Category: ধর্ম

  • হজ এজেন্সির জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি‌

    হজ এজেন্সির জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি‌

    চলতি বছর হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সব এজেন্সির মালিক ও অংশীদারগণের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি দূতাবাসে হজযাত্রীদের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে পাসপোর্ট জমা নেয়া শুরু হয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজে সম্পন্নের লক্ষ্যে ঢাকায় পাসপোর্ট জমা দানের জন্য সব হজ এজেন্সিকে অনুরোধ জানানো হয়।

    বিজ্ঞ‌প্তি‌তে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক হজযাত্রীর মূল পাসপোর্টের সঙ্গে মক্কা-মদিনার বাড়ির ঠিকানা সম্বলিত স্টিকার সংযুক্ত করতে হবে। প্রকৃত হজযাত্রীর তালিকা ৩ সেট দিতে হবে। পেনড্রাইভে হজযাত্রীর তালিকা, সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করার ও মোয়াল্লেম ফি পরিশোধের কাগজপত্র দেখাতে হবে। এছাড়া বিমান টিকেট সংযুক্ত করতে হবে।

    গত ১৪ জুন আশকোনা হজ অফিস ঢাকার পরিচালক সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

  • মক্কায় এখনও বাড়ি ভাড়া করেনি তিন শতাধিক এজেন্সি

    মক্কায় এখনও বাড়ি ভাড়া করেনি তিন শতাধিক এজেন্সি

    হজ মৌসুম শুরু হওয়ার আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ৫০ শতাংশেরও বেশি এজেন্সি বাড়ি বা হোটেল ভাড়া সম্পন্ন করতে পারেনি।

    সৌদি সরকার অনুমোদিত বাড়ি বা হোটেল ভাড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হজ মিশনের কঠোর নিয়মনীতির কারণে বাড়ি ভাড়া করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ বিভিন্ন হজ এজেন্সির।

    বাড়ি ভাড়া করতে না পারায় আসন্ন হজ মৌসুমে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে তারা মন্তব্য করেন।

    আগামী ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাত হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৯৮ এজেন্সির মাধ্যমে এক লাখ ২০ হাজারসহ চলতি বছর মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের পবিত্র হজ পালনের কথা রয়েছে।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে, ১৫ জুনের মধ্যে সৌদি আরবের মক্কায় সব এজেন্সিকে বাড়ি ভাড়া সম্পন্নের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বেধে দেয়া সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশের বেশি এজেন্সি বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করতে পারেনি।

    মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশন থেকে বলা হয়েছে, সৌদি সরকারের অনুমোদন রয়েছে এবং একসঙ্গে কমপক্ষে ৫০ জন হজযাত্রী একসঙ্গে রাখা যায়- এমন বাড়ি/হোটেলের চেয়ে ছোট বাড়ি/হোটেল ভাড়ার জন্য মিশন থেকে অনুমোদন দেয়া হবে না।

    কিন্তু বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় হজ এজেন্সিগুলো এবারও ছোট (যে বাড়িতে ২০/৩০জন রাখার ব্যবস্থা আছে) বাড়ি/হোটেল ভাড়া করতে চাইছে। কিন্তু এসব বাড়ি/হোটেল ভাড়া করার অনুমোদন দিচ্ছে না বাংলাদেশ হজ মিশন। হজ মিশনের এমন কড়াকড়ির কারণে আসন্ন হজ ব্যবস্থাপনায় বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমের কাছে এ সমস্যার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়ি ভাড়া সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি আজ (১৭ জুন) মক্কা-জেদ্দা কাউন্সিলর (হজ) বরাবর লিখিত চিঠি পাঠাচ্ছেন।

    হাব সভাপতির পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ৫০-এর নিচে সৌদি সরকার অনুমোদিত বাড়ি/হোটেল থাকলেও বাংলাদেশ হজ মিশন থেকে ওই সব বাড়ি/হোটেলের জন্য অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি এজেন্সির প্রয়োজনে অনুমোদিত বাড়ি/হোটেলে ৫০-এর নিচে সিট ভাড়া নেয়ার বিষয়ে অনুমতি দিতে হজ মিশন দ্বিধান্বিত রয়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, হজ মৌসুমে অনুমোদিত প্রয়োজনীয় বাড়ি ভাড়া পাওয়া খুবই দূরহ। হজ ব্যবস্থাপনা শর্তে হজ এজেন্সি এবং হজযাত্রীদের কল্যাণে এ মহাযজ্ঞে এ ধরনের বিধিনিষেধ হজ ব্যবস্থাপনায় বিড়ম্বনার সৃষ্টি করবে।

    ‘প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, রাজকীয় সৌদি সরকার ৫০-এর নিচে অনুমোদিত বাড়ি বা হোটেল ভাড়ার বিষয়ে এ ধরনের কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। এমতাবস্থায় ৫০-এর নিচে অনুমোদিত বাড়ি বা হোটেল বিবেচনায় নেয়া এবং হজ এজেন্সির প্রয়োজনে অনুমোদিত বাড়ি বা হোটেলের যেকোনো সংখ্যক সিট ভাড়ার অনুমোদন প্রদান করে হজ ব্যবস্থাপনা আরও সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে সম্পন্নের জন্য কাউন্সেলর হজকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়’- উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, বিভিন্ন হজ এজেন্সি কম টাকায় মানহীন বাড়ি ভাড়া করে। একটি ছোট বাড়ি বা হোটেলে গাদাগাদি করে হজযাত্রীদের রাখা হয়। এবার হজযাত্রীদের কষ্ট লাঘবে কমপক্ষে ৫০জন হজযাত্রী একসঙ্গে থাকতে পারেন- এমন বাড়ি বা হোটেল ভাড়া নিশ্চিত করতে কঠোর হয়েছে হজ মিশন।

  • প্রকাশ্য সমাবেশে কুরআন ছুড়ে মারলো নরওয়ের অ্যানা ব্রাটেন

    প্রকাশ্য সমাবেশে কুরআন ছুড়ে মারলো নরওয়ের অ্যানা ব্রাটেন

    উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডেনিভিয়ান দেশ নরওয়ে। সম্প্র্রতি দেশটিতে ইসলাম ও মুসলমানদের চলাফেরা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধে জোর দাবি ও প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে দেশটির ‘স্টপ ইসলামাইজেশন’ নামে ইসলাম বিদ্বেষী একটি দল। সেখানে পবিত্র কুরআন ছুড়ে ফেলেন। খবর আনাদুলু এজেন্সি।

    নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ‘স্টপ ইসলামাইজেশন’ নামে ইসলাম বিদ্বেষী দলটির প্রধান অ্যানা ব্রাটেন প্রকাশ্য সমাবেশে পবিত্র কুরআনুল কারিম ছুড়ে ফেলে দেন।

    অ্যানা ব্রাটেন ইসলাম, হিজাবসহ অনেক বিষয়ে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দিতে থাকেন। পুলিশি প্রহরায় এ বক্তব্য দেয়া কালে হঠাৎই কুরআনের একটি কপি বের করেন।

    উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কুরআনের কপিটি সংরক্ষণে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে অ্যানা ব্রাটেন পবিত্র কুরআনের কপিটি প্রতিবাদকারী মুসলিমের দিকে ছুড়ে ফেল দেন।

    অ্যানা ব্রাটেনের সমাবেশ স্থলে মুসলিমরা তার বক্তব্য ও দাবির তীব্র প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদকারীদেরকে নরওেয়ের পুলিশ সমাবেশস্থলে প্রবেশ না করতে বেরিকেড দিয়ে রাখেন।

    Norwae-1

    সমাবেশে অ্যানা ব্রাটেন ঘোষণা করেন, নরওয়েতে ইসলামের কোনো স্থান নেই। কুরআনের সব কপি ধ্বংস করা হবে। মুসলিম সম্প্রদায়কে গালাগাগি করেন। হিজাবকে কটুক্তি করেন।

    সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি চলছে চরম অবমাননা। এ প্রবণতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    এ মাসের শুরুর দিকে জার্মানির দুই মসজিদে পবিত্র কুরআন অবমাননাসহ মসজিদের জানালা দরজা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    ড্যানিশ পার্লামেন্টের সামনে শুক্রবার মুসলিমদের প্রার্থনার প্রতিবাদে পবিত্র কুরআনের অগ্নি সংযোগ করেন ড্যানিশ চরমপন্থী নেতা রাসমুস পালোদুন।

  • আল্লাহর ৬টি বার্তায় সমৃদ্ধ সূরা ইয়াসিন

    আল্লাহর ৬টি বার্তায় সমৃদ্ধ সূরা ইয়াসিন

    সূরা ইয়াসিন সকল মানুষের প্রতিই পৃথিবীতে আল্লাহর দুটি মু’জিযার প্রতি লক্ষ্য করতে একটি সাধারণ আহবান জানায়। প্রথমটি কুরআন যা আল্লাহর বাণীর ধারক এবং দ্বিতীয়টি সৃষ্টিজগত যা আল্লাহর ক্ষমতার প্রমাণ। সূরা ইয়াসিনে মোট ছয়টি ভাগ রয়েছে:

    ১. ঐশী বাণী এবং অবহেলাকারীদের মনোভাব [১-১২]

    সূরাটির সূচনা হয়েছে কুরআন নাযিল এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে। আরবরা রাসূলের ধারণার সঙ্গে পরিচিত ছিল না। একারনে কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أُنذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ

    “যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্ব পুরুষগণকেও সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৬)

    এছাড়া আল্লাহর বাণীর প্রতি অসতর্ক ও অবহেলাকারীদের প্রতিও সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। وَسَوَاء عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ

    “আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে দুই-ই সমান; তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ১০)

    ২. ইতিহাসের উদ্ধৃতি [১৩-৩০]

    পরবর্তী ভাগে অতীত এক জাতির প্রতি তিন জন রাসূলের দাওয়াত এবং তাদের একজন সমর্থকের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে এই ঘটনাটি আকর্ষনীয়। প্রথমত কোন স্থান বা জাতির নিকট একত্রে তিনজন রাসূল পাঠানো খুবই বিরল। রাসূলদের নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি এবং তাদের বক্তব্যের বিস্তারিতও এখানে আলোচনা করা হয়নি, তথাপি তাদের একজন সমর্থকের বক্তব্যকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে। إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُم مُّرْسَلُونَ

    “আমি তাদের নিকট দুজন রসূল প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর ওরা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন আমি তাদেরকে শক্তিশালী করলাম তৃতীয় একজনের মাধ্যমে। তারা সবাই বলল, আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ১৪) وَجَاء مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ

    “অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর। (সূরা ইয়াসিন আয়াত: ২০)

    নিজের জাতির প্রতি তার এত ভালোবাসা ছিল যে, তার জাতি যখন তাকে শহীদ করলো এবং তিনি যখন জান্নাতে প্রবেশ করলেন, তখনও তিনি তার জাতির হেদায়েতের কথা চিন্তা করছিলেন।

    ৩. চতুর্পাশে দৃষ্টি দান ও আল্লাহর সৃষ্টি অবলোকন [৩১-৪৪]

    এর পরের ভাগে সূরাটি তার পাঠক ও শ্রোতাদের কাছে দাবি করছে, তোমরা যদি ইতিহাস থেকে কোন শিক্ষাই নিতে না পারো, তবে আল্লাহর এই বিশাল সৃষ্টিজগতের দিকে লক্ষ্য কর। وَآيَةٌ لَّهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ

    তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৩৩) وَآيَةٌ لَّهُمْ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُم مُّظْلِمُونَ

    তাদের জন্যে এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়। (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৩৭)

    ৪. একগুঁয়েমী ও অন্ধত্ব [৪৫-৪৭]

    ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহবানকে প্রত্যাখ্যানকারী এবং সৃষ্টিজগত নিয়ে ভাবতে ব্যর্থ মানুষকে আল্লাহ এরপরেও আহবান করছেন: وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّقُوا مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ. وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ آيَةٍ مِّنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ

    আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা সামনের আযাব ও পেছনের আযাবকে ভয় কর, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়, তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে। যখনই তাদের পালনকর্তার নির্দেশাবলীর মধ্যে থেকে কোন নির্দেশ তাদের কাছে আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখে ফিরিয়ে নেয়। (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৪৫-৪৬)

    ৫. কিয়ামতের দিন অবিশ্বাসীদের অবস্থা [৪৮-৭০]

    পরবর্তী ভাগে বলা হয়েছে ভবিষ্যতের কথা। কিয়ামতের দিন অবিশ্বাসীদের পরিণাম কি হবে, তা বর্ণনা করা হয়েছে এবং তার জন্য মানুষকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। هَذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ. اصْلَوْهَا الْيَوْمَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ

    এই সে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হতো। তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ কর। (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৬৩-৬৪) وَلَوْ نَشَاء لَطَمَسْنَا عَلَى أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّى يُبْصِرُونَ

    আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টি শক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে চাইলে কেমন করে দেখতে পেত! (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৬৬)

    ৬. সমাপ্তি: আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি অবাধ্যতার মনোভাব [৭১-৮৩]

    সূরার প্রথম অংশে আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি অবিশ্বাসীদের অবহেলার দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে। একইভাবে অন্তরের অপর একটি রোগ সম্পর্কে সূরার শেষ এই অংশে আলোচনা করা হয়েছে যা হল অহংকার ও অবাধ্যতা।

    এটি মানুষকে অবিশ্বাসের দিকে ধাবিত করে এবং এর ফলে সে আল্লাহর কিতাব ও তার সৃষ্টির নিদর্শন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। أَوَلَمْ يَرَ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِن نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ. وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ. قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ

    “মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী। সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভূত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো পচে গলে যাবে?

    বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৭৭-৭৯)

  • মোহাম্মদ (সাঃ) মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে, আলী (রাঃ) এর কানে শেষ কথাটা কি বলেছিলো?

    মোহাম্মদ (সাঃ) মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে, আলী (রাঃ) এর কানে শেষ কথাটা কি বলেছিলো?

    হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের শেষ মূহুর্ত চলছে। ‘ সেখানে একজন লোক এসে ‘সালাম’ জানিয়ে বললেন, আমি কি ভিতরে আসতে পারি। হযরত ফাতিমা (রাঃ) বললেন, দুঃখিত আমার পিতা খুবই অসুস্থ। হযরত ফাতিমা (রঃ) দরজা বন্ধ করে রাসূলের কাছে গেলেন।

    হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, কে সেই লোক? হযরত ফাতিমা বললেন, এই প্রথম আমি তাকে দেখেছি। আমি তাকে চিনি না। রাসুল(সাঃ) বললেন শুনো ফাতিমা, সে হচ্ছে আমাদের এই ছোট্ট জীবনের অবসানকারী ফেরেশতা আজরাইল।

    এটা শুনে হযরত ফাতিমার অবস্থা তখন ক্রন্দনরত বোবার মতো হয়ে গিয়েছে। রাসূল (সাঃ) বললেন, হে জিবরাঈল আমার উম্মতের কি হবে? আমার উম্মতের নাজাতের কি হবে ? জিবরাঈল (আঃ) বললেন, হে রাসুল আপনি চিন্তা করবেন না, আল্লাহ ওয়াদা করেছেন আপনার উম্মতের নাজাতের জন্যে।

    মৃত্যুর ফেরেশতা ধীরে ধীরে রাসূলের কাছে এলেন জান কবজ করার জন্যে। মালাইকাত মউত আজরাইল আরো কাছে এসে ধীরে ধীরে রাসূলের জান কবজ করতে থাকলেন।

    পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জিব্রাইলকে রাসূল বললেন ঘোঙানির সাথে, ওহ জিবরাঈল এটা কেমন বেদনাদায়ক জান কবজ করা। ফাতিমা (রাঃ) তার চোখ বন্ধ করে ফেললেন, আলী (রাঃ) তার দিকে উপুড় হয়ে বসলেন, জিবরাঈল তার মুখটা উল্টা দিকে ফিরিয়ে নিলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, হে জিবরাঈল তুমি মুখটা উল্টা দিকে ঘুরালে কেন, আমার প্রতি তুমি বিরক্ত ?

    জিবরাঈল বললেন, হে রাসূলুল্লাহ সাকারাতুল মউতের অবস্থায় আমি আপনাকে কিভাবে দেখে সহ্য করতে পারি! ভয়াবহ ব্যাথায় রাসূল ছোট্ট একটা গোঙানি দিলেন।

    রাসূলুল্লাহ বললেন, হে আল্লাহ সাকারাতুল মউতটা (জান কবজের সময়) যতই ভয়াবহ হোক, সমস্যা নেই, আমাকে সকল ব্যথা দাও আমি বরণ করবো, কিন্তু আমার উম্মাতকে ব্যথা দিওনা।

    রাসূলের শরীরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো। তার পা, বুক কিছুই নড়ছে না এখন আর। রাসূলের চোখের পানির সাথে তার ঠোঁটটা কম্পিত ছিলো, তিনি কিছু বলবেন মনে হয়।

    হযরত আলী (রাঃ) তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে নিয়ে গেলো। রাসূল বললেন, নামাজ কায়েম করো এবং তোমাদের মাঝে থাকা দূর্বলদের যত্ন নিও। রাসূলের ঘরের বাইরে চলছে কান্নার আওয়াজ, সাহাবীরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কান্নারত।

    হযরত আলী (রাঃ) আবার তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে ধরলো, রাসূল চোখ ভেজা অবস্থায় বলতে থাকলেন, ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি, “হে আমার উম্মতেরা নামাজ, নামাজ..! নামাজ..!

  • পরিশুদ্ধ জীবন লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ ও দোয়া

    পরিশুদ্ধ জীবন লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ ও দোয়া

    সুন্দর ও উত্তম চরিত্র গঠনে কুরআন-সুন্নাহর উপদেশ গ্রহণের বিকল্প নেই। মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক নেই যা কুরআন ও সুন্নায় বিশদ বর্ণনা করা হয়নি। তাইতো কুরআন এবং হাদিসের শিক্ষা ও বিধান বাস্তবায়নেই মানুষ হয়ে ওঠেছে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। অজ্ঞতার যুগে মানুষ পেয়েছে আলোকিত সমাজ।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে উত্তম চরিত্র লাভে কুরআনের বাণী শুনিয়েছেন বুঝিয়েছেন নিজ ভাষায়। উদ্দেশ্য একটাই মানুষ যেন- দুনিয়ার যাবতীয় অন্যায় থেকে মুক্ত থেকে নৈতিক উন্নত চরিত্র লাভ করে। সব সময় সব কাজে অন্তরে আল্লাহর ভয় পোষণ করে।

    পরিশুদ্ধ জীবন লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ তুলে ধরা হলো-

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মাঝে ঘোষণা করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে ব্যক্তি আল্লাহকে বেশি ভয় করে।’

    >> অন্য হাদিসে প্রিয় নবি বলেন, ‘কোনো মানুষ যদি পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে চায়, তবে সে যেন উত্তম চরিত্র অর্জন করে।’ এ হাদিস থেকে প্রমাণিত চরিত্রই মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

    >> ‘যে বক্তি সবচেয়ে বড় আলেম হতে চায়, তার জন্য তাকওয়া অর্জন করা আবশ্যক। কারণ আল্লাহর ভয় ছাড়া আলেম হওয়া সম্ভব নয়।’ আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন-
    ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি; পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে; যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাবান যে সর্বাধিক আল্লাহকে ভয় করে। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং সব খবর রাখেন। (সুরা হুজরাত : আয়াত ১৩)

