Category: ধর্ম

  • ফেতনামুক্ত ঈমানি জীবন-যাপন ও মৃত্যু লাভের ৬ আমল

    ফেতনামুক্ত ঈমানি জীবন-যাপন ও মৃত্যু লাভের ৬ আমল

    ঈমানি জীবন-যাপন এবং ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। এটা সহজ কোনো কাজ নয় বরং সবচেয়ে কঠিন কাজ। ঈমানি জীবন-যাপন ও ঈমানি মৃত্যু লাভের অন্যতম উপায় হলো কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা। যা অনেক কঠিন।

    চারদিকে এতবেশি ফেতনা যে, ঈমানের সঙ্গে সঠিকভাবে জীবন পরিচালনা করা অনেক দুষ্কর। আবার ঈমানি জীবন-যাপন করে ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়াও অনেক কঠিন কাজ। যারা ঈমানি জীবন-যাপন করে পারে এটা তাদের জন্য অনেক বড় সাফল্যের বিষয়ও বটে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় বান্দার আমলসমূহ, এটা নির্ভর করে জীবনের শেষ অবস্থায় সে কোন আমল নিয়ে যেতে পেরেছে।’

    হাদিসের আলোকে জীবনের শেষ অবস্থায় বান্দার পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? এটার ওপর নির্ভর করবে মুমিন বান্দার আখেরাতে নাজাত ও মুক্তি।

    আর এ কারণেই মুমিন বান্দা তার জীবনের শেষ অবস্থা নিয়ে সবচেয়ে বেশি পেরেশানিতে থাকে, চিন্তায় থাকে। অনেক মুমিন জীবনের শেষ অবস্থা কী হবে এ চিন্তায় অস্থির হয়ে যায়, অজ্ঞান হয়ে যায়। আর বলতে থাকে, হায়! আমার জীবনের শেষ অবস্থা কেমন যেন হয়? আমি কি ঈমান নিয়ে শেষ বিদায় নিতে পারবো? আল্লাহ না করুন, নাকি ঈমান হারা হয়ে মৃত্যুবরণ করবো! এ চিন্থায় মুমিন থাকে অস্থির।

    দুনিয়াতে আমরা যা দেখি, বলা চলে তার সবই ঈমান হরণ করার আয়োজন চলছে। আর শয়তান এসব আয়োজনে ঘি ঢেলে দিচ্ছে। ঈমান হরণের এ আয়োজন থেকে মুক্তি পেতে মুমিন-মুসলমানের জন্য কিছু আমল করা জরুরি। যা মানুষকে সত্যের দিকে পরিচালিত করবে। ঈমানি জীবন-যাপন ও ঈমানি মৃত্যুর সৌভাগ্য দান করবে। সে আমলগুলো হলো-

    >> কুরআন-সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা

    মানুষ যখন ফেতনায় দিশেহারা হয়ে যাবে। কোন পথ গ্রহণ করবে তা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না তখন কুরআন-সুন্নাহ-ই হবে মুক্তির একমাত্র হাতিয়ার। সে সময় যদি কেউ কুরআন-সুন্নাহ আঁকড়ে ধরতে পারে তবে সে সঠিক পথে থেকে ঈমানি জীবন-যাপন করতে পারবে এবং ঈমানি মৃত্যু লাভ করতে পারবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

    ‘তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না, যখন তোমরা দুটো জিনিসকে আঁকড়ে ধরবে। আর তার একটি হলো আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো তার রাসুলের সুন্নাহ।’

    >> নেক আমলের ওপর নিয়োজিত থাকা

    কোনো ব্যক্তি দুনিয়াতে যে কাজে নিয়োজিত থাকবে, সে ওই কাজের ওপরই মৃত্যুবরণ করবে। যদি কোনো কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার চেষ্টা করে তবে তার জীবনের শেষ পরিণতিও কুরআন-সুন্নাহর আলোকে হবে। সুতরাং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেক আমল, ভালো কথা ও সুন্দর আচরণে নিজেকে নিয়োজি রাখা জরুরি। এমনটি করতে পারলে জীবনের শেষ কাজটিও নেক কথা ও কাজেই শেষ হবে।

    >> ভালো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা

    ভালো কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ভালো মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা। যারা দ্বীন, ঈমান ও কল্যাণের কথা ছাড়া অন্যায়মূলক কোনো কথা বলে না। আল্লাহ তাআলাও ঘোষণা করেন-

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং (আল্লাহকে ভয় করার উপায় হিসেবে) সত্যবাদীদের সঙ্গে চলাফেরা (সুসম্পর্ক) রাখ।’

