Category: ধর্ম

  • বরিশালে বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

    বরিশালে বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

    রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশালে বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে নগরীতে মঙ্গল শোভাযাত্রা, অঞ্জলী প্রদান, সকলের জন্য মঙ্গল প্রার্থনা সহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে নগরের স্বরোড কাঠের আসবাব প্রস্ততকারক ব্যবসায়ী সমিতি।

    আজ বুধবার (১৮ই) সেপ্টেম্বর সকাল ১ টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বরিশাল ধর্মরক্ষণী সভার সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি প্যানেল মেয়র এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন,বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল,সংরক্ষিত কাউন্সিলর কহিনুর বেগম ও মহানাম স¤প্রদায় সহ-সভাপতি অধ্যাপক গৌরঙ্গ কুন্ড,সুরঞ্জিত দত্ত লিটু, বিশ্বজিৎ ঘোষ বিষু,নারায়ন চন্দ্র দে নাড়– প্রমুখ।

    পরে শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন ঢোল-বাজনা বাজনা, নিয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্বরোড পূজা আশ্রমে গিয়ে শেষ করেন।

    এছাড়া বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে দিনব্যপি অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মঙ্গলঘট স্থাপন, পূজা আরম্ভ, অঞ্জলী প্রদান সহ সকলের জন্য মঙ্গল প্রার্থনা ও সন্ধায় মহানাম স¤প্রদায়ের পূজারী সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তারা।

  • যে আয়াত থেকে কাজের অনুপ্রেরণা পায় মানুষ

    যে আয়াত থেকে কাজের অনুপ্রেরণা পায় মানুষ

    মানুষের অনুপ্রেরণা লাভের অন্যতম মাধ্যম মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। আল্লাহ তাআলা মানুষের অনুপ্রেরণা লাভের জন্য এ কিতাব নাজিল করেছেন। এ কিতাবেই আল্লাহ ঘোষণা করেছেন তিনি নিজে সব সময় কাজে রত। আল্লাহ তাআলা সব সময় কাজে ব্যস্ত’-এ কথা থেকে বান্দাকে কি বুঝাতে চেয়েছেন?

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার আনুগত্য করার নির্দেশ দিচ্ছেন। মানুষ যখনই আল্লাহর আনুগত্য করবে তখনই সে দুনিয়া ও পরকালে থাকবে নিরাপদ ও চিন্তামুক্ত। আর এ জন্যই তিনি মানুষকে আনুগত্য তথা কাজের নির্দেশ দিচ্ছেন।

    মানুষ কাজের মাধ্যমে মর্যাদা ও সম্মান লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা নিজেও বসে নেই। তিনি নিজেও সদা সর্বদা কাজে ব্যস্ত। সুতরাং যেসব মানুষ সব সময় নিজেকে কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত রাখে, মূলত সে ব্যক্তি আল্লাহর রঙে নিজেকে রঙিন করতে থাকে।

    কুরআনুল কারিমের ছোট্ট একটি আয়াতে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। যারা এ আয়াতকে ফলো করবে তারাই সব সময় নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখতে অনুপ্রেরণা লাভ করবে। আর তাহলো-
    ‘আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তার (আল্লাহর) কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। তিনি প্রতি মুহূর্তেই কাজে রত।’ (সুরা আর-রহমান : আয়াত ২৯)

    এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার প্রতি সাহায্য প্রার্থনার ইঙ্গিত দিয়েছেন আবার তিনি নিজে কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে এ কথা বুঝিয়েছেন যে, হে মানুষ! তোমরা নিজেরা অলস থেকো না, নিজেদের কাজে নিয়োজিত রাখ।

    আল্লাহ তাআলা বিশাল সৃষ্টিজগত পরিচালনায় সদা সর্বদা ব্যস্ত। তিনি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। একটু দৃষ্টি প্রসারিত করলেই মানুষ তা দেখতে পাবে। তাফসিরে আহসানুল বয়ানে আল্লাহর কাজের বর্ণান এভাবে তুলে ধরা হয়েছে-
    ‘তিনি কাউকে রোগ থেকে সুস্থ করছেন। আবার কাউকে রোগ দিয়ে পরীক্ষা করছেন। কাউকে সম্পদ দিয়ে ধনী বানাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো ধনীকে গরিবে পরিণত করছেন। কাউকে রাজত্ব দান করছেন আবার কারো কাছ থেকে রাজত্ব কেড়ে নিচ্ছেন। কাউকে মর্যাদায় উন্নীত করছেন আবার কাউকে অধঃপতনে নিপতিত করছেন। কাউকে সত্যের সন্ধান দিচ্ছেন আবার কাউকে নাস্তিকে পরিণত করছেন। মোট কথা দুনিয়ার সব কাজই তার ইচ্ছা এবং নির্দেশেই ঘটছে।

