Category: ধর্ম

  • মক্কা-মদিনায় অবস্থানকালে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

    মক্কা-মদিনায় অবস্থানকালে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

    হজ উপলক্ষে সারাবিশ্ব থেকেই লাখ লাখ হজ পালনকারী মক্কা-মদিনায় সমবেত হয়। সবাই আল্লাহর মেহমান। ব্যাপক ভিড়ের কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব নয়। হজের সময়গুলোতে দলবদ্ধভাবে চলাফেরার বিকল্প নেই।

    যদিও প্রতিটি হজ কাফেলা এবং সৌদি আরবের হজ কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক হজ সেবায় প্রস্তুত। তথাপি নিজেদের মধ্যে পরামর্শের আলোকে দলবদ্ধভাবে চলাফেরায় যাবতীয় জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

    হজ কর্তৃপক্ষ যে দিকনির্দেশনা দেয় এবং হজ কাফেলার মুয়াল্লিমদের পরামর্শ মেনে চলা সবার জন্য একান্ত আবশ্যক। কাফেলার সঙ্গে থাকা দিনগুলোতে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে একজনের অসুবিধার জন্য কাফেলার অন্যদের সমস্যায় পড়তে হয়।

    চলাফেরায় কাফেলার সঙ্গীদের পারস্পরিক সহযোগিতা একান্ত দরকার। মক্কা-মদিনায় অবস্থানকালীন সময় হজ পালনেচ্ছুদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও যে নিয়মগুলোর প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি, তা তুলে ধরা হলো-
    >> মুয়াল্লিম বা কাফেলা প্রধানের অনুমতি ছাড়া কোথাও না যাওয়া। আত্মীয়-স্বজন বা বাহিরে কোথাও গেলে লিখিত অনুমতি নিয়ে যাওয়া।
    >> কাফেলার জন্য নির্ধারিত থাকার জায়গার বাইরে হাজিদের অন্য কোথাও না যাওয়া। তাছাড়া বাইরে থাকার অনুমতিও নেই।
    >> হোটেলে কিংবা বাসা বাড়িতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে রান্না-বান্নাসহ কাপড় স্ত্রী না করা। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি।
    >> কাফেলার প্রত্যেককেই হজ কর্তৃপক্ষ ও মুয়াল্লিম অফিস থেকে সরবরাহকৃত কব্জি বেল্ট ও মুয়াল্লিম কার্ড নিজেদের কাছে রাখা। যাতে কেউ হারিয়ে গেলে কব্জিবেল্টের সাহায্যে নিজ নিজ কাফেলার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
    >> হোটেল বা বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার সময় একা একা না বের হয়ে দলবদ্ধভাবে বের হওয়া।
    >> হজ-ওমরার জিয়ারতের যাবতীয় কাজ তথা কাবা শরিফ তাওয়াফ, নিয়মিত জামাআতে অংশগ্রহণ, সাফা-মারওয়ায় সাঈ, আরাফাতের ময়দানে গমন, মিনায় অবস্থান, মুজদালিফায় রাত যাপন এবং শয়তানকে কংকর নিক্ষেপসহ সব জায়গায় বেশি মালামাল না নেয়া।

    >> হজের সফরে কোনোভাবেই খালি পায়ে না হাঁটা। কারণ প্রচণ্ড গরমের কারণে পায়ে ফোসকা পরতে পারে। তাই সব সময় ছোট ব্যাগে সেন্ডেল রাখা।
    >> হজের সফরে বাইরে অবস্থানকালে ছাতা, পানি সঙ্গে রাখা এবং সম্ভব হলে ফলের রস পান করা এবং চর্বিযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকা।
    >> কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গেই কাফেলার সঙ্গী তথা মুয়াল্লিমকে অভিহিত করা এবং বাংলাদেশ হজ অফিস কর্তৃক পরিচালিত স্বাস্থ্য ক্লিনিকে দ্রুত যোগাযোগ করা।
    >> পরিবেশ রক্ষায় হোটেলে বা বাইরে সব সময় ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলা।

    সুন্দর ও সঠিকভাবে হজ পালনে কাফেলার প্রত্যেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও ধৈর্য ধারণ করা যেমন জরুরি। ঠিক তেমনি হজ পালনে ইচ্ছুকদের উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়ায়ও জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা হজের এ দীর্ঘ সফরকে হজ পালনকারীদের জন্য সহজ করে দিন। হজ পালনকারীদেরকে হজের নিয়ম-কানুনগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন।

  • স্বাধীনতা দিবসে পতাকার রঙে সাজলো যে মসজিদ

    স্বাধীনতা দিবসে পতাকার রঙে সাজলো যে মসজিদ

    ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটি তাদের একটি ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদকে সাজিয়েছেন দেশের পাতাকার আদলে। দেশ প্রেমকে তুলে ধরতে মসজিদের গম্বুজ ও মিনারে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ লাইটিং ব্যবস্থা। এ লাইটের আলোয় ফুটে ওঠেছে দেশের পতাকা।

    দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে লাল, সাদা ও নীল রঙের লাইট ব্যবহারে মসজিদটিকে পতাকার আদলে সাজানো হয়। ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদ কমপ্লেক্সের পাবলিক রিলেশন চেয়ারম্যান (PRC) নাজওয়া বাদাঈ গত রমজান মাসের শেষ দিকে এ কার্যক্রম হাতে নেন।

    মসজিদকে পতাকার রঙে সাজিয়ে আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটি এ কথাই জানাতে চায় যে, মুসলিমরা দেশের সংবিধানের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে চায়। ইসলাম আমাদের বিশ্বাস এবং এক আল্লাহর অধীনে আমরা এক শক্তিশালী জাতি।

    আমেরিকার টোলিডো ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদ কমপ্লেক্সটি হাইওয়ের সংলগ্ন হওয়ায় প্রতি রাতেই হাজারো গাড়ির আলোয় অন্যরকম রূপে দৃশ্যমান হয় মসজিদটি। হাইওয়েগামী অধিকাংশ গাড়ির চালক মসজিদটির অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে ধীরগতিতে পথ অতিক্রম করে।