    >> প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে নির্লোভী হতে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি সম্মানিত হতে পারবে ওই ব্যক্তি, যে মানুষের কাছে কোনো কিছু হাত পেতে চায় না।’

    >> বিশ্বনবি সব সময় আল্লাহ তাআলার স্মরণ করতে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত ওই ব্যক্তি, যে অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করে। আল্লাহ তাআলা নিজেও মানুষকে বেশি বেশি জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন-

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর; এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর। তিনিই তোমাদের প্রতি রহম করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখানোর জন্য রহমতের দোয়া করে। তিনি মুমিনদের প্রতি দয়ালু।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৪১-৪৩)

    >> পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ জীবন লাভে আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতার বিকল্প নেই। তাই আত্মশুদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন জীবন লাভে সব সময় পূতঃপবিত্র থাকা জরুরি। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সব সময় ওজুর সঙ্গে থাকে, আল্লাহ তাআলা তার রিজিকের প্রশস্ততা বৃদ্ধি করে দেন।’

    >> আল্লাহর কাছে ইবাদত-বন্দেগি কবুলের প্রথম শর্তই হলো হারাম থেকে বেঁচে থাকা। বিশ্ননবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির সব দোয়া (চাওয়া-পাওয়া) আল্লাহর দরবারে কবুল হয়, যে ব্যক্তি সব সময় হারাম থেকে বেঁচে থাকে।’

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিনদেরকে বিশেষ তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে গোনাহমুক্তভাবে উপস্থিত হওয়ার আমল হলো, স্ত্রী সহবাসের পর দ্রুত পবিত্র হয়ে নেয়া।’

    >> হাশরের ময়দানে যখন আল্লাহর ছায়া এবং আলো ছাড়া আর কারো ছায়া বা আলো থাকবে না, সে দিনও কিছু লোক আল্লাহর ছায়া অবস্থান করবে এবং আলোয় পথ দেখবে। বিশ্বনবি বলেন- ‘পরকালে ওই ব্যক্তি আল্লাহর নূরসহ ওঠবে; যে ব্যক্তির দ্বারা কখনও মানুষ অত্যাচিরত হবে না।’ সুতরাং কোনোভাবে কারো প্রতি জুলুম বা অত্যাচার করা যাবে না।

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হবে যে, আল্লাহর ফরজ বিধান পালনে গুরুত্বের সঙ্গে যত্নবান হবে।’

    >> সবর মানুষের এমন এক উন্নত চারিত্রিক গুণ, যা এ ছোট্ট হাদিস থেকে উপলব্দি করা যায়। হাদিসে পাকে এসেছে, ‘দুনিয়ার বিপদাপদে যে ব্যক্তি সবর বা ধৈর্য ধারণ করবে, ওই ব্যক্তির দ্বারা জাহান্নামের আগুণ নেভানো সম্ভব হবে।’

    সুতরাং মানুষের উচিত চরম রাগ বা উত্তেজনার সময়েও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। আর তা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে তিনটি উপায় তুলে ধরেছেন-

    – অতি গোপনে সাদকা তথা গরিব-অসহায়কে দান-সহযোগিতা করা।
    – আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
    – কোনোভাবেই কারো (মানুষের) ওপর রাগ বা অভিমান করা যাবে না। সর্বাবস্থায় রাগ বর্জন করা।

    কুরআন ও সুন্নার এ নসিহতগুলো দুনিয়া ও পরকালের অফুরন্ত কল্যাণ লাভে মেনে চলার বিকল্প নেই। কুরআন-সুন্নাহর উপদেশ গ্রহণের মাধ্যমে উত্তম চরিত্র এবং সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনের পাশাপাশি পরিশুদ্ধ জীবন লাভ করাই মুমিন বান্দার একান্ত নৈতিক দায়িত্ব ও কাজ।

    সর্বোপরি আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার করা এবং বিশ্বনবির শেখানো ছোট্ট এ দোয়াটি পড়া-

    اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা; ওয়াত তুক্বা; ওয়াল আ’ফাফা; ওয়াল গেনা।

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত (পরিশুদ্ধ জীবন) কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা পরহেজগারি কামনা করি এবং আপনার কাছে সুস্থতা তথা নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ-সামর্থ্য (আর্থিক স্বচ্ছলতা) কামনা করি। (মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্দর ও পরিশুদ্ধ জীবন লাভে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুপম আদর্শ গ্রহণে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • নামাজে যেসব স্থানে দোয়া করতে পারবে মুমিন

    নামাজে যেসব স্থানে দোয়া করতে পারবে মুমিন

    নামাজ হলো দোয়া করার সর্বোত্তম স্থান। কেননা নামাজের মাধ্যমে বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক তৈরি হয়। আল্লাহর সঙ্গে বান্দার নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমও নামাজ।

    তাই মানুষের জন্য পুরো নামাজটাই দোয়া। তারপরও নামাজে দোয়ার জন্য তিনটি খাস স্থান রয়েছে। যে স্থানগুলোতে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। নামাজে দোয়া করার সেসব স্থানগুলো হলো-

    >> প্রথম স্থান : তাকবিরে তাহরিমার পর
    তাকবিরে তাহরিমা (اَللهُ اَكْبَر) আল্লাহু আকবার বলার পর দোয়া করা। অনেকে এ স্থানে ছানা পড়ে থাকেন। ছানা পড়ার এ সময়টাতেই আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়।
    অধিকাংশ মানুষ এখানে একটা দোয়া বেশি পড়ে। আর তাহলো-
    سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلهَ غَيْرُكَ
    উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা। (তিরমিজি, আবু দাউদ, মিশকাত)

    অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।

    এখানে আরো অনেক দোয়া আছে। যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়তেন। আর তাহলো-

    > إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
    উচ্চারণ : ইন্নি ওয়াঝ্ঝাহ্তু ওয়াঝহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফা; ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকিন।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৭৯)
    অর্থ : ‘আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় মুখমণ্ডল সেই সত্তার দিকে করছি, যিনি নভোমণ্ডল ও ভুমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিক নই।’
    অনেকে এ দোয়াটিকে জায়নামাজের দোয়া হিসেবে জানেন। আসলে এটি তা নয়। বরং এ দোয়াটি তাকবিরে তাহরিমার পড়া।
    > إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
    উচ্চারণ : ‘ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ (সুরা আনআম : আযাত ১৬২)
    অর্থ : নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমর জীবন, আমার মৃত্যু বিশ্বজাহানের প্রভু আল্লাহ তাআলার জন্য।’

    > اَللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كما بَاعَدْتَ بين الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اَللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الْخَطَايَا كما يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ من الدَّنَسِ اللهم اغْسِلْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বায়িদ বাইনি ওয়া বাইনা খাত্বাইয়াইয়া, কামা বাআদ্তা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিবি, আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিনাল খাত্বাইয়াইয়া কামা ইউনাক্কাছ্ ছাওবুল আবইয়াদু মিনাদ্দানাসি, আল্লাহুম্মাগসিল মিন খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি, ওয়াছ্ছাল্‌জি, ওয়াল বারদি।’(বুখারি ও মুসলিম)

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে আমার পাপগুলো থেকে এত দূরে রাখ যেমন পূর্ব ও পশ্চিম পরস্পরকে পরস্পর থেকে দূরে রেখেছ। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে আমার পাপ হতে এমন ভাবে পরিষ্কার করে দাও, যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে আমার পাপ হতে (পবিত্র করার জন্য) পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।’

    >> দ্বিতীয় স্থান : সেজদায়
    সেজদার তাসবিহগুলো বান্দাকে আল্লাহর খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়। তাই সেজদায়ও আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে দোয়া করতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘বান্দা যখন নামাজে সেজদা দেয়, তখন বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছে চলে যায়।’

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করতে বলেছেন। কাজেই সেজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাওয়া এবং চাইতে থাকা একান্ত আবশ্যক। তবেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে চাহিদা মোতাবেক দান করবেন। প্রিয় নবি সেজদায় গিয়ে পড়তেন-
    اَللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آَمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيْ لِلَّذِيْ خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ اللهُ أحْسَنُ الْخَالِقِيْن
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সাঝাদতু ওয়া বিকা আমাংতু ওয়া লাকা আসলামতু। সাজাদা ওয়াঝহি লিল্লাজি খালাক্বাহু ওয়া সাওয়্যারাহু ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাছারাহু। তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিক্বিন।

    অর্থ : হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সিজদা করছি। একমাত্র তোমার প্রতিই ঈমান এনেছি এবং তোমার কাছেই আত্মসমর্পন করেছি। আমার মুখমণ্ডল ওই সত্ত্বার জন্য সেজদাবনত হয়েছে, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, সুসমন্বিত আকৃতি দিয়েছেন এবং তাতে কান ও চক্ষু স্থাপন করেছেন। নিপুনতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা কত কল্যাণময়!’

    সেজদায় ছোট ছোট দোয়ার মাধ্যমেই বান্দার সব চাওয়া পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তাতে হাদিসে ঘোষিত প্রিয় নবির চমৎকার মাসনুন দোয়াগুলো পড়া জরুরি-
    اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা; ওয়াত তুক্বা; ওয়াল আ’ফাফা; ওয়াল গেনা।

    অর্থ : হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে হেদায়েত কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা পরহেজগারি কামনা করি এবং আপনার কাছে সুস্থতা তথা নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ তথা সামর্থ্য কামনা করি। (মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

    সেজদায় কুরআনের সবচেয়ে বরকতময় দোয়াটি পড়া-
    رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতও ওয়াক্বিনা আজাবান নার।’

    কুরআনের এ দোয়াটি পড়লে বান্দার দুনিয়া ও পরকালে কোনো অভাব থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বান্দার সব চাওয়াকে পূর্ণ করে আলোকিত জীবন দান করেন।

    অতঃপর প্রথম সেজদা থেকে ওঠে সোজা হয়ে বসে ধীরস্থিরভাবে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় দোয়া করা। যে দোয়ায় সব চাওয়া হয়ে যায়। বান্দার জন্য কোনো কিছু বাকি থাকে না। প্রিয় নবি বলতেন- –
    رَبِّى اغْفِرلِىْ وَارْحَمْنِىْ وَارْزُقْنِىْ وَاهْدِنِىْ وَ عَافِنِىْ وَاعْفُ عَنِّىْ وَاجْبُرْنِىْ وَارْفَعْنِىْ
    উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়ারহামনি ওয়ারঝুক্বনি ওয়াহদিনি ওয়া আফিনি, ওয়াফুআন্নি, ওয়াঝবুরনি, ওয়ারফানি।

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন, রহমত দিয়ে আমার জীবন ভরে দিন, আমার রিজিক বাড়িয়ে দিন, আল্লাহ আমাকে হেদায়েত করে দিন, আমাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা ও নিরাপত্তা দিন, আমার ক্ষয়-ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দিন।

    >> তৃতীয় স্থান : শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর আগে
    নামাজি ব্যক্তিরা সালাম ফেরানোর আগে দোয়া করবে। এ স্থানে মুসল্লিরা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে থাকে। এখানে পড়ার রয়েছে অনেক দোয়া।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘৪টি জিনিস থেকে পানাহ না চেয়ে কেউ যেন সালাম না ফেরায়। আর সে ৪টি বিষয় সমৃদ্ধ দোয়াটি হলো-

    > اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি ঝাহান্নাম; ওয়া মিন আজাবিল ক্ববর; ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাঝঝাল।‘ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আজব থেকে আশ্রয় চাই, কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই দাঝঝালের ফিতনা থেকে।

    > اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثُمِ وَالْمَغْرَمِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল্ মাছামি ওয়া মিনাল মাগরাম।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে পাপ ও ঋণের বোঝা থেকে আশ্রয় চাই।’

    > اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম মাগফিরলি মা ক্বাদ্দামতু ওয়া মা আখখারতু ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আলানতু ওয়া মা আসরাফতু ওয়া মা আন্তা আলামু বিহি মিন্নি আন্তাল মুক্বাদ্দিমু ওয়া আন্তালমুওয়াখখিরু লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি যে সব গোনাহ ইতিপূর্বে করেছি এবং যা পরে করব, সব তুমি মাফ করে দাও। মাফ করে দাও সেই পাপরাশি, যা আমি গোপনে করেছি, আর যা প্রকাশ্যে করেছি। মাফ কর আমার সীমালংঘনজনিত পাপ সমূহ এবং সেই সব পাপ, যে পাপ সম্বন্ধে তুমি আমার চেয়ে অধিক জান। তুমি যা চাও, তা আগে কর এবং তুমি যা চাও তা পেছনে বা পরে কর। তুমি আদি, তুমি অনন্ত। তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো মাবুদ নেই।’ (মুসলিম)

