Category: ধর্ম

  • জমজমের পানি যে সময় পান করতে বলেছেন বিশ্বনবি

    জমজমের পানি যে সময় পান করতে বলেছেন বিশ্বনবি

    হজ ও ওমরার ফজিলত ও বরকতপূর্ণ কাজের মধ্যে একটি হলো জমজমের পানি পান করা। এ পানি পানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও বরকত। এ পানি পানের বিশেষ একটি মুহূর্তের ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য যে সময়টিতে এ পানি পান করা বরকতময়।

    হজ ও ওমরা পালনকারীরা যখন পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ সম্পন্ন করবে তখন তারা মাকামে ইবরাহিমে ২ রাকাআত নামাজ পড়বে। তার পরই পান করবে জমেজমের এ বরকতময় পানি। হাদিসে এসেছে-

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তাওয়াফ শেষে ২ রাকাআত নামাজ আদায় করে মাতআফ (তাওয়াফের স্থান) থেকে বেরিয়ে পাশেই জমজম কুপ এলাকায় প্রবেশ করবে এবং সেখানে বিসমিল্লাহ বলে দাঁড়িয়ে জমজমের পানি পান করবে। আর (হাতের কোষে নিয়ে) কিছু পানি মাথায় দেবে।’ (বুখারি-মুসলিম, মিশকাত ও মুসনাদে আহমদ)

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ভূপৃষ্ঠের মধ্যে সেরা পানি হলো- জমজমের পানি। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টিকর খাদ্য (উপাদান) এবং রোগ হতে আরোগ্য (লাভের উপাদান)।’ (তাবারানি)

    >> অন্য হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় এটি বরকতময় (পানি)।’ মুসনাদে আহমাদ, মুসলিম)

    জমজমের পানি পানে যে কোনো রোগ থেকে আরোগ্য লাভের ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এই পানি কোনো রোগ থেকে আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে পান করলে তোমাকে আল্লাহ আরোগ দান করবেন।’ (দারাকুতনি, মুসতাদরেকে হাকেম, তারগিব)

    জমজমের পানি সাধারণ কোনো পানি নয়, এটার হলো মহান আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ থেকে সৃষ্ট এক অলৌকিক কুয়া। যা তিনি শিশু ইসমাইল আলাইহিস সালামের পদতলে পদাঘাতের ফলে দান করেছেন।

    জমজম কুপের সৃষ্টি উদ্দেশ্য তুলে ধরে হাদিসে এসেছে-
    ‘মূলতঃ জমজম হলো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সৃষ্ট এক অলৌকিক কুপ। যা (এ কুপের পানির বরকতেই ফলমূল, জন-মানবহীন স্থানে) শিশু ইসমাইল ও তার মা হাজেরা জীবন রক্ষায় (মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহা অনুসঙ্গ) এবং পরবর্তীতে মক্কার আবাদ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের স্থান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি হয়েছে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    দুনিয়ার বুকে জমজমের পানি অনেক বরকতময়। যে পানি পান করে দুনিয়ার অসংখ্য মানুষ লাভ করে শান্তি, শারীরিক সক্ষমতা ও বরকত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব মক্কা ও মদিনা জিয়ারতকারীকে জমজমের পানি পানের মাধ্যমে হাদিসে ঘোষিত বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। শারীরিক সব অসুস্থতা থেকে সুস্থতা দান করুন। আমিন।

  • মক্কা-মদিনার যে মর্যাদা ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি

    মক্কা-মদিনার যে মর্যাদা ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি

    দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদা ও সম্মানের স্থান পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা। এ দুই স্থানে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুই স্থানে সুস্পষ্ট ফজিলত ও মর্যাদা ঘোষণা করেছেন।

    হজ ও ওমরা উপলক্ষ্যে সারাবিশ্বের অসংখ্য মানুষ বছরব্যাপী এ দুই পবিত্র নগরীতে আসা-যাওয়া করে। তাদের এ আসা-যাওয়ায় মক্কা-মদিনার ইজ্জত ও সম্মানের প্রতি লক্ষ রাখা অত্যন্ত জরুরি। হাদিসে এ স্থানদ্বয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদায় হাদিসে এসেছে-

    >> হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে হামরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ‘হাযওয়ারা’ নামক স্থানে ছিলেন তখন উটের উপর সওয়ার অবস্থায় তাকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ জমিন। আর আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহর কসম! যদি আমাকে তোমার (বুক) থেকে চলে যেতে বাধ্য না করা হতো, তাহলে আমি কখনো (তোমায় ছেড়ে) যেতাম না।’ (ইবনে মাজাহ)

