Category: ধর্ম

  • পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন মুরসি: চরমোনাই পীর

    পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন মুরসি: চরমোনাই পীর

    সদ্যপ্রয়াত মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি পশ্চিমাদের ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

    তিনি বলেন, মোহাম্মাদ মুরসি অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তাকে অনৈতিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। মূলত এই অবিসংবাদিত মুসলিম নেতা পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন।

    মিসরের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ড. হাফেজ মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে গণমাধ্যমে প্রেরিত শোকবার্তায় চরমোনাই পীর এসব কথা বলেন।

    বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, মোহাম্মাদ মুরসি একজন হাফেজে কোরআন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, খোদাভীরু একজন প্রেসিডেন্টের ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। মুরসির ইন্তেকালে বিশ্ববাসী একজন অবিসংবাদিত নেতাকে হারালো।

    তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে কাতারের কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচারের যে অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল, তা ছিল একটি অজুহাত মাত্র। অন্যায় অবিচার,জুলুম আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সদা তিনি সোচ্চার ছিলেন বলেই তাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিলো।

    মুফতি রেজাউল করীম আরও বলেন, মিসরের সর্বস্তরের জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত মুহাম্মদ মুরসি একজন প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্বেও সাদাসিদে জীবন যাপন করতেন, উচ্চ বিলাসিতা পরিহার করে পরিবার পরিজনসহ রাজধানী কায়রোতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। কারা প্রকোষ্ঠে মানবেতর জীবন যাপন করেছেন এবং মাজলুম অবস্থায় কারাগারেই তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা যান।

    চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম মুরসির শোকাহত পরিবার ও মুসলিম ব্রাদারহুড নেতাকর্মীর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন

  • মুসা ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা

    মুসা ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা

    ৭১. অতঃপর তারা উভয়ে চলতে লাগল। পরে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল তখন সে [খিজির (আ.)] তা বিদীর্ণ করে দিল। সে [মুসা (আ.)] বলল, আপনি কি আরোহীদের (সাগরে) নিমজ্জিত করার জন্য তা ছিদ্র করে দিলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করেছেন। (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৭১)

    তাফসির : আগের আয়াতগুলোতে মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর কাহিনির ভূমিকা বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে তাঁদের মূল কাহিনি বর্ণনা করা হচ্ছে। বোঝার সুবিধার্থে এখানে একসঙ্গে পুরো ঘটনা তুলে ধরা হলো—একাধিক শর্ত মানার অঙ্গীকার করে মুসা (আ.) খিজির (আ.)-এর সঙ্গে পথ চলতে শুরু করেন। কিছুদূর গিয়ে সাগর পার হওয়ার জন্য একটি নৌকা পেলেন। অতঃপর নৌকা থেকে নামার সময় খিজির (আ.) তাতে ছিদ্র করে দেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি ছিল অন্যের অনিষ্ট সাধন। মানুষের ক্ষতি করার অধিকার কারো নেই। কোনো ধর্মেরই এর অনুমতি নেই। তাই এমন কাজ দেখে মুসা (আ.) তত্ক্ষণাৎ প্রতিবাদ করেন।

    তিনি বলেই ফেললেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি একটা গুরুতর মন্দ কাজ করলেন।’ এ কথা শুনে খিজির (আ.) বলেন, ‘আমি কি আগেই বলিনি যে আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না।’ মুসা (আ.) ক্ষমা চাইলেন। ইতিমধ্যে একটি কালো চড়ুই পাখি এসে নৌকার এক প্রান্তে বসে এবং সাগর থেকে এক চঞ্চু পানি তুলে নিল। সেদিকে ইঙ্গিত করে খিজির (আ.) মুসা (আ.)-এর উদ্দেশে বলেন, ‘আমার-আপনার এবং সমস্ত সৃষ্টিজগতের জ্ঞান মিলিতভাবে আল্লাহর জ্ঞানের মোকাবেলায় সাগরের বুক থেকে পাখির চঞ্চুতে ওঠানো এক ফোঁটা পানির সমতুল্য।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৭২৭)