    আল্লাহ তাআলা সেসব সত্যবাদী লোকদের সংস্পর্শে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যারা আল্লাহর নাফরমানি করে না। আল্লাহর নির্দেশের বাইরে চলে না। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলেই জীবনের শেষ অবস্থা হবে সুন্দর।

    >> ঈমানকে নবায়ন করা

    হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের ঈমানকে নবায়ন কর। সাবাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসুল! ঈমান কীভাবে নবায়ন করব? তিনি বললেন, বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে থাক।

    >> বেশি বেশি মেসওয়াক করা

    মৃত্যুর আগে বিশ্বনবির শেষ আমল ছিল মেসওয়াক করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কোলে মাথা রেখে মেসওয়াক করেই ঈমানি মৃত্যু লাভ করেছিলেন। এ কারণেই ওলামায়ে কেরাম পরামর্শ দেন যে, বেশি বেশি মেসওয়াক মানুষের ঈমানি মৃত্যু লাভের অন্যতম উপায়।

    >> একান্তে দোয়া করা

    শেষ জীবনে যেন ঈমানি মৃত্যু হয়, আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে যেন মৃত্যু লাভ হয় সে জন্য বেশ কিছু দোয়া আছে, যেগুলো একান্তে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। দোয়াগুলো করার সময় এর অর্থ অনুধাবন করে বুঝে বুঝে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ পরিণতি ভালো হতে অনেকগুলো দোয়া শিখিয়েছেন। কুরআনেও অনেক দোয়া এসেছে। আর তাহলো-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আলাম, ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আলাম।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমার জানামতে আপনার প্রতি শিরক হয় এমন ভয়াবহ অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার আশ্রয় চাই। আর আমার অজান্তে ঘটে যাওয়া শিরকে থেকেও ক্ষমা প্রার্থনা করি।

    اَللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা মুছাররিফাল কুলুবি ছাররিফ কুলুবানা আলা ত্বাআতিকা।’
    অর্থ : হে (মানুষের) অন্তর পরিবর্তনকারী আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে তোমার আনুগত্যের দিকে পরিবর্তন কর।’ (মুসলিম, মিশকাত)

    يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّت قَلْبِىْ عَلَى دِيْنِكَ
    উচ্চারণ : ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত কালবি আলা দিনিকা।’
    অর্থ : হে (মানুষের) অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখ।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

    رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমিন।’
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের ধৈর্যদান করুন এবং মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন।

    رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
    উচ্চারণ : রাব্বানা লা তুযেগ কুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আংতাল ওয়াহহাব।’
    অর্থ : হে আমাদের প্রভু! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লংঘনে ধাবিত করো না; এবং তোমার কাছ থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর; নিশ্চয় তুমিই সবকিছুর দাতা।

    اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
    উচ্চারণ : ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম। সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়া লাদ্দাল্লিন।’
    অর্থ : ‘আমাদের সহজ সরল পথের হেদায়েত দিন। যে পথে চলা লোকদের ওপর আপনি নেয়ামত দান করেছেন। অভিশপ্ত ও গোমরাহির পথ থেকে বিরত রাখেন।’

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফিতানি মা জাহারা মিনহা ওয়া মা বাত্বান।’
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! যে ফেতনাগুলো দেখা যায় আর যেগুলো দেখা যায় না, সব ধরনের ফেতনা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঈমানি জীবন-যাপন ও ঈমানি মৃত্যু লাভের তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত দিক-নির্দেশনাগুলো মেনে চলার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বাবা-মার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাবেন যেভাবে

    বাবা-মার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাবেন যেভাবে

    দুনিয়াতে বাবা-মা দুজনই প্রতিটি ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের জন্য বাবা-মা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দুনিয়া দেখার একমাত্র উপলক্ষও তারা।

    সন্তানের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার সার্বিক বিষয়ে নিবেদিত প্রাণ ও যত্নশীল মা-বাবা। তারা সন্তানের জন্য এতটাই নিঃস্বার্থ যে সবকিছুর ওপর কোনো কাজেই বাবা-মা সন্তানের কাছে কখনো কোনো বিনিময় চান না

    এ কারণেই ইসলাম বাবা-মার সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করেছে। পরিবারেও বাবা-মার মর্যাদা ও সম্মান সবার ওপর। আল্লাহ তাআলা সুরা বনি ইসরাইলে ঘোষণা করেন-

    ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা তিনি (আল্লাহ) ছাড়া কারো উপাসনা করো না এবং বাবা-মার প্রতি উত্তম আচরণ করো। তাদের একজন কিংবা উভয় যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের উফ্ বলো না এবং তাদের ভর্ৎসনা করো না বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক নম্র ভাষায় কথা বলো। অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থাকো। আর বলো- ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া কর, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছে।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৩-২৪)

