Category: ধর্ম

  • ‘তোমার সন্তানও তোমাকে এভাবে ভালোবাসবে …’

    ‘তোমার সন্তানও তোমাকে এভাবে ভালোবাসবে …’

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইন্সটাগ্রামের কিছু স্ট্যাটাস অনেক সময় মানুষের অবচেতন মনকে জাগিয়ে তোলে। বিপথগামী মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে আসে। অসহায় মানুষের কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে শেখায়। এমনকি নিজ বাবা-মা, পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনের প্রতি অবহেলাকারীও হয়ে ওঠে সতর্ক।

    এমনই একটি স্ট্যাটার্স তুলে ধরা হলো, যা সন্তানকে তার বাবা-মার সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে শেখাবে-

    এক বৃদ্ধ বাবা ও তার ছেলেকে নিয়ে উঠের পিঠে চড়ে এক কাফেলার সঙ্গে হজ পালনের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন। হঠাৎ পথিমধ্যে বাবা তার ছেলেকে বললেন, বাবা! তুমি কাফেলার সঙ্গে চলতে থাক, আমি আমার প্রয়োজন সেরে তোমাদের সঙ্গে যোগ দেব। আমাকে নিয়ে ভয় পেয়ো না।

    এ কথা বলে ছেলেকে উটের উপর রেখে বাবা নেমে পড়লেন। ছেলে উটের পিঠে চড়ে কাফেলার সঙ্গে চলতে থাকলো। কিছুক্ষণ পরই সন্ধ্যা হয়ে গেলো। কাফেলা পথচলা বন্ধ করে তাঁবু স্থাপন করল। ছেলে তার বাবাকে খুঁজতে লাগলো। কিন্তু কাফেলা কোথাও ছেলে তাঁর বাবাকে খুঁজে পেলো না্।

    এবার ছেলে উট ও কাফেলা ফেলে ভয়ে ভয়ে উল্টো পথে বাবার সন্ধানে পেছনের দিকে হাঁটা শুরু করলো।

    অনেক দূর যাওয়ার পর ছেলে দেখলো তার বৃদ্ধ বাবা অন্ধকারে পথ হারিয়ে একা একা বসে আছে। ছেলে দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। পরম মমতা ও আদরে বাবাকে নিজ কাঁধে উঠিয়ে নিলো। তারপর কাফেলার দিকে চলতে শুরু করলো।

    তখন বাবা তার ছেলেকে বলল, বাবা! আমাকে নামিয়ে দাও, আমি হেঁটেই যেতে পারবো।
    ছেলে বললো, ‘বাবা তোমাকে কাঁধে নিয়ে চলতে আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তোমাকে কাঁধে নিয়ে পথচলা এবং আল্লাহর জিম্মাদারি আমার কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি উত্তম।

    ছেলের মুখে এমন কথা শুনে বাবা কেঁদে ফেললেন। তাঁর চোখ থেকে আনন্দ অশ্রু ঝরছে। বাবার চোখের পানি ছেলের মুখের ওপর গড়িয়ে পড়ছে।

    ছেলে তার বাবাকে বললো, বাবা! কাঁদছ কেন? তোমাকে নিয়ে চলতে তো আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না।

    বাবা তার ছেলেকে বলল, তোমার কষ্ট হচ্ছে এ কথা ভেবে আমি কাঁদছি না। বরং আমার কাঁন্নার কারণ হলো-
    ‘আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগের কথা। আমি যখন তোমার মতো ছোট, তখন এ রাস্তা দিয়েই আমি ও আমার বাবা হজে গিয়েছিলাম। আমি আমার বাবাকে এভাবে কাঁধে চড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম।

    তখন আমার বাবা ও আমার মধ্যে এ রকম কথা-বার্তাই হয়েছিল। আর বাবা আমার জন্য এই বলে দোয়া করেছিলেন যে- ‘তোমার সন্তানও তোমাকে ভালোবেসে এভাবে কাঁধে চড়িয়ে নিয়ে যাবে।’

    আজ বাবার দোয়ার বাস্তবরূপ দেখতে পেয়েই কাঁদছি বাবা! আমার জন্য বাবার দোয়া কবুল হয়েছে। শুকরিয়া ও প্রশংসা সে মহান প্রভুর, যিনি আমার জন্য আমার বাবার দোয়া কবুল করেছেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এ স্ট্যাটাস আমাদের এ শিক্ষাই দেয় যে-
    যে ছেলে-মেয়ে তার বাবা-মাকে ভালোবাসবে, খেদমত করবে, তাঁদের জন্য দোয়া করবে। সে ছেলে-মেয়েও একদিন বাবা-মা হবে। তার সন্তানও তাঁকে ভালোবাসবে, সেবা করবে এবং দোয়া করবে।

    সুতরাং বৃদ্ধ বয়সে নিজের সুখ শান্তির জন্য হলেও প্রত্যেক সন্তানের উচিত, বাবা-মাকে ভালোবাসা। বাবা-মার সেবা করা। বাবা-মার জন্য দোয়া করা

