Category: ধর্ম

  • আল্লাহ যাঁকে অনুমতি দেবেন তিনিই সুপারিশ করতে পারবেন

    আল্লাহ যাঁকে অনুমতি দেবেন তিনিই সুপারিশ করতে পারবেন

    যে ব্যক্তি দয়াময়ের (আল্লাহর) কাছে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে, সে ছাড়া অন্য কারো সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকবে না। (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৮৭)

    তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, কিয়ামতের দিন অপরাধীদের তৃষ্ণাতুর অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে। আলোচ্য আয়াতে সেই সব অপরাধীর অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে শাফাআত বা সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। শুধু ওই ব্যক্তি সুপারিশ করতে পারবে, যে আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু এসব সুপারিশ অবিশ্বাসীদের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

    শাফাআত-এর শাব্দিক অর্থ সুপারিশ, মাধ্যম ও দোয়া বা প্রার্থনা। পারিভাষিক অর্থ হলো, অন্যের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করা। কেউ কেউ বলেছেন, শাফাআত হলো, পাপ ও আজাব থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা। শাফাআতের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ তাআলা। তাঁর অনুমতিক্রমে কিয়ামতের দিবসে শাফাআত অনুষ্ঠিত হবে। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কিয়ামতের ময়দানে কেউ শাফাআত করতে পারবে না। কেননা আখিরাতের আদালতে কোনো শ্রেষ্ঠতম নবী-রাসুল এবং কোনো নিকটতম ফেরেশতাও সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে বিনা অনুমতিতে একটি শব্দও উচ্চারণ করার সাহস পাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কে আছে এমন, যে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে শাফাআত করতে পারবে?’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৫)

    অন্য আয়াতে এসেছে, ‘দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথা তিনি পছন্দ করবেন, সে ছাড়া কারো শাফাআত সেদিন কোনো কাজে আসবে না।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১০৯)

    পরকালের আদালতে মহান আল্লাহর অনুমতিক্রমে যাঁরা শাফাআত করবেন তাঁরা হলেন—নবীগণ, ফেরেশতাগণ, শহীদগণ, আলেম-উলামা, হাফেজে কোরআন ও নাবালেগ সন্তান। তাঁদের শাফাআত কোরআন ও হাদিসের অকাট্য প্রমাণাদি দ্বারা প্রমাণিত। তাঁদের মধ্যে শাফাআতকারীদের সর্দার হলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং আমার শাফাআতই প্রথম গ্রহণ করা হবে। (বুখারি ও মুসলিম) তবে এই শাফাআত পাওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে—এক. আল্লাহ যাঁর শাফাআত গ্রহণ করবেন, তাঁকে প্রথমে তিনি অনুমতি দেবেন। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ শাফাআত করতে পারবেন না। দুই. যিনি শাফাআত করবেন, তাঁর প্রতি আল্লাহকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তিন. যার জন্য শাফাআত করা হবে, তার প্রতি আল্লাহকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে, তার ঈমান থাকতে হবে এবং নামাজ, জাকাত, গরিবদের হক আদায় ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমল করতে হবে।

  • কাবা শরিফ তাওয়াফের ধারাবাহিক নিয়ম

    কাবা শরিফ তাওয়াফের ধারাবাহিক নিয়ম

    কাবা শরিফ তাওয়াফ করা হজ ও ওমরার অন্যতম রোকন। হজ ও ওমরার তাওয়াফ ছাড়াও সারা বছর কাবা শরিফ তাওয়াফ করা অনেক বড় সাওয়াবের কাজ। আল্লাহ তাআলা শুধু তাওয়াফকারীদের জন্য প্রতিদিন ৬০টি রহমত বর্ষণ করেন। হাদিস পাকে এসেছে-
    ‘আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন বাইতুল্লাহ শরিফের ওপর ১২০টি রহমত নাজিল করেন। এ ১২০টি রহমতের মধ্যে শুধু তাওয়াফকারীদের জন্যই ৬০টি রহমত নির্ধারিত।’

    তাওয়াফের ধারাবাহিক নিয়ম

    তাওয়াফের রয়েছে কিছু নিয়ম ও ধারাবাহিকতা। তাওয়াফের সময় তা পালন করাও জরুরি। তাওয়াফ শুরুর উদ্দেশ্যে তালবিয়া পাঠ করতে করতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত যাওয়া।

    >> হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করা। এখানে এসে অনেকে এভাবে তাওয়াফের নিয়ত করেন-
    اَللهُمَّ اِنِّى اُرِيْدُ طَوَافَ بَيْتِكَ الْحَرَامِ سَبْعَةَ اَشْوَاطٍ قَيَسِّرْهُ لِىْ وَ تَقَبَّلْهُ مِنِّىْ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদু তাওয়াফা বাইতিকাল হারামি সাবআ আশওয়াতিন ফা-ইয়াসসিরহুলি ওয়া তাক্বাব্বালহু মিন্নি।‘
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার ঘর সাতবার প্রদক্ষিণে তাওয়াফ করার ইচ্ছা করছি। আমার জন্য তাওয়াফকে সহজ করে দেন এবং আমার তাওয়াফ কবুল করেন।‘

    অতঃপর দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে- بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر (বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার) বলে তাওয়াফ শুরু করা।

    >> মুলতাজেমে দোয়া
    হাজরে আসওয়াদ ও কাবা শরিফে দরজা মধ্যবর্তী স্থান মুলতাজেম। এ স্থান অতিক্রম করার সময় পড়া-
    اَللَّهُمَّ اِيْمَنًا بِكَ و تَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ وَ اِتِّبَعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইমানান বিকা ওয়া তাসদিকান বি-কিতাবিকা ওয়া ওয়াফাআন বি-আহদিকা ওয়া ইত্তিবাআন লিসুন্নাতি নাবিয়্যিকা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’

    >> মাকামে ইবরাহিমে দোয়া
    মাকামে ইবরাহিম অতিক্রম করার সময় এ দোয়া পড়া-
    اَللهُمَّ اِنَّ هَذَا الْبَيْتَ بَيْتُكَ وَالْحَرَامَ حَرَمُكَ وَالْاَمْنَ اَمْنُكَ وَ هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِبِكَ مِنَ النَّارِ فَأَجِرْنِىْ مِنَ النَّارِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্না হাজাল বাইতা বাইতুকা ওয়াল হারাম হারামুকা ওয়াল আমনা আমনুকা ওয়া হাজা মাক্বামুল আয়িজিবিকা মিনান নারি ফা আজিরনি মিনান নার।’