    তারপর তাঁরা সাগরের তীর বেয়ে চলতে থাকলেন। কিছুদূর গিয়ে তাঁরা সাগরপারে খেলায় রত এক দল বালককে দেখলেন। খিজির (আ.) তাদের থেকে একটি ছেলেকে ধরে এনে নিজ হাতে হত্যা করেন। এ দৃশ্য দেখে মুসা (আ.) আঁতকে ওঠেন। ‘এ কী! একটি নিষ্পাপ শিশুকে আপনি হত্যা করলেন? এ যে মস্তবড় গোনাহের কাজ।’ খিজির (আ.) বলেন, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম, আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না।’ মুসা (আ.) আবার ক্ষমা চাইলেন এবং বলেন, ‘এরপর যদি আমি কোনো প্রশ্ন করি, তাহলে আপনি আমাকে আর সঙ্গে রাখবেন না।’ অতঃপর তাঁরা চলতে লাগলেন। অবশেষে যখন একটি জনপদে পৌঁছলেন তখন তাদের কাছে খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। পরে তাঁরা সেখানে একটি পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেয়ে সেটাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। তখন মুসা (আ.) বললেন, ‘আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে এর পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। কেননা এরা আমাদের খাবার দেয়নি।’ খিজির (আ.) বললেন, ‘এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হলো।’

    এ তিনটি ঘটনার তাৎপর্য হলো—প্রথমত, নৌকা ছিদ্র করার কারণ হলো, সেটা ছিল কয়েকজন গরিব-মিসকিন ব্যক্তির। তারা এটা দিয়ে সাগরে জীবিকা অন্বেষণ করত। আমি সেটিকে ছিদ্র করে দিয়েছি এ জন্য যে ওই অঞ্চলে ছিল এক জালিম বাদশাহ। সে বল প্রয়োগে মানুষের নৌকা ছিনিয়ে নিত। আর ছিদ্র করা নৌকা সে নিত না। তাই আমি ছিদ্র করে দিয়েছি, যাতে তারা জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, বালকটিকে হত্যা করার কারণ হলো, তার মাতা-পিতা ঈমানদার। আর সে বড় হয়ে কাফির হবে, যা তার মাতা-পিতার জন্য আজাবের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমি চাইলাম যে মহান আল্লাহ তার মাতা-পিতাকে এর বদলে উত্তম সন্তান দান করুন, যে হবে সৎকর্মশীল ও বিশুদ্ধ চরিত্রের অধিকারী।

    তৃতীয়ত, পতনোন্মুখ প্রাচীর সোজা করে দেওয়ার কারণ হলো, ওই প্রাচীরের মালিক ছিল নগরীর দুজন পিতৃহীন বালক। ওই প্রাচীরের নিচে তাদের নেককার পিতার রক্ষিত গুপ্তধন ছিল। মহান আল্লাহ চেয়েছেন যে বালক দুটি যুবক হওয়া পর্যন্ত প্রাচীরটি দাঁড়িয়ে থাকুক এবং তারা তাদের প্রাপ্য গুপ্তধন হস্তগত করুক।

    মূলত খিজির (আ.) এসব ঘটনার অবতারণা করেছেন মহান আল্লাহর নির্দেশে।

  • স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে দোয়া পড়বেন কেন?

    স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে দোয়া পড়বেন কেন?

    দোয়া পড়া ইবাদত। তবে সে দোয়া প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত মতে হতে হবে। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী সহবাসের আগে কেন দোয়া পড়বেন? এ দোয়া কি শুধুই সহবাসের নাকি নিরাপত্তার?

    প্রিয়নবি কেন স্বামী-স্ত্রীর মিলনের আগে দোয়া পড়তে বলেছেন? এর কারণই বা কী? আর এ দোয়ায় মানুষ কী বলে থাকেন? আসুন জেনে নেয়া যাক :

    স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে যে দোয়া পড়তে হয়-
    بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
    উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।’
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তোমার নামে (যৌন মিলন বা সহবাস) আরম্ভ করছি, তুমি আমাদের (স্বামী-স্ত্রী উভয়ের) কাছ থেকে শয়তানকে দূরে রাখ। আমাদের এ মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবেন, সে সন্তানকেও শয়তান (যাবতীয় আক্রমণ) থেকে দূরে রাখ।’

    স্বামী-স্ত্রীর যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি

    শয়তান যৌনতাকে ভালোবাসে। লজ্জাস্থান দেখতেও ভালোবাসে। কেননা শয়তান এ যৌনতায় নিজেকে জড়িয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সময় সেখানে উপস্থিত হয়।

    যখনই কোনো মানুষ মিলনের সময় প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো এ দোয়া পড়ে, তখন সেখানে শয়তান থাকতে পারে না। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মিলন হয় নিরাপদ ও শয়তানের প্রভাবমুক্ত।

    এ যৌন মিলন তথা স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে যদি সন্তান জন্ম নেয়, পরবর্তী জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এ সন্তান শয়তানের যাবতীয় প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকে।