    Mosque-1

    মসজিদের বর্ণিল আলোক সজ্জা দেখতে মানুষের এ আগ্রহ-ই প্রমাণ করে যে, মসজিদের আলোক সজ্জা সবারই পছন্দনীয়। এ কারণে অনেক মানুষ ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেছেন।

    ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদ কমপ্লেক্স বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে আর সে রাতে মসজিদটি থাকে আলোক সজ্জায় সজ্জিত। প্রতি বছর দেশটির স্বাধীনতা দিবসে ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ বিশেষ আলোক সজ্জার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করছে।

    উল্লেখ্য যে, ওহিও যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪তম বৃহত্তম এলাকা। সপ্তম জনপ্রিয় শহর। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যান্সাস ব্যুারো কর্তৃক ২০১৮ সালের ১ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ওহিও’র মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪২জন। শহরটিতে শতকরা ১ ভাগ মুসলিম বসবাস করে।

    ওহিওর শতকরা ৫৫ ভাগ মানুষ ধর্মকর্মে বিশ্বাসী। আর ওহিও’র শতকরা ৩৬ ভাগ মানুষ প্রতি সপ্তাহেই ধর্মীয় সভা-সমাবেশে যোগদান করেন।

  • যেসব হাজিদের হজ-ওমরাহকে ‘জিহাদ’ বলেছেন বিশ্বনবি

    যেসব হাজিদের হজ-ওমরাহকে ‘জিহাদ’ বলেছেন বিশ্বনবি

    হজ-ওমরাহ পালনকারীরা আল্লাহ তাআলার মেহমান। হাদিসে পাকে আল্লাহ তাআলা ৩ শ্রেণির ব্যক্তিকে তার মেহমানের মর্যাদা দিয়ে থাকেন। বিশ্বনবি বলেছেন, ‘আল্লাহর মেহমান হলো ৩টি দল- আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকারী, হজ পালনকারী এবং ওমরা পালনকারী।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ৪ শ্রেণির লোককে তাঁর রাস্তায় জিহাদের মর্যাদা ও সাওয়াব দিয়ে তাঁর একান্ত মেহমান হিসেবে কবুল করে নেন। যারা বয়সে ছোট এবং বড় আবার দুর্বল এবং নারী। হাদিসে পাকে এসেছে-

    >> হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! নারীদের ওপর জিহাদ আছে কি?
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ’, আছে। তবে সেখানে যুদ্ধ নেই। সেটি হলো হজ ও ওমরাহ।’ (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

    >> অন্য হাদিসে বিশ্বনবি আরো বর্ণনা করেন, ‘বড়, ছোট, দুর্বল এবং নারী সবার জন্য জিহাদ হলো- ‘হজ ও ওমরাহ।’ (নাসাঈ)

    >> অন্য হাদিসে মুমিনের শ্রেষ্ঠ আমলের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বনবি বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ আমল হলো-
    – আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান আনা। অতঃপর
    – শ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। অতঃপর
    – শ্রেষ্ঠ হলো কবুল হজ।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

    মুসলিম উম্মাহর উচিত হাদিসের আলোকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ আমলগুলোর মাধ্যমে জীবনকে সাজিয়ে তোলা। ঈমান, জিহাদ ও হজের মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা অর্জন করা।

    বিশেষ করে-
    বয়সে বড় কিংবা ছোট, দুর্বল এবং নারীদের জন্য হজ ও ওমরাহ আদায়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ ৩টি আমলই পালন করা হয়। ঈমানদার ব্যক্তিরাই হজ পালন করে, আর হজ-ওমরাহ পালনকারী যদি দুর্বল, বড়, ছোট কিংবা নারী হয় তবে তারা হাদিসের ঘোষণায় জিহাদকারী হিসেবে গণ্য। আর জিহাদও মুমিনের শ্রেষ্ঠ আমল। সর্বোপরি হজ-ওমরাহ পালনও মুমিন মুসলমানের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।

    সুতরাং শিশু-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ-দুর্বল এবং নারীদেরও বেশি বেশি ওমরাহ ও হজ পালনের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ আমলকারী হওয়ার চেষ্টা করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শ্রেষ্ঠ আমলকারী হিসেবে দুনিয়ার স্বচ্ছলতা ও পরকালের সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়

    যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়

    হজ ও ওমরাহ পালনকারীর ইহরাম যৌনাচার ও যৌন মিলনে ভেঙে যাবে। বাতিল হয়ে যাবে ইহরাম। পুনরায় তাকে ইহরাম বাঁধতে হবে। এ ছাড়াও ইহরাম অবস্থায় অনেকগুলো কাজ আছে যেগুলোর জন্য ইহরাম ভাঙবে না কিন্তু ফিদইয়া দেয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে।

    আবার কেউ যদি নিজের অজ্ঞতাবশত কিংবা ভুলে বা ঘুমের ঘোরে ইহরামের জন্য নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, তবে তার জন্য যেমন কোনো গোনাহ নেই আবার এর জন্য ফিদইয়াও দিতে হবে না।