    > للَّهُمَّ إنِّي أعُوذُ بِكَ مِنَ البُخْلِ، وَأَعوذُ بِكَ مِنَ الجُبْنِ، وَأعُوذُ بِكَ أنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ العُمُرِ، وَأعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিন্ আন্ উরাদ্দা ইলা আরযালিল ওমুরি ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনইয়া ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্বাবরি।

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে, কাপুরুষতা থেকে, বার্ধক্যের চরম দুঃখ-কষ্ট থেকে, দুনিয়ার ফিৎনা-ফাসাদ ও কবরের আযাব থেকে।’ (বুখারি, মিশকাত)

    > اَللَّهُم أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ، وحُسنِ عِبَادتِك
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।
    অর্থ : হে আল্লাহ! আপনাকে স্মরণ করার জন্য, আপনার শুকরিয়া আদায় করার জন্য এবং আপনার সুন্দর ইবাদত করার জন্য আমাকে সাহায্য করুন (মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, মিশকাত)

    > اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، الأَحَدُ الصَّمَدُ، الَّذِي لَمْ يَلِدْ، وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
    উচ্চারণ : `আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকা বি-আন্নি আশহাদু আন্নাকা আন্তাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আন্তাল আহাদুস সামাদুল্লাজি লাম্ ইয়ালিদ্ ওয়া লাম্ ইউলাদ্ ওয়া লাম্ ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।‘

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি একমাত্র তুমিই আল্লাহ। তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই। তুমি একক অমুখাপেক্ষী। যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।’ (আবু দাউদ)

    > অধিকাংশ মানুষ দোয়ায়ে মাছুরা হিসেবে যে দোয়াটি বেশি পড়ে; তাহলো-
    اَللَّهمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كثِيرًا، وَلَا يَغْفِر الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِر لِي مَغْفِرَةً مِّن عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيم
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমাং কাছিরাও ওয়া লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইংদিকা ওয়ারহামনি ইন্নাকা আংতাল গাফুরুর রাহিম।
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আমার ওপর অত্যধিক অন্যায় করেছি এবং তুমি ব্যতিত পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করো। ক্ষমা একমাত্র তোমার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এবং আমার প্রতি দয়া করো। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

    উল্লেখ্য যে, জামাআতে নামাজ আদায়ের সময় এ সব দোয়া পড়ার সময় পাওয়া যায় না। কারণ জামাআতের নামাজগুলো সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় মেনে আদায় করতে হয়। যাতে সময়ের ব্যাপারে বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি।

    তাই একাকি যে কোনো নামাজে এ দোয়ার মাধ্যমে মানুষ দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ লাভে নিজেকে আত্ম নিয়োগ করতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজের মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভ ও আল্লাহর নেকট্য অর্জনে মনোযোগী হওয়ার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ছয় রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত

    ছয় রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত

    আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত ও গোলামী করার জন্যই তিনি মানুষ ও জ্বীন জাতিকে সৃজন করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আমি জ্বীন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি এ জন্য যে তারা আমারই ইবাদত করবে” (সূরা আল-জারিআত- ৫৬)। আল্লাহর কাছে নফল ইবাদত ও নফল সিজদা’র গুরুত্ব অনেক বেশি।

    হিজরি ১০ম মাস তথা রমজানের পরবর্তী মাস ‘শাওয়াল’। এ মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখা সুন্নাত, যদিও তা শরীয়তী পরিভাষায় ‘নফল’ হিসেবে পরিচিত। হাদিস শরীফে এর বহু ফজিলতও বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখলো, এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখলো, সে যেন গোটা বছর রোজা রাখলো” (সহিহ মুসলিম)। হযরত সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রমজানের রোজা দশ মাসের আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দু’মাসের রোজার সমান, সব মিলিয়ে এক বছরের রোজা” (নাসায়ী শরিফ)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “রমজান মাসের রোজা হচ্ছে ১০ মাসের সমান। আর ছয় দিনের রোজা হচ্ছে দুই মাসের সমান। এভাবে এক বছরের রোজা হয়ে গেল” (সহিহ ইবনে খুজাইমা)।

    উপযুক্ত হাদিসে বলা হয়েছে, রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখলে সারা বছর রোজা রাখার সাওয়াব পাওয়া যাবে। হিসেবটি হলো এরূপ- আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “যে ১টি নেক আমল করবে, সে ১০ গুণ সাওয়াব পাবে” (সূরা আনআম- ১৬০)। আর এ হিসেবে মাহে রমজানের ৩০ টি ফরজ রোজায় ৩০০ রোজার সাওয়াব পাওয়া যাবে (৩০*১০=৩০০)। অন্যদিকে মাহে শাওয়ালের ৬টি রোজায় ৬০ রোজার সাওয়াব পাওয়া যাবে (৬*১০=৬০)। তাহলে দেখা যায়, মাহে রমজানের ৩০ রোজার বিপরীতে ৩০০ রোজা ও মাহে শাওয়ালে ৬ রোজার বিপরীতে ৬০ রোজার সাওয়াব পাওয়া যাচ্ছে, মোট ৩৬০ রোজার সাওয়াব। আমরা জানি, ৩৬০ দিনে হিজরি বা চন্দ্র এক বছর হয়ে থাকে। তাই মাহে রমজানের ৩০ রোজা ও মাহে শাওয়ালে ৬ রোজা আদায় করলে এক বছর রোজার সাওয়াব পাওয়া যায় (সুবহান আল্লাহ)।

    একজন মানুষ ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি অধিকহারে নফল ইবাদত-রিয়াজত করতে করতে আল্লাহর বান্দা হতে বন্ধুতে পরিণত হয়ে যায়। নফল ইবাদত করার মাধ্যমে আল্লাহ নৈকট্য লাভ করা যায়। হযরত হাসান বসরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী আজমেরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সহ বিশ্ব বিখ্যাত যত অলি-বুজুর্গ রয়েছেন, তাদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তারা প্রচুর পরিমাণে নফল ইবাদতে সময় ব্যয় করেছেন। আর এ কারণেই তাঁরা সকলেই আল্লাহ নিকটবর্তী হয়েছেন। তাদের ইন্তেকালের পরও ভিন্ন দেশ থেকে তাদের আলোচনা করা হচ্ছে। কুরআনুল কারিমে এসেছে, “আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবেন না” (সূরা ইউনুস- ৬২)।

    আসুন, মাহে রমজানে সকল রোজা সঠিকভাবে আদায়ের পর মাহে শাওয়ালে ৬টি রোজা রাখার নিয়ত করি। শাওয়াল মাসের পহেলা তারিখ তথা ঈদুল ফিতর দিবস ব্যতীত শাওয়ালের সকল দিবসের মধ্যে এ নফল রোজা রাখা যাবে। আল্লাহ আমাদের সকলের মাহে রমজানের ফরজ রোজা কবুল করুন ও শাওয়ালের ৬টি রোজা থাকার তাওফিক প্রদান করুন, আমিন।

  • ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম ও শ্রমিক

    ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম ও শ্রমিক

    পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত শ্রেণি হলো শ্রমিক শ্রেণি। মহানবী সা:-এর আগমন-পূর্ব যুগের সভ্য সমাজগুলোতে শ্রমিক যেমন মালিক শ্রেণীর হাতে নির্যাতিত হতো, আজও তেমনি তারা চরমভাবে নিষ্পেষিত হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিপতিদের হাতে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে শ্রমজীবীদের সব সমস্যার সঠিক ও ন্যায়ানুগ সমাধান দিয়েছে। মহানবী সা: এমন একটি সমাজব্যবস্থা কায়েমের ধারণা দিয়েছেন, যেখানে থাকবে না জুলুম-শোষণ, থাকবে না দুর্বলকে নিষ্পেষিত করার মতো ঘৃণ্য প্রবণতা। মহানবী শিখিয়েছেন শ্রমিকও মানুষ, এদেরও বাঁচার অধিকার আছে। এরা তোমাদের ভাই। মালিক পক্ষের উচিত মহান আল্লাহ তাদের প্রতি যেভাবে অনুগ্রহ করেছেন, তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ শ্রমিকদের যথার্থ পাওনা পরিশোধ করা। মহানবী হযরত মুহাম্মদা (সা.) বলেছেন, ‘সাবধান! মজুরের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি মিটিয়ে দাও।’ (তিরমিজি)।

    ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম ও শ্রমিক

    শ্রম ও শ্রমিক পরস্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্রম হলো, শারীরিক ও মানসিক কসরতের মাধ্যমে কোনও কাজ আঞ্জাম দেয়া। যিনি কাজটি আঞ্জাম দেন তিনি শ্রমিক এবং যে কাজটি সম্পন্ন করা হয় তা উৎপাদন। পুঁজি, শ্রম ও এদের সংগঠনের মাধ্যমে মালিক যা আহরণ করে তা হলো উৎপন্ন দ্রব্য। সাধারণত পুঁজিহীন মানুষ, যারা তাদের পুঁজি বিনিয়োগের উপায় না থাকায় নিজেদের গতর খেটে পেট চালান, তাদের শ্রমিক ও তাদের কাজকে শ্রম বলা হয়। শ্রমিক পুঁজিহীন, দরিদ্র শ্রেণীর লোক বলে তাদের মধ্যে কোনোরূপ লজ্জাকর অনুভূতি ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল কাজে ও হালাল পথে শ্রম বিনিয়োগ কিছুমাত্রও লজ্জার ব্যাপার নয়; বরং এ হচ্ছে নবী-রাসূলগণের সুন্নত। প্রত্যেক নবী-রাসূলই দৈহিক পরিশ্রম করে উপার্জন করেছেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

    উপার্জনের প্রতি উৎসাহিত করতে গিয়ে স্বয়ং মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমাদের সালাত শেষ হয়ে যাবে, তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো আর আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজক) অন্বেষণে ব্যাপৃত হয়ে যাও।’ (সূরা জুমা : ১০)।

    ইসলাম সৎ উপার্জনের দিকে যেমন উৎসাহিত করেছে, তেমনি উৎসাহিত করেছে শ্রমের প্রতি। পক্ষান্তরে শ্রম না দিয়ে অলস ও বেকার বসে থাকা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: বলেছেন, ‘কাউকে বেকার বসে থাকতে দেখলে আমার অসহ্য লাগে। জাগতিক কোনও কাজও করে না, অপর দিকে পরকালের নাজাতের জন্যও কোনও প্রয়াস চালায় না।’

    এখানে এটা প্রণিধানযোগ্য যে, আধুনিক অর্থনৈতিক মতাদর্শ শ্রমকে কেবল মানুষের পার্থিব জীবন ও তার উপায়-উপকরণের তুলাদণ্ডে বিচার করেছে। তারা শ্রম দ্বারা মানুষের সেই মেধাগত ও শারীরিক অনুসন্ধানকেই কেবল উদ্দেশ্য করেছে, যার বিনিময়ে সে শুধু পয়সাই পায়। কিন্তু মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অর্থনৈতিক মতাদর্শের আলোকে শ্রম হলো, পার্থিব জীবনে মেহনত করে পরকালীন জীবনকেও এর দ্বারা নির্মাণ করা। সুতরাং একজন মুসলমান শারীরিক বা মেধাগত যেকোনো বৃত্তেই শ্রম ব্যয় করুক, সে এর প্রতিদান দুনিয়াতে পয়সার বিনিময়ে এবং আখেরাতে সওয়াব ও জান্নাতের বিনিময়ে পাবে। তাই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আদর্শের আলোকে নির্দেশিত অর্থনীতির ভিত্তিতে শ্রমের সংজ্ঞা এভাবে দেয়া যায়, ‘শ্রম ওই মেধাগত ও শারীরিক কর্মবৃত্তির নাম, যার বিনিময়ে এই পার্থিব জীবনে এমন বস্তুগত প্রতিদান অর্জিত হয়, যার দ্বারা মানুষ তার নিজের, তার নিকটজনের এবং সমাজের অভাবী লোকদের প্রয়োজনাদি পূর্ণ করতে পারে এবং জীবিকা ও অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হয় অথবা এর বিনিময়ে পুণ্য অর্জিত হয়, যা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানের জন্যই সফলতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের মাধ্যম হয়।’

    শ্রমিকের গুণাবলি

    শ্রমিকের এমন কিছু গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, যা শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক অটুট রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ইসলাম মালিকদের ওপর অনেক দায়িত্ব যেমন অর্পণ করেছে, তদ্রুপ শ্রমিকের ওপরও আরোপ করেছে কিছু আবশ্যক ন্যায়নীতি। যেমন-

    ১. আমানতদারিতা : শ্রমিকের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অবশ্যই আমানতদারিতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তাকে মহান আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘সর্বোত্তম শ্রমিক সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী ও আমানতদার (দায়িত্বশীল) হয়।’ (সূরা কাসাস : ২৬)।

    ২. সংশ্লিষ্ট কাজের দক্ষতা ও যোগ্যতা : দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজের জ্ঞান, যোগ্যতা ও দক্ষতা তার থাকতে হবে। শারীরিক ও জ্ঞানগত উভয় দিক থেকেই তাকে কর্মক্ষম হতে হবে।