    আর এ দোয়া না পড়ে স্বামী-স্ত্রী মিলন করলে শয়তান সে মিলনে অংশগ্রহণ করে এবং স্বামী-স্ত্রীর মনে খারাপ সংকল্প তৈরি করে। যা দাম্পত্য জীবনে কলহ বয়ে আনে। আর সে মিলনে যদি কোনো সন্তান জন্ম নেয়, সে সন্তানও শয়তানের প্রভাবমুক্ত হতে পারে না।

    তাই শয়তানের প্রভাবমুক্ত পরিবার গড়তে স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে প্রিয়নবির শেখানো এ দোয়া পড়া আবশ্যক। হাদিসে পাকে এসেছে-

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা করে তখন উক্ত দোয়া পড়ে যেন মিলিত হয়। এ মিলনের ফলে যদি তাদের কোনো সন্তান আসে, শয়তান সে সন্তানের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)।

    স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে দোয়া পড়া কিংবা তা জেনে নেয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং সুন্দর পরিবার গঠন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য এটা একটা উত্তম পরিকল্পনাও বটে।

    কারণ যারা সহবাসে লিপ্ত হয় তারা এ কথা নিশ্চিতভাবে জানে না যে, কোন মিলনে সন্তান জন্ম নেবে। তাই প্রত্যেক মিলনের আগেই স্বামী-স্ত্রী এ দোয়া পড়ে নেবে। এ কারণেই হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

    ‘যে ব্যক্তি সহবাসের ইচ্ছা করে তার নিয়ত যেন এমন হয় যে, আমি ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবো। আমার মন এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াবে না আর জন্ম নেবে নেককার ও সৎ সন্তান। এই নিয়তে স্বামী-স্ত্রী মিলনে লিপ্ত হলে, তাতে সাওয়াব তো হবেই বরং সঙ্গে সঙ্গে তাদের নেক উদ্দেশ্যও পূরণ হয়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব বিবাহিত দম্পতিকে মিলনের আগে প্রিয়নবির শেখানো দোয়া পড়ার মাধ্যমে শয়তানের যাবতীয় ক্ষতি থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • নিশ্চিত দোয়া কবুলের সেরা ১০টি সময়

    নিশ্চিত দোয়া কবুলের সেরা ১০টি সময়

    আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার দোয়া সব সময় কবুল করে থাকেন। তারপরও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুনির্দিষ্ট কিছু সময়ের কথা হাদিসে পাকে উল্লেখ করেছেন। যে সময়গুলো দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা নিশ্চিতভাবে বান্দার দোয়া কবুল করেন। আর তাহলো-

    >> রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক দিন রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব সবচেয়ে নীচের (প্রথম) আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আছো? আমাকে ডাকো; আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে? আমার কাছে চাও; আমি তোমাকে দান করবো। কে আছো? আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী; আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি)

    >> আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না।’ (আবু দাউদ)

    >> জুমআর দিনের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমআর দিনে একটি সময় আছে যে সময়টা কোনো মুমিন নামাজ পড়া অবস্থায় পায় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ অবশ্যই সে চাহিদা পুরণ করবেন। এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে সে সময়ের সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন।’ (বুখারি)

    >> সেজদার সময়ের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছে চলে যায়, তাহলো সেজদার সময়। সুতরাং তোমরা তখন আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাও।’ (মুসলিম)

    >> ফরজ নামাজের পরের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রাতের শেষ সময় এবং ফরজ নামাজের পরে দোয়া কবুল হয়।’ (মুসলিম)

    >> কদরের রাতের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, তার আগের (জীবনের) সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (বুখারি)

    >> বৃষ্টি হওয়ার সময়ের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফেরানো হয় না। আজানের সময়ের দোয়া আর বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া।’ (আবু দাউদ)

    >> আরাফাতের দিনের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দোয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আরাফাতের দিনের দোয়া।’ (তিরমিজি)

    >> জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল অন্য যে কোনে দিনের আমলের চেয়ে উত্তম।’ (বুখারি)

    >> রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের সময়ের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘৩ ব্যক্তির দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেয়া হয় না। যখন রোজাদার ব্যক্তি ইফতার করে। ন্যায় পরায়ন শাসক। নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)

    মুমিন মুসলমানের উচিত এ সময় ও দিনক্ষণগুলোতে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। নিজের একান্ত চাহিদাগুলো পূরণে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত দিন ও সময়ে তাওবা-ইসতেগফারসহ দোয়া করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • ইমাম বুখারীর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

