Category: ধর্ম

  • আল্লাহর কাছে যে ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়

    আল্লাহর কাছে যে ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়

    আল্লাহর কাছে যে ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়’- কথাটি শুনতেই যেন কেমন লাগে। ‘ইসলাম’ নামে এমন কোনো আলাদা জীবন ব্যবস্থা আছে কি? যা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ‘না’, এমন কোনো জীবন ব্যবস্থা নেই। তাহলে এমনটি বলার উদ্দেশ্য কী?

    আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘ইসলাম-ই আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা। আর তা তখনই মানুষের জীবনে বাস্তবায়িত হয়, যখন মানুষ পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পিত করে।

    বর্তমান সময়ে একদল লোক দেখা যায়, যারা ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝার চেষ্টা করে না। তারা ইসলামকে নিতান্তই ব্যক্তিগত বিষয় মনে করে। প্রকৃতার্থে ইসলাম এমন জীবন ব্যবস্থা নয়।

    বরং ইসলাম হলো পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। যেখানে কোনো বিষয়ের ঘাটতি নেই। যা মানুষকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অথনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জীবন পরিচালনায় তার বিধান বা জীবন ব্যবস্থা পেশ করে। ইসলাম এমনই এক জীবন বিধান, যা-
    > পূর্ণ পরিণত
    > যুক্তিসঙ্গত
    > বাস্তবের অগ্নি পরীক্ষায় বার বার পরীক্ষিত জীবন বিধান।

    মানব জীবনের এমন কোনো দিক বা বিষয় নেই, যা ইসলামের আওতাধীন নয়। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইসলাম মানুষের জীবনের সেই পরিপূর্ণতার কথা বার বার ঘোষণা করে।

    এখন প্রশ্ন হলো, ‘আল্লাহর কাছে কোন ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়?’
    > যারা ব্যক্তি জীবনে ইসলামকে মানতে রাজি কিন্তু সমাজ ও জাতীয় জীবনে ইসলামের বিধান প্রতিফলন, বাস্তবায়ন দেখতে নারাজ।
    – যারা ইসলামের কিছু অংশের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মেনে নেয় আর কিছু অংশের প্রতি অবিশ্বাস করে এবং জীবনে বাস্তবায়ন কিংবা মেনে নিতে চায় না।

    আল্লাহ তাআলার কাছে এ রকম খণ্ডিত ইসলাম কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামের কিছু বিধান খুব মন দিয়ে মেনে নেবে আর কিছু অংশ ছেড়ে দেবে। এ ধরনের ইসলাম পালন কোনোভাবেই আল্লাহর কাছে গ্রহণ যোগ্য নয়।

    বরং যদি কেউ ইসলামের কোনো বিষয়ে আপত্তি করে কিংবা মেনে নিতে না পারে; সে ব্যক্তির ঈমানদার হওয়ার ব্যাপারেই প্রশ্ন এসে যায়।

    সুতরাং সাবধান!
    বর্তমান সময়ে আধুনিকতার নামে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে কোনো মুসলমানের সেকুলারিজম তথা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই।

    মনে রাখতে হবে
    ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিম আল্লাহর বিধানের বাইরে অন্য কারো কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। ইসলামকে একমাত্র জীবন বিধান ঘোষণার পর আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে ঘোষনা করেন-
    ‘তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে স্বেচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক সবই আল্লাহর অনুগত হয়েছে আর তার দিকেই ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৮৩)

    সুতরাং পরিপূর্ণ, যুক্তিসম্মত ও বাস্তবের অগ্নি পরীক্ষায় প্রমাণিত ইসলামের প্রতি নিজেদের নিয়োজিত রাখতে কুরআনের এ নির্দেশ মতো জীবন গঠন করা মুসলিম উম্মাহর জন্য একান্ত আবশ্যক। আর তাহলো-
    ‘রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো আর যে কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক।’ (সুরা হাশর : আয়াত ৭)

    তাই ইসলামের একান্ত দাবি হলো- মানুষের ব্যক্তি, পরিবার সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করবে। কেননা জীবন পরিচালনায় ইসলামের বাইরে কোনো কাজই আল্লাহ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। ইসলাম বহির্ভূত যে কোনো কাজ বা বিষয়কে পরিহার করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • নামাজে যে দোয়া পড়লে সফল হবে মুমিন