    দিন ও রাতের এমন কোনো মুহূর্ত নেই যে সময় তিনি কোনো কাজ থেকে অবসর থাকেন। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা নিজের ব্যাপারে আয়াতুল কুরসিতে ঘোষণা করেন-
    ‘আল্লাহ;তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর ধারক। তাকে তন্দ্রা বা ঘুম স্পর্শ করতে পারে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তার জন্য।’

    মানুষ একটু চিন্তা করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠবে-
    পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন দিন আর মানুষ কর্মে ব্যস্ত ঠিক ওই মুহূর্তে পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে রাত আর মানুষ সেখানে ঘুমায়। আবার কোথাও নামাজের সময় মানুষ আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছে। আবার কোথাও মানুষ আল্লাহর নাফরমানি করছে।

    আল্লাহ তাআলা দিন-রাতের এ সময়ে কাজ কিংবা ঘুমে, আবার ইবাদত কিংবা নাফরমানিতে প্রত্যেককেই পরিচালিত করেন। সবার আবেদন শুনেন। যার যার চাহিদা মোতাবেক যেখানে যা প্রয়োজন, তা-ই দিচ্ছেন।

    কোথাও যখন ঘূর্ণিঝড় কিংবা মরুভূমির ধুলিঝড় শুরু হয় তখন মানুষ আল্লাহর কাছে বাঁচার আর্তনাদ করে বলে ওঠে- হে আল্লাহ!। আল্লাহ তখন বান্দাকে তা থেকে রক্ষা করেন।

    আবার মানুষ যখন চরম বিপদ-আপদে পতিত হয় কিংবা মানুষের কোনো পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে নিরাশায় ভোগেন তখনও মানুষ ডাকে হে আল্লাহ!। আল্লাহ সে সময় মানুষকে তার রহমতের কোলে তুলে নেন।

    এভাবেই আল।লাহ তাআলা কাউকে সম্মান দান করেন, আবার কাউকে কারণবশতঃ অপমানিত করেন। কাউকে নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে জীবনদান করেন আবার কাউকে মৃত্যু দেন।

    এভাবেই আল্লাহ তন্দ্র ও ঘুমহীন অবিরাম কাজে রত আছেন। আর এ কথা বলা হয়েছে সুরা আরহমানের ২৯নং আয়াতে।

    এ আয়াতই মানুষকে সব সময় কাজে থাকার অনুপ্রেরণা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে প্রার্থনা করার। তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা দেয়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা আর-রহমানের এ ছোট্ট আয়াতটি থেকে শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা লাভ করে সব সময় গঠনমূলক কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • নামাজের জামাআতে ইমামকে সেজদায় পেলে কী করবেন মুসল্লি?

    নামাজের জামাআতে ইমামকে সেজদায় পেলে কী করবেন মুসল্লি?

    মসজিদে জামাআতে নামাজ পড়তে গেলে অনেক সময় দেখা যায়, ইমাম সাহেব রুকু শেষ করে সেজদায় চলে গেছেন। ইমামকে যদি সেজদায় চলে যায়, তবে সে সময় মুসল্লির করণীয় কী? মুসল্লি কি ইমামের দাঁড়ানোর অপেক্ষা করবে? নাকি সেজদায় অংশগ্রহণ করবে?

    কেননা এসব ক্ষেত্রে মসজিদে অধিকাংশ মুসল্লিদের দেখা যায় যে, ইমামকে সেজদায় পেলে তারা পরবর্তী রাকাআত শুরুর অপেক্ষা করতে থাকে। ইমাম সেজদা শেষ করে দাঁড়িয়ে নতুন রাকাআত শুরু করবে কিংবা বৈঠকে বসবে। তারপর মুসল্লি ইমামের সঙ্গে নামাজে যোগ দেবে।

    ইমামকে সেজদায় পেয়ে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ না করার একটা বিশেষ কারণ হলো-

    মুসল্লিরা মনে করেন যে, ইমামকে রুকুতে পেলে মুসল্লি ওই রাকাআতটা পেয়ে যাবে এবং সে রাকাআত হিসাবে চলে আসবে। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

    ‘যে ব্যক্তি ইমামকে রুকুতে পেলো সে (ওই) রাকাআতটি পেয়ে গেলো।’

    সুতরাং ইমাম যদি রুকু শেষ করে সেজদায় চলে যান তবে ইমামের সঙ্গে সেজদায় যোগ দিলে আপাত দৃষ্টিতে মুসল্লির লাভ হচ্ছে না, কারণ তার ওই রাকাআত তো হিসেবে আসবে না। তাই সেজদায় গিয়ে লাভ কী? সে জন্য মুসল্লিরা ইমামের সেজদা শেষ করে নতুন রাকাআত শুরুর জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।