    ইমাম বুখারীর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ সমরকন্দে বিখ্যাত হাদিসবেত্তা আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (রা.) (ইমাম বুখারী) এর মাজার জিয়ারত করেছেন। খবর বাসসের।

    পারস্যের ইসলামিক চিন্তাবিদ ও হাদিসের সংকলক ইমাম বুখারী ৮৭০ খ্রী. এর ১ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের বুখারায় ইন্তেকাল করেন।

    মো. আবদুল হামিদ তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানে তাঁর সাত দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে হজরত খাজা খিজির (আ.) কমপ্লেক্সে উজবেকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভের কবর জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করেন। এ সময় তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সমরকন্দের গভর্নর এবং মাজার মসজিদের পেশ ইমাম ইরকিনজন তুরদিমভ রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। পরে মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

    রাষ্ট্রপতি সমরকন্দের গভর্নরের আমন্ত্রনে উজবেকিস্তানের প্রয়াত প্রথম প্রেসিডেন্টের সাবেক বাসভবনে মধ্যহ্ন ভোজে যোগ দেন।

    এছাড়া রাষ্ট্রপতি হামিদ ইমাম বুখারী (রা.) আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। আবদুল হামিদ আমির তৈমুরের জাদুঘর এবং উজবেকিস্তানের জাতীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিদর্শন ঐতিহাসিক কিছু স্থান পরিদর্শন করেন।

    এরপর রাষ্ট্রপতি তাঁর পত্নী রাশীদা খানম ও পুত্র রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক (এমপি)কে নিয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০ টা ৩ মিনিটে বুলেট ট্রেন ‘আফ্রোসিয়োব’ এ সমরকন্দ ত্যাগ করেন।

    এ সময় উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল করিমভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন, উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসয়ুদ মান্নান, রাষ্ট্রপতির সচিব সম্পদ বড়–য়া, প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন, দূতাবাসের দ্বিপাক্ষিক সচিব ও কনসুলার কামরুল আহসান অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রপতি গত ১৩ জুন পঞ্চম সিআইসিএ সম্মেলনে যোগ দিতে তাজিক রাজধানী দুশানবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং ১৬ জুন উজবেকিস্তান সফরে যান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস্রে একটি বিশেষ বিমানে আবদুল হামিদ আগামীকাল সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • দ্বীনের দাওয়াত প্রসঙ্গে বিশ্বনবির প্রতি আল্লাহর নির্দেশ

    দ্বীনের দাওয়াত প্রসঙ্গে বিশ্বনবির প্রতি আল্লাহর নির্দেশ

    ‘নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা।’ আল্লাহ তাআলা ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীনকেই জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেন না। আর এ ইসলাম মানেই হলো আত্মসমর্পণ।

    তাই আল্লাহ তাআলা মানুষের কাছ থেকে যে দ্বীন গ্রহণ করেন, তা শুধু মস্তিষ্ক দ্বারা কোনো কিছু চিন্তা করা নয় এবং মন দ্বারা কোনো কিছুকে সত্য বলে মানাও নয় বরং তা হচ্ছে মস্তিষ্কের এ চিন্তা ও মনের স্বীকৃতিকে বাস্তবে রূপদান করা।

    মানুষ দুনিয়ার জীবনের সব কাজে আল্লাহর বিধানকে কর্যকর করবে, নির্বিঘ্নে তাঁর আইন নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করবে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা অনুসরণ করবে, এটাই হলো ইসলাম বা আত্মসমর্পণ।

    আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আহলে কিতাবের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে ইসলামের প্রতি তাদের আনুগত্য সম্পর্কে তাঁর ও উম্মতের বিষয়ে সুস্পষ্ট মনোভাব তুলে ধরার নির্দেশ দিয়ে বলেন-

    Quran
    আয়াতের অনুবাদ
    Quran

    আয়াতের পরিচয় ও নাজিলের কারণ
    এ সুরার ১৯ নং আয়াতে প্রিয় নবি আহলে কিতাবের অনুসারীদের কাছে তাঁর ও উম্মতে মুহাম্মাদির ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। আর আহলে কিতাবের অনুসারীদের মধ্য থেকে যারা ইসলামে প্রবেশ করবে তারা সত্য ও ন্যয়ের পথ লাভ করবে বলে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দেন।

    এ কথা ঘোষণা দেন যে, ‘আমি ও আমার অনুসারীরা তো সেই নির্ভেজাল ইসলামের স্বীকৃতি দিয়েছি, যেটি আল্লাহর প্রকৃত দ্বীন ও জীবন বিধান।’

    আর আহলে কিতাবের অনুসারীদের কাছে প্রিয় নবির জিজ্ঞাসা হলো এমন যে, ‘তোমরা বলো, তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষ দ্বীনের মধ্যে যে পরিবর্তন করেছো তা বাদ দিয়ে আল্লাহর প্রকৃত দ্বীন ও জীবন বিধানের দিকে কি ফিরে আসবে?

