Category: ধর্ম

  • বরিশালে এবার দুর্গাপূজায় ‘আনন্দ’ থাকছে না হিন্দু শিক্ষার্থীদের

    বরিশালে এবার দুর্গাপূজায় ‘আনন্দ’ থাকছে না হিন্দু শিক্ষার্থীদের

    বরিশালে হিন্দু ধর্মের অনুসারি কিশোররা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ও শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনভর ক্লাস করে আসন্ন দুর্গোৎসব কাটাবেন। এতে তাদের পূজার আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হচ্ছে। আগামী ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৮ অক্টোবর দুর্গাপূজা শেষ হবে।

    সরকারের শিক্ষা বিভাগের দিনপঞ্জি ঘেঁটে দেখা গেছে, উৎসবে শিশুদের আনন্দ এমনিতেই একটু বেশি থাকে। কিন্তু এই শিশুরা এবার সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এবার ৪ অক্টোবর থেকে পূজা শুরু হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ থেকে ৯ অক্টোবর।

    অন্যান্য বছর দুর্গাপূজার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি কমপক্ষে একসপ্তাহ থাকলেও এবার মাত্র তিনদিন। অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪ অক্টোবর থেকে ৮ দিনের জন্য পূজার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মাধ্যমিক বিভাগের পূজার ছুটি নিয়ে আপত্তি না থাকলেও প্রাথমিকের ছুটি নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের তীব্র আপত্তি। তারা এই ছুটি ৪ অক্টোবর থেকে ঘোষণা করার জন্য দাবি তুলেছেন।

    এদিকে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে সাধারণত বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ থাকে মেডিকেল কলেজ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এ জন্য উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতিও নেন। কিন্তু এবার মেডিকেল কলেজ (এমবিবিএস কোর্স) ও বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার ঘোষিত তারিখ নিয়ে বিপাকে পড়ছেন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।

    এবার মেডিকেল ও বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা হবে পরপর দুই দিনে। এর মধ্যে আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা। দেশের ১৯টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষা। এর ঠিক একদিন পর ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভর্তি পরীক্ষা আরও কষ্টের। কারণ দুর্গাপূজার প্রথম দিন অর্থাৎ ৪ অক্টোবরে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা। পূজার দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ৫ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা।

    বরিশালের হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক অভিভাবক ও ভর্তিচ্ছুক পরীক্ষার্থী বলেছেন, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা হয় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। আর বুয়েটের পরীক্ষা হয় ঢাকায়। এর ফলে যারা বরিশালে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন তারা বড় সমস্যায় পড়বেন। যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণে তাদের অনেকের বুয়েটে পরীক্ষা দেয়াই কঠিন হতে পারে। এর মধ্যে আবার আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। কাজেই সব বিবেচনায় নিয়ে তারা পরীক্ষা দুটি পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই উৎসবে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা পর্যন্ত শামিল থাকেন। ক্ষেত্র বিশেষে কেউ কেউ পূজা আয়োজনের দায়িত্বেও থাকেন। এ রকম পরিস্থিতি পূজার আনন্দকে মাটি করে দেবে।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মানিক মুখার্জী কুন্ডু বরিশাল ক্রাইম নিউজকে জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর আমার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করি এবং এ সকল বিষয় তাকে অবগত করি। তিনি আমাদের আশ্বাস প্রদান করেছেন এবং বলেছেন এ সকল বিষয় আমি দেখছি।

  • বান্দার যে আমল আল্লাহ কবুল করবেন না

    বান্দার যে আমল আল্লাহ কবুল করবেন না

    একদিন এক লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি দান-সাদকা করি। এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং আমার সম্পর্কে ভালো কিছু বলুক, তা আমি ভালোবাসি।’ তখন আয়াত নাজিল করে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দেন-

    ‘যে ব্যক্তি তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়, সে যেন নেক আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’ (সুরা কাহফ : আয়াত ১১০)

    উল্লেখিত কুরআন ও হাদিসের আলোকে প্রমাণিত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতিত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আল্লাহ ছাড়া ভিন্ন উদ্দেশ্যে আমল করলে সে আমলে নেকিও পাওয়া যাবে না।

    যারা আল্লাহর উদ্দেশ্য কিংবা সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আমল করবে, তারা নিঃসন্দেহে জাহান্নামী। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘আমলের বিনিময়ে যারা দুনিয়ার চাইবে, আমি দুনিয়াতেই তার জন্য যা ইচ্ছা দান করব। তারপর পরকালে তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করবো। তাতে তারা নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে। পক্ষান্তরে যারা (আমলের বিনিময়ে) পরকাল চাইবে এবং মুমিন অবস্থায় তার (পরকালের) জন্য যথারীতি প্রচেষ্টা চালাবে, তাদের প্রচেষ্টা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ১৮-১৯)

    এ জন্যই কুরআন হাদিসে বারবার সতর্কবাণী নাজিল করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আল্লাহর জন্য ছাড়া কোনো আমলের ভালো ফলাফল মিলবে না। হাদিসে এসেছে-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এমন বহু রোজাদার রয়েছে, ক্ষুধা ও পিপাসায় কষ্ট ছাড়া রোজার দ্বারা তাদের আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত জেগে ইবাদতকারী রয়েছে, যারা তাদের ইবাদতের বিনিময় রাত জেগে থাকা ও কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পাবে না।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)

    আল্লাহ তাআলা বান্দার সব আমলের ব্যাপারে খোঁজ নেবেন এবং সে আলোকেই ফয়সালা গ্রহণ করবেন। যেমনটি তিনি কুরআনে পাকে ঘোষণা করেছেন-

    ‘আমি (আল্লাহ) ছাড়া অন্যের সন্তুষ্টির জন্য তারা যেসব আমল (ইবাদত) করেছে, আমি সেসবের খোঁজ নেব, এরপর সে আমলকে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবো।’ (সুরা ফুরকান : আয়াত ২৩)

    সুতরাং আমল করতে হবে শুধু আল্লাহর জন্য। মুখে মুখে আল্লাহর কথা বলে অন্তরে অন্যের জন্য আমল করলে তা ধূলিকণায় পরিণত হবে। এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। তার জন্য প্রস্তুত থাকবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম।