    ইহরাম অবস্থায় সেসব নিষিদ্ধ কাজগুলো হলো-
    >> ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা। তবে দেহে সুগন্ধি ব্যবহারে দোষ নেই।
    >> স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের জন্যই মাথার চুল এবং যে কোনো উপায়ে শরীরের যে কোনো স্থানের পশম ওঠানো।
    >> হাত ও পায়ের নখ কাটা।
    >> পশু-পাখী কিংবা যে কোনো প্রাণী শিকার করা। এমনকি শিকার ধরতে শিকারিকে ইশারা-ইঙ্গিতে সহযোগিতা করা। তবে ক্ষতিকর হিংস্র জীব-জন্ত বা পাণী মারার অনুমতি রয়েছে।
    >> যাবতীয় যৌনচার, ও যৌন মিলন একেবারেই নিষিদ্ধ। কারণ যৌনাচারের কারণে ইহরাম ভেঙে যাবে। ফলে পুনরায় ইহরাম বাধতে হবে। নতুবা হজ ও ওমরা হবে। এছাড়াও বিয়ের প্রস্তাব, বিয়ের আক্বদ বা যৌন আলোচনা করাও নিষেধ।
    >> পুরুষের জন্য পাগড়ি, টুপি ও রুমাল ব্যবহার করা। তবে প্রচণ্ড গরম কিংবা বৃষ্টিতে ছাতা বা ছাতা সাদৃশ্য জিনিস ব্যবহার করায় দোষ নেই।
    >> পুরুষের জন্য কোনো প্রকার সেলাই করা কাপড় পরা। হতে পারে তা জুব্বা, পাঞ্জাবি, শার্ট, গেঞ্জি ও মোজা ইত্যাদি সেলাই করা কাপড় পরা। তবে তালি বা পট্টি লাগানো ইহরামের কাপড় পরায় কোনো দোষ নেই।
    >> নারীদের জন্য মুখ ঢাকা এবং হাত মোজা ব্যবহার করা। তবে নারীরা মুখ থেকে কাপড় আলাদা রাখতে হেলমেট ব্যবহার করে নিকাব পড়ায় কোনো দোষ নেই। কেননা পর পুরুষের সামনে মুখ ঢেকে রাখা ওয়াজিব।
    >> ইহরাম অবস্থায় ঝগড়া-বিবাদ করা এবং ইসলামি শরিয়ত বিরোধী যে কোনো বাজে কথা বলা ও বাজে কাজ করা।

    মনে রাখতে হবে
    ইহরামের মূল উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়ার সব চাকচিক্য সাজ-সজ্জা থেকে নিজেকে বিরত রেখে একান্তভাবে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। আবার পুরুষের সেলাইবিহীন কাপড় পরার উদ্দেশ্য হলো সব জৌলুস ও প্রদর্শনী থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ ও নিবেদত প্রাণ হয়ে যাওয়া। যেখানে দুনিয়ার কোনো লোভ কিংবা মোহ থাকবে না।

    সুতরাং হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে হেফাজত থাকা জরুরি। কারণ ইহরাম বাতিল ও ক্ষতিগ্রস্ত হলে হজের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধনে বাধাগ্রস্ত হবে হাজি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে বিশুদ্ধ ইহরামে হজ ও ওমরাহ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ওমরা পালনের ধারাবাহিক নিয়ম ও দোয়া

    ওমরা পালনের ধারাবাহিক নিয়ম ও দোয়া

    শরু হয়েছে হজের সফর। সারাবিশ্ব থেকে লাব্বাইক ধ্বনিতে পবিত্র নগরী মক্কার দিকে যাচ্ছে মুমিন মুসলমান নর-নারী। যাদের অনেকেই মক্কা গিয়েই আদায় করবেন ওমরা। হজের আগে নারী-পুরুষের ওমরা পালনের ধারাবাহিক নিয়মগুলো যেমন জেনে নেয়া জরুরি। তেমনি ওমরার রোকনগুলোতে পড়া দোয়া গুলোও জেনে নেয়া জরুরি।

    ওমরা আদায়ে নারী-পুরুষের জন্য রয়েছে নির্ধারিত ৪টি কাজ ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। ৪টি কাজ সম্পাদনে নারী পুরুষের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। যা তুলে ধরা হলো-

    >> ইহরাম বাধা।
    >> কাবা শরিফ (৭ চক্করে) তাওয়াফ করা।
    >> সাফা-মারওয়া সাঈ করা।
    >> হলক করা। পুরুষরা পুরো মাথার চুল ছোট করবে বা মুণ্ডন করবে আর নারীরা চুলে আগা কর্তন করার মাধ্যমে হালাল হয়ে যাবে।

    নারী-পুরুষের ওমরার ধারাবাহিক বিস্তারিত নিয়ম ও দোয়া

    প্রথম কাজ : ইহরাম বাঁধা (ফরজ)
    নির্ধারিত মিকাত থেকে (সম্ভব হলে) গোসল করে অথবা অজু করে নেয়া। পুরুষরা সেলাইবিহীন ২টি কাপড় পরবে। আর নারীরা পর্দাসহ শালীন পোশাক পরবে। অতঃপর ২ রাকাআত নামাজ পড়ে ইহরামের নিয়ত করে নেবে-
    اَللَّهُمَّ اِنِّي اُرِيْدُ العُمْرَةَ فَيَسِّرْهُ لِيْ وَ تَقَبَّلْهُ مِنِّي
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ফাইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি ওমরার ইচ্ছা করছি; আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।’

    অতঃপর তালবিয়া পড়বে (১ বার তালবিয়া পড়া শর্ত)
    لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ

    উচ্চারণ : ‘লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’

    তালবিয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ দোয়াটিও পড়বে-
    اَللَّهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ رِضَاكَ وَ الْجَنَّةَ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنْ غَضَبِكَ وَ النَّارِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা রিদাকা ওয়াল জান্নাতা ওয়া আউ’জুবিকা মিন গাদাবিকা ওয়ান্নারি’
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আশা করছি এবং আপনার অসুন্তুষ্টি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।’

    বাংলাদেশ থেকে যারা প্রথমে মক্কায় যাবেন তারা বাসা কিংবা হজ ক্যাম্প থেকে ইহরামের কাজ সম্পন্ন করে নেবে।

    মসজিদে হারামে প্রবেশ
    ওমরা উদ্দেশ্যে মসজিদে হারামে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে এ দোয়া পড়া-
    بِسْمِ اللهِ وَ الصّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ
    أعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْم وَ بِوَجْهِهِ الْكَرِيْمِ وَ سُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
    اَللهُمَّ افْتَحْ لِىْ اَبْوَابَ رَحَمَتِكَ 
    উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ। আউজুবিল্লাহিল আজিম ওয়া বি-ওয়াজহিহিল কারিম ওয়া সুলতানিহিল কাদিমি মিনাশশায়ত্বানির রাজিম। আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।

