শেষে ৫৬ রান করে মাঠ ছাড়ে একাদশ শ্রেনির বিজ্ঞান বিভাগ। দ্বিতীয় অংশে মাঠে নেমেই মাত্র এক উইকেট খরচ করে হাতে নয় উইকেট রেখেই বিশাল ব্যবধানে জয় পায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। প্রথম ম্যাচেই সাফল্যের দেখা পেয়ে উল্লাস প্রকাশ করে বিজয় মিছিল করেন দর্শক সাড়িতে থাকা শিক্ষার্থীরা।

    এছাড়াও শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে সার্বক্ষনিক মাঠে ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর খান মোঃ গাউস মুসাদ্দিক, সহযোগী অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, সহযোগী অধ্যাপক আকতার উদ্দিন চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপ কানিজ ফাতেমা, সহকারী অধ্যাপক এম.এম. তারিকুজ্জামান, প্রভাষক সেকান্দার তানভীর। এছাড়াও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোকলেসুর রাহমান মনি সহ বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বরিশাল নূরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিনব কৌশলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ!

    বরিশাল নূরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিনব কৌশলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ!

    নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে বরিশালের এস এস সি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিনব কায়দায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ তোলা হয়েছে নগরীর নূরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন কোচিংয়ের নামে অথবা বিভিন্ন খাত দেখিয়ে জোড় পূর্বক অগ্রীম অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এবার শিক্ষা মন্ত্রানালয় নির্ধারিত শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত ফি কোনক্রমেই নেওয়া যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জনপ্রতি বোর্ডের নির্ধারিত ফিঃ ১) মানবিকঃ নিয়মিত- ১৬৩০ টাকা, অনিয়মিত-১৭৩০ টাকা। ২) বিজ্ঞানঃ নিয়মিত-১৭২০ টাকা, অনিয়মিতঃ ১৮২০ টাকা। ৩) ব্যবসায় শিক্ষাঃ নিয়মিত- ১৬৩০ টাকা, অনিয়মিত- ১৭৩০ টাকা। এছাড়া ব্যবহারিক ফি বাবদ ২৫ টাকা আদায় করা যাবে বলা হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তার উল্টো চিত্র। বরিশালে বিভিন্ন স্কুলে কোচিংয়ের অযুহাত দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে স্কুলগুলো, কোন কোন স্কুলে নোটিশ দিয়ে আবার কোথাও নোটিশ ছাড়াই আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত এ অর্থ। নূরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোচিংয়ের দোহাই দিয়ে অগ্রিম টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন কোচিং ফি বা বিশেষ ক্লাস এর নাম করে মাসিক ফি ১০০০ টাকা করে সর্বোমোট ২০০০ টাকা এবং বোর্ড ফি সহ বিজ্ঞান বিভাগ-৩৭৪৫ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা ৩৬৫৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। আর এই টাকা আদায় করা হচ্ছে বোর্ড ফি এর সঙ্গে। কোচিং ফি না দিলে ফর্ম ফিলাপ করতে দিচ্ছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ এমনটা জানিয়েছেন অনেকেই। এবং রসিদ চাইলে তা দিতেও নারাজ স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা জানায় তাদের দ্বারা জোড়পূর্বক অতিরিক্ত ক্লাস অর্থ্যাৎ কোচিংয়ের জন্য আবেদন করিয়ে কোচিং চালু করা হয়। আইনি বাধা পেরোনোর জন্য এমন অভিনব কৌশল করেছে নূরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় বলে দাবী করেন তারা। অভিভাবকরা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন প্রতি বছর স্কুল কর্তৃপক্ষ নানা কৌশলে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন, এতে তাদেরকে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বাড়তি ফি আদায় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলেও কোন লাভ হয়নি উক্ত বিদ্যালয়ে। এবিষয়ে জানতে চেয়ে নুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমরা সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো টাকা নিচ্ছি না। কোচিং বা বিশেষ ক্লাসের নামকরে টাকা নেয়া যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের নীতিমালায় বলা হয়েছে, দূর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল সময়ের বাইরে বা সময় থাকলে স্কুলের সময়ের মধ্যেই বিশেষ ক্লাস নেয়ার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: ইউনুস জানান, কোন প্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করে এবং অভিযোগ প্রমানিত হয় তবে প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • বাবুগঞ্জে চরমপন্থী তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী শহিদুল পিএসসি পরীক্ষার ম্যাজিস্ট্রেট!