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ জিজ্ঞাসা শুধু আহলে কিতাবের অনুসারীদের প্রতিই ছিল না বরং তা আরবের মুশরিকদের কাছেও ছিল। তারা আহলে কিতাবের অনুসারীদের তুলনায় সাধারণভাবে নিরক্ষর ছিল।

    আল্লাহ তাআলা সে সময়কার আহলে কিতাবের অনুসারীদের আচরণকে জনসম্মুখে তুলে ধরেন। আহলে কিতাবের অনুসারীরা নিজেদের আল্লাহর দ্বীনের অনুসারী বলে দাবি করতো।

    অথচ যখনই তাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার-ফয়সালার আহ্বান জানানো হতো, তখনই তাদের একদল তা প্রত্যাখ্যান করতো। যা ছিল তাদের দাবির পরিপন্থী বিষয়।

    এ কারণেই আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ কথা ঘোষণার নির্দেশ দেন যে,
    ‘হে রাসুল! যদি কাফেররা আপনার সঙ্গে দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা নিয়ে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হয় তবে আপনি তাদের বলে দিন, আমি ও আমার অনুসারীরা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমরা তাঁর বাধ্যগত।
    আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে সেসব আহলে কিতাবের অনুসারী ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের এবং নিরক্ষরদের তথা আরবের মুশরিকদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় না জড়িয়ে শুধু বলুন, তোমরা কি ইসলাম গ্রহণ (আত্মসমর্পণ) করেছ?
    যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে তবে তারা পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত পাবে। আর যদি তারা ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনার দায়িত্ব হলো শুধু দ্বীনের আহ্বান তথা রেসালাতের বাণী প্রচার করা। কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দার সব কাজ দেখেন এবং এর প্রতিফল দান করেন।

    মুমিন মুসলমানের উচিত জীবনের প্রতিটি বিষয়ে দ্বীনের ওপর অটল ও অবিচল থাকা। ইসলামের বিষয়ে কারো সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় না জড়িয়ে ইসলামের সৌন্দর্য ও বিধানগুলো সবার কাছে তুলে ধরা। যারা ইসলামের এ আহ্বান গ্রহণ করবে তারাই হবে সফলকাম।

    উল্লেখ্য যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে যুদ্ধ তথা জিহাদের আয়াত নাজিল হওয়ার আগে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি নির্দেশ ছিলো এমন যে, ইসলাম নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো বাক-বিতণ্ডার প্রয়োজন নেই। আপনার কাজ হলো শুধু দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে যাওয়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়ার মাধ্যমে জীবনের সব কাজ ইসলামের আলোকে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • আল্লাহর কাছে যে ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়

    আল্লাহর কাছে যে ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়

    আল্লাহর কাছে যে ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়’- কথাটি শুনতেই যেন কেমন লাগে। ‘ইসলাম’ নামে এমন কোনো আলাদা জীবন ব্যবস্থা আছে কি? যা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ‘না’, এমন কোনো জীবন ব্যবস্থা নেই। তাহলে এমনটি বলার উদ্দেশ্য কী?

    আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘ইসলাম-ই আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা। আর তা তখনই মানুষের জীবনে বাস্তবায়িত হয়, যখন মানুষ পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পিত করে।

    বর্তমান সময়ে একদল লোক দেখা যায়, যারা ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝার চেষ্টা করে না। তারা ইসলামকে নিতান্তই ব্যক্তিগত বিষয় মনে করে। প্রকৃতার্থে ইসলাম এমন জীবন ব্যবস্থা নয়।

    বরং ইসলাম হলো পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। যেখানে কোনো বিষয়ের ঘাটতি নেই। যা মানুষকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অথনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জীবন পরিচালনায় তার বিধান বা জীবন ব্যবস্থা পেশ করে। ইসলাম এমনই এক জীবন বিধান, যা-
    > পূর্ণ পরিণত
    > যুক্তিসঙ্গত
    > বাস্তবের অগ্নি পরীক্ষায় বার বার পরীক্ষিত জীবন বিধান।

    মানব জীবনের এমন কোনো দিক বা বিষয় নেই, যা ইসলামের আওতাধীন নয়। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইসলাম মানুষের জীবনের সেই পরিপূর্ণতার কথা বার বার ঘোষণা করে।