    >> মিজাবে রহমতে পাঠ করার দোয়া
    মিজাবে রহমত তথা রোকনে ইরাকি থেকে হাতিমে কাবা অতিক্রম করার সময় এ দোয়া পড়া-
    اَللهُمَّ اَظِلَّنِىْ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِكَ يَوْمَ لَا ظِلَّ اِلّا ظِلُّكُ وَ لَا بَاقِىَ اِلَّا وَجْهُكَ وَاسْقِنِىْ مِنْ حَوْضِ نَبِيْكَ مُحَمَّدٍ شَرْبَةً هَنِيْئَةً لًّا اَظْمَأُ بَعْدَهَا اَبَدَا
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আজিল্লিনি তাহতা জিল্লি আরশিকা ইয়াওমা লা জিল্লা ওয়া লা বাক্বিয়া ইল্লা ওয়াঝহাকা ওয়া আসক্বিনি মিন হাওদি নাবিয়্যিকা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা শারবাতান হানিয়াতাল লা আজমাউ বাআদাহা আবাদা।’

    >> রোকনে শামি অতিক্রম করার সময় পড়ার দোয়া
    রোকনে শামি থেকে রোকনে ইয়ামেনির দিকে যাওয়ার সময় এ দোয়া পড়া-
    اَللهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الشَّكِّ وَ الشِّرْكِ وَ الشِّقَاقِ وَ النِّفَاقِ وَ سُوْءِ الْاَجْلَاقِ وَ سُوْءِ الْمُنْقَلَبِ فِى الْاَهْلِ وَالْمَالِ وَ الْوَلَدِ
    উচ্চারণ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাশ শাক্কি, ওয়াশশিরকি, ওয়াশশিক্বাকি, ওয়াননিফাক্বি, ওয়া সুয়িল আখলাক্বি ওয়া সুয়িল মুনক্বালাবি ফিল আহলি ওয়াল মালি ওয়াল ওয়ালাদি।’

    >>অতঃপর রোকনে ইয়ামেনিতে পৌছেই এ দোয়া পড়া-

    اَللهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَ الْفَاقَةِ وَ مَوَاقِفِ الْخِزْىِ فِىْ الدُّنْيَا وَالْاَخِرَةِ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাক্বাতি ওয়া মাওয়াক্বিফিল খিযয়ি ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।’

    অতঃপর সম্ভব হলে রোকনে ইয়ামেনি স্পর্শ করা। সম্ভব না হলে দু’হাত কাধ পর্যন্ত ওঠিয়ে সেদিকে ইশারা করে সামনে চলা এবং এ দোয়া পড়া-
    رَبَّنَا اَتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِى الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ – وَاَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ الْاَبْرَارِ – يَا عَزِيْزُ يَا غَفَّارُ – يَا رَبَّ الْعَالَمِيْنَ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আঝাবান নার। ওয়া আদখিলনাল জান্নাতা মাআল আবরার। ইয়া আযিযু ইয়া গাফফার, ইয়া রাব্বাল আলামিন।’

    এভাবে হাজরে আসওয়াদ যাওয়া পর্যন্ত এক চক্কর বা প্রদক্ষিণ সম্পন্ন হবে। এ নিয়মে ৭ চক্কর কিংবা প্রদক্ষিণের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এক তাওয়াফ। এ ছাড়াও হাদিসের অন্যান্য দোয়াগুলোও পড়া যাবে।

    তাওয়াফে আরও করণীয়

    যাদের জন্য কাবা শরিফ তাওয়াফ করা হজ ও ওমরার রোকন, তাদের পুরুষদের জন্য দুটি কাজ করা জরুরি; আর তাহলো- ইজতিবা ও রমল।

    ইজতিবা

    ইহরামের গায়ের চাদরকে ডান বগলের নিচে দিয়ে চাদরের উভয় মাথাকে বাম কাঁধের ওপর দিয়ে এক মাথা সামনে আর অন্য মাথা পেছনে ফেলানো। এটা করা সুন্নাত। তাওয়াফের সময় এভাবে বীর-বাহাদুরি সুলভ ভঙ্গিতে গায়েল চাদর পরিধান করাই হলো ইজতিবা।

    রমল

    ফরজ তাওয়াফের প্রথম ৩ চক্করে রমল করেছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর তাহলো তাওয়াফের সময় মুজাহিদের মতো বীরদর্পে দুই হাত, শরীর ও কাঁধ দুলিয়ে দ্রুত গতিতে চলা।

    রমল করার রহস্য

    মুসলমানদের হিজরতের পর মক্কার মুশরিকরা বলাবলি করতে লাগলো যে, ইয়াসরিবে (মদিনা) হিজরতকারী মুসলমানরা আবহাওয়া ও অন্যান্য কারণে দুর্বল ও রুগ্ন হয়ে গেছে।

    মুশরিকদের এ অহেতুক মিথ্যা অপবাদের প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদেরকে তাওয়াফের সময় প্রথম ৩ চক্করে রমল তথা বীরদর্পে চলার নির্দেশ দেন। তারপর থেকে আজও সে বিধান অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

    নফল তাওয়াফ

    স্বাভাবিক সময়ের তাওয়াফে ইজতিবা ও রমল করার কোনো প্রয়োজন নেই। সাধারণ পোশাকে স্বাভাবিকভাবে হাটার মাধ্যমে তাওয়াফ করা। এ তাওয়াফকারীদের জন্যও ৬০টি রহমত সুনির্ধারিত।

    তাওয়াফকারীদের জন্য ইসতেলাম

    যারা কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন তা ফরজ হোক আর নফল হোক সব তাওয়াফেই ইসতেলাম বা স্পর্শের মাধ্যমে তাওয়াফ শুরু করা। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ তথা চুমু খেয়ে তাওয়াফ শুরু করা। সম্ভব না হলে দূর থেকে হাজরে আসওয়াদের দিকে দু’হাত কাধ বরাবর ওঠিয়ে ইশারা বা ইঙ্গিত করে তাওয়াফ শুরু করা। আর তা ইসতেলাম হিসেবেই সাব্যস্ত হবে।

    মনে রাখতে হবে

    অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ইসতেলাম (স্পর্শ) বা চুমু খেতে না যাওয়াই উত্তম। দূর থেকে ইশারা করে তাওয়াফ সম্পন্ন করা।

    নারীদের ক্ষেত্রে ইজতিবা, রমল ও ইসতেলাম
    নারীদের জন্য ইজতিবা ও রমল নেই। তাওয়াফে যে ভিড় হয়; তাতে হাজরে আসওয়াদ বা রোকনে ইয়ামেনিও স্পর্শ বা চুম্বন নিরাপদ নয়। তাই দূর থেকে ইশারা করে তাওয়াফ সম্পন্ন করা অতি উত্তম।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফে যথাযথ সম্মান ও তাকওয়া অবলম্বন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে হজ করলে মুমিনের অভাব ও গোনাহ থাকবে না

    যে হজ করলে মুমিনের অভাব ও গোনাহ থাকবে না

    হজ ও ওমরা আলোকিত জীবন লাভে মুমিন মুসলমানের অন্যতম ইবাদত। এ ইবাদত পালনে রয়েছে উপদেশ ও নির্দেশ। অভাবি ও পাপী ব্যক্তির জন্য সফলতার অন্যতম উপাদানও হজ-ওমরা। হাদিসে পাকে বিশ্বনবির ঘোষণাও এমন।