    বাবুগঞ্জে চরমপন্থী তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী শহিদুল পিএসসি পরীক্ষার ম্যাজিস্ট্রেট!

    দুর্নীতি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায়ে অভিযুক্ত এক সময়ের সর্বহারা জিয়া গ্রুপের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক ও জামায়াত শিবিরের ক্যাডার বাবুগঞ্জের এক তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীকে জেএসসি পরীক্ষার পরে এবার পিএসসি পরীক্ষাতেও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের চেয়ে নিম্নশ্রেণীর এক বিতর্কিত কর্মচারীকে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা অর্পণ করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সবাই।

    পিএসসি পরীক্ষায় ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন অফিসের ক্রেডিট সুপারভাইজার এ.কে.এম শহিদুল ইসলামের খুঁটির জোর নিয়েও জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এ ঘটনায় উপজেলার শিক্ষক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইউএনও’র ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান নিজেও।

    ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পিএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্রের সচিব, হল সুপার ও শিক্ষক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের ক্রেডিট সুপারভাইজার এ.কে.এম শহিদুল ইসলাম একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। উপজেলায় ৪০ জনের ওপরে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা থাকতেও একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীকে বারেবারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ইউএনও’র বদান্যতা ও সুনজরে থাকায় এর আগেও জেএসসি পরীক্ষায় একই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল তাকে। তখন তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি, শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও বেপরোয়া ঘুষবাণিজ্য অভিযোগ থাকলেও তাতে কর্নপাত করেননি ইউএনও। এসব অভিযোগ জানানো হলেও তা অগ্রাহ্য করে তাকে আবার আসন্ন পিএসসি পরীক্ষায়ও একই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাহিদুর রহমান সিকদার জানান, সর্বহারা অধ্যুষিত শরিকল গ্রামের বাসিন্দা এ.কে.এম শহিদুল ইসলাম ছাত্রজীবনে জামায়াত শিবিরের রগকাটা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সাহসিকতার কারণে তিনি সর্বহারা জিয়া গ্রুপের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন ছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে তিনি তার মামা এমপি জহির উদ্দিন স্বপনের ক্যাডার হিসেবে তার সুপারিশে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ক্রেডিট সুপারভাইজার পদে চাকরি লাভ করেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তিনি খোলস পাল্টিয়ে বাবুগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সখ্যতা তৈরি করে আওয়ামী লীগ বনে যান। তিনি ইউএনও অফিসের দালাল হিসেবে একই উপজেলায় ২৩ বছর যাবৎ চাকরি করছেন। বর্তমান পিএসসি পরীক্ষার আগে জেএসসি পরীক্ষায়ও উপজেলা থেকে তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ওই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রের সচিবদের কাছ থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেছেন। শিক্ষকদের হয়রানি করা ছাড়াও এমনকি ভূতেরদিয়া কেন্দ্রে তিনি ছাত্রীদের তল্লাশীর নামে অসংখ্য ছাত্রীর শরীরে এবং স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দিয়ে তাদের শ্লীলতাহানি করেছেন। শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি শিক্ষকদেরও তার ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাবলে গ্রেফতার এবং বহিস্কার করার হুমকি দিয়েছিলেন। জেএসসি পরীক্ষায় এসব অপকর্ম করার পরেও প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা বাদ দিয়ে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী সেই বিতর্কিত একই ব্যক্তিকে পিএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব দিলে শিক্ষকরা তা কিছুতেই মানবে না বলে জানান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমেদ খান।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের এক কর্তকর্তা বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের শুধু ম্যাজিস্ট্রেট নয়, এর আগে তাকে ভিজিডি, ভিজিএফ, ওএমএস চাল বিতরণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ট্যাগ অফিসার হিসেবেও উপজেলা থেকে নিয়োগ করা হয়েছে। ওই চাল বিতরণে বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক অনিয়ম করেন তিনি। এনমকি চাল উত্তোলন না করে অর্ধেক চাল গোডাউনে বসেই বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ঈদের বিশেষ ভিজিএফ চাল বিতরণে কেদারপুরের ট্যাগ অফিসার হিসেবে ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে ২ মে.টন চাল খাদ্য গুদামে আটকে রাখেন তিনি। অথচ এতকিছুর পরেও শুধু প্রশাসনের দালালি করায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে সামান্য একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীকেই বারেবারে কর্মকর্তা বানিয়ে সরকারি বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    গ্রামীণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন জানান, ছাত্রজীবনে জামায়াত শিবিরের রগকাটা বাহিনী থেকে সর্বহারা জিয়া গ্রুপের বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক মাইনউদ্দিন সিকদারের প্রধান সহযোগী ছিলেন এ.কে.এম শহিদুল ইসলাম। ১৯৯১ সালে তিনি সর্বহারা জিয়া গ্রুপের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক নির্বাচিত হন। বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের বিএনপির সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনের ভাগ্নে হওয়ায় তার বিশ্বস্ত ক্যাডার হিসেবে বিভিন্ন অপারেশনে নেতৃত্ব দিতেন তিনি। শহিদুলের নেতৃত্বেই সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর গ্রামের বাড়ি ও আওয়ামী লীগ পার্টি অফিসে হামলা হয়েছিল। সেই কাজের পুরস্কার হিসেবে মামা জহির উদ্দিন স্বপন এমপির সুপারিশে তৎকালীন বিএনপি সরকার ১৯৯৫ সালে তাকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ক্রেডিট সুপারভাইজার পদে চাকরি দেয়। আওয়ামী লীগের ওপরে সশস্ত্র হামলার পুরস্কার হিসেবে ওই চাকরি পেলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি শরিকল থেকে পালিয়ে খানপুরায় আত্মগোপন করেন। সেখানে নতুন বসতি গড়ে স্থানীয় এক হোমিও পল্লী চিকিৎসকের সুন্দরী মেয়েকে হুমকির মুখে প্রেমের সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করেন এবং পরবর্তীতে অস্ত্রের মুখে তাকে বিয়ে করেন। তিনি বিগত ২০১০ সালে গ্রামীণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থায় এসে নিজেকে সর্বহারা জিয়া গ্রুপের আঞ্চলিক পরিচালক দাবি করে ২ লাখ চাঁদা চেয়েছিলেন। সেই চাঁদার দাবিতে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে এসে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আমাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন মুক্তার হোসেন। তখন এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আসমা বেগমের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান মুক্তার হোসেন।

    এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আসমা আক্তার লুনা বলেন, ক্রেডিট সুপারভাইজার শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এনজিও চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেনের লিখিত অভিযোগ ছাড়াও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। বিগত ২০১৪ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামসুজ্জামানকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারপিট করেছিলেন তিনি। এ কারণে তখন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত খুঁটি জোরে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবার স্বপদে বহাল হন। তাকে চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলায় বদলী করা হলেও তদবিরের জোরে ওই আদেশ বাতিল করিয়ে বাবুগঞ্জেই থেকে যান। বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাদের দালালি করার পাশাপাশি গৌরনদীর বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনের ভাগ্নে হওয়ায় তিনি বিএনপি সরকারের আমলেও মামার পরিচয়ে একছত্র দাপট ও অধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। ফলে তৃতীয় শ্রেণীর সামান্য কর্মচারী হয়ে নিজ দপ্তরের উপ-পরিচালককে মারপিট করার পরেও ২৩ বছর একই উপজেলায় বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন।

    এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিত কুমার স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, শহিদুল ইসলাম পূর্বে কী করেছেন সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। সরকারি বিধিমতে ইউএনও’র প্রতিনিধি হিসেবে একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান থাকলেও প্রথম অথবা দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীকেও ক্ষমতা প্রদান করা যায়। সেটা ইউএনও’র ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। সে যদি সঠিকভাবে তার তার দায়িত্বে পালন করতে পারে তবে তৃতীয় শ্রেণী হলেও সমস্যা কোথায়? শহিদুলের বিরুদ্ধে বাইরে হাজার অভিযোগ থাকলেও আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দায়িত্ব থেকে তখন বাদ দেওয়া হবে বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)

  • ঢাবিতে মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষা দিতে আসা সেই ছেলেটি পাস করেছে

    ঢাবিতে মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষা দিতে আসা সেই ছেলেটি পাস করেছে

    কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, ১৭/১৮ বছর বয়সী এক ছেলেকে কোলে করে পরীক্ষা কক্ষে পৌঁছে দিচ্ছেন তার মা। গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদের অধীন ‘খ’ ইউনিটের ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ঘটনা এটি। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত সেই পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে ফেল করেছে ৮৬ শতাংশ এবং পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী। অথচ এই স্বপ্ল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষা হলে আসা সেই হৃদয় সরকারও।

    ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তার অবস্থান ৩৭৪০তম। মেধায় পাস করলেই কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটা পাওয়া যায়। আর তাই আশা করা হচ্ছে, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো একটি বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাবে।

    জানা গেছে, হৃদয় সরকারের বাড়ি নেত্রকোনায়। সে হাঁটতে পারে না। এমনকি তার হাতের সব আঙ্গুলও কাজ করে না। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার দিন ছেলেকে কোলে করে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দেন তার মা। কলেজে থাকতেও প্রতিদিন মা তাকে ৪তলা করে উপরে উঠাতো আর নামাতো।

  • ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে ঢাবির লিভ টু আপিল

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে ঢাবির লিভ টু আপিল

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে রবিবার লিভ টু আপিলের আবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) দিতে হবে।

    প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন হওয়া কথা থাকলেও সর্বশেষ এ নির্বাচন হয়েছিল ২৮ বছর আগে, ১৯৯০ সালের ৬ জুলাই। ২০১২ সালে ২৫ শিক্ষার্থীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামানসহ প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী ও কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দিনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

    হাই কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে পাঠানো আইনি নোটিশের যথাযথ জবাব না দেওয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

    নির্বাচন নিয়ে গতকাল বরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাবি উপাচার্য জানিয়েছিলেন আগামী মার্চে হবে ডাকসু নির্বাচন।

    বৈঠক শেষে কবে ডাকসু নির্বাচন দেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রভোস্ট কমিটি, শৃঙখলা পরিষদ ও সিন্ডিকেট থেকে একটি নির্দেশনা তো আগেই দেয়া আছে। ডাকসু নির্বাচনের জন্য কাজের যে লোড, যে কর্মপরিধি তা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এই কমিটিগুলো একটা নির্দেশনা ইতোমধ্যেই দিয়েছে, সেটা হলো মার্চ, ২০১৯। এই নিরিখে এখন পর্যন্ত আমাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। আশা করি অক্টোবরের মধ্যে খসড়া যে ভোটার তালিকা সেটি প্রণয়ন করবো। এই ভোটার তালিকা প্রণয়ন একটি জটিল কাজ। সেটি করতে পারলে অনেক এগিয়ে যাবো।

  • যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে ছাত্রীকে চাকরির আশ্বাস ববি রেজিস্ট্রারের

    যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে ছাত্রীকে চাকরির আশ্বাস ববি রেজিস্ট্রারের

    শেখ সুমন:

    চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রীর কাছে ভিডিও কলে যৌন সম্পর্কের আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ছাত্রী বরিশালের একটি সরকারি কলেজের স্নাতকে অধ্যয়নরত। চাকরি পাইয়ে দিতে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে ওই ছাত্রীকে গভীর রাতে নির্জন বাসায় ডাকার অভিযোগ উঠেছে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে।

    শুধু তাই নয়, গভীর রাতে ওই ছাত্রীর মুঠোফোনে ভিডিও কল দিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন যৌন হয়রানির অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বরিশালের সুশীল সমাজ। এদিকে একের পর এক নৈতিক স্খলনের ঘটনায় অভিযুক্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত বৃহস্পতিবার উপাচার্যের কাছে গিয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

    তখন উপাচার্য তাদের লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। অন্যদিকে শুধু এই ছাত্রীকেই নয়, এর আগে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানিসহ তাকে তার সাথে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আছে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ওই নারী শারীরিক শিক্ষা কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তখন তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিলো কর্তৃপক্ষ।

    কিন্তু তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চকর্তা উপাচার্যের বিরুদ্ধে। একজন নারী কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানির ঘটনা চেপে যাওয়ায় উপাচার্যের প্রশ্রয়ে দিন দিন রেজিস্ট্রার মনিরুল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ অনেকের। এছাড়াও রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে এলাকাপ্রীতিসহ লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানান, তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। এক বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। মা অনেক কষ্ট করে তাকে গ্রামের স্কুল-কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পাশ করিয়ে বরিশাল নগরীর একটি সরকারি কলেজে ভর্তি করিয়েছেন। মাকে একটু স্বস্তি দিতে স্নাতক অধ্যায়নের পাশাপাশি তিনি একটি মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানীর বিভিন্ন প্যাকেজ প্রকল্পে পার্টটাইম চাকরি করতেন। একই সাথে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির আবেদন করতে থাকেন তিনি।

