Category: ধর্ম

  • আরও চার বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

    আরও চার বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

    চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) পর্যন্ত মোট ৬৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬১ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী। মক্কায় ৬২ জন, মদিনায় ৬ জন এবং ১ জন জেদ্দায় মারা যান।

    সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মক্কা থেকে প্রকাশিত হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া শালবন গ্রামের মোহাম্মদ লুৎফর রহমান (৬৬) মারা যান। তার পাসপোর্ট নম্বর বি এক্স ০৬২০৫৬১। তিনি গত ২৫ জুলাই বিজি (৩২৫৭) যোগে সৌদি আরব যান।

    একই দিনে মারা গেছেন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানা বানিয়াচং উত্তর-পশ্চিম গ্রামের শেখ তায়েব আলী (৭৯)। তার পাসপোর্ট নম্বর বিটি ০৪৭৪০৭৫। তিনি গত ৩ আগস্ট বিজি ৩০৭৯ ফ্লাইটে সৌদি আরব যান।

    এছাড়া যশোর জেলার শার্শা থানার গ্রামের গ্রামের মোহাম্মদ সফেদ আলী (৮২) এবং দিনাজপুর সদরের মুদিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ রুস্তম আলী (৬৮) মারা যান।

    তাদের পাসপোর্ট নম্বর যথাক্রমে বি আর ০৫৪৩৭৯০ এবং বি এক্স ০৭৮৮১১৫। গত ৪ আগস্ট বিজি ৩১৮১ ফ্লাইটে সৌদি আরব যান যশোরের মোহাম্মদ সফেদ আলী এবং গত ২৫ জুলাই বিজি ৩১৫৫ ফ্লাইটে সৌদি আরব যান দিনাজপুরের মোহাম্মদ রুস্তম আলী।

    চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৭ আগস্ট, যা চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

  • কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখা যাবে কি?

    কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখা যাবে কি?

    কোরবানির গোশত তিন দিনেরও অধিক জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েজ। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২২৪, মুসলিম ২/১৫৯, মুয়াত্তা মালেক : ১/৩১৮)

    শরিকে কোরবানি করলে ওজন করে গোশত বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েজ নয়। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩১৭, কাজিখান : ৩/৩৫১)

    কোরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনকে এবং এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয়, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই।

  • বরিশাল বিভাগে কখন ও কোথায় ঈদের জামাত

    বরিশাল বিভাগে কখন ও কোথায় ঈদের জামাত

    বরিশালে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে।

    সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানসহ শীর্ষ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করার কথা রয়েছে। মাওলানা সিহাবউদ্দিন বেগ প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন।

    এদিকে, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সদর আসনের এমপি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম ঈদ জামাত আদায় করবেন নগরীর করিম কুটির জামে মসজিদে সকাল ৮টায়।

    বরিশাল বিভাগে সর্ব বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায়। পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম এখানে ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন।

    বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে পিরোজপুরের ছারছিনা দরবার শরীফ ময়দানে সকাল ৮টায়।

    বিভাগের তৃতীয় বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে ঝালকাঠীর এনএস কামিল মাদ্রাসা মাঠে সকাল ৮টায়।

    পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ হযরত ইয়ারউদ্দিন খলিফা (রা.) মাজার শরীফে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং ভোলা কেন্দ্রিয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়।

    জেলার উজিরপুরের গুঠিয়ার দৃষ্টিনন্দন বায়তুল আমান মসজিদ কমপ্লেক্সে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদ জামাত।

    বরিশালে দুটি করে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে জামে এবাদুল্লাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ও সকাল সাড়ে ৯টায়, কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদে সকাল ৮টায় ও সাড়ে ৯টায়, জামে বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৮টায় ও ৯টায়, পুলিশ লাইনস মাঠে সকাল ৮টায় ও ৯টায়, নূরিয়া স্কুল ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সকাল সোয়া ৮টায়।

    এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, কেন্দ্রীয় কারাগার জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, ল কলেজ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, পোর্ট রোড জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, ব্রাউন কম্পাউন্ড জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, ফকিরবাড়ি রোড জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, পাওয়ার হাউজ জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, খান সড়ক জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, সাগরদী জামে মসজিদে সকাল ৮টায় এবং কালিজিরা কেন্দ্রিয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    এছাড়াও বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং মহানগরীতে বড়-ছোট সহস্রাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    অপরদিকে, প্রধান প্রধান জামাতসহ সকল ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল রেঞ্জর ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।

  • অংশীদারির ভিত্তিতে কোরবানি করার নিয়ম

    অংশীদারির ভিত্তিতে কোরবানি করার নিয়ম

    কোরবানির পশু আগে থেকে নির্ধারিত হোক বা কোরবানির দিনগুলোতে কেনা হোক—উভয় পদ্ধতি বৈধ। যদি কোরবানির নিয়তে পশু ক্রয়কারী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হয়, তাহলে ক্রয়ের মাধ্যমে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

    কোরবানির জন্য যদি কেউ বড় একটি পশু ক্রয় করে এবং সে নিয়ত করে যে অন্য কেউ আগ্রহী হলে তাকেও কোরবানিতে অংশীদার করে নেবে—এমন ব্যক্তির জন্য আগ্রহী ব্যক্তি পেলে শরিকানায় কোরবানি করা বৈধ হবে। আর যদি কেনার সময় কাউকে শরিক করার নিয়ত না থাকে, তবে পরবর্তী সময়ে কাউকে অংশীদার না করাই উত্তম। তার পরও যদি কাউকে অংশীদার করতে হয়, তবে অংশীদারের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে। অংশীদার নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হলে তাকে অংশীদার করা বৈধ হবে না। একইভাবে গরিব ব্যক্তি (যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই) কোনো পশু ক্রয় করলে তাতে অন্যকে অংশীদার করা বৈধ নয়। যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই—এমন ব্যক্তি কোরবানির জন্য কোনো পশু ক্রয় করে এবং পরবর্তী সময়ে কাউকে শরিক করে, তবে পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত ব্যক্তির কোরবানি শুদ্ধ হয়ে যাবে। কোরবানিতে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। তবে যে পরিমাণ অংশ গরিব ব্যক্তি অন্যের জন্য ছেড়ে দিয়েছে, তা পরিমাপ করে আরেকটি কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব হবে। আর যদি কোরবানির দিন শেষ হয়ে যায়, তাহলে এই পরিমাণ অর্থ গরিব অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে বিতরণ করে দেবে। কারণ গরিব ব্যক্তি কোরবানির নিয়তে পশু কেনায় তার ওপর পুরো পশুটাই কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে গেছে। (কিফায়াতুল মুফতি : ৮/১৯৫, বেহেশতি জেওয়ার : ৩/৩৯)

    অংশীদার যদি ওলিমা ও আকিকা করতে চায়?
    বড় পশুতে (যাতে শরিকে কোরবানি করা বৈধ) কোরবানি ও আকিকার নিয়তে অংশীদার হওয়া বৈধ। শর্ত হলো, শরিকরা কোরবানি বা আকিকার বাইরে অন্য কোনো নিয়ত করবে না। দ্বিতীয় শর্ত হলো, কারো অংশ এক-সপ্তমাংশের চেয়ে কম হবে না। একইভাবে কোনো অংশীদার যদি কোরবানির নিয়ত করে এবং কোনো অংশীদার যদি ওলিমার নিয়ত করে, তবে তাদের একত্রে কোরবানি করা বৈধ।

  • কাবা শরিফে পরানো হলো সোনা-রূপার তৈরি গিলাফ

    কাবা শরিফে পরানো হলো সোনা-রূপার তৈরি গিলাফ

     

    প্রতি বছরই কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। আর এটি পবিত্র হজের দিন ফজরের পর বদলানো হয়। সে ধারাবাহিকতায় আজ সকালে পরিবর্তন করা হয় পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ।