    কাবা ঘর দেখে এ দোয়া পড়া-
    اَللَّهُمَّ أَنْتَ السّلَامُ وَ مِنْكَ السَّلَامُ حَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ اَللَّهُمَّ زِدْ هَذَا الْبَيْتَ تَشْرِيْفاً وَ تَعْظِيْماً وَ تَكْرِيْماً وَ مَهَاَبَةً وَ زِدْ مَنْ شَرّفَهُ وَ كَرّمَهُ مِمَّنْ حَجَّهُ وَاعْتَمَرَهُ تَشْرِيْفاً وَ تَعْظِيْماً وَ بِرُّا
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু হাইয়্যিনা রাব্বানা বিস্‌সালাম। আল্লাহুম্মা যিদ হাজাল বাইতা তাশরিফান ওয়া তা’জিমান ওয়া তাকরিমান ওয়া মুহাবাতান; ওয়া জিদ মান শার্‌রাফাহু ওয়া কার্‌রামাহু মিম্মান হাজ্জাহু ওয়া’তামারাহু তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া তা’জিমান ওয়া বির্‌রা।

    দ্বিতীয় কাজ : তাওয়াফ করা (ফরজ)
    ওমরার দ্বিতীয় ফরজ কাজ হলো কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। হাজরে আসওয়াদ চুম্বন, ইসতেলাম (স্পর্শ) বা হাজরে আসওয়াদ বরাবর কোনায় দাঁড়িয়ে কাবার দিকে ফিরে দুই হাত দিয়ে ইশারা করে পুরুষরা ইজতিবা ও রমলসহ আর নারীরা সাধারণভাবে তাওয়াফ শুরু করবে আর এ দোয়া পড়া-
    بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر – اَللَّهُمَّ اِيْمَنًا بِكَ و بصديقًا بِكِتَابِكَ وَرَفَعًا بِعَهْدِكَ وَ اِتِّبَعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ
    উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার; আল্লাহুম্মা ইমানান বিকা ওয়া তাসদিকান বিকিতাবিকা ওয়া রাফাআন বিআহদিকা ওয়া ইত্তিবাআন লিসুন্নাতি নাবিয়্যিকা।’

    তাওয়াফের সময় কাবা শরিফ ও হাজরে আসওয়াদকে বাম দিকে রেখে রোকনে শামি ও রোকনে ইরাকি অতিক্রম করে রোকনে ইয়ামেনিতে আসবে। এ স্থানে তালবিয়া, তাকবির তাসবিহ ইত্যাদি পড়বে।
    অতঃপর (সম্ভব হলে) রোকনে ইয়ামেনি স্পর্শ করবে। সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে হাজরে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হবে এবং কুরআনে শেখানো এ দোয়া পড়বে-

    رَبَّنَا اَتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِى الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
    উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আজাবান্ নার।’

    হাজরে আসওয়াদ পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে এক চক্কর সম্পন্ন হবে। এভাবে সাত চক্কর দেয়ার মাধ্যমে পুরো এক (ফরজ) তাওয়াফ সম্পন্ন হবে।

    ইজতিবা ও রমল
    ফরজ তাওয়াফের জন্য পুরুষরা ইজতিবা ও রমল করবে। এটি নারীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। আর তাহলো-

    – ইজতিবা
    পুরুষরা গায়ের চাদরটিকে মুঠিবদ্ধ করে বাম কাধের ওপর দিয়ে পিঠ ঘুরিয়ে ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বুকের ওপর থেকে বাম কাঁধের ওপর দিয়ে পেছনে ফেলা। এভাবে বাহাদুরি সুলভ আচরণ প্রকাশে গায়ের চাদর পরাই হলো ইজতেবা। আর এটা করা সুন্নাত।

    – রমল
    ফরজ তাওয়াফের প্রথম ৩ চক্করে রমল করাও সুন্নাত। দুই হাত শরীর ও কাঁধ হেলিয়ে দুলিয়ে দ্রুত গতিতে প্রথম ৩ চক্কর সম্পন্ন করা। এভাবে তাওয়াফ করাকে রমল বলে।

    তাওয়াফে রমল ও ইজতিবা পুরুষের জন্য পালন করা সুন্নাত। এটা নারীদের জন্য নয়।

    মাকামে ইবরাহিমে নামাজ
    তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহিমে কিংবা মাকামে ইবরাহিমের ওই দিকটায় ২ রাকাআত নামাজ আদায় করা। নারীদের নামাজের জন্য ওই দিকটায় নির্ধারিত স্থানও রয়েছে।

    অতঃপর ঝমঝমের পানি পান
    মাকামে ইবরাহিমে নামাজ আদায় করে ঝমঝমের পানি পান করে নেয়া। মাতআফের চর্তুদিকে ঝমঝমের পানির ঝার/ড্রাম রয়েছে। যাদের ঠাণ্ডার সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ঝমঝমের গরম পানির ব্যবস্থাও রয়েছে।

    তৃতীয় কাজ : সাফা-মারওয়ায় সাঈ করা (ওয়াজিব)
    ঝমঝমের পানি পান করে ধীরে ধীরে সাফা পাহাড়ে আরোহন করা। সাফা ও মারওয়া পাহাড় দুটি কাবা শরিফের পাশেই অবস্থিত। ‘আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহি ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহি’ বলে এ পাহাড় দুটি মাঝে ৭ বার আসা-যাওয়া করাকে সাঈ বলা হয়।
    সাঈতে করণীয়-
    কাবা শরিফ তাওয়াফের পর মাকাকে ইবরাহিমে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে মসজিদে হারামের বাবুস সাফা দিয়ে সাফা পাহাড়ে আরোহন করা। সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে এ আয়াত পাঠ করা-
    إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
    উচ্চারণ : ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়ি’তামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আঁইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মাং তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৮)
    এ আয়াতটি সাফা পাহাড়ের ওপরে গম্বুজের মধ্যে লেখা রয়েছে। চাইলে যে কেউ তা দেখে দেখেও পড়ে নিতে পারবেন।