    বাবা-মাকে অধিক ভালোবাস, তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে যেসব উপায় অবলম্বন করা যায় তার কিছু সহজ নমুনা তুলে ধরা হলো-

    >> বাবা-মাকে ভালোবাসা

    সন্তান তার বাবা-মাকে ভালোবাসে, এ কথা বাবা-মাকে বলা। বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালোবাসা উদযাপন করা। বাবা-মার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, আলাপচারিতা ও কাজে সদয় অনুভূতি প্রকাশ করা। সন্তানের সঙ্গে বাবা-মার শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা জানানো।

    >> বাবা-মার জন্য নিয়মিত দোয়া করা

    সব সময় বাবা-মার জন্য প্রার্থনা করা। নিয়মিত আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করা। আল্লাহর কাছে বেশি বেশি এ দোয়া পড়া-
    رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
    উচ্চারণ : ‘রাব্বিরহামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।’
    অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া কর, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছে।’

    >> তাদের সময় দেয়া

    বামা-মার সঙ্গে সময় ব্যয় করুন। বাবা-মাকে সময় দিন। ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা কর্ম ব্যস্ততা যত বেশিই হোক না কেন, এ ব্যস্ততার মাঝেই বাবা-মাকে সময় দিন। বাবা-মার সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তাদের খুশি রাখতে পর্যাপ্ত সময় দিন।

    >> পরামর্শ গ্রহণ করা

    ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা কর্মব্যস্ত জীবনের প্রতি বিষয়েই বাবা-মার পরামর্শ বা উপদেশ গ্রহণ করুন। কেননা বাবা-মার কাছে এসব বিষয়ের উত্তম উপদেশ থাকতে পারে, যা সন্তানের জীবনকে আলোকিত করে দিতে পারে। বাবা-মার কাছে পরামর্শ চাইলে তারা খুশি হন এবং অন্তর থেকে সন্তানের জন্য দোয়া চলে আসে।

    >> বার্ধক্যে তাদের প্রতি ধৈর্যধারণ করা

    বাবা-মা যখন বার্ধক্যে পৌঁছবে, তখন তাদের প্রতি ধৈর্যশীল আচরণ করা। কারণ সন্তান যখন শিশু ছিল, তখন যা দেখত তা সম্পর্কেই বাবা-মাকে জিজ্ঞাসা করতো। সে সময় বাবা-মা সন্তানের জিজ্ঞাসায় বিরক্ত না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতো। কিশোর বয়সে সন্তান যখন কোনো বিষয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতো তখনও বাবা-মা সন্তানের ক্ষিপ্ততায় রেগে না গিয়ে ধৈর্য ধারণ করতো। সুতরাং সন্তানের উচিত বাবা-মা বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের সঙ্গে ধৈর্যধারণ করা। এটি সন্তানের কাছে বাবা-মার প্রাপ্য।

    >> বাবা-মার সঙ্গে জীবন-যাপন করা

    বাবা-মার সঙ্গে বসবাস করার মাধ্যমে তাদেরকে নতুন নতুন জিনিস উপহার দেয়া। তাদের সঙ্গে হাসি-খুশি সময় কাটানোর মাধ্যমে তাদের প্রফুল্ল রাখা। তাদের যাবতীয় সেবা করে তাদের মুখে হাসি ফোটানো সন্তানের একান্ত কর্তব্য। আর তা যথাযথ করতে পারলেই বাবা-মার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ পাবে।

    >> নিয়মিত কথা বলা

    বাবা-মা যদি কাছে না থাকে তবে প্রতিদিন তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলা। এতে তারা প্রফুল্লবোধ করে, সন্তানের সঙ্গে কথা বলে তারা প্রশান্তি অনুভব করে।

    >> তাদের প্রতি মনোযোগ দেয়া

    বাবা-মা যখন কাছে থাকবে, তখন তাদের বেশি বেশি খোঁজখবর নেয়া। তাদের প্রতি গভীর মনোযোগ দেয়া। তাদের সঙ্গে কাজের বিষয়, আনন্দের বিষয়, খেলাধুলা, ইবাদত-বন্দেগি ইত্যাদি বিষয়ে পারস্পরিক সুসম্পর্কে মনোযোগ দেয়া।

    >> বাবা-মার জন্য সাদকা করা

    বাবা-মার জন্য গরিব-অসহায়দের মাঝে অর্থ সাদকা করা। সেবামূলক সংগঠনেও অর্থ দান করা যেতে পারে। যাতে বাবা-মা পরকালে সাদকার বিনিময় লাভ করতে পারে।

