রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন সমগ্র মানবজাতির জন্য উত্তম নমুনা। সর্বোত্তম মডেল। তিনি মহান চরিত্রের অধিকারী। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘(হে নবী) আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।’ সূরা আল কলম, আয়াত ৪। অন্য আয়াতে ঘোষিত হচ্ছে, ‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ রাখে তাদের জন্য রসুলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।’ সূরা আহজাব, আয়াত ২১। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিনয়ী। তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন পরিবারের সবার সঙ্গে নম্ন আচরণ করতেন। বিনয় প্রকাশ করতেন। অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতেন। মদিনা ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে বড় মনে করতেন না। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জুতা নিজেই ঠিক করতেন। নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। তোমাদের প্রত্যেকেই যেমন নিজ নিজ ঘরের কাজ কর, তেমন তিনিও নিজের ঘরের কাজকর্ম করতেন। হজরত আয়শা (রা.) এও বলেছেন, তিনি অন্যান্য মানুষের মতো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আচরণ করতেন। নিজের কাপড় থেকে নিজেই উকুন (বা পোকা-মাকড়) বাছাই করতেন। নিজ হাতে বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পাদন করতেন (নিজের কাজ করার জন্য অন্য কাউকে আদেশ দিতেন না, বরং নিজের কাজ নিজেই করতেন)। তিরমিজি, মিশকাত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে যেমন বিনয়ী ছিলেন, ঘরের বাইরেও তেমন বিনয়ী ছিলেন। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন। জানাজায় উপস্থিত হতেন। গাধায় আরোহণ করতেন এবং গোলামের দাওয়াতও কবুল করতেন। (সে যুগে গরিব মানুষ গাধায় চড়ত আর ধনীরা ঘোড়া, উটে চড়ত। গোলাম ও চাকর-বাকরদের দাওয়াতে ধনীরা যেত না। অথচ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধায় চড়তেন ও গোলামের দাওয়াত কবুল করতেন।) হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের প্রশংসা পছন্দ করতেন না। তাই তিনি সাহাবিদের বলতেন, তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে এমন বাড়াবাড়ি করো না, যেমন খ্রিস্টানরা ইসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-এর ব্যাপারে করেছিল। আমি আল্লাহর বান্দা। সুতরাং তোমরা (আমাকে) আবদুল্লাহ তথা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসুল বলে সম্বোধন কর। তিরমিজি।
Category: ধর্ম
-

চাঁদ দেখা যায়নি, শুক্রবার থেকে শুরু জিলকদ মাস
বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও ১৪৪০ হিজরি সনের জিলকদ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শাওয়াল মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে হিসাবে শুক্রবার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হবে জিলকদ মাস।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ।
সভায় ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, ওয়াকফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুল করিম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. সামসুল আরেফিন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম মিয়া, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আলমগীর রহমান, সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহেনুর মিয়া, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (জেনারেল) মো. শাহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহ মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ ও চকবাজার শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ১৪৪০ হিজরি সনের জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, সকল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের সকল কার্যালয় এবং বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এবং বিশিষ্ট আলেম-ওলামার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে যে, আজ ২৯ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরি, বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
এমতাবস্থায়, আগামীকাল বৃহস্পতিবার শাওয়াল মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। ফলে ৫ জুলাই (শুক্রবার) থেকে ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে।
-

আগামীকাল বিমানের প্রথম হজ-ফ্লাইট
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মৌসুমের প্রথম হজ-ফ্লাইট আগামীকাল জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবে। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টায় ৪১৯ জন হজ-যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ্জ ফ্লাইটটি (বিজি- ৩০০১) ঢাকা ছাড়বে বলে জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্মকর্তারা।
বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজ-যাত্রীদের বিদায় জানাবেন। এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ-যাত্রী পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাবেন। বিমান এ বছর ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজ্জযাত্রী পরিবহন করবে। যা মোট হজ্জযাত্রীর অর্ধেক।অবশিষ্ট হজ্জ যাত্রী পরিবহন করবে সৌদি এয়ারলাইনস। ৬ জুলাই থেকে এই এয়ারলাইনস হজ্জ ফ্লাইট শুরু করবে। এ বছর প্রথম বাংলাদেশী কিছু হজ্জযাত্রীর ইমিগ্রেশনের কাজ ঢাকায় সম্পন্ন হবে।