    আসলে মুসল্লিদের এই যে ধারণা বা অভ্যাস; এটি আসলে ঠিক নয় বরং এ ধারণা বা অভ্যাসটি ভুল। মুসল্লিদের সেজদায় না গিয়ে অপেক্ষা করা এ জন্য ভুল যে, যদিও সেজদায় গেলে ওই রাকাআত হিসাবে আসবে না ঠিক; কিন্তু সেজদায় অংশগ্রহণ করলে অনেক সাওয়াব পাওয়া যাবে।

    অপেক্ষা করলে কিন্তু কোনো সাওয়াব পাওয়া যাবে না কিন্তু সেজদায় অংশগ্রহণ করলে বিপুল পরিমাণ সাওয়াব লাভের সুযোগ থেকে যায়। একটি সেজদা করলেও একটি ইবাদত হয়ে যাবে।

    সেজদা সম্পর্কে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বান্দা যখন সেজদায় যায়, তখন সে আল্লাহর একেবারেই কাছে অবস্থান করে।’

    এক কথায় মহান আল্লাহর একান্ত প্রিয় হওয়ার এবং নৈকট্য লাভের একমাত্র মোক্ষম সুযোগ হলো ‘সেজদা’।

    সুতরাং রাকাআত হিসাবে আসুক আর না আসুক, ইমামের সঙ্গে যদি একটি কিংবা দুটি সেজদা দেয়ার সুযোগ থাকে তবে সে সেজদায় অংশগ্রহণ করায় মুসল্লির জন্য রয়েছে কল্যাণ ও বরকত।

    কেননা মুসল্লি এই একটি কিংবা দুটি সেজদার মাধ্যমে মহান আল্লাহর একান্ত কাছে চলে যাওয়ার কিংবা তার নেকট্য অর্জনের সুযোগ পেয়ে যায়।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক সাহাবি জানতে চান, হে আল্লাহর রাসুল! আমি জান্নাতে আপনার একান্ত সান্নিধ্যে থাকতে চাই, তা কীভাবে সম্ভব? কোন কাজে এ সৌভাগ্য অর্জন করতে পারবো?

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন-

    ‘তুমি বেশি বেশি সেজদা করে আমাকে সাহায্য কর। অথ্যাৎ তুমি যদি বেশি বেশি সেজদা কর, তবে জান্নাতে আমার সঙ্গে থাকতে পারবে।’

    আবার সেজদা এমন এক ইবাদত। যা আসলেই সংখ্যায় গণনা করা যায়। কারণ নামাজের সেজদা আর কুরআন তেলাওয়াতের সেজদা ছাড়া মানুষের তেমন অতিরিক্ত সেজদা করা হয় না।

    তাই কেউ যদি জামাআতে নামাজ পড়তে এসে ইমামকে সেজদায় পায়, তবে মুসল্লির উচিত তখনই ইমামের সঙ্গে গিয়ে সেজদায় অংশগ্রহণ করা।

    এ সেজদার মাধ্যমে আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের পাশাপাশি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জান্নাতে থাকার সৌভাগ্য লাভ হবে।

    সুতরাং মসজিদে যাওয়ার পর মানুষের উচিত, ইমাম সেজদায় থাকুক কিংবা বৈঠকে থাকুক, ইমামের সঙ্গে নামাজে অংশগ্রহ করা। আর এতে যতক্ষণ ইমামের সঙ্গে নামাজে থাকা যাবে ততক্ষণই পাওয়া যাবে কল্যাণ ও সাওয়াব।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জামাআতে এসেই ইমামকে যে অবস্থায়ই পাবে সে অবস্থায় অংশগ্রহণ করে সাওয়াব ও কল্যাণ লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে ১০ জিনিস তুলে নিলে সিঙ্গায় ফুঁ দেবেন ইসরাফিল

    যে ১০ জিনিস তুলে নিলে সিঙ্গায় ফুঁ দেবেন ইসরাফিল

    কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে? এ প্রশ্নের সঠিক জবাব শুধুমাত্র আল্লাহই জানেন। তিনি ছাড়া কারো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা জ্ঞান নেই। হাদিসে জিবরিলে এসেছে-

    ‘একবার আগন্তুক সেজে জিবরিল আলাইহিস সালাম একবার বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈমান, ইসলাম ও ইহসান সম্পর্কে প্রশ্ন করেন; আর বিশ্বনবি সেসব প্রশ্নের জবাব দেন, তখন জিবরিল আলাইহিস সালাম সেসব উত্তরে ‘সত্য বলেছেন’ বলে সত্যয়ন করেন।

    অতঃপর জিবিরল প্রশ্ন করেন, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বনবি বলেন, ‘এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু জানেন না।’

    তখন জিবরিল বললেন, তাহলে কেয়ামতের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে বলুন। তখন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

    >> দাসি তার আপন মুনিবকে প্রসব করবে।
    >> তখন দেখা যাবে, খালি পায়ের উলঙ্গ-কাঙ্গাল মেষ পালনকারীরা বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করে গর্ব ও অহংকার করবে।

    হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম বিভিন্ন প্রয়োজন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ২৪ হাজার বার এসেছেন বলে জানা যায়। একবার বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন-

    হে জিবরিল! আমার ইনতেকালের পর আপনি কতবার দুনিয়াতে আসবেন?