    নামাজে যে দোয়া পড়লে সফল হবে মুমিন

    নামাজে হলো আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সেতুবন্ধনের অন্যতম মাধ্যম। আর দুনিয়া ও আখেরাতে সফল জীবন লাভের অন্যতম রোকন হলো ধীরস্থির রুকু ও সেজদা। তাই রুকু এবং সেজদায় ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা অনেক জরুরি।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ যদি নামাজে তার রুকু, সেজদা চুরি করে অর্থাৎ রুক ও সেজদা যথাযথ আদায় না করে সে আমার উম্মত হয়ে মরতে পারবে না।’ তাহলে রুকু, সেজদায় মুমিন বান্দাকে কী করতে হবে? কী করলে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা যাবে? হাদিসে পাকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে।

    সেজদার আগে বান্দা আল্লাহর সামনে রুকু করেন। বান্দা প্রথমেই রুকুর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মস্তক অবনত করেন। রুকু-সেজদায় ধীরস্থির হলে এক সময় বান্দার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো আল্লাহর দিকে ঝুঁকে যায়।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকুর ছোট-ছোট তাসবিহগুলোর পাশাপাশি রুকুতে এ দোয়ার মাধ্যমে নিজেকে ছোট করে উপস্থাপন করতেন-

    اَللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آَمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِيْ وَبَصَرِيْ وَمُخِّيْ وَعَظْمِيْ وَعَصَبِيْ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা লাকা রাকাআতু, ওয়া বিকা আমাংতু, ওয়া লাকা আসলামতু, খাশাআ লাকা সাময়ি ও বাচারি ওয়া মুখখি ওয়া আজমি ওয়া আসাবি।’

    অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি মহা পবিত্র, তোমার জন্য নত হয়েছি, তোমার কাছে আত্মসর্ম্পন করেছি, তোমার জন্য বিনম্রতায় নত হয়েছে, আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার অস্থি এবং আমার সব অনুভূতি।’

    এ দোয়াগুলো দিয়ে ধীরস্থিরভাবে কিছুদিন রুকু করলেই মানুষের প্রতিটি অঙ্গই মহান আল্লাহর দিকে ঝুঁকে যাবে। প্রতিটি অঙ্গই আল্লাহর কাছে নত হয়ে যাবে।

    হাদিসে এসেছে, বিশ্বনবি যতটুকু সময় রুকুতে থাকতেন, প্রায় ততটুকু সময় রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। এ সময়গুলোতে ধীরস্থিরভাবে আল্লাহর প্রশংসা করতেন-

    رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ

    উচ্চারণ, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ। হামদান কাছিরান তাইয়্যেবান মুবারাকান ফিহি।

    এ প্রশংসা বাক্যগুলো মহান আল্লাহর জন্য। তাছাড়া সেজদার তাসবিহগুলো বান্দাকে আল্লাহর খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়। তাই সেজদায়ও আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে দোয়া করতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

    ‘বান্দা যখন নামাজে সেজদা দেয়, তখন বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছে চলে যায়।’

    কাজেই সেজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাওয়া এবং চাইতে থাকা একান্ত আবশ্যক। তবেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে চাহিদা মোতাবেক দান করবেন। প্রিয় নবি সেজদায় গিয়ে পড়তেন-

    اَللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آَمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيْ لِلَّذِيْ خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ اللهُ أحْسَنُ الْخَالِقِيْن

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সাঝাদতু ওয়া বিকা আমাংতু ওয়া লাকা আসলামতু। সাজাদা ওয়াঝহি লিল্লাজি খালাক্বাহু ওয়া সাওয়্যারাহু ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাছারাহু। তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিক্বিন।

    অর্থ : হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সিজদা করছি। একমাত্র তোমার প্রতিই ঈমান এনেছি এবং তোমার কাছেই আত্মসমর্পন করেছি। আমার মুখমণ্ডল ওই সত্ত্বার জন্য সেজদাবনত হয়েছে, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, সুসমন্বিত আকৃতি দিয়েছেন এবং তাতে কান ও চক্ষু স্থাপন করেছেন। নিপুনতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা কত কল্যাণময়!’

