Category: ধর্ম

  • শয়তান যে ৩ কাজে মানুষকে সবচেয়ে বেশি ধোঁকা দেয়

    শয়তান যে ৩ কাজে মানুষকে সবচেয়ে বেশি ধোঁকা দেয়

    ‘শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন’- এটি মহান আল্লাহ তাআলার ঘোষণা। আল্লাহর কাছ থেকেই শয়তান মানুষের ক্ষতি করবে বলে তার শিরা-উপশিরায় প্রবেশের ক্ষমতা নিয়ে এসেছে। শয়তান যে সব অবস্থায় মানুষের বেশি ক্ষতি করে সে সম্পর্কে প্রখ্যাত ফকিহ হজরত আবু লাইছ সমরকান্দি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘তাম্বিহুল গাফেলিন’-এ একটি ঘটনাসহ তা তুলে ধরেছেন। আর তাহলো-

    শয়তান একদিন হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কাছে এসে বললো, ‘আপনি আল্লাহর মনোনীত রাসুল। আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার মর্যাদাও আপনি লাভ করেছেন। আমি তাওবা করার ইচ্ছা করছি। আমার তাওবা কবুলের জন্য আপনি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন।’

    শয়তানের তাওবা করার কথা শুনে হজরত মুসা আলাইসি সালাম খুশি হয়ে গেলেন। কারণ শয়তান তাওবা করলেই গোনাহ সংঘটিত হবে না। তাই তিনি ওজু করে নামাজে মনোযোগ দিলেন।

    তখন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে জানান, ‘হে মুসা! শয়তান তোমার সঙ্গে মিথ্যা বলেছে। সে তোমার সঙ্গে প্রতারণা করতে চেয়েছে।’

    যদি তাকে পরীক্ষা করতে চান, তবে তাকে এ কথা বলে দেখুন যে, সে যেন হজরত আদম আলাইহিস সালামের কবরে সেজদা করে। যদি সে হজরত আদমের কবর সেজদা করতে রাজি হয় তবে আমি তার তাওবা কবুল করব।

    হজরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর এ সংবাদে খুব খুশি হলেন। খুশি হওয়ার কারণ হলো এটা একটা সাধারণ শর্ত। শয়তান এটা সহজেই কবুল করে নেবে। তাই তিনি শয়তানকে আল্লাহর এ খবর পৌঁছে দিলেন।

    শয়তান আল্লাহর এ সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেল। বলল, ‘(হজরত) আদমকে জীবিত থাকতেই তো সেজদা করিনি এখন তার মৃত্যুর পর তাকে সেজদা করব?’

    অতঃপর শয়তান হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে বলল, আপনি যেহেতু আমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে আমার প্রতি দয়া করেছেন। তাই আমি তিনটি বিষয়ের ব্যাপারে আপনাকে সতর্ক থাকতে বলছি। যে সব অবস্থায় আমি মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ধোঁকা দিয়ে থাকি।

    যে তিন সময় শয়তান মানুষকে বেশি ধোঁকা দেয়-

    >> মানুষ যখন রেগে যায়, তখন তাকে আরও বেশি বিপদগ্রস্ত আমি তার অন্তরে অবস্থান করি আর রক্তের সঙ্গে তার শিরা-উপশিরায় দৌড়াতে থাকি।

    >> মুজাহিদ যখন জিহাদের ময়দানে উপস্থিত হয় কিংবা যুদ্ধ করে, তখন আমি তার অন্তরে স্ত্রী, সন্তান ও সম্পদের আকর্ষণ বাড়াতে থাকি। যাতে সে স্ত্রী, সন্তান ও সম্পদের আকর্ষণে জিহাদ থেকে পলায়ন করে। এক্ষেত্রে একটি কথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলামের যে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা জিদের মতোই কষ্টের, শয়তান সে বিষয়গুলোতেও বেশি ধোঁকা দিয়ে থাকে।

    >> মানুষ যখন গায়রে মাহরাম নারীর সঙ্গে একাকি থাকে। তখন আমি তাদের উভয়ের সঙ্গে অবস্থান করে তাদের একের প্রতি অপরকে ঝুঁকিয়ে দেয়া সর্বাত্মক চেষ্টা করি। যতক্ষণ না তারা অসৎ কাজে জড়িয়ে না পড়ে। অসৎ কাজ সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত এ প্রচেষ্টা চলতে থাকে।

    সুতরাং মানুষের উচিত উল্লেখিত তিন অবস্থায় শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকা। রাগের সময় ধৈর্য ধারণ করে চুপ থাকা। প্রয়োজনে মাটিতে শুয়ে পড়া। জিহাদসহ ইসলামের কঠিন বিধান পালনকালে ঈমানের সর্বোচ্চ পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়া। যে সব নারীর সঙ্গে দেখা করা বৈধ নয়, তাদের সঙ্গে একাকি অবস্থান না করা।

    সব সময় শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও রহমত কামনা করা। বিশেষ করে বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার পড়া। যাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়।

    > সব সময় ইসতেগফার পড়া-
    أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

    আর সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-
    أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত অবস্থায় শয়তানের ধোঁকা থেকে নিজেদের হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। ইসলামের বিধানসমূহ যথাযথ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত কামনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বরিশালে রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, যুবক গ্রেপ্তার

    বরিশালে রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, যুবক গ্রেপ্তার

    বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সোহাগ ফকির মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর করেন। এই ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি রোববার সকালে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

