Category: ধর্ম

  • জান্নাতে বিশ্বনবির সঙ্গী হবেন যারা

    জান্নাতে বিশ্বনবির সঙ্গী হবেন যারা

    মা-বাবার জন্য সন্তান-সন্তুতি মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার। যদি তাদের কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষায় গড়ে তোলা যায়। ইসলামে সুমহান আদর্শে বড় হওয়া কন্যা সন্তানও বাবা-মাসহ তার লালন-পালনকারী ভাই কিংবা আত্মীয়-স্বজনের জন্য হয়ে উঠে অনেক উপকারী। হাদিসের ঘোষণায় কন্যা সন্তান তার লালন-পালনকারী জন্য ৩টি সর্বোত্তম পুরস্কার নিয়ে দুনিয়ায় আসে।

    কন্যা সন্তানের সুন্দর ও সঠিক লালন-পালনের ওপর নির্ভর করে সুসভ্য ও উন্নত জাতি। কেননা এ কন্যা সন্তানই একদিন মা হিসেবে আত্ম প্রকাশ করে। আর মায়েদের কাছেই কাটে সন্তানের শৈশবকাল। মায়েদের কাছেই সে নীতি-নৈতিকতা ও ইসলামের সুমহান শিক্ষা পেয়ে থাকে।

    কন্যা সন্তানের হাতে থাকে তার লালন-পালনকারীর জন্য জান্নাতের সুনিশ্চিত দাওয়াতনামা। কুরআনুল কারিমে কন্যা সন্তানের সংবাদকে ‘সুসংবাদ’ বলা হয়েছে। যাতে কন্যা সন্তান লাভে কেউ অখুশী না হয়।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা সন্তান লালন-পালনকারীর জন্য ৩টি সুসংবাদের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্বনবির সে সুসংবাদ ৩টি হলো-

    >> জাহান্নাম থেকে মুক্তি।
    >> জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা।
    >> জান্নাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ।

    তবে বাবা-মাকে সঠিকভাবে কন্যা সন্তান লালন-পালন করতে হবে। তাকে ইসলামের সুমহান আদর্শ শেখাতে হবে। যাতে তার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান শিক্ষা ব্যক্তি পরিবার ও সমাজে বিস্তৃত হতে থাকে।

    হাদিসে ঘোষিত সেসব লোকরাই এ পুরস্কার লাভ করবে যারা তার কন্যা সন্তানকে ইসলামের সঠিক আদর্শে বড় করে তুলবে। কুরআন ও হাদিসের শিক্ষায় শিক্ষিত করবে। আর তারাই হবে জান্নাত লাভের উপায়।

    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তিকে কন্যাসন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করেছে, সেই কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির আড় (প্রতিবন্ধক) হবে। (তিরমিজি)

    মনে রাখা জরুরি
    সন্তান-সন্ততি (ছেলে-মেয়ে উভয়েই) আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ উপহার। ইসলাম উভয়কেই আলাদা সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। কাউকে কারও থেকে ছোট করা হয়নি কিংবা অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়নি।

    তবে কন্যা সন্তানের মাধ্যমে আল্লাহ পরিবারে সুখ ও বরকত দান করেন বলে হাদিসে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে কোনো মা-বাবা বা পরিবার যেন কন্যা সন্তানের উপর নাখোশ না হন। কিংবা কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠের ফলে অসন্তোষ প্রকাশ না করেন। কেননা এ মনোভাব প্রকাশ করা জাহেলি যুগের কুপ্রথার শামিল।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কন্যা সন্তানসহ সব শিশুকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সুশিক্ষিত করার তাওফিক দান করুন। সন্তান-সন্তুতিকে জান্নাত লাভের ও জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হিসেবে পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সাইকেল চালিয়ে এবারও হজে যাচ্ছেন ৮ জন

    সাইকেল চালিয়ে এবারও হজে যাচ্ছেন ৮ জন

    আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে বেশির ভাগ মানুষ আকাশ পথে বিমানে হজ করতে যায়। তবে মক্কা-মদিনার পার্শ্ববর্তী দেশের হজ পালনকারীরা সড়ক কিংবা সমুদ্র পথে হজ পালনে মক্কা-মদিনায় আসে। আবার অনেকে সখের বশে সাইকেল চালিয়ে কিংবা পায়ে হেঁটে আসে পবিত্র নগরী মক্কায়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সাইকেলে চড়ে হজে আসছেন ৮ ব্রিটিশ মুসলিম।