    জিবরিল বললেন, ‘১০ বার আসবো এবং দুনিয়া থেকে ১০টি জিনিস তুলে নেব। আর ১০তম জিনিসটি তুলে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হজরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম সিঙ্গায় ফুঁ দেবেন এবং কেয়ামত শুরু হবে।

    ১০টি জিনিস হলো-

    >> বরকত তুলে নেয়া হবে।
    >> ইবাদতের স্বাদ বা মজা তুলে নেয়া হবে।
    >> পরস্পরিক মহব্বত তুলে নেয়া হবে।
    >> লজ্জা তুলে নেয়া হবে।
    >> হক বা সঠিক বিচার তুলে নেয়া হবে।
    >> সবর বা ধৈর্য তুলে নেয়া হবে।
    >> আলেমদের থেকে সত্য কথা তুলে নেয়া হবে। যারা হক কথা জানলেও তা বলবে না।
    >> ধনীদের অন্তর থেকে সৎ সাহস উঠিয়ে নেয়া হবে।
    >> ঈমানদার ব্যক্তি থাকেবে না। ঈমান উঠে যাবে।
    >> ক্বারিদের অন্তর থেকে কুরআন তুলে নেয়া হবে।

    যখনই দুনিয়া থেকে মানুষের ঈমান ও কুরআন উঠিয়ে নেয়া হবে তখনই কেয়ামত শুরু হবে।

    সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, উল্লেখিত ১০টি জিনিসের অনেকগুলোই আজ অনুপস্থিত। কোথাও এগুলোর পরিপূর্ণ অস্তিত্ব নেই। আবার কিছু জিনিস একেবারেই উঠে গেছে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঈমান ও কুরআনকে বুকে ধারণ করে সত্য পথে চলার তাওফিক দান করুন। পরিশেষে ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে দোয়ায় কখনও নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হবে না মুমিন

    যে দোয়ায় কখনও নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হবে না মুমিন

    মানুষের জীবনে প্রতিটি দিকই আল্লাহ তাআলার নেয়ামতে পরিপূর্ণ। এসব নেয়ামতের আলাদা আলাদা শুকরিয়া আদায় করা খুবই মুশকিল।

    এ কারণেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি দোয়ার মাধ্যমে দুনিয়ার যাবতীয় অনষ্টির পাশাপাশি তার নেয়ামত থেকে যেন দূরে যেতে না হয়, সে জন্য আল্লাহর কাছে একান্ত প্রার্থনা করেছেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দোয়ার এটিও একটি ছিল যে-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন যাওয়ালি নেমাতিকা ওয়া তাহাওউলি আফিয়াতিকা ওয়া ফুঝাআতি নিক্বমাতিকা ওয়া ঝামিয়ি সাখাত্বিকা।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই নেয়ামত দূর হয়ে যাওয়া থেকে। তোমার দেয়া সুস্থতা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। তোমার কাছ থেকে হঠাৎ শাস্তি আসা থেকে আশ্রয় চাই এবং তোমার কাছে সব ধরণে অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই।’ (মুসলিম)

    মানুষের উচিত সব সময় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়াটির মাধ্যমে যাবতীয় অনষ্টি থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি তার নেয়ামত লাভের দোয়া করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহর মাসনুন দোয়াগুলোর মাধ্যমে রহমত ও নেয়ামত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • কলাপাড়ায় ১৭টি মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ

    কলাপাড়ায় ১৭টি মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে ১৭টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় এবং দেশের অন্যান্য স্থান থেকে আগত মৃত্তিকা শিল্পীরা কেউবা এক মাটির কোনো কোনো মণ্ডপ আবার দু’মাটির কাজ সম্পন্ন করেছেন। এ উপজেলায় ১৭টি মন্ডপের মধ্যে কলাপাড়া পৌরসভার চারটি মণ্ডপ। বাকী ১৩ মণ্ডপে কুয়াকাটা পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে।