    রাধাগোবিন্দ মন্দিরের মালিক সমির চন্দ্র বাদী হয়ে রোববার সকালে মামলাটি করেন। এতে বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাটিকরপাড়া গ্রামের মো. আকরাম ফকিরের ছেলে সোহাগকে আসামি করা হয়েছে।

    বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম জানান, অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তাকে জিজ্ঞাসাবাদে কিছুটা মানসিক বিকারগ্রস্ত মনে হয়েছে। তবুও তাকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

  • কন্যাসন্তান মা-বাবার জন্য জান্নাতের দাওয়াতনামা নিয়ে দুনিয়ায় আসে

    কন্যাসন্তান মা-বাবার জন্য জান্নাতের দাওয়াতনামা নিয়ে দুনিয়ায় আসে

    কন্যাসন্তান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার। তারা মা-বাবার জন্য জান্নাতের দাওয়াতনামা নিয়ে দুনিয়ায় আসে। তাইতো পবিত্র কোরআনে কন্যাসন্তানের সংবাদকে ‘সুসংবাদ’ বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাহেলি যুগের সেই বর্বর চিন্তার মানুষের সমালোচনা করা হয়েছে, যারা কন্যাসন্তানের খবর সুসংবাদ হিসেবে পেলে মন খারাপ করত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনোস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগোপন করে; সে চিন্তা করে যে হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে দেবে। লক্ষ করো,  সে কত নিকৃষ্ট সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)

    রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যাসন্তান লালন-পালনকারীর জন্য তিনটি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন—এক. জাহান্নাম থেকে মুক্তি, দুই. জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা এবং তিন. জান্নাতে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য।

    তাই মহান আল্লাহ কাউকে কন্যাসন্তান উপহার দিলে সন্তুষ্ট চিত্তে তাদের লালন-পালন করা আবশ্যক। কেননা তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তিকে কন্যাসন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করেছে, সেই কন্যাসন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড় (প্রতিবন্ধক) হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৩)

    অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যাসন্তানের লালন-পালনের বিষয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান বা তিনজন বোন আছে, আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছে, তাদের নিজের জন্য অসম্মানের কারণ মনে করেনি, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১২)

    উপরোক্ত হাদিস থেকে বোঝা যায়, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে কন্যাসন্তানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। উপহারের ধারাবাহিকতা এখানেই শেষ নয়। উত্তমরূপে কন্যাসন্তান লালন-পালনের মাধ্যমে জান্নাতে প্রিয় নবী (সা.)-এর সান্নিধ্য পাওয়া যায়।

    হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দুজন কন্যাসন্তানকে লালন-পালন ও দেখাশোনা করল (বিয়ের সময় হলে ভালো পাত্রের কাছে বিয়ে দিল) সে এবং আমি জান্নাতে এরূপ একসঙ্গে প্রবেশ করব, যেরূপ এই দুটি আঙুল (এ কথা বলার সময় তিনি নিজের দুই আঙুল মিলিয়ে দেখালেন)। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৪)

  • আজানের সময় যে আমল সবার জন্য জরুরি

    আজানের সময় যে আমল সবার জন্য জরুরি

    মুয়াজ্জিন যখন আযান দেয়, তখন সবার জন্য ৫টি আমল করা জরুরি। সবার জন্য জরুরি এ আমলগুলো হলো-

    >> আজানের উত্তর দেয়া
    মুয়াজ্জিন যে শব্দগুলো বলেন, তা হুবহু উচ্চারণ করা। হাদিসে এসেছে-
    হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা যখন আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলবে, তোমরাও তাই বলো।’ (বুখারি)
    অন্য হাদিসে এসেছে-

    হজরত মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলার পর ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলতে হবে।’ (বুখারি)

    >> আজান শেষে দরূদ পড়া
    আজান শেষ হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পড়া। হাদিসে এসেছে-
    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,. ইরশাদ করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুয়াজ্জিনের আজান শুনে তোমরা হুবহু শব্দগুলো বলো। এরপর আমার ওপর দরূদ পাঠ করো। যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করবেন।’ (মুসলিম)

    >> তাওহিদ ও রেসালাতের সাক্ষ্য দেয়া
    তাওহিদের সাক্ষ্য দেয়া। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এবং দ্বীনের প্রতি সন্তুষ্টি ঘোষণা করা। হাদিসে এসেছে-
    হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুয়াজ্জিনের আযান শুনে যে ব্যক্তি বলবে-

    : أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا

    উচ্চারণ : আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, লা শারিকা লাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু; রদিতু বিল্লাহি রব্বাও ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসুলাও ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনা।
    তার জীবনের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (মুসলিম)

    >> আজানের পর দোয়া করা
    আজানে পর দরূদ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। কেননা আজানের পর দোয়া কবুল হয়। হাদিসে এসেছে-
    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে আমাদের চেয়ে বেশি ফজিলত পেয়ে যাচ্ছে। আমরা কী করব?

    রাসুলুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমিও হুবহু মুয়াজ্জিনের মতো বলো। আজান শেষ হলে আল্লাহর কাছে (প্রার্থনা কর) চাও, তোমার দোয়া কবুল করা হবে।’ (আবু দাউদ)

    সুতরাং আজানের সময় মুয়াজ্জিনের অনুসরণে হুবহু উত্তর দেয়া ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। তাই মুমিন মুসলমানের উচিত আজানের উত্তর দেয়ার মাধ্যমে পরিপূর্ণ সাওয়াব লাভ করা। আজানের পরে দরূদ পাঠ করে দোয়া করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের আলোকে আজানের উত্তর দেয়ার পাশাপাশি দরূদ ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর ইতিহাস

    ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর ইতিহাস

    ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর ইতিহাস- চিত্রশিল্পী প্রান্ত নাথ

    প্রান্ত নাথ ::: হিন্দু ধর্মের একটি পবিত্র উৎসব যা কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী, কৃষ্ণ জয়ন্তী, গোকুলাষ্টমী নামেও পরিচিত। এই উৎসব দেবকী এবং বাসুদেবের অষ্টম পুত্র শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে পালন করা হয়। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তীথিতে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়। ভগবান কৃষ্ণ বাঁশি বাজাতে আর দই মাখন খেতে খুব পছন্দ করেন। ভগবান কৃষ্ণকে তার ভক্তরা ভালোবেসে অনেক নামে ডেকে থাকেন।

    জন্মাষ্টমীর গুরুত্ব
    অত্যাচারী রাজা কংসের রাজত্বে মথুরাবাসীর দুঃখের সীমা ছিল না। বোন দেবকীর সঙ্গে বাসুদেবের বিয়ের সময় আকাশ ভেঙে শোনা যায় দৈববাণী। দেবকীর অষ্টম গর্ভে জন্মানো সন্তান কংসকে হত্যা করে উদ্ধার করবে মথুরাবাসীকে। দৈববাণী শুনে দেবকী, বাসুদেবকে সেই মুহূর্তেই কারাগারে বন্ধ করেন কংস। দ্বাপর যুগে মর্ত্যে আবির্ভাব বিষ্ণুর অষ্টম অবতার কৃষ্ণের। কারাগারে দেবকীর ষষ্ঠ সন্তানকেও বাসুদেব কারাগারে হত্যা করার পর সপ্তম সন্তান মারা যায় গর্ভেই। কথিত আছে এই সপ্তম সন্তানই বৃন্দাবনে রোহিনীর গর্ভে বলরাম রূপে জন্মগ্রহণ করেন। অষ্টম গর্ভে কৃষ্ণের জন্মের পর বাসুদেব দেবানুকূল্যে শ্রাবণের ঝড়, বৃষ্টি কবলিত রাতে শিশু কৃষ্ণকে বৃন্দাবনে নন্দরাজ, যশোদার কাছে দিয়ে আসেন। কৃষ্ণকে মাথায় নিয়ে যমুনা পারপারের সময় শেষনাগ শিশু কৃষ্ণকে রক্ষা করেন দুর্যোগের হাত থেকে। বৃন্দাবনে যশোদার সদ্যোজাতের সঙ্গে কৃষ্ণকে বদলে দিয়ে আসেন। দেবকীর কোলে যশোদার সদ্যোজতকে দেখে কংস তাকে বধ করতে উদ্যত হলে শূন্যে মা দুর্গার রূপ ধারণ করেন সেই সদ্যোজাত কন্যা। শোনা যায় দৈববাণী, কংসকে হত্যা করে মথুরাবাসীকে উদ্ধার করতে কৃষ্ণ পৃথিবীকে আবির্ভূত হয়েছেন।

    জন্মাষ্টমীর ইতিহাস

    শাস্ত্রীয় বিবরণ ও জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে লোকবিশ্বাস অনুযায়ী কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ১৮ অথবা ২১ জুলাই, মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে। কৃষ্ণ বসুদেব ও দেবকীর অষ্টম পুত্র। তাঁর পিতামাতা উভয়েই যাদববংশীয়। দেবকীর দাদা কংস, তাঁদের পিতা উগ্রসেনকে বন্দী করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। একটি দৈববাণীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানের হাতে তাঁর মৃত্যু হবে। এই কথা শুনে তিনি দেবকী ও বসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন এবং তাঁদের প্রথম ছয় পুত্রকে হত্যা করেন। দেবকী তাঁর সপ্তম গর্ভ রোহিণীকে প্রদান করলে, বলরামের জন্ম হয়। এরপরই কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। কৃষ্ণের জীবন বিপন্ন জেনে জন্মরাত্রেই দৈবসহায়তায় কারাগার থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে বসুদেব তাঁকে গোকুলে তাঁর পালক মাতাপিতা যশোদা ও নন্দের কাছে রেখে আসেন। কৃষ্ণ ছাড়া বসুদেবের আরও দুই সন্তানের প্রাণরক্ষা হয়েছিল। প্রথমজন বলরাম যিনি বসুদেবের প্রথমা স্ত্রী রোহিণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন এবং সুভদ্রা বসুদেব ও রোহিণীর কন্যা, যিনি বলরাম ও কৃষ্ণের অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেন।

     