    – সাফা পাহাড় থেকে কাবা শরিফ দেখা যায়। কাবার দিকে ফিরে আলহামদুলিল্লাহি আল্লাহু আকবার (اَلْحَمْدُ لِلَّهِ اَللهُ اَكْبَر) বলে আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

    – অতঃপর এ দোয়াটি ৩ বার পড়ে সাফা পাহাড় থেকে মারওয়ার দিকে চলা শুরু করা-
    لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ – لَهُ المُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ يُحْيِى وَ يُمِيْتُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيئ قَدِيْر
    لَا اِلَهَ اِلَّا الله وَحْدَهُ أنْجَزَ وَعْدَهُ – وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ
    উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হাম্দু ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু আনজাযা ওয়াহদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু হাযাামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।’

    সবুজ চিহ্নিত স্থান
    সাফা পাহাড় থেকে চলা শুরু করতেই পড়বে ‘সবুজ চিহ্নিত স্থান’। এ স্থানটিকে লাইট দিয়ে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। পুরুষরা এ স্থানটি দৌড়ে অতিক্রম করবে আর নারীরা স্বাভাবিকভাবে হেটে হেটে অতিক্রম করবে।

    সবুজ চিহ্নিত স্থানে এ দোয়া পড়া-
    رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’

    সবুজ চিহ্নিত স্থান অতিক্রম করে নারী-পুরুষ সবাই স্বাভাবিক গতিতে হাটবে। আর তাসবিহ পড়বে-
    اَللهُ اَكْبَر – اَللهُ اَكْبَر- اَللهُ اَكْبَر- وَ لِلَّهِ الْحَمْدُ
    اَللَّهُمَّ حَبِّبْ اِلَيْنَا الْاِيْمَانَ وَ كَرِّهْ اِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوْقَ وَالْعِصْيَانَ وَاجْعَلْنَا مِنْ عِبَادِكَ الصَّالِحِيْنَ
    উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদু। আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইনাল ইমানা ওয়া কাররিহ ইলাইনাল কুফরা ওয়াল ফুসুক্বা ওয়াল ইসয়ানা ওয়াঝআলনা মিন ইবাদিকাস সালিহিন।’

    মারওয়া পাহাড়ে আরোহন
    সাফা থেকে গিয়ে মারওয়া পাহাড়ে ওঠা। সেখানে গিয়ে আবার সাফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। সেখানে এ দোয়া পড়া-
    اَللهُ اَكْبَر – اَللهُ اَكْبَر- اَللهُ اَكْبَر- وَ لِلَّهِ الْحَمْدُ – لَا اِلَهَ اِلَّا الله وَحْدَهُ صَدَقَ وَعْدَهُ وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ
    وَ لَا نَعْبُدُ اِلَّا اِيَّاهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَفِرُوْنَ – رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ
    إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
    উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদু। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু সাদাক্বা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লা নাবুদু ইল্লা ইয়্যাহু মুখলিসিনা লাহুদদ্বীন ওয়া লাও কারিহাল কাফিরুন। রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম। ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়ি’তামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আঁইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মাং তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’

    সাফা পাহাড়ে আসার সময়ও সবুজ চিহ্নিত স্থানে আগের নিয়মে পুরুষরা দ্রুত আর নারীরা স্বাভাবিকভাবে হেটে হেটে আসবে পূর্বোল্লিখিত দোয়া পড়া-
    رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’

    এভাবে আসা-যাওয়া মিলিয়ে ৭ বার চলাচলের মাধ্যমে সাঈ সম্পন্ন হবে। সাঈ শেষ হলে এ দোয়া পড়া-
    رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الَعَلِيْمُ – وَ تُبْ عَلَيْنَا اِنَّكَ اَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحَيْمُ –
    وَ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَى خَيْرِ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ وَّاَلِهِ وَ اَصْحَابِهِ اَجْمَعِيْنَ وَارْحَمْنَا مَعَهُمْ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাছ্ ছামিউল আলিম। ওয়অতুব্ আলাইনা ইন্নাকা আংতাত্ তাওয়্যাবুর্ রাহিম। ওয়া সাল্লাল্লাহু তাআলা আলা খাইরি খালক্বিহি মুহাম্মাদিউ ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাইন ওয়ারহামনা মাআহুম বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’
    ওমরার শেষ কাজ : মাথা মুণ্ডন করা (ওয়াজিব)
    সাফা এবং মারওয়া পাহাড়দ্বয় সাঈ করার পর মাথা মুণ্ডন করা অথবা মাথার চুল ছেটে ফেলা। আর নারীরা চুলের আগার দিকে কিছু অংশ কাটার মাধ্যমে ইহরাম থেকে বের হয়ে যাবে।

    উল্লেখ্য যে, যারা হজে ক্বিরান আদায় করবে তারা মাথা মুণ্ডন করবে না। আর যারা তামাত্তু হজ করবেন শুধু তারাই মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম থেকে হালাল হবে। আর ইফরাদ হজ আদায় কারীর জন্য তো ওমরা করার প্রয়োজন নেই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ নিয়মে ওমরা আদায় করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • প্রতিদিনের যে কাজগুলোয় রয়েছে সাদকার সাওয়াব

    প্রতিদিনের যে কাজগুলোয় রয়েছে সাদকার সাওয়াব

    জীবন ও সম্পদ মহান আল্লাহর দান ও নেয়ামত। এ নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করা সবার জন্যই জরুরি। তাইতো আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর দেয়া অর্থ থেকে তাঁরই পথে খরচ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।

    আর যাদের অর্থ-সম্পদ নেই, তাদের জন্যও রয়েছে সাদকা আদায়ের ব্যবস্থা। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে সব সাদকার কথা উল্লেখ করেছেন।