    অভাব ও পাপমুক্ত জীবন যাপনে বিশ্বনবির কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো-

    >> হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন, ‘তোমরা হজ ও ওমরা পরস্পর (হজ সম্পাদনের পর ওমরা অথবা ওমরা সম্পাদনের পর হজ) পালন করবে। কেননা তা (হজ ও ওমরা) অভাব-অনটন ও পাপকে দূর করে দেয়, যেমন (কামারের) হাপর লোহার মরিচা দূর করে থাকে।’ (ইবনে মাজাহ)

    >> হজরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা হজ ও ওমরা একটার পর একটা (হজের পর ওমরা অথবা ওমরার পর হজ) আদায় করবে। কেননা তা (হজ ও ওমরা) অভাব ও গোনাহ দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহা, সোনা, রূপার ময়লা দুর করে দেয়। আর মাহরূর হজের বিনিময় জান্নাত ব্যতিত আর কিছুই নয়।’ (ইবনে মাজাহ)

    মুমিন মুসলমানদের জন্য রয়েছে ৩ প্রকারের হজ। উল্লেখিত ফজিলত লাভে তামাত্তু ও কিরান হজের বিকল্প নেই। আর বাকি থাকে একটি হজ। যারা ওমরা ছাড়া শুধু হজই সম্পাদন করেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে হজ ও ওমরা তথা হজে কিরান ও তামাত্তু আদায় করার মাধ্যমে অভাব ওগোনাহমুক্ত জীবন লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • নূরের তৈরি ফেরেশতারা যেভাবে ইবাদত করেন

    নূরের তৈরি ফেরেশতারা যেভাবে ইবাদত করেন

    ফেরেশতা মহান আল্লাহর রহস্যময় এক সৃষ্টি। আল্লাহ অপরিমেয় শক্তির আধার করে সৃষ্টি করেছেন ফেরেশতাকুলকে। একান্ত অনুগত এই বাহিনীর ওপর ন্যস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য জায়গায় ফেরেশতাদের মর্যাদাপূর্ণ বর্ণনা এসেছে। কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুসারে ফেরেশতারা নূরের তৈরি এক বিশেষ সৃষ্টি। তাঁরা সব ধরনের জৈবিক চাহিদা থেকে মুক্ত। মর্যাদা ও দায়িত্বের বিচারে ফেরেশতারা একাধিক শ্রেণিতে বিভক্ত। তাঁদের সংখ্যাও অগণন। তাঁদের সংখ্যা ও শ্রেণি সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁরা বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারেন এবং তাঁদের শক্তি মানুষের স্বপ্নাতীত। প্রধান চার ফেরেশতা হলেন হজরত জিবরাঈল, হজরত মিকাঈল, হজরত আজরাঈল ও হজরত ইসরাফিল (আ.)।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ফেরেশতাদের ‘নিজের অনুগত ও সম্মানিত বান্দা’ হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছে। আল্লাহ এ থেকে পূতপবিত্র। বরং তারা আল্লাহর সম্মানিত বান্দা।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২৬) আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ফেরেশতারা আল্লাহর সম্মানিত বান্দা। তাঁদের মর্যাদা সমুন্নত ও উচ্চ। কথা ও কাজে তাঁরা আল্লাহর পরিপূর্ণ অনুগত। তাঁরা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন না। আল্লাহর আদেশ মান্য করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকেন। বরং আল্লাহর নির্দেশই তাঁদের ক্রিয়াশীল করে এবং তাঁদের কাজের সুযোগ করে দেয়। সৃষ্টিজগতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন ছাড়াও আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকা ফেরেশেতাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোরআন ও হাদিসে তাঁদের ইবাদতের বিভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায়। যেমন—

    তাসবিহ পাঠ : ফেরেশতারা সর্বদা আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকেন। তাসবিহ পাঠের (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা) মাধ্যমে তাঁরা আল্লাহকে স্মরণ করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়, ‘ফেরেশতারা আল্লাহর সপ্রশংস তাসবিহ পাঠ করে।’ (সুরা : আশ-শুরা, আয়াত : ৫) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তারা দিন-রাত তাসবিহ পাঠ করে। তারা ক্লান্ত হয় না।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২০)

    আর ফেরেশতারা আল্লাহর যে তাসবিহ ও পবিত্রতা ঘোষণা করেন, তা নিঃসন্দেহে আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম স্মরণ। হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন জিকিরটি উত্তম? তিনি বলেন, আল্লাহ যা তাঁর ফেরেশতা ও বান্দাদের জন্য নির্বাচন করেছেন—সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি। অর্থ : আল্লাহ পূতপবিত্র এবং সব প্রশংসা শুধু তাঁর জন্যই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৯১৬)

    নামাজ ও সিজদা : হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ এমন একদল ফেরেশতা তৈরি করেছেন, যাঁরা সর্বদা নামাজ আদায় করছেন। তাঁদের কেউ কেউ সিজদারত অবস্থায় রয়েছেন, কেউ রুকুতে রয়েছেন। আর তাঁরা নামাজ আদায় করছেন সারিবদ্ধ হয়ে ও সুশৃঙ্খলভাবে। হজরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা কি সারিবদ্ধ হবে না, যেমন ফেরেশতারা আল্লাহর নিকট সারিবদ্ধ হয়ে থাকে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৫৬)

    হজরত হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ বলেন, আসমানে এমন এক বিঘত জায়গা নেই, যেখানে কোনো ফেরেশতা সিজদা বা নামাজরত নেই। (তিবরানি) আর সুরা সাফফাতের ১৬৬ নম্বর আয়াতে ফেরেশতাদের জবানিতে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আপনার সিজদাকারী।’

    হজ : মানুষের মতো ফেরেশতাদের জন্য রয়েছে কাবা। তাঁরা সেই কাবাঘরের জিয়ারত করেন, তাওয়াফ করেন, হজ পালন করেন। সপ্তম আসমানে অবস্থিত আল্লাহর এই ঘরের নাম বায়তুল মামুর। আল্লাহ তাআলা সুরা তুরে বায়তুল মামুরের কসম করেছেন। ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, বায়তুল মামুর জমিনে অবস্থিত কাবার আকৃতিতে তৈরি আসমানে অবস্থিত একটি ঘর, যেখানে আল্লাহর জিকির হয়। প্রতিদিন সেখানে ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, যাঁরা দ্বিতীয়বার সেখানে প্রবেশ করেন না। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, সহিহ বুখারি ও মুসলিমে প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজ বিষয়ক হাদিসে বলেন, ‘অতঃপর আমাকে বায়তুল মামুরের দিকে উড্ডয়ন করানো হলো, যেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার (ফেরেশতা) প্রবেশ করে। তাদের কেউ দ্বিতীয়বার ফিরে আসে না। অর্থাৎ তারা সেখানে ইবাদত করে এবং এই ঘরের তাওয়াফ করে, পৃথিবীতে মানুষ যেভাবে কাবাঘরের তাওয়াফ করে। বায়তুল মামুর হলো আসমানবাসীর কাবা। হজরত ইবরাহিম (আ.) পৃথিবীতে কাবাঘর তৈরি করার কারণে বায়তুল মামুর প্রাঙ্গণে বিশেষ স্থান লাভ করেছেন।