    শ্রী কৃষ্ণের ১০৮ শত নাম আছে-

    শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন।১।
    যশোদা রাখিল নাম যাদু বাছাধন।২।
    উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল।৩।
    ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল।৪।
    সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই।৫।
    শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল-রাজা ভাই।৬।
    ননীচোরা নাম রাখে জতেক গোপীনি।৭।
    কালসোণা নাম রাখে রাধা বিনোদিনী। ৮।
    কুব্জা রাখিল নাম পতিত পাবন হরি।৯।
    চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন-বংশীধারী।১০।
    অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া।১১।
    কৃষ্ণ নাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া।১২।
    অণ্বমুনি নাম রাখে দেবচক্রপাণি।১৩।
    বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী।১৪।
    গজহস্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন।১৫।
    অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ন।১৬।
    পুরন্দর নাম রাখে শ্রীগোবিন্দ।১৭।
    দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু।১৮।
    সুদাম রাখিল নাম দারিদ্র-ভঞ্জন।১৯।
    ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন।২০।
    দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন-সুধীর।২১।
    পশুপতি নাম রাখে গরুর মহাবীর।২২।
    যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব ষদুবর।২৩।
    বিদুর রাখিল নাম কাঙ্গালের ঠাকুর।২৪।
    বাসুকি রাখিল নাম দেব সৃষ্টি স্থিতি।২৫।
    ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথী।২৬।
    নারদ রাখিল নাম ভক্ত-প্রাণধন।২৭।
    ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ।২৮।
    সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথী।২৯।
    জাম্ববতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি।৩০।
    বিশ্বামিত্র নাম রাখে সংসারের সার।৩১।
    অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার।৩২।
    ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি।৩৩।
    পঞ্চমুখে রামনাম গান ত্রপুরারি।৩৪।
    কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলী সদাচারী।৩৫।
    প্রহ্লাদ রাখিল নাম নৃসিংহ-মুরারী।৩৬।
    বশিষ্ঠ রাখিল নাম মুনি-মোনহর।৩৭।
    বিশ্বাবসু নাম রাখে নবজলধর।৩৮।
    সম্বর্ত্তক রাখে নাম গোবর্দ্ধনধারী।৩৯।
    প্রাণপতি নাম রাখে যত ব্রজনারী।৪০।
    অদিতি রাখিল নাম আরতি-সূদন।৪১।
    গদাধর নাম রাখে যমল-অর্জ্জুন।৪২।
    মহাযোদ্ধা নাম রাখে ভীম মহাবল।৪৩।
    দয়ানিধি রাখে নাম দরিদ্র সকল।৪৪।
    বৃন্দাবন চন্দ্র নাম রাখে বৃন্দাদূতী।৪৫।
    বিরজা রাখিল নাম যমুনার পতি।৪৬।
    বাণীপতি নাম রাখে গুরু বৃহস্পতি।৪৭।
    লক্ষীপতি রাখে নাম সুমন্ত্র সারথি।৪৮।
    সন্দীপনি নাম রাখে দেব অন্তর্য্রামী।৪৯।
    পরাশর নাম রাখে ত্রিলোকের স্বামী।৫০।
    পদ্মযোনি নাম রাখে অনাদির আদি।৫১।
    নট-নারায়ন নাম রাখিল সম্বাদি।৫২।
    হরেকৃষ্ণ নাম রাখে প্রিয় বলরাম।৫৩।
    ললিতা রাখিল নাম দুর্ব্বাদলশ্যাম।৫৪।
    বিশাখা রাখিল নাম অনঙ্গমোহন।৫৫।
    সুচিত্রা রাখিল নাম শ্রী বংশী বদন।৫৬।
    আয়ান রাখিল নাম ক্রোধ নিবারণ।৫৭।
    চন্ডকেশী নাম রাখে কৃতান্ত-শাসন।৫৮।
    জ্যোতিষ্ক রাখিল নাম নীলকান্তমণি।৫৯।
    গোপিকান্ত নাম রাখে সুদাম-ঘরণী।৬০।
    ভক্তগণ নাম রাখে দেব জগন্নাথ।৬১।
    দুর্ব্বাসা রদখেন নাম অনাথের নাথ।৬২।
    রাসেশ্বর নাম রাখে যতেক মালিনী।৬৩।
    সর্ব্ব-যঞ্জেশ্বর নাম রাখেন শিবানী।৬৪।
    উদ্ধর রখিল নাম মিত্র-হিতকারী।৬৫।
    অক্রুর রাখিল নাম ভব-ভয়হারী।৬৬।
    গুঞ্জমালী নাম রাখে নীল-পীতবাস।৬৭।
    সর্ব্ববেত্তা রাখে নাম দ্বৈপায়ণ ব্যাস।৬৮।
    অষ্টসখী নাম রাখে ব্রজের ঈশ্বর।৬৯।
    সুরলোক রাখে নাম অখিলের সার।৭০।
    বৃষভানু নাম রাখে পরম ঈশ্বর।৭১।
    স্বর্গবাসী রাখে নাম দেব পরাৎপর।৭২।
    পুলোমা রাখেহ নাম অনাথের সখা।৭৩।
    রসসিন্ধু নাম রাখে সখী চিত্রলেখা।৭৪।
    চিত্ররথ নাম রাখে অরাতি-দমন।৭৫।
    পুলস্ত্য রাখিল নাম নয়ন-রঞ্জন।৭৬।
    কশ্যপ রাখেন নাম রাস-রাসেশ্বর।৭৭।
    ভাণ্ডারীক নাম রাখে পূর্ণ-শশধর।৭৮।
    সুমালী রাখিল নাম পুরুষ-প্রধান।৭৯।
    পুরঞ্জন নাম রাখে ভক্তগণ-প্রাণ।৮০।
    রজকিনী নাম রাখে নন্দের-দুলাল।৮১।
    আহ্লাদিনী নাম রাখে ব্রজের-গোপাল।৮২।
    দেবকী রাখিল নাম নয়নের মণি।৮৩।
    জ্যোতির্ম্ময় নাম রাখে যাজ্ঞবল্ক্য মুনি।৮৪।
    অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি চন্দ্র
    গৌতম রদখিল নাম দেব বিশ্বম্ভর।৮৬।
    মরীচি রাখিল নাম অচিন্ত্য-অচ্যুত।৮৭।
    জ্ঞানাতীত নাম রাখে সৌনকাদি সুত।৮৮।
    রুদ্রগণ নাম রাখে দেব-মহাকাল।৮৯।
    বসুগণ রাখে নাম ঠাকুর দয়াল।৯০।
    সিদ্ধগণ নাম রাখে পুতনা-নাশন।৯১
    সিদ্ধার্থ রাখিল নাম কপিল তপোধন।৯২
    ভাগুরি রাখিল নাম অগতির গতি।৯৩
    মৎস্যগন্ধা নাম রাখে ত্রিলোকের পতি।৯৪।
    শুক্রাচার্য রাখে নাম অখিল-বান্ধব।৯৫।
    বিষ্ণুলোকে নাম রাখে দেব শ্রীমাধব।৯৬।
    যদুগণ রাখে নাম যদুকুলপতি।৯৭।ততততত
    অশ্বিনী কুমার নাম রাখে সৃষ্টি-স্থিতি।৯৮।
    অর্য্যমা রাখিল নাম কাল-নিবারযণ।৯৯।
    সত্যবতী নাম রাখে অজ্ঞান-নাশন।১০০।
    পদ্মাক্ষ রাখিল নাম ভ্রমর-ভ্রমরী।১০১।
    ত্রিভঙ্গ রাখিল নাম যত সহচরী।১০২।
    বঙ্কচন্দ্র নাম রাখে শ্রীরূপমমঞ্জরী।১০৩।
    মাধুরি রাখিল নাম গোপ-মনোহারী।১০৪।
    মঞ্জুমালী নাম রাখে অভীষ্ট-পুরণ।১০৫।
    কুটিলা রাখিল নাম মদন-মোহন।১০৬।
    মঞ্জরী রাখিল নাম কর্ম্মবন্ধ-নাশ।১০৭।
    ব্রজবধূ নাম রাখে পূর্ণ-অভিলাষ।১০৮।

    কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী কবে | জন্মাষ্টমী ২০১৯

    ভগবান শ্রী বিষ্ণুর অষ্টম অবতার মাতা দেবকীর গর্ভে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন সেই নিয়ম অনুসারে জন্মাষ্টমীর শুভ সময় ২৩ আগষ্ট রাত ১২:০৮ মিনিটে থেকে ০১:০৪ মিনিট পর্যন্ত। জন্মাষ্টমী উৎসব পালন করা হবে ২৪ আগষ্ট ২০১৯ শনিবার।

  • বরিশালে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত

    বরিশালে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত

    বরিশালে স্বতঃফূর্তভাবে ধর্মীয় উদ্দীপনা আর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে বরিশালে পরমেশ^র শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদ্যাপিত হয়েছে।
    আজ শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় লাইন রোডের মুখে বরিশাল ধর্মরক্ষিনী সভার আয়োজনে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানের স্বগত বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন শিল্পপতি বিজয় কৃষ্ণ দে।

    ধর্মরক্ষিনীর সভাপতি শ্রী রাখাল চন্দ্র দে’র সভাপতিত্বে আলোচকরা বলেন, অত্যাচার-অনাচারের কারণে পৃথিবীতে যখন ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, তখন ভগবান শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। এসময় তিনি দুষ্টের দমন করে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। তেমনি এদেশে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘœ ঘটাতে চায়, তাদের বিরুদ্বে রুখে দাড়ানোর আহ্বান জানান বক্তারা।
    এসময় বক্তব্য রাখেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু. ধর্মরক্ষিনী সভার সাধারন সম্পাদক মৃনাল কান্তি সাহা,বরিশাল হরি ভক্ত প্রচারনীর সভাপতি ডা. ভাস্কর সাহা, বরিশাল মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি নারায়ন চন্দ্র নাড়–, সম্পাদক সুরঞ্জিৎ দত্ত লিটু, সহ-সভাপতি ভানু লাল দে, জেলা পূজা কমিটির মানিক মূখার্জী কুডু সহ অন্যান্যরা।

    এসময় মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসকন সভাপতি তপসি প্রভু, মহা শ্বশান কমিটির সম্পাদক তমাল মালাকার,বরিশাল মেট্রোপলিটন উপ- পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া, মেট্রোপলিটন উপ-কমিশনার (ডিসি ট্রাফিক) খায়রুল আলম,জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ্যাড, দিলিপ কুমরি ঘোষ, গোপাল সাহা,স্বপন কর।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের প্রতিকৃতি নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহ হাজার কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ শোভা যত্রিা ও বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে অংশ নেয়।
    শোভা যাত্রায় শ্রী কৃষ্ণের প্রতিকৃতি সহ অত্যাচারী রাজা ও শ্রী কৃষ্ণের মামা কংশের অভিনয় যানবাহনে প্রদশর্ন করা হয়।

  • বরিশালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত

    বরিশালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    বরিশালে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শুক্রববার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টায় বরিশাল নগরীর সদর রোডের লাইন রোডের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বরিশাল ধর্ম রক্ষিনী সভার সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে।

    অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়বাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র পক্ষে বিসিসির ১ নম্বর প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু।

    এর আগে রাম কৃষ্ণ মিশন আশ্রম এবং বিভিন্ন সংঘ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বর্ণাঢ্য র‌্যালী এসে সমাবেশস্থলে যোগ দেয়। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিএম কলেজ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে শেষ হয়।

    এছাড়া দিনটি পালনে নগরীর ধর্মসভাগুলোতে দিনব্যাপী পদাবলী পাঠ, কীর্তন, গীতা ও ভগবত পাঠের আয়োজন করা হয়। র‌্যালী-সমাবেশসহ জন্মাষ্টমীর সকল অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনের জন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

  • ইসলামে প্রতিটি কথা, কাজ ও পদক্ষেপ ইবাদত বলে গণ্য হতে পারে

    ইসলামে প্রতিটি কথা, কাজ ও পদক্ষেপ ইবাদত বলে গণ্য হতে পারে

    ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী মানবসৃষ্টির প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করেছি, যেন তারা শুধু আমারই ইবাদত করে।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

    সুতরাং যে জীবনে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য নেই, যে জীবন তার স্রষ্টার প্রতি বিনম্র ও আত্মসমর্পিত নয়, তা ইসলামের দৃষ্টিতে অর্থহীন। তবে ইসলামে ইবাদতের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। সাধারণ মানুষ যেগুলোকে ইবাদত মনে করে তাতেই ইবাদতের ধারণা সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবজীবনের প্রতিটি কথা, কাজ ও পদক্ষেপ ইবাদত বলে গণ্য হওয়ার অবকাশ রয়েছে ইসলামে। তা জীবনের যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন। যেমন, মনে মনে আল্লাহকে ভয় পাওয়া এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করাও ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদত।

    শরিয়তে ইবাদতের বিভিন্ন শ্রেণি বা বিভাগ রয়েছে। যার কিছু মানুষের জন্য অবশ্যপালনীয় (ফরজ ও ওয়াজিব)। এসব ইবাদত আদায় না করা গুনাহ বা অপরাধ। আবার কিছু ইবাদত এমন যা অবশ্যপালনীয় নয়। যা আদায় করলে ব্যক্তি পুণ্যের অধিকারী হবে। তবে তা ছেড়ে দেওয়া পাপ নয়। ইবাদত তা অবশ্যপালনীয় হোক বা ঐচ্ছিক হোক, মানবজীবনে তার প্রভাব অপরিসীম। মানুষ যখন আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পদ্ধতি অনুযায়ী কোনো ইবাদত পালন করে, তখন তার সমগ্র জীবনে তার প্রভাব পড়ে।

    সৃষ্টিগতভাবে মানুষের ভেতর দুটি প্রবৃত্তি রয়েছে। ভালো ও মন্দ। মানুষ তার প্রভুর আনুগত্য করলে আল্লাহর নৈকট্যের কারণে তার ভেতরের সুপ্রবৃত্তি শক্তিশালী হয়। ফলে তার ভেতর ভালো গুণ ও বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে বান্দা ধীরে ধীরে আল্লাহর রং ধারণ করে। আল্লাহ এ শ্রেণির মানুষকে লক্ষ্য করে বলেছেন, ‘আল্লাহর রং, আল্লাহর রংধারীর চেয়ে উত্তম কে রয়েছে? আমরা তার ইবাদতকারী।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৩৮) আর যখন বান্দা আল্লাহর অবাধ্য হয়, তখন আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত ও তার ক্রোধের পাত্র হওয়ায় তার ভেতরের কুপ্রবৃত্তি শক্তিশালী হয়। এতে তার মন্দ স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পায়। একসময় সে পশুতে পরিণত হয়। বা তারও অধম হয় সে। আল্লাহ তাদের পরিচয়ও দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা হলো পশুতুল্য। বরং তারও অধম। তারা হলো উদাসীন (আল্লাহর স্মরণ থেকে)।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৭৯)

    মূলত ইবাদতের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে মুমিন বান্দার আত্মশুদ্ধি, আত্মিক ও শারীরিক, পার্থিব ও অপার্থিব কল্যাণ লাভ, মানবসমাজে তার মর্যাদা বৃদ্ধিসহ সব কিছু। অবশ্য কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে ইবাদতের কতটা বিনিময় লাভ করবে, তা নির্ভর করে ইবাদতে তার নিষ্ঠা, আল্লাহর প্রতি আস্থা, ইবাদত পালনে যত্ন ও আন্তরিকতার ওপর। বান্দা তার আমলের চূড়ান্ত পুরস্কার লাভ করবে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। যে পুরস্কার ও বিনিময়ের কাছে জাগতিক সব কল্যাণ ও বিনিময় গৌণ।

    কোনো ব্যক্তি নিয়মিত আল্লাহর ইবাদত করলে তার ভেতর আল্লাহর অস্তিত্বের অনুভব ও স্মরণ বৃদ্ধি পায়, হৃদয় জাগ্রত হয়। যা মানুষকে হতাশা ও নৈরাশ্য, আশ্রয়হীনতা ও হীনম্মন্যতার মতো নেতিবাচক মনোপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করে। কারণ মানুষ যখন আল্লাহর হাতে নিজেকে সমর্পণ করে এবং হৃদয়ে বিশ্বজগতের স্রষ্টার নৈকট্য অনুভব করে, তখন তার ভেতর হতাশা ও নৈরাশ্য, আশ্রয়হীনতা ও হীনতা বাসা বাঁধতে পারে না। বরং মানুষ হিসেবে তার উচ্চমূল্য ও মর্যাদার বোধ জাগ্রত হয়।