    মুসলিম উম্মাহর উচিত, দুনিয়াতে সব কাজই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা। তবেই দুনিয়ার কল্যাণ পাওয়া যাবে বেশুমর। আর পরকালের কল্যাণ থাকবে সুরক্ষিত। যেমনটি কুরআন-হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে। এর ব্যতিক্রম হলে আল্লাহ তাআলা বান্দার কোনো আমলই কবুল করবেন না।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব কাজ শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার স্বচ্ছলতা, সমৃদ্ধি ও পরকালের সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ‘তোমরা বলো না আমার আত্মা দূষিত হয়েছে, বরং বলো আমার আত্মায় ময়লা পড়েছে’

    ‘তোমরা বলো না আমার আত্মা দূষিত হয়েছে, বরং বলো আমার আত্মায় ময়লা পড়েছে’

    উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বলো না, আমার আত্মা দূষিত হয়েছে বা পচে গেছে। বরং বলো আমার আত্মায় ময়লা পড়েছে।’ (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৩১০)

    ইমাম খাত্তাবি (রহ.) বলেন, হাদিসে ব্যবহৃত ‘খাবুসাত’ হওয়া ও ‘লাকিসাত’ শব্দদ্বয়ের অর্থ এক। কিন্তু প্রথম শব্দটি অধিক নিন্দার্থক। রাসুলুল্লাহ (সা.) মন্দের ভালো বেছে নিতে এই নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অন্যান্য হাদিসবিশারদের মতে, দ্বিতীয় শব্দটি (লাকিসাত) কোনো কিছুর বৈশিষ্ট ও সৌন্দর্য হারানো বোঝায়। দ্বিতীয় শব্দের অর্থ যা-ই হোক না কেন রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেকে মন্দ অভিধায় অভিধিত করতে নিষেধ করেছে। এটাই হাদিসের মূল শিক্ষা। তবে এই আদেশ শিষ্টাচার হিসেবে গণ্য। আদেশসূচক নয়। যদি কেউ নিজের ব্যাপারে মন্দ শব্দ ব্যবহার করে তাহলে শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ করল। হারাম কাজ করল না।

    আল্লামা ইবনে বাত্তাল বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই নির্দেশের কারণ আল্লাহ কর্তৃক মানুষকে সম্মানিত করা। আল্লাহ তাআলা মানুষ সম্মানিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং কোনো মানুষ নিজেকে অসম্মানিত করবে না। এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করবে না যা মানুষের সম্মানের পরিপন্থী। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত হওয়ার ক্ষেত্রে যেহেতু সব মানুষ সমান তাই কারো ব্যাপারেই মন্দ শব্দ ব্যবহার করবে না।

    আল্লামা ইবনে আবি জামরা (রহ.) বলেন, আলোচ্য হাদিসে ব্যবহৃত দুটি শব্দের একটি (খাবুসাত) চূড়ান্ত স্তরের দূষণকে বোঝায় আর দ্বিতীয় শব্দ (লাকিসাত) দূষণের প্রথম স্তরকে বোঝায়। শ্রুতিকটুও বটে। রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বিতীয় শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে বুঝিয়েছেন কারো মন্দ বৈশিষ্ট্য বোঝাতে ‘উদ্দেশ্য’ আদায় হয় এমন সর্বনিম্ন স্তরের (হালকা) শব্দ ব্যবহার করতে হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ের মন্দ বোঝায় এমন শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়।

    তিনি আরো বলেন, এই হাদিসের আরেকটি শিক্ষা হলো, মানুষ নিজের ব্যাপারে ভালো শব্দ ব্যবহার করবে, যেন আল্লাহ তার ভেতর ভালো গুণ সৃষ্টি করে দেন। মন্দ শব্দ পরিহার করবে, যেন আল্লাহ তা দূর করে দেন।

  • একটি বেদনাদায়ক স্থান : যেখানে কেউ যেতে চায় না

    একটি বেদনাদায়ক স্থান : যেখানে কেউ যেতে চায় না

    জীবদ্দশায় কেউ দেখেনি স্থানটি। শুধু শুনেছে যে, সে স্থানটি খুবই ভয়াবহ। শুধু ভয়াবহতার কথা শুনেই আস্তিক কিংবা নাস্তিক কেউ এ স্থানটিতে যেতে চায় না। যে স্থানটিকে না দেখে শুধু শুনেই যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে মানুষ। সে স্থানটি কত ভয়াবহ?

    বলছি জাহান্নামের কথা। যেখানে কেউই যেতে চায় না। মানুষ কীভাবে এ জাহান্নামকে চিত্রায়িত করবে। কীভাবে কল্পনা কিংবা বর্ণনা করবে জাহান্নামের ইতিবৃত্ত কিংবা আদি-অন্ত।

    বর্ণনা কিংবা ইতিবৃত্ত জানা বা দেখার আগেই কেউই এ বেদনায়দায়ক স্থানে যেতে চায় না। জাহান্নাম এমন এক স্থান, যেখানে মানুষের জানার বাইরেও অনেক শাস্তি ও যন্ত্রণা অপেক্ষা করছে।

    মানুষ ব্যাথ্যা, কষ্ট, নির্যাতন ও ক্ষতির সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু জাহান্নামের ব্যাথ্যা, ক্ষতি, কষ্ট কিংবা নির্যাতন দুনিয়ার মতো নয়। আবার এসবের অনুসঙ্গ হাতিয়ার ও কার্যকারীতাও দুনিয়ার মতো নয়।

    দুনিয়াতে মানুষকে নির্যাতন করা হলে কিংবা কষ্ট দিলে মারা যায়। কিন্তু সেখানের ব্যাথ্যা, কষ্ট, নির্যাতন যতই বেশিই হোক না কেন। কষ্ট দেয়ার অনুসঙ্গ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, মানুষ সেসব কষ্ট-নির্যাতনে মৃত্যু বরণ করবে না।