    সর্বোপরি বাবা-মার জন্য আল্লাহর শেখানো ভাষায় দোয়া করা-
    رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
    উচ্চারণ : ‘রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি ছাগিরা।’
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার বাবা-মার প্রতি দয়া করুন। যেভাবে বাবা-মা আমার ছোট বেলায় আমার প্রতি দয়া করেছে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি ছেলে-মেয়েকে তাদের বাবার মার জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। তাদের সেবা করার তাওফিক দান করুন। তাদেরকে ভালোবাসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • রাষ্ট্রীয় সুবিধা ছাড়াই নিজ খরচে আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রপতির হজ পালন

    রাষ্ট্রীয় সুবিধা ছাড়াই নিজ খরচে আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রপতির হজ পালন

    আলেসান ওয়াতারা। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট। তিনি এবার হজে গেছেন। হজ পালনকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা ছাড়াই সাধারণ হাজিদের সঙ্গে নিজ খরচে হজ সম্পন্ন করেছেন। এমনকি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাও তিনি গ্রহণ করেননি।

    হজের মূল কাজ আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়া। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়াসহ হজের রোকনগুলো আদায়ে তিনি সৌদি আরব সরকারের কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেননি। সাধারণ হাজিদের সঙ্গে রাস্তায় ও ময়দানে শুয়ে-বসেই হজ সম্পাদন করেছেন।

    ছবিতে দেখা যায়, উন্মুক্ত মরু প্রান্তরে খোলা আকাশের নিচে তার দেশের সাধারণ সঙ্গী ও তার জনগণের সঙ্গে শুয়ে আছেন।

    হজ পালনে আইভরি কোস্ট সরকার তাকে হজের খরচ দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজও তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে হজের যাবতীয় ট্রিট তথা সুযোগ-সুবিধা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি তাও গ্রহণ করতে রাজি হননি।

    হজ মুসলিমের জন্য আর্থিক, আত্মিক ও শারীরিক ইবাদত। এ ইবাদত পালনে তিনি কারো দয়া-অনুকম্পা কিংবা বিশেষ সুবিধা না নিয়ে একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজ খরচে হজ করেছেন। নিজের আয়ে নিজের খরচে সাধারণ মানুষের মতো হজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি এমনটি করেছেন।

    আহকামুল হাকিমিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে রাজা-বাদশা কিংবা সাধারণ মানুষের এভাবেই উপস্থিত হওয়াই ঈমানের দাবি। সে দাবি পূরণেই তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নিয়ে হজ সম্পন্ন করেছেন।

    আল্লাহ তাআলা তার হজকে কবুল করুন। তার সঙ্গীদেরসহ সব মানুষের হজ কবুল করুন। তার হজ পালন থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে আমল মানুষকে সজিব করে দেয়

    যে আমল মানুষকে সজিব করে দেয়

    আল্লাহ তাআলা আর-রাহমান এবং আর-রাহিম দ্বারা অতিশয় দয়ালু ও মেহেরবান হিসেবে পরিচিত। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে সবার জন্য রহমান আর পরকালে তিনি শুধু মুমিন বান্দার জন্য হবে রাহিম। হাদিসে এসেছে-
    ‘আল্লাহ তাআলা ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি উহা পড়বে নিশ্চিত সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত)

    এছাড়া আল্লাহ তাআলা গুণবাচক নামের আমলে রয়েছে অনেক উকারিতা। আল্লাহ তাআলা গুণবাচক নাম ‘আর-রাহমান ও আর-রাহিম’-এর আমলের মাধ্যমে মানুষ অন্যায় ও অশান্তি থেকে দূরে থাকে এবং পাণচাঞ্চল্য ফিরে পায়। অলসতার ভাব দূর হয়ে যায়।

    Amal

    উচ্চারণ : ‘আর-রাহমানু : আর-রাহিমু’
    অর্থ : অতি দয়ালু দাতা ও অনুগ্রহকারী।

    আমল
    > যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাজের পর আল্লাহর গুণবাচক নাম اَلرَّحْمَنُ – اَلرَّحِيْمُ (আর-রাহমানু,আর-রাহিমু) ১০০ বার পড়ে আল্লাহ তাআলা তার-
    – অন্তরের অলসতা দূর করে দেন।
    – অশান্তি ও গ্লানি দূর করে দেবেন।
    – স্মৃতি ভ্রম দূর করেন।
    – জীবনের কাঠিন্য দূর করে দেন।
    – সব সৃষ্টিকে তার প্রতি দয়াশীল করে দেবেন।
    – সবার অনুগ্রহ লাভ করবেন।
    > যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণবাচক নাম اَلرَّحْمَنُ – اَلرَّحِيْمُ (আর-রাহমানু,আর-রাহিমু) ৩০০ বার পড়বেন আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির-
    – দোয়া কবুল করবেন।
    – গোনাহ মাফ করে দেবেন। এবং
    – বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত করবেন।