    হজের দিন হজ পালনকারী আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের কারণে মসজিদে হারাম তথা কাবা চত্ত্বরে মানুষের উপস্থিতিও থাকে একেবারেই কম। আর তাতে কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরাতেও সুবিধা হয়। হজ পালন শেষে হাজিরা তাওয়াফ করতে এসে দেখতে পান উজ্জ্বল চকচকে গিলাফ।

    কাবা শরিফকে আবৃত করতে মোট ৫ টুকরা কিসওয়া বা গিলাফ বানানো হয়। দরজার ওপরে কারুকার্যখচিত গিলাফটি ছাড়া কাবা শরিফের ৪ দিকে চারটি গিলাফ পরানো হয়। প্রতিটি গিলাফ একটির সঙ্গে অপরটি সেলাই করা।

    Gilap.jpg

    কাবার গিলাফ তৈরিতে যা প্রয়োজন হয়
    কাবার গিলাফ তৈরি করতে প্রয়োজন হয় ৬৭০ কেজি রেশম। ১৫০ কেজি সোনা ও রূপার চিকন তার। ১ মিটার লম্বা ও ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়ার ৪৭ থান সিল্কের কাপড় দিয়ে তৈরি করা এ গিলাফ। গিলাফের মোট আয়তন ৬৫৮ কেজি।

    উল্লেখ্য যে, প্রতি বছরই সতর্কতাবশতঃ ২সেট গিলাফ তৈরি করা হয়। যাতে একটি নষ্ট হয়ে গেলে অন্যটি পরানো যায়। একটি হাতে তৈরি করা হয় আর অন্যটি (সতর্কতাবশতঃ) মেশিনে তৈরি করা হয়। হাতে কাবা শরিফের গিলাফটি তৈরিতে সময় লাগে প্রায় ৮/৯ মাস। অন্যটি মেশিনে তৈরি করতে সময় ব্যয় হয় এক মাস।

  • ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান

    ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান

    হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজিরা শনিবার আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এবছর প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম পবিত্র হজ পালন করছেন।

    হজের তিন ফরজের মধ্যে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এদিন আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত না হলে হজ হবে না।

    আজ সূর্যোদয়ের পর লাখ লাখ হাজি মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হন। ট্রেনে, বাসে ও হেঁটে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে হাজির হন তারা।

    এসময় লাখো কণ্ঠে ছিল একটাই রব- “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)।”

    আরাফাতের ময়দানে কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করেন। কেউ কেউ যান জাবালে রহমতের কাছে। আবার কেউ কেউ যান মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা শুনতে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা এখানে অবস্থান করবেন।

    এরপর সেখান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন। রবিবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরবেন। এ সময় হাজিরা বড় শয়তানকে পাথর মারবেন, কোরবানি দেবেন, মাথার চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন।

    পাথর নিক্ষেপ পরবর্তী কাজ হলো কোরবানি করা। হাজিরা কোরবানির টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে আগেই জমা দেওয়ায় কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থানে যেতে হবে না।

  • হজের খুতবা দেবেন শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান

    হজের খুতবা দেবেন শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান

    এবছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শাইখ। আজ শনিবার আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরাহ থেকে খুতবা দেবেন তিনি।

    প্রেস এজেন্সি এএসপি সূত্রে জানা যায়, হারামাইন আশ-শরিফাইনের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদ এক রাজকীয় ফরমান জারির মাধ্যমে চলতি বছর আরাফাতের ময়দানে খতিব হিসেবে শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শাইখকে নিয়োগ দেন।

    শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শাইখ সর্বোচ্চ উলামা বোর্ডের সদস্য এবং খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন হাদিস কমপ্লেক্সের প্রধান শাইখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    ১৯৮১ সাল থেকে আরাফার ময়দানের খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দৃষ্টিহীন ইমাম শাইখ আবদুল আজিজ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অবসরে গেছেন। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো হজের খুতবা প্রদান করেন শাইখ আবদুর রহমান আস-সুদাইস। আর ২০১৮ সালে আরাফার ময়দানে হজের খুতবা প্রদান করেন বিচারপতি শাইখ হুসাইন ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হাসান।