    সব সন্তানের উচিত, বাবা-মার প্রতি উপরোল্লেখিত দায়িত্বগুলো যথাযথ পালন করা। আল্লাহর কাছে তাদের জন্য বেশি বেশি প্রার্থনা ও দোয়া করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বাবা-মার প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করার তাওফিক দান করুন। তাদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানানোর তাওফিক দান করুন। তাদের জন্য দোয়া ও সাদকা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ভালো চাকরি পেতে যে আমল করবেন

    ভালো চাকরি পেতে যে আমল করবেন

    চাকরি বা কাজ পাওয়া সব সময়ই কঠিন। ভালো মান-সম্মত চাকরি বা কাজ পাওয়াতো আরও বেশি কঠিন। তা পেতে অনেক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। আর বর্তমান সময়ে চাকরি তো এক দুঃস্বপ্নের নাম।

    কেননা কর্মক্ষেত্রের তুলনায় চাকরি প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি। তা দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই ভালো চাকরি বা কাজ পেতে যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি কুরআনি আমলও করা যেতে পারে। এর জন্য রয়েছে একটি দোয়া ও তাসবিহ। আর তাহলো-

    দোয়া
    رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিং ফাক্বির।’
    অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবে, নিশ্চয় আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৪)

    তাসবিহ
    ভালো চাকরির নিয়তে দিনে যতবার খুশি মহান আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের আমল করা এবং বেশি বেশি পাঠ করা।
    يَا وَهَّابُ
    উচ্চারণ : ‘ইয়া ওয়াহহাবু’
    অর্থ : ‘কোনোরূপ প্রতিদান ব্যতীত অধিক দানকারী।’

    হজরত শাহ আবদুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যে ব্যক্তি রিজিকের প্রশস্ততার জন্য (ভালো কাজ বা চাকরির প্রত্যাশায়) চাশতের নামাজের সময় ১২ রাকাআত নামাজ পড়ে সিজদায় গিয়ে (يَا وَهَّابُ) ইয়া ওয়াহ্‌হাবু পবিত্র গুণবাচক নামের জিকির ১০০ বার অথবা ৫০ বার পাঠ করে। তবে অবশ্যই তার রিজিকের অভাব থাকবে না।

    দোয়ার উৎস
    কুরআনুল কারিমে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের একটি আকুতি ও আল্লাহর কাছে আশ্রয় লাভ ও কাজ অনুসন্ধানের আহ্বান উঠে এসেছে। কুরআনে সে ঘটনাটি এভাবে এসেছে-

    মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের ঘরে থেকে বেরিয়ে আসার পর তার কোথাও যাওয়ার, আশ্রয়ের কিংবা জীবিকার কোনো সংস্থান ছিল না। সে সময় তিনি ফেরাউনের ঘর থেকে বেরিয়ে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলেন। আল্লাহ বলেন-

    ‘যখন সে মাদইয়ানের কূপের কাছে পৌঁছল। সেখানে দেখলো একদল লোক তাদের পশুগুলোকে পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের পিছনে দু’জন নারী তাদের পশুগুলোকে আগলে আছে। মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, তোমাদের কি হলো? (দাঁড়িয়ে আছ কেন?) ওরা (নারী) বলল, রাখালরা ওদের পশুগুলোকে নিয়ে সরে না গেলে আমরা আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করাতে পারি না। আর আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ মানুষ।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৩)

    এর পরের আয়াতেই মুসা আলাইহিস সালামের কাজ চেয়ে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়ার আবেদন এসেছে। আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহিস সালামে সে আহ্বান এভাবে তুলে ধরেন-
    ‘মুসা (আলাইহিস সালাম) তখন ওদের (দুই নারীর) পশুগুলোকে পানি পান করালো। তারপর সে ছায়ার নিচে আশ্রয় গ্রহণ করে বলল-
    ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার জন্য যে কল্যাণ অবতীর্ণ করবে, নিশ্চয় আমি তার মুখাপেক্ষী।’ অর্থাৎ আমার কাজ বা চাকরি দরকার, তুমি আমার জন্য যে কাজ বা জীবিকার ব্যবস্থা করবে। আমি তোমার ব্যবস্থা করা সে কাজের বা জীবিকার মুখাপেক্ষী।