দুই মাস ব্যাপী হজ-ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ৩০৪ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ৪ জুলাই থেকে ৫ আগষ্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ’-এ মোট ১৮৯ টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। পোস্ট-হজে ১৪৭ টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৪৭ এবং শিডিউল ২৯) এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজ-ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা এবং ঢাকা-মদিনা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও এ বছর যথাক্রমে ১৯ টি ও ৩টি হজ-ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
-

কিয়ামতের দিন অজুর কারণে বিভিন্ন অঙ্গ উজ্জ্বল দেখাবে
ইবাদতের উদ্দেশ্যে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পবিত্র পানি দ্বারা নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার নাম অজু। ঈমানের পরে ইসলামের সমচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। নামাজ আদায় করতে হলে সর্বপ্রথম অজু করতে হয়। অজু ব্যতীত নামাজ শুদ্ধ হয় না। অজু নামাজের চাবিস্বরূপ।
পবিত্র কোরআনে অজু সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধোবে, মাথা মাসেহ করবে ও পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করবে।’ -সূরা মায়িদা: ৬
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন অজুর চিহ্নের কারণে ‘শুভ্র-উজ্জল হস্তপদ বিশিষ্ট উম্মত’ উপাধিতে সম্বোধন করা হবে। কাজেই তোমরা যারা সক্ষম হও নিজ নিজ উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে নাও। -সহিহ বোখারি: ১৩৬
অজু নামাজের অপরিহার্য বিষয় বা পূর্ব শর্ত। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বেহেশতের চাবি হলো নামাজ, আর নামাজের চাবি হলো- অজু। -মুসনাদে আহমাদ ও তিরমিজি
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তির অজু নেই সে অজু করে না নিলে (ও বিনা অজুতে নামাজ পড়লে) তার নামাজ কবুল হবে না। -সহিহ বোখারি: ১৩৫, সহিহ মুসলিম: ২২৫
যে সব ইবাদতের অজু ফরজ: ১. ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত এবং নফল সব ধরনের নামাজের জন্য অজু করা ফরজ। ২. জানাজার নামাজের জন্যে অজু ফরজ এবং ৩. কোরআন শরিফে অবস্থিত সেজদার আয়াত তেলাওয়াতের ওই সেজদা প্রদানের জন্য অজু করা ফরজ।
যে সব ইবাদতের জন্য অজু ওয়াজিব: ১. হজ বা ওমরার সময় পবিত্র কাবা ঘর তওয়াফের জন্যে ও ২. পবিত্র কোরআন স্পর্শ করার জন্যে।
যখন অজু সুন্নত: ১. ঘুমানোর পূর্বে এবং ২. গোসলের পূর্বে।
অজু যখন মুস্তাহাব: ১. আজান ও তাকবিরের জন্যে। ২. খুতবা পড়ার সময়। চাই ওই খুতবা জুমার হোক বা বিয়ের। ৩. দ্বীনি তালিম দেওয়ার সময়। ৪. জিকিরের সময়। ৫. ঘুম থেকে ওঠার পর। ৬. মৃত ব্যক্তির গোসল করানোর পর। ৭. হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের সময়। ৮. হজ চলাকালে আরাফার ময়দানে অবস্থানের সময়। ৯. হজে সাফা ও মারওয়া সাঈ করার সময়। ১০. নাপাক অবস্থায় খাওয়ার পূর্বে। ১১. হায়েজ-নেফাসের সময়ে প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তে। ১২. এ ছাড়া সবসময় অজু অবস্থায় থাকা মুস্তাহাব।
-

নামাজ আদায় করবেন যেভাবে
নামাজ পড়ার সংক্ষিপ্ত নিয়ম
প্রথমে অজুসহকারে দাঁড়িয়ে যান। নামাজের নিয়ত করে উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠান। তাকবিরে তাহরিমা বলার পর বাঁ হাতের ওপর ডান হাত রেখে নাভির নিচে রাখুন। এরপর অনুচ্চৈঃস্বরে বলুন,উচ্চারণ : ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমারই পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি, তোমার নামই বরকতপূর্ণ এবং তোমার গৌরবই সর্বোচ্চ, তুমি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। (নাসায়ি, হাদিস : ৮৮৯)
এরপর অনুচ্চৈঃস্বরে আউজু বিল্লাহ (আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম)। এরপর বিসমিল্লাহ (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) পড়ুন। (তাহাবি : ১/৩৪৭)
এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন। শেষ হলে অনুচ্চৈঃস্বরে আমিন বলুন। হানাফি মাজহাব মতে আমিন আস্তে পড়া উত্তম। তবে জোরে আমিন বলার ব্যাপারে ইমামদের মতামত পাওয়া যায়। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত।
সুরা ফাতিহা শেষ হলে একটি সুরা অথবা তিনটি ছোট আয়াত, যা কমপক্ষে লম্বা একটি আয়াতের সমতুল্য হয় পড়ুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৬৯৫)
এই পরিমাণ তিলাওয়াত নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যক। তবে নামাজে কোরআন তিলাওয়াতের সুন্নত পরিমাণের বিবরণও ফিকহের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।
অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৯)
রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। (মুজামে সাগির ২/৪৯৭)
রুকুতে কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)
এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান। মুক্তাদি হলে অনুচ্চৈঃস্বরে শুধু ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলুন। এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)
সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর উভয় হাতের মাঝে কপাল মাটিতে রাখুন। নিজের পেটকে রান থেকে এবং বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক করে রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুলকে কিবলামুখী করে রাখুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮৫)
সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)
এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম মাথা উঠিয়ে উভয় হাতকে রানের ওপর রেখে স্থিরতার সঙ্গে বসে পড়ুন। এরপর তাকবির বলে দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন। অতঃপর জমিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে এবং না বসে সরাসরি তাকবির বলে দাঁড়িয়ে যান। এ পর্যন্ত প্রথম রাকাত সম্পন্ন হলো।
এখন দ্বিতীয় রাকাত শুরু হলো। এতে হাত উঠাবেন না, ছানাও পড়বেন না, আউজু বিল্লাহও পড়বেন না। তবে আগের মতো সুরা ফাতিহা ও সঙ্গে অন্য একটি সুরা পড়ে রুকু-সিজদা করবেন। দ্বিতীয় সিজদা শেষ করে ডান পা খাড়া করে বাঁ পা বিছিয়ে দিয়ে তার ওপর বসে যাবেন। তখন আপনার হাত থাকবে রানের ওপর এবং ডান পায়ের আঙুলগুলো থাকবে কিবলামুখী। (মুসলিম, হাদিস : ৯১২)
অতঃপর নিম্নের তাশাহুদ পড়বেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮৮)
উচ্চারণ : ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা, আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।’
তাশাহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন।
তবে তাশাহুদের বাক্য ও আঙুল দিয়ে ইশারা করার বিষয়ে অন্য নিয়মেরও হাদিস পাওয়া যায়। তাই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি কাম্য নয়।
যদি দুই রাকাতবিশিষ্ট নামাজ হয়, যেমন—ফজরের নামাজ ইত্যাদি, তাহলে তাশাহুদের পর নিম্নের দরুদ শরিফ পাঠ করবেন। (মুসলিম, হাদিস : ৬১৩)
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম। ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদ, ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম, ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’
এরপর পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়া পাঠ করবেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ১/২৯৮)
যেমন—এই দোয়া পড়তে পারেন। এটাকে দোয়ায়ে মাসুরা বলা হয় (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৯)
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম-মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।’
অথবা এই দোয়া পড়বেন—উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আজাবান-নার।’
এরপর ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতে বলতে ডানে এবং বাঁয়ে মাথা ফেরাবেন। সালাম ফেরানোর সময় আপনার পাশের নামাজি ব্যক্তি এবং ফেরেশতাদের কথা স্মরণ করবেন।
যদি নামাজ তিন রাকাতবিশিষ্ট হয়, যেমন—মাগরিবের নামাজ, তখন প্রথম বৈঠকে তাশাহুদের পর আর কিছু পড়বেন না। বরং ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সোজা দাঁড়িয়ে যাবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ২২৪)
তবে তৃতীয় রাকাতে সুরায়ে ফাতিহা পড়বেন।
আর নামাজ যদি চার রাকাতবিশিষ্ট হয়, যেমন—জোহর, আসর ও এশার নামাজ, তখন চতুর্থ রাকাতেও শুধু সুরায়ে ফাতিহা পড়বেন। এরপর প্রথম দুই রাকাতের মতো রুকু-সিজদা করে দুই রাকাত সম্পন্ন করে শেষ বৈঠকে বসবেন। সেখানে উল্লিখিত পদ্ধতিতে তাশাহুদের পর দরুদ এবং এরপর দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবেন।
ফরজ নামাজ কত রাকাত ও কখন পড়া যাবে
আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের ওপর দিনরাত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। নিচে ফরজ নামাজের সময় ও রাকাত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।১. ফজরের নামাজ দুই রাকাত। এর সময় হলো সুবহে সাদেকের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত। (মুসলিম, হাদিস : ১৪৫৬, ৯৬৬)
২. জোহরের নামাজ চার রাকাত। এর সময় শুরু হয় সূর্য মধ্য আসমান থেকে ঢলে পড়ার পর। প্রতিটি বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত জোহরের ওয়াক্ত বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর জোহরের সময় শেষ হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৭, ৫০৬, মুসলিম, হাদিস : ৯৬৯) তবে অন্য মাজহাব মতে, বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হলে জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। তাই এর আগেই জোহরের নামাজ পড়া উত্তম।
৩. আসরের নামাজ চার রাকাত। জোহরের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এর সময়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৭, ৫৪৫)
৪. মাগরিবের নামাজ তিন রাকাত। এর সময় হলো সূর্যাস্তের পর আকাশ থেকে লালিমা বিদায় নেওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম, হাদিস : ৯৬৯, দারা কুতনি, হাদিস : ১০৬৬)
৫. এশার নামাজ চার রাকাত। এর সময় হলো আকাশের লালিমা বিদায় নেওয়ার পর থেকে সুবহে সাদেকের আগ পর্যন্ত।
(মুসলিম, হাদিস : ৯৬৯, সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৮, ৫৩৮, ৯৬৯)
যেভাবে অজু করবেন
অজুর মধ্যে চারটি কাজ ফরজ
১. একবার পূর্ণ চেহারা ধৌত করা। (সুরা মায়েদা ৬, সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫৩)
মুখমণ্ডলের সীমানা হলো দৈর্ঘ্যে চুলের উৎপাদনস্থল থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত, প্রস্থে দুই কানের লতি পর্যন্ত। (আল কামুসুল ফিকহি : ১/৩৭৩)
২. উভয় হাত কনুইসহ একবার ধৌত করা। (সুরা মায়েদা ৬, সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮০)
৩. মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা। (মুসলিম, হাদিস : ৪১২)
৪. উভয় পা টাখনুসহ একবার ধৌত করা। (সুরা মায়েদা ৬, বুখারি, হাদিস : ১৮০)
অজুর মধ্যে যেসব কাজ করা সুন্নত