    সেজদায় ছোট ছোট দোয়ার মাধ্যমেই বান্দার সব চাওয়া পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তাতে হাদিসে ঘোষিত প্রিয় নবির চমৎকার মাসনুন দোয়াগুলো পড়া জরুরি-

    اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা; ওয়াত তুক্বা; ওয়াল আ’ফাফা; ওয়াল গেনা।

    অর্থ : হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে হেদায়েত কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা পরহেজগারি কামনা করি এবং আপনার কাছে সুস্থতা তথা নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ তথা সামর্থ্য কামনা করি। (মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

    কুরআনের সবচেয়ে বরকতময় দোয়া পড়া-

    رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতও ওয়াক্বিনা আজাবান নার।’

    কুরআনের এ দোয়াটি পড়লে বান্দার দুনিয়া ও পরকালে কোনো অভাব থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বান্দার সব চাওয়াকে পূর্ণ করে আলোকিত জীবন দান করেন।

    অতঃপর প্রথম সেজদা থেকে ওঠে সোজা হয়ে বসে ধীরস্থিরভাবে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় দোয়া করা। যে দোয়ায় সব চাওয়া হয়ে যায়। বান্দার জন্য কোনো কিছু বাকি থাকে না। প্রিয় নবি বলতেন- –

    رَبِّى اغْفِرلِىْ وَارْحَمْنِىْ وَارْزُقْنِىْ وَاهْدِنِىْ وَ عَافِنِىْ وَاعْفُ عَنِّىْ وَاجْبُرْنِىْ وَارْفَعْنِىْ

    উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়ারহামনি ওয়ারঝুক্বনি ওয়াহদিনি ওয়া আফিনি, ওয়াফুআন্নি, ওয়াঝবুরনি, ওয়ারফানি।

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন, রহমত দিয়ে আমার জীবন ভরে দিন, আমার রিজিক বাড়িয়ে দিন, আল্লাহ আমাকে হেদায়েত করে দিন, আমাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা ও নিরাপত্তা দিন, আমার ক্ষয়-ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দিন।

    আফসোসের বিষয়!
    বান্দা নামাজের দুই স্থানের রোকন যথাযথ আদায় না করে নষ্ট করেন। রুকু থেকে সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সেজদায় চলে যায় এবং দুই সেজদার মাঝখানে না বসে পুনরায় সেজদায় চলে যায়। যার ফলে মানুষের নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।

    রুকুতে, রুকু থেকে দাঁড়িয়ে, সেজদায় এবং দুই সেজদার মাঝে ধীরস্থিরভাবে এ দোয়াগুলো পড়তে হয়। অথচ মানুষ এ স্থানগুলোতে দোয়াগুলো তো পড়েই না বরং তা অতি তাড়াতাড়ি আদায় করে।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ স্থানগুলোতে ধীরস্থিরভাবে এ দোয়াগুলো পড়তেন, উম্মতে মুহাম্মাদিকে পড়তে বলেছেন।

    একান্তই যদি কেউ এ দোয়াগুলো না জানে, তবে রুকু ও সেজদার এ স্থানগুলোতে একান্ত আপন মনে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করবে। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টায় নিজেকে উৎসর্গ করবে। আর তাতেই বান্দা পেয়ে যাবে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজের রুকুতে, রুকু থেকে দাঁড়ানো অবস্থায়, সেজদায় এবং দুই সেজদার মাঝখানে বসার ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • কানাডায় আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা ২৯ আগস্ট

    কানাডায় আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা ২৯ আগস্ট

    হেফজ বিভাগে মোট ৪টি স্তরে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আর তাহলো-
    >> ৫ পারা হেফজ কুরআন প্রতিযোগিতা।
    >> ১০ পারা হেফজ কুরআন প্রতিযোগিতা।
    >> ২০ পারা ৫ হেফজ কুরআন প্রতিযোগিতা। এবং
    >> পুরো ৩০ পারা হেফজ কুরআন প্রতিযোগিতা।