    এ কারণেই মানুষ জাহান্নামের ভয়াবহতা তথা আজাব থেকে বেঁচে থাকতে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। মানুষ তার সব চাহিদার কথা আলাদা আলাদাভাবে আল্লাহ কাছে তুলে ধরে আর শেষে সব আবেদনের সঙ্গে জাহান্নাম কিংবা পরকালের আজাব থেকে মুক্তি লাভে আবেদনটি জুড়ে দেয়। জাহান্নাম কিংবা পরকালের কষ্ট কেউ পেতে চায় না কিংবা কেউ জাহান্নামে যেতে চায় না।

    কারণ কুরআনুল কারিমের অনেক আয়াতে জাহান্নামকে খুবই শক্তিশালী এবং ভয়ংকর হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জাহান্নামের আজাব এবং শাস্তির কথা ২ মিনিটে বলে শেষ করা যাবে না। যে ব্যাথা খুবই মারাত্মক।

    জাহান্নামের আগুন ও আজাব
    জাহান্নামের আগুণের ব্যাথ্যা কখনো শেষ হয় না। যাকে বলা হয় ব্যাথ্যার পর ব্যাথ্যা, যন্ত্রণার পর যন্ত্রণা। অনবরত ব্যাথ্যা ও যন্ত্রণা।

    জাহান্নামের নির্যাতনে চিৎকার, দুঃখ, হতাশা, উদ্বেগ, ভয়, আঘাত, ব্যাথ্যা, ক্ষতি এত ব্যাপক আকার ধারণ করবে যে, মানুষ নিজেকে হত্যা (আত্মহত্যা) করতে চাইবে, কিন্তু সেখানে তা করতেও সামথ্য হবে না।
    সেখানে জাহান্নামিরা মরে যাওয়াকে (মৃত্যুকে) ভালোবাসবে, সেখানে মানুষ তাতেও অব্যাহতি পাবে না।
    হায় আফসোস! হায় আফসোস! হায় আফসোস! জাহান্নামিদের এ অবস্থা শেষ হবে না। তা চলতেই থাকবে।

    মানুষ জাহান্নাম সম্পর্কে এ সামান্য বর্ণনা শুণেই হৃদয়ে আঘাত অনুভব করে। খুব বেশি ভয় পায়। এ বেদনাদায়ক স্থানে কেউ যেতে চায় না।

    মানুষ জাহান্নাম দেখেনি, জাহান্নামের ঘ্রানও পায়নি কিংবা জাহান্নামের গর্জনও শুনেনি। তাহলে শুধু বর্ণনা শুনেই কেন ভয় পাচ্ছে কিংবা খরাপ লাগছে?

    জাহান্নামের বর্ণনা শুনে অন্য কারো জন্য এ খারাপ লাগা নয় বরং নিজের জন্যই খারাপ লাগছে। কেননা কেউই জানে না কে জাহান্নাম থেকে অব্যাহতি পাবে। সুতরাং মহান আল্লাহ কাছে প্রার্থনা-
    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জাহান্নামের এ ভয়াবহতা ও আজাব থেকে রক্ষা করুন। সুন্দর ও অনাবিল শান্তির স্থান জান্নাত দান করুন। আর সব সময় আল্লাহর কাছে এ দোয়া করুন-
    اَللَّهُمَّ اَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَ اَجْرِنَا مِنَ النَّارِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলনাল জান্নাতা ওয়া আঝরিনা মিনান নার।
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদেরকে বেহেশত দান করুন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।

    رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
    উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাতও ওয়া ক্বিনা আঝাবান নার।’
    অর্থ : হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ এবং পরকালের কল্যাণ দান করুন। আর জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।’ আমিন।

  • জুমআর দিনের যে কাজগুলোর ফজিলত ও মর্যাদা বেশি

    জুমআর দিনের যে কাজগুলোর ফজিলত ও মর্যাদা বেশি

    মুসলমানদের সপ্তাহিক ইবাদতের দিন ইয়াওমুল জুমআ তথা শুক্রবার। এ দিন মুসলিম উম্মাহ জুমআর নামাজ আদায়ের জন্য নিজেদের আগে থেকেই প্রস্তুত করে নেয়। জুমআর দিন, আগেও ওপরে এমন কিছু কাজ রয়েছে যে গুলো মেনে চলা জরুরি। আর তাতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও সাওয়াব।

    মুসলিম উম্মাহ প্রত্যেক শুক্রবার জোহরের সময় জুমআর নামাজ আদায় করে থাকেন। জুমআর দিনের গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও মর্যাদা লাভে যথাসময়ে এ কাজগুলো আদায় করা। আর তাহলো-

    >> নখ-মোচ ও অযাচিত পশম কাটা
    প্রত্যেক বৃহস্পতি কিংবা শুক্রবার জুমআর নামাজের আগে উভয় হাত-পা-এর নখ, মোচ, মাথর চুল (বড় হলে) বগল ও নাভীর নিচের অযাচিত লোকগুলো কেঁটে ফেলা।

    >> সুরা কাহফ পড়া
    জুমাআর দিন নামাজের আগে কিংবা পরে সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। এ নামাজ অনেক ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে এসেছে-

    – হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত নূর হবে।

    – হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত করবে, সে আট দিন পর্যন্ত সব ধরণের ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। যদি দাজ্জালও বের হয় তবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্ত থাকবে।

    – অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘এক জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত তার সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। তবে উল্লিখিত গোনাহ মাফ হওয়ার দ্বারা ছোট গোনাহ উদ্দেশ্য। কারণ ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য যে, কবিরা গোনাহ তওবাহ করা ছাড়া মাফ হয় না।’

    >> দোয়া করা
    জুমআর দিনের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট না করা। কেননা জুমআর দিন একটি সময় আছে যে সময়ের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করে নেন। এর মধ্যে অন্যতম সময় হলো আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়।

    >> গোসল করা
    জামআর নামাজের জন্য উত্তমরূপে গোসল করা। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে জুমআর নামাজ পড়বে সে যেন গোসল করে নেয়।