    সাইকেলে চড়ে ৮ ব্রিটিশ নাগরিক হজের উদ্দেশে গত ৭ জুলাই লন্ডন থেকে তাদের যাত্রা শুরু করেছেন। গত ১৩ জুলাই তারা তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে এসে পৌঁছেছেন।

    ধারাবাহিকভাবে ১৭টি দেশ অতিক্রম করে তারা পৌঁছে যাবেন নবির শহর মদিনায়। মদিনায় প্রবেশের মাধ্যমে তারা হজ ও ওমরা পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। তবে তারা যাত্রা পথে শুধু ইরাক ও সিরিয়া বিমানে পাড়ি দেবেন। সাইকেলে চালিয়ে ৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মদিনায় পৌঁছতে তাদের সময় লাগবে প্রায় ৬০ দিন।

    ব্রিটিশ মুসলিমদের এ দলটি তাদের হজযাত্রায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ করছে। গরিব মুসলমানদের সহযোগিতা, মসজিদ ও শিক্ষাঙ্গন নির্মাণের জন্য তহবিল সংগ্রহেও কাজ করছেন তারা।

    এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাইকেলে একাকি কিংবা গ্রুপে এসেছে হজ পালনকারী গ্রুপ। তাদের মধ্যে-

    >> ২০১৭ সালেও লন্ডন থেকে ৮ সদস্যের একটি গ্রুপ সাইকেলে হজ পালনে পবিত্র নগরী মক্কায় পৌঁছেন।

    >> ২০১৮ সালে কেনিয়ার নাইরোবি থেকে এক নারীসহ ৪ জনের একটি গ্রুপ সাইকেলে হজ করতে এসেছেন। তারা যাত্রা পথের বিভিন্ন দেশে কেনিয়ার শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন।

    >> ২০১৮ সালে ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ৫ সদস্যের একটি দল এসেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে।

    >> ২০১৭ সালে এক ইন্দোনেশিয়ান হজের উদ্দেশে ৯ হাজার কিলোমিটার পথ পাঁয়ে হেঁটে অতিক্রম করেন।

    >> ২০১২ সালে ৪৭ বছর বয়সী বসনিয়ান নাগরিক সেনাদ হাদজিক পায়ে হেঁটে হজ পালনে মক্কায় পৌঁছান। এ যাত্রায় লোকটি বসনিয়া থেকে ৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন।

    ইসলামের অন্যতম রোকন হজ পালনে এক সময় মানুষ পায়ে হেঁটে কিংবা জাহাজে চড়ে অনেক কষ্ট করে হজ পালন করতেন। সে স্বাদ গ্রহণে এখনও অনেকেই এ স্বপ্ন দেখেন।

  • তাজমহলকে পূজার জন্য মন্দির বানাতে যাচ্ছে শিবসেনা!

    তাজমহলকে পূজার জন্য মন্দির বানাতে যাচ্ছে শিবসেনা!

    ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম স্থাপত্য তাজমহলকে মন্দির বানিয়ে পূজা করতে চায় বলে হুমকি দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনা। শিবসেনার এ হুমকির ফলে আগ্রায় অবস্থিত তাজমহলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সরকারকে চিঠি দিয়েছে ভারতের পুরাতত্ত্ব বিভাগ।

    ভারতের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ও ঐতিহাসিক মুসলিম স্থাপত্য তাজমহল। এ তাজমহলে কখনও পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ১৯৫৮ সালের প্রত্নতত্ত্ব আইন অনুযায়ী কোনো পুরাতাত্ত্বিক সৌধে পূজা কিংবা যে কোনো ধর্মীয় আচরণই নিষিদ্ধ। এই চিঠির পরই যোগী সরকার তাজমহলের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে।

    দেশটির হিন্দুত্ববাদীদের দাবি হলো- ‘তাজমহল আসলে তাজমহল নয়। ওটা শিবের মন্দির। যার আসল নাম তেজো মহালায়া। আর তা মুসলিমদের তৈরি সৌধও নয় বরং প্রাচীনকালে হিন্দুদের তৈরি শিব মন্দির।’