  • তাকবিরে তাশরিক পড়ার বিধান আসলো যেভাবে

    তাকবিরে তাশরিক পড়ার বিধান আসলো যেভাবে

    তাকবিরে তাশরিক ও ঈদ-উল-আজহা এক সুতোয় গাঁথা। তাকবিরে তাশরিকের ইতিহাস কুরবানির ঈদের সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িত। মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা ও প্রশংসায় ভরপুর তাকবিরে তাশরিক। কুরবানি বা আত্মত্যাগ হলো মহান আল্লাহর একন্ত আপন হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহর একান্ত প্রিয় হওয়ার ইবাদত পালনকালীন সময়েই তাকবিরে তাশরিকের প্রচলন শুরু হয়।

    তাকবিরে তাশরিক প্রত্যেত হিজরি সালের জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আসর নামাজ পর্যনর্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত পড়া ওয়াজিব। আর এ সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় আত্মত্যাগের অন্যতম ইবাদত কুরবানি।

    তাকবিরে তাশরিকের ৫ দিনের মধ্যে ৩ দিন কুরবানি করা যায়। তাকবিরে তাশরিকের আবশ্যকভাবে পড়া শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে আল্লাহর দুই প্রিয় পয়গাম্বরের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক জড়িত। তাকবিরে তাশরিক যেভাবে শুরু হলো তা জানতে হলে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের জীবনের সেই গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি বিজড়িত ঘটনা উল্লেখ করা প্রয়োজন। আর তাহলো-

    কুরবানির বিধান জারি করে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
    ‘অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইবরাহিম তাকে বলল, হে ছেলে! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে জবাই করছি; এখন তোমার অভিমত কি? সে বলল, হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যধারণকারীর দলভূক্ত পাবেন।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০২)

    হজরত ইবরাহিম আলাইহি সালাম স্বপ্নে প্রাণপ্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইলকে আল্লাহর জন্য কুরবানি করার নির্দেশ পান। আল্লাহর পয়গাম্বর পুত্রকে তার স্বপ্নে বর্ণনা দিলে সন্তান একবাক্যে স্বপ্নে কার্যাদেশ বাস্তবায়নের অভিমত প্রকাশ করেন এবং নিজেকে ধৈর্যধারণকারীদের অন্তর্ভূক্ত পাওয়া যাবে বলেও আশ্বাস দেন।

    হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যখন হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখনই সূচনা হয় এ তাকবিরে তাশরিকের। যা কেয়ামত পর্যন্ত ইসলামে এ তাকবির প্রত্যেক বছর ৫ দিন পড়া ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়।

    তাকবিরে তাশরিকের সূচনা
    হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যখন শিশুপুত্র ইসমাইলকে কুরবানির নির্দেশ পালনে জরার করার জন্য মাটিতে শোয়ালেন, তখন আল্লাহ তাআলা হজরত জিবরিল আলাইহিস সালামকে বেহেশত থেকে দুম্বা নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।

    হজরত ইসমাইলকে জবাই করার আগে হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম যাতে দুম্বা নিয়ে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ছুরির নিচে দুম্বা পৌঁছাতে পারেন এবং তাকবিরের আওয়াজ যেন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কানে আসে, সে জন্য আকাশে থাকতেই আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে থাকেন-
    اَللهُ اَكْبَر – اَللهُ اَكْبَر (আল্লাহু আকবার; আল্লাহু আকবার। অর্থ : আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান)

    অতঃপর হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এ তাকবিরের আওয়াজ শুনে কাপড় দ্বারা আবৃত চোখ খুলে দেখলেন হজরত জিবরিল আলাইহি সালাম আনিত দুম্বা হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের পরিবর্তে কুরবানি হয়ে যায়। তখন তিনি তাওহিদের কালেমা ও তার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে বলেন-
    لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ اَللهُ اَكْبَر (লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার। অর্থ : আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আপনিই শ্রেষ্ঠ)

    হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে তাওহিদের কালেমা ও আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে দেখে হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রশংসা করে বলেন-
    اَللهُ اَكْبَر وَ لِلهِ الْحَمْد (আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। অর্থ : আল্লাহ মহান, সব প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য)

    হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম, হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের তাকবির, তাওহিদের কালেমার প্রশংসা আল্লাহর কাছে এতই পছন্দনীয় হয়ে যায় যে, হজ পালনকারী, কুরবানি দাতাসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য জিলহজ মাসের ৯-১৩ পর্যন্ত এ ৫ দিন তাকবিরে তাশরিক পড়া আবশ্যক হয়ে যায়।

    সুতরাং এ তাকবিরে তাশরিক আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অন্যতম টনিকও বটে। এ তাকবিরে তাশরিকের ভাব-মর্মার্থ ও শিক্ষা নিজেদের মধ্যে লালন করতে পারলেই কুরবানি তথা আত্মত্যাগ সফল হবে।

    তাই মুসলিম উম্মাহর সব প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষ, মুকিম-মুসাফির, গ্রামবাসী-শহরবাসী এবং জামায়াতে কিংবা একাকি নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির উচিত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা। আত্মত্যাগের শিক্ষা ও তাৎপর্য গ্রহণ করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাকবিরে তাশরিকের ইতিহাস জানার পর উল্লেখিত দিনগুলোতে শুকরিয়া হিসেবে এ ওয়াজিব কাজ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করে তার একান্ত নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কুরবানি দিতে পারবেন?

    ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কুরবানি দিতে পারবেন?

    নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কিন্তু ঋণগ্রস্ত। তাহলে ঋণের কারণে তার কুরবানির হুকুম কী? এ ব্যাপারে ইসলামের দিক-নির্দেশনাই বা কি? এ ব্যাপারে ইসলামি স্কলাররা সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

    কোনো ব্যক্তির জন্য যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে কুরবানি ওয়াজিব বা আবশ্যক। সে পরিমাণ সম্পদের মালিক যদি ঋণগ্রস্ত হয় তবে তার কুরবানি দেয়া আবশ্যক কিনা তা নির্ভর করবে ওই ব্যক্তির অবস্থার ওপর। আর তাহলো-

    >> নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যদি ঋণগ্রস্ত হয় তবে দেখতে হবে- ঋণের পরিমাণ কত? কেননা ঋণ পরিশোধ করে দিলে যে সম্পদ থাকবে, তা কি নেসাব পরিমাণ হবে?

    – যদি ঋণ পরিশোধ করে দিলে কুরবানির সময়ে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে তবে ওই ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য কুরবানি আবশ্যক নয়।
    – আর যদি ঋণ পরিশোধ করে দিলেও কুরবানির সময়ে সাময়িক ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে ওই ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্যও কুরবানি আবশ্যক।

    মনে রাখতে হবে, নেসাব পরিমাণ সম্পদ সারাবছর গচ্ছিত বা জমা থাকা আবশ্যক নয়। বরং কুরবানির দিনগুলোতে যদি কারো কাছে ঋণ ও বাৎসরিক খরচ মেটানোর পর অতিরিক্ত অর্থ থাকে তবে তাকে কুরবানি দিতে হবে। আর তাহলো সাড়ে ৭ ভরি সোনা ও সাড়ে ৫২ ভরি রূপা।

    সুতরাং নূন্যতম যার কাছে ৫৫ হাজারের বেশি টাকা অতিরিক্ত থাকবে তার ওপর কুরবানি দেয়া ওয়াজিব।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকদের যথাযথভাবে বিশুদ্ধ নিয়তে কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • কুরবানির জন্য যে কাজগুলো পালন করা জরুরি

    কুরবানির জন্য যে কাজগুলো পালন করা জরুরি

    ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের অন্যতম ইবাদত কুরবানি। কুরবানির মাধ্যমে যে ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছিলেন হজ হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। আর যে আত্মত্যাগের প্রমাণ দিয়েছিলেন হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম। পিতা-পুত্রের দ্বারা সংঘটিত এ ইবাদতকে আল্লাহ তাআলা সম্পদের মালিক মানুষের জন্য জারি রেখেছেন। আর তা হলো কুরবানি।