নিম্নোল্লিখিত বিষয়গুলো অজুতে সুন্নত। এগুলোর ওপর নিয়মিত আমল করা উচিত। এগুলোর মাধ্যমে অজু পরিপূর্ণ ও সুন্দর হয়।
১. অজুর শুরুতে নিয়ত করা। (বুখারি, হাদিস : ১)
২. বিসমিল্লাহ পড়া। (আবু দাউদ, হাদিস : ৯২)
৩. উভয় হাতকে কবজি পর্যন্ত ধৌত করা। (মুসলিম, হাদিস : ৩৩১, মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৬২২৫)
৪. মিসওয়াক করা। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ১৮১, আবু দাউদ, হাদিস : ৪২)
৫. কুলি করা। (মুসলিম, হাদিস : ৩৩১)
৬. নাকে পানি দেওয়া। (মুসলিম, হাদিস : ৩৩১)
৭. যদি রোজাদার না হয়, তাহলে ভালোভাবে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া। (তিরমিজি, হাদিস : ৭১৮, আবু দাউদ ১২৩)
৮. প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া। (মুসলিম, হাদিস : ৩৩১)
৯. পুরো মাথা মাসেহ করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ৯৭)
১০. উভয় কানের ভেতরে ও বাইরে মাসেহ করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ১১৬)
১১. দাড়ি খিলাল করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ১২৩)
১২. আঙুল খিলাল করা। (তিরমিজি, হাদিস : ৭১৮)
১৩. ধোয়ার সময় অঙ্গগুলোকে মেজে-ঘষে ধোয়া। (আবু দাউদ, হাদিস : ১২৭)
১৪. প্রথম অঙ্গ শুকানোর আগেই পরের অঙ্গ ধৌত করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩৭, দারাকুতনি ৩৯২, আততালখিসুল হাবির : ১/২৯০)
১৫. অঙ্গগুলো ধোয়ার সময় তারতিব তথা ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। অর্থাৎ প্রথমে মুখমণ্ডল, তারপর হাত ধোয়া, এরপর মাথা মাসেহ করা এবং পা ধোয়া। (সুরা মায়েদা, হাদিস : ৬)
১৬. বাঁ হাত দ্বারা প্রথমে ডান হাত ধৌত করা এবং বাঁ হাত দ্বারা প্রথমে ডান পা ধোয়া। (নাসায়ি, হাদিস : ১১১)
১৭. মাথার সামনের অংশ থেকে মাসেহ শুরু করা। (মুসলিম, হাদিস : ৩৪৬)
১৮. গর্দান মাসেহ করা। (কানজুল উম্মাল ২৬১৪২, শরহে ইহয়া লিজজুবাইদি : ২/৩৬৫, আততালখিসুল হাবির : ১/২৮৮)
নামাজের বাইরে সাতটি কাজ ফরজ
১. শরীর পবিত্র হওয়া। (সুরা মায়িদা, আয়াত ৬, তিরমিজি, হাদিস : ১, ৩)
২. কাপড় পবিত্র হওয়া। (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত ৪, তিরমিজি, হাদিস : ১, ৩)
৩. নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া। (সুরা বাকারা, আয়াত ১২৫, তিরমিজি হাদিস : ১, ৩)
৪. সতর ঢাকা (অর্থাৎ পুরুষের নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং নারীদের চেহারা, দুই হাত কবজি পর্যন্ত ও পায়ের পাতা ছাড়া গোটা শরীর ঢেকে রাখা। মনে রাখা আবশ্যক, পর্দার ক্ষেত্রে নারীদের পুরো শরীরই সতরের অন্তর্ভুক্ত)। (সুরা আরাফ, আয়াত ৩১, সুরা নুর, আয়াত ৩১, আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৬ হাসান, মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৭৫৬ হাসান, তিরমিজি ১/২২২, হাদিস : ১১৭৩, ৩৭৭ সহিহ, আবু দাউদ ১/৯৪, হাদিস : ৬৪১ সহিহ, ২/৫৬৭, হাদিস : ৪১০৪ গ্রহণযোগ্য, মারাসিলে আবি দাউদ, ৮৬ হাদিস : ২৮ গ্রহণযোগ্য)
৫. কিবলামুখী হওয়া। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৪৪, বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১)
৬. ওয়াক্তমতো নামাজ পড়া। (সুরা নিসা আয়াত : ১০৩, বুখারি ১/৭৫, হাদিস : ৫২১)
৭. অন্তরে নির্দিষ্ট নামাজের নিয়ত করা। (বুখারি শরিফ ১/২, হাদিস : ১)
নামাজের ভেতরে ছয়টি কাজ ফরজ
১. তাকবিরে তাহরিমা, অর্থাৎ শুরুতে আল্লাহু আকবার বলা।
(সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত ৩, বুখারি ১/১০১, হাদিস : ৮৩৩, মুসলিম ১/১৭৬, হাদিস : ৪১১, ৪১২, তিরমিজি ১/৫৫, হাদিস : ২৩৮)
২. ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ দাঁড়িয়ে পড়া। (সুরা বাকারা, আয়াত ২৩৮, বুখারি ১/১৫০, হাদিস : ১১১৭, তিরমিজি ১/৬৬, হাদিস : ৩০৪)
৩. কেরাত পড়া (অর্থাৎ কোরআন শরিফ থেকে ন্যূনতম ছোট এক আয়াত পরিমাণ পড়া ফরজ।) (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত ২০, বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১, তিরমিজি ১/৬৬, ৬৭, হাদিস : ৩০২, ৩০৩ সহিহ)
৪. রুকু করা। (সুরা হজ, আয়াত ৭৭, বুখারি ১/১৫০, হাদিস : ১১১৩, ১১১৪, মুসলিম ১/১৭৭, হাদিস : ৪১২)
৫. দুই সিজদা করা। (সুরা হজ, আয়াত ৭৭, বুখারি ১/১০১, হাদিস : ৭৩৩, মুসলিম ১/১৭৬, হাদিস : ৪১১)
৬. শেষ বৈঠক (নামাজের শেষে তাশাহুদ পরিমাণ বসা) (আবু দাউদ : ১/১৩৯, হাদিস : ৯৭০)
বি. দ্র. : নামাজি ব্যক্তির নিজস্ব কোনো কাজের মাধ্যমে (যেমন—সালাম ফেরানো ইত্যাদি) নামাজ থেকে বের হওয়াও একটা ফরজ। (আল বাহরুর রায়িক : ১/৫১৩)
নামাজের কোনো ফরজ বাদ পড়লে নামাজ বাতিল হয়ে যায়। সাহু সিজদা করলেও নামাজ সহিহ হয় না। (আল বাহরুর রায়িক : ১/৫০৫, ফাতাওয়া শামি : ১/৪৪৭, হিদায়া : ১/৯৮)
নামাজের ওয়াজিব ১৪টি
১. প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহা পূর্ণ পড়া। (বুখারি ১/১০৪, হাদিস : ৭৫৬)
২. প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সুরা বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ মেলানো। (বুখারি শরিফ ১/১০৫, হাদিস : ৭৭৬, মুসলিম ১/১৮৫, হাদিস : ৪৫১)
৩. ফরজের প্রথম দুই রাকাতকে কিরাতের জন্য নির্দিষ্ট করা। (বুখারি শরিফ ১/১০৫, হাদিস : ৭৭৬, মুসলিম ১/১৮৫, হাদিস : ৪৫১)
৪. সুরা ফাতিহা অন্য সুরার আগে পড়া। (বুখারি ১/১০২, ১০৩, হাদিস : ৭৪৩, মুসলিম ১/১৯৪, হাদিস : ৪৯৮ তিরমিজি, হাদিস : ১/৫৭, হাদিস : ২৪৬ সহিহ)
৫. নামাজের সব রুকন ধীরস্থিরভাবে আদায় করা। (অর্থাৎ রুকু, সিজদা ও রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে এবং দুই সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসে কমপক্ষে এক তাসবিহ পরিমাণ দেরি করা)। (বুখারি ১/১০৯, হাদিস : ৭৯৩, মুসলিম ১/১৭০, হাদিস : ৩৯৭, আবু দাউদ ১/১২৪, ১২৪, হাদিস : ৮৫৬, ৮৫৭, ৮৫৮)