    কানাডার টরোন্টো শহরের আবু হুরায়রা সেন্টারে (The Abu Huraira Center) আগামী ২৯ আগস্ট শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট চলবে এ প্রতিযোগিতা।

    গতবছর (২০১৮) ডিসেম্বর মাসে এ প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ জন প্রতিযোগি অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণদের মাঝে ৯০ হাজার ডলার পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা।

    কানাডায় কুরআনের এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। প্রতিযোগিতার ফলে ইসলাম ও কুরআনের দিকে আগ্রহী হবে মানুষ। সঠিক পথ লাভ করবে। কুরআনের সূরধারা মানুষকে ইসলামের আলোকিত জীবনে দিকে নিয়ে আসবে।

  • কেয়ামতের দিন প্রত্যেককে নিজের আমলনামা পড়তে বলা হবে

    কেয়ামতের দিন প্রত্যেককে নিজের আমলনামা পড়তে বলা হবে

    ‘(কেয়ামতের দিন প্রত্যেককে বলা হবে) তুমি তোমার কিতাব (আমলনামা) পাঠ করো। আজ তুমি নিজেই তোমার হিসাব-নিকাশের জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১৪)

    তাফসির: গত পর্বে বলা হয়েছিল, প্রত্যেকের যাবতীয় কৃতকর্ম লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়। এই লিপিবদ্ধ দস্তাবেজের নাম আমলনামা। আলোচ্য আয়াতের মূল কথা হলো, কেয়ামতের দিন প্রত্যেকের হাতে হাতে তার আমলনামা দেওয়া হবে। সবাইকে বলা হবে, ‘তুমি তোমার আমলনামা পাঠ করো।’ এই আমলনামা দেখে নিজেরাই নিজেদের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে অবগত হবে।

    কেয়ামতের দিন যাদের হিসাব নেওয়া হবে, তারা দুই শ্রেণিতে বিভক্ত হবে। প্রথম শ্রেণি হলো, যাদের হিসাব খুব সহজ হবে। সেটি শুধু আমলনামা প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন যারই হিসাব নেওয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি জানতে চাইলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ কি বলেননি, যার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, তার হিসাব সহজ করে নেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এটি হচ্ছে শুধু প্রদর্শনের ক্ষেত্রে। আর কেয়ামতের দিন যার হিসাব জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নেওয়া হবে, তাকে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫৩৭)

    দ্বিতীয় শ্রেণি হলো, যাদের হিসাব খুব কঠিন করে নেওয়া হবে। ছোট-বড় প্রত্যেক বিষয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদি তারা মিথ্যা বলে বা তথ্য গোপন করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের মুখে সিলমোহর এঁটে দেওয়া হবে। তখন তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কথা বলতে থাকবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৬৫)

    হাশরের ময়দানের মূল প্রশ্ন হবে, ‘তোমার রব কে? তোমার নবী কে? এবং তোমার দ্বীন কী?’ এ তিনটি প্রশ্ন ঘিরে আরো অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হবে। এর কয়েকটি হলো—

    এক. শিরক সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘ওই দিন আল্লাহ তাদের ডেকে বলবেন, তোমরা যাদের আমার শরিক দাবি করতে, তারা কোথায়?’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৬২)

    দুই. নবী-রাসুলদের প্রতি ঈমান না আনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদের ডেকে বলবেন, তোমরা রাসুলদের কী জবাব দিয়েছিলে?’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৬৫)

    তিন. মানুষের যাবতীয় কাজকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমার রবের কসম! আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করব।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৯২-৯৩)

    চার. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পোড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর—এগুলোর প্রতিটিই জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৬)

    পাঁচ. জীবন, সম্পদ ও অর্জিত জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তির দুই পা নিম্নোক্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজ জায়গায় স্থির থাকবে। (প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করা হবে) তার বয়স সম্পর্কে, কী কাজে সে তা নিঃশেষ করেছে। জ্ঞান সম্পর্কে, এর মাধ্যমে সে কী আমল করেছে। সম্পদ সম্পর্কে, কোথা থেকে (কী উপায়ে) সম্পদ উপার্জন করেছে, আর কোন কাজে ব্যয় করেছে। আর তার শরীর সম্পর্কে, কী কাজে সেটি ক্ষয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)