    কলাপাড়া পৌরসভার চারটি মণ্ডপ হলো- জগন্নাথ আখড়ানাট সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, চিংগড়িয়া সার্বজনীন দূর্গামণ্ডপ, চিংগড়িয়া সার্বজনীন সবুজ সংঘ, বাদুরতলী সার্বজনীন দূর্গামণ্ডপ।
    এছাড়া অন্যান্য মণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে- কুয়াকাটা সার্বজনীন দূর্গা পূজামণ্ডপ, কুয়াকাটা রাধা গোবিন্দ পূজামণ্ডপ, চাকামইয়া শান্তিপুর সার্বজনীন দূর্গা পূজামণ্ডপ, মহিপুর সার্বজনীন দূর্গা পূজামণ্ডপ, মনোহরপুর সার্বজনীন দূর্গা পূজামণ্ডপ, শ্রী শ্রী, হরিগুরু বিপিনচাঁদ সেবাশ্রম পূজামণ্ডপ, পূর্ব মনোহরপুর রাধা গোবিন্দ পূজামণ্ডপ, চম্পাপুর মাছুয়াখালী সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, ধানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ পূজামণ্ডপ, ধানখালী শিলপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, পাখিপাড়া সার্বজনীন দূর্গা পূজামণ্ডপ, আলীপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, মম্বিপাড়া নিরঞ্জন শীলের বাড়ি সার্বজনীন দুর্গা পূজামণ্ডপ।

    আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ৬ষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দূর্গোৎসবের শুরু এবং ৮ অক্টোবর দেবী বির্সজনের মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি।

    পঞ্জিকা মতে, এ বছর দূর্গার ঘোটকে আগমন এবং ঘোটকেই গমন। ফল ছত্রভঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে।

  • যেসব মানুষকে সবচেয়ে নিঃস্ব বলেছেন বিশ্বনবি

    যেসব মানুষকে সবচেয়ে নিঃস্ব বলেছেন বিশ্বনবি

    এ কথা সবাই জানে যে, নিঃস্ব বা অসহায় সেই ব্যক্তি, যার অর্থ-সম্পদ নেই। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি অর্থের অভাবে নিজের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতে পারে না, সেই ব্যক্তি নিঃস্ব বা অসহায়।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার কোনো অভাবি মানুষকে নিঃস্ব বা অসহায় বলেননি। বরং তিনি এমন একশ্রেণির মানুষকে নিঃস্ব ও অসহায় বলেছেন, যারা সম্পদশালী আবার ইবাদতগুজার। তাহরে তারা কারা? হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার সাহাবায়ে কেরামকে প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি জান, কে দেউলিয়া বা নিঃস্ব?

    তারা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের মধ্যে দেউলিয়া বা নিঃস্ব হচ্ছে সেই ব্যক্তি যার দিরহামও (নগদ অর্থ) নেই। কোনো সম্পদও নেই।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তখন নিঃস্ব ব্যক্তির পরিচয় তুলে ধরে) বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে সেই ব্যক্তি হচ্ছে দেউলিয়া বা নিঃস্ব; যে ব্যক্তি কেয়ামতের ময়দানে নামাজ-রোজা-জাকাতসহ বহু আমল নিয়ে উপস্থিত হবে আর পাশাপাশি সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কারো রক্ত প্রবাহিত (হত্যা) করেছে, কাউকে মারধরসহ ইত্যাদি অপরাধ নিয়ে আসবে।

    সে তখন (কেয়ামতের ময়দানে) বসবে এবং (উল্লেখিত ব্যক্তিরা দুনিয়ার অপরাধের বদলাস্বরূপ) তার নেক আমল থেকে কিছু কিছু নিয়ে যাবে।

    এভাবে সব (অপরাধের) বদলা (বিনিময়) নেয়ার আগেই তার সব নেক আমল নিঃশেষ হয়ে গেলে, (এবার) তাদের গোনাহ তার (ওই নামাজ-রোজা-জাকাত দেয়া ব্যক্তির) ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (তিরমিজি, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

    হাদিসের পরিভাষায় সেসব ইবাদতকারী ব্যক্তির উচিত, উল্লেখিত অপরাধ থেকে বিরত থাকা। আবার কেউ এসব অপরাধে জড়িত হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়াতেই তার সমাধান করা। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সেই বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষণ করুন, যে তার কোনো ভাইয়ের মান-সম্মান ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে জুলুম করেছে। কেয়ামতের দিন এ ব্যাপারে তাকে কেউ পাকড়াও করার আগে যেন সে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। কারণ, সে স্থানে (কেয়ামতের দিন) দিরহাম, দীনারের (বিনিময় করার) ব্যবস্থা থাকবে না। সুতরাং তার কোনো ভালো আমল থাকলে (জুলুমের পরিণাম অনুযায়ী) তা নিয়ে যাওয়া হবে। আর যদি কোনো ভালো আমল না থাকে, তবে অত্যাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তির গোনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে।’ (তিরমিজি)