    > আর যে ব্যক্তি সব সময় আল্লাহর গুণবাচক নাম اَلرَّحِيْمُ (আর-রাহিমু) পড়বেন আল্লাহ তাআলা তার যাবতীয় বিপদ-আপদ দূর করে দেবেন।
    > আর প্রত্যেক দিন এক হাজার বার ‘ইয়া রাহিমু’ জিকির করলে তার মন দয়ালু ও নরম হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আর প্রিয় গুণবাচক নাম ‘আর-রাহমানু ও আর-রাহিমু’ নামের আমল যথাযথ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিয়ে করে দাম্পত্য জীবনে সুখী হবেন যেভাবে

    বিয়ে করে দাম্পত্য জীবনে সুখী হবেন যেভাবে

    বিশ্বের অনেক দেশে বিয়ে-পরবর্তী দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি বজায় রাখা সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। আবার অনেক দেশে বিয়ের সময় সে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সনদও দেখাতে হয়, যা দেখাতে না পারলে বিয়ে করাও সম্ভব হয় না। কেননা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করলে দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পরিবর্তে সুসম্পর্ক তৈরি হয়।

    দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই ধৈর্যশীল হতে হয়। বিয়ে সম্পর্কে ইমাম গাজালি রাহমাতুল্লাহি আলাইহির একটি মতামত ও উপদেশ থেকেই তা অনুমেয়। আর তাহলো-

    ইমাম গাজালি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘যেসব যুবক মনে করে যে, স্ত্রীর কটূ (তিক্ত) কথায় ধৈর্যধারণ করতে পারবে না; তাদের বিয়ে করা উচিত নয়।’

    স্ত্রীরা নানা বিষয়ে কটূ কথা বলবে, এটাই চিরসত্য। এ সত্য পুরুষকে মেনে নিতে হবে। তাই স্ত্রীর কটূ কথা সহ্য করার ক্ষমতা না থাকলে কোনো পুরুষের বিয়ে করা উচিত হবে না।

    উদাহরণ স্বরূপ তিনি উল্লেখ করেন-
    কোনো স্ত্রী তার স্বামীকে বলল, ‘তোমার চেহারা যে মাগুর মাছের মতো তা বিয়ের আগে খেয়াল করিনি। বিয়ের আগে খেয়াল করলে তোমাকে বিয়ে করতাম না।’

    স্ত্রীর এ কথা শুনেই কোনো পুরুষের ক্ষেপে ওঠা ঠিক হবে না। ওই মুহূর্তে স্ত্রীর কথা শুনে হয় চুপ থাকতে হবে নতুবা স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলতে হবে-

    ‘তোমার মতো চাঁদসাদৃশ্য স্ত্রী যে আমার ভাগ্যে জুটেছে এটা আমার বড় সৌভাগ্য। আর আমার চেহারা যা-ই হোক, আল্লাহর কোনো সৃষ্টিই নিন্দনীয় নয়।’

    আবার যে স্বামী তাদের স্ত্রীদের কটূ কথা বলে কিংবা খারাপ আচরণ করে, সে সব স্ত্রীদের উচিত স্বামীর সঙ্গে খারাপ কথা ও কাজের জবাব উত্তম কথা ও কাজ দিয়ে দেয়া।

    এভাবে যদি কোনো স্বামী কিংবা স্ত্রী তাদের একে অপরের কটূ কথার মূল্যায়ন করতে পারে তবেই বিবাহিত জীবনে স্বর্গের সুখ ফিরে আসবে। আর ইসলামের সুমহান শিক্ষাও তাই।

    বর্তমান সময়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী আবার স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে ডির্ভোস দেয়ার প্রবণতা মহামারির মতো বেড়েই চলেছে, যা ইসলাম নির্দেশিত সুখী পারিবারিক জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ থেকে উত্তরণে প্রতিটি দেশ ও সমাজে বিয়ে-পরবর্তী জীবনের সুখ-শান্তিতে করণীয়গুলো তুলে ধরতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

    যদি দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকে তবে বিয়ের আগে সুখী দাম্পত্য জীবনের অধিকারী ব্যক্তি কিংবা মুরুব্বিদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।

    মনে রাখা জরুরি যে, দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি পরিবার ও সমাজের সুখ-শান্তির অন্যতম হাতিয়ার।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব যুবককে বিয়ে-পরবর্তী দাম্পত্য জীবন শান্তিময় করে গড়ে তুলতে ইমাম গাজালি রাহমাতুল্লাহি আলাইহির উপদেশ গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মুমিন ব্যক্তির রূহ যেভাবে কবজ করা হয়

    মুমিন ব্যক্তির রূহ যেভাবে কবজ করা হয়

    মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করে যারা পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী মুক্তি। তাদের জন্য জান্নাতের সুঘ্রাণ এবং সীমাহীন প্রশান্তিও সুনিশ্চিত। মৃত্যুর কথা স্মরণ রাখতেই আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই; যদি তোমরা সুউচ্চ-সুদৃঢ় দুর্গেও অবস্থান কর।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৭৮)