    >> মেসওয়াক করা
    জুমআর দিন নামাজের আগে উত্তমরূপে মেসওয়াক করা। অর্থাৎ জামআর নামাজের উদ্দেশ্যে একটু সময় নিয়ে মেসওয়াক করা। যাতে মুখ থেকে কোনো দুর্গন্ধ বের না হয়।

    >> পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়া
    জামআর নামাজ পড়তে উত্তম ও পরিচ্ছন্ন জামা-কাপড় পরা। জামা-কাপড় পরিপাটি হওয়া।

    >> সুগন্ধি ব্যবহার
    জুমআর নামাজের উদ্দেশ্যে গোসল করে উত্তম পোশাক পরে সুগন্ধি ব্যবহকার করা।

    >> মসজিদে যাওয়া
    জুমআর দিন আগে আগে মসজিদে যাওয়া আবশ্যক। কেননা যে যত আগে মসজিদে যাবে তার জন্য রয়েছে তত বড় ফজিলত। যা উট কুরবানির সাওয়াব দিয়ে শুরু হয়। যার শেষ হয় একটি ডিস সাদকার সাওয়াব দিয়ে।

    >> জুমআর নামাজ
    যথাসময়ে জুমআর নামাজ আদায় করা। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘হে ঈমানদাররা! যখন জুমআর দিন নামাজের জন্য আহ্বান করা। তখন তোমরা ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর স্মরণে (দ্রুতগতিতে মসজিদের দিকে) ধাবিত হও।’

    >> বেশি বেশি দরূদ পড়া
    জুমআর দিন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বেশি বেশি দরূদ পড়া আবশ্যক। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সবদিন অপেক্ষা জুমআর দিনটিই হলো শ্রেষ্ঠ। এ দিনে হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিনেই বিশ্ব ধ্বংসের জন্য শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং এ দিনের পুনর্জীবিত করার জন্য দ্বিতীয়বার ফুঁক দেয়া হবে। আর এ দিন তোমরা আমার প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ কর।

    তোমাদের দরূদ নিশ্চয় আমার কাছে উপস্থিত করা হবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দরূদ আপনার কাছে কেমন করে উপস্থিত করা হবে অথচ আপনি তখন মাটি হয়ে যাবেন?

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, ‌আল্লাহ তাআলা নবিদের শরীর জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বায়হাকি)

    >> মসজিদে হেঁটে যাওয়া
    জুমআর দিন মসজিদে হেঁটে হেঁটে যাওয়া। বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব যতবেশি মসজিদে গমনকারী ওই ব্যক্তির জন্য ততবেশি ফজিলত। কেননা মসজিদের দিকে প্রতিটি পদক্ষেপে বান্দার গোনাহ ক্ষমা করা হয় এবং পদমর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। হাদিসে এসেছে-

    >> ইমামের খোতবা শোনা
    জুমআর দিন গুরুত্বসহকারে ইমামের খোতবা শোনা জরুরি। ইমামের খোতবার সময় নিশ্চুপ থেকে খোতবা শোনার কথা বলেছেন বিশ্বনবি। এমনকি কোনো ব্যক্তি যেন অন্যের কথার বলার সময় তাকে ‘চুপ করুন’ শব্দও না বলে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিনের ফজিলত ও সাওয়াব লাভে উল্লেখিত কাজগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পৃথিবীর সর্বাধিক সংখ্যক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ বাংলাদেশে

    পৃথিবীর সর্বাধিক সংখ্যক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ বাংলাদেশে

    অনলাইন ডেস্ক :

    পৃথিবীর সর্বাধিক সংখ্যক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ বাংলাদেশে ২০১ গম্বুজ মসজিদ। এই মসজিদটির অবস্থান টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে অবস্থিত।

    মিনারের উচ্চতার দিক দিয়ে এই মসজিদটির অবস্থান দ্বিতীয়। মসজিদের ছাদে সর্বমোট ২০১ টি কারুকার্যময় গম্বুজ থাকার কারণে মসজিদটি ‘২০১ গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

    ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মা রিজিয়া খাতুন।

    মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাই নির্মাণাধীন মসজিদের তত্ত্ববাধায়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর মসজিদ কমপ্লেক্সে থাকবে অত্যাধুনিক সব সুবিধা। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পরও মসজিদে সহস্রাধিক ফ্যান লাগানো হবে। সূত্র বলছে, একশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি।

    দ্বিতল এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ১৪৪ ফুট এবং প্রস্থ ১৪৪। দৃষ্টিনন্দন মসজিদের ছাদে অবস্থিত মূল গম্বুজটি উচ্চতায় ৮১ ফুট এবং এই গম্বুজের চারপাশকে ঘিরে ১৭ ফুট উচ্চতার আরো ২০০টি গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের চার কোণায় ১০১ ফুট উঁচু ৪ টি মিনার মিনার রয়েছে।

    এছাড়াও ৮১ ফুট উচ্চতার চারটি মিনার পাশাপশি স্থাপন করা হয়েছে। আর মসজিদের পাশে মূল মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে, যার উচ্চতা ৪৫১ ফুট। ২০১ গম্বুজ মসজিদে এক সঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের সুযোগ রয়েছে। মসজিদের দেয়ালে অংকিত রয়েছে সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ। আর মসজিদের প্রধান দরজা তৈরীতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০ মণ পিতল।

    এছাড়া মসজিদ কমপ্লেক্সে রয়েছে লাশ রাখার হিমাগার, বিনা মূল্যের হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা।

  • মানুষের প্রতি কঠোর হবেন না যে কারণে

    মানুষের প্রতি কঠোর হবেন না যে কারণে

    মানুষের নাজাতের পথ নির্দেশক হলো কুরআন এবং সুন্নাহ। যেখানে দেখানো হয়েছে মুক্তির সহজ পথ। শুনানো হয়েছে শান্তির অভয় বাণী। রয়েছে আল্লাহর রহমত বরকত ও মাগফিরাতের ভরপুর সুসংবাদ। আল্লাহ তাআলা নিজেই দয়ার সাগর, মাগফিরাতের দরিয়া ও করুণার ভাণ্ডার। তাইতো আল্লাহ বান্দাকে উদ্দেশ্য করে ঘোষণা করেন- ‘তোমরা আমার দয়া হতে নিরাশ হইওনা।’