    সুতরাং মানুষের উচিত পরকালে নিঃস্ব হওয়ার আগেই দুনিয়ায় উল্লেখিত অপরাধ নিজেকে অপরাধী না করা। সব কাজের সঠিক হিসাব সম্পাদন করা।

    মনে রাখতে হবে

    পরকালে সব মুসলিমকেই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যে প্রশ্নের উত্তর দেয়া ছাড়া কেউ এক কদম এগুতে পারবে না। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের ময়দানে কোনো বান্দা পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত এক কদমও এগুতে পারবে না। আর তাহলো-

    >> সে তার জীবন কোন্ পথে শেষ করেছে।
    >> যতটুকু ইলম শিখেছে তার উপর কতটুকু আমল করেছে।
    >> সম্পদ কোন্ পথে আয় করেছে। এবং
    >> উপার্জিত সম্পদ কোন্ পথে ব্যয় করেছে।
    >> নিজের যৌবনকে কোন্ পথে শেষ করেছে।’ (তিরমিজি)

    সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত হাদিসের অনুসরণ ও অনুকরণে অতিবাহিত করা। তবেই পরকালের দেউলিয়া তথা নিঃস্ব হওয়া থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের কঠিন সময়ে দেউলিয়া তথা নিঃস্ব হওয়া থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। কেয়ামতের ময়দানের উল্লেখিত ৫টি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেয়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের আলোকে জীবন সাজানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • কুরআন তেলাওয়াতে যেসব উপকারিতা লাভ করবে মুমিন

    কুরআন তেলাওয়াতে যেসব উপকারিতা লাভ করবে মুমিন

    কুরআন আল্লহর কিতাব। এ কিতাব মানুষের দুনিয়া ও পরকালের নাজাতের জন্য সংবিধান হিসেবে প্রেরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, এ কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন স্বয়ং আল্লাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি এবং আমি এর সংরক্ষক।’

    পাশাপাশি দুনিয়ায় যারা এ কুরআনের হেফাজত, তেলাওয়াত ও বিধান মেনে চলবে তাদের জন্যও রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা ও ফজিলতের ঘোষণা। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘অবশ্যই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আলো ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এ (জ্যোতির্ময় কুরআন) দ্বারা তিনি তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে তাদেরকে (কুফরিরে) অন্ধকার থেকে বের করে (ঈমানের) আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।’ (সুরা মায়িদা : আয়াত ১৫-১৬)

    অথচ মানুষ পবিত্র কুরআনুল কারিমের বিধান পালন, নসিহত গ্রহণ ও তেলাওয়াত করা থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজেদের ক্ষতি ডেকে আনছে। বঞ্চিত হচ্ছে কুরআন-সুন্নায় ঘোষিত ফজিলত উপকারিাতা থেকে।

    কুরআন থেকে দূরে সরে যাওয়া কোনো মুমিন মুসলমানেরই উচিত নয়। কেননা এ কুরআনের তেলাওয়াতই মানুষকে উত্তম জীবনযাপনের দিকে ধাবিত করে। পরকালের সীমাহীন নেয়ামত লাভে উদ্বুদ্ধ করে।

    তাছাড়া নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াতে রয়েছে মানুষের জন্য অনেক বড় উপকারিততা। আল্লাহ তাআলাই মানুষকে তারতিলের সঙ্গে কুরআন তেলাওয়াতের নির্দেশ দিয়েছেন। তাইতো কুরআনের তেলাওয়াত ও ফজিলেতের বর্ণনা এসেছে কুরআনে এবং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবানিতে। আর তাহলো-

    >> মানবজাতির মুক্তির ঠিকানা কুরআন

    সুরা আন-নাহলের ৮৯ আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

    ‘আমি তোমার প্রতি প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ কিতাব (কুরআন) প্রেরণ করেছি এবং আত্মসমর্পনকারীদের (মুসলিমদের) জন্য (কুরআন) পথপ্রদর্শক, করুনা ও সুস্বংবাদস্বরূপ।’

    >> ঈমান বৃদ্ধিতে কুরআন

    কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মানুষের ঈমান বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আর যখনই মানুষের ঈমান বেড়ে যায়, তখনই মানুষ দুনিয়া ও পরকালের জন্য নিজেকে সাজাতে সহজ হয়। আল্লাহ বলেন-

    ‘মুমিন তো তারা, আল্লাহকে স্মরণ করার সময় যখন তাদের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠে। আর যখন তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের রবের উপরই ভরসা করে।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ২)

    >> প্রশান্তি লাভে কুরআন

    জীবনের উন্নতি-অবনতি, আল্লাহর দান কম-বেশি সর্বাবস্থায় কুরআন মানুষের অন্তরে তৃপ্তি ও প্রশান্তি ঢেলে দেয়। কুরআনের বরকতেই সব অশান্তি থেকে প্রশান্তি লাভ করে। আল্লাহ ঘোষণা দেন-