    ভালো চাকরি পেতে যে এ দোয়া কার্যকরী তা পরের ঘটনাতেই প্রমাণিত। আল্লাহ বলেন-
    ‘তখন (ওই) দুই নারীর একজন লজ্জাজড়িত পদে তার কাছে এসে বললো, আপনি যে আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়েছেন, তার পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন। অতঃপর মুসা আলাইহিস সালাম তার কাছে এসে সব ঘটনা বর্ণনা করলে সে বলল, ‘ভয় করো না। তুমি জালিম সম্প্রদায়ের কবল থেকে বেঁচে গেছ। ওদের (দুই নারীর) একজন বলল, হে আব্বা! আপনি একে মজুর হিসেবে নিযুক্ত করুন। কারণ আপনার মজুর হিসেবে নিশ্চয় সে (মুসা) উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৫-২৬)

    এভাবে হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এ আহ্বানের ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম কর্মক্ষেত্র ও জীবিকা লাভ করেছিলেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উত্তম কাজ বা চকরির জন্য উল্লেখিত দোয়া ও তাসবিহ এর নিয়মিত আমল করার তাওফিক দান করুন। ভালো চাকরি বা কাজ পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বরিশালে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    বরিশালে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    হাতে গোনা কয়েকদিন পরেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যয়ে। এই পূজাকে ঘিরে বরিশাল নগরীর পূজা মন্ডপগুলো সাজানো হচ্ছে নানান সাজে। মন্ডপগুলোর কোথাও চলছে মাটির কাজ আবার কোথাও রংয়ের কাজ। আর যতদিন ঘনিয়ে আসছে ততই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

    বিএম কলেজের শিক্ষার্থী অনামিকা রায় বলেন, আমরা ১ বছর ধরে অপেক্ষা করছি, কখন মা আসবে। মায়ের আগমনের জন্যই এই প্রস্তুতি চলছে।

    নগরীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা অঙ্কুর চৌধুরী বলেন, পূজা উপলক্ষে আমাদের প্রত্যাশা, পূজাটা যেন সুন্দর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন এবং সবাইকে নিয়ে আনন্দ করতে পারি।

    এদিকে পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব যেন না ছড়াতে পারে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পূজা উদযাপন কমিটি।

    বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটা অপপ্রচার চালিয়ে পূজার ক্ষতি করার চেষ্ট করা হয়। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবো, তারা যেন এই ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এদিকে পুলিশ বলছে পূজা নির্বিঘ্ন করতে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, আমাদের ৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং ১১ হাজারের বেশি আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিবারের মতো সবগুলো মন্ডপগুলোকে পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসব।

    এ বছর বরিশাল মহানগরে ৭৩টি ও জেলায় ৫২৯টি মন্ডপ তৈরি করা হয়েছে।

  • অশ্লীল গালাগাল ও মুমিনের করণীয়

    অশ্লীল গালাগাল ও মুমিনের করণীয়

    অন্যকে গালি দেওয়া বা অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। মুমিন তো ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলেও মার্জিত ভাষায়, ভদ্র ও সংযতভাবে শোকজ করে। কিন্তু কিছু মানুষ রাগান্বিত হলে অন্যকে অশ্লীল ও শ্রুতিকটু বাক্যবাণে নাজেহাল করে। অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে।

    আমরা সাধারণত পান থেকে চুন খসলেই মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বসি। অন্যকে দোষারোপ করি, অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করি। এ ধরনের কাজ একজন মুমিনের জন্য কখনো শোভা পায় না। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালাগালকারী হয় না। (তিরমিজি, হাদিস : ২০৪৩)

    ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যকে গালি দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। আর তা যদি হয় বিনা অপরাধে, তাহলে তা আরো জঘন্য অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৮)

    রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি [আল্লাহর অবাধ্য আচরণ] এবং তার সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৫, ৭০৭৬; তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৩)। তাই আমাদের উচিত মানুষের সঙ্গে মার্জিত ভাষায় কথা বলা, ঝগড়া এড়িয়ে চলা। কেউ খারাপ ব্যবহার করলেও নিজেকে সংযত রাখা। কারণ এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাগিবতণ্ডায় লিপ্ত হলে তা লড়াই ঝগড়ায় গড়ানো স্বাভাবিক। কিন্তু হাদিসে এ ধরনের ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে কঠোর  হুঁশিয়ারি এসেছে।