  • প্লেটের খাবার নষ্ট না করতে যা বলেছেন বিশ্বনবি

    প্লেটের খাবার নষ্ট না করতে যা বলেছেন বিশ্বনবি

    খাবার গ্রহণের রয়েছে সুন্নাতি নিয়ম। প্লেটে খাবার নেয়ার পর অনেকেই তা সম্পূর্ণ খায় না। সৌজন্যতা বা সামাজিকতা কিংবা আত্ম-সম্মানবোধের কারণে প্লেটে কিছু খাবার রেখে দেয়, যা ইসলামে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবার গ্রহণের পর প্লেটে কিছু খাবার রেখে দিয়েছেন এমন কোনো তথ্য নেই। বরং যারা প্লেটের খাবার সম্পূর্ণ খেয়ে থাকেন হাদিসে পাকে তাদের জন্য রয়েছে অনেক বরকতময় দোয়া।

    হাদিসে প্রমাণিত যে, প্লেটে খাবার রেখে দিলে শয়তান তা খেয়ে থাকে। এ কারণেই যারা প্লেটের খাবার নষ্ট না করে সম্পূর্ণরূপে খায়, ওই খাবারের পাত্র বা প্লেটও তার পানাহারকারীর জন্য দোয়া করে।

    প্লেট বা পাত্র তার পানাহারকারীর জন্য যে দোয়া করে তার বর্ণনা দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

    ‘কেউ যদি কোনো পাত্রে খাবার খাওয়ার পর তা চেটে খায় তবে ওই (খাবারের) পাত্রটি তার জন্য এই বলে দোয়া করে যে, আল্লাহ তাআলা যেন তোমাকে (খাবার গ্রহণকারীকে) জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। যেভাবে তুমি আমাকে শয়তান থেকে মুক্তি দিলে।’ (মিশকাত)

    মনে রাখতে হবে
    প্লেটের খাবার সম্পূর্ণ না খেয়ে কিছু রেখে দেয়া কুপ্রথার শামিল। এতে খাদ্যের যেমন অপচয় হয় আবার তাতে আল্লাহর নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতাও প্রকাশ পায়।

    তাই খাবার গ্রহণ করার সময় প্রত্যেকেরই উচিত খাওয়ার শেষে ভালোভাবে প্লেট চেঁটে খাওয়া। আর তাতেই খাবারের প্লেটও মহান আল্লাহ কাছে খাবার গ্রহণকারীর জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া করে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে খাবার খাওয়ার সময় প্লেটের খাবার সুন্দরভাবে শেষ করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও বরকত লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • অবশেষে চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

    অবশেষে চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

    ঈদ মোবারক। পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে, কাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। সর্বশেষ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সিদ্ধান্তে এ খবর জানানো হয়।

    এদিকে প্রথমে সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় চাঁদ দেখা না যাওয়ায় বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    পরবর্তীতে আবার রাত ১১টার দিকে পুনরায় ব্রিফিং করে ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে এক মাস ধরে সংযম সাধনার ইতি ঘটল। কাল বুধবার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মেতে উঠবে ঈদ আনন্দে, উৎসবে। আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে, ধনী-গরিব- নির্বিশেষে সব মানুষ অংশ নেবে ঈদের ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে।

    পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে সারাদেশে সম্পন্ন হয়েছে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি।

    জাতীয় ঈদ্গাহে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    এ ছাড়াও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমে সকাল ৭টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত মোট ৫ টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম ছাড়াও রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদ, ধানমন্ডি ঈদ্গাহ জামে মসজিদ ও সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদেও সকাল ৮টা ও ৯টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে ।

    এদিকে রাজধানীর বাইরে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত দিনাজপুর গোরএ শহীদ ময়দানে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে ।

    এছাড়া কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া, চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ময়দান, রাজশাহী শাহ মখদুম (র:) কেন্দ্রীয় মসজিদ, খুলনা টাউন হল মসজিদ, সিলেট শাহী মসজিদ,বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদ্গাহ এবং রংপুর কালেক্টর মসজিদে ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে মুসলমানদের অবশ্যই ফিতরা আদায় করার বিধান রয়েছে। এই বিধান মেনে এবারও ইসলামিক ফাউন্ডেশন সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার নির্ধারণ করে। এবার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা। সর্বোচ্চ ফিতরার এই হার ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৮০ টাকা।