    ‘যারা ঈমান আনে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে। জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।’ (সুরা আর-রাদ : আয়াত ২৮)

    >> সর্বোচ্চ জ্ঞানের উৎস কুরআন

    পবিত্র কুরআনুল কারিমের মানুষের সব জ্ঞানের উৎসা। কুরআন গবেষণা করেই মানুষ দিন দিন নতুন আবিষ্কার নিয়ে আসছে। বিশ্বজগত সম্পর্কে ধারণা লাভ করছে। মানুষকে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতেই আল্লাহ ঘোষণা করেন-

    ‘ইয়া-সীন। জ্ঞানগর্ব (বিজ্ঞানময়) কুরআনের শপথ। নিশ্চয়ই আপনি প্রেরিত রাসুলদের অন্তর্ভূক্ত। সরল (সঠিক) পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কুরআন পরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত।’ (সুরা ইয়াসিন : ১-৫)

    >> কুরআন সুপারিশকারী

    পরকালের ভয়াবহ দিন এ কুরআনই তার তেলাওয়াতকারী, বিধান পালনকারী ও নসিহত গ্রহণকারীর জন্য মুক্তি লাভে সুপারিশ করবে। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কুরআন তেলাওয়াত কর। কারণ কুরআন কেয়ামতের দিন তেলাওয়াতকারীর (নাজাতের) জন্য সুপারিশ করবে।’ (মুসলিম)

    >> জান্নাত লাভেও সুপারিশ করবে কুরআন

    কেয়ামতের দিনে কুরআন আল্লাহর কাছে তেলাওয়াতকারীর জন্য এভাবে সুপারিশ করবে-

    ‘হে আমার প্রভু! আমার তেলাওয়াতই তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছে। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা কুরআনের সুপারিশ কবুল করবেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের ঘোষিত ফজিলত ও উপকারিতা গুলো লাভ করতে কুরআনের তেলাওয়াত, বিধান পালন ও নসিহত গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মুসলিম বালিকাকে কুমারী রূপে পূজার প্রস্তুতি

    মুসলিম বালিকাকে কুমারী রূপে পূজার প্রস্তুতি

    অনলাইন ডেস্ক :

    লাল বেনারসি, পায়ে আলতা, রক্তচন্দনের টিপ, মাথায় ফুলের মুকুট নিয়ে দুর্গাষ্টমীর দিন পূজিতা হবেন কুমারী। দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন চার বছর বয়সী যে বালিকা কুমারী রূপে পূজিতা হবে, তার নাম ফাতেমা। সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার সময়ে এক মুসলিম বালিকাকে কুমারী রূপে পূজা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতার বাগুইআটির অর্জুনপুরের দত্তবাড়ি।

    ফাতেমাকে ‘কালিকা’ রূপে সিংহাসনে বসিয়ে আরাধনা ও পূজার্চনা করবেন দত্তবাড়ির কুলবধূ মৌসুমী দত্ত। তার কথায়, ‘যে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত করে, ঈশ্বরের অর্ঘ্য থেকে সে বঞ্চিত হয়। অষ্টমীর দিন তাই দুর্গা রূপে বরণ করে নেব ফাতেমাকে।’

    পেশায় আইনজীবি মৌসুমী দেবী জানান, ‘প্রথম থেকেই দত্তবাড়িতে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। সে বছর এক ব্রাহ্মণ কন্যাকে পূজা করি, তার পরের বছর অব্রাক্ষণ বাড়ির মেয়ে, ২০১৪ সালে ডোম পরিবারের এক শিশু কন্যা, গতবছর ফের এক ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়েকে কুমারী হিসাবে পূজা করি। বাড়ির সকলের সঙ্গে আলোচনা করে এবার সিদ্ধান্ত হয় যে দুর্গাপূজায় কোনো জাতপাতের ভেদাভেদ রাখব না আমরা। সেই মতে এবছর মুসলিম শিশু কন্যাকে পূজো করার সিদ্ধান্ত নেই।’

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে কামারহাটির বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তিনি তার ভাগ্নি- বয়স চার, নাম ফাতেমাকে দিতে রাজি হন। ফাতেমা এখন মামাবাড়িতে ঘুরতে কলকাতায় এসেছে। তাকেই অষ্টমীর দিন বরণ করে নেবে দত্তবাড়ি। তারপর তাকে লাল টুকটুকে বেনারসি, চন্দন, ফুলের মালা দিয়ে দুর্গা প্রতিমার মতো করে সাজিয়ে কুমারী পূজা করা হবে। সে দিনটির দিকেই তাকিয়ে দুই পরিবার।

  • জুমার দিনে পাঁচটি ভুল

    জুমার দিনে পাঁচটি ভুল

    ইসলাম ডেস্ক :