    তাইতো মুমিন বান্দা দুনিয়ার এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করে। মুমিন ব্যক্তির মৃত্যু ও তার প্রাপ্তি সম্পর্কে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক বড় একটি হাদিস বর্ণনা করেন-

    হজরত বারা ইবনে আজেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে এক আনসারি সাহাবির জানাযার গেলাম। আমরা তাঁর কবর পর্যন্ত পৌঁছলাম। তখনও তাঁকে কবরে শোয়ানো হয়নি।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে বসলাম। যেমন আমাদের মাথার ওপরে পাখি বসে আছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে একটি লাঠি ছিল। তিনি লাঠির মাথা দিয়ে জমিনে আঘাত করেন।

    অতঃপর তিনি উপরের দিকে মাথা তোলেন এবং বলেন, তোমরা আল্লাহর আজাব থেকে আশ্রয় চাও। এ কথা তিনি ২/৩ বার বললেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন-

    ‘কোনো মুমিন বান্দার যখন দুনিয়া ত্যাগ করে আখেরাতে পাড়ি জমানোর (মৃত্যুর) সময় উপস্থিত হয়; তখন আসমান থেকে সাদা চেহারা বিশিষ্ট ফেরেশতারা নিচে নেমে আসেন। তাদের চেহারা সূর্যের মতো আলোকজ্জ্বল। তাদের সঙ্গে থাকে বেহেশতের কাফন ও আতর। তাঁরা তার (মৃতব্যক্তির) চোখের সীমানায় এবং মৃত্যুর ফেরেশতা (মৃতব্যক্তির) মাথার কাছে বসেন।

    তিনি (মৃত্যুর ফেরেশতা) বলেন, ‘হে পবিত্র ও নেক আত্মা! তুমি আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে আস। তখন আত্মা বেরিয়ে আসে, যেভাবে কলসি থেকে পানির ফোঁটা বেরিয়ে আসে।

    তখন ফেরেশতারা আত্মাকে ধরবেন; তাঁকে বেহেশতের আতরযুক্ত কাফনে রাখবেন; সেই কাফন থেকে পৃথিবীর সর্বোত্তম মেশকের সুঘ্রাণ বের হতে থাকবে। তারপর তারা তা (আত্মা/রূহ) নিয়ে ওপরে যাবেন।

    তারা যখন কোনো ফেরেশতা দলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবেন, তখন ফেরেশতারা বলবে, এটি একটি উত্তম আত্মা।

    বহনকারী ফেরেশতারা বলবেন, ‘এটি অমুকের আত্মা। অর্থাৎ তারা দুনিয়াতে তার নামের পরিচয় দিবেন। তারা দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত দরজা খুলে দিতে বলবেন। তখন দরজা খুলে দেয়া হবে। তারপর ঘনিষ্ঠ ফেরেশতারা পরবর্তী আসমান পর্যন্ত তাকে বিদায় জানাবেন। সপ্তম আসমান পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকবে।

    অতঃপর আল্লাহ তাআলা আদেশ দেবেন, ‘আমার বান্দার দফতর ইল্লিয়্যিনে লিখে রাখে;’ আর ইল্লিয়্যিন হচ্ছে সপ্তম আসমানে মুমিনের আত্মা সংরক্ষণের স্থান।

    মুমিনের আত্মাকে পুনরায় জমিনে (কবরে) তার দেহে ফেরৎ পাঠানো হবে। এরপর দু’জন ফেরেশতা এসে তাঁকে (মৃতব্যক্তিকে) কবরে বসাবেন, তাঁকে জিজ্ঞাসা করবেন-

    তোমার রব কে? আত্মা বলবে, আমার রব আল্লাহ। তারপর জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দ্বীন কি? আত্মা বলবে, আমার দ্বীন ইসলাম। ফেরেশতারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমার কাছে প্রেরিত লোকটি কে? আত্মা বলবে, তিনি আল্লাহর রাসুল। তারপর জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কিভাবে জানো? আত্মা বলবে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর ওপর ঈমান এসেছি এবং তা বিশ্বাস করেছি।

    এরপর আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী আওয়াজ দিয়ে বলবেন, ‘আমার বান্দা ঠিক বলেছে’ তার জন্য বেহেশতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং বেহেশতের একটি দরজা তাতে খুলে দাও। তখন সে বেহেশতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তি লাভ করবে। তার কবরকে নিজ চোখের দৃষ্টি সীমানা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।

    রাবি বলেন, ‘তার কাছে সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট একজন লোক আসবে’ যার পরনে সুন্দর কাপড় ও শরীরে সুঘ্রাণ থাকবে। সে বলবে, ‘তুমি সুখের সুসংবাদ গ্রহণ কর। এটি সেই দিন, যে দিন সম্পর্কে তোমাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।

    আত্মা প্রশ্ন করবে, তুমি কে? সুন্দর চেহারা নিয়ে কে আমাকে সুসংবাদ দিচ্ছ। লোকটি উত্তর দেবে, আমি তোমার নেক আমল বা ভাল কাজ।