৬. প্রথম বৈঠক করা (অর্থাৎ তিন অথবা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের দুই রাকাতের পর বসা)। (বুখারি ১/১১৪, হাদিস : ৮২৮)
৭. উভয় বৈঠকে তাশাহুদ পড়া। (বুখারি শরিফ ১/১১৫, হাদিস : ৮৩০, ৮৩১, মুসলিম ১/১৯৪, ১৭৩, হাদিস : ৪৯৮, ৪০২, ৪০৩, তিরমিজি ১/৮৯, হাদিস : ৩৯১)
৮. প্রতি রাকাতের ফরজ ও ওয়াজিবগুলোর তারতিব বা ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা। (বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১, তিরমিজি ১/৬৬, ৬৭, হাদিস : ৩০২, ৩০৩)
৯. ফরজ ও ওয়াজিবগুলোকে নিজ নিজ স্থানে আদায় করা। (যেমন—দ্বিতীয় সিজদা প্রথম সিজদার সঙ্গে করা। প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ শেষ করে তৎক্ষণাৎ তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি। (বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১, তিরমিজি ১/৬৬, ৬৭, হাদিস : ৩০২, ৩০৩)
১০. বিতির নামাজে তৃতীয় রাকাতে কিরাতের পর কোনো দোয়া পড়া। অবশ্য দোয়া কুনুত পড়লে ওয়াজিবের সঙ্গে সুন্নতও আদায় হয়ে যাবে। (বুখারি ১/১৩৬, হাদিস : ১০০২, তিরমিজি ১/১০৬, হাদিস : ৪৬৪১ হাসান, ইবনে মাজাহ ১/৮৩, হাদিস : ১১৮২)
১১. দুই ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয় তাকবির বলা। (আবু দাউদ ১/১৬৩, হাদিস : ১১৫৩ হাসান, মুসনাদে আহমদ ৪/৪১৬, হাদিস : ১৯৭৩৪ হাসান, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ ২/১৭২, হাদিস : ৫৬৯৪ হাসান, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/২৯৩, হাদিস : ৫৬৮৬)
১২. দুই ঈদের নামাজে দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তিন তাকবির বলার পর রুকুতে যাওয়ার সময় ভিন্নভাবে তাকবির বলা। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ ১/৪৯৫, হাদিস : ৫৭০৭ সহিহ, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/২৯৩ হাদিস : ৫৬৮৬ সহিহ, তাহাবি ৪/৩৪৮, হাদিস : ১৬৭৪)। (এ তাকবির অন্যান্য নামাজে সুন্নত)
১৩. ইমামের জন্য জোহর, আসর এবং দিনের বেলায় সুন্নত ও নফল নামাজে কিরাত আস্তে পড়া। আর ফজর, মাগরিব, এশা, জুমা, দুই ঈদ, তারাবি ও রমজান মাসের বিতির নামাজে কিরাত শব্দ করে পড়া। (মুসলিম ১/২৯১, হাদিস : ২৫৯, নাসায়ি ১/১১২, হাদিস : ৯৭০ সহিহ, তিরমিজি ১/১০৬, হাদিস : ৪৬৩ , ইবনে মাজাহ ৯৬, হাদিস : ১৩৪৯, সহিহ মারাসিলে আবু দাউদ ৯৩, হাদিস : ৪১ সহিহ, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ ৪/১৩৬, হাদিস : ৫৪৫২)
(আস্তে পড়ার অর্থ মনে মনে পড়া নয়। কেননা এতে নামাজ শুদ্ধ হয় না। বরং আওয়াজ না করে মুখে উচ্চারণ করে পড়া জরুরি।)
১৪. সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করা। (বুখারি ১/১১৫, হাদিস : ৮৩৭, আবু দাউদ ১/১৪৩, হাদিস : ৯৯৬)
বি. দ্র. : উল্লিখিত ওয়াজিবগুলো থেকে কোনো একটি ভুলে ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া শামি, ১৪:৪৫৬, আলমগিরি, ১:৭১, আল বাহরুর রায়িক, ১/৫১০)
যেসব কাজে নামাজ ভেঙে যায়
(১) নামাজে অশুদ্ধ পড়া। নামাজের ভেতর কিরাতে যদি এমন পরিবর্তন হয়, যার ফলে কোরআনের অর্থ ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ পাল্টে যায়, তাহলে নামাজ ভেঙে যাবে, আবার তা আদায় করা ওয়াজিব হবে। ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬৩৩-৬৩৪, ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি ১/৮০, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ৩/৩৪৪)
(২) নামাজের ভেতর কথা বলা। নামাজে এমন কোনো অর্থবোধক শব্দ করা, যা সাধারণ কথার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। (হোক সেটা এক অক্ষর বা দুই অক্ষরে ঘটিত) তাহলে নামাজ ভেঙে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৩, আল বাহরুর রায়িক : ২/২)
(৩) কোনো লোককে সালাম। নামাজরত অবস্থায় কোনো লোককে সালাম দিলে নামাজ ভেঙে যায়। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/৯২, আল বাহরুর রায়িক : ২/১২০)
(৪) সালামের উত্তর দেওয়া। নামাজরত অবস্থায় কারো সালামের উত্তর দেওয়া নামাজ ভঙ্গকারী কাজ। (বুখারি, হাদিস : ১২১৭)
(৫) উঃ, আঃ শব্দ করা। নামাজরত অবস্থায় কোনো ব্যথা কিংবা দুঃখের কারণে উঃ, আঃ শব্দ করলে নামাজ ভেঙে যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৬১৯, আল বাহরুর রায়িক : ২/৪, মারাকিল ফালাহ : ১/১২১)
(৬) বিনা ওজরে কাশি দেওয়া। অপ্রয়োজনে কাশি দেওয়ার দ্বারাও নামাজ ভেঙে যায়। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৩/৬১৮, মারাকিল ফালাহ : ১/১২১)
(৭) আমলে কাসির করা। ফিকাহবিদরা আমলে কাসিরের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। তন্মধ্যে বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য মত হলো, কোনো মুসল্লির এমন কাজে লিপ্ত হওয়া, যার কারণে দূর থেকে কেউ দেখলে তার মনে প্রবল ধারণা জন্মে যে ওই ব্যক্তি নামাজরত নয়। (ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ৩/৪৮৫, ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬২৪-৬২৫, বায়েউস সানায়ে : ১/২৪১)
(৮) বিপদে কিংবা বেদনায় শব্দ করে কাঁদা। দুনিয়াবি কোনো বিপদাপদ কিংবা দুঃখের কারণে শব্দ করে কাঁদলে নামাজ ভেঙে যায়। (হাশিয়াতু তাহতাবি : ১/৩২৫, ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৯, নূরুল ইজাহ, পৃ. ৬৮)
(৯) তিন তাসবিহ পরিমাণ সতর খুলে থাকা। (আবু দাউদ : ৬৪১, তিরমিজি : ৩৭৭, ইবনে মাজাহ : ৬৫৫)