    ইতোপূর্বে দুইবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির আবেদন করেন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু তার চাকরি হয়নি। এরপর তৃতীয় দফায় গত মে মাসে আবারও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির আবেদন করেন তিনি। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার হলে এন্ড্রয়েড মুঠোফোন ব্যবহারসহ নানা সুবিধার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ মাস্টাররোল কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে চাকরি স্থায়ী করায় তার চাকরি হয়নি বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর।

    এই সময়ে ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের সাথে পরিচয় হয় তার। প্রথমদিকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে সালাম ও কুশল বিনিময় হতো মাত্র। সময় গড়ানোর সাথে সাথে নম্বর চেয়ে নিয়ে ওই ছাত্রীর মুঠোফোনে কল দিতে থাকেন মনিরুল। জানতে চান ছাত্রীর বিস্তারিত পরিচয়। ওই ছাত্রীও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার নিয়মকানুন জানতে চান। ওই ছাত্রীর দুর্বলতার সুযোগে রেজিস্ট্রার মনিরুল গত রমজানের শুরুর দিকে এক পর্যায়ে তাকে রাতে ভিডিও কল দিতে শুরু করেন। তিনি রূপাতলী হাউজিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা বাসায় একা থাকেন এবং সরকারি কলেজে চাকুরে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে ঢাকায় থাকেন বলে জানিয়ে নিজের একাকিত্ব প্রকাশ করেন।

    নিজের একাকিত্বের কথা বলে ওই ছাত্রীর অনুগ্রহ পাওয়ার আশা করেন এবং তাকে রূপাতলী হাউজিংয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় আমন্ত্রণ জানান। ফেসবুক মেসেঞ্জারে এবং ভিডিও কলে ওই ছাত্রী ভয়ে তার বাসায় যেতে চায়না বলে তার ভয় ভাঙানোর চেষ্টা করেন। শুধু রাতে ভিডিও কল দিয়েই নয়, রমজান মাসের শেষের দিকে দিনেও বিভিন্ন স্থানে দেখা করার জন্য ডাকতেন ওই ছাত্রীকে।

    কিন্তু ওই ছাত্রী নানা কারণ-অজুহাতে এড়িয়ে চলতেন। এতে বিমুখ হয়ে রেজিস্ট্রার মনিরুল ওই ছাত্রীকে মুঠোফোনে ভিডিও কলে বলেন, ‘তুমি আমার জন্য কিছুই করোনি, একা থাকি জেনে তুমি এড়িয়ে চলো’। এসব কথা বলতে বলতে রেজিস্ট্রার মনিরুল নিজের আবেগ সংবরণ করতে না পেরে নিজেই নিজের গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করেন বলে জানান ওই ছাত্রী। ওই ছাত্রী বলেন, রেজিস্ট্রার মনিরুল গোপনাঙ্গ দেখিয়ে সুযোগ পেলেই তাকে মাস্টাররোলে চাকরি দেওয়ার কথা বলেন। কোন ধরনের উস্কানীমূলক কথাবার্তা ছাড়া ভিডিও কলে গোপনাঙ্গ দেখানোয় ওই ছাত্রী বিস্মিত এবং হতবাক হন। গোপনাঙ্গ দেখিয়ে বাসায় ডাকায় সম্ভ্রম হারানোর ভয়ে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বাসায় যাননি ওই ছাত্রী। তবে মনিরুল তার ক্ষতি না করার জন্য অনুরোধ করেন ওই ছাত্রীকে।

    এর আগে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টরকে বিভিন্ন সময় যৌন সঙ্গমের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে। ওই সময় সেলিনা বেগম এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তখন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ওই কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি অভিযুক্ত মনিরুলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

    সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি নারী নেত্রী অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী এক ছাত্রীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে মনিরুল ইসলামের অনৈতিক আচরণ দুঃখজনক। তিনি বলেন, গত বছর রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে এক নারী কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য কঠোর উপাচার্য কঠোর ব্যবস্থা নিলে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। এই ধরনের ঘটনার প্রতিরোধ এবং প্রতিবাদ হওয়া উচিত। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী নৈতিক স্খলনের দায়ে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা।

    টিআইবি’র আদলে গঠিত বরিশাল জেলা সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রীকে ভিডিও কলের মাধ্যমে যৌন প্রস্তাব কিংবা গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করে রেজিস্ট্রার মনিরুল আইসিটি এ্যাক্ট অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তিনি ফেসবুকে একজন নারীর সাথে যে আচরণ করেছে তা কোন শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ করতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলে ওই ছাত্রী কিংবা তার পরিবারের মনিরুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রেজিস্ট্রারের এমন অনৈতিক কর্মকান্ড মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে  রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভার পর প্রমাণসহ উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানান আবু জাফর মিয়া।