    এখন প্রশ্ন হলো, ‘আল্লাহর কাছে কোন ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়?’
    > যারা ব্যক্তি জীবনে ইসলামকে মানতে রাজি কিন্তু সমাজ ও জাতীয় জীবনে ইসলামের বিধান প্রতিফলন, বাস্তবায়ন দেখতে নারাজ।
    – যারা ইসলামের কিছু অংশের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মেনে নেয় আর কিছু অংশের প্রতি অবিশ্বাস করে এবং জীবনে বাস্তবায়ন কিংবা মেনে নিতে চায় না।

    আল্লাহ তাআলার কাছে এ রকম খণ্ডিত ইসলাম কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামের কিছু বিধান খুব মন দিয়ে মেনে নেবে আর কিছু অংশ ছেড়ে দেবে। এ ধরনের ইসলাম পালন কোনোভাবেই আল্লাহর কাছে গ্রহণ যোগ্য নয়।

    বরং যদি কেউ ইসলামের কোনো বিষয়ে আপত্তি করে কিংবা মেনে নিতে না পারে; সে ব্যক্তির ঈমানদার হওয়ার ব্যাপারেই প্রশ্ন এসে যায়।

    সুতরাং সাবধান!
    বর্তমান সময়ে আধুনিকতার নামে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে কোনো মুসলমানের সেকুলারিজম তথা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই।

    মনে রাখতে হবে
    ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিম আল্লাহর বিধানের বাইরে অন্য কারো কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। ইসলামকে একমাত্র জীবন বিধান ঘোষণার পর আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে ঘোষনা করেন-
    ‘তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে স্বেচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক সবই আল্লাহর অনুগত হয়েছে আর তার দিকেই ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৮৩)

    সুতরাং পরিপূর্ণ, যুক্তিসম্মত ও বাস্তবের অগ্নি পরীক্ষায় প্রমাণিত ইসলামের প্রতি নিজেদের নিয়োজিত রাখতে কুরআনের এ নির্দেশ মতো জীবন গঠন করা মুসলিম উম্মাহর জন্য একান্ত আবশ্যক। আর তাহলো-
    ‘রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো আর যে কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক।’ (সুরা হাশর : আয়াত ৭)

    তাই ইসলামের একান্ত দাবি হলো- মানুষের ব্যক্তি, পরিবার সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করবে। কেননা জীবন পরিচালনায় ইসলামের বাইরে কোনো কাজই আল্লাহ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। ইসলাম বহির্ভূত যে কোনো কাজ বা বিষয়কে পরিহার করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্ত থাকার দোয়া

    অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্ত থাকার দোয়া

    প্রযুক্তির উচ্চতর আবিষ্কারগুলো আল্লাহর একান্ত রহমত ও তার শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন। আল্লাহর সৃষ্টির অপার রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তির নানা দিক ও আবিষ্কারগুলোই এর বড় দৃষ্টান্ত।

    কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহারের ফলে মানুষ নানান ধরনের অন্যায়-অপরাধ তথা অশ্লীলতায় নিয়োজিত হচ্ছে। যা উঠতি বয়সী কিশোর যুবক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদেরকেও অন্যায় অপরাধের দিকে অনেক বেশি ধাবিত করছে।

    হাদিসের বর্ণিত দোয়াটির নিয়মিত আমলের ফলে দুনিয়ার সব নিকৃষ্ট কাজ যেমন- পর্নোগ্রাফি, অশ্লীলতা, চারিত্রিক কামনা-বাসনা, পরনারীর প্রতি কুদৃষ্টিসহ বিভিন্ন অপকর্ম থেকে দূরে থাকা যাবে। হাদিসে উল্লেখিত দোয়াটি নামাজের সেজদায় বেশি বেশি পড়াই সর্বোত্তম। আর তাহলো-

    হজরত যিয়াদ ইবনে ইলাক্বাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-
    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

    সুতরাং তথ্য প্রযুক্তিসহ দুনিয়ার যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকতে কুরআন-সুন্নাহর দিক-নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়া ও আমল অত্যন্ত জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি সিজদায় দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। অশ্লীলতা ও বেহায়পনা থেকে হেফাজত করুন।