    অনেকে আবার সাধারণ বিষয়েও মা-বাবা তুলে গালি দিয়ে বসে। কিছু কিছু পেশায় এ ধরনের শব্দ ব্যবহার না করলে নাকি অধস্তনদের কন্ট্রোলে রাখা যায় না। তারা তাদের অধীনদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথা বলার সময়ও সঙ্গে কিছু অশ্লীল গালি জুড়ে দেয়। অথচ এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে মানুষকে গালি দেওয়া জঘন্য অপরাধ। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের মা-বাবাকে অভিশাপ করা।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের মা-বাবাকে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘যখন সে অন্যের বাবাকে গালাগাল করে, তখন সে নিজের বাবাকেও গালাগাল করে থাকে। আর যে অন্যের মাকে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার মাকেও গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৩, তিরমিজি, হাদিস : ১৯০২)

    আমাদের উচিত কারো সঙ্গে এমন ব্যবহার করে ফেললে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। কারণ মানুষের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ করা ও তার সম্মানহানি করা জুলুম। কঠিন কেয়ামতের দিন ক্ষুদ্র একটি জুলুমও মানুষকে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার (কোনো মুসলিম) ভাইয়ের সম্মান নষ্ট করেছে অথবা কোনো বিষয়ে জুলুম করেছে, সে যেন আজই (দুনিয়াতে) তার কাছে (ক্ষমা চেয়ে) হালাল করে নেয়—ওই দিন আসার আগে, যেদিন দিনার ও দিরহাম কিছুই থাকবে না। তার যদি কোনো নেক আমল থাকে, তবে তার জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি তার কোনো নেকি না থাকে, তবে তার সঙ্গীর পাপরাশি তার (জালেমের) ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৪৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৯৩৩২)

    তাই আমাদের সবার উচিত এ ধরনের অশ্লীল কাজ ত্যাগ করে মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করা। মানুষকে সম্মান করা। সে যে-ই হোক, ছোট হোক কিংবা বড়। সবার সঙ্গেই মার্জিত আচরণ করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

  • যে ছোট্ট দোয়ায় রয়েছে বড় বড় ৫ পুরস্কার

    যে ছোট্ট দোয়ায় রয়েছে বড় বড় ৫ পুরস্কার

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে এমন একটি দোয়া শিখিয়েছেন, যে এ দোয়াটি পড়লে আল্লাহ তাআলা ৫টি স্বতন্ত্র পুরস্কার দান করবেন। এ স্বতন্ত্র পুরস্কারগুলো এত বড় যে, তার প্রতিটি পুরস্কারের জন্যই আলাদা আলাদা বড় আমল-ইবাদতের প্রয়োজন হয়।

    যদি কেউ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো এ দোয়াটি নিয়মিত ১০০ বার পাঠ করে তবে সে বড় বড় ৫টি স্বতন্ত্র পুরস্কার লাভ করবেন। দোয়াটি হলো-
    لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكَ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْر
    উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহু হামদ, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্বও তার। প্রশংসা শুধু তারই। তিনিই সব কিছুর সর্বশক্তিমান।

    দোয়াটি পড়ার ৫ ফজিলত বা মর্যাদা
    এ দোয়াটি পাঠ করলে আল্লাহ যে ৫টি পুরস্কার দান করবেন তাহলো-
    >> আল্লাহ তাআলা তাকে ১০ জন গোলাম বা ক্রীতদাসকে স্বাধীন করার কিংবা ১০ জন বন্দি মানুষকে মুক্ত করার সাওয়াব দান করবেন।
    >> আল্লাহ তাআলা তাকে ১০০ নেকি দান করবেন।
    >> আল্লাহ তাআলা তার ১০০ গোনাহ মাফ করবেন।
    >> ওই দিনের জন্য তাকে শয়তানের আক্রমণ থেকে নিরাপত্তা দান করবেন।
    >> ওই দিন আল্লাহর কাছে এ ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ বেশি আমল পাবে না। তবে যে ব্যক্তি এ দোয়াটি ১০০ বারের চেয়েও বেশি পাঠ করবে, তার কথা ভিন্ন।

    হাদিসে পাকে এ দোয়াটি সকাল ও বিকাল ১০ বার করে পাঠ করার কথাও এসেছে। যে যত বেশি এ দোয়াটি পাঠ করবে, তার মর্যাদা তত বেশি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার মাধ্যমে উল্লেখিত নেয়ামতগুলো লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ঝালকাঠিতে ১৭৫ পূঁজা মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ

    ঝালকাঠিতে ১৭৫ পূঁজা মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি ::

    ঝালকাঠিতে শারদীয়া দূর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিটি মন্ডপে দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পূঁজা কমিটিগুলো প্রয়োজনিয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজাঁ অনুষ্ঠানের সকল ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।