    তারপর আত্মা ফরিয়াদ করতে থাকবে-
    ‘হে আমার রব! কেয়ামত কায়েম কর; কেয়ামত ঘটাও; যেন আমি আমার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদের কাছে যেতে পারি।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুমিন বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করার তাওফিক দান করুন। পরকালের প্রথম মঞ্জিল কবর থেকে শুরু করে বিচার দিবস পর্যন্ত উত্তম প্রতিদান লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে ভিড় করেন পর্যকটরা

    যে মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে ভিড় করেন পর্যকটরা

    তুরস্কের বুরসা প্রদেশের বিখ্যাত ইয়াসিল কামির (সবুজ মসজিদ) মুয়াজ্জিন পর্যকটদের আগ্রহের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্তে ভিন্ন ভিন্ন সুরে আজান দেন। তুরস্কের সামাজিক মাধ্যমেও মুয়াজ্জিন রজব উমায়েরকে নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। পনেরো শতকে নির্মিত তুর্কি এই মসজিদ পরিদর্শনে আসা পর্যকটদের মুগ্ধ করার একটি ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় তুর্কি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

    তুর্কি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, উমায়ের আজান দিচ্ছেন এবং দেশি-বিদেশি কয়েকজন পর্যটক তাঁর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছেন।

    উমায়ের ২০০২ সাল থেকে সবুজ মসজিদে কর্মরত। আজানের ব্যাপারে নিজের অনুভূতি তুলে ধরে বলেন, ‘আজান ইসলামের নিদর্শন। সারা বিশ্বে একই সময়ে একসঙ্গে আজান হয়। এটা ভাবতেই অন্য রকম লাগে। আমি অনেক অমুসলিমকে আজানের সময় কাঁদতে দেখেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সুন্দর তিলাওয়াত ও আজান আমাদের ঐতিহ্য। ইসলাম ও মসজিদ আমাদের অহংকার। আমরা আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য দেশি-বিদেশি শ্রমিকদের কাছে তুলে ধরতে চাই।’

  • মক্কা ও মদিনা থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজিদের করণীয়

    মক্কা ও মদিনা থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজিদের করণীয়

    গত ১০ আগস্ট যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে এবারের (১৪৪০ হিজরির) হজ। হজ শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্যবানদের জন্য ফরজ ইবাদত। হজ শেষে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করেছেন হাজিরা। বিমানের শিডিউল অনুযায়ী দেশে ফিরবেন তারা।

    হজের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর নিজ নিজ দেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা মক্কা ও মদিনায় অবস্থানকারী হাজিরা অবসর সময়ে ও ঘোরাফেরা না করে ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করবেন। আল্লাহর তাআলার নির্দেশও এমনই।

    দেশে ফেরার আগে অবশ্যই তাওয়াফে বিদা তথা বিদায়ী তাওয়াফ করে নিতে হবে। এ তাওয়াফ প্রত্যেক হাজির জন্য ওয়াজিব। এ ছাড়া হাজিদের উচিত ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা। তাহলো-

    – বেশি বেশি জিকির-আজকার করা।
    – বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা।
    – কাবা শরিফে প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করা।
    – কাবা শরিফে অবস্থানকালীন অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশগ্রহণ করা।
    – মক্কায় বেশি বেশি কাবা শরিফ তাওয়াফ করা।
    – কাবা শরিফের মুলতাযেম, হাতিমে কাবা ও মাকামে ইবরাহিমে দোয়া করা।
    – মদিনায় মসজিদে নববির জামাআতে অংশগ্রহণ করা।
    – মসজিদে নববিতে অনুষ্ঠিত জানাজায়ও অংশগ্রহণ করা।
    – মসজিদে নববির রিয়াজুল জান্নায় নামাজ ও দোয়া করা।
    – রিয়াজুল জান্নাহ ও রওজা শরিফ সংলগ্ন খুঁটিগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করা।
    – মদিনায় অবস্থানকালে বেশি বেশি প্রিয় নবির দরুদ পড়া এবং রওজায় নিয়মিত সালাম দেয়া।

    সর্বোপরি মসজিদে হারাম তথা কাবা শরিফ এবং মদিনার মসজিদে নববিতে সব সময় আমলে সালেহ তথা বেশি বেশি ভালো কাজ করা। কেননা মসজিদে হারামের প্রতি ওয়াক্ত নামাজে ১ লাখ রাকাআতের সাওয়াব পাওয়া যায়। ভালো কাজের সাওয়াব অনেকগুণ বেশি।

    অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববিতে প্রতি রাকাআত নামাজের সাওয়াব ৫০ হাজার ওয়াক্তের সমান। সেখানে সব ইবাদতের ফজিলতও অনেকগুণ বেশি।

    সতর্ক থাকতে হবে যে
    মক্কা ও মদিনায় কোনোভাবেই অন্যায় ও খারাপ কাজ করা যাবে না। এ থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ ভালো কাজের প্রতিদান যেমন বেশি, তেমনি যদি মক্কা ও মদিনার হারামের সীমানায় কেউ অন্যায় কাজ করে তবে তার পরিণতিও অত্যন্ত গুরুতর হয়।