    ৩. কাজে গাফিলতি না করা : ইসলাম কাজে গাফিলতিকে কোনো মতেই সমর্থন করে না। আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে, আর যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।’ (সূরা মোতাফফিফিন : ১-৩)। আয়াতের অর্থ হলো, নিজে নেয়ার সময় কড়ায়গণ্ডায় আদায় করে নেয়। কিন্তু অন্যকে মেপে দিতে গেলে কম দেয়। ফকিহদের মতে, এখানে তাওফিফ বা মাপে কম-বেশি করার অর্থ হলো, পারিশ্রমিক পুরোপুরি আদায় করে নিয়েও কাজে গাফিলতি করা। অর্থাৎ আয়াতে ওই সব শ্রমিকও শামিল যারা মজুরি নিতে কমতি না করলেও কাজে গাফিলতি করে; কাজে ফাঁকি দিয়ে ওই সময় অন্য কাজে লিপ্ত হয় বা সময়টা অলস কাটিয়ে দেয়। তাদেরকে কঠোর শাস্তির হুমকি দেয়া হয়েছে।

    ৪. নিজের কাজ হিসেবে করা : কাজে নিয়োগ পাওয়ার পর শ্রমিক কাজকে নিজের মনে করে সম্পন্ন করবে। অর্থাৎ পূর্ণ দায়িত্বশীলতার সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজটি সম্পাদন করে দেয়া তার দায়িত্ব হয়ে যায়।

    ৫. আখেরাতের সফলতার জন্য কাজ করা : একজন শ্রমিক তার শ্রমের মাধ্যমে যে অর্থ উপার্জন করবে, তা যেন হালাল হয় এবং এর বিনিময়ে পরকালীন সফলতা লাভে ধন্য হয় তার প্রতি লক্ষ রাখবে। সেবার মানসিকতা নিয়ে পরম আগ্রহ ও আনন্দের সাথে কাজটি সম্পন্ন করাই হবে শ্রমিকের নৈতিক দায়িত্ব।

    শ্রমিকদের মর্যাদা

    ইসলাম শ্রমিকদের যে মর্যাদা দেয় পৃথিবীর যেকোনও ইতিহাসের যেকোনও অধ্যায়ের সমাজব্যবস্থায় তা নজিরবিহীন। মহানবী সা: ইরশাদ করেছেন, ‘অধীনস্থদের সাথে অসদাচরণকারী বেহেশতে যেতে পারবে না।’ (তিরমিজি)।

    মহানবী (সা.) শ্রমজীবীদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘আপন সন্তানসন্ততির মতো তাদের মানসম্মানের সাথে তত্ত্বাবধান করো আর তাদের খেতে দেবে, যা তোমরা নিজেরা খেয়ে থাকো।’ (মিশকাত, ইবনে মাজাহ)।

    কেউ যদি শ্রমিকের মজুরি না দেয় অথবা দিতে গড়িমসি করে, তার বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন যে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ থাকবে, তাদের একজন হলো, এমন লোক যে কাউকে শ্রমিক নিয়োগ করে কাজ পুরোপুরি আদায় করে নিলো অথচ মজুরি দিলো না।’ (বুখারি শরিফ)।
    মজুরি না দেয়ার অর্থ কেবল মজুরি না দিয়ে তা মেরে খাওয়া নয়; বরং যে পরিমাণ মজুরি প্রাপ্য, তা ষোলোআনায় না দেয়া আর তার সরলতার সুযোগে কাজ করিয়ে নিয়ে সামান্য মজুরি দেয়া।

    উপসংহার

    বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমজীবী মানুষ ও খেটে খাওয়া অসহায় ক্ষুধার্থ শ্রেণীর প্রতি কেমন সযত্ন দৃষ্টি রাখতেন, তাঁর ভালোবাসার আধার হৃদয়জুড়ে এই দুর্বল সহায়হীন শ্রেণীর স্থান কতটুকু ছিল, কতটুকু মমতা তিনি তাদের জন্য লালন করতেন উপরিউক্ত আলোচনা থেকে তা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করা যায়। জাহেলি যুগের অমানবিক শ্রমিক নির্যাতন ও বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে তাকে মালিক শ্রেণীর সমকক্ষ মর্যাদা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছেন মহানবী সা:। তিনি মালিক ও শ্রমিককে পরস্পর ভাই ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি যখন এই পার্থিব জীবনের সব সম্পর্ক ঘুচিয়ে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে যাত্রা করেছিলেন, সেই অন্তিম মুহূর্তে তার পবিত্র মুখে যে শেষ শব্দটি ধ্বনিত হয়েছিল, সেটাও ছিল এই শ্রমিক শ্রেণীর প্রতি তাঁর সযত্ন দৃষ্টি ও সহমর্মিতার সৌহার্দ্যপূর্ণ আশ্বাস। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘তোমরা সব সময় তোমাদের নামাজ ও তোমাদের অধীনস্থদের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্বপূর্ণ দৃষ্টি রাখবে।’ (আল আদাবুল মুফরাদ)।

  • তুরস্ক আন্তর্জাতিক ক্বেরাত প্রতিযোগিতায় ক্বারী মানজুরের সাফল্য

    তুরস্ক আন্তর্জাতিক ক্বেরাত প্রতিযোগিতায় ক্বারী মানজুরের সাফল্য

    মাহাদুল ক্বেরাত বাংলাদেশ-এ অধ্যয়নরত বিদেশি ছাত্র ভারতের ক্বারী মানজুর আহমদ তুরস্কের আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য লাভ করেছেন। ভারতের বাছাই পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করে তুরস্ক আন্তর্জাতিক ক্বেরাত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হন ক্বারী মানজুর আহমদ।

    পবিত্র রমজান মাসে শুরু হওয়া তুরস্কের আন্তর্জাতিক ক্বেরাত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৮৬টি দেশের প্রতিযোগিরা প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের মধ্যে ভারতের ক্বারী মানজুর আহমদ ৫ম স্থান লাভ করে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন।

    বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আল-আযহারী কর্তৃক পরিচালিত দেশের সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র ইলমে ক্বেরাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘মাহাদুল ক্বেরাত বাংলাদেশ’-এর বিদেশি ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম ভারতের হাফেজ ক্বারী মো. মানজুর আহমাদ।

    তুরস্কে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই ক্বারী মানজুর আহমদ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। মাহাদুল ক্বেরাত বাংলাদেশের বিদেশি ছাত্র হাফেজ ক্বারী মানজুরের প্রতি রইলো শুভ কামনা।

    আল্লাহ তাআলা হাফেজ ক্বারী মানজুরকে ইলমে ক্বেরাত ও কুরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করুন।

    আমিন।