    আল্লাহর ভয় : যে বান্দা আল্লাহ সম্পর্কে যতটুকু জানে সে আল্লাহকে ততটুকুই ভয় পায়। যেহেতু ফেরেশতারা আল্লাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন, তাই তাঁরা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান। আল্লাহর ভয়ে তাঁরা ভীত ও বিনম্র হয়ে থাকেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে এবং তিনি যা আদেশ করেন তা পালন করে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৫০)

    হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন আল্লাহ আসমানে কোনো নির্দেশ জারি করেন, ফেরেশতারা আল্লাহর ভয়ে তাদের পাখা দিয়ে আঘাত করতে থাকে, যেভাবে পাথরের ওপর শিকল দিয়ে আঘাত করা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৯৫৪)

    আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা আল্লাহর ভয়ে বিনম্র।’    (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২৮)

  • শিশু সন্তানকে বিপদমুক্ত রাখতে বিশ্বনবির দোয়া

    শিশু সন্তানকে বিপদমুক্ত রাখতে বিশ্বনবির দোয়া

    শিশু সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে মা-বাবা সব সময় খুব চিন্তা করেন। চেষ্টা করেন নিরাপদ রাখতে। কেননা বাবা মার কাছে সন্তান মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র আমানত। এ আমনত রক্ষায় তাদের সুন্দর বেড়ে ওঠার পাশাপাশি সব বিপদ-আপদ ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে মুক্ত রাখাও আবশ্যক।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তিই একজন রাখাল এবং সবাই তাদের অধীনস্থদের দায়িত্বশীল। একজন ব্যক্তি তার নিজের পরিবারের জন্য রাখাল এবং তাদের উপর সে দায়িত্বশীল।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    হাদিসের আলোকে সন্তান-সন্ততির দায়িত্বশীল হলেন পিতা। সে আলোকে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তানদের হেফাজতের উপদেশ দিয়েছেন।

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই হজরত হাসান এবং হজরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিরাপত্তার জন্য এভাবে দোয়া করতেন-

    أُعيـذُكُمـا بِكَلِـماتِ اللهِ التّـامَّة، مِنْ كُلِّ شَيْـطانٍ وَهـامَّة، وَمِنْ كُـلِّ عَـيْنٍ لامَّـة
    উচ্চারণ : ‘উয়িজুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি, মিন কুল্লি শায়ত্বানিও ওয়া হাম্মাতি, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লিআম্মাতি।’
    অর্থ : ‘আমি তোমার জন্য আল্লাহর কালেমার সাহায্যে আশ্রয় চাচ্ছি সব ধরনের শয়তান, হিংস্র প্রাণী এবং বদনজরের বিপদ থেকে।’ (বুখারি)

    বিশেষ করে মাগরিবের সময় সন্তানদের ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন বিশ্বনবি-
    হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন রাত ঘনিয়ে আসে, তোমাদের শিশুদের ঘরের ভেতর রাখো। কেননা শয়তান এসময় বেরিয়ে আসে। রাতের কিছু সময় পার হওয়ার পর তোমরা তাদেরকে ছাড়তে পারো।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    সুতরাং সন্তানদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, যাতে শয়তান সন্তানদের কোনো প্রকার ক্ষতি করতে না পারে। সব বাবা মা ও সন্তানের দায়িত্বশীলদের উচিত, সকাল-সন্ধ্যা, ঘরে-বাইরে সন্তানের নিরাপত্তায় দোয়া করা এবং সতর্ক থাকা। সন্তানদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলো শেখানো।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব বাবা-মা ও অভিভাবকদেরকে তাদের সন্তানের হেফাজত করার এবং তাদের প্রতি খেয়াল রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • স্বয়ং রাসুল (সা.) এর দৃষ্টিতে যাঁরা শ্রেষ্ঠ মানুষ

    স্বয়ং রাসুল (সা.) এর দৃষ্টিতে যাঁরা শ্রেষ্ঠ মানুষ

    মহান আল্লাহ এই উম্মতকে সব উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যা তিনি পবিত্র কোরআনেই ইরশাদ করেছেন। সেই হিসাবে শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সব উম্মতই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু রাসুল (সা.)-এর হাদিসেও কিছু লোককে শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিবন্ধে সে ধরনের কিছু হাদিসই উল্লেখ করা হলো।

    যারা কোরআন শেখে ও শেখায় : আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। এ ব্যাপারে মানবজাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে যুগে যুগে তিনি বহু নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের কাউকে কাউকে দিয়েছেন বিভিন্ন সহিফা ও কিতাব। আখেরি ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর তিনি অবতীর্ণ করেছেন মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, যাকে মহান আল্লাহ শ্রেষ্ঠ কিতাবের সম্মানে ভূষিত করেছেন। যাঁরা এই কিতাবের খিদমতে আত্মনিয়োগ করবেন, তাঁরাও শ্রেষ্ঠ। হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০২৭)

    আলেম : আল্লাহর অবতীর্ণ শ্রেষ্ঠ কিতাবের খিদমতে জীবন উৎসর্গকারী সাধারণত আলেমরাই। তাই রাসুল (সা.) তাঁদেরও শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হজরত আবু উমামাহ আল-বাহিলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুজন লোকের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আলোচনা করা হলো। তাঁদের একজন আবেদ (সাধক, অধিক ইবাদতকারী) এবং অন্যজন আলেম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির ওপর আমার যতখানি মর্যাদা, ঠিক তেমনি একজন আলেমের মর্যাদা একজন আবেদের ওপর। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতারা এবং আসমান-জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া ও পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করে, যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৮৫)

    সত্যবাদী : হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলা হলো, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন, প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১৬)

    বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী : একই হাদিসের শেষাংশে রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, সে হলো পূতপবিত্র নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ, যার কোনো গুনাহ নেই, নেই কোনো দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্ম-অহমিকা ও কপটতা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১৬)

    পাওনা পরিশোধে উদার : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.)-এর কাছে কোনো এক ব্যক্তির একটি বিশেষ বয়সের উট পাওনা ছিল। সেই পাওনার জন্য এলে তিনি সাহাবিদের বললেন, তার পাওনা দিয়ে দাও। তাঁরা সেই উটের সমবয়সী উট অনেক খোঁজাখুঁজি করলেন, কিন্তু পেলেন না। অবশ্য তা থেকে বেশি বয়সের উট পেলেন। তখন নবী (সা.) বললেন, তা-ই দিয়ে দাও। তখন লোকটি বলল, আপনি আমার প্রাপ্য পুরোপুরি আদায় করেছেন; আল্লাহ আপনাকেও পুরোপুরি প্রতিদান দিন। নবী (সা.) বললেন, যে পরিশোধ করার বেলায় উদার, সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। (বুখারি, হাদিস : ২৩০৫)