    জুমার নামাজ প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের অন্যতম একটি ইবাদত। জুমার দিনে অনান্য ইবাদাতের জন্যেও রয়েছে অতিরিক্ত সওয়াবের হুকুম। তাই এই দিনটিকে সঠিকভাবে পালন করা জরুরি।

    শুক্রবারে জুমার নামাজ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। মোটামুটি সব মুসলমান জুমার নামাজ আদায় করেন। কিন্তু এই নামাজের সময় আমরা কিছু ভুল হয়ে যায়। সে রকম পাঁচটি ভুল নিয়ে সংক্ষিপ্ত কথা—

    পরিচ্ছন্ন না হয়ে জুমায় যাওয়া
    জুমার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করা জরুরি। অনেকে এই দিনে এত বেশি ব্যস্ত থাকেন যে, কোনো রকম জুমার ফরজ দুই রাকাত আদায় করে চলে আসেন। অথচ আবু সাইদ খুদ্‌রি (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য গোসল করা ওয়াজিব (জরুরি)। আর মিসওয়াক করবে এবং সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করবে।’ (বুখারি, হাদিস: ৮৮০, মুসলিম, হাদিস: ৮৪৬)

    তাই সবার উচিত জুমার দিন গোসল করা এবং মিসওয়াক করা। যদি সামর্থ্য থাকে, সুগন্ধি ব্যবহার করা। এছাড়াও ভাল ও পরিচ্ছন্ন জামা পড়ে মসজিদে যাওয়া। রাসুল (সা.) নিজেও এই দিন ভাল ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতেন।

    মসজিদে দেরি করে যাওয়া
    জুমার নামাজ কেবল দুই রাকাত নামাজ আদায়ে যথেষ্ট নয়। জুমার খুতবা শোনাও জরুরি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবাত (সহবাস পরবর্তীকালে) গোসলের মতো গোসল করে এবং নামাজের জন্য আগমন করে, সে যেন একটি উট কোরবানি করলো। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে, সে যেন একটি গাভী কোরবানি করলো। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে, সে যেন একটি শিং-বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানি করলো। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করলো সে যেন একটি মুরগি কোরবানি করলো। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করলো, সে যেন একটি ডিম কোরবানি করলো। (বুখারি, হাদিস: ৮৮১)

    তাই জুমার নামাজের দিন পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম। তাহলে সময়মতো ও সঠিকভাবে নামাজ আদায় সম্ভব।

    জুমার নামাজের সময় অন্য কাজ করা
    জুমার নামাজের সময় অন্য কাজ করা নিষিদ্ধ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মসজিদের দিকে যাওয়া জরুরি। জুমার প্রথম আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায় কিংবা অন্য কাজ বন্ধ করে দেওয়া অথবা নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া উচিত। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাইদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.) বলেছেন, লোকজন নিজেদের কাজকর্ম নিজেরাই করতেন। যখন তারা দুপুরের পরে জুমার জন্য যেতেন, তখন সে অবস্থায়ই চলে যেতেন। তাই তাদের বলা হলো, যদি তোমরা গোসল করে নিতে ভালো হতো…। (বুখারি, হাদিস: ৯০৩, মুসলিম, হাদিস: ৮৪৭)

    মনোযোগ দিয়ে খুতবা না শোনা
    খুতবা শোনা জুমার নামাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ঠিকভাবে খুতবা শোনাও জরুরি। তবে যদি মুসল্লি বেশি হওয়ার কারণে অথবা অন্য কোনো কারণে খুতবার আওয়াজ না শোনা যায়, তবে নিরব থাকা নিয়ম।

    আবু হুরায়রাহ্‌ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমভাবে ওজু করে জুমার নামাজে এলো, নীরবে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলো, তাহলে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি (অহেতুক) কঙ্কর স্পর্শ করলো, সে অনর্থক, বাতিল, ঘৃণিত ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য কাজ করলো। (মুসলিম, হাদিস: ১৮৭৩)

    প্রসঙ্গত আরবি ও বাংলায় দেওয়া উভয় খুতবাই মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি।

    খুতবার সময় কথা বলা
    খুতবা শোনা ওয়াজিব। রাসুল (সা.) খুতবার সময় কথা বলতে নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন যখন তোমার পাশের মুসল্লিকে চুপ থাকো বলবে, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তা হলে তুমি একটি অনর্থক কথা বললে। (বুখারি, হাদিস: ৯৩৪, মুসলিম, হাদিস: ৮৫১)

    খুতবার সময় কেউ কথা বললে তাকে চুপ থাকতে বলাও উচিত নয়। অর্থাৎ খুতবার সময় মুখ পুরোপুরি বন্ধ রাখা চাই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে জুমার নামাজ আদায়ের তাওফিক দান করুন।