    শিবসেনার পাশাপাশি ভারতের নানা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এ মর্মে জোটবদ্ধ হয়েছে যে, ‌তাজমহল কোনোও মুসলিম সৌধ নয়, হিন্দু মন্দির। তাই তাজমহলে শিবের ভক্তরা প্রত্যেক সোমবার পূজা ও যজ্ঞের আয়োজন করতে চাই। কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন রাজনৈতিক দল শিবসেনা।

    শিবসেনার আগ্রা শহর কমিটির সভাপতি ভিনু লাভানিয়া হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘তাজমহল কোনও মুসলিম সৌধ নয়। এটা তেজো মহালয়া, ভগবান শিবের মন্দির। পুরো শ্রাবণ মাসজুড়ে প্রতি সোমবার তাজমহলে ঢুকে যজ্ঞ এবং পুজো করতে চাই।’ শুধু তাই নয়, সোমবার যে কোনোভাবে তারা মন্দিরে ঢুকবেনই। প্রশাসন বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার ফল ভালো হবে না বলেও সুর চড়িয়েছেন তিনি।

    এ দিকে পুরাতত্ত্ব বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, ভারতের তাজমহলে কখনো পূজা করা হয়নি। আমরা সরকারের কাছে তাজমহলের বাইরে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্যে আবেদন জানাচ্ছি।

  • সন্তানের বিয়ের জন্যে হজ পালনে বিলম্ব, ইসলাম কি বলে?

    সন্তানের বিয়ের জন্যে হজ পালনে বিলম্ব, ইসলাম কি বলে?

    হজ আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ বিধান। হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি স্তম্ভ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সমর্থ পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ। হজ সম্পর্কে কোরআন শরিফে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর তরফ থেকে সেই সব মানুষের জন্য হজ ফরজ করে দেওয়া হয়েছে, যারা তা আদায়ের সামর্থ্য রাখে। ’(সুরা আল ইমরান; আয়াত: ৯৭)।

    তবে হজ যে বছর ফরজ হয়, ওই বছরই আদায় করে নেয়া উচিত। অহেতুক কারণে বিলম্ব করা গুনাহ। একবার হজ ফরজ হলে তা আর কখনো মাফ হয় না। (আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৫২৮)

    অনেকে মনে করেন, আগে সন্তানের বিয়ে দিতে হয়। তারপর হজ আদায়। অথচ এ কথা শরিয়ত সমর্থিত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের বিয়েও খুবই জরুরি। তাই বলে সন্তানের বিয়ের জন্য হজে বিলম্ব করা যাবে না।

  • ৬৬ হাজার ৩৭৮ বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন

    ৬৬ হাজার ৩৭৮ বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন

    পবিত্র হজ পালনে ৬৬ হাজার ৩৭৮ জন বাংলাদেশি সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ৭৭৪ জন রয়েছেন।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯৪টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ৮৯টিসহ মোট ১৯৩টি ফ্লাইটে তারা সেখানে পৌঁছান।

    শুক্রবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় (সৌদি সময়) মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    এদিকে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রশাসনিক দল-১ এর দলনেতা ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. জহির আহমেদের নেতৃত্বে হজ প্রশাসনিক দলের কর্মকর্তারা, চিকিৎসক দলের দলনেতা এবং আইটি দলের দলনেতা সরেজমিনে মিনা, মুজদালিফা এবং আরাফা পরিদর্শন করেন।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ হজ অফিস মক্কার কনসাল (হজ) মোহাম্মাদ আবুল হাসান এবং আইটি দলের দলনেতা রাশিদুল হাসান লিটন ভারতীয় হজ অফিস মক্কার কনসাল (হজ) ওয়াই সাবিরের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় দুই দেশের সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    চলতি বছর সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

    গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হাজিদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

  • ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে মিললো ১২০০ বছরের পুরোনো মসজিদ

    ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে মিললো ১২০০ বছরের পুরোনো মসজিদ

    ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে প্রায় এক হাজার দুইশ’ বছরের পুরোনো এক মসজিদের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সপ্তম কিংবা অষ্টম শতাব্দীর এ মসজিদটির খোঁজ মেলে ইসরায়েলের বেদুইনদের শহর রাহাতে।

    চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রত্নতত্ত্ববিদরা খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

    তৎকালীন বিশ্বের বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় মসজিদগুলোর মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। ইসরায়েলের প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ (আইএএ) জানায়, সেখানে নির্মাণকাজ করার সময় এ মসজিদের অবশেষটুকুর খোঁজ পান প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
    ইসলাম প্রচারের শুরুর দিকে যখন মক্কা ও জেরুজালেমে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল, সে সময়েই ইসরায়েলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ওই সময়ে এ মসজিদটিই ছিল ইসরায়েলে প্রথম পরিচিতি পাওয়া মসজিদ।

    উপরিভাগ উন্মুক্ত চতুষ্কোণ এ মসজিদটির সামনে একটি মেহরাব রয়েছে। মসজিদটি দক্ষিণমুখী, যা মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কার বরাবর।

    প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের খনন পরিচালক জন সেলিগম্যান ও শাহার জুর বলেন, প্রায় ১২০০ বছরের পুরোনো এ মসজিদের খোঁজ পাওয়ার ঘটনাটি বিশ্বের বিরল আবিষ্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম। মসজিদটির বৈশিষ্ট্য দেখলেই বোঝা যায় যে, সে সময় মসজিদ ভবনটি কোন কোন কাজে ব্যবহার করা হত।

    গাইদিওন আভনি নামে এক ইসলামী ইতিহাস বিশেষজ্ঞ জানান, যে সময় ইসরায়েলে ইসলামের প্রচারকরা যান, সে সময়েই এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

  • পিরোজপুরের হিন্দু-মুসলমানদের হয়রানি করছেন প্রিয়া

    পিরোজপুরের হিন্দু-মুসলমানদের হয়রানি করছেন প্রিয়া

    নিউজ ডেস্ক :

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের পেছনে প্রিয়া সাহার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার নিজ বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

    তাদের অভিযোগ, এলাকার মুসলমান-হিন্দুদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে নষ্ট করার জন্যই তিনি ট্রাম্পের কাছে এ অভিযোগ করেছেন।

    স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ও মুসলমানকে হয়রানি করে আসছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে যে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল সেটি নিয়েও রহস্য রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককেও আসামি করে তিনি হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। তারা মনে করেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিকল্পিতভাবে রাতের বেলায় পরিত্যক্ত ঘরটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।

    এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম নাজিরপুরের নিজ বাড়িতে বসে সাংবাদিকদের বলেন, প্রিয়া সাহা আমার নির্বাচনী এলাকার মেয়ে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে নিজ দেশ, নিজের এলাকা সম্পর্কে চরম মিথ্যাচার করেছেন। এটা চরম অন্যায় ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে কেউ ধর্মীয় বিবেচনায় নির্যাতনের শিকার হন না। আর পিরোজপুরের নাজিরপুরসহ এ জেলার মুসলমান, হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করছেন। যা একটি অনন্য দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।

    শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, নাজিরপুর বা পিরোজপুর জেলার কোনো হিন্দু বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের লোক গুম বা নিখোঁজ হয়নি। প্রিয়া সাহার বক্তব্য অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নষ্টের উসকানিমূলক অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    এদিকে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার বলেন, প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ও মুসলমানকে হয়রানি করে আসছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে যে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল সেটি নিয়েও রহস্য রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিদেশে গিয়ে এমন উসকানিমূলক কথা বলেছেন। এতে নাজিরপুরের ভামমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। নাজিরপুরে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই। এখানে হিন্দু-মুসলমান সহাবস্থানে বসবাস করছে।

    পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমল মন্ডল জানান, প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এ ধরণের একটি উদ্ভট মিথ্যাচার করবেন ভাবতেও পারিনি। তিনি কেন এবং কি উদ্দেশ্যে এভাবে মিথ্যাচার করেছেন তাও আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। পিরোজপুরে হিন্দু-মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের লোকজন ভালো রয়েছে। এখানে কোনো হিন্দু বা সংখ্যালঘু গুমের ঘটনাও নেই।

    জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী বলেন, প্রিয়া সাহা তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে মিথ্যা কথা বলে পিরোজপুরসহ দেশের সকল ধর্মের লোকজনকে অপমান করেছেন। আমাদের এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। আমরা তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

    পিরোজপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, প্রিয়া সাহার অভিযোগের বিষয়ে কোনো ঘটনা পিরোজপুর জেলার কোথাও ঘটেনি। পিরোজপুরের পুলিশ প্রশাসন সাম্প্রদায়িক যেকোনো বিষয়ে সবসময়ই গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    তিনি আরও বলেন, নাজিরপুর উপজেলায় বা পিরোজপুর জেলার কোথাও কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে কেউ চেষ্টা করলে পুলিশ প্রশাসন কঠোর হস্তে তা দমন করবে। দেশের বাহিরে গিয়ে যেকোনো নাগরিকের উচিত দেশের বিষয়ে ভেবে-চিন্তে কথা বলা।

    উল্লেখ্য, প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাস ‘শারি’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) নির্বাহী পরিচালক। সংস্থাটি বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করে বলে জানা গেছে। এ সংস্থা পরিচালিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক প্রিয়া সাহা। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

    প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাস পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের মৃত নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের মেয়ে। তার শ্বশুরবাড়ি যশোর জেলায়। তার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দফতরে সহকারী উপ-পরিচালক পদে কমর্রত রয়েছেন। তারা ঢাকার ধানমন্ডিতে থাকেন। তাদের দুই মেয়ে প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা ও ঐশ্বর্য লক্ষ্মী সাহা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করছে।

  • যে কাজগুলো করতে না পারলে হজ হবে না

    যে কাজগুলো করতে না পারলে হজ হবে না

    আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে যখনই সক্ষমতা আসে তখনই এ হজ আদায় করা জরুরি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

    কারণ কোনো কারণে যদি যথাসময়ে হজ আদায় না করার ফলে পরবর্তীতে হজ করার সামর্থ্য না থাকে তবে তার ওপর থেকে হজের হুকুম বাদ যাবে না। তাই হজের সামর্থ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করা জরুরি।

    হজের জন্য রোকনগুলো যথাযথ আদায় করা জরুরি। এর কোনোটি বাদ পড়লে হজ হবে না। আর যদি হজের ওয়াজিব তরক হয় তবে ফিদইয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। হজের রোকন ও ওয়াজিবগুলো তুলে ধরা হলো-

    হজের রোকন

    হজ পালনে রয়েছে ৪টি রোকন। এর কোনোটি বাদ গেল হজ হবে না। কাজগুলো হলো-

    >> ইহরাম বাঁধা।
    >> আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।
    >> ত্বাওয়াফে ইযাফাহ করা।
    >> সাফা-মারওয়া সাঈ করা।

    হজের ওয়াজিব

    হজের রোকন ছাড়া আরও ৭টি কাজ করা আবশ্যক। যদি এগুলো কোনেটি ছুটে যায় তবে ফিদইয়া আদায় করাও ওয়াজিব। আর তাহলো-

    >> নির্ধারিত মিকতা বা সীমানা থেকে ইহরাম বাঁধা।
    >> আরাফাতের ময়দানে সুর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা।
    >> মুযদালিফায় রাত যাপন করা।
    >> আইয়ামে তাশরিক্বের রাতগুলো মিনায় অতিবাহিত করা।
    >> ১০ তারিখ জামরাতুল আক্বাবায় ও ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ তিন জামরায় কংকর নিক্ষেপ করা।
    >> মাথা মুণ্ডন করে অথবা পুরো মাথার চুল ছোট করে ইহরাম থেকে বের হওয়া।
    >> দেশে ফেরার আগে বিদায়ী তাওয়াফ করা।

    উল্লেখ্য যে, যদি কেউ হজের ৪টি রোকনের কোনোটি আদায় করতে না পারে তবে তার হজ সম্পূর্ণ হবে না। হজ নষ্ট হবে। হজের রোকন তরকে কোনো ফিদইয়া নাই। তাকে পরবর্তী বছর আবারও হজ সম্পাদন করতে হবে।

    আর হজের ওয়াজিব তথা আবশ্যকীয় কাজগুলোর কোনোটি ছুটে যায়, তবে ফিদ্ইয়া আদায় করতে হবে হবে। ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় কাজ তরক করলে ফিদইয়া আদায়ও আবশ্যক হয়ে যায়।

    হজের ওয়াজিব তরককারীর ফিদইয়া হলো-

    >> পশু (বকরি, দুম্বা, উট) কুরবানি করা।
    >> ৬ মিসকিনকে ৩ ‘ছা’ পরিমাণ খাদ্য দেয়া। অথবা
    >> ৩টি রোজা পালন করা।

    এ ছাড়াও যদি কেউ তামাত্তু হজের হাদ্ই বা কুরবানি তরক করে তবে তাকে ১০টি রোজ পালন করতে হবে। ৩টি হজের মধ্যে আর বাকি ৭টি হজের পর বাড়ি ফিরে আদায় করতে হবে। এমনটিই মহান আল্লাহর নির্দেশ। হজের মধ্যে ৩ টি হলো ১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ। (যদিও এ তারিখে সাধারণভাবে রোজা পালন করা নিষিদ্ধ কিন্তু ফিদইয়ার ৩ টি রোজা রাখা যায়।

    আল্লাহ তাআলা সব হজ পালনকারীকে যথাযথভাবে হজের রোকন ও ওয়াজিবগুলো পালন করার মাধ্যমে হজ সম্পন্ন করার তাওফিক দান করুন। হজে মাবরূর দান করুন। আমিন।

  • পশু মোটাতাজাকরণে ইসলামের নির্দেশনা

    পশু মোটাতাজাকরণে ইসলামের নির্দেশনা

    পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে কোরবানির পশু মোটাতাজা করার প্রক্রিয়া। অনেকে প্রাকৃতিকভাবে পশু মোটাতাজাকরণের পদ্ধতি অনুসরণ করলেও অসাধু কিছু খামারি নিষিদ্ধ ডাইক্লোফেন ও স্টেরয়েড হরমোন প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব পশুর গোশত মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একশ্রেণির লোভী মানুষের কাছে জনস্বাস্থ্য কীভাবে জিম্মি হয়ে পড়ছে পশু মোটাজাতাকরণে ক্ষতিকর হরমোনের ব্যবহার তারই প্রমাণ।

    চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, স্টেরয়েড দ্বারা মোটাতাজাকৃত পশুর গোশত খেলে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ধমনি বিকল হয়ে হৃদরোগ এমনকি ব্রেনস্ট্রোকও হতে পারে। এ ধরনের পশুর গোশত খেলে কিডনি ও লিভার বিকলসহ পঙ্গুত্বের আশঙ্কাও থাকে।

    এমনিতে জনমনে ভুল ধারণা রয়েছে, কোরবানির গোশত বেশি খেলে তাতে কোনো ক্ষতি হয় না। এ ভুল ধারণার কারণে কোরবানির ঈদের সময় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ে।

    কোরবানির পশু বিশেষ করে গরু কেনার সময় ক্রেতারা সতর্ক থাকলে অবশ্য এ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা গরুর পাঁজরের হাড় দেখা যায় এবং দুই হাড়ের মধ্যে একটা ঢেউয়ের ভাব থাকে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংসল স্থানে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে অনেক দেবে যায় যা স্বাভাবিক গরুর ক্ষেত্রে হয় না।

    উচ্চ আদালত হরমোন প্রয়োগে গরু মোটাতাজাকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাদের তাদের অবহেলায় অবৈধভাবে পশু মোটাতাজাকরণ বন্ধ হয়নি।

    আমরা আশা করব, জনস্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন সবকিছুই করবে এবং এটিকে তাদের নৈতিক কর্তব্য হিসেবে ভাববে।

    দেখুন, কোরবানি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- কোনো কিছু উৎসর্গ করা কিংবা বিসর্জন দেওয়া। যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। আল্লাহতায়ালার ক্ষমা লাভের উদ্দেশে মানুষ কোরবানি করে। কোরবানি একটি পবিত্র ও কল্যাণময় ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব।

    কোরবানির পশুর রক্ত-গোশত কোনোটিই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। আল্লাহর কাছে বান্দার তাকওয়া (মনের কথা, ইচ্ছা) পৌঁছে। আল্লাহতায়ালা প্রত্যেকটি ইবাদত আদায়ের ক্ষেত্রে বান্দার তাকওয়া দেখে থাকেন। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে তাদের রক্ত কিংবা গোশত কিছুই পৌঁছে না; বরং তার কাছে তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে।’ -সূরা হজ: ৩৭

    এমতাবস্থায় কোরবানির সময় জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিদায়ক পশু বাজারজাত করা নিশ্চয়ই অমানবিক বিষয়। সেই সঙ্গে কোরবানির পশুকে নানাভাবে কষ্ট দেওয়াও অনুচিত। আমরা আশা করবো, খামারিরা বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে ভেবে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

    কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে কিছু (লোক) আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহতায়ালা ও আখেরাতের ওপর ঈমান এনেছি, কিন্তু তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহতায়ালা ও তার বান্দাদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে, যদিও তাদের অন্য কাউকে নয়, নিজেদেরই ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে, যদিও তাদের কোনো প্রকারের চৈতন্য নেই।’ -সূরা বাকারা: ৮-৯

    যারা কৃত্রিম উপায়ে কোরবানির পশু মোটাতাজা করে, তারা সবাই কিয়ামতের মাঠে ধোঁকাদানকারী অর্থাৎ শয়তানের দলভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে। যে ব্যক্তি অপর একজনকে ধোঁকা দিলো সে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করল। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের জন্য আল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন।

    কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে, আর শয়তান যা প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এরাই হচ্ছে সেসব ব্যক্তি; যাদের আবাস্থল হচ্ছে দোজখ, যার থেকে মুক্তির কোনো পন্থাই তারা পাবে না।’ -সূরা আন নিসা: ১২০-১২১

    কোরবানির পশু মোটাতাজা করার ক্ষেত্রে পশুর প্রতি অবশ্যই সদাচারণ করতে হবে। পশুর যেন কোনোরূপ কষ্ট না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, সমগ্র সৃষ্টিই আল্লাহতায়ালার পরিবার সদৃশ; সুতরাং সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক প্রিয়, যে আল্লাহর পরিবারের সঙ্গে সদাচরণ প্রদর্শন করে।’ -মেশকাত: ৪৭৮১

    হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা পশুর মুখমণ্ডলে আঘাত করো না এবং পশুর গায়ে দাগ দিও না।’ – মেশকাত: ৩৯০০

    কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘জমিনের বুকে বিচরণশীল যেকোনো জন্তু কিংবা বাতাসের বুকে নিজ ডানা দু’টি দিয়ে উড়ে চলা যে কোনো পাখিই- এগুলো তোমাদের মতোই।’ -সূরা আনআম: ৩৮

    সুতরাং যারা কোরবানির পশু লালন-পালন করে থাকেন এবং যারা কোরবানি আদায় করবেন উভয়কেই কোরবানির পশুর প্রতি সদাচারণ করতে হবে। এর অন্যথ্যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

  • হজ-ওমরাসহ সব সফরের গুরুত্বপূর্ণ আদব ও নিয়ম

    হজ-ওমরাসহ সব সফরের গুরুত্বপূর্ণ আদব ও নিয়ম

    হজ ও ওমরাহ পালনে গমনেচ্ছুকরা মহান আল্লাহর মেহমান। নিজ নিজ দেশ থেকে পবিত্র মক্কা-মদিনায় গমন এবং যাত্রা পথের রয়েছে অনেক আদব ও নিয়ম। যা হজ-ওমরাহ পালনকারীসহ সব সফরকারীর জন্য মেনে চলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ । হজ-ওমরাহসহ সব সফরে পালনীয় ও করণীয়গুলো হলো-

    >> সফরের আগে বিদায় গ্রহণ
    – সফরে বের হওয়ার আগে নিজের পরিবার, প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিত সবার কাছ থেকে বিনম্র চিত্তে বিদায় নেয়া। একে অপরের জন্য এ দোয়াটি পাঠ করা-
    أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكُمْ وَ أَمَانَتَكُمْ وَ خَوَاتِيْمَ أَعْمَالِكُمْ
    উচ্চারণ : আসতাউদিয়ুল্লাহা দিনাকুম ওয়া আমানাতাকুম ওয়া খাওয়াতিমা আ’মালিকুম।’
    অর্থ : আমি আপনার দ্বীন, আপনার আমানতসমূহ ও আপনার শেষ আমলসমূহকে আল্লাহর জিম্মায় ন্যস্ত করলাম।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)

    – বিদায়দানকারী আত্মীয়-স্বজনগণ বিদায় দিতে বলবেন-
    زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوَى وَ غَفَرَ ذَنبك وَ يَسَّرَلَكَ الْخَيْرَ حَيْثُ مَا كُنْتَ
    উচ্চারণ : ‘যাওয়্যাদাকাল্লাহুত তাক্বওয়া ওয়া গাফারা জাম্বাকা ওয়া ইয়াস্সারা লাকাল খায়রা হাইছু মা কুংতা।’
    অর্থ : আল্লাহ আপনাকে তাক্বওয়ার পুঁজি দান করুন! আপনারগোনাহ মাফ করুন এবং আপনি যেখানেই থাকুন আপনার জন্য কল্যাণকে সহজ করে দিন।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

    >> বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বলা
    بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلِى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ
    উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।’
    অর্থ : আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), তাঁর উপরে ভরসা করছি। আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত)

    >> গাড়িতে বা বিমানে উঠতে দোয়া পড়া-
    গাড়ি বা বিমানের সিঁড়িতে পা দিয়ে بِسْمِ الله ‘বিসমিল্লাহ’ উপরে উঠার সময় اَللهُ اَكْبَر ‘আল্লাহু আকবার’ এবং সিটে বসে اَلْحَمْدُ للهِ ‘আলহামদুল্লিাহ’ বলা। গাড়ি বা বিমান চলতে শুরু করলে ৩ বারاَللهُ اَكْبَر আল্লাহু আকবার বলে এ দোয়া পড়া-
    سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُون اللَّهُمَّ إِنِّا ْنَسألُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا البِرَّ وَ التَّقْوَى ، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى ِ اَللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفرِنَا هَذَا وَاطْوِلَنَا بَعْدَه ، اَللَّهُمَّ أنْتَ الصَّاحِبُ فِيْ السَّفَرِ وَ الْخَلِيْفَةُ فِيْ الْأَهْلِ وَ الْمَالِ ، اَللَّهُمَّ اِنِّى أَعُوْذُبِكَ مِنْ وَعْثَاء السَّفَرِ وَ كَابَةِ الْمَنْظَرِ وَ سُوْىِ الْمُنْقَلَبِ فِى الْمَالِ وَ الأَهْلِ
    উচ্চারণ : সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা ওয়া মা কুন্না লাহু মুক্বরিনিনা ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুংক্বালিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফারিনা হাজাল বির্রু ওয়াত ত্বাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তারদা, আল্লাহুম্মা হাওয়্যেন আলাইনিা সাফারিনা হাজা ওয়াত্বওয়ে লানা বা’দাহু, আল্লাহুম্মা আনতা ছাহিবু ফিস সাফারি ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি ওয়াল মালি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন ও’ছায়িস সাফারি ওয়া কাবাতাল মানজারি ওয়া সুয়িল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহলি।’ (মুসলিম)
    >> গন্তব্যস্থলে পৌছে বাস বা বিমান থেকে নামতে পড়বেন-
    أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
    উচ্চারণ : ‘আউজু বি-কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাকা।’
    অর্থ : ‘আল্লাহর সৃষ্টবস্তুসমূহের অনিষ্টকারিতা থেকে আমি তাঁর পূর্ণ বাক্যসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাই।’

    >> বাড়ি ফিরতে পড়বেন
    সফর শেষে মক্কা-মদিনা কিংবা নির্ধারিত গন্তব্য থেকে ফেরার পথে ৩বার اَللهُ اَكْبِر আল্লাহু আকবার বলে এ দোয়া পড়া-
    لَا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُو عَلَى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ – أَيِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ سَاجِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ – صَدَقَ اللهُ وَعْدَهُ وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ-
    উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির। আয়িবুনা তায়িবুনা আবিদুনা সাজিদুনা লি-রাব্বিনা হামিদুন। সাদাকাল্লাহু ওয়া’দাহু ওয়া নাসারা আব্দাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    >> নিজ ঘরে প্রবেশ
    সফর থেকে ফিরে ঘরে প্রবেশ করতে بِسْمِ الله ‘বিসমিল্লাহ’ বলবেন এবং ঘরের লোকজনদের উদ্দেশ্যে সালাম দেবেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হজ-ওমরাহসব সব সফরে উল্লেখিত দোয়া ও তাসবিহগুলো যথাযথ আদায় করে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।