Category: ধর্ম

  • ইসলাম সম্পর্কে আল্লাহ যে ঘোষণা দিলেন

    ইসলাম সম্পর্কে আল্লাহ যে ঘোষণা দিলেন

    আল্লাহ তাআলার কাছে একমাত্র ইসলামই গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবনাদর্শ বা ধর্ম গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে এ কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, ‘যারা ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবন ব্যবস্থা সন্ধান করে, তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না।

    ইসলাম পরবর্তী কোনো যুগেই ইসলাম ছাড়া কোনো আদর্শ মুসলমানের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কোনো ক্ষমতার কাছেই মুসলমান মাথা নত করেনি। যেমনিভাবে প্রবল ক্ষমতাধর সম্রাট আকবরের যুগে তার প্রতিষ্ঠিত ‘দ্বীনে ইলাহী’ মাথা উঁচু করতে পারেনি।

    ইসলামই একমাত্র গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয় জীবন ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। সে ঘোষণাই দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা-

    Quran-1

    আয়াতের অনুবাদ

    Quran-2

    আয়াতের পরিচয় ও নাজিলের কারণ
    এ সুরার ১৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজেই তার একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন যে, ইসলাম-ই হলো দুনিয়াতে চিরস্থায়ী প্রতিষ্ঠিত একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা। এর পরে আর কোনো জীবন ব্যবস্থা আসবে না।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর মিথ্যা নবুয়তের দাবি নিয়ে অসংখ্য লোক আত্মপ্রকাশ করেছিল। তাদের সে দাবি ঈমানের বলে বলিয়ান মুসলমানের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। দুনিয়ার বহু ক্ষমতাধর রাজা-বাদশারাও ইসলামের সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করে টিকতে পারেনি। যার জলন্ত প্রমাণ সম্রাট আকবর।

    বর্তমান সময়েও বহু মানুষ ইসলামকে সঠিক ভাবে বুঝার চেষ্ট করে না। তাদের ধারণা ইসলাম নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। বাস্তবে ইসলাম নাম সর্বস্ব এমন জীবন ব্যবস্থা নয়, বরং ইসলাম হলো আল্লাহ তাআলা কর্তৃক মনোনীত ও পছন্দনীয় পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। যাতে অপরিপূর্ণতার কোনো কিছুই নেই।

    মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বয়ং সম্পূর্ন এক জীবন ব্যবস্থার নাম-ই হলো ‘ইসলাম’। আর কুরআনে পাকে সে ঘোষণাই দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।

    মনে রাখতে হবে
    যারা ব্যক্তি জীবনে ইসলামকে মেনে চলে কিন্তু সমাজ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের বাস্তবায়ন দেখতে চায় না, তারা ইসলামের কিছু অংশের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো আর কিছু অংশের প্রতি অবিশ্বাস করলো। আল্লাহর কাছে এ রকম খণ্ডিত ইসলাম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা।

    যারা আধুনিককালে যারা মুসলমান হয়েও সেকুলারিজম তথা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে এবং তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতার ছত্রছায়ায় ইসলামকে দুর্বল ও অপরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে সাব্যস্ত করার প্রয়াস চালায়, তাদের ভ্রান্ত ধারণা এ আয়াত দ্বারাই বাতিল ঘোষিত হচ্ছে।

    আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ তাআলা ইসলামকে অবিশ্বাসকারীদের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘যারা ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মানতে নারাজ তাদের জানা উচিত আল্লাহ তাআলা তাদের কর্মকাণ্ডের হিসাব গ্রহণে আল্লাহ তাআলা অনেক দ্রতগামী। সুতরাং সময় থাকতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা বুদ্ধিমানের কাজ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার প্রতিটি কাজে পরিপূর্ণভাবে ইসলামকে গ্রহণ ও এর বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • পরকালে সর্বাধিক শাস্তি ভোগ করবে যারা

    পরকালে সর্বাধিক শাস্তি ভোগ করবে যারা

    ইসলাম মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা জানার পর যারা ইসলাম সম্পর্কে মতবিরোধ করে তাদের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ ঘোষণা ছিল এরকম যে, ‘(হে রাসুল!) যদি তারা আপনার সঙ্গে দ্বন্দ্ব-কলহ করে তবে আপনি তাদের বলে দিন, আমি ও আমার অনুসারিরা আল্লাহর কাছে আত্ম-সমর্পণ করেছি।’

    আল্লাহর নির্দেশে বিশ্বনবির দেয়া কুরআনের ঘোষণা অবিশ্বাসী ইয়াহুদি সম্প্রদায় মেনে নেয়নি বরং তা অস্বীকার করে। ইয়াহুদিরা তাদের নবিদের কথা অমান্য করে এবং নবি ও তাদের অনুসারিদের হত্যা করে। ফলে তারা দুনিয়াতে হবে লাঞ্ছিত এবং পরকালে ভোগ করবে কঠোর শাস্তি।

    আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলের সেসব অনুসারীদের বর্ণনা এখানে তুলে ধরেছেন, যারা তাদের নবিদের অস্বীকার করেছিল এবং তাদের হত্যা করেছিল। যাদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ শাস্তির কথা ঘোষণা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    Quran-1

    আয়াতের অনুবাদ

    Quran-2

    আয়াতের পরিচয় ও নাজিলের কারণ
    সুরা আল ইমরানের ১৯ ও ২০ নং আয়াতে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে ঘোষণা করার পর ২১ ও ২২নং আয়াতে বনি ইসরাইলের নবিদের ও তাওহিদের অনুসারিদের অবিশ্বাস ও হত্যার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের কঠোর শাস্তির কথাও তুলে ধরেছেন এ আয়াতে।

    ‘নিশ্চয় যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে’ বলে কুরআনে ইয়াহুদিদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এমনিভাবে এ ইয়াহুদি সম্প্রদায় আগের আসমানি গ্রন্থ ইঞ্জিল অস্বীকার করে এবং তাওরাতের সেসব অংশকেও অস্বীকার করে, যেসব অংশে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আলোচনা বর্ণিত ছিল।

    এ আয়াতে আরো বলা হয়, ‘যারা অন্যায়ভাবে আম্বিয়ায়ে কেরামকে হত্যা করে এবং ন্যায় ইনসাফের উপদেশদানকারী মানুষকে হত্যা করে।’

    ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরবের ইয়াহুদি সম্প্রদায় তাদের নবি ও নবি অনুসারীদের হত্যার মতো বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও হত্যা করার ষড়যন্ত্র করো। তারা বিশ্বনবিকে খাদ্যের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার ষড়যন্ত্রও করেছিল। বিশ্বনবির প্রতি জাদু করেছিল। এমনকি তার বিপরীতে যুদ্ধও করেছিল।

    তাদের এ অমার্জনীয় অপরাধকেও তারা অপরাধ মনে করতো কিন্তু ক্ষমতার লোভ ও অর্থ-সম্পদের লালসায় তাদেরকে এ অন্যায় কাজের দিকে ধাবিত করতো।

    নবি ও নবি অনুসারীদের হত্যা প্রসঙ্গে তাফসিরে এসেছে-
    হজরত আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি একবার বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে আরজ করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কেয়ামতের দিন সর্বাধিক কঠিন শাস্তি কার হবে? তিনি ইরশাদ করলেন, যে কোনো নবীকে হত্যা করেছে অথবা যে সৎ কাজের নির্দেশ প্রদানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধকারীকে হত্যা করেছে। এরপর বিশ্বনবি এ আয়াত তেলাওয়াত করেন।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াহুদিদের শাস্তির বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন-
    ‘বনি ইসরাইল ৪৩ জন নবীকে দিনের প্রথম ভাগে এক ঘণ্টার মধ্যে হত্যা করে। আম্বিয়ায়ে কেরামের শাহাদাতের পর বনি ইসরাইলের ১২০ জন পরহেজগার ব্যক্তি সৎ কাজের নির্দেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে সচেষ্ট হয়।
    ইয়াহুদিরা ওই একই দিনের শেষ ভাগে তাদেরকেও হত্যা করে। তাদের সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলা কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন-

    ‘(হে রাসুল!) আপনি তাদেরকে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির খবর দিন।’

    এ ইয়াহুদিদের দুনিয়ার সব কাজই ব্যর্থ হয়েছে। দুনিয়া ও পরকালে তারা ব্যর্থ। দুনিয়ার জীবনে তারা অভিশপ্ত আর পরকালে কঠোর শাস্তিও তাদের জন্য নির্ধারিত। পরকালে তাদের কঠিন শাস্তির সময় কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না।

    আলোচ্য আয়াতের আলোকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, ইয়াহুদিরা পরকালে সর্বাধিক শাস্তি ভোগ করবে। শুধু ইয়াহুদিরা নয়, বরং দুনিয়াতে যারা ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মেনে নেবে না এবং ইয়াহুদিদের অনুসরণ ও অনুকরণ করবে, তারাও পরকালে সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করবে। তাদের ব্যাপারেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সতর্কবার্তা ঘোষণা করেছেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়ার মাধ্যমে জীবনের সব কাজ ইসলামের আলোকে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। ইয়াহুদিদের অনুসরণ ও অনুকরণ থেকে হেফাজত করুন। পরকালের কঠোর শাস্তি থেকে হেফাজত করুন।

    আমিন।

  • ঈদ-উল-আজহায় দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা!