    হাদিসে ঘোষিত কাজের মাধ্যমে প্রতিদিনের সাদকার ধন-ভাণ্ডার শুধু গরিবদের জন্যই নয়, বরং সবার জন্য। যারা এ কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করবে, তারা পেয়ে যাবেন অসংখ্যা সাদকার সাওয়াব। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করলেন, ‘প্রতিদিন মানুষের ওপর নিজের জন্য সাদকা করা আবশ্যক। আমি বললাম, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কোথা থেকে সাদকা আদায় করবো, আমাদের তো সম্পদ নেই।’
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘নিশ্চয় সাদকা রয়েছে-
    -তাকবির বলায়;
    – সুবহানাল্লাহ বলায়;
    – আলহামদুলিল্লাহ বলায়;
    – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলায়;
    – আল্লাহু আকবার বলায়;
    – আসতাগফিরুল্লাহ বলায়।
    – সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করায়ও রয়েছে সাদকা।
    রাস্তাঘাটে চলা ফেরায়-
    – কাঁটা;
    – হাড্ডি এবং
    – পাথর সরিয়ে দেয়ায়ও রয়েছে সাদকার সাওয়াব।
    – অন্ধকে রাস্তা দেখিয়ে দেয়া আর
    – বধির ও বোবাকে কথা বুঝিয়ে দেয়ায়ও রয়েছে সাদকার সাওয়াব।
    – আবার কোনো প্রয়োজনে কাঙ্খিত বিষয় সম্পর্কে তথ্য দেয়াও সাদকা।
    – দুঃখী বা ফরিয়াদি ব্যক্তির জন্য কষ্ট বা মেহনত করে জীবিক উপার্জন করাও সাদকা। আবার
    – দুর্বল ব্যক্তিকে যে কোনো সহায়তায় রয়েছে সাদকার সাওয়াব।
    এসব সাদকাই তোমার পক্ষ থেকে তোমার নিজেদের জন্য আদায় হয়ে যাবে। পরিণামে সে পাবে সাদকার বিশাল সাওয়াব।

    মুসলিম উম্মাহর উচিত হাদিসে ঘোষিত কাজগুলো যথাযথ আদায়ের মাধ্যমে সাদকা মতো মহামূল্যবান ইবাদতে নিজেদের নিয়োজিত রাখা। জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল ও তাওবা ইসতেগফারের মাধ্যমে দুনিয়ার সুন্দর জীবন ও পরকালের সফলতার সুনিশ্চত করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকেউল্লেখিত কাজগুলোর মাধ্যমে শরীরের হক আদায় করে সাদকার সাওয়াব লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • তাকওয়া ও পরহেজগারী

    তাকওয়া ও পরহেজগারী

    আল্লাহ আখেরাত দিবস (পরকাল) ও নবুয়ত পরম্পরার প্রতি ঈমান আনার পর যেসব বিষয়ের দাওয়াত কোরআন মাজীদ বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দিয়েছে এবং সেগুলোকে বলতে গেলে মানুষের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করেছে, তন্মধ্যে একটি হলো তাকওয়া বা পরহেজগারী। তাকওয়ার আসল তাৎপর্য হলো এই যে, বান্দা আল্লাহ তায়ালা ও আখেরাত দিবসের প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাস সহকারে আল্লাহ তায়ালার অসন্তোষ, তার পাকড়াও, আখেরাতের আযাব ও হিসাব-কিতাবের ভয়ে সতর্ক-সংহত জীবনযাপন করবে।

    মহানবী সা.-এর প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উবাই ইবনে কা’ব রা. যিনি ইলমে কোরআন বিশেষ ব্যুৎপত্তি ও দক্ষতার অধিকারী ছিলেন (এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সা.ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে যার বিশেষ মর্যাদার কথা প্রত্যয়ন করেছেন)। একদিন আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তাকওয়া (তথা পরহেজগারী)-এর তাৎপর্য কি? হযরত উবাই রা. বললেন, ‘কখনও কণ্টাকাকীর্ণ পথ চলার সুযোগ তো অবশ্যই আপনার হয়ে থাকবে।’ হযরত ওমর রা. বললেন, ‘বিলক্ষণ; বহুবার এমন পথ চলার সুযোগ হয়েছে।’

    হযরত উবাই রা. বললেন, ‘তখন আপনি কি করেছেন?’ হযরত ওমর রা. বললেন, ‘আমি আমার দেহ ও পরিধেয় কাপড়চোপড়কে কাঁটা থেকে বাঁচিয়ে অক্ষত বেরিয়ে যেতে পারি।’ হযরত উবাই রা. বললেন, ‘ফাজালিকাত তাকওয়া’। (এটিই হলো তাকওয়ার তাৎপর্য)। (ইবনে কাসীর : ১ম খন্ড, পৃ. ৪০)। আসলে তাকওয়ার এর চাইতে সালঙ্কার ও উত্তম ব্যাখ্যা আর কিছুই হতে পারে না।

    কোরআন মাজীদের যেসব আয়াতে তাকওয়া বা পরহেজগারী অবলম্বনের উপদেশ ও তাকিদ করা হয়েছে, সেসবগুলো গণনা করাও কঠিন। এ সম্পর্কিত কয়েকটি মাত্র আয়াত এখানে পেশ করা হলো। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো যেমনটি তাকে ভয় করা উচিত। আর (শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এ তাকওয়ার ওপর স্থির থেকে মনেপ্রাণে নিজের সে মালিকের আনুগত্য করতে থাক এমনকি) সেই আনুগত্যের অবস্থায়ই যেন তোমার মৃত্যু আসে।’ (সূরা আল ইমরান : আয়াত ১০২)।

    অর্থাৎ, যে আল্লাহ তায়ালার সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা এবং যার হাতে জীবন ও মৃত্যুর যাবতীয় ব্যবস্থাপনা। যিনি অপরিসীম করুণা ও রহমতের অধিকারী এবং যার পরাক্রম ও রোষেরও কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। এমনি মালিককে বান্দার যেভাবে ভয় করা কর্তব্য, ঈমানদাররা তাকে সেভাবেই ভয় করে থাকবে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার আনুগত্য করতে থাকবে।