    বর্তমান সময়ে ঊনিশ থেকে বিশ হলে অর্থাৎ সামান্য কারণেও মানুষ অনেক বড় অন্যায় বা জুলুম করে ফেলে। অথচ হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআ`লা বলেন, ‘আমার রহমত আমার রাগকে অতিক্রম করেছে।’ (মুসলিম)

    আল্লাহর রহমত এত বেশি যে রাগ তার রহমত তথা দয়ার কাছে হার মেনে যায়।এ কারণেই বান্দা যত অন্যায় আর পাপই করুক না কেন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে দেরি আল্লাহ ওই বান্দাকে ক্ষমা করতে দেরি করেন না।

    এ জন্য দুনিয়ায় আল্লাহ তাআলার এ গুণটি মানুষের জন্য অনেক বেশি প্রয়োজন। মানুষ যত বেশি দয়া প্রকাশ করবে আর ক্ষমার দৃষ্টিতে চলবে, তার জীবন হবে সফলকাম। যেমনটি ঘটেছিল বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে। সে বিষয়টি আল্লাহ তাআলা কুরআনে তুলে ধরেছেন এভাবে-
    ‘আল্লাহর দয়ায় তুমি তাদের প্রতি হয়েছিলে কোমল হৃদয়, যদি তুমি রূঢ় ও কঠিন অন্তরের হতে, তাহলে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ কর। অতঃপর তুমি কোনো সংকল্প গ্রহণ করলে আল্লাহর ওপর ভরসা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তার উপর) নির্ভরশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৫৯)

    সুতরাং দুনিয়ায় যেসব বান্দা আল্লাহ তাআলার এ ঘোষণার সঙ্গে একমত হবে। মানুষের প্রতি কোমল হৃদয়ের অধিকারী হবেন, কেউ অন্যায় করলে নিজ গুণে আল্লাহর জন্য ক্ষমা করে দেবেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ ওই অপরাধী বান্দাসহ ক্ষমাকারী বান্দার জন্য হয়ে ওঠবেন রহমতের দরিয়া। ক্ষমার সাগর ও করুণার ভাণ্ডার। আল্লাহ বলেন-
    ‘হে আমার বান্দারা! যারা নিজের আত্মার ওপর জুলুম করেছো। (তোমরা) আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হ্ইও না। নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ (তোমাদের) সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সূরা যুমার : আয়াত ৫৩)

    মুসলিম উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় ঘটনা হচ্ছে জাহেলিয়াতের যুগ। যে যুগে মানুষ হত্যা, ব্যভিচার, চুরি, ডাকাতি এবং এ ধরনের বড় বড় গোনাহের কাজে জড়িত ছিলো। আর এ সব অপরাধের কখনো ক্ষমা হবে না বলে ছিলো নিরাশ ও হতাশ।

    তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলার ঘোষণা ছিল এমন যে, যদি তোমরা এসব অপরাধ ত্যাগ করে আল্লাহ আনুগত্যের দিকে চলে এসো, কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালিত করো তবে তোমাদের সব বড় বড় গোনাহগুলোও মাফ হয়ে যাবে।

    অবিশ্বাসী সমাজের গোনাহগারদের জন্য যদি এমন ঘোষণা আসতে পারে তবে আমরা তো মুসলমান। আল্লাহকে বিশ্বাস করি। হয়ত নফসের তাড়নায় ভূলবশতঃ দুনিয়ার মোহে পড়ে অন্যায় কাজে জড়িত হচ্ছি। আমরা যদি আল্লাহর দিকে চূড়ান্ত সংকল্প নিয়ে ফিরে যেতে চাই, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দিয়ে রহমতের কোলে তুলে নেবেন। আর এমন আশা পোষণ করাই হচ্ছে ঈমানের একান্ত দাবি।

    মনে রাখা জরুরি
    এমনটি যেন না হয় যে, হায় হায়, এ লোক গোনাহ করেছে, সে একেবারেই শেষ, জাহান্নামে যাবে.. ইত্যাদি ইত্যাদি…। না এমনটি একেবারেই ঠিক নয়। কারণ অন্যায়ের তুলনায় আল্লাহর রহমতের বিশালতা অনেক বড়।
    বরং যারা কোনো অন্যায় কাজ দেখলে ‘শেষ হয়ে গেছে, কিংবা জাহান্নাম অবধারিত; এসব বলে বেড়ায় তাদের সবচেয়ে বেশি বিপদ। কেননা ওই ব্যক্তিতো জানে না আল্লাহ কাকে ক্ষমা করবেন আর কাকে শাস্তি দেবেন।

    যদি অপরাধী চোখের পানি ছেড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তাওবা করে তবে আল্লাহর রহমতের দরিয়া ঢেউ শুরু হয়ে যায়। তখন আল্লাহ ওই বান্দাকে মাপ করে দেন। হাদিসে এসেছে-
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, বনি ইসরাঈলে দুই বন্ধু ছিল। তাদের একজন পাপ করত, অপরজন খুব ইবাদতগুজার ছিল। ইবাদতকারী সব সময় দেখতো যে, তার বন্ধু পাপ কাজে লিপ্ত। তাই সে বলত বিরত হও। একদিন সে তাকে কোনো পাপে লিপ্ত দেখে বলে, বিরত হও।
    উত্তরে পাপকারী বন্ধু বলল, আমাকে ও আমার রবকে (আমাদের মতো) থাকতে দাও, তোমাকে কি আমার ওপর পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে?
    ফলে ইবাদতকারী বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না, অথবা তোমাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না।
    অতঃপর তাদের উভয়ের রূহ কবজ করা হল এবং তারা উভয়ে আল্লাহর দরবারে একত্র হল।
    আল্লাহ ইবাদতকারীকে বলেন, তুমি কি আমার ব্যাপারে অবগত ছিলে? অথবা আমার হাতে যা রয়েছে তার উপর তুমি ক্ষমতাবান ছিলে?
    আর পাপীকে তিনি বলেন, যাও, আমার রহমতে তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। আর অপর ব্যক্তির জন্য বলেন তাকে নিয়ে যাও জাহান্নামে?’ (আবু দাউদ)