    আমিন।

  • কু-নজরের বড় ক্ষতি ও তা থেকে বাঁচার উপায়

    কু-নজরের বড় ক্ষতি ও তা থেকে বাঁচার উপায়

    কুনজর বা কুদৃষ্টি মানুষকে অন্যায় কাজের দিকে ধাবিত করে। এর মাধ্যমেই মানুষ অপরাধের দিকে ধাবিত হয়। অশ্লীলতা ও নগ্নতার প্রভাব বেড়ে যায়। এ কারণেই ইসলাম মানুষকে দৃষ্টির হেফাজতের ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছেন।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিন মুসলমানকে রাস্তার হক আদায় করে চলাফেরা করার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। দৃষ্টিকে অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

    বদ নজরের কারণে মানুষের অন্তর ও চরিত্র বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়। যা মানুষকে ধীরে ধীরে চরিত্রহীনতার দিকে ধাবিত করে। আর তাহলো-

    >> কল্পনা
    কুদৃষ্টি মানুষকে কল্পনাবিলাসী করে তোলে। দৃষ্টি হেফাজত না করে যদি কোনো সুন্দর চেহারার প্রতি নজর যায়। তবে সে চেহারা নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হয় কল্পনা। কল্পনার রাজ্যে মানুষ এমন কোনো হীন অপরাধ বা চিন্তা নাই, যা সে করে না। ফলে কাল্পনিকভাবেই মানুষের মাঝে তৈরি হয় চরম ও জঘন্য গোনাহের কাজ।

    বদ নজরকে বাহন বানিয়ে শয়তান মানুষের মন-মস্তিষ্কে হানা দেয়। একটা সময় মানুষ কল্পনাপ্রসূত চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নে আগ্রাসী হয়ে ওঠে। এ বদ নজর মানুষকে বিধ্বংসী খারাপ চরিত্র থেকে শুরু করে শিরকের দিকে ধাবিত করে।

    দৃষ্টি বা নজর ভালো করতে আল্লাহর ভয় অর্জন করতে হবে। আল্লাহর ভয়ে ভীত লোকদের সংস্পর্শে থাকতে হবে। বিশেষ করে খারাপ মানুষের সংস্পর্শ ত্যাগ করতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সর্তক করেছেন এভাবে-

    ‘আর ওই ব্যক্তির আনুগত্য করো না, যার চিত্তকে (মনকে) আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি। যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে।’ (সুরা কাহ্‌ফ : আয়াত ২৮)

    >> মস্কিষ্কের বিকৃতি
    বদ নজরের ফলে মানুষ যে কোনো ভালো কাজ বা কথা থেকে দূরে সরে যায়। মানুষের ভালো কথা পছন্দ হয় না। কুরআন-সুন্নাহর পরিবর্তে গান-বাদ্য-বাজনায় আসক্ত হয়ে পড়ে।
    নিজ ঘরে সুন্দরী সতী-সাধবি স্ত্রী থাকা স্বত্ত্বেও মানুষ পরনারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। পশুর চরিত্র ধারণ করে বসে। যা মানুষকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের শেষ প্রান্তে নিয়ে যায়।
    নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পড়া-লেখা ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ মোবাইলসহ ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ও চরিত্র বিধ্বংসী খেলাধুলা ও সিনেমায় আসক্ত হয়ে যায়। দুনিয়ার সব খারাপ তথ্য উপাত্তগুলোকেই জীবনের একমাত্র চাওয়া-পাওয়া মনে করে।

    শিশু, কিশোর, যুবক, ছাত্র, ব্যবসা, চাকরিসহ প্রতিটি কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি নিজ নিজ কাজে এমনভাবে অমনোযোগী হয়ে ওঠে যে, এর বিপরীত খারাপ কাজ ছাড়া কোনো কাজেই তার মন বসে না।

    এ থেকে বেঁচে থাকেত আল্লাহর সাহায্য লাভে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশিত এ দোয়া বেশি বেশি পড়া জরুরি-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’

    অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

    >> ধর্মীয় ঘোড়ামি
    বদ নজরের ফলে মানুষ তাওহিদ থেকে শিরকে দিকে ধাবিত হয় আবার ইবাদতকারী ব্যক্তি বেদায়াতের দিকে ধাবিত। কুরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন বিষয় পড়তে কিংবা অধ্যয়ন করতে গিয়ে বিপরীত চিন্তা-ভাবনায় নিজেকে জড়িয়ে রাখে।

    স্বচ্ছ ইসলামে বিশ্বাসী মুমিন ব্যক্তির প্রতি ধর্মীয় গোড়ামির কুপ্রভাবে নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ঈমান বিধ্বংস হয়ে যায়। তাওহিদের বিপরীতে শিরকে জড়িয়ে পড়ে। ইবাদত মনে করে বেদায়াতি কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে। ফলে মানুষ ঈমানহারা হয়ে যায়।