    >> হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয় বলেন, ফতহে মক্কার (মক্কা বিজয়ের) দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, নিশ্চয়ই আসমান জমিন সৃষ্টির দিনই আল্লাহ এই জমিনকে (মক্কা নগরীকে) হারাম বা সম্মানিত করেছেন। সুতরাং কেয়ামত পর্যন্ত তা হারাম ও সম্মানিত থাকবে।’ (মুসলিম)

    অন্য দিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনার মর্যাদা ঘোষণা করেন বলেন-
    >> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শুধু তিনটি মসজিদের উদ্দেশে সফর করা যাবে-
    – আমার মসজিদ (মদিনার মসজিদে নববি)
    – (মক্কার) মসজিদে হারাম। এবং
    – মসজিদে আকসা (জেরুজালেম)।’ (মুসলিম)

    >> হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার এই মসজিদে নামাজ আদায় অন্য মসজিদের হাজার নামাজের চেয়েও উত্তম। তবে (মক্কার) মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা, (মক্কার) মসজিদে হারামে একটি নামাজ অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।’ (মুসনাদে আহমদ)

    মুসলিম উম্মাহর উচিত, পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থিত মসজিদে হারাম ও কাবা শরিফ এবং মদিনায় অবস্থিত মসজিদে নববি ও রওজা শরিফে পাশ্ববর্তী স্থানে নামাজ আদায় ও ইবাদত বন্দেগি করা। এ দুই পবিত্র স্থানে ইবাদতে রয়েছে অনেক বেশি ফজিলত ও মর্যাদা।

    আল্লাহ তাআলা সারা দুনিয়ার সব মানুষকে হাদিসে ঘোষিত মর্যাদার এ স্থানগুলোর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানোর মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ, সাওয়াব ও সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ইহরাম ও তালবিয়ায় যে প্রতিদান পাবেন মুমিন

    ইহরাম ও তালবিয়ায় যে প্রতিদান পাবেন মুমিন

    হজ ও ওমরার সফরের সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় পরে ইহরাম অবস্থায় থাকা এবং তালবিয়া পড়ায় রয়েছে অসামান্য প্রতিদিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে সুস্পষ্ট ভাষায় তা বর্ণনা করেন।

    হজ ও ওমরা পালনকারীর জন্য ইহরাম ও তালবিয়া দু’টি আমলই অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। হজ ও ওমরার জন্য সেলাইবিহীন দুই কাপড় পরে ইহরাম যেমন আবশ্যক। তেমনি ইহরামের পর এক বার তালবিয়া পড়া হজ ও ওমরার জন্য শর্ত।

    আর বার বার তালবিয়া পাঠকারীর জন্য রয়েছে সরাসরি জান্নাতের সুসংবাদ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লোমের বর্ণনায় ইহরাম ও তালবিয়ার ফজিলত সুস্পষ্ট। হাদিসে এসেছে-

    >> হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো মুমিন যখন ইহরাম অবস্থায় দিন কাটাবে, তখন সূর্য তার সব গোনাহ নিয়ে অস্ত (ডুবে) যাবে। আর যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজের তালবিয়া পাঠ করবে তখন তার ডানে-বামে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সবকিছুই তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।’ (তিরমিজি, তারগিব)

    >> হজরত সাহল ইবনে সাদ আস-সায়েদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন কোনো ব্যক্তি যখন তালবিয়া পাঠ করে তখন তার ডানে ও বামে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যা কিছু আছে; যেমন- গাছপালা, মাটি, পাথর সব কিছু (তালবিয়া পাঠকারীর সঙ্গে সঙ্গে) তালবিয়া পড়তে থাকে।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

    >> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কেউ তালবিয়া পাঠ করবে তাকে সুসংবাদ দেয়া হবে। আর যে কেউ তাকবির বলবে তাকে সুসংবাদ দেয়া হবে। (সুসংবাদ সম্পর্কে) জানতে চাওয়া হলো- ইয়া রাসুলাল্লাহ! জান্নাতের সুসংবাদ? উত্তরে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ’। (তাবারানি, তারগিব)