    সুতরাং কাউকে গোনাহ বা অন্যায় করতে দেখলে তাকে হাত ও মুখ দ্বারা বাঁধা দিয়ে নিষেধ করা যাবে। যদি সামর্থ্য না থাকে তবে অন্যায় অপরাধ বন্ধে নিরব বা বিশেষ ভূমিকা পালন করা যাবে। কিন্তু সীমা অতিক্রম করে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না, জাহান্নামে যাবে; এসব বলা কোনোভাবেই সমীচিন নয়। যার পরিনাম অত্যন্ত ভয়াবহ। কেননা আল্লাহ তাআলা যে কাউকে ক্ষমা করার অধিকার রাখেন। আল্লাহ বলেন-
    ‘আর আমাদের জন্য এ দুনিয়ার কল্যাণ লিখে দাও এবং আখিরাতেরও আমরা তোমার দিকে ফিরেছি। উত্তরে বলা হলো- শাস্তি তো আমি যাকে চাই তাকে দিয়ে থাকি, কিন্তু আমার অনুগ্রহ সব জিনিসেরে উপর পরিব্যপ্ত হয়ে আছে। কাজেই তা আমি এমন লোকদের নামে লিখবো যারা নাফরমানি থেকে দূরে থাকবে, জাকাত দেবে এবং আমার আয়াতের প্রতি ঈমান আনবে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৫৬)।

    সুতরাং বান্দার উচিত আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে ভুল হয়ে গেলে তাওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে তার দিকে ফিরে আসা। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা। মানুষের প্রতি কোমলতা প্রকাশ করা। মানুষকে ক্ষমা করা। মানুষের ক্ষমার জন্য পরস্পর দোয়া করা।

    আর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ ছোট্ট হাদিসের শিক্ষায় নিজেদের জীবন গড়া জরুরি। যেখানে তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম মুসলিম সে ব্যক্তি, যার হাত ও জবান থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককে পরস্পরের জন্য রহমত কামনা, দয়া প্রদর্শন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলার কাছে নিজের ও অন্যের ক্ষমার জন্য আবেদন করার তাওফিক দান করুন। রাগ, জিদ কিংবা হিংসা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ২০তম আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন ২৪ জানুয়ারি

    ২০তম আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন ২৪ জানুয়ারি

    বাংলাদেশের ঢাকায় ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক কুরআন তেলাওয়াতের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াত ও ক্বিরাতের পথ প্রদর্শক ইমামুল কুররা হজরত মাওলানা ক্বারি ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহির হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এ সম্মেলন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হবে ২০তম আসর।

    আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থা (ইক্বরা) কর্তৃক আয়োজিত ২০তম আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন-২০২০ আগামী ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার বাদ জুমআ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে।

    বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠকারীদের নিয়ে আয়োজন করা হবে এবারের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন ২০২০। অন্যান্য বছরের মতো বিকেল ৩টা থেকে এ সম্মেলন শুরু হবে।

    ২০তম আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের প্রধান ক্বারি শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আযহারি।

    উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক কুরআন তেলাওয়াত সংস্থার আয়োজনে পিএইচপি ফ্যামেলির পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশসহ মিসর, ইরান, সিরিয়া, আলজেরিয়া, ভারত, ফিলিস্তিন ও ব্রনাই দারুসসালামের বিশ্বসেরা শীর্ষস্থানীয় ক্বারিরা অংশগ্রহণ করবেন।

    বিশেষ করে এ ক্বিরাত সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্বারিদের পাশাপাশি বাংলাদেশের খ্যাতনামা ক্বারি ও শিশুক্বারিরা কুরআন তেলাওয়াত করবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থার (ইকরা) সভাপতি, মা’হাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশের পরিচালক ক্বারি শায়খ আহমদ বিন ইউসুফসহ দেশবরেণ্য ক্বারিরা উপস্থিত থেকে ক্বিরাত পরিবেশন করবেন।

  • আজ কারবালার মরু-প্রান্তরে পৌঁছান ইমাম হুসাইন (আ)

    আজ কারবালার মরু-প্রান্তরে পৌঁছান ইমাম হুসাইন (আ)

    আজ থেকে ১৩৮০ চন্দ্র-বছর আগে ৬১ হিজরির এ দিনে (দোসরা মহররম) কারবালার কালজয়ী বিপ্লবের মহানায়ক হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) বিশ্বের সবচেয়ে করুণ অথচ বীরত্বপূর্ণ ঘটনার অকুস্থল কারবালার মরু-প্রান্তরে এসে পৌঁছেন। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। সর্বোচ্চ ত্যাগের দৃষ্টান্ত রেখে ৮ দিন পর মানবতার শত্রুদের হাতে এখানেই তিনি শাহাদত বরণ করেছিলেন।

    কুফায় নিযুক্ত ইয়াজিদের গভর্নর নিনেভা বা নেইনাভা অঞ্চলের কারবালা প্রান্তরে ইমাম হুসাইনের কাফেলার আগমন সম্পর্কে জানতে পারে। পানি, ঘাস ও দুর্গবিহীন এই শুস্ক এলাকায় কুফাগামী ইমামের কাফেলাকে নিয়ে আসার পেছনে ইয়াজিদ-বাহিনীর জেনারেল হোরের ভূমিকা ছিল। এ রকম একটি এলাকায় ইমামের কাফেলাকে আসতে বাধ্য করার জন্য হোরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

    ইমাম হুসাইন (আ) কারবালায় পৌঁছেই জানতে পারেন ওই এলাকার নাম কারবালা। তখনই তিনি জানান যে, সেখানে তার ও সঙ্গীদের শাহাদাত ঘটবে এবং তাদের নারী ও শিশুদের বন্দি করবে ইয়াজিদ বাহিনী। এ দিনেই তিনি কাইস বিন মাসহারকে দূত হিসেবে কুফায় পাঠান।

    ইমাম তার কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন কুফায় তার সমর্থক নেতাদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু ইয়াজিদের সেনারা কাইসকে পথে গ্রেফতার করে। কাইস ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে শহীদ করা হয়।