    ভুলে গেলে চলবে না যে
    মক্কা ত্যাগ করার আগে অবশ্যই বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করা জরুরি। তবে ঋতুবর্তী ও নেফাসওয়ালি নারীদের জন্য তা প্রযোজ্য নয়। হাদিসে এসেছে-

    হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন ‘লোকদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের শেষ সময়টি যেন সমাপন হয় বায়তুল্লাহে কিন্তু হায়েজা ঋতুবর্তী নারীদের এ বিষয়ে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    উল্লেখ্য, চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজে যান। ১৭ আগস্ট থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে আসবেন সব হাজি।

    সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদফতরের তথ্য মতে, এ বছর গত ৭ আগস্ট (বুধবার) পর্যন্ত সারাবিশ্ব থেকে ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ হাজি সৌদি আরব যান। বিমানে ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৪৫৫ জন, সড়কপথে ৯৫ হাজার ৬৩৪ জন, নৌপথে ১৭ হাজার ২৫০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে মক্কা ও মদিনায় অবস্থানকালে অবসর সময়গুলো নেক আমলের মধ্যমে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রাখার তাওফিক দান করুন। নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে গুরুত্ব ও ফজিলতের কারণে ফজরের সুন্নাত পড়বে মুমিন

    যে গুরুত্ব ও ফজিলতের কারণে ফজরের সুন্নাত পড়বে মুমিন

    ফজরের সুন্নাতের গুরুত্ব, মর্যাদা ও ফজিলত অনেক বেশি। এ সুন্নাত নামাজ ফরজের চেয়ে বেশি নয়। তাই ফজরের নামাজের জামাআতে অংশগ্রহণ করার আগে নিজ বাসা বা ঘর থেকে সুন্নাত পড়ে যাওয়াই উত্তম। যদি কেউ মসজিদে গিয়ে সুন্নাত নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নেয়, তবে জামাআত শুরু নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছু আগে উপস্থিত হওয়া জরুরি।

    যেহেতু ফজরের সুন্নাত নামাজের মর্যাদা ও ফজিলত বেশি সেহেতু আগে আগে মসজিদে যাওয়াই উত্তম। যাতে তাড়াহুড়ো করে কিংবা ফজরের জামাআতে মাসবুক হয়ে সুন্নাত পড়তে না হয়।

    ফজরের সুন্নাত নামাজ আদায়ের ব্যাপারে হাদিসে যে তাগিদ দেয়া হয়েছে, তা অন্য কোনো সুন্নাত নামাজের ক্ষেত্রে দেয়া হয়নি। হাদিসে এসেছে-

    – হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাআত (সুন্নাত) দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম)

    – অন্য হাদিসে তিনি আরও বর্ণনা করেন যে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের দুই রাকাআত (সুন্নাত) নামাজে এতবেশি গুরুত্ব দিতেন, যা অন্য কোনো নফল (বা সুন্নাত) নামাজে দেননি।’ (বুখারি, মুসলিম)

    – হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা এ দুই রাকাআত (সুন্নাত) কখনো ত্যাগ করো না, যদিও শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করে।’ (আবু দাউদ)

    – হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- তোমরা ফজরের দুই রাকাআত (সুন্নাত)-এর ব্যাপারে পুরোপুরি যত্নবান হও। কারণ তা ফজিলতপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।’ (মুসনাদে আহমাদ)

    ফজরের জামাআত শুরু হলে কী করবেন?
    সাহাবায়েকেরাম ও তাবেয়িগণসহ অনেক বুজুর্গানে দ্বীন ফজরের দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করেছেন। এমনকি ফজরের জামাআত শুরু হওয়ার পরও সুন্নাত আদায় করে জামাআতে অংশগ্রহণ করেছেন।

    – হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, (কূফার গভর্নর) সায়িদ ইবনে আস তাঁকে এবং হুযায়ফা ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে ফজরের নামাজের আগে ডাকলেন। তাঁরা (কাজ শেষে) তার কাছ থেকে বিদায় নিলেন। ইতিমধ্যে মসজিদে ফজরের নামাজের ইকামত শুরু হয়ে গেছে। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদের একটি খুঁটির আড়ালে ফজরের দুই রাকাআত (সুন্নাত) পড়লেন। তারপর জামাআতে অংশগ্রহণ করলেন। (শরহু মাআনিল আসার)

    – হজরত আবু মিজলায রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি ফজরের জামাআত চলা অবস্থায় হজরত ইবনে আব্বাস ও ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার সঙ্গে মসজিদে প্রবেশ করলাম। ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জামাআতের কাতারে প্রবেশ করলেন। আর হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ফজরের দুই রাকাআত (সুন্নাত) পড়লেন। তারপর জামাআতে অংশগ্রহণ করলেন।’