(১০) মুক্তাদি ছাড়া অন্য ব্যক্তির লোকমা (ভুল সংশোধন) লওয়া। যেমন—ইমাম কিরাতে ভুল করছেন, সঙ্গে সঙ্গে নামাজের বাইরের কোনো লোক লোকমা দিলে তা গ্রহণ করা। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬২২, ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ১/৯৮)
(১১) সুসংবাদ বা দুঃসংবাদে উত্তর দেওয়া। সুসংবাদ অথবা দুঃসংবাদের উত্তর দেওয়া দুনিয়াবি কথার শামিল। তাই এর দ্বারা নামাজ ভেঙে যায়। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৩, আল বাহরুর রায়িক : ২/২)
(১২) নাপাক জায়গায় সিজদা করা। নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া জরুরি। অর্থাৎ নামাজ পড়ার সময় নামাজি ব্যক্তির শরীর যেসব জায়গা স্পর্শ করে সে জায়গাগুলো পবিত্র হওয়া নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য শর্ত। তাই নাপাক বা অপবিত্র জায়গায় সিজদা করলে নামাজ ভেঙে যাবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১১৫, আল বাহরুর রায়িক : ২/৩৭, তাবয়িনুল হাকায়েক : ১/৯৫)
(১৩) কিবলার দিক থেকে সিনা ঘুুরে যাওয়া। কোনো কারণে কিবলার দিক থেকে সিনা (বুক) ঘুরে গেলে নামাজ ভেঙে যায়। তবে যানবাহনে নামাজের ক্ষেত্রে মাসআলা ভিন্ন। (মারাকিল ফালাহ : ১/১২১, নূরুল ইজাহ : ১/৬৮)
(১৪) নামাজে কোরআন শরিফ দেখে পড়া। নামাজরত অবস্থায় কোরআন শরিফ দেখে দেখে পড়লে নামাজ ভেঙে যায়। (মারাকিল ফালাহ : ১/১২৪, হাশিয়াতুত তাহতাবি : ১/৩৩৬)
তবে সৌদি আরবের আলেমরা এ মাসআলার ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেন।
(১৫) নামাজে শব্দ করে হাসা। নামাজে শব্দ করে অট্টহাসি দিলে অজুসহ ভেঙে যায়। (কানযুদ্দাকায়েক : ১/১৪০)
(১৬) নামাজে সাংসারিক কোনো বিষয় প্রার্থনা করা। নামাজরত অবস্থায় সাংসারিক/দুনিয়াবি কোনো দোয়া করলে হানাফি মাজহাব মতে নামাজ ভেঙে যায়। (ফাতায়ায়ে শামি : ১/৬১৯, আল বাহরুর রায়িক : ২/৩)
তবে এ মাসআলার ক্ষেত্রে অন্য মাজহাবের ভিন্নমত আছে।
(১৭) হাসির জবাব দেওয়া। নামাজরত অবস্থায় কারো হাসির (উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বললে) উত্তর দেওয়া কথা বলার নামান্তর। এর দ্বারা নামাজ ভেঙে যায়। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/১১৭)
(১৮) নামাজে খাওয়া ও পান করা। (মারাকিল ফালাহ : ১/১২১, নূরুল ইজাহ : ১/৬৮)
(১৯) ইমামের আগে মুক্তাদি দাঁড়ানো। মুক্তাদির পায়ের গোড়ালি ইমামের আগে চলে গেলে নামাজ ভেঙে যাবে। তবে যদি (দুজন জামাতের সঙ্গে নামাজের ক্ষেত্রে) মুক্তাদি ইমামের পায়ের গোড়ালির পেছনেই দাঁড়ায়; কিন্তু তিনি লম্বা হওয়ার কারণে তাঁর সিজদা ইমামকে অতিক্রম করে যায়, তাহলে তাঁর নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১৫৯, আল মাবসুত লিস সারাখসি : ১/৪৩)
-

জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে কমিটির সভা কাল
পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বুধবার (৩ জুলাই) সভা ডেকেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
আজ মঙ্গলবার ইসলামী ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। টেলিফোন নম্বর ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭; ফ্যাক্স নম্বর ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।
-

বিশ্বনবির যে ৩ উপদেশে সুন্দর জীবন গঠন করবে মুমিন
মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যই হচ্ছে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ হলো দুটি। তিনি যে কাজে সন্তুষ্ট হন তা পালন করা। আর যা তিনি পছন্দ করেন না তা থেকে বিরত থাকা। গোনাহমুক্ত সুন্দর জীবন গঠনে হাদিসে ৩টি উপদেশ দেয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়গুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট্ট একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাতে ৬টি কাজ উল্লেখ করা হয়েছে। যার ৩টি কাজ মেনে চলতে হবে আর ৩টি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিক-নির্দেশনামূলক এ হাদিসটি তুলে ধরা হলো-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। (আর তাহলো)-
>> যখন তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর।
>> তাঁর সঙ্গে (কাউকে বা কোনো কিছুকে) বিন্দুমাত্র শরিক করো না।
>> আল্লাহর বিধানকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর আর (তা থেকে) বিচ্ছিন্ন হও না।
আল্লাহ যাকে তোমাদের কাজের নেতা হিসাবে নির্বাচন করেন, তার জন্য তোমরা পরস্পরে কল্যাণ কামনা কর। এ তিনটি কাজে আল্লাহ তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।
আর তোমাদের প্রতি (যে ৩ কাজে) অসন্তুষ্ট হন-
>> অপ্রয়োজনীয় (বেহুদা) কথা বললে।
>> সম্পদ নষ্ট করলে এবং
>> অনর্থক বেশী প্রশ্ন করলে।’ (মুসনাদে আহমদ, ইবনে হিব্বান)হাদিসের আলোকে প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত, ‘কুরআন সুন্নাহর বিধান মোতাবেক আল্লাহর ইবাদত করা। তাঁর সঙ্গে কোনোভাবে কাউকে বা কোনো কিছুকে শরিক না করা। জীবনের সর্বাবস্থায় আল্লাহর বিধানকে আঁকড়ে ধরে তা থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া।
আবার প্রয়োজন ছাড়া অনর্থক গাল-গল্প বা কথা বার্তায় সময় ব্যয় না করা। অন্যায় পথে সম্পদ নষ্ট না করা এবং অযথা একে অপরকে প্রশ্নবানে জর্জরিত না করা।
উল্লেখিত কাজগুলোর প্রথম ৩টি ছেড়ে দিলে এবং পরের ৩টিতে জড়িয়ে পড়লেই মানুষ গোনাহ ও মারাত্মক পাপের সঙ্গে লিপ্ত হয়। আর তা থেকে বেঁচে থাকতেই উম্মতের জন্য এ নির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে হাদিসের আলোকে কল্যাণকার ৩ কাজ গ্রহণ এবং অকল্যাণের ৩ কাজ বর্জনের মাধ্যমে সুন্দর ও সফল জীবন লাভ করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