    সুতরাং হজের সফরে হজ পালনকারীদের উচিত বেশি বেশি তালবিয়া পড়া। তালবিয়া পড়ার সময় তা ৪ নিঃশ্বাসে পুরুষরা উচ্চ স্বরে আর নারীরা নিম্নস্বরে পড়বেন-
    لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ
    উচ্চারণ : ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক।’

    অর্থ : ‘আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত, আমি হাজির; তোমার কোনো অংশীদার নেই; আমি উপস্থিত, নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা; অনুগ্রহ ও সম্রাজ্য সবই তোমার, তোমার কোনো অংশীদার নেই।’ (মুয়াত্তা, তিরমিজি)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে ঘোষিত হজ ও ওমরার সফরে ইহরাম অবস্থায় থাকার ও তালবিয়া পাঠের ফজিলত দান করুন। হজ পালনকারীদের হজ ও ওমরাকে কবুল করুন। আমিন।

  • ইসলাম মানবতার ধর্ম

    ইসলাম মানবতার ধর্ম

    ইসলাম পৃথিবীর একমাত্র মানবতার কল্যাণকামী শ্রেষ্ঠ ধর্ম। পৃথিবীতে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে মানবতার কল্যাণ সাধন করাকে এতোটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

    আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত মানবজাতির কল্যাণের জন্যে তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। ( সুরা আল ইমরান ১১০)।

    অভুক্তদের কষ্টের ভাগীদার হতে মহান আল্লাহ রমজানের সিয়াম ফরজ করেছেন। দুঃখীর কষ্ট লাগবে যাকাত ফরজ ও সাদাকাতুল ফিতরের বিধান ওয়াজিব করেছেন।

    আল্লাহ বলেন,যারা নিজেদের ধন সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে রয়েছে ১০০ শস্যদানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আর আল্লাহ সর্বব্যাপী প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা-২৬১)।

    আল্লাহ আরও বলেন, আর তাদের ধন–সম্পদে রয়েছে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতের হক। ( সুরা যারিয়াত -১৯)।

    আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন দয়া ও মহানুভবতার মূর্ত প্রতীক। ষষ্ঠ হিজরিতে খায়বার বিজিত হয়। নবম হিজরিতে যখন আরব উপদ্বীপ মুসলিমদের অনুগত। চারদিক হতে যখন বিপুল সম্পদ প্রেরিত হয় সবই তিনি অকাতরে বিলিয়ে গেছেন।

    হযরত আয়েশার (রা) ভাষ্যমতে, নবী (সা.) এমনভাবে ইহকাল পরিত্যাগ করেছেন যে,তার পরিবার লাগাতার দুইদিন পেটভরে যবের রুটি খেতে পারেন নি।

    আল্লাহর রহমত, বরকত ও সাওয়াব অর্জনের সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি, বিশেষত মানুষের প্রতি কল্যাণ ও উপকারের হাত বাড়িয়ে দেয়া।

    সকল প্রকার মানব সেবামূলক কাজের জন্য অকল্পনীয় সাওয়াব ও মর্যাদার কথা অগণিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

    রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যতক্ষণ একজন মানুষ অন্য কোনো মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে ততক্ষণ আল্লাহ তার কল্যাণে রত থাকবেন। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নেক আমল কোনো মুসলিমের হৃদয়ে আনন্দ প্রবেশ করানো,অথবা তার বিপদ, কষ্ট বা উৎকণ্ঠা দূর করা, অথবা তার ঋণ আদায় করে দেয়া, অথবা তার ক্ষুধা দূর করা।

    আমার কোনো ভাইয়ের কাজে তার সঙ্গে একটু হেঁটে যাওয়া আমার কাছে মসজিদে এক মাস ইতেকাফ করার চেয়েও বেশি প্রিয়। যে ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের সাথে যেয়ে তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে কিয়ামতের কঠিন দিনে যেদিন সকলের পা পিছলে যাবে সেদিন আল্লাহ তার পা সুদৃঢ় রাখবেন। (মুনযিরী, আত-তারগীব ৩/৩৪৬-৩৫১, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/১৯১)

    অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম মুসলিমের ভাই। কোন মুসলিম না কোন মুসলিমের ওপর জুলুম করবে, না তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবে। যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ভাইয়ের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তায়ালা তার অভাব মোচন করবেন।

    যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ভাইয়ের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দুঃখ-কষ্ট লাঘব করবেন। যে ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। (বুখারী ২৪৪২, – তিরমিযী ১৫২৬, সিলসিলাতুস সহীহাহ ৫০৪)