    মানবজীবনে কিছু কিছু ইবাদতের প্রভাব প্রায় দৃশ্যমান। যেমন, নামাজ মানুষকে আত্মিক ও শারীরিক পবিত্রতা দান করে। মানুষকে মন্দ চরিত্র থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় নামাজের ভূমিকা অনন্য। সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে একই কাতারভুক্ত করে। ফলে মানুষ পরস্পরের জন্য সহৃদয় হয় এবং সাম্যের বোধ জাগ্রত করে। নামাজের জামাত মুসল্লিদের শৃঙ্খলা শেখায়। একইভাবে মানবজীবনে রোজার গভীর প্রভাব রয়েছে। রোজার প্রথম অর্জন অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করা। পাশাপাশি কুপ্রবৃত্তি দমনের শক্তি, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কষ্ট অনুভব করার সুযোগ দেয় রোজা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজায় শারীরিক অনেক উপকারও রয়েছে। জাকাত মানুষের কৃপণতা ও মানসিক সংকট দূর করে। অন্তরে দয়া, মহানুভবতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ায়। মানবজীবনে হজের প্রভাবও অত্যন্ত প্রবল। আল্লাহর ঘর কাবাসহ ইসলামের নিদর্শনাবলি মানুষের মনে তাওহিদ ও একত্ববাদের বিশ্বাসকে দৃঢ় করে। সারা বিশ্বের মুসলিম পরস্পরের ভাই এবং তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই—এই ধারণাও হজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ইবাদতের প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহর জিকির বা স্মরণ দ্বারা মানবহৃদয়কে সজীব ও সতেজ করা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমরা নামাজ আদায় করো আমার স্মরণে।’ (সুরা : তহা, আয়াত : ১৪) আর অন্য আয়াতে আল্লাহ জিকিরের উপকারিতা বর্ণনা করে বলেছেন, ‘যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় প্রশান্ত হয়। নিশ্চয় আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)

    অর্থাৎ ইবাদত মানুষকে মানসিক প্রশান্তি দান করে। ফলে জাগতিক জীবনে স্বস্তি ও স্থিতি লাভ করে। আল্লামা মুকাতিল (রহ.) উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ইবাদত মানুষের ইয়াকিন বা বিশ্বাসকে দৃঢ় করে। আর এই বিশ্বাসই তার হৃদয়কে প্রশান্ত করে। আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা মানবহৃদয়কে বিক্ষিপ্ত করে, অশান্ত করে তোলে।’ [মাআলিমুত তানজিল, আল্লামা বাগাবি (রহ.)]

    আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) আল্লাহর জিকিরকে মুমিনের জন্য দুনিয়ার জান্নাত আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই দুনিয়ায় একটি জান্নাত রয়েছে। যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করে না, সে পরকালের জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না।’ [আল-ওয়াবিলুস সায়ব, আল্লামা ইবনে কায়্যিম জাওঝি (রহ.)]

    মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিকদের দাবি, যেহেতু মহান আল্লাহ জগত্গুলোর স্রষ্টা ও নিয়ন্তা, তাই সৃষ্টিজগতের শান্তি ও স্থিতি তাঁর স্মরণ, ইবাদত ও নৈকট্যের সঙ্গে জড়িত। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার সম্পর্কই মানবজীবনের শান্তি, স্বস্তি, স্থিতি, প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি, সাফল্য ও ব্যর্থতার মতো জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়গুলো নির্ধারণ করে। তবে আল্লাহ ও বান্দার সম্পর্ক শুধু প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে আবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বাস, ভক্তি, ভালোবাসা, আস্থা ও আবেগ। বান্দা যখন তার স্রষ্টার ইবাদতে মগ্ন হয়, তখন সশ্রদ্ধ ভালোবাসায় তার হৃদয় বিগলিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন মুমিন বান্দার কাছে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়, তাদের হৃদয় বিগলিত হয়।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২)

    বিপরীতে বান্দা যখন আল্লাহর ইবাদত ও স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, তখন তার হৃদয় বিষাদে ভরে যায়। জগতের নানা প্রতিকূলতা তাকে বিচলিত করতে থাকে। সীমাহীন প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও সে নিজেকে অসহায় ও আশ্রয়হীন মনে করতে থাকে। জগতের সম্পদ ও শক্তি তার হৃদয়কে প্রশান্ত করতে পারে না। অজানা ভয় ও আশঙ্কা তাকে বিচলিত করে তোলে। ফলে আরাম-আয়েশের যাবতীয় উপকরণ তার কাছে অর্থহীন ও অকার্যকর মনে হয়। মুসলিম দার্শনিকদের দাবি, যে ব্যক্তি নিজের স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করতে পারে না, পৃথিবীর কোনো কিছুর ওপর সে আস্থাবান হতে পারে না। ফলে অনিশ্চয়তা ও অনিরাপদ বোধ তার হৃদয়কে অস্থির করে তোলে। মানসিক প্রশান্তি তার কাছে সুদূরপরাহত বিষয় বলেই মনে হয়। পরকালের মর্মন্তুদ শাস্তি তো রয়েছেই। আল্লাহ তাআলা সে দিকে ইঙ্গিত করেই বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয় তার জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন। পরকালে আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।’ (সুরা : তহা, আয়াত : ১২৪)