-

ক্ষমা লাভের জন্য পাঠ করুন সূরা ইয়াসিন
মাহে রমজানের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি আমরা। একে একে শেষ হয়ে এসেছে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের দিনগুলো। অপার ফজিলতের এই দিনগুলোতে আমরা গোনাহগার বান্দারা যে যার আমল হিসাবে হিস্যা পেয়েছি মহান রবের দয়া, অনুগ্রহের। আর দুই-একটি দিন বাকি। অফুরান নেয়ামতের ধারাবর্ষণ থেমে যাবে। পবিত্র-স্নিগ্ধ এই মাস চলে যাচ্ছে বলে হয়ত অনেক মুমিম-মুসলমানের হৃদয়ে বাজছে বিরহের সুর। নিজেদের পাপ মোচন করাতে পারলেন কিনাÑ এ নিয়ে রয়েছেন শঙ্কায়; কিন্তু আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মোহাম্মদির মুক্তিলাভের জন্য খুলে রেখেছেন বিভিন্ন পথ। সেই পথগুলোর বিশেষ একটি হলোÑ তেলাওয়াতে কোরআন, খোদার পবিত্র কালামের পাঠ। মাহে রমজান শেষ হওয়ার পর কোরআন তেলাওয়াতের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রতিদিন অন্তত বিশেষ সূরাগুলো তেলাওয়াত করতে হবে। পবিত্র কোরআনের তাৎপর্যপূর্ণ সূরাগুলোর মধ্যে ইয়াসিন উল্লেখযোগ্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেনÑ সূরা ইয়াসিন কোরআনের হৃদয়। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালে কামিয়াবির জন্য তেলাওয়াত করবে, তার মাগফিরাত হয়ে যাবে। তোমরা তোমাদের মৃতদের জন্য এ সূরা তেলাওয়াত কর। (রুহুল মাআনি, মাজহারি) সূরা ইয়াসিনের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এক হাদিসে রাসুল (স) বলেন, যে ব্যক্তি এ সূরা একবার পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে দশবার পবিত্র কোরআন খতম করার তাওফিক দান করবেন। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছেÑ কোনো ব্যক্তি যদি রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ওই রাতেই মাফ করে দেন। তিরমিজি শরিফের এক হাদিসে বর্ণিতÑ সূরা ইয়াসিন একবার পাঠ করলে দশবার কোরআন খতমের সওয়াব মিলে এবং তেলাওয়াতকারীর সব গুনাহ মাফ হয়। হাদিস শরিফে আরও উল্লেখ রয়েছেÑ কেউ রাতে সূরা ইয়াছিন তেলাওয়াত করলে সকালে নিষ্পাপ হয়ে জাগে এবং তার আগের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াছিন অধিক তেলাওয়াত করবে, হাশরের দিন এই সূরা আল্লাহর দরবারে তার জন্য সুপারিশ করবে। রাসুল (স) আরও এরশাদ করেছেনÑ যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা ইয়াছিন পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খোলা থাকবে। সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াতে দুনিয়াবি অভাব-অনটনও দূর হয়। সংসারে বয়ে আনে অনাবিল সুখ, সবার মাঝে বিরাজ করে প্রশান্তি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা) থেকে বর্ণিতÑ যদি কোনো ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন অভাব-অনটনের সময় পাঠ করে, তা হলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি আসে এবং রিজিকে বরকত লাভ হয়। (মাজহারি) সুবহানাল্লাহ! এই হলো মাত্র কয়েক পৃষ্ঠার একটি সূরা তেলওয়াতের বিনিময়। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে স্বীয় কালাম পাঠের জন্য ও তা অনুধাবনের জন্য খুব করে উৎসাহিত করেছেন; কিন্তু আমরা সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করি না। কত অনর্থক কাজে সকাল-সন্ধ্যা কাটিয়ে দিই। খেলাধুলা-বিনোদনের জন্য সময় নির্ধারণ করি। দীর্ঘ সময় আড্ডার টেবিলে চলে যায়। দুনিয়ার সবই ঠিক আছে আমাদের, শুধু পরকালীন চিন্তা নেই। মৃত্যুর চিন্তা নেই। অথচ প্রত্যেকের মৃত্যু তার ঘাড়ের ওপর শ্বাস ফেলছে! হে মুমিন-মুসলমান! সজাগ হোন, খুলে বসুন প্রভুর কিতাব। তিনি স্র্রষ্টা হয়ে আপনাকে কী বলছেন, তা অনুধাবনের চেষ্টা করুন। আরবি ভাষা জানেন না, বোঝেন না, শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারেন নাÑ এগুলো কোনো অজুহাত নয়। আপনি নিজ প্রয়োজনে, নিজের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য অনেক কিছু শিক্ষালাভ করেছেন, করছেন। আর আসল জীবন, অনন্তকালের সেই জীবনÑ তার জন্য কিছু কি করার নেই! রোজা সংক্রান্ত মাসআলা ছুটে যাওয়া রোজার কাজা সম্ভব না হলে মৃত্যুর আগে ফিদিয়া দেওয়ার অসিয়ত করে যাওয়া আবশ্যক। অসিয়ত না করে গেলে ওয়ারিশরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে ফিদিয়া আদায় করে তবে আশা করা যায়, দয়াময় প্রভু তা কবুল করবেন। তবে মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করে গেলে সে ক্ষেত্রে মিরাসের যৌথ সম্পদ থেকে ফিদিয়া আদায় করা যাবে না। একান্ত কেউ দিতে চাইলে প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশরা তাদের অংশ থেকে দিতে পারবেন।
-

নারীদের নিজ ঘরে নামাজ আদায়ের ফজিলত
হাদিসে এসেছে, ‘নারীরা পর্দার আড়ালে থাকার যোগ্য। নারী যখন বাড়ি থেকে বের হয়, তখন শয়তান তার ওপর প্রবল হয়ে যায়।’ এ হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, নারীদের বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাওয়া অপছন্দনীয়। বাড়িতে বসেই তাদের অনেক ইবাদত-বন্দেগি করার সুযোগ রয়েছে।
নারীদের নামাজ আদায় প্রসঙ্গে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক হাদিস বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে কয়েকটি তুলে ধরা হলো-
>> হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো নারী (যখন) তার বাড়ির সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে বসে যে নামাজ আদায় করেন; সেই নামাজ আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।’ (ইবনে খুজায়মা, তাবারানি, আত-তারগীব)