    এ হাদিসটি মানবাধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক। হাদিসের প্রথম অংশে যে এক মুসলিমকে আরেক মুসলিম ভাই হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে এটা হলো উখুওয়াতুল ইসলাম বা ইসলামী ভ্রাতৃত্ব। অর্থাৎ এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। এখানে উল্লেখ্য যে, ভাই কখনো ভাইয়ের ওপরে জুলুম করবে না, অর্থাৎ মুসলিম ভাই মুসলিম ভাইয়ের ওপরে জুলুম করা হারাম।

    তাকে কষ্টও দিবে না বরং তাকে সহযোগিতা করবে, সাহায্য করবে এবং তার পক্ষ হয়ে সব ধরনের বিপদাপদে তার সহযোগী হবে। এই সহযোগী হওয়াটা মাঝে মাঝে বাধ্যতামূলক হয়ে যায় মাঝে মাঝে তা কাঙ্ক্ষিত হয়ে থাকে।

    ইমাম ত্ববারানী সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে বিপদগ্রস্ত দেখে চলে যাবে না, বরং তার সহযোগী হবে। ইমাম মুসলিম আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে ক্ষুদ্র জ্ঞান করবে না।

    হাদিসের আরেক অংশ হলো, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তখন বান্দাকে সাহায্য করেন যখন সে তার ভাইকে সাহায্য করে। আর যে কোন মুসলিম ভাইয়ের দুনিয়া ও আখিরাতের কোন বিপদে সাহায্য করবে আল্লাহ রাববুল আলামীন তাকে সাহায্য করবেন।

    এ হাদিসে মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন করতে বলা হয়েছে, এটি একটি শর্তসাপেক্ষ বিষয়; তা যদি প্রকাশ করার চাইতে গোপন করা উত্তম হয়ে থাকে তাহলে গোপন, আর যদি প্রকাশ করা উত্তম হয় তাহলে প্রকাশ করবে।

    এক্ষেত্রে আমরা দেখি ইমামগণ যে রাবীদের সমালোচনা করেছেন এটা হারাম গীবতের মধ্যে শামিল নয়, কারণ এখানে তার দোষ না বললে সমস্ত মুসলিম এক চরম ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবে। (ফাতহুল বারী ৫ম খন্ড, হাদিস ৪৯৫৮)

    পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানবসেবা ও সমাজ কল্যাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি নবী (সা.) ও স্বীয় বাণী ও কর্মে একই আদর্শ জীবনভর প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। শুধু নিজে প্রচার করেই ক্ষান্ত হন নি। নিজ কর্মেও এর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

    সুতরাং প্রতিটি মুমিনের উচিত পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বাণীকে হৃদয়ে লালন করে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের নিমিত্তে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা।

  • ভাগ্য কি মানুষের কাজের কারণ ও উপকরণ?

    ভাগ্য কি মানুষের কাজের কারণ ও উপকরণ?

    তাকদির শব্দটি আরবি। এর অর্থ নির্ধারণ করা, নির্দিষ্ট করা, ধার্য করা, নিয়তি, ভাগ্য, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। এই মহাবিশ্বে ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটবে, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাআলা তাঁর পূর্বজ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী সেসব নির্ধারণ করে রাখাকে তাকদির বলে। পৃথিবীর সব বস্তু তথা মানব-দানবসহ যত সৃষ্টি রয়েছে, সব কিছুর উত্থান-পতন, ভালো-মন্দ, উপকার-অপকার, লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি কোথায়, কোন সময়, কিভাবে ঘটবে—আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করে রেখেছেন। তাকদিরের বাইরে কোনো কিছু নেই। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক জিনিসই তাকদির অনুযায়ী সংঘটিত হয়ে থাকে। এমনকি অক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তাও।’ (মুসলিম, রিয়াদুস সলিহিন. পৃষ্ঠা ২৮২)

    তাকদির মানুষের কাজের কারণ নয় এবং তাকদির লিপিবদ্ধ আছে বলে মানুষ ভালো-মন্দ ইত্যাদি কাজ করছে—বিষয়টি এমন নয়; বরং ভবিষ্যতে মানুষ যা করবে, আল্লাহ তাআলা তা আগে থেকেই জানেন, ফলে তিনি তা আদিতেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা আদিতে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন বলে মানুষ লেখা অনুযায়ী কর্ম করছে—এ কথা মোটেও ঠিক নয়। বরং আমরা কখন কী করব, কী খাব, কোথায় কী ঘটবে—এগুলো আল্লাহ তাআলা পূর্ব থেকে জানেন। কারণ তিনি ইলমে গায়েবের অধিকারী। তাঁর পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী তা লিখে রেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ—