    যে তার পরিবারের চোখে উত্তম : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সে-ই ভালো, যে তার পরিবারের কাছে ভালো। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের চেয়ে উত্তম।

    মৃত ব্যক্তির সমালোচনা বর্জনকারী : এই হাদিসের শেষাংশে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আর তোমাদের কোনো সঙ্গী মৃত্যুবরণ করলে তার সমালোচনা পরিত্যাগ করো। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৯৫)

  • কুরবানির যে বিষয়গুলো জেনে নেয়া জরুরি

    কুরবানির যে বিষয়গুলো জেনে নেয়া জরুরি

    কুরআনের বর্ণনায় কুরবানি আল্লাহর জন্য নির্ধারিত একটি মহান ইবাদত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসুল) আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু শুধুমাত্র বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’

    কুরবানির গুরুত্ব জানতে বিশ্বনবির সে হাদিসটিই যথেষ্ট, তিনি বলেছেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানি করে না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’ (মুসতাদরেকে হাকেম)

    কুরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর তা সামর্থ্যবানদের আদায় করা ওয়াজিব। যে ব্যক্তি কুরবানি আদায়ে সক্ষম থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করবে না, সে ওয়াজিব তরকে গোনাহগার হবে।

    কুরবানির সময়
    কুরবানি আদায় করার জন্য নির্ধারিত দিনক্ষণ ঠিক করা রয়েছে। মোট তিনদিন কুরবানি করা যায়। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কুরবানি করা যায়। তবে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে কুরবানি করাই উত্তম।

    যাদের জন্য কুরবানি ওয়াজিব
    জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ ৩ দিন যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব।
    দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা বা ভরন-পোষণ, খোরাকীর প্রয়োজনে আসে না এমন অতিরিক্ত কিংবা পতিত জায়গা-জমি, বাড়ি-গাড়ি, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য সম্পদ নিসাব হিসেবে গণ্য। আর তা যদি সাড়ে ৭ ভরি সোনা কিংবা সাড়ে ৫২ ভরি রূপার মূল্যের সমান হয় তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব।
    যদি এককভাবে সোনা-রূপা অথবা টাকা নিসাব পরিমাণ না থাকে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত একাধিক বস্তু, সোনা, রূপা ও টাকা একত্রিত করলে সাড়ে ৫২ ভরি রূপা কিংবা সাড়ে ৭ ভরি সোনার দামের সম পরিমাণ হয় তবে ওই ব্যক্তির জন্যও কুরবানি করা আবশ্যক।

    যে সব পশুতে কুরবানি করা যাবে
    যেসব পশু দিয়ে কুরবানি করা যাবে তাহলো- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। তবে এসব পশু হতে হবে গৃহপালিত। তবে হরিণ কিংবা বন্য পশু দ্বারা কুরবানি করা যাবে না।

    পশুর বয়স
    যেসব পশুতে কুরবানি করা যাবে, তার জন্য রয়েছে সর্বনিম্ন নির্ধারিত বয়স। আর তাহলো-
    >> উট : ৫ বছরের হতে হবে।
    >> গরু ও মহিষ : ২ বছরের হতে হবে।
    >> ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা : কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে।
    তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু দেখতে এমন সুস্বাস্থ্য ও সুঠাম দেখা যায় যে, ১ বছরের মতো মনে হয় তবে তা দ্বারাও কুরবানি করা যাবে। তা কোনোভাবেই ৬ মাসের কম হলে চলবে না।
    আর ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে তা দ্বারা কোনো অবস্থাতেই কুরবানি করা যাবে না।’

    পশুতে অংশীদার
    >> উট, গরু, মহিষ : সর্বোচ্চ ৭ মিলে একটি পশু কুরবানি দিতে পারবে। এর বেশি নয়। তবে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য কুরবানির জন্য এককভাবে কুরবানি দেয়ার বিকল্প নেই।
    >> ছাগল, ভেড়া ও দুম্বারে ক্ষেত্রে একাধিক ভাগে কুরবানি দিলে হবে না। তা এককভাবে আদায় করতে হবে।

    যে পশুতে কুরবানি নয়
    গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কুরবানি করতে হয়। আর তা দেখতে সুন্দর, সুস্থ ও সুঠাম দেহের অধিকারী হলে আরো উত্তম। তবে যে পশু দিয়ে কুরবানি বৈধ নয়। তাহলো-
    – কুরবানির স্থানে হেটে যেতে পারবে না এমন পশু দিয়ে কুরবানি করা বৈধ নয়।
    -কোনো পশুর যদি দাঁত না থাকার কারণে খাবার গ্রহণ করতে না পারে তবে তা দ্বারাও কুরবানি বৈধ নয়।
    – গোড়া থেকে ভাঙা শিং-এর গরু যদি মস্তিষ্কে আঘাত পায় তবে তা দ্বারাও কুরবানি বৈধ হবে না।
    – কুরবানির পশুর কান বা লেজ যদি অর্ধেকের বেশি কাটা থাকে তা দিয়েও কুরবানি বৈধ নয়।

    অসিয়তের কুরবানি
    কোনো ব্যক্তি যদি তার পক্ষ থেকে কুরবানির অসিয়ত করে আর টাকা পয়সা থাকে তবে তার কুরবানি আদায় করা ওয়াজিব। অসিয়তকারী যদি মৃতব্যক্তিও হয় তবে তার কুরবানি আদায় করাও আবশ্যক। তবে মৃতব্যক্তির অসিয়তের কুরবানির গোশত ওয়ারিশরা খেতে পারবে না। গরিব-অসহায়দের দান করে দিতে হবে।
    আর মৃতব্যক্তির অসিয়ত না থাকলে যদি ওয়ারিশ মৃতব্যক্তির নামে কুরবানি দেয় তবে তা নফল কুরবানি হিসেবে পরিগণিত হবে। আর তার গোশত নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনরাও খেতে পারবে।

    অন্য ব্যক্তির কুরবানি
    কোনো ব্যক্তির ওপর যদি কুরবানি ওয়াজিব হয়। কিন্তু কুরবানি দেয়ার কোনো অনুমতি না থাকে তবে ওই ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিত অন্য কেউ কুরবানি দিলে তা আদায় হবে না। অবশ্যই সে ব্যক্তির কুরবানি করতে হলে অনুমতি নিতে হবে।
    আর যদি কোনো স্বামী বা পিতা তার স্ত্রী কিংবা সন্তানের অনুমতি না নিয়ে তাদের নামে কুরবানি দেয় তবে তা আদায় হয়ে যাবে। তবে অনুমতি নিয়ে কুরবানি আদায় করা উত্তম।