    ঈদ-উল-আজহায় দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা!

    এবার ঈদুল আজহায়ও দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই ছুটির মধ্যে একটি কর্মদিবস রয়েছে সেটি ম্যানেজ করতে পারলেই পেয়ে যাবেন টানা ৯ দিনের ছুটি।

    মূলত হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে থাকে। সরকারি ছুটির তালিকায় আগামী ১২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদুল আজহা আগামী ১১ আগস্ট হতে পারে বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার (আইএসি) ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে।

    সে অনুযায়ী, বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে দুই আগস্ট এবং ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে পারে ১২ আগস্ট।

    বাংলাদেশে ১২ আগস্ট ঈদুল আজহা হলে ছুটি থাকবে- ১১, ১২ ও ১৩ আগস্ট অর্থাৎ রোব, সোম ও মঙ্গলবার। এর আগে শুক্র ও শনিবার (৯ ও ১০ আগস্ট) দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি। ঈদের ছুটির পর ১৪ আগস্ট (বুধবার) অফিস খোলা। এর পরের দিন ১৫ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) জাতীয় শোক দিবসের ছুটি। শোক দিবসের ছুটির পর ১৬ ও ১৭ (শুক্র ও শনিবার) দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি। দেখা যাচ্ছে, ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ৯ দিনের মধ্যে শুধু ১৪ আগস্ট বুধবার অফিস খোলা।

    এ বিষযে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) মো. রইছ উদ্দিন জানান, এখনও অনেক সময় বাকি আছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার সময় এখনও আসেনি। পরে এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

  • জাদুটোনায় আক্রান্ত হলে কী করবেন মুমিন?

    জাদুটোনায় আক্রান্ত হলে কী করবেন মুমিন?

    জাদুটোনা কিংবা কুফরির মাধ্যমে করা তদবিরে মানুষ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায়। তা থেকে বেঁচে থাকতে রয়েছে আমল ও দোয়া। এ জাদুটোনা কিংবা মানুষ এবং বদ-জ্বীনের কুপ্রভাবে হয়ে থাকে।

    জাদুটোনা কিংবা কুফরির কুপ্রভাব থেকে বাঁচতে যেমন সঠিক আমল করা জরুরি। তেমনি আক্রান্ত হয়ে গেলে তা থেকে বাঁচতে বিশুদ্ধ তদবির গ্রহণ করাও জরুরি। সংক্ষেপে কিছু আমল, উপায় ও পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-

    >> জাদুটোনার ধরণ বুঝে পদক্ষেপ গ্রহণ
    মানুষের ক্ষতি কী ধরণে জাদুটোনা করা হয়েছে প্রথমেই সে সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। আর তা জানতে সক্ষম হলে জাদুর জিনিসগুলো ধ্বংসের মাধ্যমেই তা থেকে মুক্ত হওয়া যায়। যেমন- কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো জিনিসের মাধ্যমে হতে পারে তা মানুষের চুল, ব্যবহৃত চিরুনি, পানি পানের গ্লাস বা মগ কিংবা অন্য কোনো ব্যবহৃত জিনিস। তবে সে সব জিনিস আগুণে কিংবা পানি দ্বারা নষ্ট করে দিতে হবে।

    >> জাদুকার চিহ্নিত করা
    কোন ব্যক্তির দ্বারা ক্ষতিকর জাদুটোনা করা হয়েছে, সম্ভব হলে তা জেনে নেয়া। জাদুটোনাকারী কে? তা জানতে পারলে সে ব্যক্তিকে তা নষ্ট করতে বাধ্য করা। জাদুটোনাকারী ব্যক্তিকে তা নষ্ট করার পর তাওবা করানো। ইসলামে জাদুটোনাকারীকে হত্যার নির্দেশ এসেছে। মুসলিম (ইসলামি শাসন প্রক্রিয়ায়) শাসকের ওপর দায়িত্ব হলো জাদুকারীকে তাওবার আহ্বান না করেই হত্যা করা।

    হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘জাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তলোয়ারের আঘাতে তার গর্দান ফেলে দেয়া।’ ফলে হজরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন জানতে পারলেন যে, তাঁর এক বাদী জাদুটোনা করে, তখণ তাকে হত্যা করা হয়।

    >> ঝাঁড়ফুঁকের মাধ্যমে জাদুটোনা নষ্ট করা
    জাদ নষ্ট করার ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁকের রয়েছে বড় ধরনের প্রভাব। আর তাহলো এমন-
    – ‘জাদুটোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর অথবা কোনো একটি পাত্রের পানিতে আয়াতুল কুরসি অথবা সুরা আরাফ, সুরা ইউনুস, সুরা ত্বহা এর যাদু বিষয়ক আয়াতগুলো পড়ে দম করা এবং তা পান করা।