    কয়েক দিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গা পূঁজা। আগামী ৪ অক্টবার শুরু হবে ৫দিন ব্যাপী এ উৎসব। পূঁজা মন্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। শিল্পীর নিপুন হাতের ছোঁয়ায় মৃম্ময়ী প্রতিমা ধীরে ধীরে চিন্ময়ী মাতৃ রূপ ধারন করছে। আয়োজকরাও ব্যস্ত সফলভাবে পূজা আয়োজনের কাজে। জেলা সদরে ১১টি সহ জেলায় মোট ১৭৫ টি পূঁজা মন্ডপ স্থাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৬১টি সার্বজনীন এবং ১৪ টি পারিবারিক পূজা মন্ডপ রয়েছে।

    জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠানের লক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

    পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসব মূখর পরিবেশে ও যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পূঁজা উদ্যাপনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শান্তি শৃংখলা রক্ষায় পূজা মন্ডপ গুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ, অনসারসহ সরকারি এবং স্থানীয় উভয় পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করা হবে। গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে।

  • ওয়াসওয়াসা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন

    ওয়াসওয়াসা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন

    অনেক সময় দেখা যায়, কারণে-অকারণে মানুষের মন দ্বিধাদ্বন্দ্ব কিংবা ওয়াসওয়াসায় প্রচণ্ডভাবে আক্রান্ত হয়। নামাজ-রোজা, জিকির-আজকারসহ কোনো ইবাদতেই মন বসে না।

    আবার নামাজ-রোজা বা ইবাদত-বন্দেগি করলে মনে হয় যে, কোথাও ভুল হয়েছে বা সঠিকভাবে তা আদায় হয়নি। মনের মধ্যে ইবাদতের বিভিন্ন বিষয়ে সন্দেহের উদ্রেক হয়।

    অনেক সময় ভালোভাবে ইবাদত-বন্দেগির চলমান প্রক্রিয়ায় হঠাৎ করে ধীরগতি কিংবা অলসতা দেখা দেয়। ধর্মীয় উপাসনার বিরপীতে অন্যায় কাজের দিকেই মন ধাবিত হতে চায়। কোনো নসিহতও মন গ্রহণ করতে চায় না।

    এসব ক্ষেত্রে শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা মারাত্মকভাবে চেপে বসে। যে কারণে মুমিন মুসলমান জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নানান দ্বিধাদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি কাজেই ওয়াসওয়াসার তৈরি হয়।

    মানুষের মনের এসব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকার জন্য, পুনরায় আমল ও ইবাদতের জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য পবিত্র কুরআনুল কারিমের চিকিৎসা গ্রহণের বিকল্প নেই। উল্লেখিত বিষয়গুলো থেকে বাঁচার রয়েছে ৪টি আমল-

    >> তাউজ তথা আউবিল্লাহি মিনাশ-শায়ত্বানির রাঝিম (اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْم) পড়ার মাধ্যমে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থকে হেফাজত থাকা।
    >> সুরা ফালাক্ব ও সুরা নাস পাঠ করা।
    >> বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা। বিশেষ করে এ জিকির করা-
    اَللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা মুছাররিফাল কুলুবি ছাররিফ কুলুবানা আলা ত্বাআতিকা।’
    অর্থ : হে (মানুষের) অন্তর পরিবর্তনকারী আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে তোমার আনুগত্যের দিকে পরিবর্তন কর।’ (মুসলিম, মিশকাত)

    يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّت قَلْبِىْ عَلَى دِيْنِكَ
    উচ্চারণ : ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত কালবি আলা দিনিকা।’
    অর্থ : হে (মানুষের) অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখ।’ (তিরমিজি, মিশকাত)
    >> মনে জাগ্রত হওয়া কুচিন্তার দিকে ধ্যান বা খেয়াল না দিয়ে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া-
    رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَتُبْ عَلَيّ، إِنّكَ أَنْتَ التّوّابُ الرّحِيمُ
    উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়াবুর রাহিম।’ (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)
    অর্থ : হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন। আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি তাওবা কবুলকারী, দয়াময়।’

    মনে রাখা আবশ্যক
    উল্লেখিত ৪ কাজ যথাযথভাবে করতে পারলেই মনের মধ্যে দেখা দেয়া দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত থাকা সহজ। আর তাতেই মনের মধ্যে ইবাদত-বন্দেগির প্রবল আগ্রহ তৈরি হবে। ওয়াসওয়াসা বা কুচিন্তা দূর করতেই উল্লেখিত আমল সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।