তবে নারীদের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় নিষিদ্ধ নয়। তারা মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারবে। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে নারীরা মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেছেন। এমনকি অন্ধকার রাতে ফজরের নামাজও মসজিদে গিয়ে পড়েছেন।
তবে নামাজ আদায়ে তাদের জন্য মসজিদে যাওয়া আবশ্যক করা হয়নি। কারণ মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় আবশ্যক করা হলে তা পালন করা তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে যেত।
>> হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের নারীদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করবে না। তবে তাদের ঘর (নামাজ আদায়ে) তাদের জন্য উত্তম।’ (আবু দাউদ, আত-তারগিন, আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)
নারীদের ঘরে নামাজ আদায়ের ফজিলত বর্ণনায় প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি দীর্ঘ হাদিস রয়েছে। আর তাহলো-
হজরত উম্মু হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, ‘একদিন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে ভালোবাসি।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি জানি যে, তুমি আমার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে ভালোবাস।
কিন্তু জেনে রেখো! তোমার ঘরে নামাজ আদায় তোমার কক্ষে নামাজ আদায়ের চেয়ে উত্তম। তোমার কক্ষে নামাজ আদায় তোমার বাড়িতে নামাজ আদায় থেকে উত্তম।
আর তোমার বাড়িতে নামাজ আদায় তোমার কওমের মসজিদে নামাজ আদায় থেকে উত্তম। আর তোমার কওমের মসজিদে নামাজ আদায় আমার এ মসজিদে নামাজ আদায় হতে উত্তম।
অতঃপর ওই নারীর নির্দেশে তার বাড়ি থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী ও অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা হলো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সে মসজিদেই নামাজ আদায় করতেন।’ (মুসনাদে আহমদ, ইবনু খুজায়মা, ইবনু হিব্বান, আত-তারগিব)
উল্লেখ্য যে, বর্তমান সময়ে ফেতনা-ফাসাদ চরম আকার ধারণ করছে। এ অশান্ত সমাজে নারীদের জন্য মসজিদের চেয়ে নিজ ঘরে নামাজ আদায় সর্বোত্তম। তবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলে মসজিদে গিয়ে নারীদের মসজিদে নামাজ আদায়ে কোনো বিধি নিষেধ নেই।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে নিজ নিজ ঘরে নামাজ আদায় করে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। শয়তানের ভয়ংকর থাবা থেকে নিজেদেরকে হেফাজত করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
-

মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামাজ আদায় কি সবার জন্য আবশ্যক?
জামাআতে নামাজ আদায় ছিল বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক পছন্দনীয় আমল। তাইতো অসুস্থাবস্থায় হজরত আবু বকরের ইমামতিতে জামাআত অনুষ্ঠিত হতে দেখে আনন্দ অশ্রু ঝরে ছিল বিশ্বনবির চোখ থেকে।
জামাআতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব কত বেশি তা অন্ধ সাহাবি হজরত উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ অন্ধ সাহাবিদের কথপোকথনই তার প্রমাণ। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, একদিন এক অন্ধ ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ নেই।
লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ জন্য নিবেদন করলেন যে, তিনি তাকে ঘরেই নামাজ আদায় করার অনুমতি দেবেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাকে অনুমতি দিয়ে দিলেন।
যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে (অন্ধ ব্যক্তিকে) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি আজানের শব্দ শুনতে পাও?
লোকটি বললো, ‘জি, হ্যাঁ’।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে আজানের শব্দ শুনে লাব্বায়েক বলে জামাআতের সঙ্গে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে চলে এসো।’ (মুসলিম)হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাকতুম আল-মুয়াজ্জিন বর্ণনা করেন, তিনি নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মদিন শরিফে অনেক বড় বড় বিষাক্ত পোকা-মাকড় ও জন্তু রয়েছে। (আর আমি অন্ধ মানুষ) এমতাবস্থায় আমাকে ঘরে নামাজ পড়ার অনুমতি দিন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- ‘তুমি যদি ‘হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ’ (নামাজের দিকে ছুটে এসো, কল্যাণের দিকে ছুটে এসো) শুনতে পাও, তাহলে নামাজের জন্য (মসজিদে) এসো।’ (আবু দাউদ)জামাআতে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে সাহাবায়ে কেরামের প্রতি একটি কঠোর হাদিস বর্ণনা করেন-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে মহান সত্তার হাতে আমার জীবন তার শপথ করে বলছি! আমি ইচ্ছা করেছি যে- ‘আমি লোকদেরকে লাকড়ি জমা করার আদেশ দেবো। তার পর নামাজের জন্য আজান দিতে বলবো। তারপর এক ব্যক্তিকে নামাজ পড়াতে আদেশ দেবো। তারপর (যে লোকেরা জামাআতে উপস্থিত হয় না) আমি তাদের দিকে যাবো) এবং তাদের ঘরগুলো জ্বালিয়ে দেবো।’ (বুখারি ও মুসলিম)হাদিসের আলোকে বুঝা যায় যে, জামাআতে নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। যেখান থেকে বাদ যায়নি অন্ধ ব্যক্তিও। আর অন্য সাধারণ ব্যক্তির জন্য তা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হুকুম।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে মসজিদে গিয়ে জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