    – হজরত ওয়াহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যে ব্যক্তি জাদু-টোনার শিকার হয়, তাঁকে জাদুর প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হলে নিম্নোক্ত আমলটি করতে হবে। আর তা হলো-
    কুলের সাতটি পাতা পাটায় বেটে পানিতে মিশাতে হবে। অতঃপর আয়াতুল কুরসি পড়ে ওই পাটা পাতার ওপর ফু দিতে হবে। সেগুলো পানির সঙ্গে মিশাতে হবে। তা থেকে জাদুকৃত ব্যক্তিকে তিন ঢোক পানি পান করাতে হবে।
    অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে। ইনশাল্লাহ! এ আমলের কারো প্রতি জাদু ক্রিয়া হয়ে থাকে; তবে তা নষ্ট হয়ে যাবে।

    >> জাদুটোনা থেকে বাঁচার আমল
    – নিয়মিত আয়াতুল কুরসি, সুরা কাফিরুন, সুরা ইখলাস, সুরা নাস ও সুরা ফালাক পড়া।
    – নিয়মিত এ দোয়াটি পড়া-
    اَللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أذْهِبِ الْبَأسَ وَاشْفِ أنْتَ الشَّافِيْ لَا شِفَاءَ إلَّا شِفَاؤُكَ ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمَا
    উচ্চারণ আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস! আজহিবিল বাস। ওয়াশফি আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইয়ুগাদিরু সাকামা।’
    অর্থ : হে আল্লাহ, হে মানুষের প্রতিপালক! আপনি কষ্ট দূর করে দিন ও সুস্থতা দান করুন। (কেননা) আপনি রোগ থেকে সুস্থতা দানকারী। আপনার সুস্থতা দানই হচ্ছে প্রকৃত সুস্থতা দান। আপনি এমনভাবে সুস্থতা দান করুন, যাতে তা রোগকে নির্মূল করে দেয়।’

    >> জিবরিলের দোয়া
    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম এ দোয়া পড়ে ঝাঁড়ফুঁক করেছিলেন।
    জিবরিলের দোয়াটি পড়া-
    بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ
    উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইয়ুজিকা। মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনি হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিকা । বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।’
    অর্থ : আল্লাহর নামে সব কষ্টদায়ক বিষয় থেকে আমি আপনাকে ঝাঁড়ফুঁক করছি। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চোখের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত আমল, দোয়া ও উপায়গুলো মেনে চলার মাধ্যমে ক্ষতিকর সব জাদুটোনা থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যেসব আমলে পাওয়া যাবে হজের সওয়াব

    যেসব আমলে পাওয়া যাবে হজের সওয়াব

    হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সংহতি ও সাম্যের সমুজ্জ্বল নিদর্শন। হজের সওয়াব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।

    আর মকবুল হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি : ১, পৃষ্ঠা: ২০৬) মূলত যাদের হজে অথবা ওমরায় যাওয়ার সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই তাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হজ-ওমরার সওয়াব অর্জনের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে সেসব আমল বাতলে দিয়েছেন।

    ১. সকাল-সন্ধ্যার জিকির
    আবুদ্দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, আমরা একবার রাসুল (সা.)-কে বলি, হে আল্লাহর রাসুল! ধনী ব্যক্তিরা সওয়াবের ক্ষেত্রে আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা হজ করেন, আমরা হজ করি না। তারা সংগ্রাম-যুদ্ধে শরিক হন, আমরা শরিক হতে পারি না। আরও আরও…। তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলবো যেটা তোমরা করলে তোমরা তারা যে আমল করে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাবে? আর সেটা হলো- প্রতি নামাজের পর তোমরা ৩৪ বার আল্লাহু আকবার, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ও ৩৩ আলহামদুল্লিাহ পড়ো।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ১১১৫৪)

    ২. জামাতে নামাজ আদায়
    আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করলো, সে যেন হজ করে আসলো। আর যে ব্যক্তি নফল নামাজ আদায় করতে মসজিদে গেলো, সে যেন ওমরাহ করে আসলো।’ (তাবরানি, হাদিস নং: ৭৫৭৮)

    ৩. ইশরাকের নামাজ পড়া
    ফজরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদে সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করা। আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করলো, এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করলো, সে ব্যক্তি হজ ও ওমরাহর সওয়াব নিয়ে ফিরলো।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ৫৮৬)

    ৪. ফরজ নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়া
    আবু উমামা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজের ঘর থেকে ওজু করে (মসজিদের দিকে) বের হয়, সেই ব্যক্তির সওয়াব ইহরাম বাঁধা হাজির মতো হয়।’ (আহমাদ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২১২; আবু দাউদ, হাদিস নং: ৫৫৮; তারগিব, হাদিস নং: ৩২০)