    সূরা তাগাবুনে এ বিষয়টিই এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, ‘আল্লাহকে ভয় করা এবং তাকওয়া (পরহেজগারী) অবলম্বন করো যতটা তোমাদের দ্বারা সম্ভব। আর মনেপ্রাণে তার যাবতীয় নির্দেশ শোন ও পালন করো।’ (সূরা তাগাবুন, আয়াত ১৬)।

    সূরা হাশরে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো। বস্তুত প্রত্যেক নিঃশ্বাসগ্রহণকারীর অবশ্যই লক্ষ করা (এবং ভাবা) উচিত যে, কালকের জন্য অর্থাৎ আখেরাতের জন্য) সে কি প্রেরণ করল (পাথেয় ব্যবস্থা করল)। আর (তোমাদের বারংবার তাকাদা করা হচ্ছে যে,) আল্লাহকে ভয় করতে থাক। বস্তুত এ কথা নিশ্চিত যে, আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় ভ‚ত-ভবিষ্যৎ কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত (তোমাদের কোনো কর্ম তার কাছে গোপন নেই)। (সূরা হাশর : আয়াত ১৮)।

  • বরিশালে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবীর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত

    বরিশালে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবীর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত

    বরিশালে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবীর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নগরীর সদর রোডের জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়।

    অপরদিকে বিকেলে হাটখোলা হরি মন্দির থেকে আরও একটি রথযাত্রা বের করে ভক্তরা। পৃথক স্থান থেকে বের হওয়া দুটি রাথযাত্রা শত শত ভক্তরা উপস্থিত হয়। এসময় পুণ্যের দড়ি টেনে রথযাত্রটি নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    রথযাত্রায় আসা ভক্তরা জানান, ভগবান জগন্নাথ এই দিনে রাস্তায় বের হন ভক্তদের সাথে দর্শণ দেবার জন্য। জগন্নাথ দেবের দর্শণ লাভ করে পরিত্রাণ পান ভক্তরা। এদিকে রথযাত্রার পর আগামী ১২ জুলাই বিকেল চারটায় উল্টোরথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানায় আয়োজকরা।

  • তালবিয়া পড়া : হজের অন্যতম শর্ত ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত

    তালবিয়া পড়া : হজের অন্যতম শর্ত ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত

    হজ ও ওমরার নিয়তে ইহরাম বাঁধার পর সর্ব প্রথম যে তাসবিহ ও কাজ সবচেয়ে বেশি জরুরি তাহলো তালবিয়া পড়া। হজ ও ওমরার সফরে এ তাসবিহ ‘তালবিয়া’-ই মানুষ বেশি বেশি পড়ে থাকে। আর এতে রয়েছে অনেক সাওয়াব ও ফজিলত।

    হজ ও ওমরা পালনকারীদের অনেকেই তালবিয়াসহ হজের নানাবিধ কাজগুলো সম্পর্কে অবগত থাকে না। হজের অন্যান্য কাজগুলো কারো সাহায্যে আদায় করতে পারলেও বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া পাঠ করা অনেকের জন্যই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

    নিজ নিজ দেশ থেকে রওয়ানা হওয়ার পর থেকে হজের পুরো সময়টাতে যখনই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে, তখনই এ তালবিয়া পাঠের গুরুত্ব অনেক বেশি। তালবিয়ার গুরুত্ব, ফজিলত, তালবিয়ার পাঠের শর্ত এবং যেসব স্থানে তালবিয়া পাঠ করতে হবে সেগুলো জেনে নেয়া এবং শিখে নেয়া জরুরি। কেননা হজ ও ওমরার পুরো সফর জুড়েই রয়েছে তালবিয়া পাঠের আবশ্যকতা।

    তালবিয়া পাঠের শর্ত
    হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ইহরামের পর প্রথম কাজই হলো তালবিয়া পড়া। আর প্রথম বার তালবিয়া পড়া হজ ওমরার জন্য শর্তও বটে। অতঃপর যতদিন হারামে থাকবে ততদিন তালবিয়া পড়া সুন্নাত।

    যেসব দিন ও স্থানে তালবিয়া পাঠ করতে হবে
    হজের সব রোকনগুলোতেই উচ্চ স্বরে হাজিগণ (নারীরা নিচু স্বরে) তালবিয়া পাঠ করবেন। আর তাহলো-
    >> আরাফাতের ময়দানে।
    >> মিনায়।
    >> মুজদালিফায়।
    >> হজ ও ওমরার এক রোকন থেকে অন্য রোকনের মধ্যবর্তী সময়ে তালবিয়া পড়া।
    >> উঁচু স্থানে আরোহন কিংবা নিচে নামার সময় তালবিয়া পড়া।

    এক কথায় হজের সফরে সার্বক্ষণিক ওঠা-বসা, ঘুমাতে যাওয়া, ঘুম জেগে ওঠার পর কিংবা স্বাভাবিক চলাফেরাসহ প্রত্যেক ফরজ ও নফল নামাজের পর বেশি বেশি তালবিয়া পড়া।

    তালবিয়া ও তা পাঠের নিয়ম : পুরো তালবিয়াকে ৪ ভাগে (নিঃশ্বাসে) ৩ বার পাঠ করা-
    لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ –
    لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ –
    اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ –
    – لاَ شَرِيْكَ لَكَ

    তালবিয়ার উচ্চারণ
    > লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,
    > লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,
    > ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক,
    > লা শারিকা লাক।

    তালবিয়ার অর্থ
    >> আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত!
    >> আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই।
    >> নিঃসন্দেহে সব প্রশংসা ও সম্পদরাজি তথা নেয়ামত আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্যও আপনার।
    >> আপনার কোনো অংশীদার নেই।

    মনে রাখা জরুরি
    তালবিয়া আরবিতেই পড়তে হবে। আর তা হতে হবে বিশুদ্ধ। যারা বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া পাঠ করে পারেন না। তাদের জন্য বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া শেখা আবশ্যক। এবারও লাখ লাখ হাজি সারা বিশ্ব থেকে হজ পালন করবে; তাদের উচিত বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া শিখে নেয়া।