    ১. একজন শিক্ষক পাঁচজন ছাত্রকে শিক্ষাদানের পর তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি যদি তাঁর ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন যে অমুক ছাত্র ‘এ প্লাস’ পাবে, অমুক ছাত্র ‘এ’ পাবে, অমুক ছাত্র ‘এ মাইনাস’ পাবে, অমুক ছাত্র ‘বি’, অমুক ছাত্র ‘সি’ পাবে। এখন পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যদি শিক্ষকের আগের লেখা অনুযায়ী ফলাফল হয়, তাহলে কি শিক্ষকের লেখার কারণে এই ফলাফল হলো? অবশ্যই না। তাকদিরের বিষয়টিও এমনই।

    ২. একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তাঁর রোগীর অবস্থা বুঝে অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁর ডায়েরিতে লিখে রেখেছেন যে এই রোগী অমুক দিন, অমুক অবস্থায় মারা যাবে। কার্যত যদি তা-ই হয়, তাহলে ডাক্তারের লিখে রাখার কারণেই কি তার মৃত্যু হলো? নিশ্চয়ই না। ঠিক তেমনই আল্লাহ তাআলা মানুষের অবস্থা আদি থেকেই জানেন বলে সব কিছু লিখে রেখেছেন। কিন্তু এই লিপিবদ্ধকরণ মানুষের কার্যের কারণ নয়। বরং কার্যের কারণ হলো তার ইচ্ছা। ফলে ব্যক্তির কজের জন্য সে নিজেই দায়ী।
    তাকদিরের প্রতি ঈমানের স্বরূপ

    তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকা ফরজ। তাকদিরে বিশ্বাসের অর্থ হলো—

    ১.  আল্লাহর ব্যাপারে এই বিশ্বাস রাখা যে তিনি আদি থেকে সব কিছুর ব্যাপারে ওয়াকিফহাল।

    ২.  তিনি লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) সব কিছু লিখে রেখেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকুল সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে সৃষ্টিকুলের তাকদির লিখে রেখেছেন।’ (মুসলিম) তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রথমে কলম সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর কলমকে বললেন—লেখো। কলম বলল, হে রব! কী লিখব? তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক জিনিসের তাকদির লেখো।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭০০) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তুমি কি জানো না যে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে আল্লাহ সব কিছু জানেন। নিশ্চয়ই এসব কিতাবে লেখা আছে। অবশ্যই এটা আল্লাহর কাছে সহজ।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭০)

    ৩.  আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কোনো কিছু ঘটে না। তাঁর বাণী হলো, ‘আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা করেন এবং (যা ইচ্ছা) মনোনীত করেন।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৬৮)

    ৪.  সব কিছুর সত্তা, বৈশিষ্ট্য, গতি, স্থিতি—সবই আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৬২) কোরআনের অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তিনি (আল্লাহ) সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে যথোচিত আকৃতি দান করেছেন।’ (সুরা : ফুরকান,  আয়াত : ২)

    আরো ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে, তা-ই তার জন্য এবং সে যা কামাই করে তা তারই ওপর বর্তাবে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮৬)

    আলী (রা.) থেকে আরো বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) বলেন, কোনো বান্দাই মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না চারটি বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে। তা হলো—১. এ সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আমি তাঁর প্রেরিত রাসুল। ২. মৃত্যুতে বিশ্বাস করা, ৩. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করা, ৪. তাকদিরে বিশ্বাস করা। (বায়হাকি)

    ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া তাকদিরের বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যে ব্যক্তি ঈমান আনে, কিন্তু তাকদিরে অবিশ্বাস করল, সে প্রকৃতপক্ষে একত্ববাদকেই অস্বীকার করল। (সূত্র : তাবলিগে দ্বিন, ইমাম গাজালি (রহ.)