    ইবনে জিয়াদ দোসরা মহররম ইমামের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে সে জানায়, তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে ইয়াজিদের প্রতি বায়আত বা আনুগত্যের অঙ্গীকার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এর অন্যথা হলে তাদেরকে হত্যা করতে বলেছেন ইয়াজিদ। ইমাম এ চিঠির জবাব না দিয়ে বললেন, ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।

    জালিম ও মহাপাপিষ্ঠ শাসক ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি মহাবিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন যাতে নানাজান বিশ্বনবী (সা.)’র ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা পায় এবং প্রকৃত ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ খুলে যায়। মদীনা থেকে মক্কায় গিয়ে তিনি ইয়াজিদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এরপর নিরাপত্তার কারণে এবং পবিত্র ও শান্তির নগরী মক্কায় রক্তপাত এড়ানোর জন্য তিনি হজ না করেই ইরাকের কুফার দিকে রওনা দেন।

    উতারো সামান, দেখ সম্মুখে কারবালা মাঠ ঘোড় সোয়ার!

    জ্বলে ধূধূ বালু দোযখের মত, নাই সবজার চিহ্ন আর।

    আকাশে বাতাসে কার হাহাকার? পান্থপাদপ লোহু সফেন,

    আজ কারবালা ময়দানে মোরা দাঁড়ায়েছি এসে হায় হোসেন!

    খুনের দরিয়া দেখেছি স্বপ্নে, কারবালা মাঠে দেখেছি খাব,

    আহাজারি ওঠে দুনিয়া জাহানে, ভাসে আসমানে কোটি বিলাপ;

    হবে সয়লাব দুনিয়া জাহান- শান্ত মক্কা মুয়াজ্জমা;

    জুলুমের তেগ হানবে জালিম গাবে না এখানে উদার ক্ষমা।

    (কবি ফররুখ আহমদের ‘শহীদে কারবালা’ কবিতার অংশ বিশেষ)

    ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন শুনে কুফার দোদুল-মনা লোকেরা তাকে ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দেয়ার ও ইসলামী হুকুমাত কায়েমের মাধ্যমে মদ্যপ, জুয়াড়ি ও ব্যভিচারী ইয়াজিদের প্রজা হওয়ার কলঙ্ক থেকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

    কুফাবাসী’র পক্ষ থেকে ১৮ হাজার চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছে এবং প্রতিটি চিঠির মধ্যে ১০০ জনের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু প্রয়োজনের সময় কারবালায় খুব কম লোকই তাকে সহায়তা দিয়েছে। ফলে ইয়াজিদের প্রায় ত্রিশ হাজার সদস্যের সুসজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ থেকে ১৪০ জন সঙ্গী নিয়ে তিনি বীরের মত লড়াই করে শহীদ হন।

    এই অসম লড়াইয়ে তার পরিবারের অনেক সদস্যসহ ৭২ জন সঙ্গী শহীদ হন। কারবালা বিপ্লব মুসলমানদের মধ্যে প্রকৃত ইসলামের চেতনা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। আর এ জন্যই বলা হয়: ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কি বাদ। অর্থাত প্রতিটি কারবালার পরই জীবিত হয় ইসলাম।

    ইমাম হুসাইন (আ.) মনে করতেন তার শাহাদত ও রক্তদান ছাড়া যদি ইসলাম পুনরুজ্জীবিত না হয় তাহলে শাহাদতই উত্তম এবং ইয়াজিদের মত শাসক যদি বিনা বাধায় ও আপত্তিতে ‘ইসলামী সমাজের নেতা’ হন তাহলে ইসলাম চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। সত্যের পথে শাহাদত মধুর চেয়েও মিষ্টি এই সংস্কৃতি চালু করে গেছেন কারবালার বীর শহীদরা। ইসলামকে আর কোনো কিছুই এত প্রাণ ও মর্যাদা দেয় না যা দেয় শাহাদত। কবি নজরুলের ভাষায়: আঁজলা ভরে আনলো কি প্রাণ কারবালাতে বীর শহীদান

  • মুহররম মাসে যে ইসতেগফারগুলো পড়া খুব বেশি জরুরি

    মুহররম মাসে যে ইসতেগফারগুলো পড়া খুব বেশি জরুরি

    হিজরি নতুন বছরের প্রথম মাস মুহররম। এ মাসটি প্রসিদ্ধ ও সম্মানিত ৪ মাসের একটি। এ মাসটিকে আল্লাহ নিজের মাস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ মাসের সঙ্গে রয়েছে ক্ষমার বিশেষ গুরুত্ব।

    এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা ও তাওবা ইসতিগফারের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই মাসব্যাপী আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত আবশ্যক।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মুহররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

    তাওবা ও ইসতেগফারের জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো কুরআন-হাদিসে বর্ণিত ইসতেগফার বিষয়ক দোয়াগুলো বুঝে বুঝে পড়া। এ দোয়াগুলোর মাধ্যমে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন।

    তাওবা-ইসতেগফারের ছোট ছোট দোয়াগুলো তুলে ধরা হলো-

    رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

    অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন তাহলে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

    وَ اِلَّا تَغْفِرْ لِیْ وَ تَرْحَمْنِیْۤ اَكُنْ مِّنَ الْخٰسِرِیْنَ
    উচ্চারণ : ‘ওয়া ইল্লা তাগফিরলি ওয়া তারহামনি আকুম মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৪৭)
    অর্থ : (হে আমার প্রতিপালক!) আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তাহলে আমিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

    رَبِّ اِنِّیْ ظَلَمْتُ نَفْسِیْ فَاغْفِرْ لِیْ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি জ্বালামতু নাফসি ফাগফিরলি।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)
    অর্থ : হে আমার রব! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।’

    لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ ، اِنِّیْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ
    উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জ্বালিমিন।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৭)
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি সব দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অপরাধী।’