    ৫. দ্বীন শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়া
    আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কথা শিখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে গেল, সে পরিপূর্ণরূপে হজ আদায়কারী ব্যক্তির মতো সওয়াব লাভ করবে।’ (তাবারানি, হাদিস নং: ৭৪৭৩)

    ৬. রমজানে ওমরাহ পালন করা
    সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানে ওমরাহ আদায় করলে আমার সঙ্গে হজ্জ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৭৮২; মুসলিম, হাদিস নং: ২২২)

    ৭. মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করলো, তারপর মসজিদে কুবায় এসে কোনো নামাজ আদায় করল, সে ওমরাহর সওয়াব হাসিল করল। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১৪১২)

    ৮. জুমার নামাজ
    আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে উত্তমরূপে অজু করে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে ইহরাম বেঁধে হজে গমনকারীর মতো সওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি শুধু সালাতুদ্দুহা (পূর্বাহ্নের নামাজ) আদায়ের উদ্দেশ্যে কষ্ট করে বের হয়, সে ওমরাহ আদায়কারীর মতো সওয়াব লাভ করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং:৫৫৮)

    ৯. পিতা-মাতার সেবা ও তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার
    আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি রাসুল (সা.) এর নিকট এসে বললো, আমি জিহাদে-সংগ্রামে অংশ নিতে চাই, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই। তখন রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন?’ লোকটি বলল, আমার মা জীবিত। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর নিকট যুদ্ধ-সংগ্রামে যেতে না পারার অপারগতা পেশ কর। এভাবে যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ, ওমরাহ এবং যুদ্ধ-সংগ্রামের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং মায়ের সেবা করো।’ (মাজমাউজ জাওয়াইদ, হাদিস নং: ১৩৩৯৯)

    ১০. ঈদের নামাজ
    বিভিন্ন বর্ণনায় সাহাবায়ে কিরাম বলেছেন, ‘ঈদুল ফিতরের নামাজ ওমরার সমতুল্য এবং ঈদুল আজহার নামাজ হজের সমতুল্য।

    ১১. মুসলমানের প্রয়োজন মেটানো
    হাসান আল-বসরি (রহ.) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটানো তোমার বারবার হজ করার থেকে উত্তম।

  • হজ-ওমরাহ সফরে নারীর সোনা-গয়না ব্যবহারের বিধান

    হজ-ওমরাহ সফরে নারীর সোনা-গয়না ব্যবহারের বিধান

    হজ ও ওমরাহসংক্রান্ত কয়েকটি প্রয়োজনীয় মাসআলা জানতে চাচ্ছি। এক. সাধারণত আমি সব মিলিয়ে দুই-তিন ভরি স্বর্ণ ব্যবহার করে থাকি। হজ-ওমরাহের ইহরাম অবস্থায় কি এগুলো ব্যবহার করতে পারবো?

    দুই. ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা-পামোজা পরা যায়? পরলে কোনো সমস্যা হবে কি না?

    তিন. সাধারণত সবাই ইহরামের জন্য সাদা কাপড় ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে মহিলাদের জন্যও কি সাদা বোরকা পরতে হবে?

    উত্তর: এক. ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য স্বর্ণালংকার ব্যবহার করা জায়েজ। প্রখ্যাত তাবেয়ি নাফে (রহ.) বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর স্ত্রী এবং মেয়েরা ইহরাম অবস্থায় স্বর্ণ-রূপার অলংকার ব্যবহার করতেন।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস নং: ১৪৪১৪)

    দুই. মহিলারা ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা-পামোজা পরতে করতে পারবেন। এতে কোনো অসুবিধা নেই। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘ইহরাম অবস্থায় মহিলারা হাতমোজা ও পাজামা পরিধান করতে পারবে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস নং: ১৪৪৪০)

    সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি তার কন্যাদের ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পরার নির্দেশ দিতেন। (কিতাবুল উম্ম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২২৩)

    শুবা (রহ.) বলেন, ‘আমি হাকাম ও হাম্মাদ (রহ.)-কে (ইহরাম অবস্থায়) হাতমোজা পরার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা উভয়ে বললেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস নং: ১৪৪৪১)

    সালেম রাহ. বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মুহরিম মহিলাদের পামোজা কেটে দিতেন। কিন্তু সফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ (রা.) তার কাছে যখন আয়েশা (রা.)-এর এ হাদিস বর্ণনা করেন যে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম নারীদের পামোজা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।’ এরপর থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)  মুহরিম নারীদের পামোজা আর কেটে দিতেন না।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ১৮৩১)