  • সৌদি ও পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে কাল মঙ্গলবার ঈদ

    সৌদি ও পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে কাল মঙ্গলবার ঈদ

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল সোমবার (৪ই জুন) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

    এর আগে ঈদের চাঁদ দেখা-সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দেওয়া হয় সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট থেকে এবং খালি চোখে বা দূরবিনের সাহায্যে কেউ ঈদের চাঁদ দেখতে পেলে পার্শ্ববর্তী কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য বলা হয়। চলতি বছর রমজান মাস ২৯ দিনে শেষ হবে বলে আগে জানিয়েছিলেন দেশটির জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

    এদিকে, সৌদি আরবে নেওয়া হয়েছে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি। মসজিদুল হারাম মক্কা , মসজিদে নববিতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    এছাড়াও রাজধানী রিয়াদে ঈদের নামাজের জন্য তৈরি রাখা হচ্ছে ৬৬০টি মসজিদ। এ ছাড়া ৩৩টি খোলা স্থানে নামাজের ব্যবস্থা করা হবে। নারীদের জন্য নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে সেখানে।

    জেদ্দাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, গুরেয়ত, গুলাইল, নাজলা, চানাইয়া, বাউয়াদি, সুক হেরাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামাজের জন্য রয়েছে ২৫০টি মসজিদ ও ৫৫টি খোলা স্থান।

    ঈদের নামাজ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এরই মধ্যে মসজিদের ইমামদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মসজিদ বিভাগের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া শহরগুলোর নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

  • নগরীর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাবে ‘স্বজন স্মরণ’ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    নগরীর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাবে ‘স্বজন স্মরণ’ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য:

    গতকাল ০১ জুন শনিবার, বরিশাল নগরীর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সদস্য যারা মারা গেছেন, তাঁদের স্বজনদের নিয়ে ‘স্বজন স্মরণ’ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বরিশালের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রেসক্লাবের সদস্য, স্বজন ও সুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

    পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এর মাধ্যমে অনুস্ঠান শুরু করেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম আমজাদ হোসাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন।

    কাজী নাসিরউদ্দিন বাবুল,সভাপতি,শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব, সভাপতিত্ব করেন।
    উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রইস আহম্মেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাড. মানবেন্দ্র বটব্যাল, অ্যাড. এসএম ইকবাল, জেলা বিএনপি সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. ওবায়েদউল্লাহ সাজু, প্রয়াত সাংবাদিক শহীদুজ্জামান টিটুর বাবা বদিউজ্জামান।
    মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, বরিশাল প্রেসক্লাবের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। আমার দাদা শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত, চাচা শহীদ সেরনিয়াবাত এই প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন। তাই এই প্রেসক্লাবের উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।
    প্রেসক্লাবের বহুতল ভবনের প্লান সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ভবন নির্মাণেও পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
    পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, বরিশাল একটি ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের সদস্য যারা মারা গেছেন, তারা প্রত্যেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ মানুষ ছিলেন। আজ কেবল স্মজন স্মরণ অনুষ্ঠান করলেই হবে না। আমাদের উচিত আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া সদস্যদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। তাদের সন্তানরা যাতে শিক্ষা এবং চাকুরীর সুযোগ পায় সেদিকে নজর দিতে হবে। এই প্রেসক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকবো আমি। একই সঙ্গে নিহত স্বজনদের যে কোন সহযোগিতা দিতে আমি এবং মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ প্রস্তুত আছি।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম ফরিদ, সৈয়দ দুলাল, কাজল ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহম্মেদ, পুলক চ্যাটার্জী, এটিএন বাংলার হুমায়ুন কবির, যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান আক্তার ফারুক শাহীন, সময় টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ফিরদাউস সোহাগ, নিউজ টুয়ান্টিফোর চ্যানেলের রাহাত খান, ডিভিসি নিউজের অপূর্ব অপু, মাছরাঙা টিভির গিয়াসউদ্দিন সুমন, চ্যানেল ২৪ এর প্রাচুর্য রানা, বাংলা ভিশনের সাহিন হাসানসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।
    স্বজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাবের সদস্য ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক নিখিল সেনের স্বজন সুজয় সেনগুপ্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানের সহধর্মীনী, লিটন বাশারের সহধর্মীনী, মীর মনিরুজ্জামানের স্বজনসহ অন্যান্য স্বজনরা।
  • ঈদ আয়োজনের একাল-সেকাল