    – হজরত যায়েদ ইবনে আসলাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে এসে দেখেন, ফজরের জামাআত চলছে। কিন্তু তাঁর ফজরের দুই রাকাত (সুন্নাত) পড়া হয়নি। তিনি হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহার কামরায় তা পড়লেন। তারপর জামাআতে অংশগ্রহণ করলেন।’

    – হজরত আবু উবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেন, হজরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু কখনো মসজিদে এসে দেখতেন, ফজরের জামাআত চলছে। তিনি মসজিদের এক কোণায় (ফজরের) দুই রাকাআত (সুন্নাত) পড়ে নিতেন। তারপর জামাতে অংশগ্রহণ করতেন। (শরহু মাআনিল আসার)

    ফজরের সুন্নাত নামাজ আদায়ের গুরুত্ব মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে পাকে অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত ফজর নামাজের আগেই সুন্নাত যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তা আদায় করা।

    তবে জামাআত শুরু হোক কিংবা না হোক সুন্নাত নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে মসজিদের বাহিরের অংশে পড়া কিংবা জামাআতের কাতার থেকে দূরে পড়া উত্তম। তা হতে পারে বারান্দা কিংবা খুঁটির আড়ালে।

    কারণবশতঃ যদি এমন হয় যে-
    ফজরের নামাজের ইকামত শুরু হয়ে গেছে কিংবা জামাআত শুরু হয়ে গেছে; সে ক্ষেত্রে ফজরের সুন্নাত নামাজ ছাড়া অন্য সুন্নাত হলে তা না পড়ে জামাআতে শরিক হওয়া জরুরি।

    আর যদি ফজরের সুন্নাত নামাজ হয় তখন দেখতে হবে, সুন্নাত পড়ে জামাআত পাওয়া যাবে কিনা। যদি মনে হয় যে সুন্নাত পড়েও জামাআত পাওয়া যাবে তবে ফজরে সুন্নাত নামাজ পড়ে নেয়া।

    আবার এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে-
    জামাআতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথম কাতারে দাঁড়ানো এবং তাকবিরে উলা তথা প্রথম তাকবিরসহ জামাআতে অংশগ্রহণের ফজিলতও অনেক বেশি।

    তাই ফজরের সুন্নাত নামাজ ধীরস্থিরভাবে আদায়ের জন্য আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া জরুরি। অথবা বাসা কিংবা ঘর থেকে সুন্নাত পড়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফজরের সুন্নাত নামাজ যথাযথভাবে নিয়মিত আদায় করার তাওফিক দান করুন। ফজরের সুন্নাত আদায়ের পর তাকবিরা উলার সঙ্গে ফজরের জামাআতে অংশগ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • রাগ ও আনন্দের সময় যে দোয়া পড়বেন মুমিন

    রাগ ও আনন্দের সময় যে দোয়া পড়বেন মুমিন

    হাসি-কান্না, সুখ-বেদনা, আনন্দ-ব্যথায় মানুষের জীবন মোড়ানো। অনেক সময় মানুষ রাগ-ক্ষোভ-দুঃখ-বেদনার কারণে বিমর্ষ ও হতাশ হয়ে যায়। আবার সুখ-শান্তি-আনন্দ-সন্তুষ্টিতে আত্মহারা হয়ে যায়। উভয় অবস্থাতেই মানুষ নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অনেক সময় অন্যায় পথের দিকে ধাবিত হয়।

    আনন্দ-বেদনা, রাগ-সন্তুষ্টি ও সুখ-দুঃখের সব অবস্থাতেই অন্যায় পথে ধাবিত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। বরং অতি সুখ ও অতি দুঃখে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে আল্লাহর কাছে দোয়া করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘এটা এ জন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছ তাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার জন্য তোমরা আনন্দিত না হও। ‌গর্বকারী ও অহংকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন না।’ (সুরা হাদিদ : আয়াত ২৩)

    এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা হারানো বেদনায় বিমর্ষ না হতে এবং পাওয়ার আনন্দে গর্বিত ও অহংকারী হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

    আনন্দ-বেদনার সময়টিতে করণীয় সম্পর্কে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন-
    ‘আমাকে দু’টি শব্দ উচ্চারণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। (তার একটি হলো) দুঃখের সময় বোকামিসুলভ (হায়! হায়!) শব্দ আর অন্যটি হলো (আনন্দের অতিমাত্রায়) পাপসুলভ (হুররে! বা হাহ্হা) শব্দ। (আল্লাহর পক্ষ থেকে) নেয়ামত পেলে (পাপ হয় এমন শব্দে) ‘হুররা বা হাহ্হা’ করা। আর বিপদের সময় বোকিামিবশতঃ হায়!, আফসোস করা। অর্থাৎ বড় নিঃশ্বাস ফেলা।’

    সুতরাং রাগ-ক্ষোভ ও সুখ-সন্তুষ্টির অতিরিক্ত আবেগে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে হাদিসে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা ও আশ্রয় চাওয়ার দোয়া শেখানো হয়েছে। আর তাহলো-
    اَللَّهُمَّ اِنِّى اَسْئَالُكَ الْعَدْلَ فِىْ الْغَضَبِ وَ الرِّضَا
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আদলা ফিল গাদাবি ওয়ার রিদা।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায়ই মধ্যমপন্থা কামনা করি।