    তিন. ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য সাদা বোরকা পরা জরুরি নয়। বরং স্বাভাবিক সময় কালো বা অন্য যে রঙের বোরকা ব্যবহার করে, তা পরতে পারবে। তবে অন্য সময়ের মত হজের সফরেও বোরকার রঙ কালো অথবা এমন হওয়া উচিত, যাতে আলাদা আকর্ষণ তৈরি না হয়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস নং: ১৪৪১৯; আলমাবসুত, সারাখসি: ৪/৩৩; বাদায়েউস সানায়ে: ২/৪১০; ফাতাওয়া খানিয়া: ১/২৮৬; ফাতহুল কাদির ২/৪০৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ২/৫৪৪; আলবাহরুর রায়েক: ২/৩৫৫; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারি, পৃষ্ঠা: ১১৫)

  • জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তিতে যে দোয়া পড়বেন

    জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তিতে যে দোয়া পড়বেন

    রমজানের চূড়ান্ত ফলাফল লাভে আজ (২০ রমজান) থেকেই ইতেকাফ শুরু করবে মুমিন। লক্ষ্য একটাই মহান আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা। বিগত জীবনের গোনাহ মাফ করে নেয়া। আর এতেই মুমিনের জান্নাতের সফলতা লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি সুনিশ্চিত হবে।

    ক্ষমার দশকের আজকের দিনে মুমিন হৃদয়ের আকুতিও তাই। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর জান্নাতে নেয়ামত ও জাহান্নামের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি দিন। বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াতের তাওফিক দিন।

    রোজাদার দিনভর আল্লাহর কাছে এ ধরনাই দিতে থাকে-

    اَللَّهُمَّ افْتَحْ لِىْ فِيْهِ أَبْوَابَ الْجَنَانِ وَ أَغْلِقْ عَنِّىْ فِيْهِ أَبْوَابَ النِّيْرَانِ وَ وَفِّقْنِىْ فِيْهِ لِتِلَاوَةِ الْقُرْأَنِ يَا مُنْزِلَ السَّكِيْنَةِ فِىْ قُلُوْبِ الْمُوْمِنِيْنَ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাফ তাহলি ফিহি আবওয়াবাল ঝিনানি; ওয়া আগ্‌লিক্ব আন্নি ফিহি আবওয়াবান নিরানি; ওয়া ওয়াফ্‌ফিক্বনি ফিহি লি-তিলাওয়াতিল কুরআনি; ইয়া মুনযিলাস সাকিনাতি ফি কুলুবিল মুমিনিন।

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমার জন্য বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দিন এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দাও। আমাকে কুরআন তেলাওয়াতের তাওফিক দান কর। হে ঈমানদারদের অন্তরে প্রশান্তি দানকারী।

    রোজাদারের জন্য একটি কথা মনে রাখা জরুরি-
    আল্লাহ তাআলা মন্দ কাজ সংঘটিত হওয়ার সব বিষয়গুলোকে হালকা করেছেন রোজাদারের ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য। জান্নাতের দরজা খুলে দিয়েছেন জান্নাতি পরিবেশ লাভের জন্য। আবার জাহান্নামের দরজা ও শয়তানকে বেড়ি পড়ানোর মাধ্যমে অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছেন।

    আল্লাহর কাছে জান্নাতের নেয়ামত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির আশায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও আমলের বিকল্প নেই। রোজাদারের জন্য কুরআনের হেদায়েতই সর্বোত্তম নেয়ামত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের দ্বিতীয় দশকে জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভে কুরআনের নেয়ামত লাভ করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • আল্লাহর বন্ধু হওয়ার ও শত্রুতা থেকে বাঁচার দোয়া

    আল্লাহর বন্ধু হওয়ার ও শত্রুতা থেকে বাঁচার দোয়া

    মানুষ আল্লাহর বন্ধু হবে কিংবা তার বন্ধুদের বন্ধু হবে এবং আল্লাহর দুশমনদের দুশমন হতে নির্দেশনা এসেছে কুরআন ও হাদিসে। সে মতেই মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

    কেউ আল্লাহর বন্ধু হতে চায়। আবার কেউ আল্লাহর দুশমনদের বন্ধু হতে চায় না বরং তা থেকে বেঁচে থাকতে চায়। যা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    আল্লাহর বন্ধুদের বন্ধু হতে এবং তার শত্রুতাকারীদের থেকে দূরে থাকতে বেশি বেশি পড়ুন-
    اَللَّهُمَّ اجْعَلْنِىْ فِيْهِ مُحِبًّا لِاَوْلِيَائِكَ وَ مُعَادِيًا لِاَدَائِكَ مُسْتَنَّأً بِسُنَّةِ خَاتَمِ أَنْبِيّائِكَ يَا عَاصِمَ قُلُوْبِ النَّبِيِّيْنَ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাঝ আলনি ফিহি মুহিব্বান লি-আওলিয়ায়িকা; ওয়া মুআদিয়ান লি-আদায়িকা; মুসতান্নাআন বিসুন্নাতি খাতামি আম্বিয়ায়িকা; ইয়া আচিমা কুলুবিন নাবিয়্যিন।