    ঈদ আয়োজনের একাল-সেকাল

    সময়ের সাথে সাথে বদলে গিয়েছে আমাদের চারপাশের অনেক কিছু। বদলেছে ঈদ উদযাপনের ধরণ।

    বিশ্বের সব দেশে ঈদ উদযাপনের কিছু সাদৃশ্য থাকলেও দেশ, জাতি ও সময়ভেদে এ রীতিতে ভিন্নতা দেখা যায়। বাংলাদেশেও এর স্বতন্ত্র কিছু রীতি রয়েছে। তবে সেই রীতিতেও পরিবর্তন এসেছে।

    আগে ঈদের দিন কিংবা তার আগের রাতে গ্রামের মহল্লায় মহল্লায় , শহরের পাড়ায় পাড়ায় আড্ডা বসতো। ঈদের ছুটিতে এই আড্ডায় মেতে ওঠা ছিল খুব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল, ট্যাব। আড্ডা চলে এখন ফেইসবুকে। এ কারণে ঈদ আড্ডার চিরপরিচিত দৃশ্যও এখন আর দেখা যায় না। ঈদ আড্ডাও এখন অনেক কম।

    এক মাস রোজা রাখার পর ঈদের দিন সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। ঈদের আগের রাতেই শুরু হয়ে যায় আনন্দ। এক সময় সবাই মিলে আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখত। সেই চাঁদ দেখাটাও যেন ছিল উৎসব। অট্টালিকার কারণে শহরে সেই সুযোগ অনেকেরই নেই। চাঁদের দেখা মিলল কিনা সেই খবর জানতে এখন আকাশে নয়, সবাই চোখ রাখে টিভিতে।

    শুনেছি আগে ঈদে বিনোদনের বড় উৎস ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন। জনপ্রিয় শিল্পীরা বের করত নতুন অ্যালবাম। পাড়ায় পাড়ায় সেই গান বাজানো হতো। এখন ডিশ সংযোগের কারণে একসাথে অনেক চ্যানেল দেখার সুযোগ পায় দর্শকরা। আর নতুন গান এখন অ্যালবাম আকারে আসে না। প্রকাশিত হয় ইউটিউবে।

    ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে এক সময় কার্ডের চল থাকলেও তা উঠে গিয়েছে। এখন শুভেচ্ছা বিনিময় হয় ফোনের ক্ষুদে বার্তা কিংবা ফেইসবুকে। ঈদ উদযাপনটা হয়ে যাচ্ছে যান্ত্রিক।

    এত পরিবর্তনের পরও ঈদ এখনও সবার জীবনে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। আগের মতো এবারের ঈদও মানুষকে সব হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মিলেমিশে নতুন যাত্রা শুরু করার উৎসাহ যোগাবে-আমাদের এমনটাই প্রত্যাশা।

  • পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

    পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

    ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আজ শনিবার (১ জুন) দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হবে। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীকাল বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে শবে কদরের রাত হাজার রাতের চেয়ে পুণ্যময়। মহান আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হাজার রাতের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র শবে কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনী। পবিত্র শবে কদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহ’র নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগী করবেন।

     

    পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে পবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ শনিবার দিবাগত রাতে মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। এ রাতে মুসলমানগণ নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত করবেন। এদিকে পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে রোববার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

     

    এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। তিনি আরো বলেন, এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীকাল বাদ জোহর (বেলা দেড়টায়) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

    ওয়াজ পেশ করবেন মিরপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব ড. মুফতি আবদুল মুকিত আযহারী। জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদেই তারাবীর নামাজের পর থেকে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন থাকবে। পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওসমূহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।