    তাকদিরে অবিশ্বাসীদের রাসুলুল্লাহ (সা.) লানত করেছেন। রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যদি কেউ আমার নির্ধারিত তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট না থাকে এবং বিপদাপদে ধৈর্যধারণ না করে, তাহলে সে যেন আমি ছাড়া অন্য কাউকে রব বানিয়ে নিল। (বায়হাকি)

  • সকাল-সন্ধ্যায় বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন

    সকাল-সন্ধ্যায় বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায় অনেক দোয়া পড়তেন। রাত শেষে সকালে উঠেই তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তাওহিদের ঘোষণা দিতেন। পরকালের স্মরণ করতেন। সন্ধ্যায়ও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

    এটিই ছিল বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুনিয়ার মিশন সফলের অন্যতম মূলমন্ত্র। এ প্রশংসা বাক্য বা দোয়া থেকেই তিনি দ্বীনের কাজের অনুপ্রেরণা লাভ করতেন, যা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য সুমহান শিক্ষা।

    এ শিক্ষা বাস্তবায়নে মুসলিম উম্মাহর উচিত সকাল-সন্ধ্যায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পঠিত আল্লাহর প্রশংসা, তাওহিদের ঘোষণা ও পরকালের স্মরণের মাধ্যমে নিজেদের ঈমানকে মজবুত করা।

    হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সকালে উঠতেন, তখন বলতেন-

    اَصْبَحنَا و اَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلّهِ وَ الْحَمْدُ كُلُّهُ لِلّهِ لَا شَرِيْكَ لَهُ – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اِلَيْهِ النُّشُوْرُ

    উচ্চারণ : ‘আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহ, ওয়াল হামদু কুল্লুহু লিল্লাহি লা শারিকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’

    অর্থ : ‘আমাদের সকাল হয়েছে, শুধু আমাদের নয়, দুনিয়ার সবারই সকাল হয়েছে। আর সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তার সমকক্ষ কেউ নেই। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। পুনরুত্থিত হয়ে তার কাছেই ফিরে যেতে হবে।’

    আর যখন সন্ধ্যা হতো তখন তিনি বলতেন-

    أَمْسَيْنَا وَ أَمْسَى الْمُلْكُ لِلّهِ وَ الْحَمْدُ كُلُّهُ لِلّهِ لَا شَرِيْكَ لَهُ – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اِلَيْهِ الْمَصِيْرُ

    উচ্চারণ : ‘আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহ, ওয়াল হামদু কুল্লুহু লিল্লাহি লা শারিকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া ইলাইহিল মাসির।’

    অর্থ : ‘আমাদের সন্ধ্যা হয়েছে, শুধু আমাদের নয়, দুনিয়ার সবারই সন্ধ্যা হয়েছে। আর সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তার সমকক্ষ কেউ নেই। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহর কাছেই সবাইকে ফিরে যেতে হবে।’ (আদাবুল মুফরাদ)

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন সকালে ওঠে আল্লাহর প্রশংসা ও তাওহিদের ঘোষণায় দিনের কাজ শুরু করতেন। ঠিক তেমনি সন্ধ্যায়ও আল্লাহর প্রশংসা, তাওহিদের ঘোষণা ও আখেরাতের স্মরণে দিন শেষে রাতের বিশ্রাম ও ইবাদতে লিপ্ত হতেন।

    মুসলিম উম্মাহ তথা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য এটা এক মহান শিক্ষা। সকাল ও সন্ধ্যায় মহান আল্লাহর প্রশংসা, তাওহিদের ঘোষণা ও পরকালের স্মরণের এ পদ্ধতি দুনিয়ার সব অপরাধ থেকে বিরত রাখতে সর্বাধিক ভূমিকা পালন করবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার জীবনের প্রতি সকাল ও সন্ধ্যায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো আল্লাহর প্রশংসা, তাওহিদের ঘোষণা ও পরকালের স্মরণের এ পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • হজ পালনে হাজির মর্যাদা ও ফজিলত

    হজ পালনে হাজির মর্যাদা ও ফজিলত

    হজ মহান আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। তবে শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির জন্য তা পালন করা ফরজ। আর এ হজের রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত। তবে সে ফজিলত লাভে হজ একনিষ্ঠভাবে সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে।

    আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির জন্য দ্রুত আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে এ ইবাদতের বিকল্প নেই। সঠিকভাবে হজ সম্পাদনকারীকে আল্লাহ তাআলা নিষ্পাপ করে দেন। জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা ও স্থান দান করেন। হাদিসে এসেছে-

    >> হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহর পথের মুজাহিদ এবং হজ ও ওমরাকারী হলো আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন আর আল্লাহও তাদের প্রার্থনা কবুল করেন।’ (ইবনে মাজাহ)