    رَبَّنَا اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ یَوْمَ یَقُوْمُ الْحِسَابُ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪১)
    অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! হিসাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিন আমাকে, আমার বাবা-মা ও সব ঈমানদারকে আপনি ক্ষমা করে দিন।’

    رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِمَنْ دَخَلَ بَیْتِیَ مُؤْمِنًا وَّ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ
    উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিমান দাখালা বায়তি মুমিনাও ওয়ালিল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি।’ (সুরা নুহ : আয়াত ২৮)
    অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে, আমার বাবা-মাকে এবং প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকেও ক্ষমা করে দিন, যে মুমিন অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করেছে আর সমস্ত মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকেও।’

    رَبِّ اغْفِرْ وَ ارْحَمْ وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খায়রুর রাহিমিন।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১১৮)
    অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’

    رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা খায়রুর রাহিমিন।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৯)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’

    رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ، رَبَّنَا وَ اٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰی رُسُلِكَ وَ لَا تُخْزِنَا یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ، اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِیْعَادَ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সায়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মাআল আবরার, রাব্বানা ওয়া আতিনা মা ওয়াআত্তানা আলা রুসুলিকা ওয়া লা তুখযিনা ইয়ামাল ক্বিয়ামাতি, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিআদ।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩-১৯৪)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আমাদের মন্দসমূহ মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের মধ্যে শামিল করে নিজের কাছে তুলে নিন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সেই সবকিছু দান করুন, আপনি যার প্রতিশ্রুতি আপনার রাসুলদের মাধ্যমে আমাদের দিয়েছেন। আমাদের কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনও প্রতিশ্রুতি বিপরীত করেন না।’

    رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا، رَبَّنَا وَ لَا تَحْمِلْ عَلَیْنَاۤ اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا، رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖ، وَ اعْفُ عَنَّا، وَ اغْفِرْ لَنَا، وَ ارْحَمْنَا، اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَ
    উচ্চারণ : রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন নাসিনা আও আখত্বানা, রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরাং কামা হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিং ক্বালিনা, রাব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাক্বাতা লানা বিহি, ওয়াফু আন্না, ওয়াগফিরলানা, ওয়ারহামনা, আংতা মাওলানা ফাংচুরনা আলাল ক্বাউমিল কাফিরিনা।’ (সুরা বাক্বারা : আয়াত ২৮৬)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের দ্বারা যদি কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়, আপনি সে জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন না।

    হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি সেই রকমের দায়িত্বভার অর্পণ করবেন না, যেমন (দায়িত্বভার) অর্পণ করেছিলেন আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি।

    হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন ভার চাপিয়ে দিবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।
    আপনি আমাদের দোষসমূহ ক্ষমা করে দিন। আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।’

    رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ قِنَا عَذَابَ النَّارِ
    উচ্চারণ : রাব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৬)
    অর্থ : হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনার প্রতি আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদের গোনাহসময় ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি দিন।’

    رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ اِسْرَافَنَا فِیْۤ اَمْرِنَا، وَ ثَبِّتْ اَقْدَامَنَا وَ انْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফি আমরিনা, ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানা ওয়াংচুরনা আলাল ক্বাউমিল কাফিরিন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৭)
    অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আমাদের গোনাহসমূহ এবং আমাদের কাজে যে সীমালঙ্ঘন ঘটে গেছে তা ক্ষমা করে দিন। আমাদের জনপদকে দৃঢ়পদ রাখুন এবং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয় দান করুন।’

    اللهُمّ أَنْتَ الْمَلِكُ، لَا إِلهَ إِلّا أَنْتَ، أَنْتَ رَبِّي، وَأَنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي، وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا، إِنّهُ لَا يَغْفِرُ الذّنُوبَ إِلّا أَنْتَ.
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতাল মালিকু, লা ইলাহা ইল্লা আংতা, আংতা রাব্বি, ওয়া আনা আবদুকা, জ্বালামতু নাফসি, ওয়াতারাফতু বিজাম্বি, ফাগফিরলি জুনুবি ঝামিআ, ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লা আংতা।’ (মুসলিম, আবু দাউদ)
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনিই অভিভাবক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনিই আমার প্রতিপালক। আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করছি। সুতরাং আমার সব গোনাহ ক্ষমা করে দিন। আপনি ছাড়া গোনাহ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই।’

    اللّهُمّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يَغْفِرُ الذّنُوبَ إِلّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِيْ إِنّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرّحِيمُ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি জ্বালামতু নাফসি জুলমান কাছিরা, ওয়া লা ইয়াগফিরুজ্‌জুনুবা ইল্লা আংতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইংদিকা, ওয়ারহামনি ইন্নাকা আংতাল গাফুরুর রাহিম।’ (বুখারি, মুসলিম)
    অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া আমার গোনাহসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই। আপনি নিজে থেকেই আমাকে পরিপূর্ণ ক্ষমা দান করুন। আর আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, দয়াময়।’

    أَسْتَغْفِرُ اللهَ الّذِي لَا إِلهَ إِلّا هُوَ الْحَيّ الْقَيّوم، وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
    উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ)

    অর্থ : ‘আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি সেই আল্লাহর কাছে, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক। আমি তার কাছে তাওবা করছি।’

    رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَتُبْ عَلَيّ، إِنّكَ أَنْتَ التّوّابُ الرّحِيمُ
    উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়াবুর রাহিম।’ (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)
    অর্থ : হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন। আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি তাওবা কবুলকারী, দয়াময়।’

    أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’ (বুখারি)

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো প্রভু নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই।’

    সর্বোপরি এ দোয়াটি বেশি বেশি করা-
    اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা; ওয়াত তুক্বা; ওয়াল আ’ফাফা; ওয়াল গেনা।
    অর্থ : হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে হেদায়েত কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা পরহেজগারি কামনা করি এবং আপনার কাছে সুস্থতা তথা নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ তথা সামর্থ্য কামনা করি। (মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুহররম মাসে ক্ষমা লাভে বেশি বেশি তাওবা ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। গোনাহ ও অন্যায় কাজ থেকে সঠিক পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।