    কুরবানির হাড়, গোশত ও চর্বি বিক্রি
    যে বা যারা কুরবানি আদায় করবে, তাদের জন্য এ কুরবানির পশুর হাড়, গোশত ও চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা বৈধ নয়। যদি কেউ নিজ কুরবানির গোশত বা চর্বি বিক্রি করে তবে এ অর্থ সাদকা করে দিতে হবে। তবে যদি কোনো টোকাই কিংবা অসহায় ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গোশত, হাড় কিংবা চর্বি সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে ওটা তাদের জন্য বৈধ। কুরবানিদাতার জন্য নয়।

    কুরবানির পশুর গোশতে থেকে পারিশ্রমিক
    কুরবানির পশু থেকে কোনো গোশত কর্মচারি কিংবা কাজের লোককে তাদের পরিশ্রমিক হিসেবে দেয়া যাবে না। গোশত, হাড় কিংবা চর্বি ও চামড়া কোনো কিছুই পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া যাবে না। তবে এসব লোকদেরকে কুরবানির গোশত খাওয়ানো যাবে।

    নির্ধারিত দিনে কুরবানি করতে না পারলে
    কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কারণে ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো কারণে কুরবানির পশু সংগ্রহ করতে না পারে কিংবা কোনো কারণে পশু থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করতে না পারে তবে সে ব্যক্তি কুরবানির পশু না কিনে সে অর্থ গরিব-অসহায়দের সাদকা করে দেবে।
    আর যারা পশু ক্রয় করা সত্ত্বেও কুরবানি করতে পারেনি তারা ওই পশু জীবিত সাদকা করে দেবে।

    মুসাফিরের জন্য কুরবানি
    যে ব্যক্তি কুরবানির দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে তার উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। তবে কুরবানি থেকে বিরত থাকার নিয়তে কুরবানির সময় সফর করা বৈধ নয়।

    গরিব-অসহায়দের কুরবানি
    গরিব কিংবা অসহায় ব্যক্তির উপর কুরবানি করা ওয়াজিব নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানির নিয়তে কোনো পশু ক্রয় করে তবে তা কুরবানি করা ওয়াজিব।

    কুরবানির দিন কখন কুরবানির সময়
    অবশ্যই ঈদের নামাজের পর কুরবানি আদায় করা। যদি কেউ ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করে তবে তার কুরবানি পুনরায় আদায় করতে হবে।

    কুরবানির উদ্দেশ্যে কেনা পশু দ্বারা উপকার গ্রহণ
    কুরবানির উদ্দেশ্যে ক্রয় করা কোনো পশু থেকে উপকার নেয়া যাবে না। যেমন- দুধগ্রহণ করা, হাল-চাষ করা, পরিবহন হিসেবে ব্যবহার করা কিংবা পষম কাটা ইত্যাদি। যদি কেউ একান্তই উপকার গ্রহণ করে তবে সুবিধা গ্রহণ সমমূল্য সাদকা করে দিতে হবে।

    ঋণ করে কুরবানি
    কুরবানি ওয়াজিব এমন ব্যক্তিও ঋণ করে কুরবানি দিলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কুরবানি করা যাবে না।

    কুরবানি আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লেখিত বিষয়গুলো মেনে চলা সবার জন্যই জরুরি। আর তা মেনে চললে কারো কুরবানিই নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ নিয়ম-কানুন মেনে কুরবানি আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • কোরআন তিলাওয়াতের আদব ও শিষ্টাচার

    কোরআন তিলাওয়াতের আদব ও শিষ্টাচার

    কোরআন অন্য কোনো বইয়ের মতো নয়। কোরআন পাঠ করতে হয় যথাযথ ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আদব সহকারে। নিম্নে এর আদবগুলো উল্লেখ করা হলো—

    প্রথম আদব : নিয়ত শুদ্ধ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির মানুষের ওপর আগুনের শাস্তি কঠোর করা হবে বলে জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ওই কারি, যিনি ইখলাসের সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াত করতেন না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৮২; সহিহ ইবন হিব্বান, হাদিস : ৪০৮)

    দ্বিতীয় আদব : পবিত্র হয়ে অজু অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত করা। অজু ছাড়াও কোরআন পড়া যাবে, তবে তা অজু অবস্থায় পড়ার সমান হতে  পারে না।

    তৃতীয় আদব : কোরআন তিলাওয়াতের আগে মিসওয়াক করা। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের মুখগুলো কোরআনের পথ। তাই সেগুলোকে মিসওয়াক দ্বারা সুরভিত করো।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৯১)

    চতুর্থ আদব : তিলাওয়াতের শুরুতে আউজুবিল্লাহ পড়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘সুতরাং যখন তুমি কোরআন পড়বে, তখন আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাও।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৮)

    পঞ্চম আদব : বিসমিল্লাহ পড়া। তিলাওয়াতকারীর উচিত সুরা তাওবা ছাড়া সব সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রমাণিত যে তিনি এক সুরা শেষ করে বিসমিল্লাহ বলে আরেক সুরা শুরু করতেন। শুধু সুরা আনফাল শেষ করে সুরা তাওবা শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ    পড়তেন না।

    ষষ্ঠ আদব : তারতিলের সঙ্গে (ধীরস্থিরভাবে) কোরআন পড়া। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তারতিলের সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াত করো।’ (সুরা : মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ৪)

    সপ্তম আদব : সুন্দর করে মনের মাধুরী মিশিয়ে কোরআন পড়া। বারা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এশার নামাজে সুরা ত্বিন পড়তে শুনেছি। আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কণ্ঠে আর কাউকে তিলাওয়াত করতে শুনিনি।’ (বুখারি, হাদিস : ৭৫৪৬; মুসলিম, হাদিস : ১০৬৭)

    অষ্টম আদব : সুরসহকারে কোরআন তিলাওয়াত করা। এটি সুন্দর করে কোরআন তিলাওয়াতের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সে আমার উম্মত নয়, যে সুরসহযোগে কোরআন পড়ে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৭৫২৭; আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৭১)

    নবম আদব : রাতে ঘুম পেলে বা ঝিমুনি এলে তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ রাতে নামাজ পড়ে, ফলে তার জিহ্বায় কোরআন এমনভাবে জড়িয়ে আসে যে সে কী পড়ছে তা টের পায় না, তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৭২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮২১৪)

    অর্থাৎ তার উচিত এমতাবস্থায় নামাজ না পড়ে বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়া, যাতে তার মুখে কোরআন ও অন্য কোনো শব্দের মিশ্রণ না ঘটে এবং কোরআনের আয়াত এলোমেলো হয়ে না যায়।

    দশম আদব : ফজিলতপূর্ণ সুরাগুলো ভালোভাবে শিক্ষা করা এবং সেগুলো বেশি বেশি তিলাওয়াত করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ কি রাত্রিকালে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াতে অক্ষম? তারা বলল, কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ কিভাবে পড়া যাবে! তিনি বলেন, ‘সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯২২; বুখারি, হাদিস : ৫০১৫)