    এদিকে রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত নৈতিক স্খলনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি কুচক্রি মহল সব সময় তার পেছনে লেগে আছে। তারা বিভিন্নভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। একটি মহল তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটা এডিট করা ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম। ঢাকায় অবস্থানরত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক জানান, রেজিস্ট্রার সম্পর্কিত একটা আনসাইনড অভিযোগ এবং একটা সিডি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

    কিন্তু তার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। শিক্ষক সমিতির নেতারা এ বিষয়ে তার কাছে বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। গত বছর নারী কর্মকর্তাকে রেজিস্ট্রারের যৌন সঙ্গম প্রস্তাবের বিচার না হওয়া প্রসংগে উপাচার্য বলেন, তাদের (নারী কর্মকর্তা ও রেজিস্ট্রার) রেকর্ড করা ফোনালাপ বিশ্লেষণ দেখা দেখা গেছে ওই ঘটনায় দুইজনেরই দোষ ছিলো। শাস্তি দিলে দুইজনকেই দিতে হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির ব্যাপার। তাই দুইজনকেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল।

  • প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ : ১৯ লাখ আবেদন

    প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ : ১৯ লাখ আবেদন

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে নতুন করে আরও ১২ হাজার ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ দেয়া হবে। গত ৩০ আগস্ট অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এসব পদের বিপরীতে সারা দেশে প্রায় ১৯ লাখ প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে ডিপিই মহাপরিচালক আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল জাগো নিউজকে বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে আবেদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এ আবেদন প্রক্রিয়া চলে।

    মহাপরিচালক আবু হেনা বলেন, ১২ হাজার সরকারী শিক্ষক নেয়া হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেকের আগ্রহ থাকায় সারা দেশে ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৭ আবেদন জমা পড়ে। স্বচ্ছতার সঙ্গে এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে লিখিত পরীক্ষার সময় ঘোষণা করা হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ শেষ করা হবে। ডিপিই ওয়েবসাইটে dpe.teletalk.com.bdপ্রবেশপত্র ও যাবতীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।

    জানা গেছে, দেশের ৬৩ জেলার সরকারি বিদ্যালয়ে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে গত ৩০ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিপিই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাকরিবিধি অনুযায়ী আবেদনের ক্ষেত্রে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এতে পুরুষদের জন্য স্নাতক বা সমমানের দ্বিতীয়/বিভাগ বা শ্রেণিতে পাস থাকতে হবে। আর নারীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয়/বিভাগ/সমমানে পাস হতে হবে।

    ডিপিই সূত্র জানায়, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬৪ হাজার ৮২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক শূন্য রয়েছে। এ কারণে নতুন করে রাজস্বখাতভুক্ত আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে নারী আবেদনকারীদের ৬০ শতাংশ কোটায় এইচএসসি বা সমমান পাস এবং পুরুষের জন্য ৪০ শতাংশ কোটায় স্নাতক বা সমমান পাস রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় আসন প্রতি তিনজনকে (একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) নির্বাচন করা হবে।

    ডিপিই’র নিয়োগ শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৪ সালের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বর্তমানে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ ফল প্রকাশ হতে পারে।

  • বিএম কলেজের হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

    বিএম কলেজের হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

    বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের হিসাব রক্ষককারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে জানা যায় সরকারি বিএম কলেজের রাজস্ব খাতে কর্মরত ২৪ জন সরকারি কর্মচারীর পবিত্র ঈদুল ফিতরের বোনাস বাবদ পাওনা ছিল ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা। কিন্তু হিসাব রক্ষককারী শহিদুল ইসলাম কর্মচারীদের বোনাস বাবদ. ৫ লক্ষ ১৯ হাজার ৭০ টাকা উত্তোলন করে ১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

    বিষয়টি ঈদুল আযহার বোনাসের টাকা তুলতে গিয়ে কর্মচারীরা টের পেলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। গত দুদিন যাবত বিষয়টি জানাজানি হলে কলেজে তোলপাড় শুরু হয়। কলেজের হিসাব রক্ষককারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নয়ছয় করে কলেজের আভ্যন্তরীণ খাত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