    আল্লাহ সবাইকে তাঁর আনুগত্যে ভরপুর জীবন দান করুন। আমিন।

  • হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের মাজারে হামলা করল ইসরাইল

    হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের মাজারে হামলা করল ইসরাইল

    জর্দান নদীর পশ্চিম তীর ফিলিস্তিনের নাবলুসে অবস্থিত হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের সমাধিতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ হামলায় ৫ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

    যুদ্ধ-বিধ্বস্ত জনপদ ফিলিস্তিন। যেখানে রয়েছে অগণিত-অসংখ্য নবি-রাসুলদের সমাধি। জেরুলজালেমে অবস্থিত পবিত্র মসজিদ আকসাও দখল করে নিয়েছে ইসরাইল। ধীরে ধীরে দলখল করছে ফিলিস্তিনি জনপদ। ফিলিস্তিনের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে ইয়াহুদি বসতি স্থাপন করছে।

    পুরো ফিলিস্তিন ও মুসলিম নির্দশন নিশ্চিহ্ন করতে ইসরাইলি বাহিনীর এটি একটি ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের মাজারে হামলাও ধ্বংস কার্যক্রমের অংশ।

    আল-আলম নিউজ চ্যানেল সূত্রে জানা যায়, নাবলুস উপশহরের শতাধিক ইয়াহুদি অধিবাসী ইসরাইলি সেনাদের সহযোগিতায় হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের মাজারে হামলা চালায়। এ সময় সেখানকার স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা মাজারে হামলায় বাধা দেয়।

    মাজারে হামলা চালাতে বাধা দিলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনিদের উপর আক্রমণ করে বসে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আক্রমণে ৫ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

    উল্লেখ্য যে, রামাল্লা, আল-খলিল ও বাব আল-মাগরেবায় পৃথক পৃথক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে সঙ্গে ইয়াহুদিরাও এসব স্থাপনা হামলা চালিয়ে আসছে।

    লক্ষ্য একটাই পুরো মসজিদ আল-আকসা ইয়াহুদিদের দখলে নেয়া। বৈধ মুসলিম ও ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে তাড়িয়ে দেয়া। দিন দিন বাড়ছে ইয়াহুদিদের এ ষড়যন্ত্র ও হামলা।

    সম্প্রতি তারা ইসলাম বিরোধী স্লোগান দিয়ে চালাচ্ছে এসব অপকর্ম। ইসরাইলি পুলিশ ইয়াহুদিদের শুক্র ও শনিবার ছাড়া অন্য দিনগুলোতে মাসজিদুল আকসায় আক্রমণ চালানোর ঘৃণ্য অনুমতি দিয়েছে।

  • গির্জার টাকা চুরি করে যাজকের বিলাসী জীবন

    গির্জার টাকা চুরি করে যাজকের বিলাসী জীবন

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি গির্জা থেকে ৯৮ হাজার ডলার (৮৩ লাখ টাকা প্রায়) চুরির দায়ে এক যাজককে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের পুলিশ। ওই যাজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে কয়েক বছর ধরে তিনি গির্জার অর্থ নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন।

    নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যাজকের নাম জোসেফ ম্যাকলুন। তিনি পেনসিলভানিয়ার চেস্টার কাউন্টির সেইন্ট জোসেফ গির্জায় কাজ করতেন। ৫৬ বছর বয়সী ম্যাকলুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গির্জার অর্থ চুরি করে ব্যক্তিগত ভোগবিলাসে ব্যয় করেছেন। এই কাজের জন্য তিনি ২০১১ সালে একটি গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেন।

    ম্যাকলুনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় ২০১৮ সালের আগস্টে। গির্জার পক্ষের আইনজীবী চার্লস গাজা বলেন, ছয় বছর ধরে গির্জার অর্থ সরিয়ে আসছেন ম্যাকলুন। বিয়ে কিংবা শেষকৃত্যের জন্য যেসব দানের অর্থ গির্জায় আসত, তা জোসেফ নিজের গোপন অ্যাকাউন্টে জামা করতেন, অথবা নিজের ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করতেন। ওই অর্থ নিজের ব্যক্তিগত বাড়িতে কিংবা অন্য জায়গা থেকে ব্যয় করতেন।

    চার্লস বলেন, ‘ফাদার ম্যাকলুন একধরনের নেতৃত্বে ছিলেন। যাজক পদমর্যাদার কারণে সবাই তাঁকে সহজে বিশ্বাস করেছেন এবং তাঁদের দান ফাদারের হাতে তুলে দিয়েছেন। তবে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সবার বিশ্বাস ভেঙেছেন।’

    ম্যাকলুনের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিসপের অফিস থেকে বুধবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে তা খুব গুরুতর ও বিব্রতকর। ম্যাকলুনকে বর্তমানে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

    তবে মেলিসা ম্যাকক্যাফের্টি নামের এক আইনজীবী বলছেন, ওই যাজক যেটা করেছেন তা মূলত গির্জা কর্তৃপক্ষ ও তাঁর মধ্যকার ব্যাপার। সম্ভবত এখানে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কারার কিছু নেই।