    কোনো ব্যক্তি যখন আবেগের সময় নিজেদের মুখে লাগাম পরিয়ে দেয়, তখন অতি আনন্দ ও দুঃখের মাঝেও তারা সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়।

    সুতরাং বিপদাপদ ও হাসি-খুশি উভয় অবস্থায় আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কেননা এ দুটি জিনিসই মানুষকে আল্লাহর অবাধ্যতায় পৌছিয়ে দেয়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুখ-দুঃখ সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা ও ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে গর্ব ও অহংকার থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। দুঃখ ও আনন্দের অতিশয্যে তাঁর অবাধ্যতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে ৭ ধরনের পানিতে পবিত্র হওয়া যায়

    যে ৭ ধরনের পানিতে পবিত্র হওয়া যায়

    যে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা যায় তা নিম্নরূপ—

    ১। খালেস পানি। (সুরা : আনফাল, আয়াত : ১১, বুখারি, হাদিস : ১৪৬)

    খালেস পানি বলা হয় ওই পানিকে, যাতে মৌলিক গুণাবলি (রং, স্বাদ, ঘ্রাণ) বহাল থাকে, কোনো নাপাকির সংমিশ্রণ না হয় এবং অন্য কোনো বস্তু তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫১৪)

    খালেস পানি বলতে নিম্নের পানিগুলোকে বোঝানো হয়—

    ১। আসমান থেকে বর্ষিত পানি

    ২। কূপের পানি

    ৩। ঝরনার পানি

    ৪। নদীর পানি

    ৫। সাগরের পানি

    ৬। বরফ গলা পানি

    ৭। কুয়াশার পানি।

    (আল ফিকহুল হানাফি আল মুইয়াসসার : ১/৩৩)

    পানির প্রকার ও তার হুকুম

    পবিত্রতা অর্জিত হওয়া ও না হওয়ার দিক থেকে পানি পাঁচ প্রকার—

    ১। সাধারণ পবিত্র পানি : যে পানি নিজেও পবিত্র আবার অন্যকেও পবিত্র করতে সক্ষম তা হলো খালেস পানি। (সুরা : আনফাল, আয়াত : ১১; বুখারি, হাদিস : ১৪৬)

    ২। মাকরুহ পানি : যে পানি নিজে পবিত্র এবং তা থেকে পবিত্রতাও অর্জন করা যায়, তবে মাকরুহ; যেমন—বিড়াল, মোরগ, ছিঁড়ে-ফেড়ে খাওয়া জন্তু বা সাপের উচ্ছিষ্ট পানি। খালেস পবিত্র পানি থাকা অবস্থায় এমন পানি দিয়ে অজু-গোসল করা মাকরুহে তানজিহি। যদি এমন পানি ছাড়া কোনো পানি না থাকে, তাহলে এই পানি ব্যবহার করা মাকরুহ হবে না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৩২৪)

    ৩। সন্দেহযুক্ত পানি : এ ধরনের পানি পবিত্র, কিন্তু তা দ্বারা পবিত্র হওয়ার বিষয়টি সন্দেহযুক্ত; যেমন—গাধা অথবা খচ্চরের উচ্ছিষ্ট পানি। এই পানি পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু এর দ্বারা অজু করা ঠিক হবে কি না তাতে সন্দেহ। তাই এমন পানি ছাড়া অন্য পানি না থাকলে তা দিয়ে অজুও করবে, তায়াম্মুমও করবে। এ ব্যাপারে পরস্পর বিরোধপূর্ণ হাদিস থাকায় বিষয়টি সন্দেহযুক্ত বলে বিবেচিত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮৭৭; আবু দাউদ, হাদিস : ৩৩১৫)

    ৪। ব্যবহৃত পানি : হাদিসের স্পষ্ট বর্ণনার কারণে ব্যবহৃত পানি পবিত্র। তবে হাদিসের ভাষ্য মতে, এই পানি দ্বারা অজু হবে না। (বুখারি, হাদিস : ৫২৪৪)

    ব্যবহৃত পানি বলা হয় এমন পানিকে, যা ‘হাদাস’ (অপবিত্রতা দূর করা বা সওয়াব অর্জনের জন্য অজু ও গোসলে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যবহারকারীর শরীর থেকে আলাদা হওয়ার পর সেই পানি ব্যবহৃত পানি বলে গণ্য হবে।

    ৫. নাপাক পানি : সামান্য আবদ্ধ পানি, যাতে নাপাকির মিশ্রণ ঘটেছে—পানির মধ্যে নাপাকির প্রভাব প্রকাশ হোক বা না হোক, এমন পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা যাবে না। (বুখারি, হাদিস : ২৩২)

    যে পানির মধ্যে নাপাকির প্রভাব প্রকাশ পায় তা কম হোক আর বেশি, ভাসমান হোক বা আবদ্ধ—সবই নাপাক পানি হিসেবে গণ্য হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫১৪)