    একাদশ আদব : ধৈর্য নিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করা। যিনি অনায়াসে কোরআন পড়তে পারেন না, তিনি আটকে আটকে ধৈর্যসহ পড়বেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোরআন পাঠে যে অভিজ্ঞ ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করে, সে সম্মানিত রাসুল ও পুণ্যাত্মা ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকবে। আর যে ব্যক্তি তোতলাতে তোতলাতে সক্লেশে কোরআন তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দ্বিগুণ নেকি লেখা হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৯৩৭; মুসলিম, হাদিস : ১৮৯৮)

    দ্বাদশ আদব : কোরআন তিলাওয়াতের আরেকটি আদব হলো তিলাওয়াতের সময় ক্রন্দন করা। আল্লাহ তাআলা তিলাওয়াতের সময় ক্রন্দনরতদের প্রশংসা করে বলেন, ‘আর তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১০৯)

    আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) আমাকে বলেছেন, আমাকে তুমি তিলাওয়াত করে শোনাও। বললাম, আমি আপনাকে তিলাওয়াত শোনাব, অথচ আপনার ওপরই এটি অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বলেন, আমি অন্যের তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি। অতঃপর আমি তাঁকে সুরা নিসা পড়ে শোনাতে লাগলাম। যখন আমি সুরা নিসার ৪১ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করলাম, তিনি বললেন, ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তাঁর চোখ থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। (বুখারি, হাদিস : ৫০৫০; মুসলিম, হাদিস : ১৯০৩)

    আয়াতটি হলো, ‘যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে উপস্থিত করব তাদের ওপর সাক্ষীরূপে, তখন কী অবস্থা হবে?’

    কাসিম (রহ.) একবার আয়েশা (রা.)-এর কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি দেখেন, আয়েশা (রা.) একটি আয়াত বারবার আবৃত্তি করছেন আর কেঁদে কেঁদে দোয়া করছেন। আয়াতটি হলো, ‘অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আগুনের আজাব থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন।’ (সুরা : তুর, আয়াত : ২৭)

    আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) যখন এ আয়াত তিলাওয়াত করেন, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন। আয়াতটি হলো, ‘আর মৃত্যুর যন্ত্রণা অবশ্যই আসবে, যা থেকে তুমি পলায়ন করতে চাইতে।’ (সুরা : ক্বফ, আয়াত : ১৯)

    আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) যখন এ আয়াতটি পড়তেন, তখনই তিনি কান্নাকাটি করতেন। আয়াতটি হলো, ‘…আর তোমাদের মনে যা আছে, তা যদি তোমরা প্রকাশ করো অথবা গোপন করো, আল্লাহ সে বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮৪)

    মূল কথা হলো, কোরআন তিলাওয়াতের সময় কান্নাকাটি করা এবং চোখে পানি আসা ঈমানের আলামত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোরআনের পাঠকদের মধ্যে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ সর্বোত্তম, যার তিলাওয়াত কেউ শুনলে মনে হয় যে সে কাঁদছে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৩৯)

    ত্রয়োদশ আদব : কোরআন তিলাওয়াতের আরেকটি আদব হলো এর মর্ম নিয়ে চিন্তা করা। এটিই তিলাওয়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদব। তিলাওয়াতের সময় চিন্তা-গবেষণা করাই এর প্রকৃত সুফল বয়ে আনে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা : সদ, আয়াত : ২৯)

    ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞরা লিখেছেন, তিন দিনের কম সময়ে কোরআন খতম করা অনুচিত। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘তিন দিনের কম সময়ে যে কোরআন খতম করবে, সে কোরআন বুঝবে না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩৯৬)

    জায়েদ বিন সাবেত (রা.)-কে একজন জিজ্ঞেস করলেন, সাত দিনে কোরআন খতম করাকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখেন? তিনি বলেন, এটা ভালো। অবশ্য আমি এটাকে ১৫ দিনে বা ১০ দিনে খতম করাই পছন্দ করি। আমাকে জিজ্ঞেস করো, তা কেন? তিনি বলেন, আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করছি। জায়েদ বলেন, যাতে আমি তার স্থানে স্থানে চিন্তা করতে পারি এবং থামতে পারি।’ (মুয়াত্তা মালেক, হাদিস : ৪৭২)

    চতুর্দশ আদব : তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত এলে সিজদা দেওয়া। সিজদার নিয়ম হলো, তাকবির দিয়ে সিজদায় চলে যাওয়া।

    পঞ্চদশ আদব : যথাসম্ভব আদবসহ বসা। আর বসা, দাঁড়ানো, চলমান ও হেলান দেওয়া—সর্বাবস্থায় তিলাওয়াত করার অনুমতি রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমান ও জমিনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে…।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)

  • গণপিটুনি সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

    গণপিটুনি সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

    সম্প্রতি যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তাহলো ‘গণপিটুনি’। ইসলামে গণপিটুনি হারাম ও সবচেয়ে বড় গোনাহের কাজ। ইসলাম কোনোভাবেই গণপিটুনিকে সমর্থন করে না। তা চিরস্থায়ী জাহান্নামে নিক্ষেপ ও কঠিন শাস্তি ভোগের অন্যতম কারণও বটে।

    কোনো মানুষ যদি অপরাধী হয় তবে তার জন্য বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ করতে দেখলেই সবাই মিলে তাকে পেটাতে হবে কিংবা শাস্তি দিতে হবে, ইসলাম এমনটি সমর্থন করে না। বরং ইসলামে রয়েছে অপরাধের শাস্তি প্রদানের সুস্পষ্ট বিধান।

    আর অপরাধী কিংবা নিরাপরাদ যেই হোক না কেন, দেশের আইনেও কোনো মানুষকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা কিংবা যখম করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ দেশব্যাপী মহাসমারোহে চলছে গণপিটুনি। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

    গণপিটুনিতে যারা যেভাবেই অংশগ্রহণ করুক না কেন, সবাই সমান অপরাধী। গণপিটুনি হারাম ও সবচেয়ে বড় গোনাহ। এ সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে রয়েছে সুস্পষ্ট বক্তব্য।

    কুরআন হাদিসে গণপিটুনির শাস্তি ও বিধান
    নিরাপরাধ মানুষের রক্ত আল্লাহর কাছে কত মূল্যবান তা পবিত্র কুরআনের আয়েতে সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে। নিরাপরাধ ব্যক্তি হত্যার পরিণামে আল্লাহ তাআলা অনেকগুলো শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হবেন, তাকে লানত (অভিশাপ) করবেন। আর তার জন্য কঠিন আজাব প্রস্তুত করে রাখবেন।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৯৩)