    তালবিয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত
    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষণায় ইহরামের পর একবার তালবিয়া পাঠ করা শর্ত আর হজের পুরো সফরে বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করা সাওয়াব ও কল্যাণের কাজ। হাদিসে এসেছে-

    >> হজরত সাহল ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যখন তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার (তালবিয়া পাঠকারীর) ডান-বামে যত পাথর, গাছ ও মাটি ( আছে, এ সবই) তার সঙ্গে তালবিয়া পড়তে থাকে। এমনিভাবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত গিয়ে তা (পড়া) শেষ হয়।’

    >> হজরত আবু বরক ছিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন ধরণের হজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘আলআজ্জু, ওয়াছছাজ্জু’। অর্থাৎ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ এবং কুরবানি করা।’

    >> হজরত খাল্লাদ ইবনে সায়েদ ইবনে খাল্লাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার কাছে জিবরিল আলাইহিস সালাম এসে বললেন যে, আমি যেন আমার সাহাবিদেরকে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের নির্দেশ প্রদান করি।’

    এবারের হজের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতির দ্বারপ্রান্তে হজ পালনেচ্ছুরা। প্রত্যেক হজ পালনে ইচ্ছুক আল্লাহর মেহমানদের উচিত হজের সফরের অন্যতম তাসিবহ ও শর্ত তালবিয়া সঠিকভাবে শিখে নেয়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনে ইচ্ছুক আল্লাহর মেহমানদের হজকে সহজ করে দিন। তালবিয়াসহ হজের যাবতীয় নিয়ম ও বিধান যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন।

    আমিন।

  • মক্কা-মদিনায় অবস্থানকালে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

    মক্কা-মদিনায় অবস্থানকালে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

    হজ উপলক্ষে সারাবিশ্ব থেকেই লাখ লাখ হজ পালনকারী মক্কা-মদিনায় সমবেত হয়। সবাই আল্লাহর মেহমান। ব্যাপক ভিড়ের কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব নয়। হজের সময়গুলোতে দলবদ্ধভাবে চলাফেরার বিকল্প নেই।

    যদিও প্রতিটি হজ কাফেলা এবং সৌদি আরবের হজ কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক হজ সেবায় প্রস্তুত। তথাপি নিজেদের মধ্যে পরামর্শের আলোকে দলবদ্ধভাবে চলাফেরায় যাবতীয় জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

    হজ কর্তৃপক্ষ যে দিকনির্দেশনা দেয় এবং হজ কাফেলার মুয়াল্লিমদের পরামর্শ মেনে চলা সবার জন্য একান্ত আবশ্যক। কাফেলার সঙ্গে থাকা দিনগুলোতে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে একজনের অসুবিধার জন্য কাফেলার অন্যদের সমস্যায় পড়তে হয়।

    চলাফেরায় কাফেলার সঙ্গীদের পারস্পরিক সহযোগিতা একান্ত দরকার। মক্কা-মদিনায় অবস্থানকালীন সময় হজ পালনেচ্ছুদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও যে নিয়মগুলোর প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি, তা তুলে ধরা হলো-

    >> মুয়াল্লিম বা কাফেলা প্রধানের অনুমতি ছাড়া কোথাও না যাওয়া। আত্মীয়-স্বজন বা বাহিরে কোথাও গেলে লিখিত অনুমতি নিয়ে যাওয়া।

    >> কাফেলার জন্য নির্ধারিত থাকার জায়গার বাইরে হাজিদের অন্য কোথাও না যাওয়া। তাছাড়া বাইরে থাকার অনুমতিও নেই।

    >> হোটেলে কিংবা বাসা বাড়িতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে রান্না-বান্নাসহ কাপড় স্ত্রী না করা। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি।

    >> কাফেলার প্রত্যেককেই হজ কর্তৃপক্ষ ও মুয়াল্লিম অফিস থেকে সরবরাহকৃত কব্জি বেল্ট ও মুয়াল্লিম কার্ড নিজেদের কাছে রাখা। যাতে কেউ হারিয়ে গেলে কব্জিবেল্টের সাহায্যে নিজ নিজ কাফেলার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
    >> হোটেল বা বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার সময় একা একা না বের হয়ে দলবদ্ধভাবে বের হওয়া।
    >> হজ-ওমরার জিয়ারতের যাবতীয় কাজ তথা কাবা শরিফ তাওয়াফ, নিয়মিত জামাআতে অংশগ্রহণ, সাফা-মারওয়ায় সাঈ, আরাফাতের ময়দানে গমন, মিনায় অবস্থান, মুজদালিফায় রাত যাপন এবং শয়তানকে কংকর নিক্ষেপসহ সব জায়গায় বেশি মালামাল না নেয়া।

    >> হজের সফরে কোনোভাবেই খালি পায়ে না হাঁটা। কারণ প্রচণ্ড গরমের কারণে পায়ে ফোসকা পরতে পারে। তাই সব সময় ছোট ব্যাগে সেন্ডেল রাখা।

    >> হজের সফরে বাইরে অবস্থানকালে ছাতা, পানি সঙ্গে রাখা এবং সম্ভব হলে ফলের রস পান করা এবং চর্বিযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকা।
    >> কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গেই কাফেলার সঙ্গী তথা মুয়াল্লিমকে অভিহিত করা এবং বাংলাদেশ হজ অফিস কর্তৃক পরিচালিত স্বাস্থ্য ক্লিনিকে দ্রুত যোগাযোগ করা।
    >> পরিবেশ রক্ষায় হোটেলে বা বাইরে সব সময় ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলা।

    সুন্দর ও সঠিকভাবে হজ পালনে কাফেলার প্রত্যেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও ধৈর্য ধারণ করা যেমন জরুরি। ঠিক তেমনি হজ পালনে ইচ্ছুকদের উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়ায়ও জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা হজের এ দীর্ঘ সফরকে হজ পালনকারীদের জন্য সহজ করে দিন।

    হজ পালনকারীদেরকে হজের নিয়ম-কানুনগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন।