Category: ধর্ম

  • হজের দিন আরাফাহ ময়দানের করণীয় ও দোয়া

    হজের দিন আরাফাহ ময়দানের করণীয় ও দোয়া

    আরাফাতের ময়দানে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয় পবিত্র হজ। আর এ দিনটি হচ্ছে ৯ জিলহজ ‘ইয়ামুল আরাফাহ’। প্রত্যেক আরবি (হিজরি) বছরের শেষ মাসের ৯তম দিনই হচ্ছে এটি। ইংরেজি হিসেবে এবার তা হবে ১০ আগস্ট শনিবার।

    সারাবিশ্ব থেকে আগত আল্লাহর মেহমানরা আরাফাতের ময়দানের বিশ্ব মুসলিম সম্মিলনে একত্রিত হয়। এ দিনে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি মানুষকে নিষ্পাপ করে দেন। এ দিন ও হজ সম্পর্কে বিশ্বনবি বলেছেন, ‘আলহাজ্জু আরাফাহ’ অর্থাৎ আরাফাই হজ

    ৯ জিলহজ দিনব্যাপী মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে কিছু করণীয় ও বিশেষ তাসবিহ ও দোয়া। হজ পালনকারীদের প্রস্তুতিতে ৯ জিলহজের করণীয়, তাসবিহ ও দোয়া তুলে ধরা হলো-

    > এ দিন ফজরের নামাজের পর যে যেখানে থাকবে সেখানে থাকা অবস্থায়ই তাকবিরে তাশরিক পড়া। তাববিরে তাশরিক ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত পড়া ওয়াজিব।

    তাকবিরে তাশরিক হলো-
    اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَاَللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ্।’
    অর্থ : ‘আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ মহান।’

    > তাকবিরে তাশরিক পড়ার পর তালবিয়া পড়া। পুরো তালবিয়াকে ৪ ভাগে (নিঃশ্বাসে) ৩ বার পাঠ করা-
    তালবিয়া হলো-
    لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ
    উচ্চারণ : লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক, লা শারিকা লাক।

    অর্থ :‘ আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সব প্রশংসা ও সম্পদরাজি তথা নেয়ামত আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্যও আপনার। আপনার কোনো অংশীদার নেই ‘
    > ৯ জিলহজ সূর্য ওঠার পর তাকবিরে তাশরিক, তালবিয়া, দোয়া এবং তাসবিহ-তাকবির পড়তে পড়তে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওয়ানা হওয়া।
    > অবশ্যই জোহরের আগে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়া।
    > আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতের কাছাকাছি অবস্থান করা উত্তম।
    > জোহর ও আসরের নামাজ আরাফাতের ময়দান সংলগ্ন মসজিদে নামিরায় এক সঙ্গে জামাআতে নিদিষ্ট শর্তানুসারে আদায় করা উত্তম।
    > মসজিদে নামিরায় অনুষ্ঠিত জামাআতে শরিক হতে না পারলে নিজ নিজ তাবুতে যথাসময়ে জোহর ও আসর নামাজ পড়ে নেয়া।
    > মসজিদে নামিরার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ‘বতনে উরানায়’ অবস্থান করা যাবে না।
    > আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকালীন সময়ে তাওবা-ইসতেগফার, তাসবিহ-তাহলিল-তাকবির ও দোয়ার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা। কেননা আরাফাতের ময়দানের দোয়াই আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি কবুল করেন।
    > দুপুরের আগেই সম্ভব হলে আরাফাতের ময়দানে গোসল করে নেয়া। অন্যথায় ওজু করে নেয়া।
    >হজের খুতবা মনোযোগসহকারে শোনা।
    > সূর্য ডোবা পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। তবে কেউ যদি সূর্য ডোবার আগে আরাফাতের ময়দান থেকে বের হয়ে যায়, তবে তার কর্তব্য হলো তিনি পুনরায় আরাফাতের ময়দানে ফিরে আসবেন এবং সূর্য ডোবার পর আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন। ফিরে না আসলে ওই ব্যক্তি জন্য দম বা কুরবানি আবশ্যক হয়ে যাবে।
    > আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার ও দোয়া করা।
    >সূর্য ডোবার পরপরই মাগরিব না পরেই মুজদালিফার উদ্দেশ্যে তালবিয়া পড়তে পড়তে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করা।
    > আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করার সময় মুজদালিফায় না পৌছে রাস্তায় মাগরিবের নামাজ পড়া যাবে না। মুজদালিফায় পৌছে এক আজান ও আলাদা আলাদা ইক্বামতে মাগরিব ও ইশার নামাজ আদায় করা।
    > যদি কেউ আরাফাতের ময়দান কিংবা পথে মাগরিবের নামাজ আদায় করে তবে ওই ব্যক্তির জন্য মুজদালিফায় গিয়ে পুনরায় মাগরিবের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।

    আরাফাতের ময়দানে পড়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তবে এ দোয়াটি বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত বলে অনেকেই উল্লেখ করেন থাকেন-
    لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ المُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرً – اَللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كَالَّذِىْ تَقُوْلُ وَ خَيْرًا مِمَّا نَقُوْلُ – اَللَّهُمَّ لَكَ صَلَاتِىْ وَ نُسُكِىْ وَ مَحْيَاىَ وَ مَمَاتِىْ وَ اِلَيْكَ مَأبِىْ وَ لَكَ رَبِّ تُرَاثِىْ – اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ وَسْوَسَةِ الصَّدْرِ وَ شَتَاتِ الْاَمْرِ – اَللَّهُمَ اِنِّىْ أَسْئَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَجِىْءُ بِهِ الرِّيْحُ – اَللَّهُمَّ اجْعَلْ فِىْ قَلْبِىْ نُوْرًا وَّ فِىْ سَمْعِىْ نُوْرًا وَّ فِىْ بَصِرِىْ نُوْرًا- اَللَّهُمَّ اشْرَحْ لِىْ صَدْرِىْ وَ يَسِّرْلِىْ اَمْرِىْ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنْ وَسَاوِسٍ فِىْ الصَّدْرِ وَشَتَاتِ الْاَمْرِ وَ عَذَابِ الْقَبْرِ
    উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির। আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু কাল্লাজি তাকুলু ওয়া খাইরাম মিম্মা নাকুলু। আল্লাহুম্মা সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি ওয়া ইলাইকা মাআবি ওয়া লাকা রাব্বি তুরাছি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি ওয়া ওয়াসওয়াসাতিস সাদরি ওয়া শাতাতিল আমরি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি মা তাঝিউবিহির রিহু। আল্লাহুম্মাঝআল ফি ক্বালবি নুরাও ওয়া ফি সাময়ি নুরাও ওয়া ফি বাসারি নুরা। আল্লাহুম্মাশরাহলি সাদরি ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি ওয়া আউজুবিকা মিন ওয়াসায়িসিন ফিস সাদরি ওয়া শাতাতিল আমরি ওয়া আজাবিল ক্বাবরি।

    এ ছাড়াও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়াগুলো পড়া যেতে পারে। আর তাহলো-

    – سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُلِلّهِ وَ لَا اِلَهَ اِللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ
    উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’(মুসলিম, মিশকাত)
    – اَللَّهُمَّ اِنِّى اَسْئَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِىْ دِيْنِى وَ دُنْيَاىَ وَ اَهْلِىْ وَ مَالِىْ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বীনি ওয়া দুনিয়ায়া ওয়া আহলি ওয়া মালি।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)
    – اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতিল রিজালি।’ (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত)
    – اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَاَعُوْذُبِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَاَعُوْذُبِكَ مِن اَرْذَلِ الْعُمُرِ وَ اَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَ عَذَابِ الْقَبْرِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আউজুবিকা মিন আরজালিল উমুরি ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া ওয়া আজাবিল কাবরি।’ (বুখারি ও মিশকাত)
    – اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِن زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَ تَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَ فُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَ جَمِيْعِ سَخَطِكَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন যাওয়ালি নিমাতিকা ওয়া তাহাওউলি আফাতিকা ওয়া ফুজাআতি নিক্বমাতিকা ওয়া জামিয়ি সাখাত্বিকা।’
    – رَبِّ اَعِنِّىْ وَ لَا تُعِنْ عَلَىَّ وَانْصُرْنِىْ وَ لَا تَنْصُرْ عَلَىَّ وَاهْدِنِىْ وَ يَسِّرِ الْهُدَى لِىْ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বি আয়িন্নি আলা তুয়িন আলাইয়্যা ওয়াংছুরনি ওয়া লা তাংছুর আলাইয়্যা ওয়াহদিনি ওয়া ইয়াস্সিরিল হুদা লি।’
    – اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِن جَهْدِ الْبَلَاءِ وَ دَرَكِ الشَّقَاءِ وَ سُوْءِ الْقَضَاءِ وَ شَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালায়ি ওয়া দারাকিশ শাক্বায়ি ওয়া সুয়িল ক্বাজায়ি ওয়া শামাতাতিল আ’দায়ি।’
    – يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِى عَلَى دِيْنِكَ – اَللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ
    উচ্চারণ : ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিকা; আল্লাহুম্মা মুছার্রিফাল কুলুবি ছার্রিফ কুলুবানা আলা ত্বাআতিকা।’
    – اَللَّهُمَّ اِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّىْ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’
    – اَللَّهُمَّ اِنِّى اَسْئَلُكَ الْهُدَى وَ التُّقَى وَ الْعَفَافَ وَالْغِنَى
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াত্তুক্বা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা।’
    – اَللَّهُمَّ اَنْتَ رَبِّىْ لَا اِلَهَ اِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِى وَ أَنَا عَبْدُكَ وَ أَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَ وَعْدِكَ مَااسْتَطَعْتُ – أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ – أَبُوْءُلَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ و أَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ – فَاِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি, ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাত্বাতু। আউজুবিকা মিন শার্রি মা ছানা’তু। আবুউলাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিজাম্বি ফাগফিরলি। ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’
    – سُبْحَانَ الله – اَلْحَمْدُ لِلَّهِ – اَللهُ اَكْبَرُ – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ – لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ سَيْئٍ قَدِيْرٌ
    উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহ (৩৩ বার), আলহামদুলিল্লাহ (৩৩বার), আল্লাহু আকবার (৩৩বার/৩৪বার), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির (১বার)
    – سُبْحَانَ اللهِ وَ بِحَمْدِهِ – سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ
    উচ্চারণ : ‘সুবহানিাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি; সুবহানাল্লাহিল আজিম।’
    – اَللَّهُمَّ اكْفِنِىْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِىْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা ওয়া হারামিকা ওয়া আয়িন্নি বিফাজলিকা আম্মান সেওয়াকা।’
    – يَا حَىُّ يَا قَيُّوُمُ بِرَحْمَتِكَ اَسْتَغَيْثُ
    উচ্চারণ : ‘ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কায়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিছ।’
    – لَا اِلَهَ اِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّىْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ
    উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বালিমিন।’
    – اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ القَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
    উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহ হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’
    – اَللَّهُمَّ أَدْخِلْنِى الْجَنَّةَ وَ أَجِرْنِىْ مِنَ النَّارِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলনিল জান্নাতা ওয়া আজিরনি মিনান্নার।’

    কুরআন ওহাদিসে উল্লেখিত অন্যান্য দোয়া ও জিকির, তাসবিহ-তাহলিলসহ তাওবা-ইসতেগফার কা যেতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ৯ জিলহজ হজের দিনে কাজগুলো যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। হজে মাবরূর দান করুন। হজে পালনকারী সবাইকে নিষ্পাপ হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

  • হজের ৫ দিন হাজিদের ধারাবাহিক কাজ ও নিয়ম

    হজের ৫ দিন হাজিদের ধারাবাহিক কাজ ও নিয়ম

    আগামী ১০ আগস্ট (৯ জিলহজ) পালিত হবে পবিত্র হজ। এদি আরাফাতের ময়দানে বিশ্ব মুসলিম সম্মিলনে উপস্থিত হবেন হজ পালনকারীরা। হজের উদ্দেশ্যে মক্কা ও মদিনাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৮ জিলহজ (৯ আগস্ট) হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে জোহরের আগেই মিনায় উপস্থিত হবে মুসিলম উম্মাহ।

    প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৭ জিলহজ (৮ আগস্ট) হাজিদের উদ্দেশ্যে মসজিদে হারামে হজের নিয়মাবলী ও করণীয় সম্পর্কে বয়ান পেশ করা হবে। এ বয়ান শুনেই হাজিরা হজের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। এবং পরদিন জোহরের আগেই মিনার উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করবে হজ পালনকারীরা।

    ৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত চলবে হজের কার্যক্রম। হজের ৫ দিনের করণীয়গেুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো-

    >> ৮ জিলহজ : হজের ইহরাম

    > মক্কার হারাম শরিফ বা বাসা/হোটেল থেকে হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া এবং জোহরের নামাজের আগেই মিনায় পৌঁছা।
    > মিনায় অবস্থান
    মিনায় ৮ জিলহজ জোহর থেকে ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব এবং সেখানে অবস্থান করা সুন্নাত।

    >> ৯ জিলহজ : আরাফাতের ময়দানে অবস্থান

    ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে পালিত হবে পবিত্র হজ। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আরাফাই হজ্জ’। তাই ৯ জিলহজ ফজরের পর সম্ভব হলে মিনায় গোসল করে নেবে অথবা ওজু করে সকাল সকাল আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া।
    > ৯ জিলহজ জোহরের আগেই হজের অন্যতম রোকন পালনে আরাফাতের ময়দানে গিয়ে উপস্থিত হওয়া এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তথায় অবস্থান করা। আর এটাই হলো হজের অন্যতম রোকন। ৯ জিলহজ সকালে মিনা থেকে রওয়ানা সময় তাকবির বলা-
    ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ’
    > আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে হজের খুতবা শোনা এবং নিজ নিজ তাবুতে জোহর ও আসরের নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আলাদাভাবে আদায় করা। তাওবা-ইসতেগফার, তাকবির, তাসবিহ, তাহলিল ও রোনাজারিতে আত্মনিয়োগ করা।
    > বিশেষ করে, হজের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তা বুঝে নিয়ে জীবনের বাকি সময় এ নসিহতের আলোকে জীবন গড়ার দীপ্ত শপথ নেয়া।
    > সন্ধ্যায় মাগরিব না পড়ে মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও ইশার নামাজ এক আজানে আলাদা আলাদা ইক্বামতে একসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আদায় করা।

    >> ১০ জিলহজ 

    > মুজদালিফায় অবস্থান : মুজদালিফায় সারারাত খোলা আকাশের নিচে মরুভূমির বালুর ওপর অবস্থান করা। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্য উঠার আগে কিছু সময় অবস্থান করা এবং সূর্য উঠার আগেই মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া।
    > পাথর সংগ্রহ : মিনায় জামরাতে (শয়তানকে মারার জন্য) মুজদালিফায় অবস্থানের সময় রাতে কিংবা সকালে কংকর সংগ্রহ করা।
    > কংকর নিক্ষেপ : ১০ জিলহজ সকালে মুজদালিফা থেকে মিনায় এসেই বড় জামরাতে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করা। আর তা জোহরের আগেই সম্পন্ন করা। কংকর নিক্ষেপের স্থানগুলোতে বাংলায় দেয়া দিক-নির্দেশনা মনোযোগ সহকারে শুনে তা আদায় করা।
    > কুরবানি করা : বড় জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করেই মিনায় কুরবানির পশু জবাই করা। এ ক্ষেত্রে যারা ব্যাংকের মাধ্যমে কুরবানি সম্পন্ন করবেন, তারা ব্যাংকের লোকদের কাছ থেকে মাথা ন্যাড়া বা হলক করার নিদির্ষ সময় জেনে নেয়া।
    > মাথা মুণ্ডন করা : কুরবানির পর পরই মাথা ন্যাড়া করার মাধ্যমে হজের ইহরাম থেকে হালাল হবে হাজি। মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হাজি ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করাসহ সব সাধারণ কাজ করতে পারলেও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ১১ ও ১২ জিলহজ : কংকর নিক্ষেপ ও তাওয়াফে জিয়ারত

    > তাওয়াফে জিয়ারত : হজের সর্বশেষ রোকন হলো তাওয়াফে জিয়ারত। যা ১১ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগে তাওয়াফে জিয়ারত না করতে পারলে দম বা কুরবানি কাফফারা আদায় করতে হবে।
    > কংকর নিক্ষেপ : ১১ ও ১২ জিলহজ প্রতিদিন মিনায় অবস্থান করবে এবং ধারাবাহিকভাবে ছোট, মধ্যম ও বড় জামরাতে ৭টি করে ২১টি কংকর নিক্ষেপ করবে। তবে যদি কেউ কংকর নিক্ষেপের আগে কিংবা পরে কাবা শরিফ গিয়ে তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করে তবে তাকে তাওয়াফের পর আবার মদিনায় চলে আসতে হবে এবং মিনায় অবস্থান করতে হবে।
    > নারী, বৃদ্ধ ও দুর্বলদের কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে রাতের সময় বেচে নেয়া উত্তম। তবে কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে এখন হজ কর্তৃপক্ষ সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয়া এবং বাংলায় দিক নির্দেশনার ব্যবস্থাও করে। সে নির্দেশনা অনুযায়ী মিনায় কংকর নিক্ষেপের সময় জেনে তা পালন করা।
    > মিনায় রাত যাপন ও ত্যাগ : ১০ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মিনাতেই রাত যাপন করা এবং যারা মিনা ত্যাগ করবেন তারা ১২ তারিখ সূর্য ডোবার আগেই মিনা ত্যাগ করবে। সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করতে না পারলে সে রাত (১৩ জিলহজ) মিনায় অবস্থান করা।

    উল্লেখ্য যে, যদি কেউ ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করতে না পারে কিংবা থাকার ইচ্ছা করে তাকে ১৩ জিলহজ ৭টি করে আরও ২১টি কংকর নিক্ষেপ করতে হবে। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৩ জিলহজও মিনায় অবস্থান করেছিলেন।

    >> বিদায়ী তাওয়াফ

    সারাবিশ্ব থেকে আগত সব হজপালনকারীর জন্য দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে তাওয়াফ করা আবশ্যক। এ তাওয়াফকে বিদায়ী তাওয়াফ বলে। তবে জিলহজ মাসের ১২ তারিখের পর যে কোনো নফল তাওয়াফই বিদায়ী তাওয়াফে হিসেবে আদায় হয়ে যায়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হজের ৫দিন উল্লেখিত কাজগুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করার তাওফিক দান করুন। সবার জন্য হজে মাবরুর কবুল করুন। আমিন।

  • বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে ইসলামের নির্দেশনা

    বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে ইসলামের নির্দেশনা

    মানুষের পাস্পরিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে তৈরি হয় বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব ছাড়া ব্যক্তি পরিবার সমাজ কার্যত কোনোটিই চলতে পারে না। সুন্দর ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই বন্ধুত্বের গুরুত্ব যেমন বেশি তেমনি বন্ধুত্ব বা সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তারচেয়ে বেশি।

    কুরআন সুন্নাহ ও ইসলামের ইতিহাসে বন্ধুতের মর্যাদা, গুরুত্বের ব্যাপারে রয়েছে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা। যা মানুষকে সফলতার পথ দেখায়। বন্ধুত্ব সম্পর্কে ইসলামের দিক-নির্দেশনার রয়েছে সুস্পষ্ট তথ্য। আর তাহলো-

    ভালো বন্ধু নির্বাচনে আবশ্যকতা ও করণীয়

    বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুর। কারো সম্পর্কে না জেনে যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা ঠিক নয়। কেননা সাধরণ মানুষ বন্ধুর স্বভাবের অনুকরণ করে থাকে। হাদিসে এসেছে-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধু স্বভাবী হয়, তাই তাকে (মানুষের) লক্ষ্য করা উচিত, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (তিরমিজি)
    সত্যবাদী, নামাজি, দ্বীনদার ও পরোপকারী ব্যক্তিই হতে পারে মানুষের সর্বোত্তম বন্ধু। তবেই তৈরি হবে সুন্দর সমাজ।

    উত্তম বন্ধুর উদাহরণ এমন-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বন্ধুত্বের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘সৎ সঙ্গী এবং অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হচ্ছে আতর বিক্রয়কারী এবং কামারের হাপরের ন্যায়। আতরওয়ালা তোমাকে নিরাশ করবে না। হয় তুমি তার কাছ থেকে (আতর) কিনবে কিংবা তার (আতরওয়ালার) কাছে সুঘ্রাণ পাবে। আর কামারের হাপর, হয় তোমার বাড়ি জ্বালিয়ে দেবে, নচেৎ তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে আর তা না হলে তার কাছে দুর্গন্ধ পাবে।’ (বুখারি)

    কুরআনে বন্ধু নির্বাচন

    বন্ধু নির্বাচনের সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা এসেছে কুরআনে। আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে নির্দেশনা দেন-
    ‘(হে রাসুল!) আপনি নিজেকে তাদের সংস্পর্শে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং আপনি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে অবচেতন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।’ (সুরা কাহাফ : আয়াত ২৮)

    এ আয়াতে ভালো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে এক বন্ধু অপর বন্ধুর ভালো কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠবে। তৈরি করবে সুন্দর ও আদর্শ সমাজ।

    বন্ধু নির্বাচনে অগ্রাধিকার

    বন্ধু নির্বাচনে অগ্রাধিকার পাবে ওই সব মুমিন ব্যক্তি, যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে চলাফেরা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ১১৯)

    ভালো বন্ধু থাকার উপকারিতা

    প্রবাদ আছে, ‘সৎসঙ্গ স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গ সর্বনাশ’। পরস্পর সুসম্পর্ক বজায় রাখলে আরশের ছায়ায় স্থান পাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবি-
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘আমার মর্যাদার (আনুগত্যের) কারণে পরস্পরের বন্ধুত্ব স্থাপনকারীরা আজ কোথায়? আমি তাদেরকে আজ আমার ছায়া তলে আশ্রয় দেব। যেদিন আমার ছায়া ব্যতিত আর কোনো ছায়া থাকবে না।’ (মুসলিম)

    এ কারণেই মানুষের উচিত ভালো বন্ধু নির্বাচন করা। ঠিক যাদেরকে বন্ধু বানাতে বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি বলেছেন, ‘মুমিন ব্যতিত অন্য কাউকে সঙ্গী বা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না।’ (তিরমিজি)

    যাদের সঙ্গে মুমিনের বন্ধুত্ব নয়

    আবার যাকে তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। যার ঈমান নেই, তার সঙ্গে মুমিন বন্ধুত্ব হবে না। এ ব্যাপারে রয়েছে কড়া দিক-নির্দেশনা। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘মুমিনগণ যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোনো কাফিরকে (অবিশ্বাসী) বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। আর যারা এরূপ করবে, আল্লাহর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ২৮)

    ভালো বন্ধুর গুণাবলি

    একজন ভালো বন্ধুর কী কী গুণ থাকা জরুরি। যে গুণের কারণে অন্য একজন তার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ভালো বন্ধুর সেসব গুণ তুলে ধরেছেন। আল্লাহ বলেন-
    ‘আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী। (সুরা তাওবা : আয়াত ৭১)

    বন্ধুত্ব স্থাপনে ইসলামিক স্কলারদের দিক-নির্দেশনা

    – হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘নির্বোধ কিংবা বোকা মানুষের বন্ধুত্ব থেকে দূরে থাকো। কারণ সে উপকার করতে চাইলেও তার দ্বারা তোমার ক্ষতি হয়ে যাবে।’
    – হজরত ইমাম জাফর আস-সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘পাঁচ ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা সমীচীন নয়। তারা হলো-
    > মিথ্যাবাদী।
    > নির্বোধ।
    > ভীরু।
    > পাপাচারী ও
    > কৃপণ ব্যক্তি।’

    – হজরত ইমাম গাজ্জালি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘যার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে তার মধ্যে পাঁচটি গুণ থাকা চাই। আর তা হলো-
    > বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ব্যক্তি।
    > সৎ স্বভাবের অধিকারী।
    > পাপাচারী না হওয়া।
    > বেদআতি (ইসলামে নতুন ধারার প্রবর্তক) না হওয়া এবং
    > দুনিয়ার প্রতি আসক্ত না হওয়া।’

    সুতরাং পরকালের কল্যাণে সুসম্পর্ক তৈরি করা কিংবা বন্ধুত্ব গড়ে তোলা উত্তম। আর তাতেই প্রতিটি মানুষ হয়ে উঠবে পরিপূর্ণ ঈমানদার। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট্ট একটি দিক-নির্দেশনাও এমন। হাদিসে এসেছে-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-
    ‘যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে (কাউকে) ভালবাসে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঘৃণা করে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে দান করে কিংবা দান থেকে বিরত থাকে, সে যেন তার ঈমানকে পরিপূর্ণ করে নিল।’ (আবু দাউদ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে পারস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরি করে একে অপরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। পরকালের সুন্দর জীবন লাভে বন্ধুত্ব ও পাস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • অমুসলিমদের কাছ থেকে নবীজী যেসব পোশাক উপহার পেয়েছিলেন

    অমুসলিমদের কাছ থেকে নবীজী যেসব পোশাক উপহার পেয়েছিলেন

    হাদিস ও সিরাতের কিতাবগুলোতে মহানবী (সা.)-এর বিভিন্ন পোশাকের বিবরণ পাওয়া যায়। মহানবী (সা.) বৈচিত্র্যময় পোশাক পরিধান করতেন। জুমা, ঈদ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি বিশেষ পোশাক পরিধান করতেন। তাঁর সফরের জন্য ছিল আলাদা পোশাক। রাসুল (সা.)-এর  সেই সব পোশাকের ব্যবস্থার দুটি প্রধান মাধ্যম হলো মুসলিম ও অমুসলিমের দেওয়া হাদিয়া-তোহফা।

    সাহাবায়ে কেরামের হাদিয়ার মধ্যে হজরত দাহয়াতুল কালবি (রা.)-এর হাদিয়া ছিল। তিনি দুটি মোজা ও একটি জুব্বা মহানবী (সা.)-কে হাদিয়া দিয়েছেন। রাসুল (সা.) এগুলোকে এত বেশি পরিধান করেছেন যে তা পুরনো হয়ে গিয়েছিল। (তিরমিজি, বাবু লুবসিল জুব্বাহ)

    তেমনি হাবশার বাদশাহ রাসুল (সা.)-এর জন্য কালো কালো মোজা পাঠিয়েছিলেন অন্য হাদিয়া-তোহফার সঙ্গে। (তিরমিজি, বাবুন ফিল খুফফিল আসওয়াদ)

    মুহাদ্দিসদের বর্ণনা অনুযায়ী, আবু জাহাম ইবনে হুজাইফা (রা.) রাসুল (সা.)-কে একটি নকশাওয়ালা সিরীয় জুব্বা হাদিয়া দিয়েছিলেন। নামাজে ওই নকশার দিকে মন যাওয়ায় তা ফেরত দিয়ে একটি মোটা কাপড়ের পরিধানবস্ত্র নিয়েছিলেন। (বুখারি শরিফ, বাবুন ইজা ছল্লা ফি ছাওবিন লাহু আলামুনল)

    হজরত সুহাইল (রা.) থেকে বর্ণিত, একজন নারী রাসুল (সা.)-কে একটি চাদর হাদিয়া দিয়েছিলেন। ওই নারী এ কথাও বলেছিলেন—আমি নিজ হাতে আপনার জন্য বুনেছি। রাসুল (সা.) তা সাদরে গ্রহণ করলেন এবং ‘ইজার’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। (বুখারি শরিফ)

    এ ছাড়া আরো বহু কাপড় হাদিয়ার কথা বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়। (ইবনে সাআদ, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ২১৫)

    অমুসলিমদের হাদিয়া থেকে প্রাপ্ত মহানবী (সা.)-এর পোশাক

    অমুসলিমদের হাদিয়া-তোহফার কথাও পাওয়া যায়; যেমন—দাওমাতুল জান্দলের বাদশাহ মহানবী (সা.)-এর জন্য রেশমের জুব্বা পাঠিয়েছিলেন। তেমনি বহু বাদশাহ রাসুল (সা.)-এর জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ হাদিয়া পাঠিয়েছেন। যেমন জু-ইয়াজন নামের এক বাদশাহ রাসুল (সা.)-এর জন্য এমন এক লাল কাপড়জোড়া পাঠিয়েছেন, যা তিনি ৩৩টি উটনীর বদলা ক্রয় করেছিলেন। আর রাসুল (সা.)-এরও চিরাচরিত নিয়ম ছিল, যাঁরা হাদিয়া দিতেন তাঁদেরও তিনি হাদিয়া দিতেন। এই সুন্নত অনুযায়ী রাসুল (সা.)-ও সেই শাহ জু-ইয়াজনের জন্য এমন একটি কাপড়জোড়া হাদিয়াস্বরূপ দিয়েছেন, যা ২৫টি বড় উটনীর বদলে ক্রয় করেছেন। (আবু দাউদ, বাবু লুবসিস সওফ ওয়াশ শার)

    বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা নবী করিম (সা.)-এর পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে বাস্তব যে রূপটি ফুটে ওঠে তা হলো, শুরুর দিকে পোশাক-পরিচ্ছদের সংকট প্রকট ছিল। বেশির ভাগ সময় তিনি দুই কাপড় পরিধান করতেন, অর্থাৎ শরীরের ওপরের অংশের জন্য চাদর কিংবা জুব্বা কিংবা কুর্তা ইত্যাদি আর নিচের অংশের জন্য সাধারণত ইজার পরিধান করতেন। দ্বিতীয়ত যা জানা যায় তা হলো, মোটা কাপড় পরতেন, মাঝেমধ্যে দামি, উন্নত পোশাকও পরিধান করেছেন। সবই আল্লাহ তাআলার নিয়ামত। শুরুর যুগ ছিল সংকীর্ণতা ও সংকটের। পরের যুগ ছিল সচ্ছলতার।

  • সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা ১১ আগস্ট

    সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা ১১ আগস্ট

    সৌদি আরবে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে হিসাবে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিন উদযাপিত হবে আগামী ১১ আগস্ট।

    পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ আগস্ট। বৃহস্পতিবার সৌদি সুপ্রিম কোর্ট এ ঘোষণা দেয়।

    সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পরই বাংলাদেশে ঈদ ও কোরবানি উৎসব পালন করা হয় থাকে। সে হিসাবে বাংলাদেশে ১২ আগস্ট ঈদুল আজহা হতে পারে।

    সর্বোপরি ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভরশীল। বাংলাদেশে ২ আগস্ট চাঁদের সন্ধান করা হবে।

    এদিকে গত বুধবার বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি ১২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ পালিত হতে পারে বলে জানিয়েছে।

  • জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত

    জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত

    আরবি বছরের শেষ মাসের নাম জিলহজ। যে মাসে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র হজ পালন করে থাকেন। এ মাসের ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। আর তাহলো-

    >> সুরা ফাজরে প্রথম দুই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শপথ ভোরবেলার! শপথ ১০ রাতের!’
    তাফসিরে ইবনে কাসিরে ১০ রাতের শপথ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১০ রাতের শপথ দ্বারা জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনই উদ্দেশ্য।

    >> সুরা হজের ২৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যেন নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর স্মরণ করে।’
    এ আয়াতে নির্দিষ্ট দিনসমূহের আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিখ্যাত মুফাসসির ও সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘(এ নির্দিষ্ট দিনসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য) জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন।’

    >> জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমলের ফজিলত জিহাদের চেয়েও মর্যাদাবান। হাদিসে এসেছে-
    হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ দিনগুলোর (জিলহজের প্রথম ১০ দিনের) আমলের তুলনায় কোনো আমল-ই অন্য কোনো সময় উত্তম নয় । তারা বলল : জিহাদও না ? তিনি বললেন : জিহাদও না, তবে যে ব্যক্তি নিজের জানের শঙ্কা ও সম্পদ নিয়ে বের হয়েছে, অতঃপর কিছু নিয়েই ফিরে আসেনি।’ (বুখারি)

    >> আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় জিলহজের প্রথম ১০ দিনের আমল। হাদিসে এসেছে-
    হজরত ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কাছে কোনো দিনই প্রিয় নয়, আর না তাতে আমল করা, এ দশ দিনের তুলনায়। সুতরাং তোমরা তাতে (জিলহজের প্রথম ১০ দিন) বেশি বেশি তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ পাঠ কর।’ (তাবারানি)

    কুরআন ও হাদিসের আলোকে ওলামায়েকেরামও জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ইবাদতে একনিষ্ঠভাবে নিজেদের নিয়োজিত করতেন। যার প্রমাণ দিয়ে গেছেন যুগশ্রেষ্ঠ ওলামায়েকেরাম।

    >> হজরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাহিমাতুল্লাহি আলাইহি জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ইবাদতে নিজেকে একনিষ্ঠভাবে নিয়োজিত রাখতেন। যেভাবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজ মাসে ইবাদত-বন্দেগি করতেন।
    হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনায় এসেছে, ‘যখন জিলহজ মাসের ১০ দিন প্রবেশ করত, তখন তিনি খুব মুজাহাদা করতেন, যেন তার উপর তিনি শক্তি হারিয়ে ফেলবেন।’ (দারেমি)

    >> হজরত ইবনে হাজার আসকালানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘জিলহজ মাসের ১০ দিনের ফজিলতের ক্ষেত্রে যা স্পষ্ট তা হচ্ছে- এখানে মূল ইবাদাতগুলোর সমন্বয় ঘটেছে। অর্থাৎ নামাজ, রোজা, সাদকা ও হজ। যা অন্যান্য সময় যথাযথভাবে আদায় করা হয় না।’ (ফতহুল বারি)

    পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ রাত যেমন মর্যাদার ঠিক মুমিন মুসলমানের জন্য জিলহজের প্রথম ১০ দিন ও রাতের ইবাদত-বন্দেগিও অনেক মর্যাদা ও সম্মানের।

    মুসলিম উম্মাহর উচিত, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন রোজা পালনের মাধ্যমে অধিক সাওয়াব ও ফজিলত লাভের করা। বিগত জবিনের গোনাহ থেকে নিজেদের মুক্ত করা। আল্লাহর নৈকট্য ও ভয় অর্জন করা।

    উল্লেখ্য যে, ০২ আগস্ট সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শুরু হতে পারে জিলহজ মাস। যদি ০২ আগস্ট চাঁদ না উঠে তবে ০৩ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে নিশ্চিত শুরু হবে জিলহজ মাস। আর সেদিন থেকে কুরবানির আগ পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগি ও রোজা পালনই হবে মুমিন মুসলমানের জন্য সর্বোত্তম কাজ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হজের মাস জিলহজের প্রথম ১০ দিন রোজা পালন এবং রাত জেগে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মশা ও নমরুদের ঐতিহাসিক গল্প

    মশা ও নমরুদের ঐতিহাসিক গল্প

    নমরুদ শব্দের অর্থ খোদদ্রোহী। এর আর একটি অর্থ হলো বাঘিনী। আরব কিংবদন্তী অনুযায়ী নমরুদকে ছোটবেলায় এক বাঘিনী স্তন্যপান করিয়েছিল। কথিত আছে, ইডিপাসের মতো নমরুদ তার পিতাকে হত্যা করে নিজ মাতাকে বিয়ে করে। কুরআনের বর্ণনামতে, একটি মশা তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করলে তার মৃত্যু হয়।

    হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর জীবনীতে নমরুদ বাদশাহর উল্লেখ পাওয়া যায়। নমরুদ ষড়যন্ত্র করে নবীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুনে নিক্ষেপ করেছিল। পবিত্র কুরআনে নমরুদের নাম উল্লেখ নেই। তবে সুরা বাকারার ২৫৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তুমি কি সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখোনি, যে ইব্রাহীমের সঙ্গে তর্ক করেছিলো যেহেতু আল্লাহ তাকে রাজ্য দিয়েছিলেন?’ ‘তখন সে বলল, আমার প্রতিপালক তিনি যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান’, সে বলল, ‘আমিও তো জীবন দান করি এবং ও মৃত্যু ঘটাই।’

    পবিত্র বাইবেলে আব্রাহাম (নবী ইব্রাহীম) ও নমরুদের সাথে সাক্ষাতের ঘটনার বর্ণনা নেই। যদিও কিছু ইহুদী ও মুসলিম ঐতিহ্য অনুসারে তাদের মধ্যে বিরোধ সংগঠিত হয়েছিল বলে বলা হয়েছে। কিছু গল্পে দুইজন চরম সংঘাতে রত হয়েছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এসব কাহিনীতে ইব্রাহীম একাত্মবাদের মহিমা বর্ণনাকারী এবং নমরুদ তার বিরোধীতাকারী এবং নিজেকে স্বয়ং ঈশ্বর বলে দাবী করে।

    একই রকম বর্ণনা মধ্যযুগের ইহুদী ধর্মগুরুদের লেখা কাহিনিতে পাওয়া যায়। হযরত ইবরাহীম (আ.) এর সময়ে নমরুদ ছিলেন স্বেচ্ছাচারী এক শাসক। তিনি হযরত ইবরাহীম (আ.) কে প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলার অপরাধে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর অসীম কৃপায় হযরত ইবরাহীম (আ.) নিরাপদে অগ্নিকুন্ড থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।

    হযরত ইবরাহীম (আ.) নিরাপদে অগ্নিকুন্ড থেকে বের হয়ে আসাতে নমরুদ প্রচন্ডভাবে ক্ষিপ্ত হয়। সে ইবরাহীম (আ.) কে বলে, ‘তোমার আল্লাহর যদি যথার্থই অস্তিত্ব থাকে, তবে তাকে আমার সাথে যুদ্ধ করার জন্য ডেকে আনো। আমি তোমার আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি।’ আল্লাহর সাথে লড়াই করার জন্য পাপিষ্ঠ নমরুদ এক বিশাল বাহিনী গঠন করলো। এই বাহিনী নিয়ে সে ইবরাহীম (আ.) এর কাছে গিয়ে আল্লাহকে তার সাথে লড়াই করার জন্য আহবান জানায়। সে আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করে এবং বলতে থাকে, ‘কোথায় তুমি হে ইবরাহীমের আল্লাহ? এসো আমার সাথে যুদ্ধ করো।’

    পরাক্রমশালী আল্লাহ এই পাপিষ্ঠের সাথে মোকাবেলা করার জন্য এক ঝাঁক মশা প্রেরণ করলেন। ক্ষুদ্র এই মশা বাহিনীর আক্রমণে নমরুদের বিশাল বাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। নমরুদও এই মশাবাহিনীর আক্রমণে ভয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালায়। কিন্তু ঘটনাক্রমে একটি মশা তার নাক দিয়ে ঢুকে তার মস্তিষ্কে গিয়ে অবস্থান নেয়। আল্লাহ তার মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে মশাটিকে জীবিত রাখেন। মস্তিষ্কের ভিতরে অবস্থান নিয়ে মশাটি নমরুদকে সবসময় কামড়াতে থাকে। মস্তিষ্কে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে নমরুদ নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করতে থাকে। কিন্তু যতই সে আঘাত করুক, মশা ততই তাকে কামড়াতে থাকে। নিজেকে নিজে আঘাত করতে করতে নমরুদ ক্লান্ত হয়ে পড়লো। তাই সে তার একজন সৈনিককে ডেকে তাকে তার মাথায় আঘাত করতে বললো। কিন্তু মশার কামড় তাতে কোনো ক্রমেই কমে না। শেষে সৈনিকটি নমরুরদের মাথায় মুগুর দিয়ে আঘাত করলে মশা কিছু সময়ের জন্য কামড়ানো বন্ধ করলো।

    মশা পরে আবার কামড়ানো শুরু করলে সৈনিকটি নমরুদের মাথায় আবার মুগুর দ্বারা আঘাত করলে মশা কিছু সময়ের জন্য কামড়ানো বন্ধ করে। এভাবে বারবার মশা কামড়ায় আর নমরুদকে মাথায় মুগুর দ্বারা আঘাত করতে হয়। একদিন নমরুদের মাথায় মুগুর দ্বারা আঘাত করতে করতে সৈনিকটি নমরুদকে এত প্রচন্ডভাবে আঘাত করলো যে, তাতে নমরুদের মাথা ফেটে যায়। মাথা ফেটে গিয়ে নমরুদ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাথে লড়াই করার জন্য নমরুদ প্রচন্ড দম্ভ করে চ্যালেঞ্জ করেছিলো। কিন্তু আল্লাহর একটি ক্ষুদ্র সৃষ্টির কাছেই তাকে শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবে পরাজিত হতে হলো। (সূত্র: উইকিপিডিয়া)

  • জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল

    জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল

    পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে (বাদ মাগরিব) বায়তুল মুকাররম ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    সভায় ১৪৪০ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা ও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানায়।

    সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ।

    বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা টেলিফোন নম্বর : ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭, ৯৫৫৯৪৯৩

    ও ফ্যাক্স নম্বর ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১ অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন যে আমল করবেন

    জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন যে আমল করবেন

    আরবি (হিজরি) বছরের শেষ মাস জিলহজ। কুরআনে বর্ণিত হারাম মাসসমূহের একটি। এ মাসে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র হজ। এ মাসের ফজিলত বর্ণনায় নাজিল হয়েছে কুরআনের আয়াত। এ মাসের ইবাদত-বন্দেগি করতে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন এমন ইবাদত রয়েছে যা পালন করা মোস্তাহাব। এ দিনগুলোতে নামাজ, রোজা, দান-সাদকাসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগি করার জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আর তাহলো-

    >> নামাজ
    জিহজের প্রথম ১০ দিন ফরজ নামাজগুলো অন্যান্য সময়ের মতোই যথা সময়ে আদায় করা। পাশাপাশি বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা। এমনিতেই বেশি বেশি নফল নামাজ বান্দাকে আল্লাহ অতি কাছে নিয়ে যায়। তাই জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনও বেশি বেশি নামাজ পড়া। হাদিসে এসেছে-
    হজরত সাওবান রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘তুমি বেশি বেশি সেজদা কর। কারণ তুমি এমন কোনো সেজদা কর না, যার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন না এবং তোমার গোনাহ ক্ষমা করেন না। (মুসলিম)

    >> রোজা
    আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে রোজা অন্যতম আমল। এ দিনগুলোতে রোজা পালনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জিলহজ মাসের আরাফার দিন রোজা পালন সম্পর্কে হাদিসের ঘোষণা এমন-
    হজরত হুনাইদা বিন খালেদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, তার স্ত্রী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজ মাসের নয় তারিখ, আশুরার দিন ও প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোজা পালন করতেন।’ (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ, আবু দাউদ)

    >> তাসবিহ
    জিলহজ মাসের এ ফজিলতপূর্ণ প্রথম দশকে তাকবির (اَللهُ اَكْبَر), তাহলিল (لَا اِلهَ اِلَّا الله) ও তাহমিদ (اَلْحَمْدُ لِلَّه) বেশি বেশি পড়া। হাদিসে এসেছে-
    হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তোমরা বেশি বেশি তাকবির, তাহলিল, ও তাহমিদ পড়।

    ইমাম বুখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘হজরত ইবনে ওমর, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু জিলহজের এ ১০ দিন তাকবির বলতে বলতে বাজারের জন্য বের হতেন। মানুষরাও তাদের দেখে দেখে তাকবির বলতো।

    ইমাম বুখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, ‘ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মিনায় তার তাবুতে তাকবির বলতেন, লোকেরা তা শুনতো অতঃপর মানুষরাও তার অনুসরণ করে তাকবির বলতো। এক সময় পুরো মিনা তাকবিরের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠতো।

    সুতরং সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণে মুমিন মুসলমানের উচিত, জিলহজ মাসের প্রথম দিনগুলোতে বেশি বেশি নামাজ, রোজা, দান-সাদকা, তাসবিহ পাঠসহ যাবতীয় নফল ইবাদত ও ভালো কাজে অতিবাহিত করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন রোজা পালনসহ যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • দ্বীন মোহাম্মদের হাতে লক্ষাধিক মানুষের ইসলাম গ্রহণ

    দ্বীন মোহাম্মদের হাতে লক্ষাধিক মানুষের ইসলাম গ্রহণ

    ইসলাম ধর্ম প্রচারক দ্বীন মোহাম্মদ শেখ। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের বাদিন জেলার মাতলি শহরের অধিবাসী। ১৯৮৯ সালে ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ।

    দ্বীন মোহাম্মদ শেখ ১৯৪২ সালে এক হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ৪৭ বছর বয়সে তিনি তার চাচার সঙ্গে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মুসলমান হওয়ার পর থেকেই তিনি ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

    তিনি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, দ্বীন মোহাম্মাদ ১ লাখ ৮ হাজার মানুষকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করেন।

    দ্বীন মোহাম্মদ শেখ স্থানীয় আল্লাহওয়ালী জামেয়া মসজিদের সভাপতি। নিজে মুসলিম হওয়ার পর থেকে অন্য মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেয়াকে নিজের কাজ হিসেবে বেছে নেন।

    দ্বীন মোহাম্মদ শেখ অসহায় ইসলাম গ্রহণকারীদের আবাসনের জন্য প্রায় ৯ একর জায়গারও ব্যবস্থা করেছেন। যারা সেখানে বসবাস করবে।

    ইসলাম গ্রহণের পর দ্বীন মোহাম্মদ শেখ বলেন, ‘আমি সব সময় ইসলামকে ভালোবাসি। ইসলাম গ্রহণ করার আগে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করতে শুরু করি। কুরআন পড়ার পর বুঝতে পারি ৩৬০ দেবতার পূজা করে আসলেও কোনোদিন আমার কোনো উপকারে আসেনি।

    ইসলাম গ্রহণ করার পর প্রথমে তিনি গোপনে গোপনে কুরআন অধ্যয়ন করতেন। তার ভয় ছিল যদি কোনো মুসলিম তাকে কুরআনসহ দেখে ফেলে তবে তিনি আক্রমণের শিকার হন কি-না। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আর তা ছিল রমজানের রোজা শুরু হওয়ার আগে। সে সময় তিনি রমজান শুরু হওয়ার একদিন আগে থেকেই রোজা রাখা শুরু করেন।

    উল্লেখ্য যে, ছোটবেলা থেকেই তিনি ইসলামের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন। ইসলামের প্রতি তার ভক্তি-অনুরাগ দেখে তার মা তাকে ১৫ বছর বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেন। তার মায়ের বিশ্বাস ছিল, বিয়ে করে ফেললে অন্য ধর্মের প্রতি তার টান কমে আসবে। বিয়ে করার পর মুসলিম হওয়ার আগেই তার ৪ মেয়ে এবং ৮ ছেলে জন্ম নেয়।

    বিয়ের পরও ইসলামের প্রতি তার কৌতুহল কমেনি। তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য মোহাম্মদ জাগসি নামে এক মুসলিম শিক্ষক খুঁজে বের করেন। আর তার কাছে নিয়মিত পবিত্র কুরআন এবং হাদিসের বাণী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে থাকেন।

    ভাগ্যক্রমে দ্বীন মোহাম্মদ শেখের চাচাও একই মানসিকতার লোক ছিলেন। তারা দু’জন এই মর্মে একমত হলেন যে, তারা একে অপরকে সব কাজে সহায়তা করবেন। অতঃপর তিনি তার মেয়েদের বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

    ইসলাম গ্রহণ করে তিনি ধর্ম প্রচারে একটি মিশনারী তৈরি করেন। তিনি তার পরিবার থেকে ইসলামের দাওয়াত শুরু করেন। পরিবারের শক্তিশালী সমর্থনই ইসলামের প্রচার কাজে তার মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

    পাকিস্তানের মাতলি শহরের চিনি শিল্পের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জেনারেল সিকান্দার হায়াত দ্বীন মোহাম্মদ শেখকে দ্বীনের প্রচারে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন। কিন্তু দ্বীন মোহাম্মদ শেখ সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

    তবে তিনি সিকান্দার হায়াতকে নও মুসলিমদের চাকির দেয়ার প্রস্তাব করেন। আর তাতেই রাজি হয়ে যান সিকান্দার হায়াত। সেনা কর্মকর্তা ও তার মেয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নও মুসলিমদের চাকরির ব্যবস্থা করেন।

    দ্বীন মোহাম্মদ শেখের ধর্ম প্রচারের কথা পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়লে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার কাছে এসেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তার আবাসিক বাড়ির মসজিদেই নও মুসলিম শিশু কিশোর নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে নামাজ ও পবিত্র কুরআন শেখার ব্যবস্থা।

    নারী শিক্ষকদের দিয়ে নারীদের কুরআন শেখারও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। সেখানে ১৫ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কুরআন ও নামাজ শেখানোর ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি।

    তবে তিনি নিজে মুসলিম হওয়ার পর এত বিশাল সংখ্যক মানুষকে ধর্মে দীক্ষিত করলেও তিনি নিজে কোনো ধর্মীয় গ্রুপ বা দলকে সমর্থন করেন না। বরং তার কাছে সব মুসলমান ভাই ভাই। সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করাকেই নিজের জীবনের মিশন হিসেবে বেছে নিয়েছেন।