    তবে এবার খোদ সরকারি কোষাগার থেকে টাকা আত্মসাৎ করে প্রমাণ সহ ধরা খাওয়ায় তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ প্রমাণিত হলো বলে মন্তব্য করেছেন অনেক কর্মচারী।

    এর আগেও কলেজের সাবেক প্রধান সহকারী সাখাওয়াত হোসেন সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিলো। এদিকে একই কলেজের হিসাব সহকারী মোঃ সেলিমের বিরুদ্ধেও রয়েছে এন্তার অভিযোগ। কলেজের শিক্ষকদের সন্তানদের শিক্ষা ভাতার টাকা আত্মসাৎ করে সেলিম। কিন্তু বিএম কলেজে সেলিমের কোন ছেলে মেয়ে পড়াশুনা করে না। সেলিমের এইসব কার্যকলাপের কারনে তার উপর অনেকেই ক্ষুদ্ধ কিন্তু প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে রাজি হন না।

    এব্যাপারে কলেজ অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন টাকাটা ভুলে উত্তোলন করা হয়েছিল, আজকালের মধ্যে চালান কেটে এজিতে জমা দেয়া হবে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর শফিকুর রহমান শিকদারের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও তার নাগাল পাওয়া যায়নি। অধ্যক্ষের কার্যালয়ের টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী জানান তিনি বাহিরে আছেন। কলেজের মুখপাত্র শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এ এস কাইয়ুম উদ্দিন আহমেদ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন ইহাও কি সম্ভব এজি থেকে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে কেউ টাকা তুলে নিয়েছেন? যদি প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উল্লেখ শহিদুল ইসলামের পূর্বের কর্মস্থল স্বরুপকাঠী সরকারি কলেজে থাকাকালীন ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে শহিদুল কে মাথা ন্যাড়া করে আলকাতরা দিয়ে স্বরুপকাঠীর রাস্তায় ঘুরানো হয়। তবে একটি সুত্র দাবি করেছে এর সাথে কলেজের উপর পর্যায়ের সকল আমীর উজিরেরা জড়িত তা না হলে এটা সম্ভব নয়।

  • কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এলেন ৯ শিক্ষার্থী

    কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এলেন ৯ শিক্ষার্থী

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৯ শিক্ষার্থী জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁরা জামিনে বেরিয়ে আসেন। কাল সোমবার আরও ১৩ শিক্ষার্থী মুক্তি পাবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অতিরিক্ত জেলার জাহিদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মুক্তি পাওয়া ৯ শিক্ষার্থী হলেন—বাড্ডা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী রেজা রিফাত ওরফে আখলাক, ভাটারা থানা এলাকায় গ্রেপ্তার আইইউবির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র ফরিদ আহমেদ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান, বাড্ডা থানা এলাকায় গ্রেপ্তার ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ষষ্ঠ বর্ষের ছাত্র সীমান্ত সরকার ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ইক্তিদার হোসেন। এ ছাড়া বাড্ডা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রি ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ইফতেখার আহমেদ ও প্রেসিডেন্সিয়াল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং একাদশ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. হাসানও মুক্তি পেয়েছেন। জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র সামাদ মর্তুজা বিন আজাদ।

    কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ২২ জন শিক্ষার্থীর জামিননামা আদালত থেকে কারাগারে পৌঁছায়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অতিরিক্ত জেলার মোহাম্মদ জাহিদুল আলম  বলেন, বাকি ১৩ জন শিক্ষার্থীকে আগামীকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে।

    ঢাকার থানা ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে ৫২ জন শিক্ষার্থী। আজ ঢাকার আদালতে জামিন চেয়ে ২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে শুনানি করেন।

    শুনানিতে ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এসব ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। মামলার এজাহারেও তাঁদের নাম নেই। সন্দেহজনকভাবে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সবাই ছাত্র। আদালত শুনানি নিয়ে ২৫ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া বাড্ডা থানার মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আজ জামিন পেয়েছেন ১০ জন। আর ভাটারা থানার মামলায় গ্রেপ্তার ৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিন পেয়েছেন ৬ জন। অন্যদিকে, ধানমন্ডি থানার পৃথক তিন মামলায় গ্রেপ্তার ৯ শিক্ষার্থীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। ধানমন্ডি এলাকায় ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার বাকি শিক্ষার্থীদের কারও কারও জামিন শুনানি আগামীকাল হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হন। এরপর ঘাতক বাসচালকের শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।