    বিশেষ করে, কোনো বিষয়ে মনের মধ্যে কুচিন্তা আসলে, তা গুরুত্ব না দেয়া। মানুষের মনের মধ্যে উদ্রেক বা জাগ্রত হওয়া কুচিন্তার জন্য কোনো মুমিনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। যখনই মানুষ কুচিন্তা বাস্তবায়ন করবে তখনই সে গোনাহগার হবে কিংবা এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। হাদিসে এসেছে-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষের অন্তরে যে সব কুচিন্তা জাগ্রত হয় আল্লাহ তাআলা তা থেকে আমার উম্মতকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। যতক্ষণ তারা তা মুখে উচ্চারণ না করবে বা কর্মে বাস্তবায়ন না করবে’ (বুখারি ও মুসলিম)

    তাউজ, সুরা ফালাক্ব ও নাস পাঠই মানুষকে বেহুদা কুচিন্তা, দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত রাখতে পারে। মানুষের মনের যাবতীয় পেরেশানি দূর করতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত থাকতে কুরআনের আমলগুলো বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • জুমআর দিনের ১ আমলে হাজার বছরের নামাজ-রোজার সাওয়াব মেলে

    জুমআর দিনের ১ আমলে হাজার বছরের নামাজ-রোজার সাওয়াব মেলে

    ইসলাম ডেস্ক:

    করার মাধ্যমে ১টি আমল করবে। অর্থাৎ জামআর নামাজ পড়তে আসবে। আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির মসজিদে আসার প্রতি কদমে ১ বছরের নফল নামাজ ও নফল রোজার সাওয়াব দান করবেন।

    কাজ ৫টি হলো-
    – জুমআর দিন গোসল করা।
    – আগে আগে মসজিদে আসা।
    – পায়ে হেঁটে মসজিদ আসা।
    – ইমামের কাছাকাছি বসা। এবং
    – মনোযোগ দিয়ে খোতবা শোনা।

    আমলের সাওয়াব
    জুমআর দিন এ পাঁচটি কাজের আমল করলে আল্লাহ তাআলা জুমআ আদায়কারী ওই ব্যক্তির প্রতি কদমে ১ বছরের আমলের সাওয়াব দেবেন।

    কী আমলের সাওয়াব দেবেন। তাও হাদিসে বলেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর তাহলো ১ বছরের নফল নামাজ ও নফল রোজার সাওয়াব।

    বাড়ি থেকে মসজিদে আসতে যে কয় পদক্ষেপ বা কদম হেঁটে আসবে, ওই ব্যক্তি তত বছর নফল নামাজ ও নফল সাওয়াবের অধিকারী হবে।

    ধরা যাক-
    কোনো ব্যক্তির বাড়ি থেকে মসজিদে আসতে ১০০ কদম হাটা লাগে। ওই ব্যক্তি যদি উল্লেখিত ৫ কাজ মেনে জুমআর দিন আমল করে তবে তার আমল নামায় ১০০ বছরের নফল নামাজ ও নফল রোজার সাওয়াব যোগ হবে।

    হাদিস বিশারদদের মতে, জুমআর দিনের এ আমলের সুযোগের চেয়ে বেশি আমলের সুযোগ লাভের কোনো মাধ্যম নেই।

    বিখ্যাত তাবেয়ী সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব বলেন, ‘আমার কাছে নফল হজ করার চেয়ে বেশি উত্তম শুক্রবারের আমল করা।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শুক্রবারের এ আমলটি যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পাগলামি থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বে মুমিন

    পাগলামি থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বে মুমিন

    ইসলাম ডেস্ক:

    সুস্থ মস্তিষ্কে কেউ কখনো পাগলামি বা মাতলামি করে না। যদি কোনো কারণে কারো মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে যায় বা পাগল হয়ে যায় তবে সে পাগলামি বা অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। হোক সে নিজ পরিবারের লোক কিংবা অন্য কেউ। পাগল হয়ে গেলে আপন-পর চেনা কঠিন হয়ে পড়ে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাগলামি তথা অস্বাভাবিক আচরন থেকে মুক্ত থাকতে দোয়া পড়তেন। পাশাপাশি জটিল কঠিন রোগ মুক্তিতেও পড়তেন দোয়া। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-
    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَالْبَرَصِ، وَسَيِّئِ الْأَسْقَامِ
    উচ্চারন : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ঝুনুনি ওয়া ঝুজামি, ওয়াল বারাসি, ওয়া সাইয়িয়িল আসক্বামি।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পাগলামি করা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কুষ্ঠ রোগ, শ্বেতরোগ এবং অতি মন্দ রোগের ব্যাধি থেকে মুক্তি চাই।’ (নাসাঈ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পাগলামি করা থেকে হেফাজত রাখতে হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। জটিল ও কঠিন রোগগুলো থেকে নিজেদের হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।