    সুতরাং মানুষের উচিত, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। এমন কোনো দিকে নজর বা দৃষ্টি না দেয়া যার ফলে মানুষ কুদৃষ্টি বা বদনজরের রাহুগ্রাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

    বদনজর বা কুদৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে বাঁচতে নিয়মিত কুরআনি আমল করে যাওয়া। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। এ আয়াত তেলাওয়াত করা। এ আয়াতের শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। যারা পড়তে পারে না তা লিখে নিজেদের সঙ্গে রাখা-

    وَإِن يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ – وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَالَمِينَ

    উচ্চারণ : ওয়া ইয়্যাকাদুল্লাজিনা কাফারু লাইয়ুযলাকুনাকা বি-আবসারিহিম লাম্মা সামিয়ুজ জিকরা ওয়া ইয়াকুলুনা ইন্নাহু লামাঝনুন। ওয়া মা হুয়া ইল্লা জিকরুল লিল-আলামিন।’ (সুরা আল-ক্বালাম : আয়াত ৫১-৫২)

    অর্থ : ‘অবিশ্বাসীরা যখন আল্লাহর কিতাব শুনে তখন এমনভাবে তাকায় যে, মনে হয় এখনই নিজেদের দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়ে ঘায়েল করে দেবে। তারা এ কথাও বলে যে, সে (এ কিতাবের বাহক) একজন পাগল। অথচ (এরা জানে না) এ কিতাব তো মানবমণ্ডলীর জন্যে একটি উপদেশ বৈ কিছুই নয়!’

    মনে রাখতে হবে
    কুনজরের বড় ক্ষতিগুলো থেকে বাঁচতে কল্পনা, মস্তিষ্কের বিকৃতি ও ধর্মীয় গোড়ামি থেকে বেঁছে থাকা যেমন জরুরি তেমনি বেশি বেশি আল্লাহকে ভয় করাও জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দৃষ্টির হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। খারাপ বা অশ্লীল কাজ ও চিন্তা-চেতনা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। জীবনের যাবতীয় খারাপ ধারনা ও কুনজর থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর সাহায্য ও প্রার্থনার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • নিশ্চিত দোয়া কবুলের সেরা ১০টি সময়

    নিশ্চিত দোয়া কবুলের সেরা ১০টি সময়

    আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার দোয়া সব সময় কবুল করে থাকেন। তারপরও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুনির্দিষ্ট কিছু সময়ের কথা হাদিসে পাকে উল্লেখ করেছেন। যে সময়গুলো দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা নিশ্চিতভাবে বান্দার দোয়া কবুল করেন। আর তাহলো-

    >> রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক দিন রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব সবচেয়ে নীচের (প্রথম) আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আছো? আমাকে ডাকো; আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে? আমার কাছে চাও; আমি তোমাকে দান করবো। কে আছো? আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী; আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি)

    >> আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না।’ (আবু দাউদ)

    >> জুমআর দিনের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমআর দিনে একটি সময় আছে যে সময়টা কোনো মুমিন নামাজ পড়া অবস্থায় পায় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ অবশ্যই সে চাহিদা পুরণ করবেন। এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে সে সময়ের সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন।’ (বুখারি)

    >> সেজদার সময়ের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছে চলে যায়, তাহলো সেজদার সময়। সুতরাং তোমরা তখন আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাও।’ (মুসলিম)

    >> ফরজ নামাজের পরের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রাতের শেষ সময় এবং ফরজ নামাজের পরে দোয়া কবুল হয়।’ (মুসলিম)

    >> কদরের রাতের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, তার আগের (জীবনের) সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (বুখারি)

    >> বৃষ্টি হওয়ার সময়ের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফেরানো হয় না। আজানের সময়ের দোয়া আর বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া।’ (আবু দাউদ)

    >> আরাফাতের দিনের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দোয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আরাফাতের দিনের দোয়া।’ (তিরমিজি)

    >> জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল অন্য যে কোনে দিনের আমলের চেয়ে উত্তম।’ (বুখারি)

    >> রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের সময়ের দোয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘৩ ব্যক্তির দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেয়া হয় না। যখন রোজাদার ব্যক্তি ইফতার করে। ন্যায় পরায়ন শাসক। নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)

    মুমিন মুসলমানের উচিত এ সময় ও দিনক্ষণগুলোতে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। নিজের একান্ত চাহিদাগুলো পূরণে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত দিন ও সময়ে তাওবা-ইসতেগফারসহ দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।