    এ আয়াতে নিরাপরাধ মানুষের রক্তপাত তথা হত্যার শাস্তির ৫টি ধরণ উল্লেখ করেছেন। অথচ যার একটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট ছিল। হত্যার শাস্তি যে জঘন্য তা প্রমাণেই আল্লাহ তাআলা এ সুস্পষ্ট তাগিদ দিয়েছেন। আর তাহলো-

    >> হত্যার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম।
    >> হত্যাকারী জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবেন।
    >> আল্লাহ হত্যাকারীর ওপর রাগান্বিত হবেন।
    >> আল্লাহ হত্যাকারীর প্রতি লানত তথা অভিশাপ দেবেন।
    >> হত্যাকারীর জন্য থাকবে কঠিন শাস্তি।

    – হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিরাপরাধ মানুষকে হত্যার অপরাধে আল্লাহ তাআলা সব অপরাধীকে এক সঙ্গে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।

    – অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘একজন মুমিনের রক্তের মূল্য কাবা ঘরের চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদার।’

    – বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিন নিরাপরাধ ব্যক্তির রক্তের মূল্যের ব্যাপারে নসিহত করে বলেছেন, ‘৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানের সময়, মাস ও স্থান যতবেশি মূল্যবান; আল্লাহর কাছে মুমিন নিরাপরাধ ব্যক্তির রক্ত আরও বেশি মূল্যবান।’

    ‘যে ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিকে একটি থাপ্পড় দেবে, সেও সমান অপরাধী। যে ব্যক্তি একটি লাথি মারবে সেও সমান অপরাধী। যে ব্যক্তি কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করবে, সেও সমান অপরাধী। আবার যে বা যারা সেখানে থেকে এ দৃশ্য দেখবে কিন্ত প্রতিরোধ করবে না তারাও সমান অপরাধী।’

    এ গণপিটুনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আল্লাহ তাআলা একসঙ্গে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু সাইদ খুদরি ও হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী সবাই মিলিত হয়ে যদি একজন মুমিনকে মেরে ফেলার কাজে শরিক হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে উপুর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ (তিরমিজি)

    এ হাদিসে আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী বলতে কী বুঝানো হয়েছে? জমিনের অধিবাসী হলো সব মানুষ ও জিন এবং আসমানের অধিবাসী বলতে ফেরেশতাদের বুঝানো হয়েছে। যদি তারা সবাই কোনো একজন মানুষকে হত্যার কাজে লিপ্ত হয় তবে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।

    গণপিটুনির বিচারে হাদিসের ওপর হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমল-
    হজরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহির বর্ণনায় এসেছে যে, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ৭ জন ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন। তাদের ওপর কেসাস প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই ৭ ব্যক্তি একজন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল।
    সে সময় মানুষ হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারে অভিযোগ করেছিল যে, এ ৭ জনের কেউ হয়ত হাত কেটেছে, কেউ পা কেটেছে কিংবা কেউ সামান্য যখম করেছে। তাহলে কেন তাদের ৭ জনকে হত্যা করা হবে? (এ ৭ জনের বাড়ি ছিল ইয়েমেনের সানাআ)
    ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মানুষের এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেছিলেন, ‘যদি (ইয়েমেনের রাজধানী) ‘সানাআ’র সব মানুষ মিলে হত্যা করতো তবে আমি সানাআ’র সব মানুষের ওপর কেসাসের হুকুম বাস্তবায়ন করতাম। অর্থাৎ সানাআ’র সব অধিবাসীকে হত্যা করতাম।’ (মুসান্নেফে আব্দুর রাজ্জাক, মুয়াত্তা মালেক)

    মাজহাবের ইমাম, মুহাদ্দিসিনে কেরাম, মুফাসসিরিনে কেরাম ও সাহাবায়ে কেরামের মতামত-
    হজরত ইবনে রুশদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি সব ইমাম, তাফসিরবিদ ও সাহাবাদের পক্ষ থেকে এ মত গ্রহণ করেছেন যে, ‘যদি এক সঙ্গে সারা পৃথিবীর হাজারো মানুষ তথা আসমান ও জমিনের সব অধিবাসী একত্রিত হয়ে কোনো একজন নিরাপরাধ মানুষকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে, তাহলে তাদের সবাইকে কেসাসের অপরাধে হত্যা করা হবে। আর সকলেই হবে সমান অপরাধী।’

    সুতরাং গণপিটুনির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। কোথাও বাস দুর্ঘটনার শিকার হলো কিংবা চুরি সংঘটিত হলো আর তখন বাসের হেলপার, ড্রাইভার বা চোরকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হলো। এমনটি যেন না হয়। কেননা সব অপরাধের জন্যই বিচার ব্যবস্থা রয়েছে।

    মনে রাখতে হবে
    গণপিটুনি কোনো বিচার ব্যবস্থা কিংবা সমাধান নয়, বরং এটি মারাত্মক অপরাধ ও সবচেয়ে বড় গোনাহের কাজ। ইসলাম গণপিটুনিকে হারাম করেছেন। গণপিটুনিতে যে যত বেশি বা কম অপরাধ করুক কিংবা নিরব দর্শক হোক সবাই সমান অপরাধী। গণপিটুনিতে জড়িত কোনো মানুষই জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে না।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অন্যায়ভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে কোনো মানুষকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। কুরআন ও হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। গণপিটুনি হতে দেখলে তা থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাঁচানোর উদ্যোগ গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ফরজ হজ আদায় না করার শাস্তি

    ফরজ হজ আদায় না করার শাস্তি

    হজ একটি ফরজ বিধান। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হজ। ব্যক্তির উপর হজ ফরজ হয়; প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন, যার মালিকানায় নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং নিজের ও পরিবারের বাসস্থান ও ভরণ-পোষণের খরচের অতিরিক্ত এ পরিমাণ টাকা, স্বর্ণ-রূপা বা জমিজমা রয়েছে যা দ্বারা মক্কা শরিফে যাতায়াত ব্যয় এবং হজকালীন সাংসারিক খরচ হয়ে যায়, পবিত্র কুরআন ও হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী তার উপর হজ আদায় করা ফরজ।

    হজ জীবনে একবারই ফরজ হয়। একবার ফরজ হজ আদায়ের পর পরবর্তীতে হজ করলে তা হবে নফল। হজ ফরজ হবার পর তা না আদায় করলে ফরজ ছেড়ে দেয়ার কবিরা গুনাহ হবে। কুরআনের আয়াত- ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ করা ফরজ। আর কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন। (সূরা আলে ইমরান : ৯৭)

    যারা ফরজ হজ আদায় করতে চায় না, তাদের ব্যপারে রাগান্বিত হয়ে হুজুর সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ করার সামর্থ্য রাখে তবুও হজ করে না; সে ইহুদি হয়ে মৃত্যুবরণ করলো নাকি খ্রিস্টান হয়ে, তার কোনো পরওয়া আল্লাহর নেই। (তাফসিরে ইবনে কাসির ১/৫৭৮)