    >> অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘হজ ও ওমরাকারীরা হলো আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন আর আল্লাহও তাদের প্রার্থনা কবুল করেন।’

    হজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের কিছু বর্ণনা তুলে ধরা হলো-
    >> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি হজ করে এবং অশ্লীলতা ও কটুক্তি থেকে বিরত থাকে সে এমনভাবে ফিরে আসে করে, তার মা যেভাবে তাকে প্রসব করেছিল।’ (বুখারি)

    >> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন। জিজ্ঞাসা করা হলো, এর পর কী? বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। বলা হলো, এরপর? তিনি বললেন, মাবরূর (কবুল) হজ।’ (বুখারি)

    >> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা তিন ব্যক্তির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন-
    >> যে ব্যক্তি আল্লাহর কোনো মসজিদের উদ্দেশে বের হয়।
    >> যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করতে বের হয়। আর
    >> যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশে বের হয়।’

    নারীদের হজের ফজিলত
    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা জেহাদকে সর্বোত্তম আমল মনে করি। তাহলে আমরা (নারীরা) কি জেহাদ করব না?

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘না’। তোমাদের জন্য উত্তম জেহাদ হলো মাবরূর হজ।’ (বুখারি)

    হজে খরচ করার ফজিলত
    হজরত ইবনে আওন ইবরাহিম ও আসওয়াদের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! লোকেরা তো দুইটি ইবাদত নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। আর আমি শুধু একটি নিয়ে ফিরব?
    তখন তাঁকে বলা হলো, অপেক্ষা কর। যখন তুমি পবিত্র হবে তখন তানঈমে যাবে এবং (ওমরার) ইহরাম বাঁধবে। এরপর অমুক স্থানে যাও। অবশ্য এসবের প্রতিদান হবে তোমার ব্যয় ও কষ্ট অনুযায়ী।’ (বুখারি)

    হজের সফরের ফজিলত
    হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা হজ পালনকারীর জন্য তার উটনির (বাহনের) প্রতি কদমে একটি নেকি লেখেন কিংবা একটি গোনাহ মুছে দেন। অথবা একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।’ (ইবনে হিব্বান, বাইহাকি)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে সঠিক আক্বিদা বিশ্বাসের সঙ্গে যথাযথভাবে হজ পালন করে নিষ্পাপ হয়ে পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরাকলের স্বচ্ছলতা ও সফলতা দান করুন। আমিন।

  • চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১২ আগস্ট ঈদের সম্ভবনা

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১২ আগস্ট ঈদের সম্ভবনা

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। একদিন ছুটি আদায় করতে পারলে ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাতেও টানা ৯ দিনের ছুটি মিলবে চাকরিজীবীদের।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার (আইএসি) এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ১১ আগস্ট মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদুল আজহা উদযাপন হতে পারে।

    যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ হয়, সেই হিসাবে বাংলাদেশে ঈদ হতে পারে ১২ আগস্ট।

    যদি ১২ আগস্ট বাংলাদেশে ঈদ হয় তবে সরকারি চাকরিজীবীরা ১১, ১২ ও ১৩ আগস্ট ছুটি পাবেন। আগের দুদিন ৯ ও ১০ আগস্ট নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি। ঈদের ছুটির পর ১৪ আগস্ট অফিস খোলা। এর পরের দিন ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের ছুটি। শোক দিবসের ছুটির পর ১৬ ও ১৭ (শুক্র ও শনিবার) দু’দিন আবারও নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি।

    ফলে ৯ দিনের ছুটি কাটাতে সরকারি কর্মজীবীদের শুধু ১৪ আগস্ট একদিন ছুটি নিতে পারলেই হবে। যদিও গেল ঈদুল ফিতরে ছুটির আগে-পরে সাপ্তাহিক ছুটি, লাইলাতুল কদরের ছুটির মধ্যে থাকা কর্মদিবসটিকে ছুটির আওতায় আনা হয়নি।

    গত বছর মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছিল ২১ আগস্ট আর বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়েছিল ২২ আগস্ট।

  • হজের উদ্দেশে সৌদি পৌঁছেছেন ৪০ হাজার বাংলাদেশি, ৩ জনের মৃত্যু

    হজের উদ্দেশে সৌদি পৌঁছেছেন ৪০ হাজার বাংলাদেশি, ৩ জনের মৃত্যু

    অনলাইন ডেস্ক : চলতি বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ১০৯টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌছেছেন ৩৯ হাজার ৯৫৩ জন হজযাত্রী।

    এদিকে হজ করতে এসে মক্কায় আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর ৩ বাংলাদেশি মারা গেলেন। সবশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আবুল হাশেম (৬১), তাঁর পাসপোর্ট নম্বর BQ0104414 এবং বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সালজার রহমান (৬১)। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর BX0265796। তারা মক্কায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হজ অফিস মক্কা।

    চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৯৮টি এজেন্সির মাধ্যমে ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশির হজ্ব পালনের কথা রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর ১০ আগস্ট হজ্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • হজের সময় বিশ্বনবি যে তালবিয়া ও দোয়া পড়তেন

    হজের সময় বিশ্বনবি যে তালবিয়া ও দোয়া পড়তেন

    মুমিন বান্দাকে দ্রুততম সময়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়ার অন্যতম ইবাদত ‘হজ’। তাই সামথ্যবান মুমিন বান্দার জন্য অতি তাড়াতাড়ি হজ সম্পন্ন করা জরুরি।

    হজ যেমন মুমিন বান্দাকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌছে দেয় তেমনি হজ মুসলিম উম্মাহকে এক পোশাক তথা ইহরামের সাদা পোশাকে আল্লাহর হুকুম পালনে তারই পথে কাজ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী মহাজাতিতে পরিণত করে দেয়।

    তাইতো মুমিন বান্দাকে সঠিক আক্বিদা বিশ্বাস, সঠিক পদ্ধতি ও একনিষ্ঠ নিয়তের মাধ্যমে হজ সম্পাদন করতে হবে। থাকতে হবে নির্ভেজাল ও শিরকমুক্ত।

    হুবহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতোই পালন করতে হবে হজের যাবতীয় কার্যাদি। তাই হজে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পঠিত তালবিয়া ও দোয়া পড়া মুমিন উম্মাহর জন্য একান্ত আবশ্যক। আর তা তুলে ধরা হলো-

    বিশ্বনবির তালবিয়া
    ইহরাম বাঁধার পর থেকে কাবা শরিফে পৌছা পর্যন্ত ইহরামের নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ থেকে বিরত থাকা এবং হালাল হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরুষরা উচ্চ স্বরে আর নারীরা নিম্নস্বরে তালবিয়া পড়বেন-
    لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ
    উচ্চারণ : ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক।’

    অর্থ : ‘আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত, আমি হাজির; তোমার কোনো অংশীদার নেই; আমি উপস্থিত, নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা; অনুগ্রহ ও সম্রাজ্য সবই তোমার, তোমার কোনো অংশীদার নেই।’ (মুয়াত্তা, তিরমিজি)

    মনে রাখতে হবে
    এটি বিশ্বনবির তালবিয়া, জাহেলি যুগে আরবরা তাওয়াফের সময় শিরকি তালবিয়া পড়তো। আবার ইসলামি চিন্তাবিদদের মতো, বিশ্বনবি পঠিত তালবিয়া ছাড়া বাড়িয়ে কিংবা কমিয়ে তালবিয়া পড়ার ব্যাপারে বিভিন্ন মতভেদ উপস্থাপন করেছেন।

    তাই তালবিয়া পড়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে তালবিয়া পড়তেন তা পড়াই সর্বোত্তম। এতে বাড়ানোর কিংবা কমানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

    তালবিয়ার পর বিশ্বনবির দোয়া
    তালবিয়া পড়ার পর জান্নাতের কামনা ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় লাভে সহিহ হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়া যাবে। হাদিসে এসেছে-
    اَللَّهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنْ النَّارِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ ওয়া আউজুবিকা মিনান নার।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।’ (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)

    অথবা
    رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبادَكَ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বি ক্বিনি আজাবাকা ইয়াওমা তাবআছু ইবাদাক।’
    অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার আজাব থেকে আমাকে বাঁচাও; যেদিন তোমার বান্দাদের তুমি পুনরুত্থান ঘটাবে।’ (মুসলিম, মিশকাত)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পঠিত তালবিয়া ও দোয়া পড়ার তাওফিক দান করুন। তালবিয়ায় শব্দ বাড়ানো কিংবা কমানো থেকে বিরত থেকে হাদিসে বর্ণিত সহিহ দোয়াগুলোর মাধ্যমে জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির তাওফিক দান করুন। আমিন।