    কুরবানির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-
    – যে ব্যক্তির কুরবানি করার সামর্থ্য আছে কিন্তু কুরবানি করে না সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরেকে হাকেম)
    – হজরত যায়েদ ইবনে আকরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম বিশ্বনবিকে জিজ্ঞাসা করলেন, কুরবানি কী? বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কুরবানি হলো তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাত। আবার প্রশ্ন করা হলো- এতে আমাদের সাওয়াব কী?
    উত্তরে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘কুরবানির পশুর প্রত্যেকটি পশমের বদলায় একটি করে সাওয়াব রয়েছে। ভেড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘ভেড়ার প্রত্যেকটি পশমের বদলাওয়া একটি করে সাওয়াব রয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ)

    এ কুরবানি আদায়ের রয়েছে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিয়তের পরিশুদ্ধতা আর শরিয়ত নির্দেশিত নিয়মগুলো যথাযথ মেনে তা আদায় করা। কুরবানির ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি তা তুলে ধরা হলো-

    > কুরবানির পশু
    গৃহপালিত পশু- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানি করা। এ ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানি বৈধ নয়।

    > কুরবানির পশুর বয়স
    – উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে।
    – গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর
    – ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে।
    তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানি জায়েজ। উল্লেখ্য যে, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানি জায়েজ হবে না।

    > কুরবানির পশু জবাই
    কুরবানির নির্ধারিত দিনে কুরবানির নিয়তে কেনা পশু কুরবানি করতে না পারলে তা সাদকা করে দিতে। আর তা যদি (সময়ের পরে) জবাই করা হয়ে থাকে তবে পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে।

    > কুরবানির পশুতে ভাগ
    উট, গরু ও মহিষে একাধিক ব্যক্তি মিলে কুরবানি দিতে পারবে। আর ছাগল, ভেড়া, বকরি, দুম্বা দ্বারা এক জনের বেশি কুরবানি দিতে পারবে না। এর ব্যতিক্রম হলে কারো কুরবানি হবে না।

    > পশুর গুণ
    কুরবানির পশু দেখতে সুন্দর, হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম। শারীরিক খুঁত, অঙ্গহানি পশু দ্বারা কুরবানি দেয়া বৈধ নয়।

    > কুরবানির করার যোগ্যব্যক্তি যারা
    প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন সে সব প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যারা ১০ যিলহজ ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে তার জন্য কুরবানি করা আবশ্যক।
    তবে নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানি করলে তা সহিহ হবে।
    আবার নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানি দেয়া অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।

    > কুরবানির জন্য নিসাব
    সাড়ে ৭ ভরি সোনা ও সাড়ে ৫২ ভরি রূপা বা সমপরিমাণ টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম থাকা। যা পরিবার-পরিজন প্রতিপালনের অতিরিক্ত থাকে।
    এমনকি সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক জিনিস-পত্র মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানি ওয়াজিব।

    > নিসাব পরিমাণ সম্পদের স্থায়িত্বকাল
    কুরবানির জন্য নেসাব পরিমাণ সম্পদ পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানির তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানি ওয়াজিব।

    > কুরবানির সময়
    কুরবানি করা যাবে ৩ দিন। আর তাহলো ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত।

    > মুসাফিরের কুরবানির হুকুম
    কুরবানির দিনগুলোতে যে ব্যক্তি মুসাফির থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করে) তার উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।

    > গরিব ব্যক্তি কুরবানি
    দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানি করা ওয়াজিব নয়। যদি কোনো গরিব ব্যক্তি কুরবানির নিয়তে কোনো পশু কিনে তাহলে তা কুরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
    পশু কেনার আগে যদি একা কুরবানির নিয়তে পশু কেনে এবং পশু কেনার পর ইচ্ছা করলেও আর শরিক নিতে পারবে না।

    পক্ষান্তরে কোনো ধনি ব্যক্তি যদি একাকি কুরবানির জন্য পশু কেনার পর শরিক নিতে চায় তবে ধনী ব্যক্তি শরিক নিতে পারবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরবানির বিধানগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।