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে তোমার বন্ধুদের বন্ধু বানিয়ে দাও এবং তোমার শত্রুদের শত্রু করে দাও। তোমার আখেরি নবির সুন্নাত ও পথ অনুযায়ী চলার তাওফিক আমাকে দান কর। হে নবীদের অন্তরের পবিত্রতা রক্ষাকারী।

    রোজাদারের জন্য একটি কথা মনে রাখা জরুরি-
    আল্লাহ তাআলা মন্দ কাজ সংঘটিত হওয়ার সব বিষয়গুলোকে হালকা করেছেন রোজাদারের ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য। জান্নাতের দরজা খুলে দিয়েছেন জান্নাতি পরিবেশ লাভের জন্য। আবার জাহান্নামের দরজা ও শয়তানকে বেড়ি পড়ানোর মাধ্যমে অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছেন।

    সুতরাং পরকালের সফলতায় আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করা কিংবা তার বন্ধুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করা জরুরি। আবার যারা আল্লাহর দুশমনি করে তাদের থেকে দূরে থাকার দোয়া করাই উত্তম কাজ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার বন্ধু হওয়ার এবং শুত্রুদের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • তাওবা কি শুধু গোনাহ মাফের জন্য করা হয়?

    তাওবা কি শুধু গোনাহ মাফের জন্য করা হয়?

    আল্লাহ তাআলা বান্দাকে নেয়ামত দান করার জন্য উপলক্ষ খোঁজেন। যেন সে উপলক্ষকে কেন্দ্র করেই বান্দাকে দান করতে পারেন রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত।

    পবিত্র রমজান ও রোজা যেমন একটি উপলক্ষ ঠিক তেমনি চরম দুশ্চিন্তা, সংকট ও আর্থিক অভাব-অনটন থেকে মুক্ত থাকতে রয়েছে একটি উপলক্ষ। দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভে কুরআন-হাদিসে ঘোষিত সে উপলক্ষ হলো বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইসতেগফার (তওবা) করবে, আল্লাহ ওই বান্দাকে তার সব সংকট থেকে উত্তরণের (মুক্তির) পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা (পেরেশানি) মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিক-এর ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

    কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা ইসতেগফারের ফজিলত ঘোষণা করেছেন এভাবে-
    ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা নাজিল করবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন। তোমাদের জন্য (সবুজ শ্যামল) উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

    আল্লাহ কাছে তাওবা-ইসতেগফার করলেই আল্লাহ তাআলা উল্লেখিত নেয়ামতে মানুষের জীবনকে ভরপুর করে দেবেন।

    মানুষ সাধারণত গোনাহ বা অন্যায় করলেই আল্লাহর কাছে তাওবা-ইসতেগফার করে। কুরআন এবং হাদিসের আলোকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, শুধু গোনাহ থেকে মুক্তির জন্যই তাওবা-ইসতেগফার নয়। এটা এমন এক বড় আমল। যাতে রয়েছে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা ও স্বচ্ছলতার মূলমন্ত্র।

    যে ব্যক্তি তাওবা করবে-
    > আল্লাহ তাকে ক্ষমা দেবেন।
    > ফল-ফসল উৎপাদনে কল্যাণকর বৃষ্টি দান করবেন।
    > নিঃস্ব ব্যক্তিকে সম্পদ দান করবেন।
    > নিঃসন্তান ব্যক্তিকে সন্তান দান করবেন।
    > পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন-উদ্যানকে সবুজ শ্যামল করে দেবেন।
    > নদী-নালায় অধিক পরিমাণ পানি প্রবাহিত করবেন।
    > জীবনের সব সংকট থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন।
    > দুঃশ্চিন্তা ও পেরেশানি দূর করে দেবেন।
    > সর্বোপরি এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যে উৎস সম্পর্কে রিজিক লাভকারীর কোনো ধারণাই ছিল না।

    মনে রাখতে হবে
    তাওবা ইসতেগফারে শুধু গোনাহ মাফ আর পরকালের চিন্তায় নয় বরং দুনিয়া কল্যাণ ও সুন্দর জীবন-যাপনে তাওবা-ইসতেগফারের বিকল্প নেই।

    আসুন! কুরআন-হাদিসে ঘোষিত নেয়ামত লাভে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করি-
    ১.
    اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওয়ুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।
    অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

    ২.
    – اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اِنَّ اللهَ غَفُوْرُ الرَّحِيْم
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম।
    অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

    ৩.
    – اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اّللَّذِى لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
    অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি এক ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাবো।’

    ৪.
    – رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
    উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব্ আলাইয়্যা ইন্নাকা আংতাত তাওয়াবুর রাহিম।’
    অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি অতিশয় তাওবাকবুলকারী, দয়াবান।’

    ৫. সায়্যিদুল ইসতেগফার
    – اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানি; ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আ’হদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্বা’তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু আবুউলাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া; ওয়া আবুউ বিজামবি ফাগফিরলি ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি আমার সাধ্যমত তোমার প্রতিশ্রুতিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আমার ওপর তোমার অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমার পাপও স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ব্যতিত কোনো ক্ষমাকারী নেই।’

    তাওবা-ইসতেগফার এমন এক ইবাদত ও আমল, যা মানুষ সব সময় পালন করবে। জীবনের এমন কোনো দিক বা সময় নেই, যে সময় তাওবা-ইসতেগফার করা যাবে না। বরং তাওবা-ইসতেগফারই হতে পারে সব সময় মানুষের জীবনের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নতি লাভের একমাত্র উপায়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ ও নেয়ামত লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • নামাজ ও সাদকায় যে গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্বনবি

    নামাজ ও সাদকায় যে গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্বনবি

    নামাজ ও সাদকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জ্ঞানবান ও প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের জন্য নামাজ ফরজ করেছেন। আবার সম্পদশালীরসহ সবাইকে আল্লাহর পথে খরচ তথা সাদকার কথা বলেছেন।

    ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ ও সাদকার আগে কিছু কাজ রয়েছে, এগুলো যথাযথ পালন না করলে তা কবুল হবে না। বিশ্বনবি ছোট্ট একটি হাদিসের এ দুই ইবাদতের গুরত্ব তুলে ধরেছেন-

    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না। আর খেয়ানতের মাল দ্বারা সাদকা কবুল হয় না।’ (তিরমিজি)

    মুমিন মুসলমানের জন্য উল্লেখিত হাদিসটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ হাদিসটিতে দু’টি বিষয়ের সুস্পষ্ট সমাধান দেয়া হয়েছে।

    নামাজের জন্য যেমন পবিত্রতা তথা ওজু আবশ্যক। ওজু ছাড়া নামাজ পড়া মারাত্মক শাস্তি ও গোনাহের কাজ। অপবিত্রতা বুঝে ওজু ও গোসলের মাধ্যমে পবিত্র হয়েই নামাজ আদায় করা জরুরি। তবেই তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

    আবার অন্যায় কাজের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দান-সাদকা করাও অপরাধ। কেননা অসদুপায়ে আয়-রোজগার করা অপরাধ। আর দান-সাদকায় অবৈধ অর্থ সাওয়াবের নিয়ে দেয়াও অপরাধ। সুতরাং দান-সাদকা কবুলে অর্থ হতে হবে হালাল।

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসে ঈমান গ্রহণের পর শ্রেষ্ঠ ও প্রধান ইবাদত নামাজ ও অন্যতম ইবাদত দান-সাদকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন।

    সুতরাং নামাজের জন্য শরীর, পোশাক, নামাজের স্থান পবিত্র হওয়া জরুরি। শুধু তাই নয়, নামাজ কবুলে হালাল আয়ে অর্জিত সম্পদ দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করাও আবশ্যক। কেননা ইবাদত কবুলের জন্য হালাল আয়-রোজগারকে শর্ত করা হয়েছে।

    অন্য দিকে দান-সাদকায় আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায় মানুষের যাবতীয় বিপদ-আপদ এমন কি কঠিন রোগ থেকেও মুক্তি দান করেন। যে রোগের সমাধান কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞানে নেই, সাদকার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সে রোগেরও শেফা দান করেন। তাই কষ্টার্জিত আয় থেকে দান-সাদকা করতে হবে।

    আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য বেশি বেশি এ দোয়া করতে হবে-
    اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা; ওয়াত তুক্বা; ওয়াল আ’ফাফা; ওয়াল গেনা।

    অর্থ : হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে হেদায়েত কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা পরহেজগারি কামনা করি এবং আপনার কাছে সুস্থতা তথা নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ তথা সামর্থ্য কামনা করি। (মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

    মুমিন মুসলমানের উচিত হাদিসের ছোট্ট নির্দেশনা মেনে নামাজ আদায় করা এবং আল্লাহর পথে সাদকা করা। কেননা ‘অল্প আমলই নাজাতের রয়েছে’ বলেছিন বিশ্বনবি। আর তাই হোক মুমিন মুসলমানের প্রচেষ্টা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজ ও সাদকায় হাদিসের এ ছোট্ট উপদেশ গ্রহণ করার তাওফিক দান পবিত্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় এবং হালাল উপার্জন থেকে দান-সাদকা করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।